বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় গাংনীতে দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মেহেরপুরের গাংনীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে গাংনী মহিলা কলেজ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গাংনী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেদারুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম পল্টু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন „মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি আমজাদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুরাদ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুর রহমান বুলবুল, গাংনী মহিলা কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নাসিরুদ্দিন, করমদি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এমদাদুল হক, তেরাইল জোড়পুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিনারুল ইসলাম, মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোকাদ্দেছুর রহমান, গাংনী পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি মেহেরপুর জেলা শাখার সম্পাদক আল হেলাল এবং গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি জামাল হোসেন। গাংনীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক ও গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমজাদ হোসেন বলেন, যে দেশগুলো শিক্ষায় উন্নত হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমরা সেই ধরনের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে চালু করব। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে জীবনমান উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করবো। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার সমাধানে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, ভারতের বই ছাপানো বা তাদের কথামতো শিক্ষা নয় আমরা বিশ্বের উন্নত দেশের শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করবো। টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা চাইলে মানসম্মত শিক্ষক তৈরি ও তাদের সমস্যার সমাধান জরুরি।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আমার মা খালেদা জিয়া সারা জীবন দেশের জন্য কাজ করেছেন। আজ তিনি শারীরিকভাবে সংকটাপন্ন। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।তিনি জানান, খালেদা জিয়ার আশীর্বাদে তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হতে পেরেছেন।

আলোচনা সভা শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন করমদি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাফেজ কামাল হোসেন।




খেলাধুলার বিকল্প কখনোই ডিজিটাল ডিভাইস হতে পারে না

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠন করতে হলে একটি সুস্থ মনের দরকার, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ দরকার এবং সেটা জন্য একটি সুস্থ দেহ দরকার। সুস্থ দেহের মধ্যেই সুস্থ মন বাস করে। বাংলাদেশে অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা রয়েছে এর মধ্যে কাবাডি একটি উল্লেখযোগ্য খেলা।

এছাড়াও রয়েছে হাডুডু, গোল্লাছুট আমাদের এই গ্রামীণ খেলাগুলো ঠিকমতো আর প্র্যাকটিস হচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে আমাদেরখেলাধুলার বিকল্প কখনোই ডিজিটাল ডিভাইস হতে পারে না ছেলেমেয়েরা, শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ বিমুখ হয়ে গেছে। তারা মোবাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আমি এটাকে বলছি ডিজিটাল ডিভাইস দূষণ। এর কারণে আজকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার দিকে মনোযোগ নেই। এই মনোযোগ আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাধুলার বিকল্প কখনোই ডিজিটাল ডিভাইস হতে পারে না। ভার্চুয়াল জগত কখনোই বাস্তব জগতের বিকল্প হতে পারে না। তাদের সকলকে অ্যাকচুয়াল জগতে ফিরে আনতে হবে।

শনিবার সকাল ১০টায় মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়ামে সদর উপজেলা গোল্ডকাপ ভলিবল ও কাবাডি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস পলিউশনের জন্য আমাদের ইয়াং জেনারেশন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ওখান থেকে ফিরে আনার আমাদের যে বড় প্রচেষ্টা, তারই অংশ আজকের এই আয়োজন। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে উন্নত জাতি প্রয়োজন, তা গড়ার একটি পদক্ষেপ।

মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ে তিনি বলেন, মেহেরপুরে মাদক রোধে যা যা করণীয়, তা জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনসহ আমাদের অন্যান্য দপ্তরগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করব এবং ইতিমধ্যেই কিছু কাজ শুরু করেছি। অনলাইন জুয়ার মতো এত বড় একটি ছোবলে অনেকেই বিপদগ্রস্ত হয়ে গেছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে ফেলেছে। যারা এর পেছনে আছে, তাদের আমরা খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

প্রতিযোগিতার সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদকের অন্ধকার গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো খেলাধুলা। আজকের যুবক যদি স্মার্টফোনের গেমে ডুবে থাকে, তাহলে তার শরীর-মন দুটোই নষ্ট হবে। আমি চাই, মোবাইলের স্ক্রিন নয় খেলার মাঠই হোক তোমাদের আড্ডাখানা। মাদক নয়, ঘাম ঝরানোই হোক তোমাদের নেশা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকাসক্ত হতে না দিতে আজকের যুবকদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখে, মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং চরিত্র গঠনে সহায়তা করে।

কুচকাওয়াজ, জাতীয় সংগীত, রঙিন বেলুন ও ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

এসময় জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও মেহেরপুর পৌরসভার ১টি মোট ৮টি দল ভলিবল ও কাবাডি দুটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে।




মেহেরপুরে ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন মোটরসাইকেল মেকানিক

মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেল মেকানিক মোহাম্মদ পিন্টু (৫০)।

গতকাল শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর রাতে তিনি মারা যান।

