মাদক সম্রাজ্ঞী মিনির রাজত্বে নতুন বেনামবাদশা ছোট জামাই আহাদ-প্রশাসন নির্বিকার

আলমডাঙ্গায় মাদক সাম্রাজ্ঞী “ মিনির” মাদক সাম্রাজ্য আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এলাকায় বেড়েছে চুরির উপদ্রব্য। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতিরোধ প্রশ্নের মুখে।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশন এলাকায় সকল অপকর্মের তীর্থস্থান। ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পর আলমডাঙ্গা উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এর পরপরই পৌর শহরে আলোচিত ‘মাদক সম্রাজ্ঞী মিনি’র নেতৃত্বাধীন চক্র ভেঙে পড়ে। কয়েক বছর ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রি তুলনামূলকভাবে কমে আসে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেই চক্র। আলমডাঙ্গা পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইয়াবা, ট্যাপেন্টা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে এই মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাদক সাম্রাজ্ঞী মিনির ছোট জামাই আহাদ আলীর হাতে। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। এ কাজে যুক্ত আছেন স্টেশনপাড়ার আলাউদ্দীনের স্ত্রী মিনি খাতুন, ২০১৮ সালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ওল্টু মিয়ার স্ত্রী মায়া খাতুন, রেজাউলের স্ত্রী মুন্নি খাতুন ও তাঁর ছেলে রুবেল হোসেন। রুবেল একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে থাকায় তাঁর স্ত্রী লিজা খাতুন বর্তমানে ব্যবসা দেখভাল করছেন বলে অভিযোগ।

এছাড়া মুন্নির বোন হাসি খাতুন ও তাঁর মেয়ে বৃষ্টি খাতুন, সফু ও তাঁর স্ত্রী রোলা খাতুন এবং সামাদ ও তাঁর স্ত্রী কুটি খাতুনও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, কারা মাদক ব্যবসা করছে তা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাই জানে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তাঁদের বাসাবাড়ির ঠিকানাও প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত। তবু তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

পুলিশ ও চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে মূলত মিনি ও মুন্নির পরিবারের সদস্যরা। ট্রেনে করে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা, গাঁজা, পেথিডিন ও ফেনসিডিল এনে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মিনির ছোট জামাই আহাদ আলী ও সামাদ এলাকায় মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তথ্য থাকলেও জনবল ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রত্যাশিত সাফল্য আসে না।”

পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, মাদকের হোতাদের ধরতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু অসাধু সোর্স ও কর্মচারী আগাম তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, থানার মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত স্টেশন এলাকায় কেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নির্মূল করা যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ক্যাম্পিং হলেও এই এলাকায় আজ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।

এক বাসিন্দা বলেন, “কারা মাদক বিক্রি করে আমরা সবাই জানি। কিন্তু মুখ খুললেই বিপদে পড়তে হয়।”

আরেক দোকানি জানান, মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি মসজিদের দানবাক্স থেকেও টাকা চুরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা  বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীল’। অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিন পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।




কোটচাঁদপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা  

কোটচাঁদপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র আয়োজনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায়  দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে পিজন ক্লাবে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করা হয়।

কোটচাঁদপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক।

প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আবু বকর বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন আর রশিদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান খান মুকুল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ তুফান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহফুজ আলম মামুন।

সভা শেষে দোয়া অনুষ্ঠান ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, কোটচাঁদপুর ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মহতামিম মাওলানা নুরুন্নবী আশিকী।




গাংনীতে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল ১১ টার সময় গাংনী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, গাংনী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম।

সভায় উপস্থি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, গাংনী পৌর জামায়াতের আমীর মোঃ আহসানুল হক এবং সাবেক পৌর কমিশনার আলমগীর হোসেন।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়ক সবুজ রানা, জেলা সদস্য আমীর হামজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে উভয় পক্ষই গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির জন্য পারস্পরিক যোগাযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




মেহেরপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মেহেরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এ দোয়া মোনাজাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।

দোয়া মোনাজাতে বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শান্তি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

এ সময় মেহেরপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মেহেরপুর সদর উপজেলা জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে ৬ দিনব্যাপী ৫৪তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম। তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দিনব্যাপী শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গার্ল গাইডস সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহারুল ইসলাম এবং কামদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান, সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম, ক্রীড়া শিক্ষক ফারহা হোসেন লিটন, আব্দুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, এই শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে।




চুয়াডাঙ্গায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশদের সাথে দুর্ব্যবহার, তিন যুবক গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গায় পৌর এলাকার একাডেমি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত হলো রাজু ওরফে লোকাল রাজু, শাওন ওরফে লোকাল শাওনসহ তিনজনকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাজু চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পুরাতন মোটরসাইকেলের ব্যবসা করেন। অপরজন শাওন ওরফে লোকাল শাওনের বাড়িও একই উপজেলায়।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্টে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় তারা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন এবং হুমকি-ধামকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজু, শাওনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর রাতেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিয়ার রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সকাল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।




বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দর্শনায় দোয়া মাহফিল

দর্শনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনা পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের আয়োজনে সোমবার দুপুরে দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে এ মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।

দর্শনা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আশাদুল মোল্লার সভাপতিত্বে এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাবু তরফদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, নাহারুল ইসলাম মাস্টার, শরিফুল ইসলাম শরীফ, ইকবাল হোসেন, মালেক মণ্ডল প্রমুখ। এ সময় সেখানে দর্শনা পৌর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র হত্যা করে কেউ টিকে থাকতে পারে না। দেশ আজ চরম দুঃশাসন, ভোট ডাকাতি ও দমন-পীড়নের শিকার। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা।

পরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, দেশ ও জাতির মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন দর্শনা জামে মসজিদের পেশ ইমাম ওসমান হোসেন।




সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হলো এমন একটি নিরাপদ বেড়াজাল যার মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। সামাজিক নিরাপত্তা হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে পরস্পর সহাবস্থান এবং সম্প্রীতির একটি সুষম পরিবেশ তৈরি করে।

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক দুর্যোগের ফলে মানুষের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা, মনুষ্যসৃষ্ট বৈষম্যগত দারিদ্র্যমোচন, বিভিন্ন আইনি সহায়তা এবং অসুস্থতা, বেকারত্ব, শিল্পদুর্ঘটনা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। সামাজিক নিরাপত্তা আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের সামাজিক নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও এর প্রেক্ষাপট অতি পুরোনো। সামাজিক নিরাপত্তা আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য কার্যক্রম হলেও প্রাচীনকালেও এর প্রচলন ছিল। বর্তমানের মতো এ কর্মসূচি সুসংগঠিত না হলেও দানশীলতা, মানবতাবোধ ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি ও বেসরকারিভাবে এরকম কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ দেখা যেত। প্রাচীন মিসর, গ্রিস, রোম, চীন, ভারতে এর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এই কর্মসূচির একটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (NSSS)।

এর লক্ষ্য হলো, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সহায়তা প্রদান করে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা; আয়-রোজগার কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে বা জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা প্রদান; সমাজের সকল স্তরের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সামগ্রিক মানব উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যে সকল কর্মসূচি আছে তার মধ্যে বয়স্ক ভাতা: বয়স্ক নাগরিকদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান; বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা: অসহায় নারী সদস্যদের আর্থিক সহায়তা; প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি: প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের সহায়তা; মুক্তিযোদ্ধা ভাতা: মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান; ভিজিডি (VGD) ও ভিজিএফ (VGF): খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।

অনুন্নত, স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলোয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই যথাযথভাবে পূরণ করতে পারে না। দুর্নীতির কারণে সম্পদ একটি বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর হাতে পুঞ্জিভূত হয়। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে, গরিব ক্রমান্বয়ে গরিব হয় আর বিশেষ শ্রেণি ফুলে-ফেঁপে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হওয়ার দিকে যায়। তাছাড়া সমাজের অসহায় শ্রেণি তথা পঙ্গু, অনাথ, বৃদ্ধদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না। এই অসহায় শ্রেণির জন্যই প্রধানত রাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকারও অসহায়-পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।

সরকারের কাবিখা, কাবিটার মত কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে অভাবী মানুষের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য নিরসনে কার্যকরভাবে কাজ করছে। অতীব জরুরি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাও প্রদান করছে সরকার। সরকার সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এর পরিধি বাড়িয়ে চলেছে। চলতি অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষাখাতে ব্যয় বাবদ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আড়াই শতাংশ ও জাতীয় বাজেটের ১৭ শতাংশ হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পেনশন ও ভর্তুকি কর্মসূচিগুলো যখন বাদ দেওয়া হয়, তখন বরাদ্দটি জিডিপির মাত্র এক দশমিক দুই শতাংশ ও বাজেটের সাত শতাংশে নেমে আসে।

বর্তমানে ২৬টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৪০টি কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে। চলতি অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রায় ১০ লাখ উপকারভোগী। কয়েকটি কর্মসূচিতে ভাতা বাড়ানো হয়েছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের চারটি ও খাদ্য অধিদপ্তরের একটি কর্মসূচিতে অন্তত ১০ লাখ উপকারভোগী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সূত্রটি জানায়, গত অর্থবছরের প্রতি মাসে ৬০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পেতেন ৬০ লাখ উপকারভোগী। বর্তমান অর্থবছরের ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬১ লাখ করা হয়েছে। প্রতিমাসে জনপ্রতি ভাতার পরিমাণ করা হয়েছে ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া বিধবা ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৭ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৯ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে।

