আলমডাঙ্গায় নির্বাচন পরবর্তী সংহিতায় আহত ১০

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর স্থানীয় অফিস ও দলটির কর্মী-সমর্থকদের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

পৃথক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নতিডাঙ্গা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসে ভাঙচুর চালান এবং দলটির কর্মী-সমর্থকদের কয়েকটি দোকানে লুটপাট করেন।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নতিডাঙ্গার সুলাইমান মুদির দোকান, রাজুর মুদি ও চায়ের দোকান এবং ইমাদুল নাপিতের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানের মালামাল উল্টে দেওয়া হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর এলাকায় কর্মী-সমর্থকরা হুমকির মধ্যে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল চারটার দিকে নতিডাঙ্গা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল উপস্থিত হয়।

অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শ্রীরামপুর কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় ঘোষণার পর একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি জগন্নাথপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উত্তরপাড়ার মুকুল (৪৫), মিজান (৪০) ও রনি (২০)। জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে আহত হয়েছেন হাসান (২২), লুৎফর (৬০), আবু বক্কর (৬৫), ইকরামুল (৫৫), শরিফুল (৪৫) ও আতিয়ার (৫৫)। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আলমডাঙ্গা উপজেলার কালীদাসপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর উত্তরপাড়ার মো. রিফাত ওরফে শ্রমিক (২০)। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়িতে এসে মিছিলে চাচার ওপর হামলা হতে দেখে তাকে রক্ষা করতে গেলে দুর্বৃত্তরা পিছন থেকে তার মাথায় আঘাত করে।

স্থানীয়রা রিফাত কে প্রথমে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রিফাত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।

ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কালীদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজারে একটি চা-স্টলে ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান নুর ইসলাম (৬২)–এর সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতন্ডা হয় ।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয় , এখন নিয়ন্ত্রণে আছে পরিস্থিতি।লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




মুজিবনগরে দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হাতে নিজ দলের কর্মী রক্তাক্ত জখম

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজনু রহমানের ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে মাদার আলীর ছেলে আকুব্বার ও ইউনুচ আলীর ছেলে বাবলুকে বেধড়ক মারধর করে।

মারধরের একপর্যায়ে বাবলুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত বাবলু জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এবারের নির্বাচনে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের মুজিবনগর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র নেতা মজনু রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মজনু, দেলোয়ার (পিতা: মজনু), ইজরাল (পিতা: মৃত গলি), হিরন (পিতা: আমজাদ), রাকিব (পিতা: দেলোয়ার), ভাষান (পিতা: মৃত দাউদ), হাসান (পিতা: আমজাদ) ও মনি (পিতা: আদম)।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, পূর্বের একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আকুব্বার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় বাবলু নিজে থেকে মাঝখানে জড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।




ঝিনাইদহ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ১৩ 

ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন পরবর্তী পৃথক তিনটি সহিংসতায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যলয় ভাংচুর ও অগ্নীসংযোগ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা ও পাল্টা হামলা ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসষ্ট্যান্ডের বাজার রোডে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে ব্যপক ভাংচুর করা হয়। এসময় খোকন, ইভন ও জবেদ আলী নামে তিন বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে জখম করে।

আহত জবেদ আলীকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জবেদ আলী কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

একই সময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামের ধানের শীষের সমর্থকরা কাপপিরিচের সমর্থকদের উপর হামলা করে। এঘটনায় আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীন নামে পাঁচজন জখম হয়। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জখম সবাইকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামে কাপপিরিচের সমর্থক কওসার বিশ্বাসের উপর হামলা করে আহত করে ধানের শীষের সমর্থকরা।

এর আগে সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাপপিরিচ প্রতিকের মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দুর্বৃত্তরা প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয় ভাঙচুরর ও লুটপাট করে। এদিন রাত ৯ টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়।

