শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে

দর্শনা কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে এ অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাব্বিক হাসান।

এ সময় তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মা যদি তাদের সন্তানের প্রতি সচেতন হন, তবে ওই সন্তানের অবশ্যই ভালো রেজাল্ট হবে। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এসে সন্তানের খোঁজ-খবর নিলে তারা লেখাপড়ায় ফাঁকি দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দুর্বল, তাকে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে অনুশীলন করাতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও মান বৃদ্ধি পাবে। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বয়ে ৩ মাস অন্তর অন্তর এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ করা প্রয়োজন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এডিএম মির্জা গালিব।

অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মমিনুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার তুহিন নাইম ইসলামসহ প্রায় ৪ শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবক সমাবেশের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রাসেল আহম্মেদ ও ফারহা জেসমিন আফরোজ।




দামুড়হুদায় মাথাভাঙ্গা নদীতে মোবাইল কোর্ট: অবৈধ জাল ও কোমড় অপসারণ

মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা নদীর সুবলপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে নদীতে স্থাপিত ৫টি অবৈধ কোমড় অপসারণ করা হয় এবং প্রায় ২০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে কোমড় স্থাপন এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব অবৈধ পদ্ধতির কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অবৈধ কোমড় চিহ্নিত করে অপসারণ করা হয়। একইসঙ্গে নদীতে বিছানো বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় স্থানীয় জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম। অভিযানে উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ জাল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের এ উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নদী রক্ষায় নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সম্মাননা পেলেন রফিকুল আলম বকুল

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে মেহেরপুর সদর উপজেলায় কলেজ পর্যায়ে (কারিগরি) শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এপেক্সিয়ান রফিকুল আলম বকুল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শিক্ষা সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতীম শীল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের হাত থেকে তিনি সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন। এ সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রফিকুল আলম বকুল একজন দক্ষ স্কাউটার। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার শাখার একজন উডব্যাজার। এছাড়া তিনি মেহেরপুর জেলা রোভার স্কাউটসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপের ইউনিট লিডার।

তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এই শিক্ষক ২০১৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে, ২০২২ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এবং ২০২৪ সালেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি কলেজের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও সঞ্চালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক ও নিরীক্ষক।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ও রোভারিং বিষয়ক লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। তিনি যৌথভাবে এইচএসসি (বিএম) হিসাববিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২ (দ্বিতীয় পত্র) বই রচনা ও সম্পাদনা করেছেন।

আইসিটি ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত দক্ষ। জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (বগুড়া) থেকে আইসিটিতে একাধিক কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া ব্যানবেইসের অধীনে আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং এটুআই আইসিটি ডিভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন। তিনি জাতীয় শিক্ষক বাতায়নের একজন সক্রিয় সদস্য।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ‘কিশোরের ডাক’, কসবা ব্লাড ব্যাংক সোসাইটি ও গাংনী পাবলিক লাইব্রেরির উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স ক্লাব জেলা-০৬-এর গভর্নর ও ন্যাশনাল বোর্ড মেম্বার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বসুন্ধরা শুভ সংঘের মেহেরপুর জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

এদিকে একই প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ শাহী উদ্দীন এবং কলেজ পর্যায়ে (কারিগরি) শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার স্নিগ্ধা।




লিটন মাহমুদ গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক

‎গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে লিটন মাহমুদকে। ‎গত বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাবের জরুরি সভায় ক্লাবের সকল সদস্যদের সম্মতিতে তাকে এই পদে মনোনীত করা হয়।

‎জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন

‎এসময় বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি সাহাজুল ইসলাম সাজু, সাবেক সভাপতি এম এ লিংকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাভেল, প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কবি, অর্থ সম্পাদক ইজাজ হোসেন ছোটন, ক্লাবের সদস্য আখতারুজ্জামান আক্তার, মাহাবুল ইসলাম, সাঈদ হাসান, ফিরোজ হোসেন পলাশ, হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

এর আগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিয়াদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের শৃঙ্খলা ভংঙ্গের অভিযোগ ওঠায় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যহতি দেয়া হয়।

‎সাধারণ সম্পাদক মিয়াদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে।

এঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। মিয়াদুল ইসলাম নিজেকে ভূঁয়া সাংবাদিক ও চাঁদাবাজ মুচলেকা দেন।

এসব বিষয় অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি সত্য মিথ্যা তদন্তের জন্য গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।




গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল হোসেন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী সাজিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বেলাল হোসেন ওই গ্রামের প্রবাসী মো. রকিবুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বেলাল নিজ বাড়িতে একটি লোহার পেরেক নিয়ে টেবিলের ওপর খেলছিল। এ সময় তার মা মোবাইল ফোনে তার বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন। অসাবধানতাবশত শিশুটি হাতে থাকা পেরেকটি টেবিলের ওপর থাকা বৈদ্যুতিক সকেটে প্রবেশ করালে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সন্ধানী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, বেলাল টেবিলের ওপর বসে খেলছিল। এ সময় হাতে থাকা পেরেক সকেটে লাগলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং বিপজ্জনক বস্তু শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, পেরেক সকেটে ঢোকানোর ফলে শিশুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) উত্তম কুমার দাস জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।




আলমডাঙ্গায় বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গায় বোতলজাত ভোজ্যতেল (সয়াবিন) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও বাজারজাত করার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও বাজারজাত করার অপরাধে মুক্তার হোসেন খানের প্রতিষ্ঠান ‘খান স্টোর’-কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের আইন মেনে মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, ভাউচার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য সচেতন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ক্যাব প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।

অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দর্শনায় ১৬ বছরের হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

দর্শনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আনিছুর রহমান দর্শনা থানাধীন রাঙ্গিয়ারপোতা মাঝপাড়ার মৃত বাবলু আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় জি আর মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আনিছুর রহমানকে আটক করা হয়।

দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জি আর মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বুধবার চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”




আলমডাঙ্গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আলমডাঙ্গা উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, বসতবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক স্থানে বড় গাছ উপড়ে সড়ক ও বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে থাকায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রবল বেগে ঝড় বয়ে যায়। এ সময় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।

ঝড়ের সময় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের পুরোনো ও বড় গাছ ভেঙে পড়ে। কোথাও কোথাও এসব গাছ বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর পড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে রাতভর অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে অনেক এলাকাবাসীকে।

এ ছাড়া ঝড়ে বেশ কিছু কাঁচা ও টিনশেড ঘরের চালা উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকেরা জানান, মাঠের বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে সবজি ও মৌসুমি চাষের গাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা।

ঝড়ের পরপরই অনেক এলাকায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরাতে স্থানীয় লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ শুরু করেন। তবে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় কিছু এলাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রণয়ন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিষ্কার, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




দামুড়হুদায় ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, আট মাসেই রানার সাফল্য

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুমারীদহ মাঠে কৃষক রানা আলীর আঙুর বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর।

বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে যেমন তিনি আশাবাদী, তেমনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের কৃষকরাও।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউটিউব দেখে প্রথমে আঙুর চাষে আগ্রহী হন রানা আলী। পরে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন।

আট মাস আগে জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদহ মাঠে নিজের হলুদ গোলাপ ফুলের বাগানের মধ্যেই আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। দেশীয় চারা ছাড়াও ভারত থেকে বাইকুনুর, গ্রিনলং, অ্যাকোলোর, জয়সিডলেস ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন রানা।

চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে আট মাসের মাথায় গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ফল বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

রানা আলি জানান, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, চারা, সার, সেচ, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাগানের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ টাকা হলেও তিনি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছেন।

সে হিসেবে প্রায় সাত লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় কৃষকদের ভিড় জমছে।

এছাড়া তিনি ১২ হাজার কলমের চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে ১,২০০টি চারা উৎপাদন করেছেন, যার মধ্যে বিক্রি করেছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার চারা।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নতুন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী।

সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, রানা আলীর এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।




জ্বালানি সংকটে মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ভাটা

ঈদু মৌসুমে প্রতি বছর মোটরসাইকেল বিক্রির সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন বিক্রেতারা। তবে এবার জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদের পর মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে অস্বাভাবিক মন্দা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো ঈদের আগে বিশেষ ছাড় ও অফার থাকলেও এবার তেল সংকটের কারণে অনেক ক্রেতাই মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

তবে মেহেরপুরে ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি বেড়েছে। আগে যেখানে একটি শোরুমে মাসে তিন থেকে চারটি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি হতো, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫টি।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে। অনেক ক্রেতাই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া বাইক সার্ভিসিং এর সংখ্যাও কমে গেছে।

মেহেরপুর শহরের মেসার্স হোসেন মোটরসাইকেল গ্যালারির ম্যানেজার নাইহান নাহিদ বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি ভালই ছিল, কিন্তু এই মাসে তেল সংকটের কারণে বেচাকেনা প্রায় শূন্য। আমাদের বিক্রি ৯০% কমেছে।

বাজাজ শোরুমের মোঃ হাসিদুর রহমান বিপ্লব জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই মাসে বিক্রি অনেক কম। তেল সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল চালাচ্ছে না, কিনছে ও না।

হিরো শোরুমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কবিরুজ্জামান সেন্টু বলেন, তেলের সংকটের পর বিক্রি আগের তুলনায় প্রায় ৯০% কমে গেছে।

ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল শোরুমের মোঃ রোহিত ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আগের তুলনায় আমাদের ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি দ্বিগুণ। যেখানে মাসে পাঁচ থেকে ছয়টি বিক্রি হতো, এখন আমরা মাসে ১৫ থেকে ২০টি বিক্রি করতে পারছি।

জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

রাইডার ও সাধারণ চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তারা আগের মতো গাড়ি চালাতে পারছেন না।

গাংনী থেকে এক রাইডার বলেন, তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এজন্য এখন ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছি।
বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে বিক্রি আরও কমে যাবে।