দর্শনার পরানপুর- লোকনাথপুর সড়কে গাছ ফেলে ভ্যান ছিনতাই

দর্শনা পরানপুর লোকনাথপুর সড়কে ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে লোকরাথপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে দুইজন মহিলা ভ্যানযোগে পরানপুর গ্রামের দিকে আসছিল।

এসময় লোকনাথপুর পরানপুর সড়কের ধাপড়ী মাঠের বাশঁঝাড়ের নিকট সড়কে বাঁশ কেটে ও গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে। ভ্যানে থাকা দুই মহিলার নিকট থেকে একটি সোনার চেইন ও কানের দুল ও কিছু নগদ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। তবে ভুক্তভোগীদের কারো সাথে দেখা করা সম্ভব হয়নি। জৈনক এক মোটর সাইকেল আরোহী ঐ সড়কে আসার সময় তাদের সাথে দেখা হয়। তিনিই এ ঘনাটি জানান সাংবাদিকদের কাছে। তবে তিনি কারো নাম ঠিকানা বলতে পারেনি। এ বিষয় দর্শনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহীদ তিতুমীর এর নিকট জানতে চাইলে ঘটনা জানেনা বলে জানান। ঘটনাটি শুনার পর সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে সড়কের পাশে বাঁশ ফেলে রাখতে দেখেন। এসময় দামুড়হুদা থানার অফিসার্স ইনচার্জ হুমায়ন কবির ও দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌঁছে কাউকে পাননি বলে জানা গেছে।

তবে এ ঘটনায় ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দামুড়হুদা মডেল থানায় নিয়ে গেছে। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মাকর্তা জানান ঘটনাটি দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকা বলে জানান, দর্শনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহীদ তিতুমীর।




গাংনীর কাথুলি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা সোহেল রানা আটক

গাংনী উপজেলার খাঁসমহল গ্রামের যুবলীগ নেতা সোহেল রানাকে আটক করেছে গাংনী থানা পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকালে গাংনী থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক করেন।

সোহেল রানা খাঁসমহল গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য ইকরাম হোসেনের ছেলে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সোহেল রানাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। তবে নে যুবলীগের কোন পদের নেতা জানা যায়নি। তার পুরো তথ্য সংগ্রহ চলছে।

তবে, একটি অসমর্থিত তথ্যে জানা গেছে, সোহেল রানা যুব লীগের কাথুলি ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক।




জীবননগরে পানিতে ডুবে দুই স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামে ভৈরব নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—মুক্তারপুর গ্রামের ঈদগাহপাড়া এলাকার সজিব হোসেনের ছেলে রিমন হোসেন (৭) এবং একই এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে জুনায়েদ হোসেন (৭)। তারা দু’জনই কুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুল ছুটি শেষে দুপুরে রিমন, জুনায়েদ ও রাব্বি নামের তিন বন্ধু মিলে বাড়ির পাশের ভৈরব নদীতে গোসল করতে যায়। নদীতে পাটজাগ দেওয়া ছিল। গোসলের একপর্যায়ে তারা সেই পাটজাগের ওপর উঠে খেলা করছিল। হঠাৎ রিমন পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে ডুবে যায়। সঙ্গে থাকা রাব্বি দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায়।

পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই ঘটনায় মুক্তারপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




স্বৈরাচর পতন দিবস উপলক্ষে গাংনীতে আয়োজন হবে বিরাট জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ই আগস্ট গাংনীতে বিজয় র্যালী সফল করতে রবিবার বিকালে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলুর অফিস কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এই প্রস্তিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতিমূলক সভায় মেহেরপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান। প্রস্তুতিমূলক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাসাসের গাংনী পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলেরী আলভী, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসাইন, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম, মটমুড়া ইউনিয়ন নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী সালমান শেখ কালু, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলাম, গাংনী পৌর কৃষকদলের আহবায়ক আমিনুল ইসলামসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

৫ জুলাই পতিত স্বৈরাচার সরকারের পতন দিবস উপলক্ষে গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজন করবে বিরাট র্যালি জনসভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এলক্ষে আজ থেকেই গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান আসাদুজ্জামান বাবলু ও মেহেরপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান।




চুয়াডাঙ্গায় ২২৩ বোতল রেক্টিফাইট স্পিরিটসহ একজন আটক

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২২৩ বোতল রেক্টিফাইট স্পিরিট সহ যুগিরহুদার সোহেল (৪৫) কে আটক করেছে।

জানাযায়,গতকাল রবিবার বিকালে দামুড়হুদা মহাসড়ক থেকে ২২৩ বোতল রেক্টিফাইট স্পিরিটসহ তাকে আটক করে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দাম একটি মামলা দায়ের করেছে। গতকালই তাকে চুয়াডাঙ্গা কোর্ট হাজতে সোপর্দ করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ।




গাংনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ হোসেনকে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ হোসেনের জানাযা শেষে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে বাঁশবাড়িয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

বাঁশবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রের পক্ষে মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন। এসময় গাংনী থানা পুলিশের একটি টিম গার্ড অফ অনার প্রদান করেন।

এসময় মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম সোনা ও গাংনী থানার ওসি তদন্ত আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থতাজনিত কারণে রোববার সকাল শোয়া নটার সময় নিজ বাড়ি বাঁশবাড়িয়াতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেনতিনি। (ইন্নালিল্লাহি অইন্নাইলাহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী, সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

এদিকে এই গুণী ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ হোসেন গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর হাত দিয়ে তৈরী হয়েছে অনেক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। অবসর জীবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সামাজিক উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি নানা রোগে ভুগছিলেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আইসিইউতে তিন সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে গত বুধবার বাড়িতে আনা হয়। কয়েকদিন যাবৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।




মুজিবনগরে ৪ বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অপরাধে এক ব্যক্তি গ্রেফতার

মুজিবনগরে ৪ বছরের শিশুর উপর যৌন কামনা চরিতার্থ ও তার শ্রীলতাহানির অপরাধে আসান দফাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি আটক করেছে মুজিবনগর থানা পুলিশ।

গতকাল রবিবার বিকেলে অসৎ উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতরস্থানে হাত দিয়ে যৌন কামনা চরিতার্থ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মুজিবনগর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

আসান দফাদার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ভবেরপাড়া গ্রামের মৃত নেরু চৌকিদারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায় রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ভবেরপাড়া গ্রামের তুহিন (ছদ্দনাম) ৪ বছর বয়সি মেয়ে রিমা (ছদ্দনাম) দোকান থেকে প্যাটিস নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় আসান দফাদারের দোকানের সামনে পৌঁছালে আসামী শিশু কন্যাকে ফুঁসলিয়ে তার চায়ের দোকানের মধ্য নিয়ে কেউ না থাকার সুযোগে অসৎ উদ্দেশ্যে কোলের উপর বসিয়ে মোবাইলে বিভিন্ন প্রকার অশ্লীল ছবি দেখায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতরস্থানে হাত দিয়ে যৌন কামনা চরিতার্থ ও শ্রীলতাহানি করে। এ সময় বাচ্চা শিশুটির পিতা আসামির দোকানের সামনে দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় শিশুটির পিতা শিশুটিকে কান্নারত অবস্থায় দোকানে দেখতে পাই এ সময় শিশুটি তার পিতাকে দেখতে পেয়ে কান্না করতে থাকলে আসামি মেয়েটিকে ছেড়ে দেয় এ সময় মেয়েটি কান্না করতে করতে তার পিতার নিকট আসে এ সময় আসামি আসান দফাদার দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় শিশুটি তার পিতাসহ আশেপাশের লোকজনের সামনে তার সাথে ঘটা ঘটনার বিষয়টি বলে। ঘটনা শুনে শিশুটির পিতা মুজিবনগর থানায় উপস্থিত হয়ে আসামি আসান দফাদারের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে।

থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামি বর্তমানে মুজিবনগর থানা পুলিশ হেফাজতে আছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ( তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, মুজিবনগর থানায় আসামির বিরুদ্ধে ২০০০ সালের ১০ ধারায় নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আসামি পুলিশ হেফাজতে আছে। আইন অনুযায়ী সমস্ত কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।




আলমডাঙ্গা শহর ঘেঁষা আসাননগরে ভোগান্তি ; কাঁচা রাস্তা ডুবে আছে কাদায়

আলমডাঙ্গার শহরতলির আসাননগরে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কাঁচা রাস্তায় নিত্যকাদায় ডুবে মানবেতর জীবন করছে।অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও লাশ পর্যন্ত আটকে পড়ে ঘরে!

