আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝিনাইদহের ফুরসন্দি ইউনিয়ন আবারো উত্তপ্ত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়ন আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পূর্বের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং যেকোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল দিঘিরপাড় গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় প্রভাবশালী দু’পক্ষ। ওই দিন বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলা ও সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনায় মারা যায় দুইজন। এক বছর পর আবারো ওই ইউনিয়নের দোহাকুলা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ।

জানা যায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দোহাকুলা গ্রামের যুবলীগ নেতা আবু সাঈদ শিকদার ও বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। গত শুক্রবার বারিক মোল্লার সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আবু সাঈদ শিকদারের সমর্থক রোমেন মন্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় টিকারী বাজারে আবু সাঈদের সমর্থক জাহিদুল, ওমর আলী, রোমেন মন্ডলসহ আরও কয়েকজন সঞ্জয়কে মারধর করে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

যেকোন সময় আবারো বড় ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোন প্রকার সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।




মেহেরপুরে আত্মগোপনে থাকা ক্যাসিনো এজেন্ট গ্রেপ্তার

মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে মাসুদ রানা নামের আরও এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কোমরপুর বাজারের ‘রোজ ফ্যাশন’ ঘেরাও করে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

এ সময় সেখান থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ রানা মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেন ও উলফতুন্নেছা দম্পতির ছেলে। তিনি কোমরপুর বাজারের ‘রোজ ফ্যাশন’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের অভিযোগে মুজিবনগর থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২)/২৪(২)/২৭(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রথমে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও পরে তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ওই মামলার ১১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মাসুদ রানা গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে গোপনে মাঝে মাঝে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতেন বলে তথ্য পায় ডিবি পুলিশ।

এর আগে একই মামলায় অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট মুকুল ইসলামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আরও ১৫ জনকে মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও একজন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। অধিকাংশ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্টে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা বা জুয়া সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা করা হবে।’

তিনি আরও জানান, আজ মঙ্গলবার (১২ মে) আসামিকে আদালতের পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।




ডিজিটাল জেনারেশন, নাকি এক বিকৃত শৈশব? 

আমি বিশ্বাস করি, কোনো সমাজ তখনই বদলায় যখন তার মানুষ আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করতে শেখে। এই লেখা কোনো অভিযোগনামা নয়, এটি একটি বৌদ্ধিক বিপ্লবের আহ্বান — সেই বিপ্লব যা রাজপথে নয়, শুরু হয় ঘরের শোবার ঘর থেকে।

আমাদের রাষ্ট্রীয় অবক্ষয় আজ আর শুধু রাজপথে নয়, ঢুকে পড়েছে অন্দরমহলের শোবার ঘরেও। যখন আধুনিক মা-বাবা শিশুর পাশে শুয়ে নীল পর্দার অন্ধকারে মত্ত হন, তখন সেই নিষ্পাপ চোখগুলো অজান্তেই চিনে নেয় এক ভয়ঙ্কর ভাষা। শৈশবেই এই লুকোচুরি খেলার হাতেখড়ি যে শিশু পায়, তার কাছে নীতি-নৈতিকতা একদিন কেবল কাল্পনিক কৌতুকে পরিণত হয়। আমরা রাষ্ট্রকে গালি দিই, অথচ ঘরের কোণে বিষাক্ত ডিজিটাল ডিভাইসে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ যে আমরা নিজ হাতেই ধ্বংস করছি — সেই নগ্ন সত্যটা স্বীকার করার সাহস আমাদের নেই।

শোবার ঘরের লুকোচুরি ও শৈশবের অপমৃত্যু: পারিবারিক শিক্ষার হাতেখড়ি যেখানে হওয়ার কথা ছিল পবিত্রতা দিয়ে, সেখানে আজ যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল পর্নোগ্রাফির কালো ছায়া। যে শিশুটি মা-বাবার চোখে নিরাপত্তা খোঁজার কথা, সে অন্ধকার ঘরে তাদের মোবাইল স্ক্রিনের বিকৃত আলো দেখে বড় হচ্ছে। মা-বাবা ভাবছেন শিশুটি ঘুমিয়ে আছে বা কিছু বুঝছে না, কিন্তু সেই নিষ্পাপ অবচেতন মনে তখন গেঁথে যাচ্ছে যৌনবিকৃতির বীজ এবং এক অব্যক্ত ভয়।

এটা কেবল অবহেলা নয়। এটা একটি শিশুর মানসিক জগতকে শৈশবেই ধ্বংস করে দেওয়া। গবেষণা বলছে, শিশুবয়সে বিকৃত কনটেন্টের সংস্পর্শে আসলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। মা-বাবার এই গোপন আসক্তির ছায়াই সন্তানের আচরণকে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক করে তোলে।

