আলমডাঙ্গায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় গণজাগরণের ডাক দিলেন শরিফুজ্জামান

আলমডাঙ্গায় বিএনপি’র বিশাল নির্বাচনী জনসভায় শরিফুজ্জামান শরিফ ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ারের ডাক দিলেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল ৩টার সময় আলমডাঙ্গা বড় ফুটবল মাঠে আয়োজিত এই সভায় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

নির্বাচনী এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফ। সভায় স্থানীয় বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দেশের গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ধানের শীষের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।শরিফুজ্জামান শরিফ এলাকার উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র নেতা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান বুলা, বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপি’র সাংগাঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম  পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু।

আনোয়ার হোসেনের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান তবারক হোসেন, বোরহান উদ্দিন, শেখ সাইফুল ইসলাম, আনিছুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, সেলিমুল হাবিব, সেলিম চেয়ারম্যান, মোমিন মালিতা, মীর উজ্জ্বল হোসেন, খন্দকার আব্দুল কাদের, মাগরিবুর রহমান, তন্ময় প্রমুখ।

বিশাল জনসমাগমে দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা বড় ফুটবল মাঠে জড়ো হতে থাকেন।

স্লোগান ও উদ্দীপনায় সভা চলাকালীন ধানের শীষ ও বিএনপি’র সমর্থনে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

উপস্থিত বক্তারা এই জনসভাকে আলমডাঙ্গার রাজনীতিতে এক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




দর্শনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত -৬; নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে দর্শনা থানার উজলপুর গ্রামে শ্লোগান দেয়া নিয়ে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সকালে দুটি দলের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাতেই জেলা পুলিশের একটিদল সহ যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসিরা জানান, ঐদিন রাত ১০ টার দিকে দর্শনা উজলপুর গ্রামে বিএনপির একটি মিছিল বের হয়ে একই গ্রামের জামায়াত ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে পৌছিলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর উভয়ের মধ্যে সংঘর্ঘে জামায়াত সমর্থিত হাসান তারিখ (৫০)মেহেদি হাসান (৩৪) তারিকুল (৩০) ও বিএনপি সমর্থক মজিবর (৪০)জুনায়েদ সাকি( ৩৪) রাকিব আলি (১৫) তাজুল হক (২০)বাবু ইসলাম (২২) সহ ৮/১০ জন আহত হয় বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে।

দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ মোশারেফ হোসেন জানান বিএনপির মিছিল থেকে এক মদ্যাপ ব্যাক্তি আমাদের নির্বাচনি অফিসে ঢুকে বাজে মন্তব্য করলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়, পরে আমাদের অফিসের চেয়ার সহ আসবাব পত্র ভাংচুর করে, যা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। দর্শনা বেগমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি জনাব আসলাম আলি জানান জামায়াতের লোকজন মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাতে মারামারি বাধিয়েছে, যা থানায় অভিযোগ করেছি।

দর্শনা থানার ওসি জনাব মেহেদি হাসান জানান উভয় পক্ষই পৃথক অভিযোগ করেছে, তদন্তের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙা সহকারি পুলিশ সুপার জনাব আনোয়ারুল কবির জানান খবর শোনার পরে রাতেই বিজিবি ও পুলিশের টহল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, পরিস্হিতি শান্ত রয়েছে।




মেহেরপুর পৌর ছাত্রদলের উদ্যোগে মাসুদ অরুনের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল

মেহেরপুর পৌর ছাত্রদলের উদ্যোগে মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদ অরুনের পক্ষে গণসংযোগ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিক এলাহির নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুনকে বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়।

এসময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হাসনাত আফরোজ, সাইদ রফিক, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাজন, দপ্তর সম্পাদক লিজন আলী, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শেখ রাব্বিসহ পৌর ও জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।




জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের হাতে মাদকসহ দুই বাংলাদেশি আটক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে মাদক সংগ্রহের সময় ভারতের ৫০ গজ অভ্যন্তরে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

গতকাল শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন, জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মো. সন্তো হোসেনের ছেলে মো. রকো হোসেন (৩৫) ওরফে রকো এবং মো. খোদাবকশের (খুদু) ছেলে মো. রাশিদুল ইসলাম (৩৬) ওরফে দুলি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক রকো ও দুলি দু’জনই মাদক ব্যবসায়ী।  তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা জীবননগর উপজেলার মাধপখালী সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশ করে মাদক সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ভারতের বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে আটক করে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বরাত দিয়ে ঘটনাটি নিশ্চিত করে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম পিএসসি জানান, ভারতের অভ্যন্তরে মাদকসহ দুই বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে আটক দু’জন মাদকসহ ধরা পড়ার কারণে তাদেরকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




দর্শনায় ধানের শীষের পক্ষে শহরে মিছিল ও সমাবেশ

দর্শনা পৌর বিএনপি’র সমন্বয়ক মুকুল শাহ ও ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ধানের শীষের মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার বেলা ১১ টার দিকে ধানের শীষের পক্ষে দর্শনা শহরে একটি নারী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ মিছিলটি দর্শনা পুরাতন বাজার সোসাইট চত্বর থেকে ধানের শীষের পক্ষে একটি মিছিল দর্শনা শহর প্রদক্ষিণ করেছে। দর্শনা পৌর বিএনপি’র সমন্বয়ক কমিটির সদস্য ও দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক জিএস এনামুল হক শাহা মুকুল ও দর্শনা পৌর সাবেক ছাত্র দলের সভাপতি ও সাবেক সিনিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের নেত্রীতে এ নারী মিছিলটি বের হয়।

দর্শনা সোসাইট চত্বর থেকে ধানের শীষের পক্ষে মিছিলটি বের হয়ে দর্শনা শহর প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাজার সোসাইট চত্বরে এসে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, দর্শনা পৌর বিএনপি’র সমন্বয়ক কমিটির সদস্য ও দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক জিএস এনামুল হক শাহা মুকুল ও দর্শনা পৌর সাবেক ছাত্র দলের সভাপতি ও সাবেক সিনিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, টুটুল শাহ, অপু, বকুল শাহ প্রমুখ।




নির্বাচন ঘিরে ঝিনাইদহে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

নির্বাচনকে ঘিরে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। তাদের দাপটে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে মাইকিং, প্রচারণা মিছিল, এমনকি রাতের আঁধারে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়াসহ সব ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করছে এসব কিশোর গোষ্ঠী।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের নিয়ে গড়ে ওঠা একাধিক গ্যাং এখন নির্বাচনী প্রচারণার ভাড়াটে শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা প্রতিপক্ষের পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণায় বাধা, পথরোধ, হুমকি দেওয়া এবং কখনো কখনো মারধরের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি রাতে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে ভোট চাওয়ার নামে চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। লোহার রড কিংবা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয় ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরে অংশ নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এ জেলায় নতুন নয়। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের সক্রিয়তা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা তাদের পেছনে টাকা বিনিয়োগ করছে এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে দমন-পীড়ন করতে এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীগঞ্জ শহরের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে বড়রা এসব কাজ করত। এখন দেখি কিশোর ছেলেরা দল বেঁধে এসে আমাদের হুমকি দেয়। কয়েক দিন ধরে কিশোর অপরাধীদের দাপটে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

ইয়াসমিন আরা নামের এক নারী ভোটার বলেন, ‘এবার কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা কতটুকু পাওয়া যাবে, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। রাতে বাড়িতে এসে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করছে কিশোর সদস্যরা। বর্তমানে বাইরে কিশোর ছেলেদের দল দেখলেই ভয় লাগে। ভোটের দিন তারা এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখলে কেন্দ্রে যেতে আমাদের অসুবিধা হবে।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এক প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় বের হলেই বাধার মুখে পড়তে হয়। বড়রা সামনে থাকে না, কিশোরদের দিয়ে কাজ করায়। তারা ভয় পায় না, কারণ জানে শাস্তি হবে না। নামমাত্র কিছু টাকা খরচ করলেই প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের অফিস ভাঙচুর ও পোস্টার ছেঁড়ার কাজ করানো যায়। এদের অনেকগুলো গ্রুপ আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী একেক সময় একেক গ্রুপকে কাজে লাগানো হয়।’

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘কিশোরদের এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক কারণ রয়েছে। বেকারত্ব ও সামাজিক নজরদারির অভাব তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন প্রার্থী এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে। এ অপরাধ রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ালেই হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, কিশোরদের অপরাধে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা এবং সামাজিকভাবে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে নির্বাচন এলেই কিশোর গ্যাংয়ের দাপট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ ধরনের অপরাধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি।’

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘কিশোর অপরাধের বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




১০ তারিখ সকাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ, বিজ্ঞপ্তি জারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে মেহেরপুরের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. সৈয়দ এনামুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসন ৭৩ মেহেরপুর-১ ও ৭৪ মেহেরপুর-২ এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৮ (১) অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এই আইনানুগ বিধান অনুসারে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উক্ত এলাকায় সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মেহেরপুরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে ফুড ক্যান্টিনের উদ্বোধন

মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে ফুড ক্যান্টিনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যান্টিনটির উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি (মেহেরপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক)।

উদ্বোধন শেষে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক খাতুনে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আগে নারী-পুরুষ কারোই ভোটাধিকার ছিল না। তখন ছিল রাজার আইন রাজা যা বলতেন, সেটাই কার্যকর হতো, জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটত না। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের মতামতকে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘তথ্য আপা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব শাহনাজ বেগম নীনা এবং উপ-পরিচালক (যুগ্ম সচিব) এস এম নাজিবুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাসিমা খাতুন।

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধান অতিথি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত সেলস সেন্টার পরিদর্শন করেন।




কোটচাঁদপুরে জামায়াতের নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা জামায়াত।

এতে ঝিনাইদহ ৩ আসনের জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মতিয়ার রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মহেশপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল হাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি উবাইদুর রহমান, মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন খান, কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে সংসদ সদস্য প্রার্থী মতিয়ার রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে কোন ধর্ষণ, নারী নির্যাতন থাকবে না। কোরআনকে বাদ দিয়ে কোন আইন হবে না। আমাদের লক্ষ্য কোরআনের বাংলাদেশ, সোনার বাংলাদেশ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আইন ও সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।




হাটগোপালপুর শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক কর্মসূচি সম্পর্কিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুপুরে ব্যাংক কার্যালয়ে ৩ শতাধিক দুস্থ অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় ১০ টাকার বিনিময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভা শেষে ৩শতাধীক দুস্থ অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক চৌধুরী নিয়াজ মোর্শেদ, এ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ, এসএটিভির জেলা প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ, ব্যাংক কর্মকর্তা নবীর হোসেন,হাটগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মাজহারুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিয়ার রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন টিটু, আরব আলী, লাভলু মিয়া, আলম জোয়ার্দার, মুর্শিদ সহ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শীতবস্ত্র পেয়ে অসহায় মানুষগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।