কালীগঞ্জে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক যুবক আটক

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রশান্ত কুমার দাস (৪৮) নামে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক যুবককে আটক করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রশান্ত কালীগঞ্জ শহরের কলেজপাড়া এলাকার মৃত ননী গোপাল দাসের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৮ জুন) বেলা ১২ টার দিকে শহরের কলেজ রোডে সুবোধ দেবনাথের তন্ময় স্টোর নামে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি বসে চা পান ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় উপস্থিত একজন বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম।

এসময় প্রশান্ত কুমার দাস ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে মুখ খিস্তি করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে জানা যায়, এতে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন মুসলিম প্রতিবাদ জানালে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে বাড়িতে চলে যায়।

পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী এরশাদ ও আরিফ হোসেন বলেন, তারা চায়ের দোকানে বসে চা পান ও গল্প করছিলেন। এ সময় প্রশান্ত কুমার দাস ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তারা এর প্রতিবাদ করলে তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ এসে তাকে জিঞ্জাসাবাদেও জন্য জন্য থানায় নিয়ে যায।

কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশান্ত কুমার দাসকে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।




গাংনী সীমান্তে রাস্তার কাজে বিএসএফের বাধা

মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে হেরিংবোন রাস্তার নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কাজীপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৭ এস এলাকার আট কবর যাওয়ার সড়কে হেরিংবোন রাস্তার কাজ চলাকালে ভারতের নদীয়া জেলার গান্ধীনা বিএসএফ ক্যাম্পের তিন সদস্য এসে কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, কাজীপুর বিজিবি ক্যাম্প থেকে সীমান্তের আট কবর পর্যন্ত মাটির রাস্তা দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে রাস্তাটি হেরিংবোন করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ চলাকালে বিএসএফের কয়েকজন সদস্য এসে বাধা প্রদান করেন।

কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম হুসাইন বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যতবার এই রাস্তা হেরিংবোন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ততবারই বিএসএফ বাধা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আট কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাই ওই সড়কটি উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে কাজীপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, বিএসএফের বাধা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।

অন্যদিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি (এসইউপি, পিএসসি, জি) বলেন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

তিনি জানান, হেরিংবোন রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানোর কার্যক্রম চলছে। তবে রাস্তা নির্মাণকাজে বিএসএফ বাধা দিয়েছে এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।




ঝিনাইদহে জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেনের উদ্বোধন

‎ঝিনাইদহে জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়েছে।

এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জেলার ৬টি উপজেলার ১ হাজার ৭৮৫টি টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে ২ লাখ ৫৮ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

‎রবিবার (২৮ জুন) শহরের পুরাতন হাসপাতাল চত্বরে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। ক্যাম্পেইন চলাকালে জেলার ৬টি উপজেলায় ৬ থেকে ৬০মাস বয়সী মোট ২ লাখ ৫৮ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে জানান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা.কামরুজ্জামান শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্যদিয়ে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিথিলা ইসলাম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও ঝিনাইদহ ২৫ শয্যা শিশু হাসপাতালের পরিচালক মিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আলী হাসান ফরিদ (জামিল), প্রেসক্লাবের সভাপতি আসফ ইকবাল মাখনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।




মেহেরপুরে যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত

দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি বেজড অ্যাক্টিভেশন সভা।

রোববার (২৮ জুন) জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত ‘ইউথ গ্রিন এন্ট্রেপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এক বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৫০ জন তরুণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। চুয়াডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত ওয়েভ ফাউন্ডেশন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর ও মেহেরপুর সদর উপজেলায় মোট ৫১০ জন তরুণকে সবুজ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সভায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল আলম লিটন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মাহবুব হোসাইন আবির।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়) এ.জে.এম. সিরাজুম মুনির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহবুবুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস.এম. রফিকুল আলম, অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক জানে আলম এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার ইলিয়াস হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ.জে.এম. সিরাজুম মুনির বলেন, “আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষ। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।”

ইয়াদুল মোমিন বলেন, “দেশে লাখ লাখ বেকারের সবাইকে সরকারের একার পক্ষে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ বেকারত্বের বৃত্ত ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার ইলিয়াস হোসেন বলেন, “প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে তরুণরা জলবায়ু-সংবেদনশীল উদ্যোক্তা দক্ষতা অর্জন করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

অংশগ্রহণকারী তরুণ মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “সবুজ উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না। আজকের সভা আমাকে সেই পথ দেখিয়েছে।”

