মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের বড় ভাই মিজানুর রহমান মজনু আর নেই

মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও জেলা প্রেস ক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দুর বড় ভাই মিজানুর রহমান মজনু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

সোমবার ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

মরহুম মিজানুর রহমান মজনু পুরাতন বাস স্ট্যান্ড পাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত ফরহাদ আলীর বড় ছেলে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা গ্রহণের পরও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার জানাজার নামাজ আজ সোমবার বাদ আছর হোটেল বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।




আলমডাঙ্গায় মোবাইল ছিনতাইকারী আটক

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এক মোবাইল ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল আলমডাঙ্গা আলতায়েবা মোড়ের ফ্রেন্ডস মেডিসিন কর্নারের কর্মচারী ও বেলগাছি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিল আহমেদ কর্মস্থল থেকে সাইকেলযোগে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন।

তিনি আলমডাঙ্গা সাতকপাট ব্রীজ সংলগ্ন পাকা রাস্তায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ভুক্তভোগী সাকিল আহমেদ আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বানী ইসরাইল ও এসআই (নিঃ) মো. আলমগীর কবীর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত মো. সাহিল রহমান ডন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুষ্টিয়া ইবি থানার শংকরদিয়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২ মে বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রাত ১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।




দর্শনার মাঠে পাকা ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

দর্শনার বিভিন্ন মাঠে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি, শিলা ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে পাকা ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তারা।

পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকায় অনেক কৃষকের রাতে ঠিকমতো ঘুমও হচ্ছে না। ধান ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গত শনিবার উপজেলার পারানপুর, রামনগর, বেতেগাড়ী, নলগাড়ী ও সুন্দর মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে পাকা ধানে ভরে আছে মাঠ।

কৃষকরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকছেন কবে বৃষ্টি থামবে, কবে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় পাকা ধান গাছে অঙ্কুর (কল) বের হতে শুরু করেছে, যা ফলনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির কারণে দিনমজুররাও পড়েছেন চরম বিপাকে। কাজ না থাকায় অনেকেই খেয়ে-না-খেয়ে দিন পার করছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ইরি ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন এবং উফশী ধানের ফলন ৬ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ধরা হয়েছিল। তবে বর্তমান আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পারানপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে সরোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ২ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে ধান ছিল। আগাম চাষ করায় কিছুটা ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। বিঘাপ্রতি ২২-২৩ মণ ফলন পেয়েছি। তবে বৃষ্টির কারণে খড় মাঠেই গাদা করে রেখে আসতে হচ্ছে।”

একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না। গাছে অঙ্কুর বের হয়ে যাচ্ছে।”

রুদ্রনগর গ্রামের ভেগা মিয়া বলেন, “ধান পেকে গেছে, পানির মধ্যেই কেটে ফেলতে হচ্ছে।”

রামনগর গ্রামের জমির আলী জানান, “এই সময়টায় ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ জোরেশোরে চলার কথা ছিল। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ। ঘরে বসে সময় পার করছি, ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”

এ অবস্থায় দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দামুড়হুদায় জাল নোট প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার আয়োজনে এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি দর্শনা শাখার সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি ম্যানেজার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার উপ-পরিচালক আসলাম হোসেন, উপ-সহকারী পরিচালক গোলাম ফজলে রাব্বী রনি এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি দামুড়হুদা ও দর্শনা শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, রূপালী ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা, কৃষি ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক দর্শনা শাখার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও এনজিওর প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায় জাল নোট শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্লাইড শো উপস্থাপন করা হয়। এতে জাল নোটের বৈশিষ্ট্য এবং তা শনাক্তের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আঞ্চলিক পশুর হাটগুলোতে জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




আলমডাঙ্গার ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

ধার করা টাকায় বীজ কিনেছিলেন। ভোরের আঁধারে মাঠে গেছেন, রোদ-ঝড় উপেক্ষা করে সারাদিন পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময় দেখলেন মোচায় দানা নেই। মাঠ শূন্য। আর বুকের ভেতরে একটাই প্রশ্ন এখন কী হবে? এটি কোনো একজন কৃষকের গল্প নয়; চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের এবারের মৌসুমের বাস্তব চিত্র।

বাংলাদেশের ভুট্টার অন্যতম প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা। অথচ এ মৌসুমে আলমডাঙ্গায় যা ঘটেছে, তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় বরং মানবসৃষ্ট বিপর্যয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নকল বীজ, ভেজাল সার এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো কৃষক।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন। কিন্তু মাঠের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০-৫০ মণ ফলনের কথা, সেখানে কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১৫-২০ মণ। জগন্নাথপুর, শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমির ভুট্টার মোচায় দানা নেই। গাছ ও মোচা থাকলেও ভেতরে শূন্য যার জন্য কৃষকরা নকল বীজকে দায়ী করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে নামীদামী কোম্পানির মোড়কে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও নিম্নমানের বীজ। বাইরে থেকে বোঝার উপায় না থাকায় তারা প্রতারিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সারের বাজারেও চলছে কারসাজি। অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেট করে সারের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, চাহিদার সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং ভেজাল সার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ এক কৃষক বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা শুধু পরামর্শ দেন। কিন্তু নকল বীজে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যায়, আর সেই ডিলারদের কিছুই হয় না। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইব?”

