মেহেরপুরের বুড়িপোতায় ধানের শীষের পক্ষে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের হরিরামপুর ২নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ধানের শীষের পক্ষে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক লিজন আলীর নেতৃত্বে এই লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসময় বুড়িপোতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক লিজন আহম্মেদ, জজ কোর্টের সাবেক পিপি সাইদুর রাজ্জাক টোটন, সাবেক ইউপি সদস্য আসেদ আলী, বকুল মাস্টার, ওয়াসিম, বিপুল রানা, সুফিয়ান, শ্রাবণ, রাব্বিসহ বুড়িপোতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। তারা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




মেহেরপুরে সবজির বাজার স্থিতিশীল, কাঁচা মরিচ ঊর্ধ্বমুখী

মেহেরপুর কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহ ও এই সপ্তাহে সবজির দাম স্থিতিশীল। তবে কাঁচা মরিচের দাম একটু বাড়তি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

পাইকারি বাজারে আলু ১৫ টাকায় অপরিবর্তিত, পেয়াজের দাম কমে ২৫-৩০ টাকায়, রসুন মান অনুযায়ী ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত, কাচা মরিচ ৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫ টাকা, আদা ১০ টাকা বেরে ১৪০ টাকা।

বেগুন ৩০ টাকা স্থিতিশীল, শিম ও মূলা ২০ ও ৪০ টাকায় স্থিতিশীল, পটল ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত, টমেটো ও শশা ৩০ ও ৬০ টাকায় স্থিতিশীল, পেঁপে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, বাধাকপি ১২ টাকা কেজি ও পালংশাক ১৫ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে আলু ২০ টাকায় অপরিবর্তিত, পেয়াজের ৪০ টাকায়, রসুন মান অনুযায়ী ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, কাচা মরিচের দাম বেড়ে ১২০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা।

বেগুন ৪০ টাকা, শিম ও মূলা ২০ ও ৪০ টাকায় , পটল ১৬০ টাকায়, টমেটো ও শশা ৪০ ও ৮০ টাকায়, পেঁপে ২৫ টাকায় স্থিতিশীল থেকে বিক্রি হয়েছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, বাধাকপি ২০ টাকা কেজি ও পালংশাক ২০ কেজিতে স্থিতিশীল থেকে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার মাছের বাজার রুই ৩৫০টাকা , তেলাপিয়া ১৮০ টাকা, পাঙাস ১৫০ টাকা, সিলভার ১৮০ টাকা, জিওল ৩৫০ টাকা, ইলিশ ১০০০ টাকা, হরিনা চিংড়ী ৯০০ টাকা,গলদা চিংড়ী ৮০০ টাকা, দেশি চিংড়ী ১০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

মুরগীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা , লেয়ার মুরগি ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে৷  ছাগলের মাংস ১১০০ টাকায় এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় অপরিবর্তিত।

তহ-বাজার সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ কাঁচাবাজার পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। সব ধরনের সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু কাঁচা মরিচের দাম বেশি যার একমাত্র কারন এসময় আমাদের এলাকায় কাঁচা মরিচ হয় না আমদানি করতে হয়।

নির্বাচনকে সামনে রেখে কাঁচাবাজারে কোন প্রভাব পরেছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই কয়দিন কোন প্রভাব পড়েনি আর সামনে প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের মেহেরপুর অত্যন্ত ছোট জেলা শুধু নির্বাচনের দিন কাঁচামাল আমদানি হয় না নির্বাচনের আগের দিন এবং পরের দিন স্বাভাবিকভাবে আমদানি হবে  বলে আমি মনে করি। তাছাড়া নির্বাচন কেন্দ্রিক যদি কোন অঘটন ঘটে সেটা আলাদা ব্যাপার।




মেহেরপুরে দুটি ওয়ার্ডে মহিলা সমাবেশ

মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদ অরুনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৫নং ওয়ার্ডের চক্রপাড়া ও  ৪ নং ওয়ার্ডের হঠাৎপাড়া মোড়ে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সায়েদাতুন্নেসা নয়ন, মেহেরপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নওশেল আহমেদ রনি, যুগ্ম আহবায়ক শিমুল বিশ্বাস।

এসময় ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন৷




আলমডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলমডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠে পুরস্কার বিতরণের সভায় সভাপতিত্ব করেন, কলেজের স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক খন্দকার শাহ আলম মন্টু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রুপালী ব্যাংকের ম্যানেজার মো আব্দুল খালেক, স্টান্ডাডার ব্যাংকেকর ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন, সাবেক মৎস্য  অফিসার খন্দকার শহিদুর রহমান, ইমাম খতিব পরিষদের সভাপতি শেখ শাফায়েতুল ইসলাম হিরো, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মো আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলমডাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার, কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, অভিভাবক মুস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ সিনিয়র সাংবাদিক জামসিদুল হক মুনি। সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন, বিশিষ্ট উপস্থাপক উপাধাক্ষ শামীম রেজা। ধারা বর্ণনায় ছিলেন, শাহানু সুলতান রুদ্র। অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিলেন, ইজাইফা রহমান কুঞ্জ, দিহান আলম, আবু দারদা। বর্ণাঢ্য আয়োজনে অভিভাবক, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে আনন্দমুখর পরিবেশে আলমডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।




দর্শনায় বিএনপির বিশাল মিছিল ও সমাবেশ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের রামনগর গ্রামে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বাবু খানের সমর্থনে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫ টার সময় ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী অফিস থেকে শুরু হয়ে দর্শনা পুরাতন বাজার মোড় ঘুরে একই স্থানে এসে মিছিলটি শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন, দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক দর্শনা পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হাফিজুল আলম মোল্লা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদার সাবু, বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম মন্ডল, নজরুল ইসলাম মন্ডল, ভিপি হারুন, লুৎফর রহমান, নজির আহমেদ, রেজাউল ইসলাম, শওকত আলী লিটন, দর্শনা পৌর যুবদলের সহ-সাধারন সম্পাদক জাহান আলী, আবু সাঈদ, মুকুল হোসেন, সোহেল তরফদার, মজিবার রহমান, উথান আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের দর্শনা থানা শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক মোরশেদুর রহমান লিঙ্কন, যুবদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, মুক্তার, বানচা মন্ডল, লিটন দাস, পলাশ কুমার দাস, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সবশেষে মেমনগর বিডি হাইস্কুল চত্ত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দর্শনা চিনিকল

আখেরী হুইসেল বাজিয়ে ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেরুজ আধুনিক চিনিকল একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুম নির্ধারিত সময়ের ৯ দিন আগেই বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার আখেরী হুইসেল বাজিয়ে সকাল ১০ টার” দিকে এ মৌসুমের আখ মাড়াইয়ের ইতি টানা হয়। দিনের পর দিন মাড়াই বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী, আখচাষি ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ মাড়াই মরসুম শেষ হলো। এতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কেরুজ চিনিকলের ২০২৫-২৬ আখ, মাড়াই মরসুমের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে আখচাষ হয়। এর মধ্যে কৃষকের জমি ৩ হাজার ৯৩৫ একর এবং কেরুর বাণিজ্যিক খামারের নিজস্ব জমি এক হাজার ৬২৫ একর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬৯ মাড়াই দিবসে ৭৬ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দৈনিক গড় মাড়াই হার ধরা হয় এক হাজার ১৫০ মেট্রিকটন। চিনি আহরণের গড় হার নির্ধারিত ছিলো ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪ হাজার ২৫৬ মেট্রিকটন।

মৌসুমের শুরুতে আধুনিকায়নকৃত (বিএমআরই) কারখানায় আখ মাড়াই শুরু করার কথা থাকলেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় পুরোনো কারখানায় মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোনো মিলে বিরতিহীনভাবে আখ মাড়াই চললেও ৩১ ডিসেম্বর পরিষ্কারের জন্য মিল বন্ধ রাখা হয়।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশদের নির্দেশে ১ জানুয়ারি থেকে আধুনিকায়নকৃত কারখানায় মাড়াই  শুরু হলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মিল কতৃপক্ষ ও চাষিদের । একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঘণ্টার পর ঘন্টা

বন্ধ থাকায় মিলের কর্মকর্তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এতে আখ নিয়ে চাষিসহ পাওয়ারট্রলি চালকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় এবং একাধিকবার বিক্ষোভের পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আবার পুরানো মিল দিয়ে আখ মাড়াই শুরু করে। এসময় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই মাড়াই সম্পন্ন হয়। এরপর ১৬ জানুয়ারি থেকে ৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় আধুনিকায়নকৃত কারখানায় মাড়াই চললেও সেখানেও মাঝে মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। চিনিকল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত মাড়াই দিবসের পরিবর্তে মাত্র ৫৮ কার্য দিরসে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ৬৫ হাজার ১ মেট্রিকটন আখ মাড়াই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১১ হাজার মেট্রিকটন কম।

এছাড়া চলতি মৌসুমের চিনি উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে  প্রায় সাড়ে ৮শ মেট্রিকটন কম। যদিও চিনি আহরণের গড় হার খুব বেশি কমেনি। কখনো কখনো তা বেড়েও গেছে। হিসাব অনুযায়ী আহরণের হার ছিল ৫ দশমিক ৪১ থেকে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে দৈনিক গড় মাড়াই হার লক্ষ্যমাত্রার এক হাজার ১৫০ এর মেট্রিকটনের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪২ মেট্রিকটনে।

সূত্র জানায়, ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক চিনিকলে মোট ২৭ দিন – বা ৬৪০ ঘণ্টা আখ মাড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও এর মধ্যে ১৭৩ ঘণ্টা নানা এ যান্ত্রিক ত্রুটি ও জটিলতায় মাড়াই বন্ধ ছিল।

চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলতি অর্থবছরে লোকসান কমিয়ে – মিলকে লাভজনক করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কৃষকদের আখচাষে উদ্বুদ্ধ করা, উচ্চ ফলনশীল জাত ও আধুনিক পদ্ধতিতে আখচাষে আগ্রহ সৃষ্টি এবং সহজ শর্তে প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তবে যান্ত্রিক বিপর্যয়ের কারণে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে – পারেনি। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, গত – অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছর – কেরুজ চিনিকলের লোকসানের বোঝা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে কেরুজ চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, এবার আখ মাড়াই হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন।তবে আগামীতে আরও বেশিদিন মিল চলবে বলে আশা করছি।




আলমডাঙ্গায় নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চলাচলের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ডাউকি, জামজামি, আইলহাস, নাগদাহ, খাসকররা ইউনিয়নে এই ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ৫ জনের কাছে ৫১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আর নিরাপদ সড়কে  মানুষের চলাচলে জন্য এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানা ও বিজিবি’র যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী। তিনি বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে জীবনকে যেমন ঝুকিতে ফেলে দেয় তেমনিভাবে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। জনস্বার্থে এই রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দর্শনায় বিভিন্ন সংগঠন থেকে ৫০ জনের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

দর্শনার নেহালপুর, কুড়ালগাছি, প্রতাপপুর, আমডাঙ্গা     ১নং ওয়ার্ডে ও নেহালপুর ইউনিয়নে পথসভায় এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী জনাব মোঃ রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজই ভবিষ্যৎ শক্তি। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও ন্যায়ভিত্তিক সুযোগের অভাবে বহু শিক্ষিত যুবক আজ বেকার। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কারিগরি, আইটি, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে যুবকদের দক্ষ করে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ, তদবির ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সংস্কৃতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

এদিকে নেহালপুরে পথসভায় অনুষ্ঠান পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন থেকে ৫০জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট শাহজাহান কবির, শরীক দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন, এনসিপি’র আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব। এছাড়াও কুলগাছি ইউনিয়নের সাদিকুল সহ অসংখ্য নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সাংবাদিকদের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কর্তৃক ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধন হয় গত বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস অডিটরিয়ামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রশিক্ষণ কো-অর্ডিনেটর সাহানোয়ার সাইদ শাহীন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক, মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু।

প্রশিক্ষণে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী দিনে ইউল্যাবের শিক্ষক ও সাংবাদিক নাজিয়া আফরিন মনামী নির্বাচনী সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনার মধ্যে ছিল নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধ, রাজনৈতিক দলের সমান গুরুত্ব প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে দায়বদ্ধ প্রতিবেদন প্রণয়নের বিষয়।

কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ সমাপনী অধিবেশনে প্রশিক্ষক ছিলেন, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল।

প্রশিক্ষণ প্রদানকালে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির কারণে গুজব দ্রুত ছড়ায়। জনগণ সত্য জানতে গণমাধ্যমের দিকে তাকায়। এই আস্থার মর্যাদা রক্ষার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিটি সংবাদ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা জরুরি। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে ভুল সংবাদ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিবেন এবং অনিয়ম বা জাল ভোটের ক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দুই দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে পিআইবি’র পক্ষ থেকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।




আলমডাঙ্গায় শরিফুজ্জামান শরিফের নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের ঢল

আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের হাটবোয়ালিয়া হাটুভাঙ্গা আমতৈলপাড়া ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি  এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের এক বিশাল র‍্যালি ও গনমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যালিটি হাঁটুভাঙ্গা ব্রীজ পাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে হাটবোয়ালিয়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি চলাকালে পুরো এলাকা ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্লোগানের মাধ্যমে তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিএনপিকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়েই এই অঞ্চলে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

র‍্যালিতে বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, যুবক ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এই গণজোয়ার র‍্যালির মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ আরও জোরদার হলো।

তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের এই অভূতপূর্ব সাড়া আগামী দিনে নির্বাচনী মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে।