আজ পহেলা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব

আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছে জীবন। এর মধ্যেই তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে উড়ায়ে দিতে, পুরনো বছরের আবর্জনা দূর করতে আজ এসেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব—পহেলা বৈশাখ।

দিনটি প্রতিবছর নবশক্তি, নবোদ্যম এবং গভীরতর সাংস্কৃতিক চেতনা নিয়ে ফিরে এসে আরো উজ্জ্বল করে তোলে বাঙালির আত্মপরিচয়।

দুঃখ-কষ্ট ভুলে, হতাশা-গ্লানি মুছে আজ নবরূপে আত্মশক্তিতে উজ্জীবিত হবে সবাই। অপরিমেয় শুভ্র সাংস্কৃতিক শক্তিতে ঐতিহ্যের নবরূপায়ণ হবে।

আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের যাত্রা। বাংলা নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের দিন নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণের দিন।

হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির বহমান ধারাকে ধারণ করে নববর্ষ আজ এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তাই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। উত্সবের আমেজ, রঙিন পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনভর মুখর হয়ে থাকবে জনপদ।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অতীতে পহেলা বৈশাখে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেত হালখাতার উত্সব, যেখানে ব্যাবসায়িক হিসাব-নিকাশের নতুন সূচনা হতো। গ্রামবাংলায় মিষ্টিমুখ, নিমন্ত্রণ ও নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে সম্পর্ক নবায়নের এক সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠত। যদিও সময়ের সঙ্গে এই প্রথা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। তবু দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখনো হালখাতার আয়োজন চোখে পড়ে।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাস দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ‘ফসলি সন’ থেকে ‘বঙ্গাব্দে’ রূপান্তরিত হয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।

কালের পরিক্রমায় পহেলা বৈশাখ শুধু অর্থনৈতিক বা কৃষিভিত্তিক উত্সব হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাকিস্তান আমলে এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে প্রভাতী অনুষ্ঠান ছিল তৎকালীন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বাঙালির জাতিসত্তা পুনর্জাগরণের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

২০১৬ সালে ইউনেসকো এই শোভাযাত্রাকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই স্বীকৃতি শুধু একটি উত্সবকে নয়; বরং বাঙালির সংগ্রাম, চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।




মেহেরপুরের গড়পুকুর ফুটকাট মালিকদের প্রেস ব্রিফিং

মেহেরপুরের গড়পুকুরের ফুটকাট মালিকগণ এক প্রেস ব্রিফিং করেন।

আজ সোমবার রাত ৯টায় গড়পুকুরে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেস ব্রিফিংয়ে ফুটকাট মালিকগণের পক্ষ থেকে ফ্রুডি ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রিমেল একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তির পরিসমাপ্তি ঘটান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মোঃ রাশেদুল ইসলাম রিমেল বলেন, ‘‘ফেসবুক পোস্টটি ছিল গড়পুকুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা বন্ধ। ১৮ লাখ টাকায় গড়পুকুর ইজারা নিয়ে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। যারা ইজারা নিয়েছে তারা প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা এবং এককালীন ১০ হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) দাবি করেছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অবশেষে সকল ব্যবসায়ী ও মালিকগণের মধ্যে আলোচনা শেষে একটি বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে গড়পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাস্তবায়ন করা যাবে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এককালীন ৩,০০০ টাকা এবং নাইটগার্ড ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ৭০ টাকা করে উত্তোলন করা হবে। এই উদ্যোগে সকল ব্যবসায়ী একমত হয়েছেন এবং তারা সবার সম্মতিতে কাজ শুরু করবেন।’’

গড়পুকুর ফুটকাট মালিকগণের পক্ষ থেকে রাশেদুল ইসলাম রিমেল উপস্থিত সকলের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে সৃষ্ট বিভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন আবার খাবো-৩ এর স্বত্বাধিকারী মোঃ সজিব, মামা ফুচকার স্বত্বাধিকারী মোঃ জিয়া এবং বার্গার বাইটসের স্বত্বাধিকারী রাকিবুল হাসান।




মেহেরপুরে একুশে টিভির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে একুশে টিভির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ সোমবার বিকেলে মেহেরপুর প্রেস ক্লাব থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

পরে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে একুশে টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের একুশে টিভির পক্ষ থেকে পিঠাপুলি, দই, চিড়া ও মিষ্টি পরিবেশন করা হয়।

মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক রুহুল কুদ্দুস টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক ও সুধীজনরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।




মুজিবনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সুফিয়া খাতুন (৬০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার টুঙ্গি গোপালপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সুফিয়া খাতুন ওই গ্রামের খেদের আলীর স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সুফিয়া খাতুনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা হত্যার ইঙ্গিত বহন করে।

নিহতের স্বামী খেদের আলী বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তার আপন ভাই আখের আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত ৫ এপ্রিল প্রতিপক্ষরা দলবল নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

তিনি আরও জানান, দুপুরে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন তার স্ত্রী ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে এবং শরীর রক্তাক্ত।

খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দর্শনায় ২৩ বোতল মাদকসহ গ্রেফতার ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ২৩ বোতল কোডিন ফসফেট যুক্ত  WINCERE নামীয় সিরাপ সহ মিলন উদ্দিন (৪১) ও আব্দুল মান্নান(৪০) কে আটক করে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।  

আজ সোমবার সকাল ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটকৃত মিলন উদ্দিন দর্শনা থানার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে ও মান্নান দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর সীমান্তবর্তী গ্রামের  চান্দু মাস্টারের এবং দর্শনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানরত মিলনের চায়ের দোকান তল্লাশি করে ২৩ বোতল মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ওই সময় দোকানের মালিক মিলন উদ্দিন ও আব্দুল মান্নান কে আটক করা হয়। 

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।




দর্শনায় নিখোঁজের একদিন পর নর্দমা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নিখোঁজের একদিন পর নর্দমা থেকে উদ্ধার হলো মাহিন (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ। আজ সোমবার সকাল ৭ টার দিকে দামুড়হুদা  উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা  ইউনিয়নের সাড়াবাড়িয়া  গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের মামুন আলীর ছেলে। 

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস আলী জানান, রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। 

আজ সোমবার সকালে বাড়ির পাশের নর্দমায় পানিতে মাহিনকে ভাসতে দেখা যায়। পরে পরিবারের লোকজন নর্দমা থেকে মাহিনের মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমরা পুলিশ পাঠেয়েছি ঘটনা তদন্ত পৃর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামি রিগান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামীর ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত রিগান হোসেন সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু পার্শ্ববর্তী তেরোঘরিয়া গ্রামে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নানাবাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান হোসেন তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দোকানঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে আসামি পালিয়ে যায়। পরে রিগানের মা ছকিনা খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে নানাবাড়িতে রেখে যান। জ্ঞান ফিরে পেলে শিশুটি ঘটনাটি জানায়। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নারী শিশু নির্যাতন দম ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামী পক্ষে পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।




জীবননগরে তেল পাম্পে বিশৃঙ্খলার অপরাধে এক যুবকের কারাদণ্ড 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জীবননগর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে এক যুবককে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা শহরের জীবননগর ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্ত যুবক হলেন- মহেশপুর উপজেলার তেলটুপি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সিফাত হোসেন (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে সিফাত হোসেন নামের এক যুবক জীবননগর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসেন। ওই সময় সে পাম্পে অহেতুক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন। এ সময় উপস্থিত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে অশোভন আচারণ করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ওই সময় আটক যুবকের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সোমবার দুপুরে সাজাপ্রাপ্ত যুবককে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




দর্শনায় ১০টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলবন্দর থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। উদ্ধার করা স্বর্ণের বারের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারগুলো আটক ব্যক্তির কোমর থেকে উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি আলমগীর খান (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ-রূপা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মোবারকপাড়ার মৃত বাদল খানের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, অবৈধভাবে ভারতে স্বর্ণ পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল দর্শনা রেলস্টেশনে অবস্থান নেয়। এ সময় এক ব্যক্তি ভারতের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে।

পরে তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে খাকি স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দুটি পোটলা উদ্ধার করা হয়। ওই পোটলা থেকে ১০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে।




আলমডাঙ্গার অনুপনগরে ৮ শিক্ষার্থীকে পিটালেন প্রধান শিক্ষক

আলমডাঙ্গার অনুপনগরে আরশোলা দেখে চিৎকার করার অপরাধে ক্ষোভে অন্তত ৮ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয়।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, গত ১১ এপ্রিল সকালে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। স্কুল শুরু হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষে তেলাপোকা দেখে ভয়ে চিৎকার করে তারা। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তত আটজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয় বলে জানান অভিভাবকেরা।

ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেন, ছোট শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়, কিন্তু সেখানে এমন শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের আমি নিজের সন্তানের মতো দেখি। শাসন করতে গিয়ে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তদন্তের জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিন বলেন, তিনি এখনো বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।