দর্শনার কুন্দিপুরে গৃহবধূ ও যুবককে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন নেহালপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলাজুড়ে।

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ ও তার কথিত প্রেমিককে প্রকাশ্য দিবালোকে চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে গাছের সঙ্গে বেধে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সামাজিক বিচার-এর নামে সংঘটিত এই ঘটনা অনেকের কাছেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার নগ্ন প্রদর্শন বলে মনে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন,আসমা বেগম (২৫) কুন্দিপুর গ্রামের মো. আরিফের স্ত্রী ও স্বপন (২৮) একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে ঘটনাটি ঘটে ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসামাজিক কার্যকলাপ-এর অভিযোগ তুলে এলাকার একাংশ প্রথমে দু’জনকে আটক করে। এরপর কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রকাশ্যে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। চুল কেটে অপমান, জুতার মালা, গাছে বেধে রাখা,সবকিছুই চলেছে উৎসুক জনতার সামনে। কেউ কেউ সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও লজ্জাজনক করে তোলে।

ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরকীয়া অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো,আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনো সমাজকে দেওয়া হয়েছে? চুল কেটে অপমান করা, গলায় জুতার মালা পরানো, গাছে বেধে রাখা,এসব কি সভ্য সমাজের বিচার পদ্ধতি?

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, আমরা সবাই পাপী, আপন পাপের বাটখাড়া দিয়ে অন্যের পাপ মাপি। এই ঘটনায় সেই কথাই যেন নির্মমভাবে সত্য হয়ে উঠেছে।

এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন পরকীয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে সুদখোরি, জমি আত্মসাৎ, পারিবারিক প্রতারণা কি অপরাধ নয়?

একই সমাজে এসব ঘটনা ঘটে, কিন্তু সেগুলোর জন্য কেন এমন প্রকাশ্য শাস্তি দেখা যায় না?

আরও বিস্ময়ের বিষয়,কিছুদিন আগেই একই এলাকায় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে দিব্যি সংসার করছেন। তখন কোথায় ছিল এই তথাকথিত নৈতিকতার পাহারা?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় সংঘটিত হয়েছে একাধিক ফৌজদারি অপরাধ, বেআইনি আটক,শারীরিক নির্যাতন,নারীর মর্যাদাহানি,প্রকাশ্যে অপমান,গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব আদালতের, জনতার নয়।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার শুধু ওই নারী বা যুবক নন। তাদের সন্তান, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সবাইকে আজীবন বহন করতে হবে সামাজিক লজ্জা, মানসিক ট্রমা ও নিরাপত্তাহীনতা।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সমাজের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। কাউকে মারধর করা, চুল কেটে অপমান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলে দেশের প্রচলিত আইন, আদালত ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সামাজিকভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে চুল কেটে দেওয়া বা মারধর করা নিজেই দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীরা চাইলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

২০২৬ সালে দাড়িয়ে আমরা কোন পথে হাটছি আইনের শাসনের দিকে, নাকি জনতার উন্মত্ততার দিকে?

সচেতন মহলের দাবি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইন হাতে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা,ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানসিক সুরক্ষা, প্রতিটি অপরাধের বিচার হোক, কিন্তু তা হোক আদালতে,জনতার লাঠি দিয়ে নয়। সভ্য সমাজে মধ্যযুগীয় বর্বরতার কোনো জায়গা নেই।




জীবননগরে বিজিবির অভিযানে তিন পিস স্বর্ণের বারসহ এক কারবারী আটক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে তিন পিস স্বর্ণের বারসহ মাহাবুল নামে এক কারবারীকে আটক করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার সময় গোয়ালপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণসহ ওই কারবারীকে আটক করে বিজিবি। আটককৃত কারবারী জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহাবুল হোসেন (৪২)।

মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টার সময় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের বেনীপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গতকাল বৃহস্পতিবার গোয়ালপাড়া-জীবননগর মহাসড়কের গোয়ালপাড়া নামক স্থানে জাকা মোল্লার ইট ভাটার পূর্ব পাশে পাঁকা রাস্তার উপর অভিযান চালায়।

এসময় বিজিবি সদস্যরা মো. মাহাবুল হোসেনকে মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে তিন পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৩৪৯ দশমিক ৪৯ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।

আটককৃত কারবারিকে মোবাইল এবং মোটরসাইকেলসহ জীবননগর থানায় সোপর্দ এবং স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা জেলা সরকারী কোষাগারে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




উপস্থিত বক্তব্যে বিভাগ শ্রেষ্ঠ মেহেরপুরের নাফিউল

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত উপস্থিত বক্তব্য (একক) প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ নাফিউল ইসলাম।

