পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কুষ্টিয়ায় শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ আনন্দ মিলনী ও সংগীত সন্ধ্যা। গত মঙ্গলবার শহরের আড়ুয়াপাড়াস্থ আমিন এগ্রো মিলস চত্বরে আয়োজনটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর অঞ্চল কুষ্টিয়ার কর কমিশনার ও সংগীতশিল্পী মোঃ মহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়। এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি মানুষের মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় শিল্পীদের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় এবং নতুন প্রজন্ম সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত আয়োজনের শুরুতেই তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন কবি, লেখক ও সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রবিউল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পীদের বিকাশ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজু আহমেদ, একে এম শোয়েব, ড. মোঃ শরীফুল ইসলাম দুলু, ওস্তাদ আবু সাইদ বিশ্বাস এবং মোঃ আবু জাফর মল্লিক।
বিশেষ অতিথি একে এম শোয়েব তার বক্তব্যে বলেন, ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্ত কেবল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তিনি আরও বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা একটি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, আর এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সহায়তা করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন কুষ্টিয়ার ব্যান্ড জগতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবিউল ইসলাম রবি, সংগীতশিল্পী ফারহানা জাবির, কর পরিদর্শক বজলুর রহমান, শিল্পী মাসুদ রানাসহ আরও অনেকে। তাদের পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে ওঠেন এবং পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে এবং শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা।