মেহেরপুরে সিপিবির উদ্যোগে মহান মে দিবস পালন

মেহেরপুরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জেলা কমিটির উদ্যোগে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। 

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় সংগীত ও ইন্টারন্যাশনাল সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রমিক শ্রেণির অধিকার ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি মেহেরপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কানন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মকলেছুর রহমান, ঝন্টু, ঊষা, মাহফুজসহ অনেকে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের করা চুক্তি বাতিল না হলে শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে। তারা সাম্প্রতিক ৩৫ হাজার কোটি টাকার ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয় চুক্তি বাতিল করে সেই অর্থ দিয়ে ৩৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প-কারখানা স্থাপন ও এ খাতে বিনিয়োগের দাবি জানান।

এছাড়া কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণকে দেশবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান বক্তারা।




মেহেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত

মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

আজ শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সীরাজুম মূনীর, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি আল আমিন বকুল, মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, মেহেরপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হয়ে ভূমি অফিস পাড়া প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব সোনা। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, কার্যকরী সভাপতি খন্দকার সাজু, যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




দর্শনায় বন্য খরগোশ শিকার, ৪ জনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বন্য খরগোশ শিকার ও হত্যার দায়ে ৪ জনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলীর ছেলে সাদগার আলী, সাধুমণ্ডলের ছেলে শুকুমার মণ্ডল এবং মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।

অভিযানকালে ১১টি বন্য খরগোশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫টি জীবিত এবং ৬টি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুর কাছে খবর আসে যে, তিতুদহ ইউনিয়নের দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে ১৬ সদস্যের একটি শিকারি দল বন্য খরগোশ শিকার করছে।

খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা এলাহীকে অবহিত করেন। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ শিকারি পালিয়ে গেলেও ৪ জনকে আটক করা হয়।

পরে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৫টি খরগোশকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার বা আটক করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে বন্য খরগোশের উপস্থিতি এ এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সংগঠন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

এ সময় সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, বায়জিদ, রিয়াজ উদ্দীন, সাহাবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।




আলমডাঙ্গায় খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের যোগদান ঘিরে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা

আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দার লোটাসের যোগদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পূর্বে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দার লোটাস হাইকোর্টের আদেশ ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পরিষদে আসেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পুনঃযোগদানের বিরোধিতা করে পরিষদে প্রবেশে বাধা দেন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়, যা পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান লোটাসের সমর্থনে কয়েকশ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা আলমডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিকা ও নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




প্রকাশ পেল খালিদ মোশারফের বই   ‘শিক্ষক, শিক্ষা ও প্রজন্ম’ 

প্রকাশিত হল মেহেরপুরের তরুণ লেখক খালিদ মোশারফের রচিত বই- ‘শিক্ষক শিক্ষা ও প্রজন্ম’ । উল্লেখ্য খালিদ মোশারফ আইইআর , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী। ‘শিক্ষক শিক্ষা ও প্রজন্ম’ বইটি খালিদ মোশারফের প্রকাশিত চতুর্থ বই। ইতিপূর্বে খালিদ মোশারফের শিক্ষা নিয়ে ’শিক্ষা ও শিক্ষক’ আরেকটি প্রবন্ধ গন্থ  প্রকাশিত হয়েছে। দুইটি বই রকমারিসহ অন্যান্য অনলাইন দোকানে পাওয়া যাবে।

’শিক্ষক, শিক্ষা ও প্রজন্ম’ বইটি মূলত বিস্তৃত ক্যানভাসে শিক্ষা নিয়ে একটি গভীর অনুসন্ধানমূলক পদচারণা।’বইটিতে একদিকে যেমন বিদ্যালয় পরিচালনার আধুনিক রূপরেখা ও দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে তুলে ধরা হয়েছে আলোকিত মানুষ গড়ার নেপথ্যে থাকা শিক্ষকদের শিক্ষাকর্ম।।

বইটির অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণ হলো বাংলা সিনেমায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনা। আমাদের দেশীয় পরিচালকরা ক্যামেরার লেন্সের ভেতর দিয়ে কীভাবে শিক্ষাগুরু, শিষ্য এবং বিদ্যাপীঠের পরিবেশকে তুলে ধরেছেন, তা আমাদের সামাজিক বিবর্তনেরই এক প্রামাণ্য দলিল। এই দেশজ প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বইটিতে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত সিনেমাগুলোতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্লাসরুমের চিত্রায়ন নিয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়। এর ফলে পাঠক খুব সহজেই দেশীয় সীমানা পেরিয়ে বৈশ্বিক শিক্ষাদর্শন ও শ্রেণিকক্ষের এক তুলনামূলক চিত্র পেয়ে যাবেন।

সিনেমা যেমন দৃশ্যের ভাষায় কথা বলে, সাহিত্য তেমনি শব্দের মায়াজালে সমাজ বাস্তবতাকে তুলে ধরে। বাংলা গল্প ও উপন্যাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ক্লাসরুম কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা নিয়ে এই গ্রন্থে রয়েছে একটি গভীর অনুসন্ধানমূলক পাঠ। বাংলা সাহিত্যের পাতায় আধুনিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক এই রূপরেখা পাঠকের সামনে নতুন ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।

বাঙালি জীবনে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে, অথচ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ আসবে না, তা তো কল্পনাই করা যায় না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চার দেয়াল ভেঙে প্রকৃতির কোলে মুক্ত শিক্ষার যে স্বপ্ন রবীন্দ্রনাথ দেখেছিলেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বইটিতে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন এবং তাঁর গল্প-প্রবন্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর রূপায়ণ নিয়ে  পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এছাড়াও, আগ্রহী পাঠকদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে বইটিতে সংযোজন করা হয়েছে শিক্ষা বিষয়ক বিখ্যাত বেশ কিছু বইয়ের একটি সমৃদ্ধ তালিকা। সাথে রয়েছে সমকালীন ও চিরায়ত নানা প্রেক্ষিত নিয়ে শিক্ষা বিষয়ক আরও কিছু প্রবন্ধ, যা বইটির বিষয়বস্তুকে করেছে আরও পূর্ণাঙ্গ।

পরিশেষে বলা যায়, এই বইটি কেবল শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা গবেষকদের জন্য নয়; বরং সাহিত্যপ্রেমী, সিনেমাপ্রিয় এবং শিক্ষানুরাগী—সবার জন্যই এক অমূল্য সংগ্রহ। ক্লাসরুমের ভেতরের এবং বাইরের এই বিস্তীর্ণ জগতকে নিয়ে আমাদের এই বিশ্লেষণমূলক যাত্রা পাঠকের মনোজগতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষাকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করবে—এটাই একান্ত প্রত্যাশা।




শ্রমিকের প্রতি মালিকের করণীয়

মহান আল্লাহ তায়ালা এই মহাবিশ্বকে ˆবচিত্র্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানে তিনি যে ভিন্নতা রেখেছেন, তার মূল রহস্য হলো একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা|

সমাজে কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র; কেউ মালিক, আবার কেউ শ্রমিক| তবে এই পার্থক্য কোনো আভিজাত্যের লড়াই নয়, বরং সামাজিক শৃঙ্খলা ও কর্মবন্টনের এক বিশেষ ব্যবস্থা মাত্র| ইসলামি জীবনদর্শনে শ্রম কেবল জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত এবং নবীদের পবিত্র সুন্নত| আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে মেষ চরিয়েছেন, শ্রমসাধ্য ব্যবসা পরিচালনা করেছেন এবং খন্দকের যুদ্ধের বিভীষিকাময় মুহূর্তেও সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিখা খনন করেছেন| তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, নিজ হাতের শ্রমলব্ধ উপার্জনই হলো শ্রেষ্ঠতম উপার্জন| এই একটি বাণীতেই শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা আসমানে আসীন হয়েছে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক নিছক ‘প্রভু ও ভৃত্যের’ রুক্ষ কোনো সমীকরণ নয়, বরং এটি হলো হৃদয়ের মায়ায় জড়ানো এক সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন| একজন শ্রমিকের প্রথম এবং প্রধান অধিকার হলো তার হাড়ভাঙা খাটুনির ন্যায্য মূল্য পাওয়া| শ্রমিকের পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহানা করা বা কাজ শেষে পাওনা পরিশোধ না করাকে ইসলামে চরম ঘৃণ্য ও জঘন্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে| হাদীসে কুদসীতে ¯^য়ং মহান রব্বুল আলামিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কিয়ামতের কঠিন দিনে তিনি সেই মালিকের বিপক্ষে ¯^য়ং শত্রু হয়ে দাঁড়াবেন, যে ব্যক্তি কাজ আদায় করে নিয়েও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করেনি| শ্রমিকের হাহাকার আর চোখের জল আরশের মালিক সইতে পারেন না| তাই তো রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালজয়ী নির্দেশ দিয়েছেন— ‘শ্রমিকের পারিশ্রমিক তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই চুকিয়ে দাও|’ এই নির্দেশ কেবল একটি আইনি কাঠামো নয়, বরং শ্রমিকের প্রতি মালিকের সহমর্মিতা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের এক অনুপম স্মারক।

মালিকের ওপর অর্পিত অন্যতম বড় দায়িত্ব হলো শ্রমিকের সামর্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া| কোনো মানুষকে তার শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার বাইরে যন্ত্রের মতো ব্যবহার করা ইসলামের নীতি বিরুদ্ধ| মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মালিকপক্ষকে উদ্দেশ্য করে সতর্ক করেছেন যে, যাদের তোমরা নিয়োগ দিয়েছ তারা তোমাদের দাস নয়, বরং তোমাদেরই ভাই| আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনে রেখেছেন মানে এই নয় যে তোমরা তাদের ওপর জুলুম করবে| বরং যদি কোনো কাজ তাদের জন্য অধিক কষ্টকর হয়, তবে মালিকের উচিত নিজে সেই কাজে হাত লাগিয়ে তাদের সহযোগিতা করা| ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, হযরত সালমান ফারসী (রা.) যখন একটি প্রদেশের গভর্নর ছিলেন, তখনো তিনি নিজ হাতে আটা পিষতেন যেন তার খাদেমের ওপর কাজের অতিরিক্ত বোঝা না চাপে| এই যে সহমর্মিতা, এটিই হলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

একজন শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা মালিকের ˆনতিক ও ধর্মীয় আবশ্যকতা| মালিক যেন নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে অহংকারের সাগরে ভেসে না যায়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছে ইসলাম| একজন শ্রমিক যে খাবার ˆতরি করেন, আগুনের তাপ আর ধোঁয়ার কষ্ট সহ্য করে মালিকের মুখে অন্ন তুলে দেন, তাকে অবজ্ঞা করার কোনো অবকাশ নেই| রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, সম্ভব হলে শ্রমিককে নিজের সাথে একই দস্তরখানে বসিয়ে খাওয়াতে হবে| আর যদি খাবারের পরিমাণ কম হয়, তবে অন্তত এক-দুই লোকমা হলেও তাকে দিতে হবে| এতে প্রকাশ পায় যে, ইসলাম কেবল অর্থনৈতিক সমতা নয়, বরং আত্মিক ও মানসিক সমতায় বিশ্বাসী।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের আত্মিক উন্নতির পথ সুগম করাও মালিকের কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত| শ্রমিক আপনার অধীনস্থ হতে পারে, কিন্তু সে সবার আগে মহান আল্লাহর বান্দা| তাই তার ইবাদত-বন্দেগি, বিশেষ করে নামাজ ও রোজার মতো ফরজ ইবাদত পালনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া মালিকের জন্য আবশ্যক| কাজের দোহাই দিয়ে কাউকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়| একইসাথে, মানুষ হিসেবে শ্রমিকের ভুল হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক| তুচ্ছ কোনো ভুলের কারণে তাকে গালমন্দ করা, প্রহার করা বা চাকরিচ্যুত করা ইসলামের মহানুভবতার পরিপন্থী| যখন জনৈক সাহাবী জানতে চাইলেন তিনি তার খাদেমকে দিনে কতবার ক্ষমা করবেন, রহমতের নবী উত্তর দিলেন— দৈনিক সত্তর বার’| নিজের সন্তান ভুল করলে আমরা যেভাবে স্নেহের পরশ দিয়ে তা ঢেকে রাখি, শ্রমিকের ভুলকেও সেই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার শিক্ষা ইসলাম আমাদের দিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, শ্রমিকরা হলো সমাজের জীবনীশক্তি, যাদের ঘাম আর ত্যাগের বিনিময়েই গড়ে ওঠে সভ্যতার সুউচ্চ মিনার| আজকের মালিক হয়তো কাল ভাগ্যচক্রে শ্রমিকে পরিণত হতে পারেন, কারণ ভাগ্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ| তাই ক্ষমতার দাপট ভুলে শ্রমিকের মানবিক অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হওয়া প্রতিটি ঈমানদারের ঈমানি দায়িত্ব| যদি কর্মক্ষেত্রে মালিকগণ নবীজির শেখানো ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং ইনসাফের নীতি অনুসরণ করেন, তবে দুনিয়াতে যেমন শান্তি নেমে আসবে, তেমনি আখেরাতেও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হবে| আসুন, আমরা শ্রমিকের প্রতি দয়ালু হই, তাদের প্রাপ্য সম্মান দেই এবং ইসলামের সুমহান ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করি| মহান আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সংকলকঃ লেখক ও গবেষক




লাউ চাষে স্বচ্ছলতার ভরসা পাচ্ছেন চাষীরা

মেহেরপুরে মাচা পদ্ধতিতে দেশীয় জাতের লাউ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে তাপপ্রবাহের কারণে কিছুটা ফলন কম হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট তারা। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় তিনগুণ লাভের আশা করছেন চাষিরা।

জেলার বিভিন্ন মাঠে সবুজে ঘেরা মাচায় ঝুলছে শত শত লাউ। গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কৃষক বাবলু হোসেন প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি লাউ চাষ করেছেন। তিনি জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন। শুরু থেকেই সঠিক পরিচর্যা, উন্নত মাচা তৈরি, পরিমিত সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষেতে ভালো ফলন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই লাউ বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি লাউ পাইকারি বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে তিন দিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি লাউ উত্তোলন করা যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বাঁশের খুঁটি, তার, চারা ও জমি প্রস্তুতে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে এই অবকাঠামো ব্যবহার করে একাধিক মৌসুমে চাষ করা সম্ভব। প্রতি বছর এক বিঘা জমি থেকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করা যায় বলে জানান তিনি।

শুধু বাবলু হোসেন নন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক কৃষকই এখন মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বরবটি, ধনিয়া, ঢেঁড়স, লালশাকসহ অন্যান্য সবজি চাষ করছেন, যা থেকে অতিরিক্ত আয় করা যাচ্ছে।

জুগিন্দা গ্রামের কৃষক ফয়জা জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে লাউয়ের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বরবটি চাষ করেছেন। বরবটি একদিন পরপর তুলে বাজারে বিক্রি করা যায়, এতে নিয়মিত আয় হচ্ছে। বর্তমানে লাউ গাছেও ভালো ঝাঁলি ধরতে শুরু করেছে, এতে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। তার মতে, মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ লাভজনক, কারণ এতে রোগবালাই কম হয় এবং একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করা যায়।

বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের লাউচাষি ফকির মাহমুদ বলেন, লাউয়ের মাচা পদ্ধতি এখন আমাদের এলাকায় অনেকেই করছেন। এ পদ্ধতিতে লাউ চাষে খরচ একটু বেশি হলেও একবার মাচা তৈরি করলে কয়েকবার ব্যবহার করা যায়। লাউ চাষে শুরুতে একটু পরিশ্রম বেশি, কিন্তু গাছ বড় হলে পরিচর্যা সহজ হয়ে যায়। এবার গরমের কারণে কিছু ফুল ঝরে গেছে, তবুও যা লাউ হচ্ছে তাতে খারাপ না। বাজারে দাম ভালো থাকায় লাভের আশা করছি।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, মাচা পদ্ধতিতে চাষ করলে গাছ মাটির সংস্পর্শে কম থাকে, ফলে রোগবালাই ও সেচ খরচ কমে। পাশাপাশি লাউয়ের গুণগত মান ভালো হওয়ায় মেহেরপুরের উৎপাদিত লাউয়ের চাহিদা রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে পরিচিত মেহেরপুরে লাউ চাষ এখন অনেক কৃষকের আর্থিক স্বচ্ছলতার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৩১০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরে সেই আবাদ বেড়ে ৩০ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪০ হেক্টরে।

এ বছর লাউ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ২০০ টন। বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে শতকোটি টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা জানান, মাচা পদ্ধতির পাশাপাশি মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাউ চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে রাখা যায়, আগাছার পরিমাণ কমে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে উৎসাহিত করার ফলে জেলায় লাউয়ের আবাদ বাড়ছে এবং কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।




দর্শনা-গেদে চেকপোস্ট তিন দিন বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের কারণে দর্শনা আন্তর্জাতিক গেদে চেকপোস্ট তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় চালু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় জেলার দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল শুরু হয়।

গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ ছিল। তবে এই সময়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকরা স্বদেশে ফিরে যেতে পেরেছেন এবং অতি জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে পারবে বলেও নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ এসআই তুহিন বলেন, “ভারতের নদিয়া জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ড. শ্রীকান্ত পল্লীর প্রজ্ঞাপনের আদেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চেকপোস্টের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়েছে।”

তবে আগামী ৬ এপ্রিল বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালু হবে বলে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।




সাংবাদিক হামিদুল ইসলামের মায়ের দাফন সম্পন্ন

সাংবাদিক হামিদুল ইসলামের মা রিজিয়া বেগম (৬৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানা যায়, চার মাস আগে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তিনি ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনি সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।

অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় প্রায় এক মাস আগে তাকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ যোহর নামাজে জানাজা শেষে মোমিনপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মরহুমার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুন, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, গাংনী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।




কালীগঞ্জে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে যাত্রীবাহি বাস খাদে, আহত ৮

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বার বাজারে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে যাত্রীবাহি শাপলা পরিবহনের বাস খাদে পড়ে ৮ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে যাত্রীবাহি শাপলা বাস যশোর থেকে কালীগঞ্জ যাওয়ার পথে বার বাজার হাইওয়ে থানার সামনে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে ।

সে সময় ৮ যাত্রী আহত হয়। স্থানীয়রা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন । তবে এ দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার খবর মেলেনি ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বার বাজার হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ^াস জানান, বাস খাদে পড়লেও সম্পূর্ণ উল্টে যায়নি । যার কারনে বড় দূর্ঘটনা থেকে যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন। তবে আহত যাত্রীদের ব্যাপারে আমি খোজ নিচ্ছি ।