দর্শনায় আদিবাসী পাড়ায় স্যানিটেশন বিষয়ক উঠান বৈঠক

দর্শনা পৌরসভার রামনগর কালিদাসপুর আদিবাসী পাড়ায় স্যানিটেশন বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০ টার দিকে মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগী আদিবাসী নারীরা অংশগ্রহণ করেন। উঠান বৈঠকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা পরিছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মনিরুজ্জামান মান্নান, ম্যানেজার মকবুল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিল্লাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন সুপারভাইজার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।




দামুড়হুদায় গণহত্যা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ সম্পর্কে আলোচনা সভা

দামুড়হুদায় ২৫ শে মার্চ গণ হত্যা দিবস পালন উপলক্ষ্যে গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মুক্তি যুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১ টার সময় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সভাকক্ষে এই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণহত্যা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে শুরুতেই তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা বক্তব্যে রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল । এসময় উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ মোহাঃ মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, দামুড়হুদা মডেল থানার তদন্ত (ওসি)

সুলতান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, দামুড়হুদা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর রচিত গণ ত্যা দেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। সেই ক্ষত আজও আমরা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বর্বর রচিত পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা রুদ্ধ করতে চেয়েছিল।




দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ সভার আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সভায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোকপাত করে আলোচনা সভা করা হয়।

এসময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের এ দিনে যে সকল বাঙালি প্রাণ দিয়েছে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়, যা ইতিহাসে এক বর্বরতম গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনটি জাতির জন্য শোকাবহ হলেও একই সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতার চেতনা ও সংগ্রামের প্রেরণা জাগিয়ে তোলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।’

এসময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন, প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম.তারেক উজ জামান, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার(ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজ-উল ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা, তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলার সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিকবৃন্দরা।




গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বুধবার(২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়। এ কর্মসূচি আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ১২ টি টিম ভাগ হয়ে এ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা শুরু হয়।

এসময় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিকবৃন্দ ও জেলার গণমাধ্যম কর্মী এবং বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সেচ্ছাসেবকরা। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসুচি শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং মহাসড়কের পাশে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়।

এসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম.তারেক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার(ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজ-উল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, প্রমুখ।




আলমডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় গনহত্যা দিবস উৎযাপন

আলমডাঙ্গায় জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে বদ্ধভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শহীদদের স্মরনে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের স্মরনে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার,উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার সাজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবাব আলী,উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ,পল্লী উন্নয়ন ব্যাংকের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজ সেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, খবির উদ্দিন,বীর মুক্তিযুদ্ধা আনছার আলী সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ।

আলমডাঙ্গায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তারের নেতৃত্বে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। এসময় কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযুদ্ধা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বুধবার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানীয় বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা জানানোর পরে উপজেলা হলরুমে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে নিহত শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের এক মর্মন্তুদ অধ্যায়। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ভয়াবহ গণহত্যা চালায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।




কুষ্টিয়ার মিরপুরে যাত্রীবাহী ট্রেনে মিলল প্রায় সোয়া ৬ কোটি টাকার মাদক

কুষ্টিয়ায় মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক এলএসডি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহল দল মিরপুর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় মাদক এলএসডি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এলএসডির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

এছাড়া মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তবর্তী মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও প্রাগপুর নদীর ঘাট এলাকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ এবং পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৫ টাকা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সব প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।




শিল্প-সংস্কৃতি মানুষের মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কুষ্টিয়ায় শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ আনন্দ মিলনী ও সংগীত সন্ধ্যা। গত মঙ্গলবার শহরের আড়ুয়াপাড়াস্থ আমিন এগ্রো মিলস চত্বরে আয়োজনটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর অঞ্চল কুষ্টিয়ার কর কমিশনার ও সংগীতশিল্পী মোঃ মহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়। এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি মানুষের মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় শিল্পীদের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় এবং নতুন প্রজন্ম সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত আয়োজনের শুরুতেই তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন কবি, লেখক ও সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রবিউল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পীদের বিকাশ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজু আহমেদ, একে এম শোয়েব, ড. মোঃ শরীফুল ইসলাম দুলু, ওস্তাদ আবু সাইদ বিশ্বাস এবং মোঃ আবু জাফর মল্লিক।

বিশেষ অতিথি একে এম শোয়েব তার বক্তব্যে বলেন, ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্ত কেবল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তিনি আরও বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা একটি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, আর এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সহায়তা করে।

সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন কুষ্টিয়ার ব্যান্ড জগতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবিউল ইসলাম রবি, সংগীতশিল্পী ফারহানা জাবির, কর পরিদর্শক বজলুর রহমান, শিল্পী মাসুদ রানাসহ আরও অনেকে। তাদের পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে ওঠেন এবং পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

আয়োজকরা জানান, ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে এবং শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা।




সাংস্কৃতিক মন্দাভাব কাটিয়ে ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’র বসন্ত মেলা

দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেল কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’র উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আঙিনায় শুরু হয়েছে সংগঠনের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮ দিনের বসন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

বর্ণিল আয়োজনে সেজে ওঠা এই উৎসব যেন হয়ে উঠেছে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের এক প্রাণের মিলনমেলা।

কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ‘হিন্দোল’-এর বর্তমান ও প্রাক্তন শিল্পীরা এক মঞ্চে মিলিত হয়ে তৈরি করেছেন আবেগঘন এক পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইমা ইসলাম, রোকসানা পারভীন, প্রমীত হাসান, সৃষ্টি, সুজন রহমান, হাসান হুসাইন, নন্দিতা, রূপন্তী, তিশা, সৃজন, এসএম টিপু সুলতান ও শুভায়ন বিশ্বাস। তাঁদের সুরে সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন প্রথিতযশা কিবোর্ডিস্ট প্রতীক হাসান, যার সুরেলা পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আয়োজকরা জানান, ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’ সবসময়ই সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় বিশ্বাসী। নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ সংস্কৃতির পথে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্থানীয় শিল্পীদের জন্য একটি শক্ত মঞ্চ তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন থাকছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিদিনই জমে উঠছে আয়োজন।

এই বসন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এনআই এ্যাক্টের ১৮ ধারায় মেহেরপুরের যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের বিরুদ্ধে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন তার ব্যবসায়ী অংশিদার দেবাশীষ কুমার বাগচি। যার মামলা নম্বর- এস.সি-১৫৬/২০২৪।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সরফরাজ হোসেনের মৃদুলকে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুন জরিমানা ও এক বছরের সাজা প্রদান করে রায় দেন। রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট সময় পার হলেও আসামি সরফরাজ হোসেন মৃদুল কোন আপিল করেননি।

পরবর্তিতে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বাদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৬ ধারা মতে জরিমানা টাকা আদায়ের জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আবেদনটি আমলে নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোক করার জন্য মেহেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন । একই আদেশের কপি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকেও পাঠানো হয়।

আসামী শহীদ সরফরাজ মৃদুলের মালিকানাধীন ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকায় আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৩টি সিলিং ফ্যান, ১টি ফ্রিজ, ২টি খাট, এক সেট সোফা, ২টি আলমিরা, ১টি ড্রেসিং টেবিল, ১টি এসি। যেগুলোর মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজায় ৬৬৯২ নম্বর খতিয়ানে ২.৮২৯২ একর জমি, মেহেরপুর মৌজার ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০.০০৩২ একর জমি, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানে ০.০২৭৫ একর জমি, একই খতিয়ানের ভিন্ন দাগে ০.০০২৫ একর জমি, ১১৭১৮ নম্বর খতিয়ানের ০.০৪২১ একর জমি, হরিরামপুর মৌজায় ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০.৪৬ একর জমি। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩.৩৬৪৫ একর জমি যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, “ ক্রোক আদেশের নথি ঈদের আগ পযর্যন্ত পাইনি। ছুটি শেষ করে রবিবার অফিস করবো। আদেশ কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মেহেরপুরের হাসপাতাল রোডে সিঙ্গাপুর ক্লিনিকের উদ্বোধন

মেহেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে “সিঙ্গাপুর ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” ও “জীম ফার্মেসি-২”।

মঙ্গলবার সকালে শহরের হাসপাতাল রোডের সিঙ্গাপুর টাওয়ারে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উদ্বোধন করেন লেঃ কর্ণেল (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ মোঃ আব্দুল ওয়াহাব। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর শেখ মোঃ শরিফ রেজা (পান্না)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নব প্রতিষ্ঠিত এই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাশাপাশি জীম ফার্মেসি-২ এর মাধ্যমে এলাকাবাসী সহজে ও দ্রুত ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন বলেও জানান তারা।