গ্রাহকের নামে হয়রানী মামলার অভিযোগ বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে

ঝিনাইদহে লোন নেওয়ার সময় ব্যাংকে জমা দেওয়া চেক চুরি করে মামলা করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী এক দম্পতি।

আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করে মহেশপুর উপজেলার ভুক্তভোগী ইয়াসমিন আক্তার ও তার স্বামী শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ইয়াসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মহেশপুর পশু হাসপাতাল রোডে সালিম ট্রেডার্স নামে আমার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো। ব্যবসা সম্প্রসারণ করার জন্য বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক পি এল সি ঝিনাইদহ শাখায় থেকে ২০১৫ সালে জমির দলিল, বিভিন্ন কাগজপত্র ও ৩৭ টি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক (যার সিরিয়াল নাম্বার ০৭৫১৩৯৯ হতে ০৭৫১৪৩৫) জমা দিয়ে ১৮ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করি।

ঋণ গ্রহণের পর হতে তিন বছরের মধ্যে ৩৬টা কিস্তির মাধ্যমে ৬১ হাজার ৫’শ ৬০টাকা করে প্রদান করার জন্য বলা হয়। সে মোতাবেক আমি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পি এল সি ঝিনাইদহ শাখায় ০৭৫১৩৮৬ হতে ০৭৫১৩৯৮ মোট ১৩টি চেকের পাতা ব্যবহার করি। আমার জমা দেওয়া সকল চেক ব্যাংকের ভল্টে জমা আছে।

ইয়াসমিন আক্তার অভিযোগ করে আরও বলেন, ব্যাংকের কাছে রক্ষিত থাকা অবস্থায় ০৭৫১৪৩৪ চেকের পাতা দিয়ে জালিয়াতি চক্রের সদস্য কোটচাঁদপুর শহরের আদর্শ পাড়ার আবু জাফরের ছেলে আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি আমার কাছে ৯৭ লক্ষ টাকা পাবে দাবী করে ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। যার সি আর নাম্বার ২৩৯/২৫। কিন্তু এই চেকের পাতাটি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএল সি ঝিনাইদহ শাখায় জমা রেখেছি তাহলে এই চেকের পাতাটি কোথা থেকে এলো তার কাছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জালিয়াত চক্রের সাথে যোগসাজস করে গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে টাকা লুট করে নিচ্ছে বলে আমি জানতে পেরেছি। এ চক্রের সাথে ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত বলে আমার সন্দেহ। আমি এর প্রতিকার চেয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, দূদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করছি। এদিকে একটি সুত্র জানিয়েছে গ্রাহকের চেক জালিয়াতি করার কারণে আলমগীর হোসেন একটি মামলায় তিন মাস কারাভোগ করে এসেছে।

এ ব্যাপারে ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি ঝিনাইদহ শাখার ম্যানেজার মোঃ রকিবুজ্জামান এর মুঠো ফোনে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার কাছে ব্যাংক ম্যানেজার একটি লোন সংক্রান্ত ব্যাপারে জিডি করার জন্য এসেছিলো। সেখানে তাদের কথা বার্তা শুনেছিলাম। যেহেতু আদালতে মামলা হয়েছে সে কারণে আমি কোন পরামর্শ দেয়নি।




মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদামে দুর্নীতির অভিযোগ

মেহেরপুর শহরের সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে বিদেশ থেকে আমদানি করা ৬০ বস্তা চাল গোপনে গত বুধবার সন্ধ্যায় আলগামন করে সরানোর উদ্দেশ্যে গেট পর্যন্ত যখন নেওয়া হয়, তখন চাল সরানো হচ্ছে এমন গোপন খবরে গোডাউনের বাইরে বেশ কিছু ছাত্র, গোয়েন্দা সংস্থার দুজনসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী অবস্থান করছিলেন। অবস্থানকারীরা বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। এর পরপরই সেই চাল গোডাউনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এসময় গোডাউনে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা দেবদূত রায় ও মোসারফ হোসেন নামের বিএনপির এক নেতা অবস্থান করছিলেন।

বিদেশ থেকে আমদানি করা উন্নতমানের চাল গুদামের হিসেবের খাতায় না থাকলেও গোডাউনের ৫ নম্বর ইউনিটের তিনটি খামারে প্রায় ৭০ মেট্রিক টন আমদানিকৃত চাল মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোডাউনের অভ্যন্তরীণ সূত্র।

বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এরশাদ আলীর অফিসে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই আমদানিকৃত চাল সরানো শুরু হয়। দুপুরের দিকে দুটি ভ্যানে ৬০ বস্তা চাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদামে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনায় চলছে নানা ধরনের অপচেষ্টা ও দুর্ব্যবস্থা। কাগজে-কলমে মজুত শূন্য দেখানো হলেও বাস্তবে গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল ও ধান সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, গুদামের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় একটি দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। কাগজে চাল ও ধান বিতরণ বা গুদামে সংগ্রহের তথ্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবদূত রায়ের কাছে ভ্যানে ৬০ বস্তা চাল গেটের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে কেন ফের গোডাউনে রাখা হলো এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম আপাতত চাল বাইরে না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ায় তা ফের গোডাউনে নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি বলে দাবি করেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এরশাদ আলীর অফিসে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।




মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেলেন কুড়ালগাছির মায়া

ঢাকা উত্তরা দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তিনদিন মৃত্যর সাথে পান্জা লড়ে হেরে গেলেন কুড়ালগাছির মায়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী মাহিয়া তাসনিম ওরফে মায়া (১৩)।

মায়া দর্শনা থানার কুড়ালগাছি ইউনিয়নের মৃত ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলীর মেজো মেয়ে। মৃত মায়ার পরিবারের সাথে ঢাকা উত্তরা ১৮ নং এ বসবাস করত।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১ টা১০ মিনিটের দিকে প্রশিক্ষণ বিমান এসে মাইলস্টোন স্কুলের উপর এসে পড়লে মূহুর্তের মধ্যে আগুন ধরে সারা শরীল ঝলসে যায়।

তিনদিন চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তার করুণ মৃত্য হয়। মাহিয়া তাসনিম ওরফে মায়ার জনাযা অনুষ্টিত হবে আজ শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর গ্রামে।




ঝিনাইদহে ব্যাবসায়ী সুদীপ হত্যার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে গড়িমিসি’র অভিযোগ

ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী সুদীপ জোয়ার্দারের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ও সন্দেহের দানা বাঁধছে। ঘটনার ২০ দিন পার হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার বন্ধুমহল ও স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সুদীপের মৃত্যুকে ‘সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড’ দাবি করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার বন্ধু সওগাতুল ইসলাম হিমেল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির লোভে গত ৫ জুলাই রাতে সুদীপকে তার সৎ মা চম্পা রানী ও সৎ ভাই শিলন জোয়ারদার হত্যা করে। এরপর বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে।
লিখিত বক্তব্যে হিমেল আরো বলেন, মরদেহে মাথা, পিঠ ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মৃত্যুর পর তার পিতা সুনীল জোয়ারদার, সৎ মা ও সৎ ভাই তাড়াহুড়া করে লাশ দাহ করার চেষ্টা করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন সুদীপ পারিবারিকভাবে অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নিয়েও তাকে মাত্র ১৩০ টাকা মজুরিতে কাজ করতে হতো।
সংবাদ সম্মেলনে ময়না তদন্তের রিপোর্ট ২০ দিনেও না আসায় তদন্তের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তার বন্ধুরা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়ে জানান, বত্যয় ঘটলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সুদীপ জোয়ার্দারের মামা প্রভাত রায়, ফুপা দেব প্রসাদ রায়, বন্ধু মহলের আবিদ হাসান নয়ন, বাদশা বুলবুল, ফাহাদ মাহমুদ, মেহেদী হাসান, শোভন সাহা, আব্দুল্লাহ আল নোমান, এম এম মনিরুজ্জামান, সামিউল হক ও স্বাধীন রহমানসহ প্রতিবেশিরা
উল্লেখ্য ব্যবসায়ী সুদীপ জোয়ার্দারের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ঝিনাইদহ ও ঢাকায় একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়। এ ঘটনার পর থেকে সৎ মা চম্পা রানী ও সৎ ভাই শিলন জোয়ারদার পলাতক রয়েছে।




মেহেরপুরে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ

মেহেরপুরে জীবিকায়নের লক্ষ্যে দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ জন মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে এই সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার খাদিজা আক্তার, উপ-পরিচালক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা: নাসিমা খাতুন, নাজমা, মীর দানিয়েল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের দারিদ্র্য ঘোচাতে এবং স্বাবলম্বী করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনারা এই সেলাই মেশিনকে কাজে লাগিয়ে একজন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এই প্রত্যাশা আমাদের। মেশিনগুলো ব্যবহার ও সংরক্ষণে সচেতন থেকে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে এগিয়ে আসুন। তাহলেই এ প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত হবে।




ঝিনাইদহে ট্রাক চাপায় স্কুল শিক্ষিকা নিহত

ঝিনাইদহের ভাটই বাজারে ট্রাক চাপায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা নিহত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ভাটই আখ সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাসরিন সুলতানা হরিণাকুন্ডুর দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও কন্যাদাহ মনির উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম জীবনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, ভাটই বাজার থেকে বাজার করে নাসরিন সুলতানা ও তার স্বামী আমিরুল মোটর সাইকেল যোগে বাড়ী ঝিনাইদহের দিকে ফিরছিলো। পথিমধ্যে ভাটই আখ সেন্টারের সামনে পৌছালে পিছন দিক থেকে একটি বালিবোঝাই ট্রাক তাকে ধাক্কায় দেই। এসময় সে মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে ঐ ট্রাকের চাকার নিচেই পড়ে পৃষ্ট হয়ে যায়। এতে তার শরীরের উপরের অংশ ছিন্নবিন্ন হয়ে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নাসরিন সুলতানা দুই সন্তানের জননী। বড় মেয়ে এবছর এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এবং ছেলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। তার মৃত্যু সংবাদে পরিবার এবং সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যঞ্জয় বিশ্বাস দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।




দামুড়হুদার জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ

শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয়ের হলরুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে একটি সভা বা সম্মেলন। এই সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, আচরণ এবং সামগ্রিক বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে একসাথে কাজ করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনছুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আখতার সিদ্দিকী, সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম খান।

শিক্ষক জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ৩নং ওয়ার্ড সদস্য জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা, সাবেক শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হুমায়ূন কবির ডাবলু, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু হাসান, অভিভাবক নুরনবী, ইপমা জাহান, নাইস সুলতানা, মাহবুব হাসানসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।




মুজিবনগরে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচার অভিযান

“শিশু অধিকার জানি, অন্যকে জানাই” এই প্রতিপাদ্যে মুজিবনগরে গুডনেইবার্স বাংলাদেশ, মেহেরপুর সিডিপি এর শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচার অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গুডনেইবার্স বাংলাদেশ, মেহেরপুর সিডিপি এর আয়োজনে মুজিবনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুডনেইবার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বার্টিন গমেজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ মণ্ডল, প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর আনন্দ কুমার দাস, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন উদ্দিন আল আজাদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, বিওয়াইএফসি ম্যানেজার জন অমৃত মণ্ডল, সিডিসি সভাপতি জহিরুল ইসলাম এবং গুডনেইবার্স বাংলাদেশ, মেহেরপুর সিডিপি এর বল্লভপুর প্রজেক্ট ম্যানেজার বিপুল রেমা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ এবং ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনি ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। শিশুদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে এবং তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তে সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে হবে।
এছাড়া, শিশুদের মতামত প্রকাশে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কার্যকর সম্পৃক্ততার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত শিশু মাইয়াজের পরিবারের চিকিৎসার জন্য গুডনেইবার্সের উদ্যোগে অনলাইন ক্যাম্পেইন ও নিজস্ব ফান্ড থেকে সংগৃহীত মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সিডিপি কর্মী, সিডিসি চেয়ারপারসন, সিএমসি, স্কুলশিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, বিএইচও টিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা, পরিচালক-পিআইডি, গুডনেইবার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড, ইউএনও এবং এডিসি (রাজস্ব) অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনাসভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নাচ, গান, পালাগানসহ শিশুদের একক ও দলীয় পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।




ক্যাসিনো হোতা তাঁতীলীগ নেতা নুরুল মাস্টারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

মেহেরপুরের মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজের ২০২৫ সালের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল মাস্টার (৫৫) নামের এক বিতর্কিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুজিবনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

ভিকটিমের বাবা মোঃ হানিফ, মুজিবনগর উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা, গত ২১ জুলাই মামলা নম্বর ১০, তারিখ ২১/০৭/২০২৫, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে অপহরণ করে গোপন স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। পরিবার মানব পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে।

ভিকটিমের বাবা মোঃ হানিফ বলেন, আমার মেয়েটি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নুরুল মাস্টার অনেকদিন ধরে ওর পেছনে লেগে ছিল। এখন কোথায় রেখেছে জানি না। পাচারের চেষ্টা করছে কিনা, সেটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি শঙ্কা।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু হয়েছে। আসামি পলাতক, তাকে ধরতে অভিযান চলছে। ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

আগেও মানব পাচারের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন নুরুল মাস্টার, নুরুল ইসলাম একজন শিক্ষক হলেও তার বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অর্থপাচার ও মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ বহু আগেই প্রকাশ পেয়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, তিনি ও তার সহযোগীরা ছাত্র-যুবকদের টার্গেট করে অনলাইন জুয়া ও পাচার নেটওয়ার্কে যুক্ত করতেন।

এই অপহরণ মামলা সেই পুরোনো অভিযোগগুলোরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এক কলেজ শিক্ষক বলেন, এই অপহরণের ঘটনা প্রমাণ করে, এতদিন যা বলছিলাম তা মিথ্যা ছিল না। এই লোক অপরাধের ছত্রছায়ায় শিক্ষকতা চালিয়ে গেছে।




দর্শনা সীমান্তে বিজিবির স্বর্ণ-মাদক চোরাচালান ও পুশইন প্রতিরোধে সভা

চুয়াডাঙ্গা দর্শনা ইমিগ্রেশন চত্বরে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি স্বর্ণ মাদক চোরাচালান ও পুশইন প্রতিরোধে জন সচেতনতা মুলক এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

বুধবার বিকাল ৪টার দিকে জয়নগর সীমান্তে চেকপোষ্ট চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দর্শনা বিওপি বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার সু্বেদার মোঃ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর উপ-পরিচালক মেজর মোঃ হায়দার আলি।

এসময় তিনি বলেন, এলাকার সব ধরনের মানুষের সহযোগিতা না পেলে স্বর্ণ মাদক চোরাচালান ও পুশইন ঠেকানো বা প্রতিরোধ করা সম্ভব না।
তিনি আরো বলেন, আমাদের আপনারা গোপনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন,যা কেউ জানবেনা।

এ সময় দামুড়হুদা আনসার ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার মোঃ সাজিদ সহ ২০ জন সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য এবং সচেতন নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন।