এ তরি বাইতেই হবে . . .

৯ বছরে পদার্পণ কর‌লো আমাদের প্রিয় পত্রিকা মে‌হেরপুর প্রতি‌দিন। জেলা থে‌কে প্রকা‌শিত জনপ্রিয় দৈ‌নিক। সীমান্ত‌ঘেষা ছোট্ট জেলা মে‌হেরপুর থে‌কে এক‌টি দৈ‌নিক প‌ত্রিকা প্রকাশ অব‌্যাহত রাখা ‘নুন আন‌তে পান্তা ফু‌রো‌নো’ অবস্থা। যেখা‌নে ছাপাখানা নেই, প‌ত্রিকা মেকাপ করার মেকাপ ম‌্যান পাওয়া যায় না, প্রিন্ট করার জন‌্য যে ট্রেসিং পেপার ও কা‌লি প্রয়োজন হয় সেগু‌লোও পাওয়া যায় না। এর বাই‌রেও প‌ত্রিকার রসদ যোগা‌নো বিজ্ঞাপনদাতা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানও নেই। কা‌লেভ‌দ্রে শু‌ভেচ্ছা বিজ্ঞাপন পে‌তেও যে প‌রিমাণ বেগ পে‌তে হয়, তা আর নাই বললাম। অসংখ‌্য অসঙ্গ‌তির ম‌ধ্যে দি‌য়ে এক‌টি দৈ‌নি‌কের ৮ বছর অ‌তিক্রম করার ব‌্যাপার‌টি ছোট করে ভাবারও কিছু নেই। আমরা দলগতভাবে সেই ভাবনার কাজ‌টি ক‌রে চ‌লে‌ছি।

মেহেরপুরে সংবাদপত্রের ইতিহাসে এত বছর ধরে কোন পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি নানা কারণে। সকল প্রকার বাঁধাকে অতিক্রম করে মেহেরপুর প্রতিদিন ৮ বছর ধরে পাঠকের কাছে প্রতিদিন পৌছে দিয়েছে কড়কড়া পত্রিকা। সংগত কারণেই এ নিয়ে আমরা আনন্দিত, গর্বিত। মে‌হেরপুর প্রতি‌দিন‌কে আমরা পাঠকের মনের মনিকোঠায় নিতে পেরেছি। এই যাত্রায় আমাদের সঙ্গে আছেন অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ী।

আপেল মাহমুদের গানের সেই লাইনগুলি মনে পড়ে বারবার।
জীবন কাটে যুদ্ধ করে
প্রাণের মায়া সাঙ্গ করে
জীবনের স্বাদ নাহি পাই

জানি শুধু চলতে হবে
এ তরী বাইতে হবে….।

পাঠকদের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে এ তরি আমরা বাইতেই চাই। মে‌হেরপুরসহ দ‌ক্ষিণ-প‌শ্চিমাঞ্চ‌লের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা আমাদের প্রধান শক্তি। পাঠকসাধারণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে পত্রিকাটি আমরা ক‌রোনার অ‌তিমা‌রি‌তেও প্রকাশ করে গেছি। জুলাই গণঅভুত্থ্যানের সময় যখন সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা অচল হয়ে গিয়েছিলো, সেসময়েও আমরা আমাদের প্রকাশনা অব্যহত রেখেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করি, পাঠকই আমা‌দের সবচাইতে বড় শক্তি, বড় শ্রদ্ধার জায়গা। তাদের হাতে প্রতিদিন একটি গ্রহণযোগ্য পত্রিকা তুলে দেওয়ার চেষ্টা ৮বছর ধরে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছি। আগামী দিনেও এই নিষ্ঠা দৃঢ়ভাবে বজায় রাখব।

জনগ‌ণের মুখপত্র` এই স্লোগা‌নের স্বাক্ষর রে‌খে যা কিছু জনগ‌ণের জন‌্য কল‌্যাণ ব‌য়ে আ‌নে সেধর‌ণের সংবাদ প‌রি‌বেশ‌নের ক্ষে‌ত্রে আমা‌দের সহকর্মীরা নিরলস কাজ কর‌ছে।