তিনি মেহেরপুর সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে জেলা পর্যায়ে উপস্থিত বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে তিনি খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অর্জন করেন মোঃ নাফিউল ইসলাম। তার এই সাফল্যে মেহেরপুর সরকারি কলেজসহ পুরো জেলা গর্বিত।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ।

মোঃ নাফিউল ইসলামের এই অর্জনে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে শীতার্তদের মাঝে পুলিশ সুপারের কম্বল বিতরণ

মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অসহায়, ছিন্নমূল ও প্রতিবন্ধী শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

গত বুধবার রাতে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক বিবেচনায় নিজ উদ্যোগে তিনি এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কম্বল পেয়ে শীতার্ত মানুষজন পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




ঝিনাইদহে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ ও বল বিতরণ

ঝিনাইদহে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মীর রাকিবুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০০ টি ব্যাগ ২০টি ফুটবল এবং ১০টি ভলিবল প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌস হায়দার জুয়েলসহ শিক্ষক ও ইউপি সদস্যবৃন্দ। এসব সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।




কোটচাঁদপুরে পরিত্যক্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-০৬।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে কোটচাঁদপুর-চৌগাছা সড়কের সলেমানপুর এলাকার একটি বাগান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় .২২ ক্যালিবারের একটি একনলা বন্দুক ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত অস্ত্র কোটচাঁদপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।




মেহেরপুরে তিনটি ইটভাটায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকার নেতৃত্বে সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের আশরাফপুর গ্রাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেনের নেতৃত্বে গাংনী উপজেলার পশ্চিম মালসাদহ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্যাটালিয়ান আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে এসবিআর ব্রিকস (মো. রফিকুল হালসনা) এবং এমইউএস ব্রিকস (মো. ইলিয়াস বিশ্বাস) এ ফিক্সড চিমনি স্থাপন ও জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৬/১৬ ধারায় প্রত্যেককে এক লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এদিকে গাংনীতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে হানিফ ব্রিকসকে ফিক্সড চিমনি স্থাপন ও জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের দায়ে একই আইনের ৬/১৬ ধারায় এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।




মেহেরপুরে প্রতিবন্ধী ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

মেহেরপুর সদর উপজেলার প্রতিবন্ধী, দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে ১৫০টি কম্বল বিতরণ করেছে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেহেরপুর প্রোগ্রাম।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেহেরপুর প্রোগ্রামের প্রশাসক মো. সফিকুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন সংস্থাটির মেহেরপুর প্রোগ্রামের অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেহেরপুর প্রোগ্রামের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, শীত মৌসুমে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক কর্তব্য। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে।

এদিকে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ধারাবাহিক শীতবস্ত্র কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুর সদর উপজেলার পাশাপাশি গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলায় মোট ৭৫০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।




মেহেরপুর-১ আসনে সিপিবি প্রার্থী মিজানুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে মেহেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহা. মিজানুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এর আগে দলীয় মনোনয়ন না থাকার কারণ দেখিয়ে সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর।

আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় মেহেরপুর-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




কমিশন বাণিজ্য ও অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়ে গণপূর্তে একক নিয়ন্ত্রণ জামালের!

গণপূর্ত বিভাগে (পিডব্লিউডি) মেহেরপুর জেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটানো, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য, অনৈতিক সম্পর্ক এবং রহস্যজনক ক্ষমতার জোরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসডিই জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যত পুরো মেহেরপুর জেলা গণপূর্ত বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় ঠিকাদার ও পিডব্লিউডি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসডিই জামাল বিভিন্ন সময়ে অন্য ঠিকাদারের নামে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে নিজেই সেই কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের দুলাল (ছদ্মনাম) নামের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব অনিয়ম তিনি করে থাকেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি মেহেরপুর জেলা গণপূর্ত বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। এমনকি তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় একবার তার বদলি হলেও, মন্ত্রীর ভাই ঠিকাদার সরফরাজ হোসেন মৃদুল এবং ভগ্নিপতি ঠিকাদার বাবলু বিশ্বাসের সুপারিশে সেই বদলি আদেশ বাতিল হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, গাংনী শহরে স্বজনদের নামে তিনি পাঁচতলা ভবনসহ অন্তত দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সন্ধানী স্কুলের পাশেই অবস্থিত তার একটি পাঁচতলা বাড়ি।

এছাড়া ঠিকাদারদের কাজের বিল উত্তোলনের সময় বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে বিলের পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পালের দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিবছর এসডিই জামাল তার নিজ ভাগ্নে রাজিবুর রহমান পিন্টুর নামে অফিসিয়াল ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মেহেরপুর শহরের মতিন হার্ডওয়্যার, কামাল হার্ডওয়্যার ও মিশু ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন দোকান থেকে কম দামে মালামাল কিনে ভাউচারে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত বাড়ির বিভিন্ন সংস্কারকাজের মালামাল কিনে তিনি সরকারি ভাউচারের মাধ্যমে সেই বিল পরিশোধ করেছেন বলেও দপ্তর সংশ্লিষ্টরা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

পিডব্লিউডির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আওয়ামী লীগ আমলে মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার সূত্রে এবং সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে এসডি জামাল মেহেরপুরের গণপূর্ত বিভাগে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তিনি সম্পূর্ণ ভোল পাল্টে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই সময় মেহেরপুরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে এসডি জামাল বহাল তবিয়তে থেকে যান। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তিনি একাই জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল), উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) এবং সহকারী প্রকৌশলী এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি দপ্তরে একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন বিরল ও বিস্ময়কর নজির বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, নিজ পদের প্রভাব খাটিয়ে জেলা জজ আদালত ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার আসামিদের জামিনের তদবির করতেন তিনি।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, গাংনী উপজেলায় স্থায়ী ঠিকানা থাকা সত্ত্বেও তিনি মেহেরপুর জেলা পিডব্লিউডিতে একই কর্মস্থলে টানা ১৪ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন, যা সরকারি চাকরিবিধিকে প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজ এলাকা গাংনীর লোকজনের নামে পিডব্লিউডির প্রায় ৩৫টি ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আর অনুসন্ধানে জানা গেছে লাইসেন্সপ্রাপ্তদের মধ্যে মুদি দোকানি ও পান বিক্রেতাও রয়েছেন।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও। একই দপ্তরের সাবেক একজন এসও (কামরুজ্জামান) তার বাসভবনে অনুপস্থিত থাকলে সেখানে এসডিই জামাল নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিসহ অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল অফিসের সকল কর্মচারী কর্মকর্তা দের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া ঠিকাদার দুলালের (ছদ্মনাম) মাধ্যমে প্রায়শই পিডব্লিউডির মুজিবনগর গেস্ট হাউসে অবস্থান করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, এই এসডির কারণে এক ঠিকাদারের সংসার ভেঙে গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঠিকাদারের স্ত্রীর সঙ্গে তিনি নিয়মিত ভিডিও কলে যুক্ত থাকতেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে বদলি হয়ে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীরা মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগে যোগদান করলে তাদের চাপে রাখতে গাংনী উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করতেন তিনি। আবার নিজের পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পেলে নামধারী ও ফেসবুক লাইভ ভিত্তিক সাংবাদিকদের কাজের স্পটে পাঠিয়ে চাঁদাবাজি করানোর অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসডিই জামাল উদ্দিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নতুন লাইসেন্স হলে সরকার রেভিনিউ পায়, সরকারের আয় বাড়ে। নতুন লাইসেন্স হলে তো অসুবিধার কিছু নেই। লাইসেন্স যশোর সার্কেল অফিস থেকে পাস হয়ে আসে। আমি অফিসে বর্তমান পদে মাত্র এক বছর আছি। আগে ছিলাম প্রমোশন পাওয়ার পর ঢাকায় বদলি হয়েছি পরে আবার এখানে এসেছি। এখানে একই পদে দীর্ঘদিন আছি এভাবে এ কথা তো কেউ বলতে পারেনা। ‘

মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান বলেন, ‘সরকারি বিধি অনুযায়ী আমাদের দপ্তরে প্রত্যেক কর্মকর্তা তিন বছর দায়িত্ব পালন করলে বদলি হন। জামাল সাহেব স্থানীয় হওয়ায় হয়তো প্রভাবশালীদের সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে একই কর্মস্থলে ছিলেন। ২০২০ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর থেকে চলতি দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও একটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি অতি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি, তাই নৈতিকতা সংক্রান্ত অভিযোগ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলুল হক মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় তার একটি আলাদা প্রভাব তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে, এটা সত্য। বর্তমানে নির্বাচনকালীন সময় হওয়ায় তাকে বদলি করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষে এক মাসের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে।’

গাংনী উপজেলা তার স্থায়ী ঠিকানা হলেও জামাল উদ্দিন ২০১৪ সালের ১ জুলাই মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত একই স্থানে কর্মরত থাকার পর বদলি আদেশ জারি হলেও তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর ভাই ও ভগ্নিপতির সুপারিশে তা বাতিল হয়। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি একই কার্যালয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সরকারি ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব তিনিই একাই পালন করছেন।