কৃষক পিন্টু রহমান বলেন, “ঋণ করে ভুট্টার বীজ কিনেছি। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এখন দেখি মোচায় দানা নেই। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব এই চিন্তায় ঘুম আসে না।”

কৃষক বিপুল আলী বলেন, “সার আর বীজ কিনতে যা ছিল সব শেষ করেছি। দোকানদারের কথা বিশ্বাস করে বুনেছি। কিন্তু ফলন নেই বললেই চলে। পুরো মাঠ এখন শূন্য। কৃষি অফিসে বললেও শুধু পরামর্শ পাই, বাস্তব কোনো সমাধান নেই।”

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান পলাশ বলেন, চুয়াডাঙ্গার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে একই জমিতে বারবার ভুট্টা চাষের ফলে মাটির উর্বরতা কমছে। তিনি বিকল্প হিসেবে গম চাষের পরামর্শ দেন এবং জানান, বাজার সিন্ডিকেট দমনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার ছাড়া বীজ না কেনার আহ্বান জানান তিনি।

তবে কৃষকদের প্রশ্ন যারা ইতোমধ্যে ঋণের বোঝা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য এই পরামর্শ কতটা কার্যকর? প্রতি বছর কৃষি খাতে বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবের কারণে নকল বীজ ও ভেজাল সারের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের দাবি নকল বীজ ও ভেজাল সার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, মাঠপর্যায়ে বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




মেহেরপুরে জেলা বিএনপির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও অধীনস্থ পাঁচটি ইউনিট এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় মেহেরপুর কমিউনিটি সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিলন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলমগীর খান ছাতু, আব্দুল্লাহ, রেজাউল হক, মীর ফারুক, হাফিজুর রহমান; জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন ও আখেরুজ্জামান; সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম; মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান; গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজউদ্দিন কালু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল; পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক এহান উদ্দিন মনা; গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম; জেলা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম; জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেননসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সভায় সংগঠনকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা এবং সামনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।




গাংনীতে বিএনপি নেতা জাফরের বিরুদ্ধে দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন

গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ তুলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর আকবরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

রোববার বিকেলে উপজেলার মাইলমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে লক্ষীনারায়ণপুর ধলা ও মাইলমারি গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক নারীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ মাস্টারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবলু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন এবং মাইলমারি গ্রামের ইউপি সদস্য কাবের আলীর স্ত্রীসহ অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জাফর আকবর তার প্রভাব খাটিয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তারা দাবি করেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এছাড়া বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন এবং অতীতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জাফর আকবরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।




আলমডাঙ্গায় লোটাস আইসক্রিম ফ্যাক্টরির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার হাউসপুরে লোটাস আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য অনুপযোগী ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদনের দায়ে লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক সাজেদুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার দুপুরে পৌর এলাকার হাউসপুর সড়কে এ তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ফ্যাক্টরির ৮টি ফ্রিজে রাখা কয়েক হাজার আইসক্রিম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে আইসক্রিম ফ্যাক্টরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল।

সজীব পাল বলেন, ভেজাল আইসক্রিম শিশুসহ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হতে পারে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে। তাই এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।




দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজন গ্রেফতার

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ছোটদুধপাতিলা গ্রামে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এক ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ছোটদুধপাতিলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে বোরহান (২৬), জিয়াউর রহমানের ছেলে শামিম কবির ফরহাদ (২৮) এবং মৃত মনিরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া (৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে জেলা জুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ছোটদুধপাতিলা গ্রামে বোরহানের বসতবাড়ি থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বোরহানের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা, ফরহাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা এবং সোহাগ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি নিজে উপস্থিত থেকে এ অভিযান পরিচালনা করেছি। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”




দামুড়হুদায় দেড় বিঘা জমির ফলন্ত পেঁপে বাগান কেটে দিল দুর্বৃত্তরা 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক হতদরিদ্র কৃষকের দেড় বিঘা জমির ফলন্ত পেঁপে বাগান রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল হোসেন (৫৪) গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত বরকত মন্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলার গোবিন্দপুর নিমতলা ও বড়গালা মাঠে লিজ নেওয়া জমিতে পেঁপে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

জানা গেছে, উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নিমতলা মাঠে ১০ কাঠা এবং বড়গালা মাঠে ১ বিঘা মোট দেড় বিঘা জমিতে ছিল তার স্বপ্নের পেঁপে বাগান। নিজের কোনো আবাদি জমি না থাকায় অন্যের জমি লিজ নিয়ে এই চাষাবাদ করছিলেন তিনি।

ইসরাফিল জানান, গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে তিনি বাগান ঘুরে দেখেন, তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পরদিন রবিবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পান, তার পুরো পেঁপে বাগান কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, ফলন্ত গাছগুলো নির্মমভাবে কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমার চারটা ছেলে-মেয়ে, ভিটে ছাড়া কোনো জমি নেই। জমি লিজ নিয়ে চাষ করি। এখন আমার কী হবে? আমি কী করব? সব শেষ হয়ে গেল।”

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এর আগেও তার ভুট্টা ক্ষেত কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং গ্রামের মানুষ জানে কারা করেছে। তিনি দাবি করেন, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চান না গরিব মানুষ স্বাবলম্বী হোক। ফলে বারবার এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন তিনি। শুধু তিনি নন, আরও গরিব কৃষকের জমির ফসল এভাবে নষ্ট করা হয়, কিন্তু কেউ বিচার পান না।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”