কোটচাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এতে উপজেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বর থেকে প্রভাতফেরি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।

পরে উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান।

উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা ও একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কোটচাঁদপুর সার্কেল) সায়েম ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল রানা, অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, এনসিপির অ্যাম্বাসেডর হৃদয় আহসান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




গাংনীতে সড়ক থেকে হলুদ বোঝাই অটো ছিনতাই

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়ার কাজলের ইটভাটার সামনের সড়কে চালক ও আরোহীকে গাছের সাথে বেধে রেখে হলুদ বোঝাই ব‍যাটারি চালিত অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার আনুমানিক ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে।

স্থানীয়রা জানান,আজ ভোরে নওদামটমুড়া-বামন্দী আঞ্চলিক সড়কে কাজলের ইটভাটার সামনে একটি গাছের সাথে দুজনকে বাধা অবস্থায় দেখে পথচারীরা চরগোয়ালগ্রামের আনিচুর ও উজ্জ্বল হোসেনকে উদ্ধার করে।

পরে তাদের কাছ থেকে জানতে পারেন তাদের হলুদ বোঝাই ইজিবাইকটি ছিনতাই হয়েছে।

আনিচুর সাথে মোবাইলে কথা বলে জানা যায়,আজ ভোরে নিজ গ্রাম থেকে উজ্জ্বল হোসেনকে সাথে নিয়ে হলুদ  বিক্রির জন‍য পাশ্ববর্তী উপজেলা আলমডাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ‍যে নওদামটমুড়ার কাজলের ইটভাটার সামনে পাঁচজন তাদের পথ রোধ করে। তাদের সড়কের পাশে থাকা একটি গাছে বেধে রাখে। এবং তাদের ইজিবাইক ও সাথে থাকা হলুদ নিয়ে চলে যায়। পরে তারা চিৎকার করলে পথচারীর ও স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে।

আনিচুরের স্ত্রী জানান,এই অটো চালিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে সংসার চালাই। আমি স্বামী স্ট্রোকের রুগী অন‍য কোন কাজও করতে পারে না। আজ সকালে আলডাঙা যাওয়ার পথে গাছে বেধে রেখে অটো গাড়িটা ছিনতাই করে নিয়ে গেলো। এখন আমার সংসার চলবে কি করে?




মেহেরপুরে শহীদ মিনারগুলোতে জনতার ঢল

মেহেরপুরে একুশের প্রথম প্রহরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে মেহেরপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সর্বস্তরের মানুষ।

এ সময় নেপথ্যে বাজছিল অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। পাশাপাশি মাইক্রোফোনে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন কর্মরত ব্যক্তিরা।

রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

পরে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন।

পরে গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক সামসুল আলম সোনা, গাংনী থানার পক্ষে ওসি উত্তম কুমার দাস ও ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন, গাংনী কৃষি অফিসের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান, গাংনী পৌরসভার পক্ষে প্রশাসক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে, পল্লী বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।




অমর একুশে উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আলোচনা সভা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির তাজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি কাজী রুহুল আমিন, নায়েবে আমির মাহবুবুল আলম, পৌর আমির সোহেল রানা ডলার এবং জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম প্রমুখ।

বক্তারা মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।




মেহেরপুরের ভাষা সংগ্রামীরা কেউ ইতিহাসেও বেঁচে নেই

ভাষা আন্দোলনর সময় প্রায় অখ্যাতই ছিল ভারত সীমান্তঘেঁষা প্রান্তিক মহকুমা শহর মেহেরপুর। যার পরিচিতি ঘন আমবাগান আর পলাশীর ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কিন্তু ইতিহাসের সেই নীরব জনপদ ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৫ মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে জেগে উঠেছিল দৃঢ় প্রতিবাদে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দীদের মুক্তি চাই, পুলিশি জুলুম চলবে না স্লোগানে মুখর হয়েছিল পথঘাট।

ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মেহেরপুরে হরতাল পালিত হয়। “উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা” ঘোষণার বিরুদ্ধে মেহেরপুর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শহরজুড়ে ছাত্রমিছিল বের হয়। রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হলেও চেতনায় পিছিয়ে ছিল না এই শহর।

১৯৫১ সালের এপ্রিল মাসে আন্দোলন আবারও বেগবান হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গুলিবর্ষণ ও হতাহতের খবর পৌঁছালে মেহেরপুরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। মুন্সী সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে আওলাদ হোসেন, কাওসার আলী, ইসমাইল হোসেনসহ শিক্ষার্থীরা পোস্টারিং ও পিকেটিংয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণকালে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেও তা ছত্রভঙ্গ করতে পারেনি। কালাচাঁদ হলের সামনে আবুল কালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বক্তারা সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। ঢাকার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রান্তিক মেহেরপুরে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ পদচারণায় একুশের আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

ভাষার দাবি তখনও পূরণ হয়নি। ১৯৫৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহীদ দিবসের প্রভাত ফেরি পালন করতে গিয়ে প্রশাসনের কঠোর দমননীতির মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। শুক্লা গাঙ্গুলির নেতৃত্বে রিপন গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা ওই প্রভাত ফেরিতে যোগ দেন, শিক্ষকদের বাধা উপেক্ষা করে। প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মেহেরপুর সরকারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুন্সি সাখাওয়াৎ হোসেন, নজীর হোসেন বিশ্বাস এবং তাঁর সহযাত্রী কদম রসুল, সামসুল আলা, আবুল কাসেম, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ গ্রেপ্তার হন। পরে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তদবিরে তাদের ছাড়িয়ে আনা ছাড়াও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। আজ ওই সাতজনের কেউই জীবিত নেই।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে অংশ নেওয়া গোলাম কাউসার চানার পুত্র জি এফ মামুন লাকি জানান, এতদিন ভাষাসংগ্রামীদের মূল্যায়ন বলতে একুশে ফেব্রুয়ারি এলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনাই ছিল একমাত্র স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের পর সেই আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনাও বন্ধ হয়ে গেছে।

মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চান্দু বলেন, এত বছরেও ভাষাসংগ্রামীদের রাষ্ট্রীয় তালিকা হয়নি। তাঁদের পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নেওয়ারও কোনো উদ্যোগ নেই। এটি ইতিহাসের প্রতি অবহেলা।”

মেহেরপুরের ভাষাসংগ্রামীদের নাম আজও কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকায় নেই। তাঁদের অনেকেই প্রয়াত; পরিবারগুলোও অবহেলিত। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা কিংবা আর্থ-সামাজিক সহায়তার বিষয়টি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জন করা জাতির জন্য এটি এক বেদনাদায়ক প্রশ্ন। প্রান্তিক শহরের যাঁরা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন, গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় কি ইতিহাসের প্রান্তেই পড়ে থাকবে?

মেহেরপুরের সচেতন মহল মনে করে, অবিলম্বে ভাষাসংগ্রামীদের যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রীয় তালিকা প্রণয়ন, তাঁদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া এবং প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি। নইলে প্রান্তিক এই শহরের অবদান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে বিস্মৃতির অতলে- আর ইতিহাস হয়ে উঠবে অসম্পূর্ণ।




ঝিনাইদহে জমি রেজিস্ট্রি করতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা

জমি ক্রয়-বিক্রয় মানুষের জীবনের বড় বিনিয়োগগুলোর একটি। কিন্তু সেই জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

এ ধরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে। দলিল লেখক, দালাল ও অফিস-সংশ্লিষ্ট কতিপয় অসাধু চক্রের কারণে জমি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে ব্যয়বহুল ও ভোগান্তিপূর্ণ।

জানা গেছে, জমির মূল্য ও সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী রেজিস্ট্রি খরচ নির্দিষ্ট থাকলেও বাস্তবে তা দিতে হচ্ছে আরও কয়েকগুণ বেশি।

কখনো দলিল দ্রুত সম্পন্ন করা, কখনো নথি যাচাই বা সই নেওয়ার অজুহাতে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অনেক ক্ষেত্রে টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা ভুলত্রুটি দেখিয়ে হয়রানি করা হয় জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী খার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিণাকুণ্ডু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রামরাজত্ব কায়েম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ব্যবহার করে এই অর্থ আদায় করা হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না জমি ক্রেতা বিক্রেতারা।

সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী একটি চক্র গড়ে তোলে। চক্রটি ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রিসহ নানা অনিয়ম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চক্রটি যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের ব্যবহার করে থাকে ফলে অনেকে প্রকাশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না।

