মেহেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন

মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও ম্যান অব দ্য ম্যাচদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মেহেরপুর স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম।

টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় মেহেরপুর শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খান দৃষ্টিনন্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানারআপ হয় ঝাউবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানারআপ হয় হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।




কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বোমাসহ আটক ১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি হাতবোমা ও একটি দেশীয় অস্ত্রসহ মঙ্গল মোল্লা নামে এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

আটককৃত মঙ্গল মোল্লা দৌলতপুর উপজেলার ছলিমের চর এলাকার মো. মালেক মোল্লার ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১টা ৩০ মিনিটে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চিলমারী বিওপির ছলিমপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

এ সময় একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি হাতবোমা, একটি দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া) এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মঙ্গল মোল্লাকে আটক করা হয়।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।




কুষ্টিয়ার খোকসায় পাখি ভ্যানচাপায় প্রাণ গেল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর

কুষ্টিয়ার খোকসায় ব্যাটারিচালিত পাখি ভ্যানচাপায় ইছান আব্দুল্লাহ (৬) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থী ইছান আব্দুল্লাহ উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের বরইচারা গ্রামের রাজিব হাসানের ছেলে। সে স্থানীয় তামিম ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোকসা-শোমসপুর সড়কসংলগ্ন রাজিনাথপুরে অবস্থিত তামিম ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইছান আব্দুল্লাহ তার মায়ের সঙ্গে স্কুলে যান। সে সময় শিক্ষার্থীর মা ভ্যান ভাড়া দেওয়ার সময় শিশু ইছান আব্দুল্লাহ দৌড়ে রাস্তা পার হতে যান। এ সময় অপর প্রান্ত থেকে আসা ব্যাটারিচালিত দ্রুতগতির ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ইছান আব্দুল্লাহর দাদা সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হাসান বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় সকাল সাড়ে ৮টার সময় বাড়ি থেকে তারা বের হন। মাদ্রাসার সামনে ভ্যান থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় শোমসপুর থেকে খোকসা যাওয়ার পথে দ্রুতগতির একটি ভ্যান তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




যুব ক্রিকেট লিগে সেন্ট্রাল জোনে জায়গা পেল মেহেরপুরের শয়ন

মেহেরপুর ক্রিকেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (এমকেএসপি) ছাত্র শয়ন বিশ্বাস যুব ক্রিকেট লিগ ২০২৫-২৬ (একদিনের) আসরে সেন্ট্রাল জোন দলে সুযোগ পেয়েছেন।

মেহেরপুর প্রতিদিন পরিবার, ক্রীড়াবিদ ও সংশ্লিষ্টরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।




কাটাতে শুরু করেছে মেহেরপুরের তেল সংকট

মেহেরপুরে সাম্প্রতিক তেল সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি, তেলের সংকট ও অনিশ্চয়তার পর এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিতভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। পাম্পগুলোতে ভিড় কমে গেছে; কোথাও কোথাও গ্রাহক খুঁজে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির উন্নতির ফলে এ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ভোগান্তি কমাতে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।”

ট্যাগ অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখনো মাঠে সক্রিয় থাকলেও আগের মতো চাপ নেই। তাদের উপস্থিতি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকদের ডিজেলের চাহিদা কিছুটা কমেছে, যা বাজারে চাপ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।




গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ,আহত ৩

মেহেরপুরের গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে সখের ব‍্যাবহৃত মোটরসাইকেল ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত ফজলু শাহ-র ছেলে জীবনের কাছে টাকা পায় ওই গ্রামের রবি। আজ সোমবার বেলা ১১ টার দিকে রবি তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে জীবনের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়।

এসময় জীবন ও শীলন দুই ভাই রবির উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে।

এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রবির পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে জীবনের মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাব পত্র ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে পুলিশ।

এতে উভয় পক্ষের আহত হয়েছে তিনজন ৷ আহত রবিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দামুড়হুদায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে মাঠজুড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার নতিপোতা ও নাটুদহ ইউনিয়নের হেমায়েতপুর, বেড়বাড়ী, করিমপুর, কালিয়াবকরী, ভগিরথপুর, বোয়ালমারী ও চারুলিয়া গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই তাণ্ডব আঘাত হানে।

গত রোববার বিকেলে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল ঝড়ো হাওয়া। দমকা বাতাসের তীব্র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় শত শত বিঘা জমির কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল। অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অল্প সময়ের এই ঝড়ই তাদের সারা বছরের পরিশ্রমকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বারবার এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কৃষকদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

