দর্শনায় সুন্দরবন এক্সপ্রেসকে আড়াই ঘন্টা আটকে রেখে যাত্রা বিরতীর দাবীতে মানববন্ধন

ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রী বাহী সুন্দরবন ট্রেন দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে আপে এবং চিত্রা ডাউনে স্টোপেজ এর দাবীতে প্রায় আড়াই ঘন্টা ঘন্টা রেলপথ অবরোধ করে আন্দলোন করেন ছাত্রজনতা ও ব্যাবসায়ীরা।

আজ ২৪ জুন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে দর্শনা হল্ট ষ্টশনে সুন্দরবন ট্রেনটি পৌঁছালে দর্শনার সকল পর্যায়ের মানুষ ও ছাত্র-জনতা ট্রেনটি আড়াই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এরপর সেনা বাহীনির ক্যাপ্টেন সৌমিক হাসান এক সপ্তাহের সময় নিয়ে দাবী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।

প্রায় আড়াই ঘন্টা অবরোধের পর সুন্দরবন ট্রেনটি ৩টা ১৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবী না মানলে আগামী মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সারা দেশের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন অবরোধ করার ঘোষনা দিয়েছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা ও এলাকাবাসী সহ ব্যবসায়ী মহল।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে সুন্দরবন ট্রেনটি পৌঁছালে অবরোধ করেন দর্শনাবাসী। এরপর রেল লাইনের উপর শত শত ছাত্র-জনতা এলাকার সকল পর্যায়ের লোকজন তাদের দাবী তুলে ধরে বলেন, ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রী বাহী সুন্দরবন ট্রেন দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে আপে এবং চিত্রা ডাউনে স্টোপেজ দিতে হবে এবং দর্শনা আর্ন্তজাতিক ষ্টেশন থেকে রাজশাহী গামী সকালে ১টি একটি ট্রেন ও দর্শনা গোয়াল-লন্দ লোকাল শ্যাইটেল ট্রেনটি পোড়াদহ পর্যন্ত নয়, দর্শনা আর্ন্তজাতিক ষ্টেশন পর্যন্ত দিতে হবে।

এ দাবী নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দর্শনাবাসী আন্দোলন করে আসছে। এ সকল দাবী নিয়ে আজ মঙ্গলবার সুন্দরবন ট্রেনটি অবরোধ করেন। এসময় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথী মিত্র ও দর্শনা থানার অফির্সাস ইনর্চাজ শহীদ তিতুমীর আবরোধ তুলে নিতে বার বার অনুরোধ করলেও আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা তাদের দাবীতে আনড় ছিলেন, যে দাবী না মানা পর্যন্ত ট্রেনটি ছাড়া হবে না। মুহুম মুহুর শ্লোগান দিতে থাকে এবং রেল পথের উপর বসে পড়ে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা তাদের দাবিতে অনড় থাকে।

সর্বশেষ সেনা বাহিনীর ক্যাপ্টেন সৌমিক হাসানের একটি টিম এসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা অনিক, রিফাত, দর্শনা পৌর বিএনপি প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট ও দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলের সাথে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা ও ব্যবসায়ীদের কে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবী মানার প্রতিশ্রুতি দিলে ছাত্র-জনতা ও ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নেন।

আন্দোলন চলাকালিন বক্তব্য রাখেন, দর্শনা ডিএস মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিউদ্দিন, দর্শনা পৌর বিএনপি প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট দর্শনা পুরাতন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, আওয়াল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের মধ্যে আবিদ হাসান রিফাত, তানভীর অনিক ও তৈহিদ ইসলাম। অবরোধ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের সাজ্জাদ হোসেন।




মেহেরপুরে তিন দিনব্যাপী আম মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় তিন দিনব্যাপী আম মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সামছুল আলম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শায়খুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, কৃষি প্রকৌশলী সুবল চন্দ্র মণ্ডল, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চায়না পারভিন, এআইও সাহাদুল ইসলাম এবং আম চাষি সাইদুর রহমান শাহীন প্রমুখ।

পরে আম মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল মালিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এতে প্রথম স্থান অর্জন করে এস. আর. এগ্রো-এর সাইদুর রহমান, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে মুজিবনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং তৃতীয় হয় মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।




মুজিবনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্র ঘোষিত ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগোয়ান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ রিয়াজ শেখ এবং মুজিবনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া মোল্লা।




ইরান-ইসরায়েলের সঙ্গে কারা যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগ করেছিল?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি টেলিফোনে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা আরো জানান, হোয়াইট হাউসের অন্য কর্মকর্তারা ইরানি পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন— কেউ কেউ সরাসরি, আবার কেউ কেউ পরোক্ষভাবে।

কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এমন একটি শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যার আওতায় ইরান নতুন করে কোনো আক্রমণ না চালালে ইসরায়েলও আর পাল্টা হামলায় যাবে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরানও এই চুক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর ও মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

তিনি আরো বলেন, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশগ্রহণ করেছেন। ইরানের সঙ্গে এই সংলাপের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বর্তমান উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

সূত্র : বিবিসি




ঝিনাইদহে দেশীয় ভেষজ উদ্ভিদের জৈব চাষাবাদ বিষয়ক কর্মশালা

উচ্চমূল্যের আমদানিনির্ভর ভেষজ উদ্ভিদের দেশীয় জৈব চাষাবাদে গুরুত্বারোপ করে ঝিনাইদহে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ফুড সাফারি মিলনায়তনে বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা) এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বামার কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিশিষ্ট আয়ুর্বেদিক গবেষক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুম মনিরা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ঔষধ পরিদর্শক ইকরামুল করিম, সেতু ড্রাগ ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহম্মদ আলী বিশ্বাস এবং বামার নির্বাহী সদস্য এ বি এম জাহাঙ্গীর। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন বামার বিভাগীয় প্রধান আকরাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে যে সব ভেষজ ওষুধ তৈরি হয় তার একটি বড় অংশের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। অথচ দেশের উপযোগী জলবায়ুতে এসব ভেষজ উদ্ভিদের জৈব চাষাবাদ সম্ভব। কৃষি উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে সচেতন ও উৎসাহী করতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ওষুধ প্রস্তুতকারক, কৃষি উদ্যোক্তা ও ভেষজ গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।




ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

৬ দফা দাবি আদায়ে ঝিনাইদহে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে স্বাস্থ্য সহকারীরা।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এ্যাসোসিয়েশন সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। ঘন্টা ব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে দাবি সম্বলিত ব্যানার, লিফলেট নিয়ে উপজেলার সকল স্বাস্থ্য সহকারীরা অংশ নেয়।

সেসময় হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এ্যাসোসিয়েশন সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রাকিব, সাধারন সম্পাদক কাজল কুমারসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তরা বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পর্যায়ে উন্নীত করে ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান ও ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নীত করাসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা হুশিয়ারি দেন তারা।




প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় ইউপি চেয়ারম্যান

প্যারোলে দুই ঘণ্টার মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন পাশা। আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই সময়সীমায় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান পাশার মা গতকাল সোমবার (২৩ জুন) কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিষয়টি জানার পর তার পরিবার জেলা প্রশাসনের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে। প্রশাসন আবেদন মঞ্জুর করলে মেহেরপুর কারাগার থেকে পুলিশ প্রহরায় পাশাকে তার নিজ গ্রাম মিনাপাড়ায় নেওয়া হয়।

মিনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়। পরে আবারও কড়া প্রহরায় পাশাকে মেহেরপুর কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

জানাজায় এলাকার শত শত সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এলাকাবাসীর চোখে অশ্রু দেখা যায় এই সময়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্টের পরবর্তী সময়ে নাশকতার একটি মামলায় আনোয়ার হোসেন পাশা গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলা কারাগারে বন্দি আছেন।




ভারতীয় পরিচালক শাকিব খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

একটা সময় বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা আর টালিউড পরিচালক রাজীব বিশ্বাসের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হতো। তার ঝুলিতে এখন পর্যন্ত ১৮ সিনেমা। এর মধ্যে দুটি বাংলাদেশের। বাকি ১৬টি সিনেমা সেই আমলে হিট। প্রায় প্রত্যেকটি সিনেমা ভালো বাণিজ্য করেছিল। জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় তখন তার সিনেমার একচেটিয়া নায়িকা। সেই পরিচালক ২০২২ সালের পর কলকাতাতেই নেই। নেই টালিউডেও। কোথায় গেলেন তিনি, আর কেনইবা গেলেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস।

সম্প্রতি সায়ন্তন ঘোষালের সিনেমা ‘রবীন্দ্র কাব্য রহস্য’র বিশেষ প্রদর্শনে এসেছিলেন রাজীব বিশ্বাস। কথা বলেছিলেন একটি গণমাধ্যমে। সেই সাক্ষাৎকারে পরিচালক বলেন, পরপর দুটি বড় বাজেটের সিনেমায় ব্যস্ত ছিলাম। ‘অপারেশন জ্যাকপট’ আর ‘চিতা’। দুটি কাজই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। কবে শুরু হবে জানি না। আপাতত নিজের শহরেই ফিরে এলাম।

সেই সময়টা ছিল করোনাকাল। বাংলা সিনেমা প্রায় তৈরিই হচ্ছে না। হলেও তার ব্যবসায়িক সাফল্য তলানিতে। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমার প্রথম সারির নায়ক দেব পর্যন্ত অন্যধারার সিনেমায় মন দিয়েছেন। তার এই বাঁকবদল চোখ খুলে দিয়েছিল রাজীবের। তিনি বলেন, দেখলাম, এতদিন যে বাজেটের সিনেমা বানিয়ে এসেছি, সেই মাপের সিনেমা বানানোর প্রযোজক নেই। সিনেমার পেছনে পয়সা ঢালতে ভয় পাচ্ছেন সবাই।

রাজীব বলেন, এ পরিবর্তন দেখেই বাংলাদেশে পা রাখেন তিনি। ২০১৮তে বড় হিট সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন। ‘নকাব’ সিনেমায় তার নায়ক শাকিব খান। সেই সাফল্যের ওপরে ভর করেই তিনি দুটি বড় সিনেমা তৈরির কাজ পেয়েছিলেন। একটা ‘অপারেশন জ্যাকপট’।

তিনি বলেন, এ সিনেমাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হবে। তদানীন্তন বাংলাদেশ সরকার ছিল সিনেমার প্রযোজক। সেই সিনেমায় আটজন নায়ক। টেকনিশিয়ান কলকাতার হলেও সব অভিনেতা বাংলার। ফ্রান্স, মুম্বাই আর বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৭০ দিনের কাজ।

রাজীব বলেন, বাংলাদেশের শুটিং শেষ করার পরেই বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। ফলে ফ্রান্স আর মুম্বাইয়ের শুটিং এখনো বাকি। একইভাবে ‘চিতা’ সিনেমার কাজও মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায়। এ সিনেমার নায়ক অনন্ত জলিল ও নায়িকা তার স্ত্রী বর্ষা।

এখন কি তাহলে বাংলাদেশে সিনেমা ও নাটক তৈরি হচ্ছে না?—এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক বলেন, হচ্ছে। কম হচ্ছে। একমাত্র শাকিব খান বাংলাদেশ বিনোদন দুনিয়াকে ধরে রেখেছেন। বাকিরা ওদের মতো করে সফল হতে পারছেন কই?

রাজীব বলেন, আগের সরকারের পতন ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে। অর্থনৈতিক কাঠামোয় প্রভাব পড়েছে। বিনোদন দুনিয়ায় সেভাবে লগ্নি হচ্ছে না। ভিসা সমস্যার কারণে বাংলার শিল্পীরাও ভারতে কাজ করতে আসতে পারছেন না।

পরিচালক রাজীব বিশ্বাস অবশ্য হাল ছাড়েননি। কলকাতায় তার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন। ছোটপর্দা ও বড়পর্দা নিয়ে ছুৎতমার্গ নেই। তবে সিনেমার দিকেই মনোযোগ বেশি।

দেবের ‘খাদান’ হিট করায় ভরসা বেড়েছে। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমার বাজার আবারও ফিরছে। অর্থাৎ আবার আগের মতো সিনেমা বানাতে পারব, রাজীবের দুচোখ নতুন স্বপ্নে বিভোর।

সূত্র: যুগান্তর




গাংনী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সনদ ও অর্থ আত্মসাতের তদন্ত 

মেহেরপুরের গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ও বয়স জালিয়াতি করে পদে বহাল থাকার অভিযোগসহ অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।

আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে দুদক কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কলেজের বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখেন দুদক কর্মকর্তারা।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ খোরশেদ আলী ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ পদে বহাল রয়েছেন। এছাড়া কলেজের বিভিন্ন ফান্ডের টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত চালাতে কলেজে যায় দুদকের একটি দল। অভিযান চলাকালে অধ্যক্ষ খোরশেদ আলী কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। তবে অভিযানের সময় কলেজে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং অনেক শিক্ষক-কর্মচারী দুদক কর্মকর্তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন বলে জানান তারা।

দুদকের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন, “আমরা কমিশনের আদেশে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজে অভিযান পরিচালনা করেছি। কলেজের অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে জন্ম সনদ, সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় আজ তাঁকে কলেজে পাইনি। তবে আমরা সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছি। কিছু হিসাব চেয়েছি, যেগুলো তিনি দিতে পারেননি, পরে দিবেন বলে জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




গাংনী জুড়ে বোমা আতঙ্ক!

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলাবাসী এখন বোমা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ী ও ধনী শ্রেনীর মানুষের বাড়িতে একের পর এক বোমা চিরকুট ও কাফনের কাপড় রেখে হুমকী দেওয়ায় জনমনে তৈরী হয়েছে নতুন করে আতংক। বোমা উদ্ধারের ঘটনায় কাউকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে, পুলিশ বলছে দূর্বৃত্তদের সনাক্তে কাজ করছে তারা।

সম্প্রতি গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে হাতবোমা ও টিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। চিরকুটে লেখা হয় ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ফিরে আসবে, আমরা চরগোয়াল গ্রামের মানুষ। আমরা নদীর এপার ওপার আছি বিএনপির একটি লোকও যেনো গ্রাম ছেড়ে পালাতে না পারে।’ এভাবেই হুমকী সংবলিত চিরকুট লাল কসটেপ মোড়ানো হাতবোমা রেখে যায় দূর্বৃত্তরা। পরে সেটি উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া গাংনী পৌর শহরের চৌগাছা গ্রামের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের বাড়ির গেটের সাথে দুটি বোমা, কাফনের কাপড়ও চিরকুট রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।

এছাড়া এলাঙ্গী গ্রামের সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সুমনের বাড়িতে, গোপালনগরের বিএনপি নেতা রবিউল ইসলামের দোকানের সামনে বোমা কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে যায়। এভাবেই চাকরীজীবী ও ব্যবসায়ীদের বাড়িতে বোমা কাফনের কাপড় ও জিবন নাশের হুমকী সম্বলিত চিরকুট রেখে হুমকী দিচ্ছে। চিরকুটে তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য দিচ্ছে মোবাইল নম্বর।

শুধু এসব ব্যক্তি নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গত চার মাসে প্রায় ১৪ টি হাতবোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। যার অধিকাংশ বোমার সাথে চিরকুট ও কাফনের কাপড় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় উপজেলাবাসির মাঝে নতুন করে তৈরী হয়েছে বোমা আতংক। এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ দক্ষিণ পশ্চিামাঞ্চলের মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সর্বত্রই ছিল সন্ত্রাস কবলিত। তৎকালিন সময়ে সন্ত্রাস দমণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৭ টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৩ টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বোমা, কাফনের কাপড় এবং চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় আমরা আতংকিত হয়ে পড়েছি। পুলিশ আজো এসব ঘটনায় জড়িতদেরকে সনাক্ত ও আটক করতে পারেনি। চরগোয়াল গ্রামের বাসন্দারা জানান, বোমা ও চিরকুট আমাদের গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের বের করে আইনের হাতে না দিলে আমার গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাবে।
গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান্ আন্জুমান আরা বলেন, বিভিন্ন গ্রামের বোমা রাখছে দূর্বৃত্তরা। মানুষকে হুমাকি দিচ্ছে। এগুলিকে দ্রত দতন্ত আইনের আওতায় না আনলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হবে।

গাংনী পৌরসভার প্রথম মেয়র সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত আমিরুল ইসামের ছেলে গাংনী বাজার কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন শাওন বলেন. আমার বাবাকে গাংনী বাজারে বোমা মেরে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। আমরা তার বিচার আজও পাইনি।

গাংনী বাজারের ব্যবসায়ী বকুল, সাবেক চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, মঙ্গল স্বর্নকারকে বোমা হামলায় হত্যা করেছিল সন্ত্রীনরা। বর্তমানে বোমা আতংক ছড়িয়েছে গাংনীতে। পুলিশ দ্রত তদন্ত করে দোষীদের আইনে সোপর্দ করতে হবে। তা না হলে গাংনী আবারও রক্তাক্ত জনপদে পরিনত হবে।

গাংনী থানা ওসি (তদন্ত) মো: আল মামুন-বলেন, বোমা সাদৃশ বেশ কয়েকটি বস্ত উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলি বোমা কিনা তা পরীক্ষা করে বোমাবাজ ও সন্ত্রাসীদেরকে চিহ্নিত করতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।