স্পট মেহেরপুর: ঈদের দিন চারসহ সপ্তাহে সড়কে প্রাণ গেল ৫ জনের

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে প্রাইভেটকার ভ্যান ও মোটরসাইকেল ত্রি-মুখি সংঘর্ষে এক ব্যাংক কর্মকর্তা, শিশুসহ ৩ জন নিহত ও অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, সদর উজলপুর গ্রামের হাসান মোল্লায় ছেলে এনআরবিসি ব্যাংকের রুপনগর ব্রাঞ্জের অফিসার আক্তারুজ্জামান ওরফে শোভন, তার অপর বন্ধু মেহেরপুর সদর উপজেলার বাড়িবাঁকা গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে আল ইমরান, গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ভ্যানচালক আলী হাসানের ছেলে শিশু জুবায়ের হাসান।

এঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত জুবায়ের হোসেনের পিতা ভ্যানচালক আলী হাসান, প্রাইভেট কার চালক পলাশ হোসেন।
আজ সোমবার বিকেলে ৫ টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কার্যালয়ের সামনে এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার সন্ধ্যায় ধানখোলা ইউনিয়নের ভাটপাড়া-কচুইখালী সড়কে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষে গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে স্কুল ছাত্র জাভেদ আলী নিহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন এবং গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল।
জানা গেছে, প্রাইভেট কার চালক পলাশ হোসেন বেপরোয়া গতিতে আমঝুপি থেকে মেহেরপুরের দিকে আসছিলেন। এসময় ভ্যানচালক আলী হাসান তার পরিবারের লোকজন নিয়ে ভ্যানযোগে আমঝুপির দিকে যাচ্ছিলেন। প্রাইভেট চালক প্রথমে পাখিভ্যানের সাথে সজোরে ধাক্কা মারলে ভ্যানের সকল যাত্রী রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে প্রাইভেট কারটি মোটরাসাইকেলকেও ধাক্কা দেই। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আক্তারুজ্জামান শোভন ও তার বন্ধু আল ইমরান রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে মারাত্বক আহত হন।
খবর পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তাদেরকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে ব্যাংক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান মারা যান। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় আল ইমরানকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও জুবাইয়ের হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। রাজশাহীতে নেওয়ার পথে সন্ধ্যার দিকে পাবনার মধ্যে শিশু জুবায়ের হোসেন মারা যান। আল ইমরান রাত ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় আহত ভ্যানচালক আলী হাসান বর্তমানে মেহেরপুর ২৫০ শয্যার বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, প্রাইভেট চালক পলাশ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গাংনী উপজেলার কসবা-কছুইখালি রাস্তায় মোটরসাইকেল ও ভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে হলে মোটরসাইকেল চালক কসবা গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে স্কুল ছাত্র জাভেদ আলী মারাত্বক আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী ও পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। ঢাকায় নেওয়ার পথে সোমবার ভোররাতের দিকে মারা যায় স্কুল ছাত্র জাভেদ আলী।

এর আগে গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় গাংনী-কাথুলি সড়কের চৌগাছার আদুর নাবিল ফার্নিসাসের সামনে মোটরসাইকেল ও আলগামনের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাগর মিয়া (২৪) নামের এক সৌদি প্রবাস ফেরত নিহত হয়েছেন। সাগর মিয়া গাংনী থেকে তার নিজ গ্রাম ভাটপাড়াতে ফিরছিলেন। নাবিল ফার্নিসাসের নিকট পৌছানো মাত্র বিপরীত থেকে আসা একটি আলগামনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুছড়ে যায়। এসময় গরুতর আহত সাগর মিয়াকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতু ঘোষণা করেন।

এনিয়ে গত এক সপ্তাহে ব্যাবধানে মেহেরপুর জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।




মেহেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও এক শিশু মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।

