স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে দর্শনায় পৌর বিএনপির প্রস্তুতি সভা

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে দর্শনা পৌর বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দামুড়হুদা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক হাফিজুল আলম মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক ও ঐতিহ্যবাহী মেমনগর বিডি হাইস্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ মোঃ মশিউর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম খোকন, মহিদুল ইসলাম, দর্শনা থানা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেন, দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুর রহমান লিংকন, দর্শনা পৌর ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম মুন্না, আঃ রাজ্জাক শাহীন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, হাজী মোখলেছুর রহমান, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক রেজাউল ইসলাম, নাসির উদ্দিন খেদু, বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, তোফাজ্জল ইসলাম তুফান, আজিজুল হক প্রমুখ।

সভায় আগামী ২৬ মার্চ সকাল ৯টার সময় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় র‍্যালি ও আলোচনা সভা, এবং সকাল সাড়ে ১০টার সময় কেরু চিনিকলের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।




সাংস্কৃতিক মন্দাভাব কাটিয়ে ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’র বসন্ত মেলা

দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেল কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’র উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আঙিনায় শুরু হয়েছে সংগঠনের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮ দিনের বসন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

বর্ণিল আয়োজনে সেজে ওঠা এই উৎসব যেন হয়ে উঠেছে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের এক প্রাণের মিলনমেলা।

কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ‘হিন্দোল’-এর বর্তমান ও প্রাক্তন শিল্পীরা এক মঞ্চে মিলিত হয়ে তৈরি করেছেন আবেগঘন এক পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইমা ইসলাম, রোকসানা পারভীন, প্রমীত হাসান, সৃষ্টি, সুজন রহমান, হাসান হুসাইন, নন্দিতা, রূপন্তী, তিশা, সৃজন, এসএম টিপু সুলতান ও শুভায়ন বিশ্বাস। তাঁদের সুরে সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন প্রথিতযশা কিবোর্ডিস্ট প্রতীক হাসান, যার সুরেলা পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আয়োজকরা জানান, ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’ সবসময়ই সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় বিশ্বাসী। নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ সংস্কৃতির পথে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্থানীয় শিল্পীদের জন্য একটি শক্ত মঞ্চ তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন থাকছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিদিনই জমে উঠছে আয়োজন।

এই বসন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এনআই এ্যাক্টের ১৮ ধারায় মেহেরপুরের যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের বিরুদ্ধে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন তার ব্যবসায়ী অংশিদার দেবাশীষ কুমার বাগচি। যার মামলা নম্বর- এস.সি-১৫৬/২০২৪।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সরফরাজ হোসেনের মৃদুলকে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুন জরিমানা ও এক বছরের সাজা প্রদান করে রায় দেন। রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট সময় পার হলেও আসামি সরফরাজ হোসেন মৃদুল কোন আপিল করেননি।

পরবর্তিতে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বাদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৬ ধারা মতে জরিমানা টাকা আদায়ের জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আবেদনটি আমলে নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোক করার জন্য মেহেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন । একই আদেশের কপি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকেও পাঠানো হয়।

আসামী শহীদ সরফরাজ মৃদুলের মালিকানাধীন ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকায় আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৩টি সিলিং ফ্যান, ১টি ফ্রিজ, ২টি খাট, এক সেট সোফা, ২টি আলমিরা, ১টি ড্রেসিং টেবিল, ১টি এসি। যেগুলোর মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজায় ৬৬৯২ নম্বর খতিয়ানে ২.৮২৯২ একর জমি, মেহেরপুর মৌজার ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০.০০৩২ একর জমি, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানে ০.০২৭৫ একর জমি, একই খতিয়ানের ভিন্ন দাগে ০.০০২৫ একর জমি, ১১৭১৮ নম্বর খতিয়ানের ০.০৪২১ একর জমি, হরিরামপুর মৌজায় ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০.৪৬ একর জমি। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩.৩৬৪৫ একর জমি যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, “ ক্রোক আদেশের নথি ঈদের আগ পযর্যন্ত পাইনি। ছুটি শেষ করে রবিবার অফিস করবো। আদেশ কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মেহেরপুরের হাসপাতাল রোডে সিঙ্গাপুর ক্লিনিকের উদ্বোধন

মেহেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে “সিঙ্গাপুর ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” ও “জীম ফার্মেসি-২”।

মঙ্গলবার সকালে শহরের হাসপাতাল রোডের সিঙ্গাপুর টাওয়ারে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উদ্বোধন করেন লেঃ কর্ণেল (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ মোঃ আব্দুল ওয়াহাব। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর শেখ মোঃ শরিফ রেজা (পান্না)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নব প্রতিষ্ঠিত এই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাশাপাশি জীম ফার্মেসি-২ এর মাধ্যমে এলাকাবাসী সহজে ও দ্রুত ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন বলেও জানান তারা।




সড়ক নির্মাণে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গর্ত কেটে সড়কের মাটি ভরাট, ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক নির্মাণ কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেটে সেই মাটি সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের দু’ধারে বসবাসরত শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে শৈলকুপা শহর পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। কিন্তু প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে নিয়ম না মেনে পাশের জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও এই গর্ত এতটাই গভীর যে, তা এখন স্থানীয়দের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,তাদের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। বাধা দিলে উল্টো প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতভিটা, নষ্ট হয়েছে চলাচলের পথ, তৈরি হয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকি। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়েছে।

উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন,’আমার একমাত্র জমিটাই শেষ করে দিয়েছে। বাড়িতে ঢোকা-বের হওয়া দায় হয়ে গেছে। স্বামীর ভ্যান বাড়িতে তুলতে এখন দুই-তিনজন লাগে। এমন কষ্টে কখনো পড়িনি।’

একই গ্রামের আকলিমা খাতুন বলেন,‘ঘরের সাথেই বড় গর্ত করা হয়েছে। বৃষ্টিতে ঘর ভেঙে গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আছি। ঠিকাদারকে একাধিকবার বারণ করলেও শোনেনি।’

মাজেদা খাতুন নামে এক নারী বলেন,‘ঘরের সাথেই বড় গর্ত করা হয়েছে। বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমবে। তখন বাচ্চারা গর্তে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার ভয়ে আছি।’

একই অভিযোগ করেন সড়কের ধারে বসবাসরত আরও অনেকে। তাদের দাবি,কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি; বরং প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে,সড়কটির মূল ঠিকাদার ঝিনাইদহের মিজানুর রহমান মাসুম। তার কাছ থেকে সাব-ঠিকাদারি নিয়ে কাজ করছেন শৈলকুপার বাইরপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখ। ৬ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সড়কের দু’ধারে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ২৫ লাখ টাকা।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদার চুন্নু শেখ বলেন,’সমস্যার কথা কেউ আমাকে বলেনি। যেখানে সমস্যা হয়েছে,অভিযোগ পেলে গর্ত ভরাট করে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কিছু নেই। একসময় আপনার সাথে দেখা করবো। পরে এই প্রতিবেদকের অফিসে এসে তাকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান চুন্নু শেখ।

সড়ক নির্মাণ কাজের মূল ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম বলেন,‘আমার কাছ থেকে সাব ঠিকাদারি নিয়েছেন বারইপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখ। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনিয়ম করলেও তার বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই।’

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন,’ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কেটে সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবি,নির্ধারিত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নিয়ম না মেনে এভাবে জমি কেটে মাটি নেওয়া দুর্নীতিরই অংশ। দ্রুত গর্ত ভরাট, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