আদর্শ আন্দুলিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘দালাল ছাড়া রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো কাজই হয় না। আমার ৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে সরকারি ফি ছাড়াও অন্তত ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। টাকা না দিলে কাজ হচ্ছিল না তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।’

নারায়নকান্দি গ্রামের লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমার শাশুড়ির নামে থাকা জমি স্ত্রীর নামে হস্তান্তরের পর বিক্রির সময় কাগজপত্রে নানা ত্রুটির কথা বলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে বড় অঙ্কের টাকা না দিলে এ অফিসে কোনো কাজ হয় না। রেজিস্ট্রির দিন বিপুলসংখ্যক মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে এলে তাদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন ওয়াজেদ আলীর নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। এ নিয়ে অনেকবার ইউএনও অফিসে জানিয়ে কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘হরিণাকুণ্ডু- সাবরেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নইলে জমি রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তেই থাকবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘সারাদেশে যেভাবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিচালনা করা হয়। আমরা এখানে সেভাবেই পরিচালনা করে থাকি। অফিস পরিচালনার জন্য দাতা-গ্রহীতাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নেওয়া হয়।’

হরিণাকুণ্ডু সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সাবরেজিস্টার মোমিন মিয়া বলেন, আমাদের এখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমাদের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাসিক আইনশৃঙ্খলায় সভায় এ নিয়ে সকলকে সর্তক করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’




মেহেরপুরে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

একুশের প্রথম প্রহরে মেহেরপুরের ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন স্তুরের মানুষ।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শুরু হয়।

পরে জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ তরিকুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ.কে.এম নজরুল কবির, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা টিমের পরিচালক ( সমন্বয়) ক্যাপ্টেন (অব.) গনী উল আজম, জেলা বিএনপির পক্ষে সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসান জেলা বিএনপির পক্ষে , জেলা জামায়াতের পক্ষে রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন ও সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধানরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠণের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।




মুজিবনগরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস আর নেই   

মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান  জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস ইন্তেকাল করিয়াছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) ।

গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মরহুমের জানাযার সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।




গাংনীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ ও বেকার জীবন-যাপনে মানষিক চাপে  গলায় ফাঁস দিয়ে আটাশ বছর বয়সি যুবক মোবারক হোসেন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোমরদহ স্কুলপাড়া গ্রামে।

নিহত মোবারক হোসেন ওই গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবক বতর্মানে বেকার জীবন-যাপন করছিল, এর আগে বেশ কয়েকবার প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েন মোবারক হোসেন। তারই ধারাবাহিকতায় সাংসারিক বিষয় ও প্রবাসে যাওয়া নিয়ে আবারও পরিবারের লোকজনের সাথে কথা চলছিলো। তবে কোন ঝগড়া বিবাদ ছাড়াই শুক্রবার সকালে সবার অজান্তেই সে তার বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্ম হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে পাশের বাড়ির লোকজন ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিকিৎসার জন‍্য তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

সেখানে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাসমেরী খাতুন মোবারক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।




মেহেরপুরে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজয়ের নেপথ্যে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ আসনের ফলাফল শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, এটি একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের মাঠে এবার জিতেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান বলছে, ভোটাররা কেবল প্রার্থী নয়; আচরণ, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির ওপর রায় দিয়েছেন।

২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ অরুণ প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০০৮ সালে একই অঞ্চলে জামায়াত প্রার্থী পান মাত্র ৩৪ হাজার ভোট। কিন্তু এবার জামায়াত প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দিন খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৪৬১ ভোট, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৭ ভোট। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল ভোট এলো কোথায় থেকে?

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল দলীয় ভোট স্থানান্তর নয়; বরং ‘নতুন ভোটার সক্রিয়তা’, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নীরব ভোটারের প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপির প্রান্তিক পর্যায়ের নেতা-সমর্থকদের অতি বাড়াবাড়ি ছাড়াও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলের প্রার্থীকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সংগঠনিক দূর্বলতা, দলীয় অন্তর্কলহ, ৫ আগস্ট পরবর্তী জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও পাড়া-মহল্লার নেতাকর্মীদের অবাধ্য আচরণ। হাট-বাজার, খাল-বিল দখল, মামলার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। এসবের জবাব দিয়েছে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে। আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী মেহেরপুরে বিএনপির নতুন কমিটিতে সাবেক এমপি মাসুদ অরুণসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় দলে বিরোধ শুরু হয়। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান পক্ষ ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ পক্ষ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে একে অপরের বিরোধীতা করে সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখে। একপর্যায়ে মাসুদ অরুণ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর কামরুল পক্ষ বিরোধী শিবিরেই রয়ে যায়। যা নির্বাচনে পরাজয়েরও একটি কারণ। তৌফিকুল

ইসলাম নামের একজনের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ৪১ সেকেন্ডের কল রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে। তাতে শোনা যায় কামরুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

একাধিক ব্যবসায়ী, ইজারাদার ও গ্রামবাসীর অভিযোগ- ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু তৃণমূল নেতা হাট-বাজার, খাল-বিল ও স্থানীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় মামলাভীতি, সামাজিক চাপে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং বিরোধী মতের লোকজনকে ‘১২ ফেব্রুয়ারির পর দেখে নেওয়া’ এমন কথাবার্তা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও জেলা বিএনপি নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছে, তবুও তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণহীনতা স্পষ্ট ছিল বলে স্বীকার করেছেন দলটিরই কয়েকজন সাবেক দায়িত্বশীল নেতা।

একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা বলেন, দল তখন সংগঠন গোছানোর চেয়ে প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত ছিল, এটাই ভুল।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য শোডাউনের বদলে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন পুনর্গঠন করে। স্থানীয় মসজিদকেন্দ্রিক যোগাযোগ, অসুস্থ-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা-সহায়তা, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, এসবের মাধ্যমে তারা সামাজিক আস্থা তৈরি করে।

একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, তারা বড় মিছিল করেনি, কিন্তু ঘরে ঘরে গেছে। মানুষ সেটা মনে রেখেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি যখন ‘ক্ষমতার পরবর্তী প্রভাব’ নিয়ে ব্যস্ত, জামায়াত তখন ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি’ নিয়েছে। এবারের নির্বাচনে চোখে পড়েছে নারীদের দীর্ঘ লাইন। বিশেষ করে যেসব পরিবার অতীতে রাজনৈতিক ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেত না, সেইসব নারীরা এবার প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি-বিরোধী পুরুষ কর্মীদের অনুপস্থিতি থাকলেও নারীদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতি- এই দুই প্রশ্ন নারী ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। এটিকেই অনেকে বলছেন ‘ভোট বিপ্লব’-এর নীরব চালিকাশক্তি। বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা গেছে, বিএনপি বিরোধী পরিচিত পুরুষ নেতাদের উপস্থিতি কম।

স্থানীয়দের ধারণা, ভীতি এড়াতে তারা প্রকাশ্যে আসেননি। তবে তাদের পরিবারের সদস্যরা ভোট দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, ভোটাররা প্রকাশ্য অবস্থানের বদলে গোপন ব্যালটে মত প্রকাশে স্বস্তি পেয়েছেন। কিছু গ্রামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়ি থেকে গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া, সম্পদ দখলের অভিযোগ, এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি; তবে অফ দ্য রেকর্ড স্বীকার করেছেন, ভোট দিয়েছি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ভেবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, যখন ভোটার মনে করেন ফলাফলের পর তার সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তখন তিনি ‘সবচেয়ে কম ঝুঁকির’ বিকল্পকে বেছে নেন। বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রান্তিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, এমন অভিযোগ দলটির ভেতরেও আছে। অন্তর্কলহ, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ, ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন, এসব দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নির্বাচনে বিস্ফোরিত হয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে মেহেরপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা ৯৬ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।

মেহেরপুর-২ গাংনী আসনে মেহেরপুর জেলা কমিটির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়াতে তিনিসহ তার সমর্থকদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সেভাবে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ফলে তার সমর্থকরা প্রকাশ্য শ্লোগান নয়, আচরণের হিসাব কষেছেন। ক্ষমতার সময়ের ব্যবহার, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক, এবং নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তার আশ্বাস এই তিন উপাদান নির্ধারণ করেছে গাংনীর ভোটের ফলাফল।

বিএনপির জন্য এটি আত্মসমালোচনার সময়; জামায়াতের জন্য এটি আস্থা ধরে রাখার পরীক্ষা। মেহেরপুরে এবার ভোট ছিল নীরব, কিন্তু রায় ছিল উচ্চকণ্ঠ।