গাংনীতে নানা আয়োজনের পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলা প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এছাড়াও পান্তা-ইলিশ ও লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবসহ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।




নানা আয়োজনে মেহেরপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

মেহেরপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ। এবারের বৈশাখের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

এতে অংশ নেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নানা রঙে ও নানান সাজে সজ্জিত হয়ে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা উৎসবে অংশ নেয়।

পরে সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়।




মেহেরপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ, দিশেহারা ক্রেতারা

সপ্তাহের ব্যবধানে উৎপাদন এলাকায় সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করেই সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ হয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা কোনো অজুহাত পেলেই দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আর প্রশাসন শুধু নামেমাত্র বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও এর তেমন কোনো প্রভাব বাজারে পড়ছে না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি হাট ইজারা ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষকরা বলছেন, সার, বীজসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তেল সংকটের কারণে সেচ খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, তাই দাম বাড়াটা স্বাভাবিক।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, ৪০ টাকার বেগুন ১২০ টাকা, ৪০ টাকার শসা (খিরা) ৮০ টাকা, ৪৫ টাকার গাজর ৭০ টাকা, ৪৫ টাকার ঢেঁড়স ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ২৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, ৬৫ টাকার বরবটি ১০০ টাকা, ৫০ টাকার কচুর লতি ৮৫ টাকা, ৬০ টাকার উস্তি ৮০ টাকা, ৩০ টাকার পুঁইশাক ৬০ টাকা, ৩০ টাকার টমেটো ৭০ টাকা এবং ৪০ টাকার ঝিঙে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে, আলতাপাটি আলু ২৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।

সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, “বাজারে এখন কিছুই কেনার মতো অবস্থা নেই। যে বেগুন সপ্তাহখানেক আগে ৩০-৪০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১২০ টাকা। পটলও গত হাটে ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ ১০০ টাকা।”

আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, “পাম্পে তেল কম পাওয়া যাচ্ছে এই অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। পুঁইশাকও ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, খাবো কী?”

সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, “আমরা আড়তে গিয়ে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমরা যেমন দামে কিনি, তেমন দামে বিক্রি করি।”

আরেক বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, “গত হাটে যে পটল ৩৫ টাকায় কিনেছি, আজ পাইকারি কিনতে হচ্ছে ৮৫ টাকায়। বেগুনও আগের ৪০ টাকার জায়গায় এখন ৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গাংনীতে বিষ পান করে মাদ্রাসা শিক্ষকের আত্মহত্যা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাব্বির হোসেন (২৪) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক ঘাস পোড়ানোর বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত সাব্বির হোসেন গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর স্কুলপাড়ার কাফিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একই ইউনিয়নের তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে, নিহতের নানার বাড়িতে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির হোসেন নিজ বাড়ি দেবীপুর গ্রাম থেকে নানার বাড়ি নওদাপাড়ায় বেড়াতে গিয়ে সেখানে ঘাস পোড়ানোর বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মরদেহ রাতে নিজ বাড়িতে আনা হলে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি থানা হেফাজতে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, সাব্বির হোসেন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সময় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি সম্রাট বিশ্বাস বলেন, সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় মাদ্রাসা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে কিছুদিন আগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম বলেন, “কীটনাশক পান করে সাব্বির হোসেন নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা খবর পাই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”




মুজিবনগরে নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” এই স্লোগানে মুজিবনগরে বৈশাখী শোভাযাত্রা, পান্তা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে পান্তা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পান্তা উৎসবের মাঝে মাঝে সাংস্কৃতি মঞ্চে শুরু হয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী গান দেশাত্মবোধক গান, পালা গান, লালন গীতি সহ নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদার নেতৃত্বে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ তদন্ত গৌতম কুমার, মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমিন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহমুদুল হাসান,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমির খানজাহান আলী,এনসিপির মেহেরপুর জেলা যুগ্ন সমন্ময়ক আরিফ খান, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, মুজিবনগর উপজেলা জাসাস এর সভাপতি জুলফিকার আলী হেলাল, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুক প্রিন্স।”

এদিকে বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য তুলে ধরতে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।




গাংনীর গাড়াবাড়ীয়ায় আয়েশা এন্টারপ্রাইজের ৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া হাটপাড়া এলাকায় আয়েশা এন্টার প্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার।

গতকাল সোমবার সকাল ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান।

এসময় আয়েশা এন্টার প্রাইজের লাইসেন্স ছাড়াই টাইলসের পুটিং, ভিক্সল জাতীয় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৪৩ ধারা অনুসারে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এবং দ্রুত সময়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কারখানার উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: তারিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি টিম।




আলমডাঙ্গার শালিকায় অবৈধ জ্বালানি তেল মজুতের অপরাধে জরিমানা

আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২১৫ লিটার ডিজেল জব্দ এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয় এবং নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সোমবার বিকেলে এ অভিযানে বগাদি গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলামকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার শালিকা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নজরুল ইসলামের কাছে অবৈধভাবে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাওয়া যায়, যা আইনবিরোধীভাবে মজুদ করা হয়েছিল।

পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত ২১৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাকিল মোঃ শফিউল্লাহ।

অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




আলমডাঙ্গায় নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা

আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ পান্না আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ লুৎফুন নাহার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কাজের নানাবিধ ক্ষেত্র রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমসমূহ সমন্বয় করা এবং সেগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া রাজস্ব আদায়েও প্রশাসন কাজ করে থাকে। রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানের ব্যয় নির্বাহ করে। তাই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থা সুসংহত করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে কাজ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও মাদকের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। মাদক আমাদের দেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্তানদের প্রতি নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে সাংবাদিকরা কাজ করেন। সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে আপনাদের সমর্থন ও পরামর্শ চুয়াডাঙ্গাকে এগিয়ে নিতে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মোঃ শফিউল্লাহ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, থানা অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাইল, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

এছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, তথ্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের আইন-আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, সেক্রেটারি মামুন রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, ব্যায়ামাগারের সভাপতি ইকবাল হোসেন, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সমাজকর্মী মুসাফ ইবনে সাফায়েতসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।




আজ পহেলা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব

আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছে জীবন। এর মধ্যেই তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে উড়ায়ে দিতে, পুরনো বছরের আবর্জনা দূর করতে আজ এসেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব—পহেলা বৈশাখ।

দিনটি প্রতিবছর নবশক্তি, নবোদ্যম এবং গভীরতর সাংস্কৃতিক চেতনা নিয়ে ফিরে এসে আরো উজ্জ্বল করে তোলে বাঙালির আত্মপরিচয়।

দুঃখ-কষ্ট ভুলে, হতাশা-গ্লানি মুছে আজ নবরূপে আত্মশক্তিতে উজ্জীবিত হবে সবাই। অপরিমেয় শুভ্র সাংস্কৃতিক শক্তিতে ঐতিহ্যের নবরূপায়ণ হবে।

আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের যাত্রা। বাংলা নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের দিন নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণের দিন।

হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির বহমান ধারাকে ধারণ করে নববর্ষ আজ এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তাই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। উত্সবের আমেজ, রঙিন পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনভর মুখর হয়ে থাকবে জনপদ।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অতীতে পহেলা বৈশাখে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেত হালখাতার উত্সব, যেখানে ব্যাবসায়িক হিসাব-নিকাশের নতুন সূচনা হতো। গ্রামবাংলায় মিষ্টিমুখ, নিমন্ত্রণ ও নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে সম্পর্ক নবায়নের এক সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠত। যদিও সময়ের সঙ্গে এই প্রথা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। তবু দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখনো হালখাতার আয়োজন চোখে পড়ে।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাস দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ‘ফসলি সন’ থেকে ‘বঙ্গাব্দে’ রূপান্তরিত হয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।

কালের পরিক্রমায় পহেলা বৈশাখ শুধু অর্থনৈতিক বা কৃষিভিত্তিক উত্সব হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাকিস্তান আমলে এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে প্রভাতী অনুষ্ঠান ছিল তৎকালীন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বাঙালির জাতিসত্তা পুনর্জাগরণের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

২০১৬ সালে ইউনেসকো এই শোভাযাত্রাকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই স্বীকৃতি শুধু একটি উত্সবকে নয়; বরং বাঙালির সংগ্রাম, চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।




মেহেরপুরের গড়পুকুর ফুটকাট মালিকদের প্রেস ব্রিফিং

মেহেরপুরের গড়পুকুরের ফুটকাট মালিকগণ এক প্রেস ব্রিফিং করেন।

আজ সোমবার রাত ৯টায় গড়পুকুরে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেস ব্রিফিংয়ে ফুটকাট মালিকগণের পক্ষ থেকে ফ্রুডি ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রিমেল একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তির পরিসমাপ্তি ঘটান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মোঃ রাশেদুল ইসলাম রিমেল বলেন, ‘‘ফেসবুক পোস্টটি ছিল গড়পুকুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা বন্ধ। ১৮ লাখ টাকায় গড়পুকুর ইজারা নিয়ে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। যারা ইজারা নিয়েছে তারা প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা এবং এককালীন ১০ হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) দাবি করেছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অবশেষে সকল ব্যবসায়ী ও মালিকগণের মধ্যে আলোচনা শেষে একটি বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে গড়পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাস্তবায়ন করা যাবে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এককালীন ৩,০০০ টাকা এবং নাইটগার্ড ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ৭০ টাকা করে উত্তোলন করা হবে। এই উদ্যোগে সকল ব্যবসায়ী একমত হয়েছেন এবং তারা সবার সম্মতিতে কাজ শুরু করবেন।’’

গড়পুকুর ফুটকাট মালিকগণের পক্ষ থেকে রাশেদুল ইসলাম রিমেল উপস্থিত সকলের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে সৃষ্ট বিভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন আবার খাবো-৩ এর স্বত্বাধিকারী মোঃ সজিব, মামা ফুচকার স্বত্বাধিকারী মোঃ জিয়া এবং বার্গার বাইটসের স্বত্বাধিকারী রাকিবুল হাসান।