আলমডাঙ্গা শহরের কোলঘেঁষা আসাননগর গ্রামের মানুষ যেন বঞ্চনার আরেক নাম। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এখানকার প্রধান রাস্তাটি এখনো কাঁচা। ফলে গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষ বছরের বেশিরভাগ সময় কাটান কাদাপানিতে হেঁটে, পা পিছলে পড়ে, অসুস্থতা আর ক্লান্তির বোঝা নিয়ে।

গ্রামটির পশ্চিম ও উত্তরে জিকে সেচ খাল, দক্ষিণ ও পূর্বে কুমার নদী থাকায় আসাননগর গোলাকৃতি একটি দ্বীপগ্রামের মতো—বাইরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি রাস্তা, সেটিও এখন চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষায় রাস্তার ওপর জমে থাকে হাঁটুসমান কাদা-পানি। এ যেন এক দুঃসহ যাত্রাপথ।

এই গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কষ্ট করে কাদাপানি মাড়িয়ে স্কুলে যায়। কোনো রিকশা বা ভ্যান ঢুকতে না পারায় পায়ে হেঁটে যেতে হয় দূরের স্কুল-কলেজে। শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম ভিজে কাদায় নোংরা হয়, অনেকে প্রায়ই পড়ে গিয়ে আহত হয়।

অপরদিকে, রোগীদের অবস্থা আরও শোচনীয়। আসাননগর গ্রামের গৃহবধূ রওশন আরা বলেন, “আমার শাশুড়ির হঠাৎ অসুস্থ হলে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে পারিনি। কাঁধে করে কাদা ভেঙে বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে। ভ্যানও ঢুকতে চায় না, চালকরা বলে, ওখানে গেলে চাকার অর্ধেক ডুবে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ শেখ বলেন, “কোনো মানুষ মারা গেলে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়াটাই এক যুদ্ধ। খাটিয়া বহন করে কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। বর্ষায় জানাজায় ১০-১৫ জনের বেশি লোক অংশ নিতে পারে না।”

মসজিদ, ঈদগাহ ও গোরস্থানে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিও এই কাঁচা পথ। ফলে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দেয় সীমাহীন দুর্ভোগ। বর্ষায় রাস্তাটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন মনে হয়, এই গ্রাম যেন পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ।

আসাননগরের লোকজন বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত আসেন, নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে তারা আর ফিরেও তাকান না। স্থানীয় বাসিন্দা আজিম উদ্দিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “প্রতিবার আমরা আশায় থাকি এবার কিছু হবে। চেয়ারম্যানরা শুধু ভোটের সময় বলে, এরপর আর কেউ খোঁজও নেয় না।”

সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয় হলো, শহরের এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও এই গ্রামে নেই কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নেই কোনো পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। অথচ আশপাশের গ্রামগুলোতে একের পর এক রাস্তা পাকা হয়েছে। আসাননগর গ্রাম যেন উন্নয়ন মানচিত্রে ভুলে যাওয়া এক অঞ্চল।

স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানের কাছেও গেলে তারা বলে, বরাদ্দ নেই, অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এ অপেক্ষার যেন কোনো শেষ নেই।
গ্রামের মানুষ মনে করেন, একটি পাকা রাস্তাই তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রথম ধাপ। তারাই চান—জরুরি ভিত্তিতে অন্তত মসজিদ, গোরস্থান ও ঈদগাহে যাওয়ার সড়কটি পাকা হোক।

আসাননগর গ্রামের বাসিন্দারা সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা রাস্তাই চাই, আর কিছু না। অন্তত একজন মানুষ মারা গেলে যেন ঠিকমতো জানাজা দেওয়া যায়, শিশুরা যেন ভিজে কাদা ডিঙিয়ে স্কুলে না যায়, আর অসুস্থ রোগী যেন কাঁধে নয়, ভ্যানে করে হাসপাতালে যেতে পারে।”

এই চরম দুর্ভোগ থেকে কখন মুক্তি মিলবে—সে প্রশ্নই এখন আসাননগরবাসীর হৃদয়জুড়ে।




দর্শনায় পুর্ব শত্রুতার জেরে শাহারুলকে কুপিয়ে জখম

দর্শনায় পুর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপির গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।এতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে দর্শনা মোবারকপাড়ার পিয়ার আলীর ছেলে শাহারুল(৩৫) নামের একজন।

তাকে মুমুর্ষ অববস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।ঘটনার বিবরনে জানাগেছে,গত পরশু মামুন নামের একজন দর্শনা রেল বাজার কাঁচা পট্রিতে বসে ছিল।বসে থাকা অবস্থায় পরানপুর গ্রামের আঃ জলিলের ছেলে শিমুল ও জাবেদ তাকে মারধর করে।

এ ঘটনার জের ধরে রবিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পরানপুর গ্রামের শিমুল, জাবেদ,জনি ও রানা মোবারক পাড়া শাহারুলের বাড়িতে হামলা চালায়।হামালা চালিয়ে শাহারুলকে রামদা ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করে।তার সারা শরীলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ১৬ টি সেলাই গিয়েছে বলে জানাগেছে।

শাহারুলকে মুমুর্ষ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।এ ঘটনায় শাহারুলের পিতা পিয়ার আলী বাদি হয়ে দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, এ ঘটনায় দর্শনা থানায় ৪ নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।তবে এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনী।




আলমডাঙ্গা কৃষি কর্মকর্তা সারের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন

আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়নে সারের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে সার সরবরাহে প্রশাসনের তৎপরতা নিশ্চিত করেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গতকাল রোববার সকাল থেকে সারের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন কৃষিকাজ নিশ্চিত করতে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহে স্বচ্ছতা আনতেই এই মাঠপর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা কৃষি অফিসার জনাবা রেহানা পারভীন। তিনি প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর সরকার অনুমোদিত সার ডিলারদের গুদাম ঘর ঘুরে দেখেন এবং সরবরাহের হালচাল সম্পর্কে খোঁজ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জনাব উদয় রহমান এবং উপজেলা কৃষি অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কর্মকর্তারা। কৃষকরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারেন সে বিষয়ে তারা সরাসরি খোঁজখবর নেন। কোনো কৃষক সার সংকটে রয়েছেন কি না, অথবা কোথাও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার রেহানা পারভীন জানান, সরকার কৃষকদের উৎপাদন খরচ সহনীয় রাখতে ভর্তুকি মূল্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সার সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু এই সার যেন কেউ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিতভাবে ডিলার মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ ডিলারদের গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, চলতি মৌসুমে তারা তুলনামূলকভাবে সঠিক সময়ে সার পাচ্ছেন এবং কোনো বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে না। আলমডাঙ্গার হাপানিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এবার এখনো পর্যন্ত সময়মতো সার পেয়েছি। আগে কখনো কখনো লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ফিরে আসতে হতো। এবার তেমন সমস্যা হয়নি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উদয় রহমান জানান, মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সার বিতরণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বাজার ও গুদাম ঘুরে সরবরাহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা অনুযায়ী মজুদ রাখা হয়েছে। এই মৌসুমে উপজেলার কৃষকদের জন্য প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৫০০ মেট্রিক টন ডিএপি, ৪৫০ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৪৩০ মেট্রিক টন এমওপি সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বড় একটি অংশ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া ১৬ টাকা, ডিএপি ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা এবং এমওপি ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিয়মিতভাবে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষকদের যাতে প্রতারণার শিকার হতে না হয় এবং কোনো অবস্থাতেই যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সেটিই হচ্ছে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

কৃষি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, চলতি মৌসুমে কৃষকরা সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পেয়ে তাদের কৃষি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারবেন। এতে করে এলাকার ধান ও অন্যান্য খরিপ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই মনিটরিং ও নজরদারি কার্যক্রম সারা মৌসুমজুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।