মেহেরপুরের নবাগত ইউএনও বাবলু সুত্রধরের যোগদান

মেহেরপুর সদরের নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বাবুল সুত্রধর যোগদান করেছেন। তিনি আজ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার দুপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদে এসে পৌঁছালে বিদায়ী ইউএনও মোঃ খায়রুল ইসলাম তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে বিদায়ী ইউএনও মোঃ খায়রুল ইসলাম সদর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও বাবলু সূত্রধরের পরিচয় করিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঞ্জুমান আরা, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর বলেন, সকলের সহযোগিতা নিয়ে তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলায় সুষ্ঠু ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করতে চান।




আলমডাঙ্গায় ব্রাক ব্যাংকের ক্যাশলেস লেনদেনে সচেতনতায় খামারিদের প্রশিক্ষণ

পশুর হাটে ক্যাশলেস লেনদেন সচেতনতায় আলমডাঙ্গায় খামারিদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলায় গবাদিপশু খামারিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পশুর হাটে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় ও ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় আলমডাঙ্গা মডেল মসজিদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃক এ সভার আয়োজন করে।

কোরবানির পশুর হাটে নগদ অর্থ পরিবহনের ঝুঁকি হ্রাস , নিরাপদ ও স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভায় খামারিদের ডিজিটাল ব্যাংকিং , মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং হাটে স্থাপিত অস্থায়ী ব্যাংকিং বুথের মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন , খামারিদের বছরের পর বছর শ্রমের ফসল পশু বিক্রির সময় নগদ অর্থ বহনের কারণে তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা এ ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন , হাটেই ব্যাংক হিসাব খোলার মাধ্যমে বিক্রিত অর্থ সরাসরি অ্যাকাউন্টে জমা রাখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় খামারিরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাবুদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , বাংলাদেশ ব্যাংকের জয়েন্ট ডিরেক্টর মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মোহাম্মদ গাজী সালাউদ্দিন।

ব্র্যাক ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার (এফএভিপি), শ্রী দীপক চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার রাইহানুল কবির , অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার গাজী জুনায়েদ হোসেন , উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এন. মাহামুদুল হক , আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরায়েল , বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন , উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ইজারা হাট মালিক শহিদুল ইসলাম।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক খামারি অংশ নেন। তারা ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থার সুবিধা ও নিরাপত্তা বিষয়ে অবহিত হন। বক্তারা বলেন , ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিস্তার শুধু নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না , বরং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে কাজ করবে।




কোটচাঁদপুরে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর গ্রামে গাছ থেকে আম পাড়তে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোঃ রিদয় হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে|

সে সলেমানপুর দিয়াড়েপাড়ার রফিকুলের ছেলে| রিদয় মায়ের সাথে মামার বাড়িতে থাকতেন| সোমবার (১১ মে) সকালে সলেমানপুর মল্লিক পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে|

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিদয় হোসেন সকালে হামিদ মল্লিকের একটি গাছে আম পাড়তে ওঠেন| আম পাড়ার একপর্যায়ে গাছের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের ৩৩কেবি লাইনের তারের সাথে তার আম পাড়ার লগার স্পর্শ লাগে| এতে তিনি মুহূর্তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গাছ থেকে নিচে পড়ে যান|

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়|এর পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়|

রিদয় হোসেনের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে| স্থানীয়রা জানান, গাছের খুব কাছ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন থাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে|

কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন| যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে|




হরিণাকুণ্ডুতে দৃষ্টি নন্দন লিচু বাগান, ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষক

যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধুই লালচে রংয়ের লিচু আর লিচু, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে শুধু লিচুর থোকা। বাগানের দিকে তাকালে যেকারও এক দন্ড দাড়িয়ে দেখতে ইচ্ছে করবে।

বলছিলাম ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গুড়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামের মোঃ মখলেছুর রহমানের লিচু বাগানের কথা। তিনি ৪৬ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন লিচু বাগান। পেঁকে যাওয়ার আগেই তিনি ১লাখ ৪০ হাজার টাকায় এক ব্যাপারির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এই লিচু বাগানটি।

সোমবার (১১ মে) সকালে সরেজমিনে লিচু বাগান দেখতে গিয়ে কথা হলো, বাগান মালিক মখলেছুর রহমানের সাথে, মখলেছুর রহমান একই গ্রামের মৃত সমশের বিশ্বাসের ছেলে, তিনি বললেন প্রায় ১২ বছর আগে রাজশাহী, ঈশরদি এবং মেহেরপুর থেকে চাঁরা নিয়ে এই লিচু বাগান করেছিলাম, এখানে বর্তমানে গাছ আছে ৪৫টির মতো।

সব গাছে সমান ফল আসেনি ৪১টি গাছের লিচু তিনি বিক্রি করেছেন ১লাখ ৪০ হাজার টাকায়। খরচের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এই চাষে তেমন কোন খরচ নেই বছরে একবার সার দিতে হয় আর একবার যখন ফুল আসে তখন ভিটামিন জাতীয় কীটনাশক স্প্রে দিলেই হয়।