বেড়বাড়ী গ্রামের কলাচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, “এই ঝড়ে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবকিছু একেবারে শেষ হয়ে গেছে।”

একই গ্রামের আরেক চাষি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার তিন বিঘা কলাবাগান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাছের কিছুই দাঁড়িয়ে নেই। অনেক যত্ন করে এগুলো বড় করেছিলাম। এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

চারুলিয়া গ্রামের পেঁপেচাষি আনারুল ইসলাম বলেন, “এমন ভয়াবহ ঝড় জীবনে খুব কমই দেখেছি। উত্তর দিক থেকে আসা ঝড়ো হাওয়ায় আমার ৩ বিঘা পেঁপে বাগান মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি ৪ বিঘা কলাগাছও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, আক্রান্ত কৃষিজমিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কলা ও পেঁপে বাগানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের টিম কাজ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পুনর্বাসন ও প্রণোদনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পথে বসতে পারেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও কৃষি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




আলমডাঙ্গায় চোরাই মালামালসহ আটক ১

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার, রুপার গহনা, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা দুর্গাপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে রবিউল ইসলামের বসতবাড়িতে লোকজনের অনুপস্থিতিতে গত ২৬ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে চুরির ঘটনা ঘটে।

পরে জানা যায়, কুমারী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে হাসান আলী দুপুর ১টা থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে নির্জন বাড়িতে প্রবেশ করে আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে। চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে।

আটক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক জোড়া স্বর্ণের বালা (প্রায় ৪ আনা, আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা), এক জোড়া রুপার বালা (প্রায় ২ ভরি, মূল্য ৭ হাজার টাকা), একটি নাকফুল ও নথ (প্রায় ১ আনা ১ রতি, মূল্য ৫ হাজার টাকা), একটি পুরাতন বাটন মোবাইল ফোন (মূল্য ৬০০ টাকা) এবং নগদ ৯ হাজার ৪১৫ টাকা।

খবর পেয়ে এসআই (নিরস্ত্র) মো. মেহেদী হাসান তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেন এবং উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা (নং-৩২, তারিখ: ২৬/০৪/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। ধৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




মেহেরপুরকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক

মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

কৃষিপ্রধান মেহেরপুরে কৃষিতে সমৃদ্ধি আনতে এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরকারের সকল সুবিধা পেয়ে নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। সেই সঙ্গে মেহেরপুরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করতে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস।

গাংনী উপজেলার ওপর প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়ার রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. মো. রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, এনসিপির মেহেরপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মোজাহিদুল ইসলাম, সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর, পলাশীপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বকুলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় গাংনীর সাব-রেজিস্টার অফিসের নানা অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন গাংনীবাসী। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান উপস্থিত অনেকে।




গঙ্গাঋদ্ধি: প্রাচীন বাংলার বিস্মৃত শৌর্য ও সমৃদ্ধির ইতিহাস

আমি গর্বের সঙ্গে বলি, আমার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। গঙ্গা ও পদ্মার পলিমাখা সেই জনপদে, যা প্রাচীন বাংলার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী। আজ আমরা যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, তা কোনো সাধারণ ভূমি নয়। এই অঞ্চল ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী ও ঐশ্বর্যশালী ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ বা Gangaridai সাম্রাজ্যের অংশ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে তাকালে আমরা এমন এক বাংলার দেখা পাই, যা কেবল সামরিক শক্তিতেই নয়, বরং অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতিতেও ছিল অগ্রগামী।

প্রাচীন সাহিত্যে গঙ্গাঋদ্ধির উল্লেখ
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিক ও রোমান ঐতিহাসিকদের লেখায় প্রথম উঠে আসে ‘গঙ্গারিডই’ নামের এক শক্তিশালী জনপদের কথা। ঐতিহাসিক ডিওডোরাস সিকিউলাস, প্লিনি দ্য এল্ডার, কুইন্টাস কার্টিয়াস রুফাস এবং প্লুটার্ক তাঁদের লেখায় এই সাম্রাজ্যের উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, গঙ্গাঋদ্ধি ছিল গঙ্গা নদীর নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত এক বিশাল ও সম্পদশালী রাজ্য, যার সামরিক শক্তি ছিল অপ্রতিরোধ্য।

প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যেও এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারতে ‘বঙ্গ’ নামের একটি শক্তিশালী জনপদের কথা বলা হয়েছে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও গাঙ্গেয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক গুরুত্বের কথা উল্লিখিত আছে।