এসব ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুরে আমবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুরে একটি আমবাগান থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা যায়, জহিরুল মিয়ার ইটভাটার পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি আমবাগানের আমগাছের ডালের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না (টাইসেল মিস্ত্রি)। তিনি মেহেরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থানপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে বাগানে একটি মরদেহ ঝুলতে দেখে তারা কাছে গিয়ে মুন্নাকে শনাক্ত করেন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে সংক্রান্ত হতাশা থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




ঝিনাইদহে ৪টি আসনের ১টিতে বিএনপি ও বাকী ৩টিতে জামায়াত বিজয়ী

ঝিনাইদহে ৪টি সংসদীয় আসনের ১টিতে বিএনপি’র ধানের শীষ এবং বাকী ৩টি তে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়েছে।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১লাখ ৭১হাজার ৫শ’৯৮ ভোট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের এস এম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫হাজার ৫শ’৭৭ ভোট। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১লাখ ১৬হাজার ২১ ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩লাখ ২৫ হাজার ২শ’৭৮ জন।

ঝিনাইদহ-২ (ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রের সর্বশেষ ফলাফলে জামায়াতের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১লাখ ৯৩ হাজার ৬শ’৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১লাখ ৭৫হাজার ৬৭ ভোট।

এই আসনে মোট ৫লাখ ৬হাজার ৬শ’৩২ ভোট এর মধ্যে পুরুষ ভোট রয়েছে ১লাখ ৬৪ হাজার ৭শ৭৮ ভোট এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১লাখ ৬৭ হাজার ৮শ’৯৭ ভোট।

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর- মহেশপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোঃ মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লাখ ৭২ হাজার ৪শ’৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১লাখ ৪৮হাজার ৮২ ভোট। এই আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১৬৬টি এবং মোট ভোটার ৪লাখ ৩১হাজার ১৫ জন।

ঝিনাইদহ-৪ (সদরের আংশিক এবং কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াতের প্রাথী মাও: আবু তালেব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫হাজার ৭শ’৫০ ভোট এবং ধানের শীষের রাশেদ খান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬শ’৭০ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩লাখ ৩৩ হাজার ৪শ’৬১ ভোট।




আলমডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশু হাসানের

ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য নানাবাড়ীতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশু হাসানের। ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে। দুই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আনুমানিক ১০টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী তার বাপের বাড়ি ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য সন্তানদের সাথে নিয়ে খোরদ গ্রামে বেড়াতে আসেন। পারিবারিক আনন্দঘন পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল ছোট্ট হাসান। সকালে সে তার নানা লাল্টু হোসনের সঙ্গে স্থানীয় ভোটকেন্দ্রে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে নানা-নাতি বাড়ীতে ফিরে আসে।

বাড়ীতে ফিরে সমবয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে থাকে হাসান।

খেলার এক পর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ীর পাশের মাঠের মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট পুকুরের দিকে চলে যায়। অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে গেলে সে আর উঠতে পারেনি।

কিছু সময় পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তড়িঘড়ি করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো খোরদ গ্রামে শোকের মাতম চলছে।




মেহেরপুরের পিরোজপুরে ভোটারকে হুমকির অভিযোগ

মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালপোতা গ্রামে এক সাধারণ ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম (পিতা: আলিহিম বিশ্বাস) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক সাধারণ ভোটার ফারুক হোসেনকে (পিতা: সিরাজ) ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন জানান, তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে যাতে তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে না যান। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।




মেহেরপুরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

মেহেরপুর জেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার দুইটি সংসদীয় আসনের মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। সকালে মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। একই সময়ে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ভোট প্রদান করেন।

এদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাহারবাটি চারচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সৃষ্ট সংঘর্ষে জামায়াতের ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ভাটপাড়া গ্রামের জামায়াত কর্মী মোশাররফ হোসেনের ছেলে রিপন আলী (২৫), আহাজদদীনের ছেলে আনারুল ইসলাম (৫০)ইদ্রিস আলীর ছেলে আলাহাজ আলী(৪০), সাইদুল ইসলামের ছেলে সম্রাট (৩০), ভ্যানচালক ওয়ারেশ আলী(৪৫) সাহারবাটী গ্রামের বিএনপি কর্মী বক্কার আলী।

এছাড়া মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর তারানগর ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ আহত হয়েছে তিন জামায়াত কর্মী। খাসমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের ৪ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা অনেকেই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গাংনী সংসদীয় জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ভোটারদের কোন কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছে না বিএনপির লোকজন এবং অনেককে মারধর করেছে এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন অনেকের কয়েকজনের অবস্থা আশংকা জনক। এ বিষয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে জানানো হয়েছে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেছেন।

মেহেরপুর পুলিশ সুপার (এসপি) উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা শোনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই চলছে। সংঘর্ষের বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ‌

এদিকে সকাল পৌণে আটটার সময় মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ও জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদান শেষে তারা দুজনে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।

মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাজউদ্দীন খান অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-সমর্থক ভোটারদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা।

মুজিবনগরের জয়পুর তারানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের বাধাপ্রদান, জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষ জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে, খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেছেন। তারা হলেন, মুজিবনগর জয়পুর গ্রামের হুজুর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ও মানিক হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক দুজন পুলিশী হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় দুটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের ৭ প্রার্থী ভোট যুদ্ধ করছেন।

এদের মধ্যে মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খান, জাতীয় পার্টর প্রার্থী আব্দুল হামিদ ও সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ও জাতীয় পার্টর প্রার্থী আব্দুল বাকী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে মুলপ্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। মেহেরপুরের দুটি আসনে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।




ঝিনাইদহে ভোট বন্ধ ২০ মিনিট, সহকারী প্রিজাইডিং অব্যহতি

ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালটের মুড়ি বইয়ে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সম্মিলনি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের পুরুষ বুথের ভোটগ্রহণ ২০ মিনিট বন্ধ ছিল। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিমা ইসলাম কেন্দ্রে এসে ভোটগ্রহণ শুরু করেন। এই কেন্দ্রে ৪টি গ্রামের ৩ হাজার ২৮৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম।

ভোটার রসুল আমিন অভিযোগ করেন, তিনি ভোট দিতে গেলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট দেওয়ার সময় ৪/৫টি ব্যালটের মুড়ি বইয়ে টিপ সই করিয়ে নেয়। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে জানান। এর আগে আরো ২/৩ জনের কাছ থেকে এভাবে টিপ সই নিয়েছেন। তিনি ওই অফিসারকে প্রত্যাহার ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেন।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম বলেন, প্রায় ২০ মিনিট পুরুষ বুথের ভোট বন্ধ ছিল। এরপর স্বাভাবিক হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিমা ইসলাম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সহকারী ওই প্রিজাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।




মেহেরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩

মেহেরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতাই বিএনপি সমর্থক্দের মামলায় জামায়াতের তিনজন গুরুত্বর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারে।

আহতরা হলেন-একই এলাকার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন, ইয়ার আলীর ছেলে মাসুদ রানা ও ঝন্টু আলীর ছেলে জুয়েল আহমেদ।

আহত উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমরা বাজারে চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলাম এমন সময় বিএনপি সমর্থিত রিপন হোসেন আমাকে বলে জামায়াত এতো ভোট পাইলো কি করে? তারপর আমাদের মধ‍্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিপন ও তার লোকজন মিলে আমাদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। এবং আমাদের বেধড়ক মারধর করে।

পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন‍্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

স্থানীয় রকিব হোসেন বলেন, আমরা পাশের দোকানে বসে ছিলাম এমন সময় দেখি বেশ কয়েকজন মিলে ধস্তাধস্তি ও মারামারি করছে। আমরা পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে থামিয়ে আহতদের চিকিৎসার জন‍্য গাংনী হাসপাতালে নিয়ে আসি।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার তথ‍্য পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। বতর্মানে উক্ত এলাকার পরিস্থিতি সাভাবিক। অভিযোগ পেলে আইনগত ব‍্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।