টিকটক ও ফেসবুকের নর্দমায় বন্দি শৈশব: আজকের বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে একই দৃশ্য — শিশু কান্না করছে আর মা-বাবা নিজের শান্তি বজায় রাখতে তার হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন। দুই-তিন বছরের সেই শিশুটি যখন ইউটিউবে কার্টুন খুঁজতে গিয়ে ফেসবুক রিলস বা টিকটকের অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্টে গিয়ে পড়ে, তখন সে দেখে বিকৃত অঙ্গভঙ্গি আর সস্তা উত্তেজনার ভিডিও।

স্ক্রল করতে করতে তার কচি আঙুলগুলো যখন কুরুচিপূর্ণ কনটেন্টে আটকে যায়, তখন তার মস্তিষ্কের বিকাশ আর স্বাভাবিক থাকে না। শিশুমনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর মনোযোগ, ভাষাশিক্ষা এবং সামাজিক দক্ষতার উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যে বয়সে রূপকথার গল্প শোনার কথা, সেই বয়সে সে শিখছে মা-বাবার কাছ থেকে নিজের ডিজিটাল কার্যকলাপ কীভাবে লুকাতে হয়। তারা প্রযুক্তির সুফল পাচ্ছে না, বরং বিষপান করছে।

সর্বগ্রাসী মহামারি: উঁচুতলা থেকে বাঁশতলা: এই অবক্ষয় আজ আর কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ নেই। উঁচুতলার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে তথাকথিত শিক্ষিত মা-বাবা যেমন ডিজিটাল ডিভাইসে নিজেদের নৈতিকতা বিসর্জন দিচ্ছেন, তেমনি গ্রামের সাধারণ মানুষও এই স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন। স্মার্টফোন আজ প্রতিটি ঘরে একেকটি নীরব সময়বোমা হিসেবে কাজ করছে।

সমাজ এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে অভিভাবকত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত বিনোদন আর স্ক্রিন টাইম বড় হয়ে উঠছে। ফলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে উঠছে মূল্যবোধহীন এক বিকৃত জগতের মধ্যে, যেখানে বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল স্ক্রিনই বেশি পরিচিত।

উত্তরণের পথ: তিনটি প্রতিকার

অন্দরমহলের শুদ্ধি অভিযান :প্রথম কাজ হবে শোবার ঘর থেকে অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবহার বন্ধ করা। মা-বাবাকে বুঝতে হবে — আপনার সন্তান আপনার কথা শোনে না, সে আপনাকে দেখে শেখে। তাই শিশুর সামনে মোবাইল ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট দেখার অভ্যাস সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। ঘরের কোণে যে শিশুটি বড় হচ্ছে, তাকে নীল আলোর নেশা নয়, মা-বাবার সান্নিধ্য আর গল্পের বইয়ের মায়ায় জড়িয়ে রাখতে হবে।

প্রযুক্তির ফিল্টারিং ও সচেতন অভিভাবকত্ব: প্রযুক্তিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্মার্টফোনে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করা এখন বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। শিশু অনলাইনে কী দেখছে, কোন লিঙ্কে যাচ্ছে — তার উপর নজরদারি থাকতে হবে। সস্তা বিনোদনের অ্যাপের পরিবর্তে শিশুকে জ্ঞান ও সৃজনশীলতামূলক কনটেন্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। প্রযুক্তির সুফল নিতে হলে আগে তার কুফল থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে হবে — এটাই আধুনিক অভিভাবকত্বের মূল দায়িত্ব।

ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সামাজিক আন্দোলন: রাষ্ট্র আইন করে ঘরে ঘরে নৈতিকতা পৌঁছে দিতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলন। পাড়া-মহল্লায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সাক্ষরতার কার্যক্রম চালু করতে হবে। অভিভাবকদের বোঝাতে হবে — একটি শান্ত শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া সাময়িক সমাধান, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি অপূরণীয়। ডিজিটাল পরিসরকে জ্ঞান অর্জনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে।

উপসংহার: বৌদ্ধিক বিপ্লবের শপথ

যে সমাজ নিজের সন্তানের চোখে আলো জ্বালাতে ভুলে যায়, সে সমাজ একদিন নিজেই অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আমরা রাষ্ট্রের দিকে আঙুল তুলি, ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলি — কিন্তু সেই আঙুলটা কখনো নিজের বুকের দিকে ঘোরাই না।