নিহত মোহাম্মদ পিন্টু গোভীপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ও মেকানিক সমিতির সভাপতি ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাড়ির ছাদে ওঠেন পিন্টু। এ সময় হঠাৎ তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রয়াত পিন্টুর মামা সাইফুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ মেহেরপুরে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। বাদ মাগরিব তাঁর নিজ গ্রামে জানাজা সম্পন্ন হবে।




সার সংকট দূর করতে তৈরি হবে কৃষক অ্যাপ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) ও সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, সারের সঙ্কট দূর করতে দ্রুত কৃষক অ্যাপ তৈরি করার কাজ চলছে। সবাইকে এই অ্যাপের আওতায় আসতে হবে। অ্যাপের তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি করা হবে। যারা এই অ্যাপের আওতায় আসবেন তারাই এই সুবিধা পাবেন। আর না আসলে বঞ্চিত হবেন। যে কোন একটি উপজেলায় পাইলট আকারে অ্যাপটি চালু করা হবে। সুবিধা পেলে সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাহলের সার সঙ্কট দূর হবে বলে মনে করেন তিনি।

উন্নত দেশে প্রত্যেকটা মানুষের কৃষক, কুলি, মজুর সবারই ট্যাক্স আইডি থাকে। তিনি ট্যাক্স দেন বা না দেন, প্রত্যেক বছর তাকে ট্যাক্স ফাইল করতে হয়, প্রত্যেক নাগরিককেই। মানুষরাও খুব উৎসাহের সাথে এটা দেয়। কেন দেয় জানেন? রাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন ক্রাইসিসের সময় বিভিন্ন রকম সহায়তা দেয়।

আর সহায়তা দেয় এই ভিত্তিতে কার কার ট্যাক্স আইডি আছে আর কত বছর ধরে কে কে ট্যাক্স সাবমিট করেছে। যারা ট্যাক্স সাবমিট করেছে তারা সুবিধা পাবে, যারা করেনি তারা পাবে না। এখন আমরা যদি এই প্র্যাকটিসটা করতে পারি, তোমার যদি অ্যাপ থাকে অ্যাপে যদি তোমার সব ইনফরমেশন দেওয়া থাকে, তাহলে যখন তোমার ক্রাইসিস হবে, তুমি সুবিধাটা পেতে পারো। আর তুমি যদি তোমার ইনফরমেশনগুলো না দাও আগামী বছর ক্রাইসিস হলে এগুলো কিন্তু তুমি আর পাবে না।

তখন তার মধ্যে এই তাগিদটা তৈরি হবে আমার যা যা ইনফরমেশন আছে তা অ্যাপে দিয়ে রাখি, কারণ কখন ক্রাইসিস হয় আমি তো জানি না। ক্রাইসিস হলে যাতে আমি সহায়তা পাই। এই চিন্তাগুলোকে মাথায় রেখে এই বিষয়টি নির্মাণ করা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারের বিপণন ও ব্যাবহার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এক কথাগুলো বলেন।

তিনি আরোও বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রতিটি নাগরিককে একটি অ্যাপের আওতায় আসতে হয়। তালিকাভূক্ত হয়ে সরকারি সুবিধাগুলো ভোগ করেন। তাই আশা করি প্রতিটি কৃষক এই অ্যাপের আওতায় আসবেন। আধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যাবহার করেই সকল নাগরিককে এই সুবিধা নিতে পারবেন।

সার সংকটের বিষয় তিনি বলেন, ওই যে একটা ঐতিহাসিক প্রবাদ- হাঁস যখন সোনার ডিম পাড়ে, তখন কৃষক হাঁস জবাই করে পেট কেটে একবারে সব ডিম বের করে নিতে চাইলে দেখে আসলে কোনো ডিম নেই। আমরা তো প্রত্যেকেই কৃষকের সন্তান। আমরা বেশি সার ব্যবহার করলে আজকের জন্য হয়তো বেশি ফসল পাব, কিন্তু লং টার্মে গিয়ে ওই জমির উর্বরতা একদমই নষ্ট হয়ে যাবে।

আপনি আজকে অনেক সার ব্যবহার করে অনেক ফসল উৎপাদন করে অনেক টাকা পকেটে ঢুকাচ্ছেন। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার পরে ভবিষ্যতে আর চাষাবাদ হবে না, অন্য কিছু করবে। কিন্তু আল্টিমেটলি এই জমিগুলো যদি উর্বরতা হারায় আমরা তো শুধু বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করি না, নিজেদের খাবার-দাবারের জন্যও চাষাবাদ করি। তখন একটা ক্রাইসিস হবে।

আমাদের দেশের লেভেলে গবেষণা এবং বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তারপরেও আমি মনে করি কৃষি ডিপার্টমেন্ট চাইলে গবেষক এবং কৃষকদের কানেক্ট করতে পারেন কি না এই যে পর্যবেক্ষণের বিরাট পার্থক্য, এটাকে কোনোভাবে অ্যাড্রেস করা যায় কি না।

অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন, জেলা প্রশাসক ডঃ সৈয়দ এনামুল কবীর। বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা, সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান, কৃষক প্রতিনিধি ডাবলু, শাহিনুর রহমান। জেলার কৃষক, সার ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়।




দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ 

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলে পকেট কমিটি ও অছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুতুল দাহ করেছে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা পুরাতন বাজার এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কমিটি গঠনকারীদের কুশপুতুল দাহ করেন। তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত ছাত্রদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ কমিটি বাতিল না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পকেট কমিটি দিয়ে ছাত্ররাজনীতি চলতে পারে না।
তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শোয়েব আক্তার, আসিফ হাসান, সাফায়েত জামাল পাপ্পু, নাফিজ ইকবাল খান, অমিন, ইমন, রুপন, উৎসব, আরমান, সিদাত, শিবলী, আনারুন, আফ্রিদি, তৌহিদ, রমজানসহ দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী।




দর্শনা অনিবার্ণ থিয়েটারের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

দর্শনা অনিবার্ণ থিয়েটারের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় এবং নিবার্হী সদস্য আওয়াল হোসেন এর সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়।

সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনিবার্ণ থিয়েটারের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও নাট্য কর্মশালা, নতুন নাটকের রিহার্সেল এবং বছরের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় মতামত প্রদান করেন অনিবার্ণ থিয়েটারের অর্থ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম লিপু, প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহ, আশানুর রহমান পলাশ, পপি, আজাদুল ইসলাম মিলন, হাবিবুর রহমান (ইদু), ববি, পূর্বা, রেশী, ফাইম আহম্মেদসহ মোট ২৫ জন সদস্য।




দর্শনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতার জন্য দোয়া মাহফিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যর জন্য দর্শনা পৌর বিএনপির আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাহফিলটি দর্শনা পৌর বিএনপির একটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা মালেক মন্ডল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক দর্শনা পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন দেশের মা, যিনি বিগত সরকারের নানা অত্যাচারের স্বীকার হয়েও দেশের মানুষের কথা ভেবে দেশ ত্যাগ করেননি। তিনি ব্যক্তিগত কষ্ট ও নিযার্তনের মধ্যেও দেশের জন্য অদম্য নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন।

দোয়া পরিচালনা করেন দর্শনা পুরাতন বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম নুরুল ইসলাম। এছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন মসজিদেও বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়েছে।

এসময় মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের নেত্রী, বিএনপির আব্দুল জলিল, শাহাজাহান আলী, আরিফ, রবিউল ইসলাম হেবা এবং অসংখ্য নেতা ও কর্মী। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন।




মুজিবনগরের আশ্রয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতের আধারে মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর ও মহাজনপুর আশ্রয়ণে আশ্রিত দুস্থরা এই সহায়তা পান।

শীতার্তদের মধ্যে কম্বল তুলে দেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামূল কবীর।

এ সময় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ মণ্ডল, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তার, তৌহিদুল কবীর, মুজিবনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তী, মহাজনপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য ফিদু শেখ ও ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য তোয়াজ আলী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ২টি আশ্রয়ন কেন্দ্রে থাকা ২৩টি পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শীতার্তদের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার সমাজসেবামূলক উদ্যোগ ও জেলা প্রশাসনের মানবিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।




ধানের শীষে ভোট দিলে দেশের মানুষ প্রকৃত মালিকানা ফিরে পাবে

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি, বিজিএমইএ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবু দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দেউলী, চিৎলা, বদনপুর, মুক্তারপুর ও হাতভাঙ্গায় পথসভা করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকাল তিনটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দলীয় অবস্থান, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এলাকার উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “হাজার মাইল দূর থেকে যদি বিএনপির মতো এতবড় একটি দলকে জুলুম ও নির্যাতনের পরও ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়, একই ছাতার নিচে রাখা যায়, তবে আমরা যদি তারেক রহমানকে ভোটের মাধ্যমে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী করতে পারি, তাহলে দেশের মানুষ তাদের রাষ্ট্র মালিকানা, গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার সবকিছু ফিরে পাবে। দেশের জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক এবং সেই মালিকানা ফিরে পাবে।”

তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর পরপর নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জনগণ নিজের ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে। সর্বশেষ তিনি আগামী ২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, যুগ্ম সম্পাদক মন্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আবুল হাসেম, উপজেলা মহিলা সভানেত্রী সালমা জাহান পারুল, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টন, যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, সোহেল রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আফজালুল রহমান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




মেহেরপুর পৌর বিএনপির উত্তর শাখা কার্যালয় উদ্বোধন

মেহেরপুরে পৌর বিএনপির (উত্তর) নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর শহরের পৌর কলেজ সড়কে এই কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুর রহীম, হাজী ফজলু খান, হাবীব ইকবাল, কামরুজ্জামান বাবু, মিজানুর রহমান মিজা, মফিজুল ইসলাম, শাহ ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।