এছাড়া ফল বড় হলে পাহারা দেওয়া ছাড়া অন্য তেমন কোন খরচ নেই। সবকিছু বাদ দিলেও বিঘা প্রতি বছরে ১লাখের উপরে লাভ করা সম্ভব। এই বাগানে চায়না, বোম্বাইসহ বিভিন্ন ধরণের হাইব্রীড লিচুর জাত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এলাকার অনেক যুবক এই চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে লিচু বাগান করতে চাইলে, তাদের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগীতা করতে চান বলে জানিয়েছে।

তিনি উচ্চ ফলনশীল জাতের কলমের চারাও তৈরি করেন এই বাগান থেকে। তার লিচুর চারা নিয়ে অনেকে লাভবান হয়েছে বলে তিনি জানান। তার এই বাগানে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে কোন ধরণের সহযোগীতা বা দেখভাল করা হয়না বলে তিনি জানিয়েছে।

এব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম তিতুমির বলেন এব্যপারে তিনি কখনো যোগাযোগ করেননি তবে ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা খোজ খবর রাখেন।




ঝিনাইদহে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামে ধানের জমির পানি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১১মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দহকোলা গ্রামে আলিমদ্দি ও জাহিদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সামাজিক দল রয়েছে। গত শুক্রবার জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আলিমউদ্দিন সমর্থক রবেন মণ্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সঞ্জয়কে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবুল বাসার জানান, জমির পানি অন্য জমিতে যাওয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঝিনাইদহে টেকসই নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন বিষয়ক কর্মশালা

ঝিনাইদহে উত্তম কৃষি চর্চায় টেকসই নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের একটি মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সীড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ।

ব্র্যাকের জেলা অ-অর্ডিনেটর শিপ্রা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.কামরুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-এ নবী, ব্র্যাক সীড এন্ড এগ্রো’র পিএম নাজমুল হক, আরএসএম কামরুল হাসান, আকতারুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিনিয়র টিএসও আল-আমিন, জাকির হোসেন, রইজুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলার ৮০ বীজ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। কর্মশালায় বক্তারা, উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব।

কৃষককে নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয় গুরুত্ব প্রদাণ করতে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।




মেহেরপুরে নিউ পপুলার বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিউ পপুলার বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ঔষধ ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সজীব পাল এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।

অভিযানকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে নিউ পপুলার বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ঔষধ বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।




মেহেরপুরে আজ থেকে বোম্বায় ও ১৮ মে হিমসাগর সংগ্রহ শুরু

মেহেরপুরে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পরিপক্ক আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন।

নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ১১ মে থেকে বোম্বায় ও গোপালভোগ আম ভাঙা শুরু হবে। আর জনপ্রিয় হিমসাগর আম সংগ্রহ করা যাবে আগামী ১৮ মে থেকে।

রোববার সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে স্থানীয় আমচাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ফজলি আম ২৩ জুন, ল্যাংড়া ২৮ মে এবং মল্লিকা ১০ জুন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া সর্বশেষ ১৫ জুলাই থেকে বিশ্বনাথ, আশ্বিনা ও বারি-১২ জাতের আম ভাঙা যাবে।

আলোচনা সভায় ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত নিরাপদ আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের স্বার্থে আম সংগ্রহের নির্ধারিত সময় মেনে চলা, আমে ক্ষতিকর স্প্রে নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক মনিটরিং জোরদারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।




ঢাকায় ছিনতাইয়ের কবলে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল

লাইফ কেয়ার ডি ল্যাব এন্ড হাসপাতালের পরিচালক ও মেহেরপুর বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন।

আজ সোমবার ভোরে তিনি মেহেরপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছালে ঢাকার রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন।

এ সময় ছিনতাইকারিরা অস্ত্রের মুখে তাঁর মোবাইল, মানিব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড, আইডি কার্ড ফিঙ্গারসহ ছিনিয়ে নিয়েছে।

সাইফুল ইসলাম ফেসবকু আইডি অথবা হুয়াটসঅ্যাপসহ যে কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাকা পয়সা চাইলে পরিবারের পক্ষ না দেওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।




এমপি হয়েও মাদ্রাসার বেতন-ভাতা নিচ্ছেন তাজ উদ্দিন খান

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ ‍উদ্দিন খান। তিনি মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বও পালন করছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি এখনো খাতা-কলমে কর্মরত রয়েছেন মুজিবনগরের মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী পদে। সংসদ সদস্য হওয়ার পরে মাদ্রাসা থেকেও নিচ্ছেন বেতন-ভাতা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মাদ্রাসা থেকে অবৈতনিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি ছুটি নেননি, এমনকি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকেও মাসের পর মাস বেতন ও ভাতা নিচ্ছেন। এনিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ চলছে শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের মাঝে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সহকারী মৌলভী বর্তমান সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান মানিক নগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের আংশিক বেতন, মার্চ ও এপ্রিল মাসের পুরো বেতন নিয়েছেন। এর সাথে পেয়েছেন মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরের বোনাস এবং এপ্রিলে পেয়েছেন বৈশাখি ভাতা।

মাদ্রাসার হাজিরা খাতা দেখে জানা গেছে, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। বেতন শিটে প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারীর স্বাক্ষর করতে হলেও তাঁর স্বাক্ষর তাঁর অনুপস্থিতেই কেউ করে দিচ্ছেন। এ নিয়ে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ( ২০২৫ ) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী যদি অন্য কোনো লাভজনক পদে বা পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত হন, তবে তার এমপিও সুবিধা স্থগিত বা বাতিল হয়ে যায়। সংসদ সদস্য পদটি একটি পূর্ণকালীন ও লাভজনক পদ হিসেবে গণ্য হয়। তাই নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষকতা পেশায় সক্রিয় থেকে বেতন নেওয়া আইনত জটিল।

একই নীতিমালার ৪.২৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিক্ষক ৬০ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার এমপিও স্থগিত অথবা বাতিল হয়ে যাবে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে তাকে সাধারণত তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লিয়েন বা অবৈতনিক ছুটি নিতে হয়। এই সময়ে তিনি শিক্ষক হিসেবে কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না, তবে তার চাকরির সিনিয়রিটি বা পদ বহাল থাকতে পারে।

জানা গেছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তাজ উদ্দিন খান রাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট বেতন, নির্বাচনি এলাকা ভাতা, আবাসন সুবিধা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই সুবিধাগুলো শিক্ষক হিসেবে প্রাপ্য ভাতার চেয়ে অনেক বেশি বা লাভজনক।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে তাজ উদ্দিন খান ঠিকমত মাদ্রাসায় হাজিরা দেন না। মাঝে মধ্যে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যেতেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হলে তিনি তখন একজন প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দেন। কিন্তু তিনি ‍ছুটি না নিয়ে বেতন তুলছেন। চলতি মে মাস থেকে সেই প্যারা শিক্ষকও আর আসেন না। ফলে তাঁর ক্লাসগুলো অন্যান্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত নিতে হচ্ছে। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ায় কেউ তাকে নিয়ে কথা বলতে পারেননা। কিন্তু মাদ্রাসা কতৃপক্ষ তাকে বেতন-ভাতা দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রসার অধ্যক্ষ আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘এ মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী তাজ উদ্দিন খান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে কয়েকবার বলেছি ছুটি নিতে অথবা শিক্ষা অধিপ্তর থেকে তার পক্ষে কোন নির্দেশনা নিয়ে আসতে । তারপরও তিনি ছুটি নেননি। তিনি না আসলেও তার বেতন -ভাতা দিতে হচ্ছে।’ তাজ উদ্দিন খানের পরবর্তিতে যদি অন্য কোন শিক্ষক এমন করতেন তবে কি করতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।’

মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আহমদ আলী বলেন, ‘এমপি তাজউদ্দিন খানের বিষয়ে আমি গত মিটিংয়ে প্রিন্সিপালকে বলেছি, একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকবে আর আমি বেতন শিটে সই করবো তা হবে না। সরকারি টাকা এভাবে নষ্ট করলে কৈফিয়ত দেবে কে?’ আমি এপ্রিল মাসেও সই করেছি কিন্তু মে মাসের বেতনে সই করবো না বলে জানিয়ে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: মামুন উদ্দিন আল আজাদ বলেন, এমপিও ভুক্ত কোন শিক্ষক সরকারের দুই কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলণ করতে পারবেন না। মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী তাজ উদ্দিন খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, আমি অধ্যক্ষকে বলেছি আপনি এ বিষয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের মহাপরিচালক, এমনকি শিক্ষা সচিব মহোদয়ের কাছে থেকে মতামত নিয়ে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন।’

তবে এ বিষয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী তাজ উদ্দিন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘ নির্বাচনের পরপরই রোযার ছুটিতে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেলো, তারপরপরই আবার সংসদ অধিবেশন শুরু হয়ে গেলো। যে কারণে মাদ্রাসা কমিটির সাথে আমার বসার সুযোগ হয়নি। আমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বলেছি আমার বেতন চালু থাক। আমি বেতন তুলে রাষ্ট্রিয় কোষাগারে জমা দিয়ে দেব, যার স্লিপ মাদ্রাসায় থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বেতন বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় বেতন চালু করা কষ্ট হয়ে যায়, এ জন্য এ কথা বলেছি। গত তিন মাসের বেতনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তর যদি বলে উত্তোলণকৃত টাকা জমা দিতে হবে আমি জমা দিয়ে দেব। এবং যদি অবৈতনিক ছুটি নেওয়ার বিধান থাকে তবে অধিদপ্তরের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনে ছুটি নেব।’

উল্লেখ্য, মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ বাজারে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসা । প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩০ জন। ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় ২৭ জন অংশ নিয়ে পাশ করেছেন ১৩ জন, কেউ জিপিএ ৫ পায়নি।