দামুড়হুদায় জোরপূর্বক কৃষকের পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের আইড়মারি বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত মওলা বক্সের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ওরফে মন্টুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বরকত আলী মণ্ডলের ছেলে নুরুল হকের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে প্রায় সাত মাস আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মন্টুর চাচাতো ভাই জয়নুর (৫০) নিহত হন এবং খাজা আহমেদ (৫৫) ও জাহির (৪৫) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ মন্টু দাবি করেন, তিনি ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে গত দুই বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। শনিবার সকালে তিনি খবর পান, নুরুল হক ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। পূর্বের ঘটনার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ধান কেটে নিয়ে চলে যায়। এর আগেও তার জমি থেকে ভুট্টা ও গম কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নুরুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।




গাংনীতে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্মানে বিশেষ আপ্যায়ন

“মানবিকতার টানে, হাসুক প্রতিটি মুখ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কসবা ব্লাড ব্যাংক ও জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্মানে এক বিশেষ আপ্যায়ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী, টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল, লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন লাল্টু, সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর ইসলাম, সহ-সভাপতি আজিজুল হক আকাশসহ অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা রফিকুল আলম বকুল বলেন, কসবার একঝাঁক তরুণের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসচ্ছল, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদে খাদ্যসামগ্রী প্রদান এবং জরুরি প্রয়োজনে রক্তদানসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি এ কার্যক্রমে যারা আর্থিক সহায়তা, সময় ও শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবানদেরও এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, “আমাদের চারপাশের এই নিষ্পাপ শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং একবেলা তৃপ্তি সহকারে খাওয়ানোর এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ।”

তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




মেহেরপুরের তেল পাম্প পরিদর্শনে এমপি তাজউদ্দিন খান

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ছায়া মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তাজউদ্দিন খান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে তেল পাম্প পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার সকালে তিনি মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন তেল পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পাম্প মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে তাজউদ্দিন খান জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে সতর্ক করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




গ্রাহকদের ধৈর্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান এমপি তাজউদ্দিন খানের

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেছেন, বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সংকট চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং আজকের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের চাহিদার তুলনায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যার ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং হচ্ছে। তাই গ্রাহকদের অনুরোধ করবো, এই সময়টা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে। আশা করি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে।”
শনিবার দুপুরে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তাজউদ্দিন খান আরও বলেন, “সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, ঈশ্বরদীর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রেড সংযোগ শিগগিরই চালু হবে। মে মাসে চালুর কথা থাকলেও, জিএম মহোদয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এটি জুলাই-আগস্টের মধ্যে সংযুক্ত হতে পারে। এই সংযোগ হলে মেহেরপুরবাসী শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে বলে আশা করা যায়।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শফিউদ্দিন আহমদ, এজিএম (প্রশাসন) মোহাঃ জাকির হোসেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




দামুড়হুদায় মৌমাছির কামড়ে সিকিউরিটি গার্ডের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মৌমাছির কামড়ে আনিছুর রহমান (৪৫) নামে এক সিকিউরিটি গার্ডের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি খালিশপুর কনটেক মিলের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত আনিছুর রহমান দামুড়হুদা সদরের পুরাতন বাজার পাড়ার বাসিন্দা আবু-গানীর ছেলে। সে দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

জানাগেছে, গতকাল শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জয়রামপুর দোয়ার ধারে পৌঁছালে হঠাৎ এক ঝাঁক মৌমাছির আক্রমণের শিকার হন তিনি। এতে গুরুতরভাবে আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই মৌমাছির ঝাঁক দেখা যায় এবং আগে থেকেও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারা আরও বলেন, “হঠাৎ করেই মৌমাছির ঝাঁক এসে আনিছুর ভাইয়ের ওপর হামলা করে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে আহাজারি। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।




স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসায় আন্তরিকতা ও রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবায় আন্তরিকতা এবং রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তাজউদ্দিন খান।

তিনি বলেন, কোনো রোগী যখন ডাক্তারের কাছে যায়, তখন সে মনে করে তাকে ঠিকভাবে দেখা হয়নি। আবার চিকিৎসকরা যখন ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যান, তখন তারা মনে করেন তারা যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছেন। এই দূরত্ব কমাতে পারস্পরিক বোঝাপড়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যেখানে ১৭৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে আছেন মাত্র ২৫ জন। এছাড়াও অন্যান্য জনবলেরও সংকট রয়েছে। “এই সীমিত সম্পদই আমাদের পুঁজি এই পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সর্বোত্তম সেবা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ সাজ্জাদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমএ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. এম এ সালাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সেবার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