গত বাজেটে ৮৫০ টাকা করে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন ৩২ লাখ ৩৪ হাজার উপকারভোগী। নতুন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার করার পাশাপাশি ভাতা করা হয়েছে ৯০০ টাকা। মা ও শিশু উপকার কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৭ লাখ ৭১ হাজার করা হয়েছে । এক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ ৮০০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮৫০ টাকা। এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ লাখ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ১৫০ টাকা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনা করে দরিদ্র, অসহায় জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবছর বাজেট বক্তৃতায় এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বাজেটের মূল উদ্দেশ্য সমতাভিত্তিক ও কল্যাণধর্মী। সার্বিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে সম্পদ সীমিত হওয়ায় ভাতার পরিমাণ কতটুকু বাড়ানো যায়, সেটা বিবেচনা করা হবে।”

এছাড়াও, বেদে সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধাভোগী বেড়েছে চলতি অর্থবছরে। গতবছর ৪ হাজার ৩৯৮ জন বেদে সন্তান শিক্ষা উপবৃত্তি পেতো। চলতি অর্থবছরে এ সুবিধা পাচ্ছে ৪ হাজার ৮৩৮ জন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধাভোগী ২৮ হাজার ৯১২ জন থেকে বাড়িয়ে ৩১ হাজার ৯০২ জন করা হয়েছে। এ ছাড়া চা শ্রমিকদের এককালীনের পরিবর্তে মাসিক ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে। এতদিন চা শ্রমিকদের বছরে একবার ৬ হাজার টাকা দেওয়া হতো। চলতি অর্থবছর থেকে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত বিশ্ব সামাজিক সুরক্ষা প্রতিবেদন ২০২৪-২৬-এ ধারণা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক নয় শতাংশ খরচ করে। এই সংখ্যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গড় তিন দশমিক আট শতাংশের তুলনায় কম। প্রাক্কলন থেকে জানা যায় বার্ধক্য ভাতা (ওএএ) ও বিধবা ভাতার (ডব্লিউএ) মতো মূল কর্মসূচিগুলো থেকে মাসিক সুবিধা মাথাপিছু জাতীয় দারিদ্র্যসীমার আয়ের মাত্র ১৪ শতাংশ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ২২ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষায় সুবিধা কম, যা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খুব কমই সমন্বয় করা হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর প্রকৃত মূল্য ক্রমাগত কমে যায়। তবে বাজেট বরাদ্দের ভিত্তিতে ছয় বৃহত্তম প্রকল্পের মধ্যে কেবল বার্ধক্য ভাতা প্রকৃত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নতুন আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুনর্গঠন করাও এখন সময়ের দাবি। তা-সত্ত্বেও বলতেই হবে যে, গ্রামীণ, কৃষিনির্ভর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং প্রশংসনীয় সাফল্য রয়েছে।

তবে, দেশ ইতোমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে একটি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের মনে রাখা দরকার, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা নীতিগুলো প্রাথমিকভাবে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর বিবেচনায় করা হয়েছে। কেননা, কৃষিতে এখনো শ্রমশক্তির বৃহত্তম অংশ নিযুক্ত রয়েছে।

তবে দেশে শিল্প ও পরিষেবা খাতগুলোও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এই উদীয়মান খাতের উপর নির্ভরশীল প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্যও নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডিজাইন করা জরুরি। এছাড়া জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যবস্তু সুরক্ষা বিবেচনায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকলে আয়-বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘব হবে। দেশ আর্থ-সামাজিক ভারসাম্যপূর্ণ সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ




ঝিনাইদহে ভিডিপি দিবস পালন

‘সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার ‘ এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলা আনসার ভিডিপি অফিস প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উব্দোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য রালী বের করা হয়।

র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জেলা কমান্ড্যান্ট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আমিন উদ্দিন, শৈলকুপা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, মহেশপুরের সহিদুল ইসলাম, হরিণাকুন্ডুর হাসিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নির্বাচন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ভিডিপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।




মহেশপুরে খাবার সংকটে কালোমুখো হনুমান

পশ্চিমা শীতল বাতাশ ধেয়ে আসছে শৈত্য প্রবাহ, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়া ছাড়া ইচ্ছে করে কেউ ঘুরতেও বের হয়না। এই শীতল আবহাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি খাবার সংকটে পড়েছে এই বিরল প্রজাতির হনুমান গুলো।

মুখে শুধু ‘আয়’ বলা মাত্রই ছুটে আসে শত শত কালোমুখো হনুমান। এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্য দেখা যায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামে। গ্রামজুড়ে চোখে পড়ে বিরল প্রজাতির এই কালোমূখো হনুমানের অবাধ বিচরণ—কেউ গাছে,কেউ বাড়ির ছাদে,কেউ আবার মানুষের পাশে বসে নির্ভারতার সাথে সময় কাটাচ্ছে।

একসময় এলাকায় প্রচুর ফলদ ও বনজ গাছ থাকায় খাবারের অভাব ছিল না এই বন্যপ্রাণীর। কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়া,বাগান উজাড় হওয়া ও মানব কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে এখন খাবার সংকটে পড়েছে তারা। ফলে কখনো ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে,আবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অনেক হনুমান।

স্থানীয় যুবক নাজমুল হোসেন নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন সরকারি বরাদ্দকৃত খাবার তাদের সামনে পৌঁছে দেন। তবে তিনি জানান,বরাদ্দকৃত খাবার অত্যন্ত অপ্রতুল-এতে একবেলাও ঠিকভাবে খাওয়ানো যায় না শতাধিক হনুমানকে।

নাজমুল হোসেন বলেন,‘আমি ডাক দিলেই এভাবে ছুটে আসে শত শত হুনমান। ওরা এখন আমাদের পরিবারের কাছের লোকের মতোই। কিন্তু খাবারের সংকটে ওরা কষ্ট পাচ্ছে-এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

গরমের মৌসুমে প্রতিদিনই নানা জেলা থেকে আসে দর্শনার্থীরা। শিশু থেকে বড়-সবাই মুগ্ধ হনুমানদের কাছাকাছি দেখতে পেয়ে। তারা নিজ হাতে খাবার তুলেদেন তাদের কাছে। তবে খাবারের অভাব আর অরক্ষিত পরিবেশের কারণে কখনো কখনো হনুমান আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

দর্শনার্থী বসির আহমেদ বলেন,‘এত কাছ থেকে এতগুলো হনুমান দেখা এক অন্যরকম অনুভূতি।’

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন,‘সরকারি উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার। তা না হলে একসময় হয়তো আর পাওয়া যাবে না এসব হনুমানদের।’

এবিষয়ে প্রাণ পরিবেশ প্রতিবেশ সংগঠক সুজন বিপ্লব বলেন,কালোমুখো হনুমান রক্ষায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ,পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ,শিকারি প্রাণীর হাত থেকে সুরক্ষা এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সরকার ও বন বিভাগকে তাদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং খাবারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে,যাতে তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে না আসে এবং মানুষের সাথে সংঘাত এড়ানো যায়। যেসব অঞ্চলে কালোমুখো হনুমানের বিচরণ বেশি, সেগুলোকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা। তাদের বিচরণক্ষেত্র বা বনভূমি ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকা।আইনগত সুরক্ষায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্থানীয় মানুষদের মধ্যে হনুমান সংরক্ষণ ও তাদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। পশু চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত দেখভালের ব্যবস্থা করতে হবে। ফসল বা অন্যান্য ক্ষতি হলে হনুমানকে মেরে ফেলা বা আঘাত করা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রচার চালানো। নিরাপদ আবাসস্থলে গড়ে তুলতে বনায়ন তৈরি করতে হবে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় হনুমান নিধন বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঝিনাইদহ জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন,‘নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাদাম,কলা ও সবজী খেতে দেওয়া হয়,তবে তা পর্যাপ্ত নয়। হনুমানগুলো শুধু মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামেই থাকে। জেলার অন্য কোন উপজেলায় তাদের অবস্থান নেই। মাঝে মধ্যে খাবারের অভাবে এদিক সেদিক ছুটে যায়। তবে এ জেলায় সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোন বন নেই। ১০ বছর আগে সামাজিক বনায়নের পরিমাণ ছিল শতকরা ১৪.২ একর। তবে বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। বনায়নের সঠিক কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ হনুমান শিকার করলে বা ক্ষতির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন,জেলায় বন না থাকায় হনুমানের অভয়ারণ্য ঘোষণা করার কোন সুযোগ নেই।’

তবে বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বন বিভাগের হিসাবে বর্তমানে ভবনগর গ্রামে রয়েছে দুই শতাধিক কালোমুখো হনুমান। অথচ একসময় ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। প্রাকৃতিক আবাস ধ্বংস,খাবার সংকট আর মানবসৃষ্ট বৈরী পরিবেশে প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত কমছে।

পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে এই বিরল প্রজাতির হনুমান,ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্রও। তাই সবার আগে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সংরক্ষণ উদ্যোগ,খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা।