আহ্বায়ক কামরুল হাসান, সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির মেহেরপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ কামরুল হাসান, মোঃ আলমগীর হোসেন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের অনুমোদনে এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আহসান হাবিব, মোস্তফা কামাল ও মোঃ আক্তারুজ্জামান দায়িত্ব পালন করবেন।

যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মোঃ হাসাদুল ইসলাম, মোঃ হেলাল উদ্দিন, মোঃ জিয়ারুল ইসলাম এবং যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মোঃ সাহাব্বত হোসেন, মোঃ শাহিন হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়াও সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ আসলাম উদ্দিন, আবু হোসেন সাইদ, শ্রী বিক্রম কুমার দাস, মোঃ রাশেদ আলী, মোঃ কাদের গনি, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ সাদমান সাকিব, মোঃ ফারদিন হোসেন, মোঃ জিহাদ ও মোঃ হুরাইরা।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের উপস্থিতিতে মেহেরপুর জেলা কমিটি স্বাক্ষরিত হয়। ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব পালন করবেন।




মেহেরপুরে পল্লী বিদ্যুতের পোল চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

মেহেরপুরের পুলিশ লাইন পাড়া মসজিদের মোয়াজ্জেম গিয়াস উদ্দিন খন্দকার (ইনু) (৬৮) পল্লী বিদ্যুতের একটি পোল চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন।

গিয়াস উদ্দিন খন্দকার পুলিশ লাইন পাড়ার মৃত জামাল উদ্দিন খন্দকারের ছেলে। মসজিদের মোয়াজ্জেমের পাশাপাশি তিনি পল্লী বিদ্যুতের পোলের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।

আজ রবিবার সকাল ৯টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে পল্লী বিদ্যুতের পোলের কাজ করার সময় একটি পোল চাপায় মারা যান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের তেলপাম্পের সামনে পল্লী বিদ্যুতের পোল তোলার কাজ চলাকালীন হঠাৎ একটি পোল গিয়াস উদ্দিনের ঘাড় ও বুকের ওপর পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।




মেহেরপুরে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-২

মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনা বাজারে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আকাশ নামের এক যুবক নিহত ও আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের কাঁঠালপোতা গ্রামের মোঃ আকাশ (২৬) ও মোঃ মোস্তাকিন (১৮) একটি মোটরসাইকেলে মদনা বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়াডোব কাচারী বাজারের মোঃ নাসির উদ্দিনের (৪০) চালানো মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে আকাশ ও মোস্তাকিন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পরে আকাশকে রাজশাহী নেওয়ার পথে গাংনী এলাকায় মৃত্যুবরণ করেন। আহত অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।




মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফয়েজ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল

আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে মেহেরপুর সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল।

নির্বাচনে ফয়েজ মোহাম্মদ সভাপতি, সাইদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক এবং সোহরাব হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ৪৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৪৭৬ জন ভোট প্রদান করেন।

সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী অংশ নেন। আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফয়েজ মোহাম্মদ ২৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের লিয়াকত আলী পান ২২৪ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে সাইদুল ইসলাম ২৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ওমর ফারুক লিটন পান ২১২ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সোহরাব হোসেন ২৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং আব্দুল হামিদ খান পান ২৫২ ভোট।




মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র নতুন সভাপতি লতিফ, সাধারণ সম্পাদক মনা

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো মেহেরপুর সদর ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় ও দলিয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতিক কবুতর উড়িয়ে মেহেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র কাউন্সিলে সভাপতি আব্দুল লতিফ, এহান উদ্দিন মনা সাধারণ সম্পাদক এবং আবু ইউসুব মিরন ও মীর জাহাঙ্গীর হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ৬৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করেন।

সভাপতি পদে দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যেখানে আব্দুল লতিফ (চেয়ার প্রতীক) ৩৯৫ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী মিজান মেনন (আনারস প্রতীক) ১৯৬ ভোট পান এবং এহান উদ্দিন মনা ২৭০ ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী বখতিয়ার হোসেন ১৪৪ ভোট পান। ১৭ ভোট বাতিল হয়।

পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আবু ইউসুফ মিরন ও মীর জাহাঙ্গীর হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।




চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৯ কেজি দানাদার রুপা জব্দ

ভারতে পাচারকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্তে ২২ লক্ষ টাকা ম‍ল্যের প্রায় ৯ কেজি দানাদার রুপা জব্দ করেছে ৬ বিজিবি।

জানা যায়, ৯ আগষ্ট বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি’র) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল নাজমুল হাসান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর সীমান্তের বিওপি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে রুপা চোরাচালান হবে বলে জানান। ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাষ্টার সহকারি পরিচালক মোঃ হায়দার আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালায় সীমান্তের মেইন পিলার ৯৬ হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঈশাড়ার মোড় নামক স্থানে এ্যাম্বুশ করে।

এসময় বিজিবি’র ২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলযোগে উক্ত এলাকা দিয়ে সীমান্তের দিকে যেতে দেখে। সে সময় বিজিবি টহল দল তাদেরকে থামার জন্য সিগন্যাল প্রদান করলে, তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিজিবি’র ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে ২ চোরাকারবারী পাট ক্ষেতের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেল তল্লাশি করে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা মূল্যের দানাদার রুপা জব্দ করে।

এ ঘটনায় নায়েব সুবেদার আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে দামুড়হুদা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে। জব্দকৃত ভারতীয় দানাদার রুপাগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারী অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




মুক্তিযুদ্ধের পর এদেশে সব চাইতে বড় ঘটনা হলো জুলাই অভ্যুত্থান -মনির হায়দার

প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচীব (ঐকমত্য) সাংবাদিক মনির হায়দার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর এদেশে সব চাইতে বড় ঘটনা হলো জুলাই অভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধের পর গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশে এত বড় ঘটনা আর ঘটেনি। শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর কোনো জায়গায় এতবড় ঘটনা ঘটেনি। যে ঘটনার মধ্যে দিয়ে সরকার, মন্ত্রী, এমপি এমনকি মসজিদের ইমাম পর্যন্ত পালিয়ে গেছে।

আজ শনিবার বিকালে গাংনী মিনি স্টেডিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থান ফুটবল টূর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মনির হায়দার আর বলেন, জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী এনসিপিসহ অন্যান্য দল থাকবে। শুধু ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ থাকবেনা। এদেশ ফ্যাসিবাদ আর কখনো ফিরে আসতে পারবেনা উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, বিএনপি জামায়াত এনসিপি রাজনৈতিক কারণে তর্ক বিতর্ক বা ঝগড়া করবে কিন্তু ফ্যাসিবাদের ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা কেউ কারোর শত্রু না, আমাদের একমাত্র শত্রু ফ্যাসিবাদ।

মনির হায়দার বলেন, ফুটবল টূর্ণামেন্ট শুধু একটি খেলা নয়, খেলা আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেই। জুলাই ২৪ আমাদের শিখিয়েছে ২০২৪ এর আগে এবং পরের বাংলাদেশে রাত আর দিনের সমান তফাৎ।

তিনি জুলাই প্রসঙ্গে আরও বলেন, জুলাইয়ের ঘটনা আমাদের আপন করতে হবে। জুলাই আন্দোলনকে আমাদের চলাই বলাই রাতে দিনে সব সময় স্বরণ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্ণী জেনারেল অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম সোনা, ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজক গাংনী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।

পরে প্রধান অতিথি মনির হায়দার দু দলের ফুটবলারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া ফুটবলে কিক দিয়ে খেলার উদ্বোধন।




সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে দর্শনা প্রেসক্লাবের উদ্দ্যোগে মানববন্ধন

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার প্রতিবাদে বিচার চেয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহত তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টর হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দর্শনা প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জীবননগর ও দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ একাত্বতা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে সত্যকে দমিয়ে রাখা যাবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বারবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরাধীদের বিচার না হলে নৈরাজ্য বাড়বে।’

বক্তারা বলেন, ‘রাষ্ট্রের ও সমাজের সকল কাজে সবার আগে সাংবাদিকরা থাকে। আবার এই সাংবাদিকদেরই নানা ভাবে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়। সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হলেও এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হয় না। যার ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।’

তারা বলেন, ‘সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ভূমিকা পালন করে। অথচ রাষ্ট্রের সেই স্তম্ভের নিরাপত্তায় কোনো কোনো আইন নেই। আমরা চাই সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য একটি আইন তৈরি করা হোক। দেশের সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘যুগে যুগে এদেশে সাংবাদিক হত্যার বা নির্যাতনের সঠিক বিচার হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রত্যাশা ছিলো পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। কিন্তু দুক্ষের বিষয় তা হয়নাই। বরং সাংবাদিক নির্যাতন বাড়ছেই, যেটা খুবই কষ্টের। সাংবাদিক তুহিন হত্যার সাথে জড়িতদের কঠিন বিচারের মুখোমুখি করা হোক। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের মত জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।’

সাংবাদিক তুহিন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি জানিয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মানববন্ধনে অংশ নেয়া সাংবাদিক ও বক্তারা। এ মানববন্ধনে দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলের সভাপতিত্বে, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান ধীরু, হানিফ মন্ডল, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক তানজির আহম্মেদ ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য রাখেন দর্শনা প্রেস ক্লাবের সদস্য- রিফাত হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মামুন, সদস্য চঞ্চল মেহমুদ, জীবননগর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক রিপন হোসেন, প্রবাসী সাংবাদিক শাফায়াত উল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদস্য রেজাউল করীম লিটন, গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারের সভাপতি আবু সুফিয়ান, দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন।




সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির মানববন্ধন

গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে শহরের পায়রা চত্ত্বরে ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির সভাপতি মোঃ সাহিদুল এনাম পল্লবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল কাজল, ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি স্বপন মাহমুদ, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শাহানুর আলম প্রমূখ।

এছাড়া সাংবাদিক হত্যা এবং তাদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র ঝিনাইদহ জেলা সমন্বয়ক অ্যাড. আসাদুল ইসলাম আসাদ, সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান পিন্টু , সামাজিক আন্দোলনের নেতা রেল আব্দুল্লাহ।

উল্লেখ, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নিউজ করায় গত ৭ই আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জবাই করে হত্যা করে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে এবং একই দিন বিকালে গাজীপুরের আরেক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন কে কুপিয়ে জখম করা হয়। উক্ত ঘটনা সহ সারাদেশের সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। কঠোর কোন শাস্তি এবং সাংবাদিক সুরক্ষার আইন না থাকায় এই ঘটনা গুলো বাড়ছে। বক্তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা সাগর রুনি হত্যাকান্ডসহ সকল হত্যাকান্ড দ্রুত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মিশুক হাসান, তথ্য প্রকাশিত সম্পাদক আবুল হাসান, নির্বাহী সদস্য বাবলু মিয়া , কালিগঞ্জ প্রেস ইউনিটি শাখার সভাপতি রাকিব হাসান ও আবুল কালাম আজাদ।




হাসিনার সরকার কখনোই জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি

হাসিনার সরকার কখনো জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেয়নি। হাসিনার সরকার কখনোই জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। এমনকি হাসিনা তার নিজের দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথাও শোনেননি। অর্থাৎ, এক দল, এক দেশ, এক নেতা এই পদ্ধতিতে হাসিনা চলেছেন বলেই আমরা তাকে ফ্যাসিবাদী বলে থাকি।

হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৫ বছর ৮ মাস যাবৎ নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলন করেছে। অনেকেই আজ প্রশ্ন করে, বিএনপি ১৫ বছর আন্দোলন করেও হাসিনার কিছু করতে পারেনি, তাই গত আন্দোলনের কোনো কৃতিত্ব নাকি বিএনপি পাবে না।
আমিও তাদের বলতে চাই পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিল, মানুষ করল, লেখাপড়া শিখাল, সন্তান চাকরি পেল আর বিয়ের পরে শ্বশুর-শাশুড়ি বলছে, ও বেটা তো আমাদের সন্তান, তোমরা কিছু না।

বিএনপির অবদানকে যারা অস্বীকার করতে চান, ২০২৪ সালের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে যারা অস্বীকার করতে চান, তারেক রহমানের অবদানকে যারা অস্বীকার করতে চান, তারা আসলে সেই সমস্ত সন্তানের মতো যারা বিয়ের পরে নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতাকে অস্বীকার করে থাকে।

আজ শনিবার সকালে মেহেরপুর সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সকল কথা বলেন খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু।

তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের ছাতা ধরে সেই দলের নেত্রী হচ্ছে পলাতক হাসিনা। আরো একটি দল আছে, যারা লাহোর কিংবা করাচিতে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের ছাতা ধরেন সে দলটি কারা, আপনারা ভালো জানেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের কী ভূমিকা ছিল, সেটাও আপনারা জানেন। আরেকটি দল আছে চীনে বৃষ্টি হলে তারা বাংলাদেশে ছাতা ধরেন। আবার কিছু রাজনৈতিক দল আছে মস্কোতে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের ছাতা ধরেন।

আমরা একমাত্র শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা, আমরা একমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সৈনিকরা, আমরা একমাত্র তারেক রহমানের সৈনিকরা যারা অন্য দেশে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের ছাতা ধরি না, বাংলাদেশের বৃষ্টি হলে বাংলাদেশে ছাতা ধরি।

তিনি বলেন, অনেকেই বলার চেষ্টা করেন, “একই সাপের দুই বিষ, নৌকা ও ধানের শীষ।” যারা বলেন, তারা ২০১৮ সালে আমাদের সাথে জোট করে যে কয়টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন তাদের মার্কা কী ছিল? ধানের শীষ ছিল না? তখন কি সেটা বিষ মনে হয়নি? অর্থাৎ, তাদের যখন প্রয়োজন, যে খাদ্য খায় সেটা তাদের কাছে অমৃত আর যখন প্রয়োজন হয় না, তখন সেটা তাদের কাছে বিষ।

আমরা দেখেছি ১৯৪৭ সালে যখন ভারত এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো, সেই দলটি বলল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার নেই, আমরা সব ভারতের সাথে থাকব। আবার ১৯৭১ সালে দেখলাম যখন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ, বর্তমানে বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ যুদ্ধে লিপ্ত হল, তখন তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করল।

জাতীয় ও দলিয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতিক কবুতর উড়িয়ে মেহেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

জেলা বিএনপি’র সদস্য মোঃ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. কামরুল হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আমিরুল ইসলাম, সদস্য মোঃ আলমগীর খান ছাতু, মোঃ আনছারুল হক, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ খাইরুল বাশার ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন।

বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সম্মেলনটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।