আলমডাঙ্গায় মাদকসহ এক যুবক গ্রেপ্তার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ফয়সাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মো. বাবলু খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ মাদকবিরোধী ডিউটি চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানাধীন বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় নতিডাঙ্গা বাজার থেকে ফিরোজ খানের ছেলে মো. ফয়সাল আহম্মদকে তার বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ (বিশ) পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা নং-১৯, তারিখ: ২৩/০২/২০২৬ খ্রি., ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।




দর্শনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের দাফন সম্পন্ন

দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

 সোমবার বাদ জোহর দর্শনা কেরুজ ক্লাব মাঠে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে সেখানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আব্বাস উদ্দীন, উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের হাফিজুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সাবেক পৌর কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীসহ অনেকে অংশ নেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুস ছাত্তার এবং কেরুজের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

জানাজা শেষে আনোয়ারপুর কবরস্থানে বেদনাবিধুর পরিবেশে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।




আলমডাঙ্গার আসাননগরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামে নিজ কক্ষ থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  সোমবার সকালে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত সুজন (৩৫) আসাননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুজন তার স্ত্রী লিমা ও তিন সন্তানকে মারধর করে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বড় ছেলে লিমন বাড়িতে এসে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে ঘরের ভেতর রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবার মরদেহ দেখতে পান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, সুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই স্ত্রী-সন্তানদের ওপর নির্যাতন করতেন। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতেন, ফলে ধীরে ধীরে এলাকাবাসী তার বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

তার বড় বোন হাসি জানান, সুজন দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত থাকায় পরিবারের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। তবে মাঝে মধ্যেই তিনি স্ত্রী লিমাকে মারধর করতেন।

এ বিষয়ে ওসি বানী ইসরাইল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আলমডাঙ্গায় দুর্নীতি রোধে এমপির ঝটিকা অভিযান

আলমডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আলমডাঙ্গা পৌরসভা, কৃষি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে আসছেন তিনি। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমানো, কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবায় অনিয়ম রোধে ব্যস্ত সময়েই তিনি এ পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন ফাইল ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ দিতে হচ্ছে কি না তা খোঁজ নেন। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়রা এমপির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ বন্ধ হবে এমন প্রত্যাশা করেছেন অনেকে।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, “সরকারি অফিসে দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সেবা পাবে মানুষ এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

সচেতন মহল মনে করছেন, এ উদ্যোগ প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটি গঠন

জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।  সোমবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এ কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি শাজাহান কবিরের সভাপতিত্বে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হককে সভাপতি এবং সাবেক কাউন্সিলর হযরত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখতারুজ্জামানকে।

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আশরাফুল হক উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।




মেহেরপুরের নাসিমা আনিস পাচ্ছেন বাংলা একাডেমির কথাসাহিত্য পুরস্কার

মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আজ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। জেলার কৃতি কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস অর্জন করছেন দেশের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি— বাংলা একাডেমি কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেহেরপুরবাসীর জন্য এক অনন্য সম্মান ও আনন্দের উপলক্ষ।

নাসিমা আনিস মেহেরপুরের মুজিবনগরের ঐতিহ্যবাহী বল্লভপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিসুর রহমানের সহধর্মিণী। পারিবারিকভাবেও তাঁদের সন্তানরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ইতিপূর্বে মেহেরপুরের লেখক রফিকুর রশীদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ( শিশু সাহিত্যে) পান।

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবক কমিটির সুপারিশ এবং পুরস্কার কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদ এ পুরস্কার অনুমোদন করে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় মোহন রায়হান; কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধ মঈদুল হাসান।

কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিসের অবদান দীর্ঘদিনের। তাঁর রচনায় উঠে এসেছে সমাজবাস্তবতা, মানবিক টানাপোড়েন, নারীর আত্মসংগ্রাম ও সময়চেতনার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। “কাঞ্চনের জন্য ভালোবাসা”, “চন্দ্রভানুর পিনিস”, “বৃহন্নালা বৃত্তান্ত”, “সূর্য ওঠার সময়”, “কুয়াশা কুয়াশা ভোর”, “স্বপ্ন আমার বাঁচবো”, “মোহিনীর থান”, “কিডনির কারবার” প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর গল্প “কয়লা নামে কোনো জায়গা নেই” সমকালীন সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রেরণার উৎস ছিলেন।

এর আগে তিনি বাংলা একাডেমি প্রদত্ত ‘আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন (২০২৪), যা তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিকে আরও দৃঢ় করেছে। মেহেরপুরবাসীর পক্ষ থেকে কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিসকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাঁর সাহিত্যসাধনা আরও সমৃদ্ধ হোক, বাংলা সাহিত্য ভান্ডার তাঁর কলমে হোক আরও আলোকিত—এই প্রত্যাশা রইল।

 আজ সোমবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। নাসিমা হাসানসহ ৮ জন এবার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করবেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন কবিতায় মোহন রায়হান; কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধ মঈদুল হাসান।




কোটচাঁদপুরে চোরাই মালামালসহ দুই চোর আটক

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানাপুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গত রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর থানার এসআই (নিঃ) মো. মাসুম বিল্লা সঙ্গীয় ফোর্সসহ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন সলেমানপুর গ্রামের খোদাবাঁচড়া পাড়ার হাসান তারেকের ছেলে নাজমুল হাসান তুমুল এবং মহেশপুরের আলামপুর গ্রামের মিছির আলীর ছেলে মো. বাবুল আক্তার।

কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল হাসান তুমুল এলাকায় চিহ্নিত ও কুখ্যাত চোর হিসেবে পরিচিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর: ০৮, তারিখ: ২২/০২/২০২৬, ধারা: ৪৫৭/৩৮০ (গৃহভঙ্গ ও চুরি)।

পুলিশ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুরি ও অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেহেরপুরের রাফিজা আলম লাকি

ত্রয়োাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন মেহেরপুরের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট রাফিজা আলম লাকি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এলাকার উন্নয়ন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি সকলের আন্তরিক দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলাবাসীর আস্থা, পরামর্শ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই মেহেরপুরকে আরো সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা।

ছাত্র জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সম্পৃক্ত। সেন্ট্রাল ’ল’ কলেজে অধ্যয়ন কালেও তিনি আইন ছাত্র ফোরামের এর সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালে আইন পেশায় যুক্ত হয়েও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য। ২০১১-১২ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ সালে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে কমিটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর মাধ্যমে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা কমিটি দক্ষভাবে গঠন করেন।

বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঘোষিত সকল আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সুপ্রীম কোর্টের সামনে জলকামান ও লাল গরম পানির বাধা সত্বেও অংশ গ্রহণ করেন এবং দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে পুলিশের লাঠি চার্জের মুখে রাস্তাায় নেমে আন্দোলন করেন। একদফা আন্দোলনে পুলিশের আঘাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন যার খোঁজখবর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নেন। জাসাসের মিছিল ও মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রতিবাদী গান পরিবেশন ও ব্যঙ্গ নাটকে অভিনয় করেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রার্থী ছিলেন। জেলা আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এবং ৩১দফা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণায় সহযোগিতা এবং অন্যান্য মহিলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কার্যক্রম করেন।
তিনি স্পষ্টবাদী, বলিষ্ঠ ও আপোষহীন আইনজীবী। মামলা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে আইনের আলোকে দ্রুত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম। দলের প্রতি তিনি নির্ভীক আনুগত্যশীল।

১৯৯৮ সাল থেকে আইন ছাত্র ফোরামের সদস্য, ২০০৬ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য এবং যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), মহানগর উত্তর।

সংরক্ষিত নারী আসনে কেমন নারী দেখতে চাই দেশবাসী।

জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শিক্ষিত, মার্জিত, নীতিবান, দক্ষ অভিজ্ঞ, নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন, সমাজ সংস্কারক, নারীর অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন। এক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট রাফিজা আলম লাকী যথেষ্ট যোগ্য বলে জনগণ মনে করেন।




কোটচাঁদপুরের প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আর নেই

কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলী আহম্মেদ আর নেই। শনিবার জার্মানিতে নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি কোটচাঁদপুর বাজারপাড়ার বাসিন্দা এবং সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যান মরহুম গোলাম হায়দার সরদারের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয় ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা বাজেবামনদহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কোটচাঁদপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়। পরে তিনি রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে প্রথমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে জাসদের রাজনীতিতে যোগ দেন। সে সময় তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালের দিকে উপজেলা পরিষদ গঠনের পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি কোটচাঁদপুরের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি একটি সরকারি পোস্ট কোয়ার্টার অপসারণ করে সেখানে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বহু শিক্ষার্থী হাফেজ হিসেবে বের হয়েছেন।

১৯৯৫ সালের দিকে তিনি জার্মানিতে পাড়ি জমান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ ৩২ বছর তিনি জার্মানিতে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সরদার রেজমুন নাহার শিরিন জানান, মাথায় জটিলতা দেখা দিলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। শনিবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, যেহেতু তিনি উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন, তাই উপজেলা মসজিদে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হবে।




গাংনীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) গাংনী এই সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাংনী পিএফজি অ্যাম্বাসিডর জুলফিকার আলী ভুট্টো।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর যশোর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম। গাংনী পিএফজি সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম বকুলের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ফেরদৌস ওয়াহেদ বেল্টু, সভাপতি, কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপি ও সাবেক চেয়ারম্যান, কাথুলী ইউপি। মোঃ রেজাউল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মোজাম্মেল হক, সভাপতি, সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক), গাংনী উপজেলা শাখা।

আবু সাদাত সায়েম পোল্টু, সাধারণ সম্পাদক, সুজন, গাংনী উপজেলা শাখা। আবজাল হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক গাংনী উপজেলা বিএনপি। আব্দুল বারী মাস্টার সাবেক প্রধান শিক্ষক শোলমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আব্দুল ওহাব মাস্টার সহকারী শিক্ষক ধলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। লায়লা আরজুমান বানু সাধারণ সম্পাদক মেহেরপুর জেলা মহিলা দল। আব্দুল মালেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাংনী উপজেলা বিএনপি। সাহেব আলী সেন্টু সভাপতি তারেক জিয়া প্রজন্ম দল, মেহেরপুর জেলা শাখা। সিনিয়র সাংবাদিক জুলফিকার আলী কানন।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, গুজব প্রতিরোধ এবং সব ধরনের সহিংসতা পরিহার করে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খোরশেদ আলম বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও যেকোনো বিরোধ নিরসনে পিএফজি সদস্যদের গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।