সংবাদের ভিতরকার সকল স‌ত‌্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। অসততা আমাদের স্পর্শ করতে পারেনি। আমরা নিরপেক্ষ নই। আমরা মানুষের পক্ষে। প্রতিটি সাধারণ মানুষ, প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পক্ষে আমা‌দের কলম চল‌বে। মানুষই আমাদের মূলশক্তি।

২০১৮ সা‌লের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিব‌সের দিন যাত্রা শুরু করেছিল মে‌হেরপুর প্রতি‌দিন। স্বাধীনতার এই মার্চ থে‌কে ডি‌সেম্বর পর্যন্ত ৯ মা‌সের যু‌দ্ধে আমরা পে‌য়ে‌ছি এক‌টি স্বাধীন রাষ্ট্র।

শুধু পত্রিকা প্রকাশ করেই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করিনি। মাদকও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ কবল থেকে যুবসমাজ রক্ষার উদ্দেশ্যে আমরা মেহেরপুর প্রতিদিন ফুটবল টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করেছিলাম। আয়োজন করা হয়েছিলো উদ্যোক্তা সম্মেলন ও চাকরি প্রার্থীদের চাকরি মেলা। পত্রিকার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে আমাদের প্রতি সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে লাইভ ‘টক শো’ অনুষ্ঠান চলমান রয়েছে। সবশেষে নতুন যুক্ত হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ভার্সন। ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমেও দর্শকদের মাঝে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা গল্প তুলে ধরছে আমাদের সহকর্মীরা।

পরিশেষে আমাদের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও মেহেরপুর প্রতিদিনকে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের প্রত্যেককে শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

লেখক: সম্পাদক, মেহেরপুর প্রতিদিন




মেহেরপুরের সীমান্ত এলাকা থেকে ৬ হাজার ১৭৫ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ, আটক ২

মেহেরপুর সদর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী দক্ষিণ শালিকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৫ হাজার ৩৭৫ লিটার এবং ফতেপুর গ্রাম থেকে আরও ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমানের নেতৃত্বে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানটি চালানো হয় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত ‘ফারাবী ট্রেডার্স’-এর গোডাউনে ও ফতেপুরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ফারাবি ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী আবু সুফিয়ান ও ফতেপুরের মোয়াজ্জেম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গোডাউনে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছে।

পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ড্রাম ভর্তি ২৬টি ব্যারেল থেকে মোট ৫ হাজার ৩৭৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। ফতেপুরে কয়েকটি ব্যারেল হতে ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, জব্দকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি । এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওসি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মেহেরপুর প্রতিদিন সকলের মনে স্থান করে নিয়েছে

একটি প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী ছোট জেলায় একটি দৈনিক পত্রিকা ৮ বছর পেরিয়ে স্বমহিমায় প্রতিদিন প্রকাশ করা একটি বীরত্বগাঁথা পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা।

গতকাল মঙ্গলবার ৩১ মার্চ প্রতিষ্ঠার ৯ বছর উপলক্ষে মেহেরপুর প্রতিদিন আয়োজন করে দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নানা আয়োজন।

সকাল সাড়ে ১০টায় উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম, বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক।

দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ও সাবির্ক দায়িত্ব পালন করেন মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহাবুব চান্দু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় বলেন, সাংবাদিকতা পেশা আর দশটা পেশার মতো নয়। এই পেশা হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য এটি একটি ব্রত, এটি একটি সেবা। পত্রিকাকে বলা হয় সমাজের দর্পণ, জাতির বিবেক। বস্তনিষ্ঠ এবং সমাজের ছোট ছোট ঘটনা গুলো যেগুলো সমাজকে বিপথে নিয়ে যায়, আমাদের বিবেককে তাড়িত করে এই ধরনের প্রকাশনার মাধ্যমে মানুষের পরিবর্তন সাধিত হয়।

আমি মনে করি মেহেরপুর প্রতিদিন একটি প্রান্তিক জেলায় এবং সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে আট বছর পরেও দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায় এটি একটি বীরত্বগাঁথা পরিচয়। আপনারা দেখেছেন অনেক জাতীয় পর্যায়ের দৈনিক পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। কোন পত্রিকা শুরু করাটা যতটা সহজ কিন্তু এটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া তার চেয়েও অনেক কঠিন।

মেহেরপুর প্রতিদিনের সাথে যারা যুক্ত তারা কিন্তু তাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন বলেই এই পত্রিকাটি এখনও চলমান রয়েছে। আমি মনে করি এই পত্রিকাটি আগামীতেও তাদের বস্তুনিষ্ঠ এবং জনগণের কন্ঠস্বর হয়ে আমাদের দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে যথেষ্ট অবদান রাখবে, সেই প্রত্যাশা রাখি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মালেক বলেন, মেহেরপুর প্রতিদিন জনগণের একটাই ভরসার জায়গা যে তারা কোন লেজুড়বৃত্তিক সংবাদ প্রকাশ করে না, তার নিজস্ব গতিতেই প্রকাশ করে এটাই তার স্বকীয়তা। মেহেরপুর প্রতিদিন অষ্টম বর্ষ শেষে নবম বর্ষে পদার্পণ করল, আমি তার উত্তোরত্তোর সাফল্য কামনা করি।

মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি তোজাম্মেল আযম বলেন, সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনে যে চরিত্র হওয়া উচিত সেই চরিত্র বাংলাদেশের কোন মিডিয়াতে নাই। আদর্শ সংবাদপত্র কেমন হওয়া উচিত? আদর্শ সংবাদপত্র সত্য ও সুন্দর কথা বলবে, গণমানুষের কথা বলবে, নির্যাতিত মানুষের কথা বলবে, নির্যাতিত মানুষের কন্ঠস্বর হবে। মেহেরপুর প্রতিদিন মানুষের বিবেক হয়ে উঠুক সেই প্রত্যাশায়।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, দৈনিক পত্রিকা হিসেবে চুয়াডাঙ্গা ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা মেহেরপুর প্রতিদিন।

আমি পত্রিকার কাছে একটা বিষয়ে অনুরোধ রাখবো আপনারা সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরবেন। বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়ে নিউজ করবেন।

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া মাদক এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণের মাঝে সংবাদ তুলে ধরবেন। আমি মেহেরপুর প্রতিদিনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করুক সেই প্রত্যাশা করি।

২য় পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, বাংলা একাডেমির পুরস্কার প্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ।

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন বলেন, শুধু নেতিবাচক খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমের কাজ। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলানো দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের। মেহেরপুর প্রতিদিন তাদের দায়িত্বশীল যায়গা থেকে সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে এ প্রত্যাশা করি।

কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ বলেন, মেহেরপুরে ৫০টি নেই এর সংখ্যা থাকলে বিপরীত দিকে কয়েকশত আছে বিষয়গুলো রয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যম সেই নেই এর পিছনে না দৌড়িয়ে যেগুলো আছে সেগুলো নিয়ে যদি কাজ করে এলাকার কৃষ্টি কালচার উন্নতি, সমাজের উন্নয়ন হয়, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ সেগুলো জানতে পারে। আমি মেহেরপুর প্রতিদিনের কাছে আশা করি নেগেটিভ সংবাদ যেমন পত্রিকায় স্থান পাবে পাশাপাশি ভালো সংবাদগুলোও পত্রিকায় বিশেষভাবে স্থান দেওয়ার।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন বলেন, মেহেরপুর প্রতিদিন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মেহেরপুরের জনগণের কাছে স্থান করে নিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি তাদের সেই বস্তুনিষ্ঠতা ধরে রেখে মেহেরপুর উন্নয়ন ও দুনীতি নির্মুলে অগ্রণী ভুমিকা রাখবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ আহমেদ বিজন বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর জুলাইয়ের চেতনাকে সামনে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মেহেরপুর প্রতিদিন সে প্রত্যয় ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে একটি অবস্থান তৈরি করেছে। আমরা পত্রিকার উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।

দিনব্যাপী ৯টি পর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধাক্ষ প্রফেসর আবদুল্লাহ আল আমিন, মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মুজিবনগর সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক মুরাদ হোসেন, মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম, অরণি থিয়েটারের সভাপতি নিশান সাবের, সাংবাদিক দিলরুবা খাতুন, শিক্ষক ও সাংবাদিক রফিকুল আলম বকুল, শিক্ষক ও উপস্থাপক ইয়ামিন হাসান, গাংনী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক, মেহেরপুর পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানা ডলার, শিক্ষাবিদ আল আমিন ইসলাম বকুল, জামায়াত নেতা নুর রহমান, মঞ্জুরুল হক টুটুল, আমজাদ হোসেন, মেহেরপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল এনাম বকুল, সদস্য আনোয়ারুল হক কালু, আবু হানিফ, তহবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক কর্মী শামিম জাহাঙ্গীর সেন্টু, অনিক হাসান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মেহেরপুর প্রতিদিনের সাংবাদিক ও স্টাফদের নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্টাফ রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা প্রতিনিধি এস আই বাবু, ডেস্ক ইনচার্জ (নিউজ) সাকিব হাসান রুদ্র, ডেস্কু ইনচার্জ (মাল্টিমিডিয়া) রাফি হাসান, ডেস্ক ইনচার্জ ইয়াসির ইউসুফ ইমন, কাথুলী প্রতিনিধি ফিরোজ হাসান পলাশ।




মেহেরপুরের বারাদীতে এসএস বিদ্যা নিকেতনে অভিভাবক সমাবেশ ও নবীন বরণ

মেহেরপুরের বারাদীতে এসএস বিদ্যা নিকেতনে অভিভাবক সমাবেশ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিদ্যাপীঠের আম্রকাননে সুধীজন, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে এ সমাবেশ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসএস বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক সেলিম হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও বারাদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক রকিবুল হাসান। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।
অতিথিদের বক্তব্য শেষে নবীনদের বরণ, শিশুদের নৃত্য পরিবেশন এবং ২৬ মার্চের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী রেজা, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর জেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, বারাদী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান, ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল জিন্নাত আলী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট রফিক উল আলম, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি আরজুল্লাহ রহমান বাবলু মাস্টার, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী মেম্বার, ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান মুকুল এবং বারাদী পুলিশ ক্যাম্পের টু আইসি এএসআই আরুজ আলী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এসএস বিদ্যা নিকেতনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সিরাজুস সালেকীন।




ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এবং তা প্রদর্শন করে অভিযুক্তরা এলাকায় ‘উল্লাস’ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার মহেশপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে।

এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে সামন্তা বাগদিরাইট গ্রামের রাস্তার ওপর থেকে শাওন ও হযরত আলী তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ঘাসক্ষেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আরও দুজন যোগ দেয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একই গ্রামের হাফেজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন এবং দিনুর ছেলে নয়ন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে।
এ ঘটনায় শাওন ও আমিন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের পর তারা ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি জানাজানি হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে বলে, “ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল, তাই ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু ওরা নিজেরা সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ করছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
মামলার বাদী ফাতেমা খাতুন বলেন, সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের ভয়ে আমরা প্রথমে চুপ থাকলেও অভিযুক্তরা ভিডিওটি লোকজনকে দেখায়। তখন বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।”




মেহেরপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মেহেরপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে গম, ভুট্টাসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও সময়মতো পাকা গম কেটে ঘরে তুলতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পেকে যাওয়া গমের জমিতে পানি জমে থাকায় ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে গমের ফলন ভালো হলেও জ্বালানি তেলের সংকট ও হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ার কারণে সময়মতো গম কাটতে পারেননি তারা। এর মধ্যেই গতকাল (৩০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে মাঠের অধিকাংশ পাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে গম ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য মতে, গত বছর বিঘাপ্রতি গম কাটতে যেখানে খরচ হতো ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, সেখানে চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। তবুও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো গম কাটতে পারেননি। ফলে ঝড়-বৃষ্টির আগেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় মাঠে লুটিয়ে পড়া গম দ্রুত সংগ্রহ করতে না পারলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত অপরিপক্ব ও দেরিতে বপনকৃত গমে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে গমের পাশাপাশি ভুট্টা ও কলা চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টির কারণে কিছু চাষির কলাগাছ নুয়ে পড়েছে। এছাড়া অপরিপক্ব ভুট্টা ক্ষেতের বেশিরভাগ গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে কৃষকদের মাঝে।

জেলার ঢেপা-পাঙ্গাসী পাড়া গ্রামের গম চাষী শাহাদত হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করছেন, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়েননি। তার গম বেশ কিছুদিন আগেই কাটার উপযোগী হয়েছিল। তবে হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ায় সময়মতো গম কাটতে পারেননি। বর্তমানে অধিকাংশ কৃষকই শ্রম ও সময় বাঁচাতে মেশিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে গত রাতের ঝড়ে তার পাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এখন সেই পড়া গম কাটতে অতিরিক্ত খরচ হবে। দ্রুত গম কাটতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সাহারবাটী গ্রামের গম চাষী জহিরুল ইসলাম জানান, তার এবার এক বিঘা জমিতে গম রয়েছে। কিন্তু গম কাটার মেশিনের অভাবে এখনো তা কাটতে পারেননি। গত রাতের ঝড় ও বৃষ্টিতে ক্ষেতের সব গম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

ভাটপাড়া গ্রামের ভুট্টা চাষী আব্দুল আলীম জানান, তার ও তার ভাইয়ের পাশাপাশি জমিতে দুই বিঘা করে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু গত রাতের ঝড়ে তাদের জমির প্রায় অর্ধেক ভুট্টা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অনেক খরচ ও পরিচর্যার পর মোচা আসার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছের অপরিপক্ব ভুট্টা থেকে আর কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না।

জুগিন্দা গ্রামের ভুট্টা চাষী হৃদয় ইসলাম জানান, তাদের এক বিঘা জমিতে ভুট্টা রয়েছে, যেখানে গাছে কেবল মোচা আসা শুরু হয়েছে। এমন অবস্থায় গত রাতের ঝড়ে অধিকাংশ জমির ভুট্টা গাছ নুয়ে পড়েছে। এতে করে নুয়ে পড়া গাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে তাদের ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফলন না পেলে সেই খরচও উঠে আসবে না।

কলা চাষী রাজিব জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও অধিকাংশ কলাগাছ বাঁকা হয়ে গেছে। গত রাতের ঝড়ে তার ৫-৬টি গাছ ভেঙেও পড়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু আবার যদি ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে কিছু ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে গেলে গমের বড় ধরনের ক্ষতি নাও হতে পারে। বিষয়টি অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনুকূল আবহাওয়া ফিরে এলে ফসলের পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে।




গাংনীতে পাম্পে তেল নিতে এসে ৭ মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী জামান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে বৈধ কাগজপত্র, হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ৭ মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত চালকরা হলেন ওসমান গনী, নসিরুল হক, সুজন আহমেদ, মাসুম, ফারুক, জয় ও মামুন হোসেন।

জানা গেছে, পেট্রোল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তারা বিপাকে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কেউই মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, হেলমেট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে আনেননি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই মাইকিং করে জানানো হয়েছিল তেল পাম্পে তেল নিতে হলে অবশ্যই গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে। অন্যথায় তেল দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নির্দেশনা অমান্য করায় ৭ জন চালকের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরে তাদের তেল দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জামান ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক ক্রেতাকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও আমরা ক্রেতাদের আগেই সতর্ক করছি যেন তারা তেল নিতে আসার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। অন্যথায় তারা জরিমানার মুখে পড়ছেন।




মেহেরপুরে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, মেহেরপুর জেলা শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে গণপূর্ত অফিসের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান সহকারী মো. ফেরদৌস ওয়াহেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নাজির ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আত্তাব আলী।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী নেতা মো. নাজমুল হক লিটন। এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মুনির হাসান, আবুল কালাম আজাদ, শাহিন ইকবাল, জেনারেল হাসপাতালের কামরুজ্জামান বাবু, পিডিবির মজিরুল ইসলাম, সরকারি কলেজের আজিমুল ইসলাম, কৃষি অফিসের ওমর ফারুক লিটন, এসএম স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হকসহ অন্যান্যরা।

মতবিনিময় সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মো. নাজমুল হক লিটনকে আহ্বায়ক এবং সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদকে সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বক্তারা ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সংগঠনকে গতিশীল করতে প্রতিটি দফতরের কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান।




মেহেরপুরে ফেনসিডিল রাখার দায়ে দুইজনের জেল-জরিমানা

মেহেরপুরে ফেনসিডিল রাখার অভিযোগে মিন্টু মিয়া ও সুমন বিশ্বাস নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার অপর আসামি লাল্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু মিয়া গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা সেন্টারপাড়ার রুহুল মিয়ার ছেলে এবং সুমন বিশ্বাস একই উপজেলার হাড়াভাঙ্গা মোল্লাপাড়ার মজিবর রহমানের ছেলে। খালাসপ্রাপ্ত লাল্টু সহড়াতলা গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে। তবে সাজাপ্রাপ্ত মিন্টু ও সুমন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি গাংনী থানার এসআই আব্দুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ বালিয়াঘাট গ্রামে ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলিকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় ট্রলিতে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ মিন্টু ও সুমনকে আটক করে। পরে ট্রলির নিচ থেকে ৪২৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১)(গ)/৩৮/৪১ ধারায় তিনজনকে আসামি করে গাংনী থানায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৮, জি আর কেস নং-৮/২০২০, এস সি নং-২২৭/২০২১)। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং মামলায় মোট ৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মিন্টু মিয়া ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট মীর আলমগীর ইকবাল ও অ্যাডভোকেট এস. এম. আমানুল্লাহ আল আমান মামলা পরিচালনা করেন।




কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গ্রাম্য দলাদলির কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সাহাবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত

 

সেই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন পশ্চিমপাড়ার মহিন প্রামাণিকের ছেলে আসাদুল প্রামাণিক ওরফে কালু (৪৪), একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন (৫৫), ওমর আলীর ছেলে মিলন হোসেন (৩৫) এবং মাজিহাট এলাকার মসলেম মোল্লার ছেলে এবং মিটন পশ্চিমপাড়ার জালাল বিশ্বাসের জামাতা আবু তাহের (৪৭)।

রায় প্রদানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের ছাড়া অপর তিনজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আবু তাহের পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তাদের মধ্যে হামলা, মামলা, মারধর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

তারই ধারাবাহিকতায় এই মামলার বাদী সুমী খাতুনের স্বামী কৃষিশ্রমিক সাহাবুল মন্ডল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত ।

২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বিকালে মিটন গিয়াসমোড় এলাকায় বাজার করতে যান সাহাবুল ইসলাম এবং তার ছেলে সাব্বির। বাজারের ব্যাগসহ সাব্বিরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন সাহাবুল। তার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন ২১ অক্টোবর বুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ধৈঞ্চা ক্ষেত থেকে সাহাবুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ওইদিন মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সাহাবুল ইসলামের স্ত্রী সুমি খাতুন। যার মামলা নং-২৫।

মামলাটি তদন্ত শেষে মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম জাবীদ হাসান ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় দীর্ঘ বিচারকার্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।