হরিণাকুণ্ডুতে রাবিয়ানদের ঈদ পুণর্মিলনী

“শিকড়ের টানে, হৃদয়ের বন্ধনে-ফিরে দেখা সেই চেনা ক্ষণে” এই শ্লোগানে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী (রাবিয়ান) দের ঈদ পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান -২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়স্থ হরিণাকুণ্ডু উপজেলা ছাত্র কল্যান সমিতির উদ্যোগে হরিণাকুণ্ডু সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে উপজেলা মোড়ের দোয়েল চত্বর ঘুরে পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে কলেজ মিলনায়তনে এক স্মৃতি চারণ মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক রাবিয়ান এ্যাড. শহিদুজ্জামান শিরু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক রাবিয়ান আলী আজম মো: আবু বকর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যাবিপ্রবি)’র ভিসি প্রোফেসর আব্দুল মজিদ, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার, খুলনা বিএল কলেজের অধ্যাপক আতিয়ার রহমান, রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক হাসাপাতালের উপ পরিচালক ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি হরিণাকুণ্ডুর সন্তান ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, উপজেলা জামায়াতের আমীর বাবুুল হোসেন, হাজী আরশাদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ (অব:) মোতালেব হোসেন, সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোক্তার আলী, সোনালী ব্যাংকের এজিএম হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ রবজেল হোসেন, সাংবাদিক শাহানুর আলম, প্রধান শিক্ষক মাসুদুল হক টিটু, সহকারী অধ্যাপক বাবুল আক্তারসহ অন্যান্য রাবিয়ান।

বক্তারা শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান শিক্ষারপ্রতি বর্তমান হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করে হরিণাকুণ্ডুকে উন্নত ও মডেল উপজেলায় উপনীত করার লক্ষ্যে আমাদের যার যার জায়গা থেকে কাজ করে যেতে হবে। বক্তারা অবহেলিত এই হরিণাকুণ্ডুর অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সালেহা বেগম মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহবুব মুর্শেদ শাহীন ও সহকারী শিক্ষক মাজেদুল ইসলাম। এ অনুষ্টানে হরিণাকুণ্ডুর প্রথমএকজন নারী শিক্ষিকা মহীয়সী নারীর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।




দামুড়হুদায় জয়রামপুরে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোর নিহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর নতুনপাড়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নাঈম (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম উক্ত গ্রামের সাজিরুলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঈম তরমুজ কেনার উদ্দেশ্যে কাঠালতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত অপর মোটরসাইকেলের আরোহীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর ওই মোটরসাইকেলটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।




দামুড়হুদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

দামুড়হুদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় “দেশের নেতৃত্বে, জনগণের শক্তিতে, আমরাই পারব যক্ষ্মা নির্মূল করতে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এই র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মোঃ মশিউর রহমান।

উপস্থিত থেকে যক্ষ্মা রোগের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. মোঃ মশিউর রহমান।

এমটিইপিআই ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. মহিব্বুল্লাহ, ডা. আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্য মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকর্মীবৃন্দ।




আলমডাঙ্গা হাটবোয়ালিয়ায় জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলমডাঙ্গা শাখার আয়োজনে হাটবোয়ালিয়ায় ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া ফুটবল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জি.এ থানা শাখার উদ্যোগে ঈদ-পরবর্তী পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মাঝে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য আবহ বিরাজ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমিন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা-০১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জি.এ সাংগঠনিক থানার আমির মোঃ আব্বাস উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরোক, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম ইবরাহিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা লোকমান হোসাইন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ হুসাইন এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আইন-আদালত বিষয়ক সম্পাদক, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী দারুসসালাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জি.এ সাংগঠনিক থানা শাখার নায়েবে আমির সেলিম রেজা ও মাওলানা মনিরুদ্দিন, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা মিজানুর রহমান, মো. শাহজাহান আলী ও মো. আ. রশিদ প্রমুখ।

প্রধান বক্তা অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ঈদের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজে সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জি.এ থানা সাংগঠনিক জামায়াতের সেক্রেটারি কামরুল হাসান সোহেল। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




গাংনীতে তেল পাম্পে বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটুনি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে বিএনপি নেতাকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ) দুপুরে উপজেলার গোপালনগর গ্রামের রুপক ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আব্দুল ওহাব বুলবুল গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে যান বুলবুল। এ সময় স্টেশনের কর্মচারী ও স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন মিলে তাকে বেধড়ক পিটুনি দেন।

ঘটনাস্থলে তখন কোনো পুলিশ সদস্য না থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস এশিয়া পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।