কালীগঞ্জে আলমসাধু’র ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাটাডাঙা গ্রামে সড়ক পার হতে গিয়ে বেপরোয়া গতির স্যালোইঞ্জিন চালিত আলমসাধু গাড়ির ধাক্কায় মরিয়ম খাতুন মারিয়া (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার(২৯ মার্চ) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ভাটাডাঙা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু মরিয়ম ভাটাডাঙা গ্রামের মান্না শেখের একমাত্র কণ্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ দ্রুতগতিতে আসা একটি অবৈধ ইঞ্জিন চালিত আলমসাধু তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয়। পরে তার স্বজনেরা তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এসময় জররী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে পরিক্ষা নিরিক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, সড়কে অবৈধ ও বেপরোয়া যান চলাচল রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অভিভাবকরা সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন থাকার পাশাপাশি চালকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।




ঝিনাইদাহে ‘সংযোগ ফাউন্ডেশনে’র ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

‘সংযোগ ফাউন্ডেশনে’র ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝিনাইদাহে ‘স্কুল অফ লাইফ’ এর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে কেক কেটে এবং তা ভাগাভাগি করে খাওয়ার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।

রবিবার (২৯ মার্চ ) বিকালে শহরের ব্যাপারি পাড়ায় আইডিয়াল স্কুল এন্ড স্কুল অফ লাইফের একাডেমিক ভবনের অফিস কক্ষে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংযোগ ফাউন্ডেশন ঝিনাইদাহ জেলার উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক শাহানুর আলম, জেলা সমন্বয়ক মুন্সি মোঃ আবু হাসান এবং ঝপযড়ড়ষ ড়ভ ষরভব এর শিক্ষিকা শাম্মী আক্তার প্রমূখ।

উল্লেখ্য, সংযোগ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষ করে করোনাকালীন সময় অক্সিজেন সরোবরাহ, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, মেধা বৃত্তি, সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষা, অসহায় মানুষের খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা সহযোগিতা, সাবলম্বী হিসাবে গড়ে উঠতে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা, বৃক্ষ রোপন সহ বিভিন্ন সেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উপস্থিত সকলেই সংযোগ ফাউন্ডেশন এর উত্তর উত্তর সফলতা কামনা করেন।




মেহেরপুরে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ১

মেহেরপুর শহরের কোর্ট এলাকায় ইটবোঝাই ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন (২৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় মোটরসাইকেল চালক, ইমনের মামাতো ভাই হুমায়ুন কবির (৪০) আহত হয়েছেন।

রোববার দুপুর ১টার দিকে শহরের পন্ডেরঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমন শহরের বোসপাড়া এলাকার বাবুল হোসেনের ছেলে। আহত হুমায়ুন কবির কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইমন ও হুমায়ুন কবির মোটরসাইকেলযোগে মুজিবনগরের দিক থেকে মেহেরপুর শহরের দিকে আসছিলেন। একই সময় একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরও একই দিক থেকে আসছিল। পথে শহরের পন্ডেরঘাট এলাকায় সোডাপের সামনে পৌঁছালে একটি গমবোঝাই ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকে থাকা গম সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে চালক হুমায়ুন কবির ও পিছনে থাকা ইমন ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় পিছন থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাক্টরের চাকা ইমনের শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমন ও হুমায়ুনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। হুমায়ুন কবির বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চালককে আটক করা সম্ভব না হলেও ট্রাক্টরটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক বদলি, নতুন পদায়ন

মেহেরপুরে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে শিল্পী রানী রায়কে পদায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার এক আদেশে তাকে পদায়ন করা হয়।

শিল্পী রানী রায় সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সাংস্কৃতিক চুক্তি শাখা) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এদিকে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবিরকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।




প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল করল সরকার

প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রিপেইড মিটারে বাড়তি চার্জ আদায় নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ অনুকূলে এবং একটি জনবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুতই এই মিটার চার্জ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দিচ্ছি।’

বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে রিচার্জের সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটার ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। বহু গ্রাহক বছরের পর বছর এই চার্জ দিয়ে আসছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন, মিটারের প্রকৃত দাম বহু আগেই উসুল হয়ে যাওয়ার পরও কেন বাড়তি টাকা কাটা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের সময়ে মিটার কেনায় অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার গ্রাহকের অর্থ সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

 

সূত্র: যুগান্তর




দামুড়হুদায় বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, জরিমানা ও জ্বালানি জব্দ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানে ‘আবু হাসান অটোমোবাইল’-এর মালিক আবু জারকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ লিটার অকটেন ও পেট্রোল জব্দ করা হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা চত্বরে জব্দকৃত জ্বালানি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হয়।

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কার্পাসডাঙ্গা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল এবং জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী।

সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত অকটেন ও পেট্রোল খুলনার একটি ডিলার পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।

পরে শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




চুয়াডাঙ্গায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মূল পরিকল্পনাকারী নারীসহ গ্রেপ্তার ৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠে সেচপাম্পের পশ্চিম পাশে জনৈক খসরুর আমবাগানে নিয়ে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০), আলমডাঙ্গা উপজেলার মিজান (৩৪), পিতা নজরুল (খাদিমপুর), সামাদ আলী (২৫), পিতা আছির উদ্দিন (খাদিমপুর), আদম আলী (৩৪), পিতা এনামুল হক (খাদিমপুর), শাহজাহান (৪৫), পিতা মৃত তাহাজ্জেল বিশ্বাস (খাদিমপুর) এবং আব্দুস সালাম (২৬), পিতা দুলাল (শিয়ালমারি)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর থানার সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর সঙ্গে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ কবিতাই ভিকটিমকে ফুঁসলিয়ে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম। সালাম আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে এলে কবিতা ভিকটিমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন।

