গাংনীতে হাতবোমা, ভারতীয় মদ ও ট্যাবলেটসহ আটক ১

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পৃথক অভিযানে দুটি হাতবোমা, ভারতীয় মদ ও বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় মনতাজ আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

আটক মনতাজ আলী গাংনী উপজেলার কালিয়ানী ভিটাপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। গাংনীর ধলা গ্রামের মাঠে বিশেষ অভিযানে মনতাজ আলীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি হাতবোমা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে তার এক সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত বোমা গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে ৯ বোতল ভারতীয় মদ, ১,১৬০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৮৪০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৫৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।




জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর হবে, তা সনদের মধ্যেই উল্লেখ আছে

“জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর হবে, তা সনদের মধ্যেই উল্লেখ আছে” এ মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় ও কার্যকর। এর বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সংসদই জুলাই সনদ কার্যকর করতে পারবে। তাই সনদ বাস্তবায়ন গণভোটের ওপর নির্ভরশীল নয় এ বিষয়টি সংসদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ও চেতনায় ধারণ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে এই সনদ লেখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই যারা বলছেন, গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, তা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “জুলাই গণভোট অধ্যাদেশও রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত। অথচ তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বয়কট করেছেন, আবার সেই ভাষণ নিয়ে আলোচনা করতে চান। এটি দ্বিচারিতা।”

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের ২২ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে প্রায় ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা অর্জন করতে পারেনি।

জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে তেল মজুদ করছে। সরকার এতদিন নমনীয় অবস্থানে থাকলেও প্রয়োজনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অস্থিতিশীলতা রোধে সকলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।”

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ শিশু

সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল, গতকাল শনিবার ৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিনে হাসপাতালে ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে ২১ জন শিশু।

সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা একটি ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৯ জন। শুক্রবার ও শনিবার নতুন করে ৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার ১ জন এবং গাংনী উপজেলার ২ জন রয়েছে।

গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মৌসুমী জানান, প্রথমে শিশুর জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। গত ৬ মাস ধরে টিকা নিতে পারিনি। টিকা নিতে গেলে বলা হয়, টিকা নেই।

সদর উপজেলার ঝাউবেরিয়া এলাকার মুনিয়ারা বলেন, আমার মেয়ের বয়স ৯ মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে, কিন্তু এখনো কোনো হামের টিকা দেওয়া হয়নি।

জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীর ব্যথা ও নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।




দর্শনা সরকারি কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

দর্শনা সরকারি কলেজের প্রয়াত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় দর্শনা সরকারি কলেজের মুক্তমঞ্চে প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হামিদ, উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল গফুর, প্রফেসর নুর আলী ও প্রফেসর জমশেদ আলীসহ সকল শিক্ষকের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ দোয়া ও স্মরণসভায় প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হামিদের বড় ছেলে হারুন অর রশিদ জুয়েল, উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে বাবন এবং প্রফেসর নুর আলীর বড় ছেলে নাজমুল হুদা তাদের প্রয়াত পিতার স্মৃতিচারণ করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এনামুল হক শাহ মুকুল, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী এবং সাবেক পৌর ছাত্রদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন।

প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মোফা ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহম্মেদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ।




কুষ্টিয়ায় সজীব গ্রুপ ও রোনিতা ফুডের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় রোনিতা ফুড ও সজীব গ্রুপের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহরের একটি খেলার মাঠে আয়োজিত এ খেলায় নবীন ও প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আয়োজনে সহযোগিতা করে সজীব গ্রুপের কোমল পানীয় পিওরো কোলা। খেলাটি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর আবহ, যেখানে জয়-পরাজয়ের চেয়ে সম্প্রীতি ও আনন্দই ছিল মূল আকর্ষণ।

সজীব গ্রুপের ডিপো প্রধান আক্তার হোসেন বলেন, “কোমল পানীয় পিওরো কোলার সহযোগিতায় আমরা এই ফুটবল খেলার আয়োজন করেছি। এতে একসময়ের প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ আকর্ষণ।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং সহমর্মিতা ও বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কোম্পানির সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও এমন খেলাধুলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

রোনিতা ফুডের পরিচালক এস এম জামাল বলেন, “খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। আমরা আমাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এই আয়োজন করেছি, যেখানে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।”