সভায় সবুজ ও টেকসই ব্যবসার ধারণা, উদ্যোগ গ্রহণের প্রাথমিক ধাপ, পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস এবং উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যবহারিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীদের বিদায়, নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং গণিত বিভাগের প্রভাষক জেসমিন আজাদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন। প্রধান বক্তা ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পৌর কমিশনার আলমগীর হোসেন, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরিফুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, ফিদা হাসান, আব্দুল কুদ্দুস, ওয়াহেদ বিন হোসেন মিন্টুসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুল গনি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি জাভেদ মাসুদ মিল্টন ও গভর্নিং বডির সভাপতি আনোয়ার হোসেন কলেজে পৌঁছালে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপনসহ শিক্ষকরা ফুলেল শুভেচ্ছায় তাদের বরণ করে নেন।

অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন তার বক্তব্যে বলেন, বিগত সময়ে কলেজটি বিভিন্ন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রধান অতিথি ও গভর্নিং বডির সভাপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাভেদ মাসুদ মিল্টন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারলে তোমরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে সফলতা অর্জন সম্ভব।”

তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কলেজের উন্নয়নে কম্পিউটার ল্যাব, সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে কলেজের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের ফাইল, কলম ও স্কেল উপহার দেওয়া হয়।

পরে প্রধান অতিথি জাভেদ মাসুদ মিল্টন নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে পরীক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আলমগীর হোসেন।




তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মেহেরপুরে চাকরি মেলার উদ্বোধন

তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে চাকরি মেলা-২০২৬। রবিবার সকালে শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ মেলার আয়োজন করে দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা, মেহেরপুর। এতে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

মেহেরপুর দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তরিকুল ইসলাম বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। এই চাকরি মেলার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে তরুণরা উৎসাহিত হবে। যোগ্যতা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মানসিকতা থাকলে কাউকে পিছিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য তিনি দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী শামিম হোসেন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মেহেরপুরের উপ-পরিচালক এস.এম. ওবায়দুল বাসার।

বক্তারা বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, সেই দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। প্রশিক্ষণ কাজে লাগাতে পারলেই একজন ব্যক্তি যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তারা মেহেরপুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে জেলার বেকার যুবকরা নিজ এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

চাকরি প্রত্যাশী মো. নাসিম বলেন, পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বেকার রয়েছেন। এই মেলার মাধ্যমে একটি চাকরি পেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন।

আরেক চাকরি প্রত্যাশী আরিফুল বলেন, বর্তমান আয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই মেলা থেকে চাকরি পেলে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সুমাইয়া রহমান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থার এ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাবে এবং স্বাবলম্বী হতে পারবে।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের চাকরি মেলার মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম ও অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে চাকরি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ সময় দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




জোরপূর্বক সালিশের নামে লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

মানবাধিকারের আড়ালে ভয়াল প্রতারণার জাল বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। জোরপূর্বক সালিশের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা গ্রামে তাসলিমা নামের এক নারীর কাছ থেকে মানবাধিকারের নাম ভাঙিয়ে দুই দিন আটকিয়ে রেখে ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে জোরপূর্বক সালিশ পরিচালনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিরিন নামের এক কথিত মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারকুলা গ্রামের তাসলিমা নামের এক নারীকে দুই দিন একটি কক্ষে আটকে রেখে সালিশের নামে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ সময় এক ব্যক্তিকে ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

স্থানীয়দের দাবি, শিরিন দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা থানা পাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে একটি কক্ষকে কথিত মানবাধিকার অফিস হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধে সালিশ করে আসছেন। বিশেষ করে পরকীয়ার অভিযোগ, পালিয়ে বিয়ে এবং পারিবারিক বিরোধে জড়িত ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একাধিক ব্যক্তি। এমনকি থানার চেয়ে বেশি অভিযোগ তিনি মীমাংসা করেন বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান।