মুজিবনগরে বাথরুমে রাখা বালতিভর্তি পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগরে বাথরুমে রাখা বালতিভর্তি পানিতে ডুবে ইব্রাহিম ইবনে আরিয়ান নামের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার ( ২৫ এপ্রিল) সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দারিয়াপুর খান কালিতলা মোড় এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিশু আরিয়ান একই এলাকার শরিয়ত হোসেন দুদুর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়ির ভেতরে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে বাড়ির বাথরুমে ঢুকে পড়ে। সেখানে পানিভর্তি একটি বালতির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে গেলে শিশুটি আর উঠতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মা বাথরুমে উঁকি দিয়ে দেখতে পান বাথরুমে থাকা পানি ভর্তি বালতির মধ্যে শিশুটি ডুবে আছে। তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছোট্ট আরিয়ানকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




মুজিবনগরে সম্প্রীতি চর্চা ও মাদক থেকে দূরে রাখতে তরুণদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করা এবং মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিএফজি (পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ) সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলি খানের নিজস্ব উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক ক্রীড়া আয়োজন ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মাঠমুখী করা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদকের ঝুঁকি তরুণ সমাজকে উদ্বেগজনক অবস্থায় ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রশিকপুর গ্রামের তরুণদের সুস্থ বিনোদনের দিকে আকৃষ্ট করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মাঝে নতুন জার্সি, প্যান্ট ও ফুটবল বুট বিতরণ করা হয়। পরে গ্রামের মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। নতুন ক্রীড়াসামগ্রী পেয়ে খেলোয়াড়দের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

পিএফজি সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলি খান বলেন, “আমাদের তরুণদের মাঝে কেবল সম্প্রীতির বার্তা দিলেই হবে না, বরং তাদের মাঠে নামিয়ে সম্প্রীতির চর্চা করাতে হবে। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তারা যেন ডিভাইসের নেশা ও মাদকের মরণছোবল থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। অভিভাবকরাও মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে সমাজে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




দিনে গড়ে বিদ্যুৎ থাকছে ১০ থেকে ১১ ঘন্টা

মেহেরপুরের পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলো ২৪ ঘন্টায় ১০ থেকে ১১ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে গ্রাহকরা। বাকি ১৩ থেকে ১৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

একদিকে ভ্যাপসা গরম এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। সবমিলিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জনজীব বিষন্ন হয়ে পড়েছে।

সরকারিভাবে খুব বেশি বিদ্যুতের সমস্যা না দেখালেও মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ বলছে চাহিদার ৫০ শতাংশও তারা পাচ্ছে না , ফলে লোডশেডিং দিতে হ্চ্ছে।

গ্রামাঞ্চলে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল কিংবা, দিন কিংবা রাত সমানতালে এক ঘন্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সারাদিন কাজ করে মানুষ রাতে ঘুমাবে বিৎ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমাতেও পারছেন। এছাড়া চলতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম বিপাকে।

চাষীদের ‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ যোগদান করার পর থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছে।স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের অনুগত এই কর্মকর্তা সরকার ও সাধারণ চাষীদের বিপদে ফেলতে এই অনিয়ম শুরু করেছেন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছে। বাকী ২১ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছেন।

‎ভুক্তভোগী ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক ও সেচ পাম্পের মালিক মুসফিকুর রহমান বাবলু, হুমায়ুন কবির ও তাহাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের মাঠে প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই অঞ্চলে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে, বাকী ২২ ঘন্টা লোডশেডিং দেখিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন, ৩ ঘন্টা পর পর ১০মিনিট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ফলে কোন জমিতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অল্প সময়ের মধ্যেও যদি সমাধান না হয় তাহলে এই অঞ্চলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে। এঘটনায় জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলার কৃষকরা।

‎জ্বালানি সংকট, সেই সাথে বিদ্যুৎ না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।আগামী বছরে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।
‎স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার বিষয়ে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন সরকারী ভাবে আগের থেকে বাংলাদেশে জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে লোডসেডিং হচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, আমরা শুনেছি বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে শত ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।
‎সেখানে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন যোগদান করার পর থেকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য সাধারন গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছেন।