খেলায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

খেলায় অংশ নেওয়া এক প্রবীণ খেলোয়াড় বলেন, “দীর্ঘদিন পর আবার ফুটবল খেললাম। একসময় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নিতাম। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর খেলা হয়নি। আজ এতদিন পর মাঠে নেমে খেলতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই আয়োজন আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবার ফিরিয়ে এনেছে।”




আলমডাঙ্গায় ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রমেও মিলছে না তেল

আলমডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে তেল পাম্পে জ্বালানি নিতে ভিড় করলেও অনেক গ্রাহক কার্ড প্রদর্শন করছেন না। এমনকি তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যায়নি।

উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও কোনো পাম্পেই তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করেই চলছে জ্বালানি তেল সরবরাহ।

সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার তিনটি তেল পাম্পের মধ্যে গত শুক্রবার মেসার্স হক তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও পাম্পে ছিল দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, জেলার কৃষকরাও ডিজেল সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন তাদের কাজের প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “শুক্রবার ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। কিন্তু পাম্পে কোথাও ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার দেখলাম না। প্রায় সবাই কার্ড ছাড়াই তেল নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ বা ট্যাগ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংও চোখে পড়েনি।

আরেক গাড়িচালক আবু জাফর বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন বা পাম্পের পরিচিতরা লাইনের বাইরে থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা লাইনে আছি, তারা বঞ্চিত হচ্ছি। কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড করলাম, কিন্তু এর ব্যবহার দেখলাম না।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৬ হাজারের বেশি ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি তেল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে। জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সুবিধাও রাখা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার তিনটি পেট্রোল পাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফুয়েল কার্ডে গ্রাহক আগে কত তারিখে ও কী পরিমাণ তেল নিয়েছেন তা উল্লেখ থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।




পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জ্বালানি তেলের সংকট নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকার এখনও দেশের ভেতরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের চাষিরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ পায়, সে বিষয়ে সরকার তৎপর রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।




গাংনীতে অবৈধ ভাবে ডিজেল মজুদের চেষ্টার ঘটনায় মামলা, আটক ২ 

মেহেরপুরে অবৈধ ভাবে লরি থেকে তেল নামানোর ঘটনায় গাড়ির চালক ও তেল ক্রেতার নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা শেষে আদালতের মাধমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটকৃতরা হলেন, একই উপজেলার ছাতীয়ান গ্রামে উজ্জ্বল হোসেন ও সাহেব নগর গ্রামের রিপন হোসেন।

গাংনী থানার ওসি তদন্ত আল মামুন জানিয়েছেন, রাত আড়াইটার দিকে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বাজারে একটি সার ও কীটনাশকের দোকানে অবৈধ ভাবে অধিক মুলে বিকির উদ্দেশে  লরি থেকে তেল নামানোর খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছে থাকা সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল তেল বোঝায় লরিটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

অবৈধভাবে তেল বেচাকেনার দায়ে লরি চালক উজ্জল হোসেন ও তেল কেনায় জড়িত রিপন আলীর বিরুদ্ধে মামলা শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।




দুদকের মামলায় ফেঁসে গেলেন সাবেক মেয়রসহ চার কর্মকর্তা

চেক জালিয়াতি মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতে চার্জসীট দাখিল করেছে। তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ দুদকের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে চার্জসীট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাবু বিশ্বাস। মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলেন, ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক সচিব আজমলহোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চান ও হিসাব রক্ষক মখলেচুর রহমান। তারা ২০১১ সালের ১ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৭টি কাজের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের ৩১৬ ও ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকের ১৪২৫০৩ নং অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা উত্তোলন করেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঝিনাইদহ পৌরসভার বিভিন্ন কাজের বিলের টাকা বিল ভাউচারের বিপরীতে চেকে অতিরিক্ত অঙ্ক বসিয়ে ও অঙ্কটি কথায় লিখে আসল চেকের টাকাসহ অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন মর্মে প্রমাণিত হয়।

তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক পিএলসি ঝিনাইদহ শাখার হিসাব নং ৩১৬ থেকে তিন লাখ আটান্ন হাজার উনিশ টাকার বিপরীতে চেকের মাধ্যমে তারা ৩০ লাখ টাকা অতিরিক্ত তুলে নেন। এই নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর বিরুদ্ধে দুদক তিনটি মামলায় চার্জসীট দিল।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ জুন তারিখে পৌরসভার ক্যাশ বইতে জনৈক নওশের আলীর নামে ১০ হাজার টাকা লিপিবদ্ধ আছে। অথচ ১০ হাজার টাকার স্থলে সোনালী ব্যাংকের ৩১৬ নং একাউন্ট থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে চার লাখ টাকা বেশি উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। নওশের আলী ছাড়াও যাদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছে তারা হলেন, প্রসাশনিক

কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চানের নামে ১২টি, নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীনের নামে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ ৩০৬ নং ভাউচারে ৩ হাজার ২১২ টাকার স্থলে ২ লাখ ৩ হাজার ২১২ টাকা, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টম্বর হিসাব রক্ষক মখলেছুর রহমানের নামে ৭৯ নং ভাউচারে ১৩ হাজার দুই’শ টাকার স্থলে ২ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা, ২০১১ সালের ৬ জুন দেলোয়ার হোসেনের নামে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২০১১ সালের ২৩ আগষ্ট এবং ২০ সেপ্টেম্বর ১১৩ ও ১৫৫ নং ভাউচারে সাইদুর রহমানের নামে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৩ টাকার স্থলে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৩ টাকা, কনজারভেন্সি পরিদর্শক সামছুল আলমের নামে যথাক্রমে ১০, ৪৫, ১০০, ১৪৮ ও ৩৮২ নং ভাউচারে এক লাখ ৪৮ হাজার ২২ টাকার স্থালে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২২ টাকা, ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি ২২১ নং ভাউচারে কমিশনার তোফাজ্জেল হোসেনের নামে ২১ হাজার টাকার স্থলে ২ লাখ ২১ হাজার, ২০১৩ সালের ১১ আগষ্ট ৩৭ নং ভাউচারে পানি বিভাগের বিল ক্লার্ক আনোয়ার হোসেনের নামে ৫ হাজার ৪০ টাকার স্থলে ২ লাখ ৫ হাজার ৪০ টাকা, একই বছরের ১১ আগষ্ট ৩৪ নং ভাউচারে কমিশনার মতলেব মিয়ার নামে ৫০ হাজার টাকার স্থলে দেড় লাখ টাকা, ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ২৪৩ নং ভাউচারে জনৈকা সাহিনা মৌসুমির নামে ১০ হাজারের স্থলে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ১১০ নং ভাউচারে কমিশনার সাইফুল ইসলাম মধুর নামে সোনালী ব্যাংকের ৩১৬ নং একাউন্ট থেকে যার চেক নং ৯৩৯৪৮৩৯, ৩০ হাজার টাকার স্থলে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ২০১৪ সালের পহেলা মে মাসে ৩০০ নং ভাউচারে মিঠু ইলেক্ট্রনিক্সের নামে ১৫ হাজার ৪১০ টাকার স্থলে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪১০ টাকা, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ২১৯ নং ভাউচারে কমিশনার বশির উদ্দীনের নামে ৫০ হাজারের স্থলে আড়াই লাখ টাকা, ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকের ১৪২৫০৩ নং চেকে রবিউল ইসলামের নামে ৯ হাজার ৬৫০ টাকার স্থলে ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা, ২০১২ সালের ১৮০ ও ২০১৪ সালের ২৮০ ভাউচারে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শংকর কুমার নন্দীর নামে ৭২ হাজার টাকার স্থলে ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর ১৩৩ নং ভাউচারে ইঞ্জিনিয়ার মুন্সি আবু জাফরের নামে ২১ হাজারের বিপরীতে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

এমন অভিযোগের একটির বিষয়ে সত্যতা জানতে ঝিনাইদহ শহরের মিঠু ইলেক্ট্রিকে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তাদের দোকান থেকে ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি দুই হিসাবে ৩২’শ টাকা, একই বছরের ৭ জুলাই ২৫ হাজার ৫০০ টাকা, ২০ এপ্রিল ৯৩০০ টাকার হিসাব পরিশোধ করা হয়। কোনক্রমেই তাদের দুই লাখ টাকার বিল পৌরসভা দেয়নি।

চার্জসীটের বিষয়ে ঝিনাইদহ দুর্নীতিদমন কমিশনের আইনজীবী এ্যাড আবু তালেব শুক্রবার দুপুরে জানান, “চেক জালিয়াতি মামলায় ঝিনাইদহ পৌরসভার

সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতে চার্জসীট দাখিল করেছে। চার্জসীট দাখিলের পর আসামীদের আদালত থেকে জামিন গ্রহনের বিধান রয়েছে। তবে তারা জামিন নিয়েছেন কিনা তা জানি না”।




২২ বছরের পথচলায় বই, স্যালাইন আর ভালোবাসা

কুষ্টিয়ার ব্যস্ত শহর কিংবা নিরিবিলি গ্রাম—যেখানেই চোখ যায়, সেখানেই দেখা মেলে এক পরিচিত দৃশ্য। কাঁধে একটি ব্যাগ, ভেতরে স্বরবর্ণের বই আর খাবার স্যালাইন—এই নিয়েই নিরলস ছুটে চলেছেন কাজী সোহান শরীফ। টানা ২২ বছর ধরে তিনি হয়ে উঠেছেন পথশিশু, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের এক নির্ভরতার নাম।
পথেই তার কর্ম, মানুষই তার প্রেরণা মানবসেবা তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে অবহেলিত শিশু, যেখানে অসহায় মানুষ—সেখানেই উপস্থিত সোহান। কখনো বই দিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেন শিক্ষার আলো, আবার কখনো স্যালাইন দিয়ে লড়াই করেন জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে। তার এই পথচলায় নেই কোনো প্রচারণা, নেই প্রাপ্তির হিসাব। মানুষের হাসিই তার একমাত্র প্রাপ্তি।
বই আর স্যালাইন—দুটি অস্ত্রেই লড়াই প্রতি বছরের শুরুতে নতুন বই নিয়ে পথশিশুদের মাঝে হাজির হন তিনি। অক্ষরজ্ঞানহীন শিশুদের হাতে তুলে দেন স্বরবর্ণের বই, খাতা-কলম। অন্যদিকে বছরের পুরো সময়জুড়েই চলে খাবার স্যালাইন বিতরণ, যা ডায়রিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গরমে স্যালাইন, শীতে কম্বল, উৎসবে সেমাই-চিনি—প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।
উদ্ভাবনী চিন্তায় এক ধাপ এগিয়ে মানবসেবার পাশাপাশি উদ্ভাবনেও নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন সোহান। মশা নিধনের জন্য তৈরি করেছেন ফগার মেশিন। অন্ধদের জন্য বানিয়েছেন আল্ট্রা সেন্সর চশমা ও লাঠি, যা সামনে বাধা থাকলে সংকেত দিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে। মাত্র তিন মাসের প্রচেষ্টায়, ইউটিউব দেখে এবং নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন তিনি—স্বল্প খরচে, সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে।
নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীরব কাজ সমাজের লজ্জা ও সংকোচ ভেঙে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও কাজ করছেন সোহান। অনেকেই সরাসরি নিতে সংকোচ বোধ করায় তাদের মায়েদের মাধ্যমে পৌঁছে দেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। পাশাপাশি জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজও করে যাচ্ছেন।
সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক মানুষ খোকসা উপজেলার কালিবাড়ি এলাকায় জন্ম নেওয়া সোহানের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। সেই কষ্টই তাকে শিখিয়েছে অন্যের কষ্ট বুঝতে। ১৮ বছর বীমা কোম্পানিতে চাকরির পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্জিক্যাল পণ্য তৈরি।
বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে নিজের ছোট পরিসরের কর্মস্থলে হুইলচেয়ার, কৃত্রিম হাত-পা তৈরি করেন। গরিবদের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই তিনি কোনো লাভ নেন না।
প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে নীরবে। তার কাজের প্রভাব এখন দৃশ্যমান—
বহু পথশিশু প্রথমবারের মতো বই হাতে পেয়েছে। স্যালাইনের মাধ্যমে ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমছে। প্রতিবন্ধীরা পাচ্ছে সহায়ক যন্ত্র
অন্ধদের জন্য প্রযুক্তি তৈরি নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন এক আস্থার নাম, এক মানবিকতার প্রতীক।
চ্যালেঞ্জ আছে, তবুও থামেননি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বা নিয়মিত অর্থায়ন ছাড়াই এই দীর্ঘ পথচলা সহজ নয়। তবুও থেমে থাকেননি সোহান। নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন মানুষের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
তার স্বপ্ন আরও বড়—
নিজের কাজকে একটি সংগঠনের মাধ্যমে বিস্তৃত করা, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছেন।
কাজী সোহান শরীফ প্রমাণ করেছেন—মানবতার জন্য কাজ করতে বড় অর্থের প্রয়োজন নেই, দরকার বড় একটি মন। তার এই নিরলস পথচলা শুধু কুষ্টিয়ার গর্ব নয়, পুরো দেশের জন্যই এক অনুপ্রেরণার গল্প।