পরে তারা আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর গ্রামের বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভিকটিমকে পাশের খসরুর আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ওই রাতেই কবিতা ও ভিকটিমকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দেয় আসামিরা। বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি নিজেই বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষণিকভাবে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে ২৮ মার্চ ভোর ৪টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভিকটিম অভিযোগ দায়ের করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেই। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ছয় আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”




দর্শনায় পুলিশের এসআই পরিচয়ে প্রতারণা, অটোচালকের গাড়ি উধাও

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় দিনের বেলায় পুলিশের এসআই পরিচয়ে প্রতারণা করে একটি অটোগাড়ি নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তি জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আব্বাস উদ্দিন (৩৮)। খবর পেয়ে ঘটনার পর দর্শনা থানার এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অটোচালক আব্বাস উদ্দিন জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তিনি জীবননগর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেকে জীবননগর থানা পুলিশের এসআই পরিচয় দেন। তিনি জানান, তার পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে দর্শনায় নিতে হবে এবং ৪০০ টাকায় অটোটি রিজার্ভ ভাড়া করেন।

দুপুর ১২টার দিকে তারা দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই আরেকজন ব্যক্তি পুলিশের ড্রাইভার পরিচয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি এসে বলেন, “স্যার, আপনার গাড়ির এক্সিডেন্ট হয়েছে, একজন গুরুতর আহত।”

এ কথা শুনে কথিত এসআই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে শ্যামপুর বিজিবি মোড় পার হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে জোরে কথা বলেন এবং জানান, আহত ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপর তিনি আব্বাস উদ্দিনকে বলেন, “আপনি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার ড্রাইভারকে নিয়ে আসেন।”

আব্বাস উদ্দিন অটো নিয়ে যেতে চাইলে তাকে বলা হয়, “গাড়ি এখানে থাক, আপনি ড্রাইভারকে ডেকে নিয়ে আসেন।” পরে তিনি নুর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে এসে দেখেন, তার অটোগাড়িটি নেই।

ঘটনার পর তিনি দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “শ্যামপুর এলাকা থেকে প্রতারণার মাধ্যমে একটি অটো নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতারকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”




আলমডাঙ্গায় আগাছানাশক প্রয়োগে ধান পুড়ে নষ্ট, বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে আগাছা দমনের জন্য প্রয়োগ করা বিষে ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা ভেজাল আগাছানাশক বিক্রির অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আসাননগর গ্রামের মৃত আসমান মণ্ডলের ছেলে মস্তক আলী জানান, প্রায় এক মাস আগে ধানের জমির আগাছা পরিষ্কারের জন্য আলমডাঙ্গার হাফিজ মোড় রোডের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে আগাছানাশক ক্রয় করেন। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তিনি পুনরায় ওই বিক্রেতার কাছে গেলে তাকে অন্য একটি বিষ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয়বার প্রাপ্ত বিষ জমিতে স্প্রে করার তিন দিনের মধ্যে ধানের গাছ গোড়া থেকে পুড়ে যায়। এতে পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিক্রেতাকে জানালে তিনি ঈদের ছুটির কথা উল্লেখ করে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি অন্য স্থান থেকে বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। কৃষি অফিসারের পরামর্শ ছাড়া বিষ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ধান উৎপাদন সম্ভব নয়।” এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে একমাত্র আয়ের উৎস ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক মস্তক আলী। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নকল দস্তা সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।




দর্শনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের সংবাদ সম্মেলন

দর্শনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও দোকানের মালামাল লুটের অভিযোগে দুই বোন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দর্শনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দর্শনা কলেজপাড়ার মৃত দীন মোহাম্মদের মেয়ে মমতাজ বেগম বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমার ওপর সংঘটিত অন্যায়, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। আমি ও আমার ভাইয়েরা দক্ষিণচাদপুর মৌজার ৩৯৭ নম্বর খতিয়ানের ৫৫৮০ নম্বর দাগে অবস্থিত পৈত্রিক জমির বৈধ ওয়ারিশ। প্রায় এক বছর আগে ওয়ারিশদের সম্মতিতে সেনাক্যাম্পে একটি বৈঠকের মাধ্যমে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে জমির অবস্থান ও হিস্যা নির্ধারণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ও আমার ভাই মিজানুর রহমান আমাদের প্রাপ্য অংশে একটি পাকা দোকান নির্মাণ করি। নির্মাণকালে কোনো পক্ষ থেকেই আপত্তি তোলা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “দোকান নির্মাণ শেষ হওয়ার পর আমার আপন দুই ভাই মোঃ সাজেদুর রহমান বাবু ও মোঃ সাইফুর রহমান রোকন জোরপূর্বক দোকানের দখল নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার লক্ষ্যে দর্শনা থানায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমাকে অশালীন আচরণের শিকার হতে হয় এবং একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা উপস্থিত লোকজন প্রতিহত করে।”

মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমি নতুন ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে আমার দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য মজুদ করি। কিন্তু গত ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোরে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কু-পরামর্শ ও প্ররোচনা রয়েছে।”