দর্শনা সুলতানপুর মাঠে ৩৯টি মেহগনি গাছ কাটার চেষ্টা, আদালতে মামলা

দর্শনার সুলতানপুর মাঠে ৩৯টি মেহগনি গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, দর্শনা থানায় মামলা গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন সুলতানপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে আশরাফ আলী।

আশরাফ আলী জানান, গত ১১ এপ্রিল জীবননগর উপজেলার ইছাহক আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, আব্দুল আলিমের ছেলে হুমায়ন ও সবুজ এবং আব্দুল মোমিনের ছেলে আব্দুল আলিম, বগা ও হাবু মিলে তার ১১ কাঠা জমির গাছ কাটতে শুরু করে।

এ সময় সুলতানপুর গ্রামের গোলাম গাউসের ছেলে রুহুল আমিন তাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৯টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, ওইদিন তিনি দর্শনা থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তিনি বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আশরাফ আলী অভিযোগ করেন, স্থানীয় দুইজন বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা গাছ কাটার চেষ্টা করে। তবে গ্রামবাসী, তার ভাই, ছেলে ও আত্মীয়স্বজন ঘটনাস্থলে আসতে দেখেই তারা পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, জমিটি দর্শনা বাসস্ট্যান্ড পাড়ার আলফাজ উদ্দিনের স্ত্রী তার মেয়ে সাবিয়া খাতুনকে দিয়েছেন। জমির মালিকানা নিয়ে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




গাংনীতে শয়নকক্ষ থেকে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তাজমিরা খাতুন (২০) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল পশ্চিমপাড়ার আবু হুরায়রার বাড়িতে। নিহত তাজমিরা খাতুন আবু হুরায়রার মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাজমিরা খাতুন বেশ কয়েক বছর ধরে মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এ কারণে তার দাম্পত্য জীবনেও ভাঙন দেখা দেয় এবং স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে।

প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া শেষে তিনি নিজ শোবার ঘরে ঘুমাতে যান।

পরদিন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ঘরের দরজা না খোলায় স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাজমিরাকে দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামা পদ বলেন, তেরাইল পশ্চিমপাড়ায় তাজমিরা খাতুন নামের এক নারী ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।




ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন

সারাদেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

বুধবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট।

এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ জোটের নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়। ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা ফারহানা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মিনারা খাতুন, কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহিম, শিক্ষক নেতা আল মিরাজ, আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত এ ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবী জানান তারা।




হরিণাকুণ্ডুতে স্টেকহোল্ডারদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে উপজেলা পর্যায়ের স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম। এতে বক্তব্য রাখেন হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: উজ্জল কুমার কুন্ডু, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, এসডিএফ’র জেলা ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান, জেলা কর্মকর্তা (লাইভলিহুড) মাহাবুবুর রহমান, জেলা কর্মকর্তা সুলতানা বুলবুলি এবং জেলা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মকর্তা ডা. অনুদীপা রানীসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় এসডিএফ’র মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে উপজেলার সুবিধাভোগীদের আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী অংশীজনরা সুবিধাভোগীদের মাঝে সেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন।




মুজিবনগরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পান্তা উৎসবে বিএনপির নববর্ষ উদযাপন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল এবং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বৈশাখী শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান, মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক কালু এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম।

এছাড়াও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সালাউদ্দীন, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক লিংকন, বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম সাজু, নিয়ত, ওমর ফারুকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শেষে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী পান্তা উৎসবের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।




কৃষক কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই

কৃষক কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা করে অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার আবাইপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। আজ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হলো। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার একের পর এক কাজ করে চলেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধীদলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে বলে বিরোধীদল জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আমরা বলতে চাই, সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের বরাদ্দের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে শৈলকুপার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসময় অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ডধারী ১৬৭৯ জন উপকারভোগী কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের কৃষকরা পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপেই কৃষক কার্ড পাচ্ছেন।




মুজিবনগর সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বৈশাখী শোভাযাত্রা

মেহেরপুর শহরে মুজিবনগর সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু হোসেনের নেতৃত্বে সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সংস্থার কার্যালয়ে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সঞ্চালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি শফিকুল ইসলাম (কান্ত)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাংলা মাসের প্রথম দিন। এ দিনটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য সংস্থার সদস্যদের মাঝে তুলে ধরেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সজল আমিন, নির্বাহী সদস্য মোঃ আলী হোসেন, নির্বাহী সদস্য কুলসুম খাতুন, সদস্য আফরোজা সুলতানা, তামিম, হামজাসহ সংস্থার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।




গাংনীতে নানা আয়োজনের পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলা প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এছাড়াও পান্তা-ইলিশ ও লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবসহ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।




নানা আয়োজনে মেহেরপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

মেহেরপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ। এবারের বৈশাখের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

এতে অংশ নেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নানা রঙে ও নানান সাজে সজ্জিত হয়ে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা উৎসবে অংশ নেয়।

পরে সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়।




মেহেরপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ, দিশেহারা ক্রেতারা

সপ্তাহের ব্যবধানে উৎপাদন এলাকায় সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করেই সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ হয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা কোনো অজুহাত পেলেই দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আর প্রশাসন শুধু নামেমাত্র বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও এর তেমন কোনো প্রভাব বাজারে পড়ছে না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি হাট ইজারা ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষকরা বলছেন, সার, বীজসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তেল সংকটের কারণে সেচ খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, তাই দাম বাড়াটা স্বাভাবিক।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, ৪০ টাকার বেগুন ১২০ টাকা, ৪০ টাকার শসা (খিরা) ৮০ টাকা, ৪৫ টাকার গাজর ৭০ টাকা, ৪৫ টাকার ঢেঁড়স ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ২৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, ৬৫ টাকার বরবটি ১০০ টাকা, ৫০ টাকার কচুর লতি ৮৫ টাকা, ৬০ টাকার উস্তি ৮০ টাকা, ৩০ টাকার পুঁইশাক ৬০ টাকা, ৩০ টাকার টমেটো ৭০ টাকা এবং ৪০ টাকার ঝিঙে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে, আলতাপাটি আলু ২৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।

সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, “বাজারে এখন কিছুই কেনার মতো অবস্থা নেই। যে বেগুন সপ্তাহখানেক আগে ৩০-৪০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১২০ টাকা। পটলও গত হাটে ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ ১০০ টাকা।”

আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, “পাম্পে তেল কম পাওয়া যাচ্ছে এই অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। পুঁইশাকও ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, খাবো কী?”

সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, “আমরা আড়তে গিয়ে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমরা যেমন দামে কিনি, তেমন দামে বিক্রি করি।”

আরেক বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, “গত হাটে যে পটল ৩৫ টাকায় কিনেছি, আজ পাইকারি কিনতে হচ্ছে ৮৫ টাকায়। বেগুনও আগের ৪০ টাকার জায়গায় এখন ৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।