আজ সোমবার বিকাল চার টার দিকে মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা সড়কের শহর সংলগ্ন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সদর উজলপুর গ্রামের হাসান মোল্লায় ছেলে এনআরবিসি ব্যাংকের রুপনগর ব্রাঞ্জের অফিসার আক্তারুজ্জামান ওরফে শোভন, গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ভ্যানচালক আলী হাসানের ছেলে শিশু জুবায়ের হাসান।

এঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত জুবায়ের হোসেনের পিতা ভ্যানচালক আলী হাসান, আল ইমরান, প্রাইভেট কার চালক সাজ্জাদ হোসেন পলাশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন।

জানা গেছে, নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ আমঝুপিতে থেকে মেহেরপুরের দিকে ফিরছিলেন। অপরদিকে, অপরদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান মোটরসাইকেল নিয়ে এবং ভ্যানচালক আলী হাসান তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমঝুপির দিকে যাচ্ছিলেন।

বিএটি অফিসের সামনে প্রাইভেট কারটি বিপরীত দিকে আসা ভ্যানকে ধাক্কা দেওয়ার পরে মোটরসাইকেলটিকেও ধাক্কা দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের রোড সাইনে ধাক্কা দিলে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে সবাই রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে ৫ জন মারাত্বক আহত হন।

খবর পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তাদেরকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে ব্যাংক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান মারা যান। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় আল ইমরান ও জুবাইয়ের হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

রাজশাহীতে নেওয়ার পথে সন্ধ্যার দিকে পাবনার মধ্যে শিশু জুবায়ের হোসেন মারা যান।
ভ্যানচালক আলী হাসান বর্তমানে মেহেরপুর ২৫০ শয্যার বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, প্রাইভেট চালক পলাশ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।




মেহেরপুর জেলা কারাগারে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান

কারাগারের বন্দিদের ও স্টাফদের নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় আলাদা আলাদা ভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বন্দীদের সাথে সাক্ষাতের জন্য কারাগারে আগত দর্শনার্থীদের কে ফুল দিয়ে ঈদের শুভেছা, মিস্টিমুখ ও মত বিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

ঈদের খুশিকে ভাগাভাগি করার জন্য সকাল ও দুপুরে বন্দিদের জন্য উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি সকল স্টাফদের জন্য দুপুরে উন্নত খাবার পরিবেশন করা হয়।বন্দি মায়েদের সাথে থাকা শিশুদের ঈদের নতুন ‌পোশাক প্রদান করা হয়। বন্দিদের মাঝে স্থানীয় ভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেল সুপার দেবদুলাল কর্মকার। জেলার মো: নিজাম উদ্দিন।

বন্দীদের জন্য সকালে বরাদ্দ করা হয়েছে পায়েস, মুড়ি। দুপুরে পোলাও,গরু ও খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিস্টি, পান সুপারি, সালাদ। রাতে সাদা ভাত,রুই মাছ ভাজি, আলুর দম। মেহেরপুর জেলা কারাগারে মোট বন্দী রয়েছে ১৮৯ জন।




মেহেরপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায়

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

সোমবার মেহেরপুর জেলার প্রতিটি গ্রামে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা পর্যন্ত পৃথক পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, ঈদগাহ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গাংনী কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাহ কমিটি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এ পরিস্থিতিতে রবিবার গাংনী উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে কয়েক দফা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদের জামায়াতে কোনো স্থানীয় বিশিষ্ট মুসল্লি ঈদ শুভেচ্ছা বা বক্তব্য রাখতে পারবেন না। সে মোতাবেক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদিও হাসান শামীম ঈদের জামায়াতের ইমামের খুতবার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গাংনীর আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নেতা হাজী মহা. মহসিন আলী গাংনী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ওই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ৬ মাসের জন্য অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. মো. রবিউল ইসলাম।

এদিকে, মেহেরপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

দ্বিতীয় প্রধান জামাত সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পুরাতন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কয়েক হাজার নারী ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এছাড়া, গাংনী মডেল মসজিদ ও চৌগাছা ঈদগাহ ময়দানেও বড় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনা এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।




গাংনীতে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী নিহত

মেহেরপুরের গাংনীতে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাভেদ আলী (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানখোলা ইউনিয়নের ভাটপাড়া–কচুইখালী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জাভেদ আলী গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের শাহিন আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাটপাড়া ও কচুইখালির মধ্যবর্তী জায়গায় মোটরসাইকেল ও সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাভেদ আলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও তার অবস্থা আরও অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ঢাকায় নেওয়ার পথে আজ সোমবার (৩১ মার্চ) ভোররাতে ঢাকার অদূরে তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানি ইসরাইল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




মেহেরপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতা গ্রেফতার

মেহেরপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২ নেতাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের গাংনী উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌগাছা গ্রামের আনারুল ইসলাম শাহের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ইন্টু (৩১), গাংনী উপজেলার গোপালনগর গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-স্কুল বিষয়ক সম্পাদক রেদানুর জামান (২০), গাংনী পৌরসভার ভিটাপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে মেহেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আনোয়ার আহম্মেদ রমিন (২৮) এবং একই এলাকার আব্দুল খালেক দেওয়ানের ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউল করিম (২৮)।

এদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউল করিমকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি তিনজনকে গাংনী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পৃথক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

আজ রবিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে গ্রেফতারকৃত ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের আদালতে নেওয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




মেহেরপুর জেলা যুবদলের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

মেহেরপুরে জেলা যুবদলের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ৫০০ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ মার্চ) সকাল ১১টায় মেহেরপুর জেলা যুবদলের অফিস কার্যালয়ে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে মেহেরপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাওছার আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আহমেদ ইমরান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রিপন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন তপু, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, জেলা যুবদলের সদস্য বখতিয়ার হোসেন, মেহেদী হাসান রোলেক্স, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজুর রহমান ফিরোজ, রিপন আলীসহ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।




ঝিনাইদহে বিএনপির উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ঝিনাইদহ সদরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইব্রাহিম রহমান বাবুর পক্ষ থেকে তিন শতাধিক দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার(২৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে এ সকল খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, গুড়াদুধ, চাল, পেয়াজ ও আলু । এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ মল্লিক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাকিব হোসেন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আবেদ আলী মণ্ডল প্রমুখ।




মেহেরপুরে সেকালের ঈদ-মুহম্মদ রবীউল আলম

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে উচ্ছ্বাস। ঈদ মানে উৎসব। আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন বা বারবার ফিরে আসা। প্রতি বছর ঈদ নতুন নতুন আবহ নিয়ে ফিরে এলেও পুরনো আবেশটা ঠিকই রয়ে যায় স্মৃতির পাতায়। আমি বাড়ি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেহেরপুর জেলায়।

জন্ম সেখানে এবং বেড়ে উঠা সেখানে। স্মৃতিময় মেহেরপুরে কেমন কেটেছে চার দশক আগের ঈদের আনন্দের দিনগুলো? সে সম্পর্কে কিছু কথা আজকের আলোচনায় ঈদের সেই চিত্র তুলে ধরতে চাই।

আমার বাড়ি মেহেরপুরের বাসস্ট্যান্ড পাড়ায়। মেহেরপুরে সেসময়ে প্রধান ঈদের জামাত হতো দুটি। একটি পুরানো ঈদগাহ মাঠে (মেহেরপুর কলেজ ও পুরানো গোরস্থানের পাশে) এবং আরেকটি মেহেরপুর হাইস্কুলের পাশের মাঠে। এখন যেখানে মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ। এই মাঠে মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যসহ অন্যরা ঈদের নামাজ পড়তেন। বর্তমানে শহরের প্রধান জামাত হয় ওয়াপদা রোডের কাছে মেহেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে।