আলেকজান্ডার ও গঙ্গাঋদ্ধির কিংবদন্তি
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে মহাবীর আলেকজান্ডার পারস্য ও আফগানিস্তান জয় করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে প্রবেশ করেন। পাঞ্জাবের কিছু অঞ্চল জয়ের পর তিনি বিপাশা, বর্তমানে বিয়াস নদীর তীরে পৌঁছান। সেখানেই তাঁর সৈন্যবাহিনী সামনে এগোতে অস্বীকার করে।

গ্রিক ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই অস্বীকৃতির পেছনে একটি বড় কারণ ছিল পূর্বদিকে অবস্থিত গঙ্গাঋদ্ধি সাম্রাজ্যের ভীতিজাগানিয়া সামরিক শক্তির খবর। ডিওডোরাস ও প্লুটার্কের মতে, গঙ্গাঋদ্ধিদের ছিল প্রায় ৪,০০০ প্রশিক্ষিত যুদ্ধ-হস্তী, ২০,০০০ অশ্বারোহী এবং দুই লক্ষ পদাতিক সৈন্য।

এখানে মনে রাখা জরুরি, গ্রিক লেখকরা প্রায়ই শত্রুপক্ষের শক্তিকে বাড়িয়ে বলতেন যাতে নিজেদের কৃতিত্ব বড় দেখায়। সংখ্যাটা অতিরঞ্জিত হলেও এটুকু নিশ্চিত যে গঙ্গাঋদ্ধির বাহিনী ছিল বিশাল ও সুসংগঠিত। আলেকজান্ডার পারস্যে মাত্র কয়েক ডজন হাতির মুখোমুখি হয়েই বেকায়দায় পড়েছিলেন। ৪,০০০ হাতির কথা শুনে তাঁর যুদ্ধক্লান্ত সেনাদের মনোবল ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক।

ফলে আলেকজান্ডার আর বাংলা অভিমুখে অগ্রসর না হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, আলেকজান্ডার প্রকৃতপক্ষে বাংলার মাটিতে পা রাখেননি। তিনি পাঞ্জাবের বিপাশা নদী পর্যন্তই এসেছিলেন। কিন্তু গঙ্গাঋদ্ধির শক্তির খ্যাতি তাঁর অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছিল, এটি ঐতিহাসিক সত্য।

গঙ্গাঋদ্ধির ভৌগোলিক অবস্থান ও বিতর্ক
গঙ্গাঋদ্ধির সঠিক সীমানা নিয়ে আজও ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে, এই সাম্রাজ্য গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এর কেন্দ্র ছিল বর্তমান ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে।

প্লিনির বর্ণনায় বলা হয়েছে যে গঙ্গাঋদ্ধির রাজধানীর নাম ছিল ‘গঙ্গে’। চন্দ্রকেতুগড়, মহাস্থানগড় ও ওয়ারী-বটেশ্বরের মতো প্রত্নস্থলে যে উন্নত নগর সভ্যতার চিহ্ন মিলেছে, গবেষকরা সেগুলোকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র বলে মনে করেন। তবে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের অভাবে সঠিক অবস্থান নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

আরেকটি বড় প্রশ্ন: গঙ্গাঋদ্ধি কি স্বাধীন রাজ্য ছিল, না মগধের নন্দ বংশের অধীনস্থ মহাজনপদ? প্লুটার্ক যখন ‘প্রাসিয়ই ও গঙ্গারিডই’ একসাথে উল্লেখ করেন, তখন অনেকে ধরে নেন এরা নন্দদের অধীন ছিল। আবার কারো মতে, আলাদা শাসক ও বিশাল সেনাবাহিনীর উল্লেখ প্রমাণ করে এটি স্বতন্ত্র ও পরাক্রমশালী রাষ্ট্র ছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে আরও খনন ও গবেষণা জরুরি।

অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও কৃষি ঐশ্বর্য
গঙ্গাঋদ্ধির শক্তির মূল ভিত্তি ছিল এর অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা। গঙ্গা-পদ্মা-ব্রহ্মপুত্রের উর্বর পলি এই অঞ্চলকে করে তুলেছিল অত্যন্ত শস্যশ্যামল ও বিত্তবান। প্রাচীন গ্রিক লেখকরা উল্লেখ করেছেন যে এই অঞ্চলে বছরে একাধিকবার প্রচুর ফসল ফলত এবং খাদ্যশস্যের কোনো অভাব ছিল না। এই কৃষি-ঐশ্বর্যই তাদের একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী ও হস্তীবাহিনী লালন-পালনের সামর্থ্য দিয়েছিল।

কৃষির পাশাপাশি এই অঞ্চলে পশুপালন, মৎস্য আহরণ এবং কুটিরশিল্পও উন্নত ছিল। বিশেষত তাঁত শিল্প ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের।

বাণিজ্য ও শিল্পে গঙ্গাঋদ্ধি
গঙ্গাঋদ্ধি কেবল কৃষিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নৌপথে এই অঞ্চলের আধিপত্য ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গঙ্গা নদী ছিল তাদের প্রধান বাণিজ্যপথ।

এই অঞ্চল থেকে উৎপাদিত সূক্ষ্ম সুতি বস্ত্র, যা পরবর্তীকালে মসলিন নামে বিখ্যাত হয়, রপ্তানি হতো রোমান সাম্রাজ্যসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। এছাড়া মসলা, রেশম, হাতির দাঁত এবং মূল্যবান পাথরও রপ্তানির তালিকায় ছিল। বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে জাহাজে করে পণ্য যেত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আরব এবং পূর্ব আফ্রিকায়।

প্লিনি তাঁর ‘Natural Historia’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে গঙ্গাঋদ্ধি থেকে উৎকৃষ্ট মানের মুক্তা ও সূক্ষ্ম বস্ত্র রোমে আমদানি হতো। এই সম্পদশালী বাণিজ্যের বিনিময়ে রোমান সোনার মুদ্রা এই অঞ্চলে প্রবাহিত হতো, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করত।

সামরিক শক্তি ও যুদ্ধ কৌশল
গঙ্গাঋদ্ধির সামরিক শক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তার বিশাল হস্তীবাহিনী। প্রাচীন ভারতীয় যুদ্ধকৌশলে হাতি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। গ্রিক ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, গঙ্গাঋদ্ধির কাছে ছিল প্রায় ৪,০০০ যুদ্ধ-হস্তী। এই সংখ্যা তৎকালীন বিশ্বের যে কোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি ছিল।

এছাড়া গঙ্গাঋদ্ধির ছিল সুসংগঠিত পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী। নদীমাতৃক এই অঞ্চলে নৌবাহিনীরও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। নৌযুদ্ধেও তাদের দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবন
গঙ্গাঋদ্ধি শুধু সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবেই ঐশ্বর্যশালী ছিল না, সাংস্কৃতিকভাবেও এটি ছিল উন্নত। এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সহাবস্থান ছিল। বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্যে বঙ্গ অঞ্চলের বাণিজ্য ও সমৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া মৃৎপাত্র, মুদ্রা এবং অন্যান্য নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে এখানে নগর সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল। চন্দ্রকেতুগড়, মহাস্থানগড়, তাম্রলিপ্ত এবং পুণ্ড্রবর্ধন ছিল গুরুত্বপূর্ণ নগর কেন্দ্র।

শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চারও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে এই অঞ্চলেই গড়ে ওঠে পাহাড়পুর ও সোমপুর বিহারের মতো বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ঐতিহাসিক গবেষণার প্রয়োজন
গঙ্গাঋদ্ধি নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। এর সঠিক সীমানা, রাজবংশের নাম, রাজধানীর অবস্থান, এসব বিষয়ে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের জাতীয় পাঠ্যক্রমে এই গৌরবময় অধ্যায় খুব কমই স্থান পেয়েছে। আমরা বিদেশি বীরদের কথা শিখি, কিন্তু আমাদের নিজস্ব শেকড়ের এই শৌর্যগাথা প্রায় অজানাই থেকে যায়।

উপসংহার
গঙ্গাঋদ্ধি ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও ঐশ্বর্যশালী সভ্যতা। এর সামরিক শক্তি বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডারের সৈন্যদের পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। এর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আর এর সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ পরবর্তী বাংলার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

আমরা যারা বাংলার মানুষ, বিশেষত যারা গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার বাসিন্দা, আমরা সেই মহান সভ্যতার উত্তরসূরি। আমাদের দায়িত্ব এই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, আরও গবেষণার মাধ্যমে এর অজানা অধ্যায়গুলো উন্মোচন করা এবং জাতীয় গর্বের এই উৎসকে সংরক্ষণ করা।

আসুন, আমরা আমাদের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং গর্বের সঙ্গে জানাই: আমরা অপরাজেয় গঙ্গাঋদ্ধির বংশধর। আমাদের মাটি এমন এক সভ্যতার জন্মভূমি যা কখনো মাথা নত করেনি এবং যা ছিল জ্ঞান, সম্পদ ও শৌর্যে সমুজ্জ্বল। এক সত্যিকারের সোনার বাংলা।