এই পরিবর্তন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে আসবে না, আসবে না কোনো সরকারি নির্দেশে। এটা আসবে কেবল একটি বৌদ্ধিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে — যেদিন প্রতিটি মা-বাবা নিজের বিবেকের কাছে সৎভাবে জবাবদিহি করতে শিখবেন, সেদিনই শুরু হবে সত্যিকারের পরিবর্তন।

আমি বিশ্বাস করি, বুদ্ধি খাটিয়ে চললে সমাজ বদলায়। সেই বিশ্বাস থেকেই এই লেখা। আমরা যদি আজ আমাদের সন্তানদের এই বিষাক্ত অন্ধকার থেকে বের করে না আনি, তবে আগামী প্রজন্ম হবে মূল্যবোধহীন এক শূন্য প্রজন্ম — যাদের কাছে ভালোবাসা মানে একটি ইমোজি আর সম্পর্ক মানে একটি ফলোয়ার সংখ্যা।

প্রতিকার আমাদের হাতেই আছে — সচেতনতা, সংযম আর সঠিক পারিবারিক শিক্ষা। আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে ডিভাইস নয়, একটি সুন্দর, সুস্থ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ তুলে দিই। এটাই আমার বৌদ্ধিক বিপ্লবের ডাক।




কোরবানির জন্য মেহেরপুরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ‘কালু’

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘কালু’ নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি ওজনের গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়িতে থাকা পাকিস্তানি শাহিওয়াল জাতের এ ষাঁড়টি দেখতে আশপাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন।

তবে পরিবারের দাবি, ষাঁড়টিকে সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছেন জহুরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন। কালো ও হালকা লাল রঙের মিশেলে গড়া শক্তপোক্ত গঠনের গরুটি সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

হোসনেয়ারা খাতুন জানান, আড়াই বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো করেই ‘কালু’কে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই ঘাস, তুষ, চালের গুঁড়া, খৈল ও গুড় খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়।

তিনি আরও জানান, গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৭ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। অনেক ক্রেতা এসে গরুটি দেখে গেলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায়নি। উপযুক্ত দাম না পেলে কালুকে ঢাকার পশুর হাটে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান বলেন, “হোসনেয়ারা খুব পরিশ্রমী নারী। তার স্বামী বিদেশে থাকলেও বাড়িতে বর্তমানে ১১টি গরু রয়েছে, যা তিনি নিজেই লালন-পালন করেন। তবে সবগুলোর মধ্যে কালু সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়।”

জহুরুল ইসলামের ভাই শাহাজান আলী বলেন, “আমরা মালয়েশিয়া থেকে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছি। বড় ভাবি আড়াই বছর ধরে কালুকে নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। তিনি নিজ হাতে খাওয়ানো, গোসল করানো এমনকি গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাসও করেন। এই ভালোবাসার মূল্য টাকা দিয়ে বিচার করা যাবে না।”

আরেক প্রতিবেশী হাফিজ আলী বলেন, “আমাদের এলাকায় কালুর মতো এত বড় ষাঁড় আর নেই। স্থানীয়ভাবে বড় গরুর চাহিদা কম হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। এজন্য কালুকে ঢাকার হাটে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, মেহেরপুর জেলায় ছোট-বড় প্রায় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু।

এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ ৪ হাজার ৮৪৪টি, গাভি ৮ হাজার ৫০৯টি, মহিষ ৪৮২টি, ছাগল ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া ২ হাজার ৭২০টি।

জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি। সে হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।




আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে ভাংবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী, পিতা- রিকাত মন্ডল, দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন। তিনি ভারতের ঠাকুরপুকুর সরোজ গুপ্ত ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৭ বছর।

তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ভাংবাড়ীয়া গ্রামে তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

গার্ড অব অনার প্রদানকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহযোদ্ধা, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে রাত ৮টায় ভাংবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীর মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।




আলমডাঙ্গায় ফারিয়ার উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন

আলমডাঙ্গায় বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) এর উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের “দালাল” বলে আখ্যায়িত করা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানির প্রতিবাদে সোমবার সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার আলিফ উদ্দিন রোড মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সারা দেশের ন্যায় আলমডাঙ্গাতেও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সমাজের শিক্ষিত ও পেশাদার শ্রেণির অংশ। তারা চিকিৎসকদের নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

তারা আরও বলেন, “আমরা সমাজের দালাল নই। কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রির নিচে কোনো ব্যক্তি এ পেশায় চাকরির সুযোগ পান না। কোনো শিক্ষিত ব্যক্তি অন্য কোনো পেশাজীবীকে অবমাননাকরভাবে দালাল বলতে পারেন না।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হয়রানি ও অপমানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। করোনাকালেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ফারিয়া আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমান চমক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন, ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দ।