বাসিন্দারা আরও জানান, তার স্বামী মিলন মারা যাওয়ার পর সালিশের টাকা দিয়েই তার সংসার চলে। আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে তার বাড়ি ছিল। বর্তমানে আলমডাঙ্গা থানা পাড়ায় তার নির্দেশে একাধিক গ্যাং চলে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সহযোগীকে ব্যবহার করে কখনো পুলিশ, কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়। এর মাধ্যমে সালিশের নামে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় ও প্রভাব বিস্তারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি সংগঠনকে জোরপূর্বক সালিশ পরিচালনা কিংবা বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষমতা আইন দেয় না। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত নারী বিভিন্ন সময় লিগ্যাল এইডের নাম ব্যবহার করে নিজেকে আইনজীবী বা আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করলেও তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পারকুলা গ্রামের তাসলিমার অভিযোগ, মীমাংসার নামে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এরপর তাসলিমা গত ২০/০৬/২০২৬ তারিখে আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পাল্টা অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ। এমতাবস্থায় ২৭/০৬/২০২৬ তারিখ শনিবার বেলা ১২টার সময় আলমডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হওয়ার পর সালিশে উপস্থিত হন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দেওয়া শিরিন। এ সময় সাংবাদিকরা মানবাধিকার সংস্থার নাম জানতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে ভুয়া মানবাধিকারকর্মী হিসেবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “তিন বছর পূর্বে আমি মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, কিন্তু এখন আর নেই।” পরে কিভাবে বিচার-সালিশ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকল মহলকে ম্যানেজ করে সালিশ করি।”

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানবাধিকার একটি মর্যাদাপূর্ণ ও মানবকল্যাণমূলক ধারণা। সেই পরিচয়ের আড়ালে যদি কেউ সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অর্থ বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা শুধু আইনবিরোধী নয়, মানবাধিকারের মূল চেতনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।




আলমডাঙ্গায় তিনদিন ব্যাপী ফলমেলা উদ্বোধণ

আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী ফল মেলার উদ্বোধণ এবং খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি উপকরণ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ২৬ শে জুন বেলা সাড়ে ১১ টার সময় , উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার উদ্বোধন ও কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুজ্জামান শরিফ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, “কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি ও খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর, এখানে সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত জাতের চাষাবাদ বাড়াতে পারলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশ পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অতীতের সকল বৈষম্য পেছনে ফেলে বর্তমান প্রশাসন প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি প্রণোদনা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। সারের দাম কমানো থেকে শুরু করে উন্নত বীজ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। প্রতিটি বাড়িতে অন্তত একটি করে ফলদ বা পুষ্টিগুণ সম্পন্ন গাছ রোপণ করা উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম ভেজালমুক্ত ফল খেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।” তিনি কৃষকদেরকে প্রাপ্ত প্রণোদনার বীজ ও সার সঠিকভাবে ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিনুর আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দেবাশীষ রায় এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনুর আক্তার বলেন, ফল মেলা থেকে সর্বস্তরের মানুষ নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি ও ফল চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন,এছাড়াও ৪০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে কন্দ বীজ বিতরণ করা হয়েছে।প্রতি কৃষক পিয়াজের বীজ,সার সহ কৃষি পন্য পেয়েছে।এছাড়াও ৩ জন কৃষক কে কেচো সার উৎপাদনের জন্য মেশিন প্রদান ও ২ জন কৃষক কে সরিষার তেল ভাঙ্গা মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা জাসাসের সম্পাদক সেলিমুল হাবিব, ইউপি চেয়ারম্যান তবারক হোসেন ও মাহবুবুল হক, কৃষকদল নেতা ওয়াজেদ আলী কচি, যুবদল নেতা মীর আসাদুজ্জামান উজ্জল এবং ছাত্রদল নেতা জাহিদ হাসান শুভ, আতিক রহমান রিংকু ও আল ইমরান রাসেলসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক কৃষক।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং তালিকাভুক্ত প্রান্তিক কৃষকদের হাতে উন্নত জাতের বীজ ও সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ তুলে দেন।




আলমডাঙ্গায় ৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি আটক

আলমডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের সাদাব্রিজ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কালিদাসপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায় , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানার এসআই মো. আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স বাহিনী নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সাদাব্রিজ মোড় থেকে মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে , আটক মেহেদীর সঙ্গে আরও চারজন সহযোগী এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি টাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রি ও মজুদের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি , পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন , কয়েকদিন আগেই মাদকের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার অভিযোগে শিশুদের পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়নি। আলমডাঙ্গায় যে-ই হোক , মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলে সচেতন এলাকাবাসী আমাদের অবগত করলে সত্যতা নিশ্চিত করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কোনো ছাড় নেই।




দামুড়হুদায় গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাদের চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের মাঝপাড়ার মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে জামাত আলী (৫৫) এবং তার স্ত্রী আশাফন নেছা (৪৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের নেতৃত্বে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের মাঝপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ জামাত আলী ও তার স্ত্রী আশাফন নেছাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় উদ্ধার হওয়া গাঁজা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের শনিবার চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।