সেসময় ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করা হতো মেহেরপুরে ভৈরব নদে নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, হাডুডু ও ফুটবল খেলার। খুবই উৎসবমুখর ছিল বিবাহিত ও অবিবাহিতদের কাবাডি বা ফুটবল খেলার। গ্রামীণ সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সংস্কৃতিও হারিয়ে গেছে অনেকটা। আমাদের সময়ে মেহেরপুরে জনপ্রিয় খেলা ছিল লাঠিখেলা ও হাডুডু। ঈদের দিন ও মহররমের দিনে হতো লাঠিখেলা ও হাডুডু।

পুরানো লোকদের মুখে শুনেছি লাঠিখেলা ও হাডুডু খেলা দেখতে হাজার হাজার মানুষ গ্রাম থেকে আসতো। পিপাসিত মানুষদের মিষ্টি পানি খাওয়ানোর জন্য কুয়াতে বস্তা ভর্তি চিনি দেয়া হতো। আর মানুষ সেই পানি উঠিয়ে তৃপ্তি সহকারে খেতো আর লাঠিখেলা ও হাডুডু খেলা দেখতো।

ছোটবেলায় আমরা ঈদের দিন ভোরে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটা সুন্দর করে ঝাড়ু দিতাম। এটা আমাদের একটি পবিত্র দায়িত্ব মনে করতাম। ঈদগাহে যাওয়া লোকজন এই কাজের প্রশংসা করতেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করতেন। সেসময়ে আমাদের এলাকায় একদল ছেলেরা সারা রোজার মাসে রাত দু‘টা থেকে লোকজনকে উঠানোর জন্য মাইকে গজল গাইতো এবং বলতো উঠন ভাই-বোনেরা সেহেরী খাওয়ার সময় হয়েছে। উঠুন।

একাত্তরের ঈদের কথা মনে পড়লে কষ্ট লাগে। আমার বড় চাচা শেখ নঈমউদ্দিনের পরিবার ছিলো ভারতের নদীয়ার বড় আন্দুলিয়া গ্রামে এবং আমার আব্বা মেহেরপুর শহর সংগ্রাম পরিষদের সদস্য রইসউদ্দিন শেখ তার পরিবার নিয়ে প্রথমে বাগোয়ানে ও পরে গাংনীর আজান গ্রামে অত্মগোপন করে ছিলো। সেসময়ে আমাদের ঈদের সময় কেটেছে আজান গ্রামে ।

সে সময়ে মেহেরপুরের অনেক মানুষ ভারতে শরনার্থী শিবিরে কষ্টের মধ্যে ঈদ উদযাপন করেছে। দেশ স্বাধীনের পর মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।

মনে পড়ে, সেসময়ে আমার আব্বা খুব সকালে গরুর গোস্ত কিনতে যেতেন। নতুন সাবান দিয়ে গোসল করে নতুন পোশাক পরে সকলকে ডাকাডাকি করে দলবেঁধে জায়নামাজ ও বিছানোর চাদর নিয়ে ঈদগাহ মাঠে যেতাম এবং নামাজ শেষে কুলাকুলি করতাম। ঈদগাহ মাঠ থেকে ফেরার পথে পুরানো গোরস্থানে আমার দাদা রহেল শেখ ও তার বাবা থান্ডু শেখ এবং দাদিসহ অন্য সকল আত্মীয়দের জন্য দোয়া করতাম। মনে পড়ে ইমাম সাহেব বার বার বলতেন, আপনারা কবর জেয়ারত না করে কেউ বাড়ি যাবেন না।

ঈদের দিন কাটতো আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ঘুরে। মনে পড়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ঈদের দিনে একটি পাগলামি করেছিলাম। সেবার দল বেঁধে চুয়াডাঙ্গার রূপছায়া সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম।

ঈদের চাঁদ দেখা নিয়েও আনন্দ উৎসাহের শেষ ছিল না। চাঁদ দেখা গেলেই পাড়া-মহল্লায় চলত সবাইকে ঈদের খবর জানানোর মিছিল। চাঁদ রাতটা যেন কিছুতেই শেষ হতে চাইত না উত্তেজনায়। ঈদের দিন সকাল হলেই গোসল করে লুকিয়ে রাখা জামাটা পরতাম। প্রচলিত ধারণা ছিল ঈদের নতুন জামা কাউকে দেখানো যাবে না। কেউ আগেভাগে দেখে ফেললে যে আনন্দটাই মাটি! সেই সময়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ঈদকার্ড ও নানা রকম ভিউকার্ডের প্রচলন ছিল। ঈদের দিন শিশু-কিশোররা মিলে নানা রকম স্টিকার, ভিউকার্ডের পসরা সাজিয়ে বসতেন।

এর মাধ্যমে দুই পয়সা লাভ নয় উদ্দেশ্য ছিল আনন্দ ভাগাভাগি করা। ঈদ মানেই একটু বাড়তি স্বাধীনতা। এইদিন বন্ধুদের সঙ্গে সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়ালেও থাকত না বাবা-মায়ের চোখ রাঙানি। বন্ধুরা মিলে সালামির টাকা নিয়ে ভিড় জমাতাম খেলনার দোকানগুলোতে।

মনে পড়ে, আমার আব্বা ঈদের দিন সন্ধ্যায় সপরিবারে তার বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন। ঈদের পরের দিন নানার বাড়ি মুজিবনগরের বাগোয়ান গ্রামে যেতাম। নানা-নানি ও মামাদের সাথে চমৎকার সময় কাটতো। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ছিলো না।

আমরা সাইকেলে চড়ে অথবা অনেক সময়ে পায়ে হেটে আশরাফপুরের ভিতর দিয়ে রসিকপুর হয়ে ভৈরব নদ পার হয়ে বাগোয়ান গ্রামে যেতাম। আমার নানা ফুলবাস শেখ জমিদার কেদারনাথ বাবুর কর্মচারি ছিলেন। যার নামে কেদারগঞ্জ হয়েছে। নানা ফুলবাস শেখের মুখে শুনেছি কেদারনাথ বাবুর মেয়ে রূপচর্চা করতে ডাবের পানি দিয়ে গোসল করতেন।

সেসময়ের ঈদের মজাই ছিলো আলাদা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই মজা যেন আর নেই। এখানকার ঈদ মানে অনেকের কাছে দায়িত্ববোধ ও আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তবে যারা প্রকৃত ধার্মিক হিসেবে নিজে গড়ে তুলেছেন তাদের কাছে ঈদের গুরুত্ব অন্য রকম। তারা এক মাস রোজা পালন করে ঈদের দিন প্রকৃত আনন্দ খঁজে পায়। আসুন আমরা ঈদের আদর্শকে ধারণ করি। ধর্মনুসারে জীবন যাপন করি এবং গরীব দুঃখিদের সাথে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই।

লেখক: সাপ্তহিক মুক্তিবাণীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক




মেহেরপুরে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নিশিপুর জামে মসজিদের উদ্যোগে ২ শত অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকাল ৪ টার দিকে নিশিপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

হেযবুত তওহীদের ইমাম জনাব হুসাইন মুহাম্মদ সেলিম এর নির্দেশনায় এবং মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের আয়োজনে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অসহায় পরিবারের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের কুষ্টিয়া-মেহেরপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সভাপতি জসেব উদ্দীন, মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি সাহারুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা সভাপতি আরিফুল ইসলাম প্রমূখ।

ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে সাহায্য করার মত সমাজে আর কোন অসহায় মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না।

ধনীরা সম্পদ মাথায় করে দরিদ্রদের খুজে ফিরবে সাহায্য করার জন্য। আজ মানুষ প্রকৃত ইসলাম থেকে অনেক দুরে। শুধুমাত্র কিছু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ইসলাম।

মানুষ যদি আবার আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধানকে মেনে নেয় তাহলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মানুষ অনাবিল সুখ ও শান্তিতে বসবাস করবে।