বিএডিসি বারাদী খামারের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মেহেরপুর বীজ উৎপাদন খামার বিএডিসি বারাদীতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, জীবননগরের জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ১ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রায় দুই মাসে মোট কাজের প্রায় ৩৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান নির্মাণকাজে গ্রেড বিম ও কলাম ঢালাইয়ে ব্যবহৃত স্টোন চিপস (পাথর কুচি), রড এবং প্রাচীর গাঁথুনির ইট নিম্নমানের ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগটি মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খানের নজরে গেলে তার নির্দেশে বারাদী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শন শেষে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “প্রাচীরের গাঁথুনিতে ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের। এতে প্রাচীরের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সিডিউলে ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঢালাই কাজে ব্যবহৃত স্টোন চিপসের মধ্যে অতিরিক্ত বড় আকারের গোল পাথর রয়েছে, যা মানসম্মত নয়। আমরা সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী কাজ সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করার পরামর্শ ও সতর্ক করেছি। অন্যথায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান বলেন, “ইটের বিষয়ে ভাটার শ্রমিকদের অবহেলার কারণে এমনটি হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হবে।”




দর্শনায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মানববন্ধন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কের দর্শনা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দর্শনা থানা ফারিয়ার সভাপতি মোঃ নেছার আহম্মেদ শাহীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দর্শনা থানা ফারিয়ার সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাউজুল আজীম সানজা, সহ-সাধারণ সম্পাদক রয়েল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মনজুরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান রতন, ক্রীড়া সম্পাদক মাহাবুর রহমান এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।

এসময় দর্শনা থানা ফারিয়ার আরও অনেক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের ঝুঁকি ও অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং পেশার মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।




মেহেরপুরে জমকালো আয়োজনে এশিয়া পোস্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

মেহেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজন, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর আবহের মধ্য দিয়ে অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ব্যান্ড শো, আলোচনা সভা এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে এশিয়া পোস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এশিয়া পোস্টের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফির সঞ্চালনায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সজ্জাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এশিয়া পোস্টের আজকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। যেভাবে এশিয়া পোস্ট যাত্রা শুরু করেছে, তাতে অচিরেই এটি বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হবে। এশিয়া পোস্টের মাধ্যমে মেহেরপুরসহ সারা দেশের সমস্যা-সম্ভাবনার কথা উঠে আসবে এবং এটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান, মেহেরপুর জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন, মেহেরপুর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, জিনিয়াস ল্যাবরেটরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলামিন ইসলাম বকুল এবং জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

জিনিয়াস ল্যাবরেটরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলামিন ইসলাম বকুল বলেন, ‘আমরা কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করে দেখেছি কিভাবে এশিয়া পোস্ট যাত্রা শুরু করেছে, কারা এখানে কাজ করছে এবং কিভাবে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তথ্যের মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করছে। এভাবেই এশিয়া পোস্ট মানুষের হৃদয়ে আস্থা তৈরি করে নেবে।’

মেহেরপুর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এশিয়া পোস্ট গতানুগতিক খবর প্রকাশ না করে, খবরের ভেতর থেকে খবর বের করে আনবে, এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।’

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘এশিয়া পোস্ট কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হয়ে নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’

এর আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে স্থানীয় শিল্পীদের ব্যান্ড ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ এর সদস্যরা মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশন করেন। প্রাণবন্ত এ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। পরে কেক কেটে এশিয়া পোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উদযাপন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো. শামিম হোসেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মোহাম্মদ রাব্বি, অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান স্বপন, জাসাস সভাপতি বাকা বিল্লাহ, মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতা আব্দুল জব্বার, সিপিপি নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক চন্দ্র বিশ্বাসসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।




মেহেরপুর সদর ইউএনও মোঃ খায়রুল ইসলামকে বিদায় সংবর্ধনা 

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ খায়রুল ইসলামকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি পেয়ে তাকে পাবনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সদর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ইউএনও মোঃ খায়রুল ইসলাম। তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি ও মেহেরপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন, মৎস্য কর্মকর্তা ফাতেমা কামরুন্নাহার আখি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম, একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, নির্বাচন অফিসার বাবু হক, বিআরডিবি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ও ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বক্তারা বিদায়ী ইউএনও’র সততা, দক্ষতা ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং তার নতুন কর্মস্থলে সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে মোঃ খায়রুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, মোঃ খায়রুল ইসলাম দায়িত্ব পালনকালে উপজেলার উন্নয়নমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত।