দেশের প্রত্যেকটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা হবে

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ গড়ে তোলার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে ক্রীড়াবিদরা আগামীতে বিকেএসপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। সারাদেশের সবগুলো জেলায় একযোগে ৮টি ইভেন্টে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই প্রতিযোগিতার সার্বিক খবর রাখছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিকেএসপির সম্ভাব্য আঞ্চলিক ক্যাম্পাসের স্থান পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নতুন অধ্যায়ের পথে হেঁটে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে ক্রীড়া ইভেন্টগুলো পৌঁছে দিতে সরকার নানা ভাবে

কাজ শুরু করেছে। বিগত দিনের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে স্পোর্টসের বাংলাদেশ।

পরিদর্শনস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ।

এছাড়া রাত ৮টায় জেলা শহরের একটি রিসোর্টে সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় জেলার খেলাধুলার সার্বিক অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জেলায় একটি জিমনেসিয়ামসহ সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




আলমডাঙ্গায় ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার

আলমডাঙ্গায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক বিক্রয় ও সংরক্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচকমলাপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) আহম্মদ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার রংপুর বিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে রংপুর গ্রামের মৃত মিনারুল মণ্ডলের ছেলে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা বিক্রয়, সংরক্ষণ ও হেফাজতে সহযোগিতার অভিযোগে আরও দুইজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




কার্পাসডাঙ্গায় মাদ্রাসা শিক্ষককে বিরুদ্ধে ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল ইসলাম মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, মাদ্রাসার এক ছাত্র (ছদ্মনাম: সারাফাত), যার বাড়ি জীবননগরের ডুমুরিয়া এলাকায়, তাকে কয়েক মাস আগে বলাৎকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রটি ছুটিতে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে গত রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে ওই রাতেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক নুরুল ইসলামকে ডেকে এনে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এবং চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, নুরুল ইসলাম আগে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করতেন। তিনি কীভাবে শিক্ষক হলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, নুরুল ইসলাম শিবনগর এলাকা থেকে ছাত্র সংগ্রহ করে হুদাপাড়ায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ ছিল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, আগে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করলেও পড়াশোনা করে পরবর্তীতে শিক্ষক হয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।




মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট

বাসের চালক ও শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল খেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে মেহেরপুর থেকে ছেড়ে যায়নি কোন বাস।

এর আগে রোববার প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পরও মেলেনি কোন সমাধান। রাতে শ্রমিকদের সাথে বসে এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

মেহেরপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবীব সোনা জানান, রোববার দুপুরে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় গোল্ডেন ট্রাভেলস নামের একটি বাস। বাসটি আমঝুপি এলাকায় পৌঁছালে একই পথে চলাচলরত একটি মোটরসাইকেলের ওভারটেক করতে গিয়ে বিরোধ বাধে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী রাব্বি বাসের চালক সোহেল রানা ও সুপারভাইজারকে মারধর করে। এই মারধরের প্রতিবাদে এ রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় তারা এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলেও জানান তিনি।

এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, প্রশাসনের সাথে বসে আজ এর সুষ্ঠু সমাধান চান তারা। সমাধান না হলে জেলার আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাতেও সমাধান না হলে প্রয়োজনে দূরপাল্লার সকল পরিবহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রমিকরা।




ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা গাংনীর সেই আলোচিত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

ছাত্রীকে ধর্ষন ও অশ্লীল ভিডিও কান্ডে ভাইরাল হওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ কে চুড়ান্ত বরখাস্ত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটি।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান গত ২৯ এপ্রিল বরখাস্তের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল (২৪ফেব্রুয়ারি২০২৬)মঙ্গলবার মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্থন করে জামিনের আবেদন করে। বিচারক তার জামিন আবেদন নাম মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত জেল হাজতে রয়েছে প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আতোয়ার জানান, মামলার আলামত ফরেনসিক প্রতিবেদনের  জন্য ঢাকায়  পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় সপ্না খাতুন গত ২৪ নভেম্বর সোমবার মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন। বিচারক আলী মাসুদ শেখ আবেদনটি আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করতে গাংনী থানাকে নির্দেশ দিলে গত ২৮ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। গাংনী থানার মামলা নং ৩৪। আদালতের মামলা নম্বর ৩৬৬/২৫।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৫-০৪-২০২৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৮৯তম সভার ৮৯(২) নং আলোচ্যসূচির ১২ (বার) নং ক্রমিকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেহেরপুর জেলার গাংরী উপজেলাধীন এইচ. বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক জনাব রাজু আহমেদ-কে চূড়ান্ত বরখাস্তকরণে অনুমতি প্রদানের জন্য আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সভায় চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন মঞ্জুর করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সপ্না খাতুন তার মামলার এজাহারে দাবি করেছে, কাজিপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে প্রধান শিক্ষক মোঃ রাজু আহমেদ ২০২২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন তার অফিসে একা ডেকে নিয়ে নানা রকম প্রলোভনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেয়। বাধা দিতে গেলে মুখ চেপে ধরে খুন করে ফেলার হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এভাবে ১০/১১/২০২৫ সাল পর্যন্ত দিনের পর দিন আমাকে স্কুলের অফিস রুম সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষন করতে থাকে।

এছাড়া রাজু মাষ্টার তার মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন করেন এবং যৌনাঙ্গ প্রদর্শন সহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে যৌন হয়রানী করতে থাকে দিনের পর দিন।

এই ভাবে আসামী আমার কুষ্টিয়াতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কুষ্টিয়া শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে নিয়ে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষন করত।

শেষ ঘটনার তারিখ ও সময়ে বিয়ের কথা বলে তার অফিসে স্কুল ছুটির পরে ডেকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে একাধিক বার জোর পূর্বক ধর্ষন করে।

নিরুপায় হয়ে ধর্ষক রাজু মাষ্টারের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় মামলা দায়ের করেছি।

মামলায় তিনি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সপ্নার আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক রাজু ও তার সহযোগীদের চাপের মুখে রয়েছেন।

বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ জেল হাজাতে থাকার কারনে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের বড় ভাই মিজানুর রহমান মজনু আর নেই

মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও জেলা প্রেস ক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দুর বড় ভাই মিজানুর রহমান মজনু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

সোমবার ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

মরহুম মিজানুর রহমান মজনু পুরাতন বাস স্ট্যান্ড পাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত ফরহাদ আলীর বড় ছেলে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা গ্রহণের পরও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার জানাজার নামাজ আজ সোমবার বাদ আছর হোটেল বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।




আলমডাঙ্গায় মোবাইল ছিনতাইকারী আটক

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এক মোবাইল ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল আলমডাঙ্গা আলতায়েবা মোড়ের ফ্রেন্ডস মেডিসিন কর্নারের কর্মচারী ও বেলগাছি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিল আহমেদ কর্মস্থল থেকে সাইকেলযোগে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন।

তিনি আলমডাঙ্গা সাতকপাট ব্রীজ সংলগ্ন পাকা রাস্তায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ভুক্তভোগী সাকিল আহমেদ আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বানী ইসরাইল ও এসআই (নিঃ) মো. আলমগীর কবীর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত মো. সাহিল রহমান ডন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুষ্টিয়া ইবি থানার শংকরদিয়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২ মে বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রাত ১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।




দর্শনার মাঠে পাকা ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

দর্শনার বিভিন্ন মাঠে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি, শিলা ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে পাকা ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তারা।

পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকায় অনেক কৃষকের রাতে ঠিকমতো ঘুমও হচ্ছে না। ধান ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গত শনিবার উপজেলার পারানপুর, রামনগর, বেতেগাড়ী, নলগাড়ী ও সুন্দর মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে পাকা ধানে ভরে আছে মাঠ।

কৃষকরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকছেন কবে বৃষ্টি থামবে, কবে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় পাকা ধান গাছে অঙ্কুর (কল) বের হতে শুরু করেছে, যা ফলনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির কারণে দিনমজুররাও পড়েছেন চরম বিপাকে। কাজ না থাকায় অনেকেই খেয়ে-না-খেয়ে দিন পার করছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ইরি ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন এবং উফশী ধানের ফলন ৬ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ধরা হয়েছিল। তবে বর্তমান আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পারানপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে সরোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ২ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে ধান ছিল। আগাম চাষ করায় কিছুটা ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। বিঘাপ্রতি ২২-২৩ মণ ফলন পেয়েছি। তবে বৃষ্টির কারণে খড় মাঠেই গাদা করে রেখে আসতে হচ্ছে।”

একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না। গাছে অঙ্কুর বের হয়ে যাচ্ছে।”

রুদ্রনগর গ্রামের ভেগা মিয়া বলেন, “ধান পেকে গেছে, পানির মধ্যেই কেটে ফেলতে হচ্ছে।”

রামনগর গ্রামের জমির আলী জানান, “এই সময়টায় ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ জোরেশোরে চলার কথা ছিল। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ। ঘরে বসে সময় পার করছি, ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”

এ অবস্থায় দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দামুড়হুদায় জাল নোট প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার আয়োজনে এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি দর্শনা শাখার সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি ম্যানেজার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার উপ-পরিচালক আসলাম হোসেন, উপ-সহকারী পরিচালক গোলাম ফজলে রাব্বী রনি এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি দামুড়হুদা ও দর্শনা শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, রূপালী ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা, কৃষি ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক দর্শনা শাখার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও এনজিওর প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায় জাল নোট শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্লাইড শো উপস্থাপন করা হয়। এতে জাল নোটের বৈশিষ্ট্য এবং তা শনাক্তের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আঞ্চলিক পশুর হাটগুলোতে জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




আলমডাঙ্গার ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

ধার করা টাকায় বীজ কিনেছিলেন। ভোরের আঁধারে মাঠে গেছেন, রোদ-ঝড় উপেক্ষা করে সারাদিন পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময় দেখলেন মোচায় দানা নেই। মাঠ শূন্য। আর বুকের ভেতরে একটাই প্রশ্ন এখন কী হবে? এটি কোনো একজন কৃষকের গল্প নয়; চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের এবারের মৌসুমের বাস্তব চিত্র।

বাংলাদেশের ভুট্টার অন্যতম প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা। অথচ এ মৌসুমে আলমডাঙ্গায় যা ঘটেছে, তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় বরং মানবসৃষ্ট বিপর্যয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নকল বীজ, ভেজাল সার এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো কৃষক।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন। কিন্তু মাঠের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০-৫০ মণ ফলনের কথা, সেখানে কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১৫-২০ মণ। জগন্নাথপুর, শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমির ভুট্টার মোচায় দানা নেই। গাছ ও মোচা থাকলেও ভেতরে শূন্য যার জন্য কৃষকরা নকল বীজকে দায়ী করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে নামীদামী কোম্পানির মোড়কে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও নিম্নমানের বীজ। বাইরে থেকে বোঝার উপায় না থাকায় তারা প্রতারিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সারের বাজারেও চলছে কারসাজি। অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেট করে সারের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, চাহিদার সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং ভেজাল সার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ এক কৃষক বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা শুধু পরামর্শ দেন। কিন্তু নকল বীজে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যায়, আর সেই ডিলারদের কিছুই হয় না। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইব?”

কৃষক পিন্টু রহমান বলেন, “ঋণ করে ভুট্টার বীজ কিনেছি। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এখন দেখি মোচায় দানা নেই। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব এই চিন্তায় ঘুম আসে না।”

কৃষক বিপুল আলী বলেন, “সার আর বীজ কিনতে যা ছিল সব শেষ করেছি। দোকানদারের কথা বিশ্বাস করে বুনেছি। কিন্তু ফলন নেই বললেই চলে। পুরো মাঠ এখন শূন্য। কৃষি অফিসে বললেও শুধু পরামর্শ পাই, বাস্তব কোনো সমাধান নেই।”

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান পলাশ বলেন, চুয়াডাঙ্গার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে একই জমিতে বারবার ভুট্টা চাষের ফলে মাটির উর্বরতা কমছে। তিনি বিকল্প হিসেবে গম চাষের পরামর্শ দেন এবং জানান, বাজার সিন্ডিকেট দমনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার ছাড়া বীজ না কেনার আহ্বান জানান তিনি।

তবে কৃষকদের প্রশ্ন যারা ইতোমধ্যে ঋণের বোঝা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য এই পরামর্শ কতটা কার্যকর? প্রতি বছর কৃষি খাতে বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবের কারণে নকল বীজ ও ভেজাল সারের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের দাবি নকল বীজ ও ভেজাল সার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, মাঠপর্যায়ে বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।