মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস।

আজ বৃহস্পতিবার প্রত্যুষে মেহেরপুর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শামসুল আলম সোনাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সর্বপ্রথম শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান, জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে আহ্বায়ক শামসুল আলম সোনা, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ, জেলা পরিষদের পক্ষে প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন, পৌরসভার পক্ষে প্রশাসক পার্থ প্রতিম শীল, গণপূর্ত বিভাগের পক্ষে এস এম রফিকুল হাসান, মেহেরপুর সরকারি কলেজের পক্ষে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল কবির, র‌্যাবের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মামুন পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এছাড়াও সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা, সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, সমবায় অফিসের কর্মকর্তা এনামুল হক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুল বাশার, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মুহা. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মেহেরপুর পৌর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফয়েজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সকাল ৯টায় স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দিনের বিভিন্ন সময়ে আলোচনা সভা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।




রাজনীতির এবিসিডি ( ABCD)

রাজনীতি হলো এমন একটি সামাজিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণের শাসন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি একটি রাষ্ট্র বা সমাজের শাসনব্যবস্থা, সরকার গঠন, এবং নীতি-নির্ধারণের প্রক্রিয়া। রাজনীতি মূলত দেশের সরকার এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

রাজনীতি শুধুমাত্র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দল গঠন বা সরকার গঠন নয়, বরং এটি সমাজে ক্ষমতা, সম্পদ, নীতি এবং শাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, তার একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি করে।

রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল প্রক্রিয়া, যা রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা, সরকার গঠন, এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়ম এবং নীতি তৈরি করে, যার মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। রাজনীতি সমাজে শান্তি, ন্যায় এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং জাতি বা দেশের কল্যাণে অবদান রাখে।

রাজনীতি চর্চার জন্য প্রয়োজন হয় রাজনৈতিক দলের। একটা রাজনৈতিক দলের যেমন থাকে সমর্থক, তেমনি থাকে তাদের কর্মী ও নেতৃত্বের জন্য নেতা। আর প্রত্যেকে মানুষ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের হতে হয় রাজনৈতিক সচেতন। কারণ রাজনীতি উপর নির্ভর করে রাষ্ট্র, দেশ সমাজ ও নাগরিকদের ভাগ্য। একটি গনতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মানের উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের মান তেমনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মানের উপর নির্ভর করে সেই রাজনৈতিক দলের মান।

রাজনৈতিক সচেতনতা আর রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হওয়াটা এক বিষয় নয়।

অবশ্যই প্রত্যেক নাগরিককে রাজনৈতিক সচেতন হতে হবে। কিন্তু নেতা বা কর্মী হতে হলে শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞানের একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের যোগ্যতা থাকতেই হবে।

নেতৃত্বের যোগ্যতা একটা নানান গুনের প্যাকেজ, শুধুমাত্র ত্যাগ শব্দ দ্বারা আখ্যায়িত করা যায় না। মাল মসলা অনেক কিছু লাগে। আদর্শ থাকা লাগে, স্বপ্ন থাকা লাগে, দেশপ্রেম থাকা লাগে, পরিশ্রম যাকে আমরা ত্যাগ বলি সেটা মাস্ট থাকা লাগে, সততা লাগে, লাগে শিক্ষা, মধুর ব্যবহার, বাচনভঙ্গি ও অন্যেদের ইম্প্রেস করার শক্তি, লাগে অর্থের যোগানও। সব মিলিয়ে নেতৃত্ব দেয়ার সকল গুণাবলি।

জ্ঞানহীন পেশাহীন ব্যক্তির হাতে রাজনীতি কখনোই নিরাপদ নয়। যার নিজের কোন পেশা নেই, তার আয়ের উৎস কি! যে নিজেকে নিজেকেই দাড় করাতে পারে, সে অন্যকে কি উপকার করবে!

এবার আসি তৃণমূলে বিশেষভাবে একটু পশ্চাৎপদ এলাকায়। সেখানকার রাজনৈতিক ভাবনা ও চাহিদা বা ধারণা কেমন।
গ্রাম-গঞ্জে যাবেন, দেখবেন মানুষের কি কি চাহিদা, তাদের কাছে রাজনীতিটা কি, কেমন তা বোঝা যায়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নানান অভিযোগ। বিশেষ করে স্থানীয় এম.পি’র উপর, এই রাস্তা ভাঙ্গা, ঐ কবরস্থানের প্রাচীর হয়নি। মসজিদের গেট হয়নি, নানান অভিযোগের ভিতর বেশীর ভাগই থাকে অবকাঠামোমূলক উন্নয়নের কথা। অনেকেই এর জন্য স্থানীয় এম.পি. কেই দায়ী করে থাকেন।

একদিন এক গ্রামে এক উঠান বৈঠকের সময় বলেই আমি ফেললাম, আচ্ছা আপনার যেসব উন্নয়নের কথা বলছেন এগুলো কি একজন এম.পি’রই একমাত্র কাজ ? এগুলোর জন্য তো স্থানীয় সরকার আছেন, যেমন; জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ। এগুলো তো তাদেরও কাজ। আমাকে একজন প্রশ্ন করলো, তাহলে এম.পি’র কাজ কি?

একজন এম.পি একজন প্রধান অভিভাবক, আইন প্রণেতা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান ও সেই স্বপ্নের রূপকল্প তৈরী করেন এবং বাস্তবায়ন করেন। যুবকদের নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত করা, তাদেরকে U-Turn করানো যেমন; বিশ্ব আজ IT যুগে। তাদেরকে সেভাবে প্রস্তুত করা, আমরা কোন পথে হাটবো সেই পথ প্রদর্শন করা। সমাজের মৌলিক সমস্যা নির্ণয় করে সেগুলো সমাধানের পথ বের করা, টার্গেট দেওয়া যে আগামী ৫ বছর আমরা এই পর্যন্ত, ১০ বছর আমরা ঔ পর্যন্ত যাবো। যেমন; বেকারত্ব একটি সমস্যা কিভাবে তা রোধ করা যায়, এরকম অসংখ্য মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া। সামাজিক ব্যাধী দূর করে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা। হুম, ধরুন যদি কোন ব্রীজ ভাঙ্গা, বিশেষ মেরামত দরকার তার জন্য জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দেওয়া। কেবল; বাহ্যিক অবকাঠামোমূলক উন্নয়নই (visible infrastructure development) একজন এম.পি’র কাজ নয়। অদৃশ্য অবকাঠামোমূলক উন্নয়ন (invisible infrastructure development) কাজের কতটুকু অগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে একজন এম.পি’র সফলতা।
একজন এম.পি’র সফলতা নির্ণয় করা যায় তিনি কতটুকু সমাজকে এগিয়ে নিতে পেরেছেন, শুধু মাচায় বসে চা খাওয়ায় এম.পি’র কাজ না।

সময় বদলাচ্ছে, রাজনীতি গতিধারাও বদলাচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের রাজনৈতিক ধারা, আদি ধারায় চর্চা, সেই ৯০- ২০০০ দশকের ট্রেন্ড এখন ২৬ এ আর চলবে না। পুরানো ধারা, পুরানো একঘেয়ে চর্চা এই প্রজন্ম গিলছে না। অবশ্যই আমাদের নতুনত্ব আধুনিক ও যুগোপযোগী মেধার চর্চার দিকে এগুতে হবে।

“ধর, মার” শ্লোগান থেকে বের হতেই হবে। শুধুই মিছিল মিটিং করে কেবল পুরানো রুটিন ওয়ার্ক করে রাজনীতি আর টিকবে না। এই ধারা চলমান রাখতে গিয়ে বড় বড় দলকেও হোচট খেতে দেখা গেলো। অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শুধুমাত্র পুরানো ধাচের রাজনীতি করতে গিয়ে ইতিমধ্যে বড় ধাক্কা খেয়ে গেছে। রাজনৈতিক চর্চায় আধুনিক ভাবধারা যুক্ত করতে না পারলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

দলের কর্মী মানে আদম সাপ্লাইয়ার নয়, যে লোকজন জোগাড় করে মিছিল করো আর প্রয়োজনে লাঠি ধরো। দলের কর্মীদের শুধু মিছিল করিয়ে বিদায় দিলে কাজ হবে না। দলের কর্মীদের প্রত্যেককে এক একটা মানব সম্পদে রুপান্তর করতে হবে। তাদের কাজে দক্ষতা নেয়া পেশাদার বানাতে হবে, যাতে তারা কর্মক্ষেত্রে দলীয় নির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বনির্ভর হতে পারে।

এখন কর্মীদের যেমন রাস্ট্রবিজ্ঞানের বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে, নতুন বিশ্বকে চিনতে হবে, তেমনি জানতে হবে ইতিহাস-বিজ্ঞান-ইকোনমিকস-আইসিটি-বিশ্ব রাজনীতি- অর্থনীতি ও যুদ্ধ কৌশল ইত্যাদির মিনিমান ধারণাটুকু। আর নেতাদের তো এগুলোর উপর দক্ষতা মাস্ট। যে যতো বড় নেতা, তার জ্ঞানের উচ্চতা থাকতে হবে ততই বেশী।

তাছাড়া নিজেদের সময় সময় সংষ্কার করা, ভুলগুলোর জন্য অনুতপ্ত হওয়া ও আধুনিকায়নের মাধ্যমেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ, মানুষের পালস বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, কথা বলতে শেখা, কনভিন্স পাওয়ার আয়ত্ত্ব করা জানতেই হবে।