‎গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রাম বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি জানান, সরকারী ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন সমস্যা নেই। গাংনী জোনাল অফিসে আগে যেসকল কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ভাবে করেছে। এর আগে গাংনী জোনাল অফিসে যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ছিলো বর্তমানে সরকারী ভাবে তাই আছে শফিউদ্দিন সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য এমন শুরু করেছে।

‎এব্যাপারে গাংনী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই ব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না, আপনারা জিএম স্যারের সাথে কথা বলেন।

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের তেমন ঘাটতি নেই। একটি গোষ্ঠী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্তিম সংকট তৈরি করছে, আমার গাংনী উপজেলার সাধারণ মানুষ প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে।

আমি খোঁজ খবর নিবো কি কারুনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, বিনা কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে বা সরকারী উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করে তাহলে (ডিজিএম) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান বলেন, মেহেরপুরের ৯০ ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল, জ্বালানি ও কৃষি প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে সরাসরি দেয়ার জন্য মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিসারের নিকট তিনি অনুরোধ করেছেন, কিন্তু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় সার, বীজ ও জ্বালানির সংকট তৈরি করছে। তাতে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।ইতিমধ্যেই সরকার গত বছরের তুলনায় এবছর ৪০ পারসেন্ট জ্বালানি বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও যে সংকট চলছে তা একেবারেই কৃত্রিম।

‎এখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।‎

‎এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন জানান রাষ্ট্রীয়ভাবে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। একটি গোষ্ঠী সংকট তৈরি করছে, এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে কৃষকদের ডিজেল কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে এবং কার্ড অনুযায়ী কৃষকরা জ্বালানি সরবরাহ করছে।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। বর্তমানে মেহেরপুর জেলা চাহিদার ৫০ শতাংশও পাচ্ছি না। যার ফলে এভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আবাহাওয়া ঠাণ্ডা হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়, তখন লোডশেডিং করা লাগে না। ’




মেহেরপুরে মুরগির দাম কমলেও অস্থির সবজি বাজার

সরবরাহ কমসহ নানা অজুহাতে মেহেরপুরের বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার ওপরে থাকায় সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। যদিও কিছুটা কমেছে মুরগির দাম।

গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বড় বাজারের কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, শশা ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচু ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আটি লাল শাক ২০ টাকা এবং কলা প্রতি পিস ৩০ টাকা। কাঁঠালের এক ফালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে কচু ছিল ৮০ টাকা এবং বেগুন ৯০ টাকা, যা এখন কিছুটা কমেছে।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে কাঁচা মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি , পেঁয়াজ ৩০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা এবং আলু ২০ টাকা কেজি।

পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় খুব বেশি পরিবর্তন নেই। আলুর দাম ১৩ টাকা কেজি অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। রসুন ৫৫ টাকা কেজি অপরিবর্তিত রয়েছে। কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা কেজি এবং আদা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নন্দ সরকার বলেন, কিছু সবজির দাম কমলেও মোট খরচ কমছে না। একটার দাম কমলে আরেকটার বাড়ে।

আরেক ক্রেতা জানান, বেগুন, কাকরোলসহ অনেক সবজির দাম এখনো বেশি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সব কিনতে গেলে হিসাব মেলানো কঠিন।

সাইদুর বলেন, আগে যে টাকায় কয়েকদিনের বাজার করা যেত, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সাগর মন্ডল বলেন, দাম কমার কথা শুনে এসেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে তেমন সুবিধা পাইনি। বড় পরিবারের জন্য এই বাজার সামলানো কঠিন।

বিক্রেতারা জানান, বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় দাম পুরোপুরি কমছে না। স্থানীয় চাষিরা বেশি লাভের আশায় অন্য জেলায় সবজি পাঠাচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে মেহেরপুরের বাজারে।

সবুজ ভান্ডারের ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, আগের মতো ব্যবসা নেই। এখন এক দিনের বিক্রি সাত দিনে হয়। পরিবহন খরচ একই থাকলেও বাইরে পাঠিয়ে চাষিরা বেশি লাভ পাচ্ছেন।

হুজাইফা নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, বাজারে চাহিদা থাকলেও বিক্রি কম। বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো বেশি।

অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে, যা আগে ছিল ২০০ টাকা।

তবে লেয়ার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকা কেজি দরে।