শিক্ষিত সৎ দেশপ্রেমিকদের জন্য রাজনৈতিক পথ সুগম করা খুব জরুরি। বর্তমান আইসিটি যুগে সাইবার ফাইটে পরাজয় মানে যুদ্ধে অর্ধেক পরাজয়। টেকনোলজি, টেকনিক্যাল, সাহসী ম্যানপাওয়ার যার, জয় তার।

রাজনৈতিক আদর্শ – আদর্শের উপর গড়ে উঠে একটা রাজনৈতিক দল তেমনি চর্চার উপর নির্ভর দলের সমৃদ্ধি অগ্রগতি। সময়ের সাথে সাথে চর্চার পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন হয়। চর্চায় পরিবর্তন মানে আদর্শের পরিবর্তন না।

আদর্শ ঠিক রেখে
আগামীর রাজনীতির ধারা হোক
পরিবর্তনের, প্রজন্মের, স্বপ্নের ও বুদ্ধিমত্তার।

politics of change, politics of hope and politics of dream, politics of intellectuals.




জেলা পরিষদের প্রশাসককে মহিলা নেত্রীদের শুভেচ্ছা

মেহেরপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিলটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী রোমানা আহমেদ।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং জেলার সার্বিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সাবিহা সুলতানা, পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি সালমা খাতুন, ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সদস্য রাকিবা, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ও পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মনোয়ারা খাতুন, মহিলা দলের সদস্য চায়না খাতুন পপি, ২ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সেক্রেটারি রওশনারা, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক পেয়ারা, সাবেক মেম্বার রাকিবা, জ্যোতি, কনা, নাজু, জাকিয়া, চায়না, লায়লা, সুজাতা সেনসহ আরও অনেকে।

সাক্ষাৎ শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




দামুড়হুদায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত, আটক ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ঢালি (৪৫) নামে এক একজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।নিহত শহিদুল ঢালি দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মওলা ঢালির ছেলে। আটককৃতরা হলেন একই গ্রামের মৃত জলিল ঢালির ছেলে বারিক ঢালি (৪২), ও জাহিদুল ঢালি (২৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা সবাই আপন আত্মীয়, আপন চাচাতো ভাই সবাই। গত মঙ্গলবার বিকেলে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শহিদুল ঢালি গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে আরও অন্তত তিনজন আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শহিদুল ঢালিকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ্ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এঘটনায় মামলা হয়েছে, মোট দুইজনকে আটক করা হয়েছে, আজ আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ




চাকরি ছেড়ে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে সফল নারী খুশি

অদম্য সাহস,কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস-এই তিন শক্তিকে সঙ্গী করে বে-সরকারি চাকরি ছেড়ে খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের শিক্ষিত নারী উদ্যোক্তা খুশি খাতুন। ছোট পরিসরে মাত্র ১২টি মুরগির বাচ্চা দিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে একটি সফল খামারে।

বর্তমানে তার খামারে বিভিন্ন জাতের কয়েক হাজার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা

জানা যায়,জীবনের একটি পর্যায়ে স্থায়ী চাকরি থাকা সত্ত্বেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার করার সিদ্ধান্ত নেন খুশি খাতুন।

শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধৈর্য,পরিশ্রম এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। প্রথমে ১২টি ব্রয়লার মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে খামারের পরিধি বাড়ান এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তিনি গ্রামাঞ্চল থেকে ডিম সংগ্রহ করে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করছেন। তার খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মুরগির বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

পাশাপাশি কিছু বাচ্চা বড় করে সেখান থেকেও প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি মুরগির মাংস বাজারজাত করছেন তিনি। ফলে তার খামারটি এখন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। তার খামারে টাইগার,দেশি,ব্রাহমা,ফাহমি,তিতির,সোনালী,কালার বার্ড,টার্কিসহ প্রায় ১২ জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও পালন করা হচ্ছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শ্রম দিয়ে খুশি খাতুন প্রমাণ করেছেন—সাহস করে উদ্যোগ নিলে গ্রামেও তৈরি করা যায় সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত।

শুধু নিজের সাফল্যেই থেমে থাকেননি খুশি খাতুন। তার খামারে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এর ফলে এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তার এই সফলতা ও সাহসিকতা দেখে অনেক তরুণ-তরুণী এখন খামার গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন।

উদ্যোক্তা খুশি খাতুন বলেন,‘শুরুটা খুব সহজ ছিল না। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে। তবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্নই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন,পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে যে কেউ সফল হতে পারে। আমি চাই আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলতে এবং এই খাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে।’

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ জানান,খুশি খাতুন একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।




গাংনীতে ট্রান্সফরমার চোর চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের গাংনীতে জ্বালানি তেল সংকটে সেচ ব‍্যাবস্থা নিয়ে কৃষক যখন চরম দুশ্চিন্তায়, ঠিক সেই সময় সেচ পাম্পের জন‍্য বৈদ‍্যতিক খুটিতে থাকাবৈদ্যতিক ট্রান্সফরমার উদ্ধারসহ চোর চক্রের তিনজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার মধ‍্যরাতে পুলিশ গাংনী উপজেলার চেংগাড়া নামক এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া একটি ট্রান্সফরমারসহ চোর

চক্রের তিন সদস‍্যকে আটক করে।

গ্রেফতাররা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের মতলেব প্রামানিক এর ছেলে মোঃ রহিদুল ইসলাম(৩৫),একই জেলার ভেড়ামারা উপজেলার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে পারভেজ হোসেন(৩২)ও আরকেজন হচ্ছেন একই উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের মৃত সামসুল মালিথার ছেলে সজীব ইসলাম(২৮)।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে,রাতের বেলায় থানা পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালীন সময়ে গাংনী উপজেলার চেংগাড়া এলাকায় বৈদ‍্যতিক ট্রান্সফরমারসহ চোর চক্রের তিন সদস‍্য নজরে আসলে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা শিকার করে তারা এই অঞ্চলে ট্রান্সফরমার চুরি করতেই এসে ছিলো।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃদের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে আজ মেহেরপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া এই ট্রান্সফরমার চুরির পিছনে এলাকার কেহ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে দর্শনায় পৌর বিএনপির প্রস্তুতি সভা

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে দর্শনা পৌর বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দামুড়হুদা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক হাফিজুল আলম মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক ও ঐতিহ্যবাহী মেমনগর বিডি হাইস্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ মোঃ মশিউর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম খোকন, মহিদুল ইসলাম, দর্শনা থানা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেন, দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুর রহমান লিংকন, দর্শনা পৌর ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম মুন্না, আঃ রাজ্জাক শাহীন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, হাজী মোখলেছুর রহমান, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক রেজাউল ইসলাম, নাসির উদ্দিন খেদু, বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, তোফাজ্জল ইসলাম তুফান, আজিজুল হক প্রমুখ।

সভায় আগামী ২৬ মার্চ সকাল ৯টার সময় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় র‍্যালি ও আলোচনা সভা, এবং সকাল সাড়ে ১০টার সময় কেরু চিনিকলের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।




দর্শনায় অনির্বাণ থিয়েটারের মোমবাতি প্রজ্জলন

দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটার এর উদ্যাগে মোমবাতি প্রজ্জলনের মাধ্যমে কাল রাত্রী উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় দর্শনা কলেজ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রয়াত শহিদদের প্রতি শ্রোদ্ধা নিবেদন করে ১ মিনিট নীরবতা পালন, মোমবাতি প্রজ্জলন ও দেশের গানের সাথে ২৫ মার্চ পাক-হানাদার বাহিনির নির্মম গণহত্যায় নিহত শহিদদের স্বরণ করা হয়। এ সময় শহিদদের স্বরণ করে বক্তব্য রাখেন দর্শনা অনির্বান থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অনির্বাণ অর্থ সম্পাদক কবিরুল হক লিপু, নির্বাহী সদস্য আওয়াল হোসেন, মোস্তাক আহম্মেদ মনা, সাজ্জাদ হোসেন, মাহবুবুর রহমান মুকুল, প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহ, স্বপ্না খাতুন, আজাদুল ইসলাম মিলন। এ ছাড়া আরো উপস্থিতি ছিলেন ববি,সাকিল,মেহেদী, খায়রুল ইসলাম, কাওছার আলী, প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাজ্জাদ হোসেন।




দর্শনায় ধর্ষণের অপচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার ২

দর্শনায় পৃথক ভাবে ধর্ষনের অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ মামলায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছ দর্শনা থানা পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের এক মহিলাকে জোর পৃর্বক ধর্ষনের অপচেষ্টা চালায় একই গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে রোকনুজ্জামান ওরফে রোকন উদ্দিন (৪৪) ও দর্শনার পারকৃস্পুর মদনা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে এক বাক প্রতিবন্ধীকে মাঠের মধ্যে ভ্যানচালক আব্দুস সামাদ (৪৫), ধর্ষনের অপচেষ্টা চালায়। এ ঘটনার জেরে বাদি হয়ে দুজন ধর্ষনের অপচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় দর্শনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে।গতকালই তাদের দুজনকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




দর্শনায় আদিবাসী পাড়ায় স্যানিটেশন বিষয়ক উঠান বৈঠক

দর্শনা পৌরসভার রামনগর কালিদাসপুর আদিবাসী পাড়ায় স্যানিটেশন বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০ টার দিকে মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগী আদিবাসী নারীরা অংশগ্রহণ করেন। উঠান বৈঠকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা পরিছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মনিরুজ্জামান মান্নান, ম্যানেজার মকবুল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিল্লাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন সুপারভাইজার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।