আলমডাঙ্গায় নিখোঁজের ৪ দিন পর রাজশাহী মেডিকেলে পাওয়া গেল এনামুলের লাশ

আলমডাঙ্গা হাঁপানিয়া গ্রামের অতিপরিচিত মুখ লুডুর নিথর দেহ নিখোঁজের ৪ দিন পর পাওয়া গেছে রাজশাহী মেডিকেল হসপিটাল মর্গে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের হাঁপালিয়া গ্রামের অতিপরিচিত মুখ এনামুল হক লুডু গত ১৩ ই জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল হসপিটালে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন। ১৮ ই জানুয়ারি চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু  লুডু বাড়ি ফিরে না আসায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বাড়ির লোকজন দুশ্চিন্তায় পড়ে।

গত ১৯ শে জানুয়ারি এনামুল হক লুডুর জামাতা মাহাফুজুর রহমান রাজশাহী রাজাপাড়া থানায় নিখিত ডায়রি করেন।

গত ২০ শে জানুয়ারি সকালে রাজাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে একটা অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর দেন।

এনামূল হক লুডুর পরিবারের লোকজন হসপিটালের মর্গে লাশ সনাক্ত করেন। গত ১৮ ই জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হসপিটালে ভর্তি করে এলাকার লোকজন। সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় তার লাশ গ্রামে পৌছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হাজার হাজার এলাকার লোকজন একঝলক দেখার জন্য ছুটে আসে। বাদ এশা গ্রামের কবরস্থানে নামাজের জানাজা শেষে দাফনকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।




দর্শনায় চাঞ্চল্যকর চুরির মামলায় প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার ৩

দর্শনা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর চুরি মামলায় প্রধান আসামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালায় দর্শনা পৌরসভার শান্তিপাড়ায়। এ সময় দর্শনা থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর চুরি মামলার প্রধান আসামী শান্তিপাড়ার জয়নাল আবেদীনের ছেলে রাশেদ মিয়া ওরফে বাবু(২৮) দর্শনা দক্ষিণচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডপাড়ার রুহুল আমীনের ছেলে হাসানুজ্জামান হাসান(৩০),ও তিতুদহ গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে (২) মোঃ বিপ্লব হোসেনকে (২৫) নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

এদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থানায় জিআর-১৮১/১৩, প্রসেস নং-২৬৭/২৪ এবং দর্শনা থানা এলাকার বিভিন্ন চাঞ্চলকর চুরি মামলা রয়েছে। গতকালই তাদেরকে চুয়াডাঙ্গা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




মেহেরপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা উদযাপন

মেহেরপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ উপলক্ষে পূজা ও ‘বাণী অর্চনা’ অনুষ্ঠিত হয়।

“আরো আলো আরো আলো, এই নয়নে প্রভু ঢালো” এই উক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যার দেবীর কাছে জ্ঞান ও আলোর প্রার্থনা জানান।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাঠশালায় প্রতি মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে ধোয়া চৌকির ওপর তালপাতার তাড়ি ও দোয়াত-কলম রেখে পূজা করার প্রথা ছিল। গ্রামাঞ্চলে এই প্রথা বিংশ শতাব্দীতেও প্রচলিত ছিল। ‘সরস্বতী’ শব্দের অর্থ জনবতী বা নদী অনেক পণ্ডিতের মতে দেবী সরস্বতী প্রথমে ছিলেন নদী, পরে তিনি জ্ঞান ও চেতনার দেবী হিসেবে পূজিত হন। মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে তাঁর পূজা হয়, যা বসন্তপঞ্চমী বা শ্রীপঞ্চমী নামেও পরিচিত।

মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে সরস্বতী পূজার উদ্বোধন করেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল আমিন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুপালি বিশ্বাস, শিক্ষার্থী পল্লবী কুন্ডু, ঐতিহ্য সাকারি ও অনিন্দিতা সরকার।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে দিনব্যাপী পূজা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন সম্পন্ন হয়।




মেহেরপুরের গাড়াবাড়ীয়াতে জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৪, ট্রাক্টরে অগ্নিসংযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কুয়ারপাড় মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— গাড়াবাড়ীয়া হলদে পাড়ার মৃত লালচাঁদের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪৫), গাড়াবাড়ীয়া হাটপাড়ার কালামের ছেলে চঞ্চল আলী (৩৩), নজরুলের জামিরুল ইসলাম (৪০) ও হাসিবুল ইসলাম (৪৮)।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের মধ্যে জিয়ারুল ও চঞ্চলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সিহাব আলীর দাদা অবিশ্বিস আলী প্রায় ৪০ বছর আগে ওই ৪ বিঘা জমি আহতদের দাদার কাছে বিক্রি করেছিলেন। তবে সম্প্রতি সিহাব আলী ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।

ঘটনার সময় দুপুরে সিহাব তাঁর দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ওই জমি দখল করতে যান। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে সিহাবের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চারজন জখম হন।এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সিহাব আলীর একটি ট্রাক্টরে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

এছাড়া সিহাবের ছোট ভাই প্রবাসী সাহেব আলীর ছেলে সাব্বির আহমেদকে পাশের সহগলপুর গ্রাম থেকে আটকে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গাংনী থানা-পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে সাব্বিরকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, উত্তেজিত গ্রামবাসী সাব্বির হোসেন নামের এক তরুণকে আটকে রেখেছিল, তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। অভিযুক্তদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।




ঝিনাইদহে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ২১ হাজার ৪৭ জন ভোটার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২১ হাজার ৪৭ জন ভোটার।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৬৩২ জন এবং মহিলা ভোটার ৪হাজার ৪৫২জন। নিবন্ধন করলেও ৩৭ ভোটার অনুমোদন না পাওয়ায় এবছর ২১হাজার ৪৭ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

এছাড়াও এবার ৭৯ জন কারাবন্দি ও ১৩৬ জন আনসার ভিডিপির সদস্য পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য ভোটার রয়েছেন ১৪ হাজার ৫১১ জন।

অপরদিকে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৩১ জন। তবে বিভিন্ন দেশে ঝিনাইদহের প্রায় ৮৫ হাজার প্রবাসী থাকলেও নিবন্ধন করেছে মাত্র সাড়ে ৬ হাজার ভোটার।

নিবন্ধিত পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে থাকা বন্দি ভোটার রয়েছেন ৭৯ জন এবং আনসার ভিডিপির সদস্য রয়েছে ১৩৬ জন।

আসন ভিত্তিক তথ্য নিয়ে জানাযায়, ঝিনাইদহ-১ আসনে ৪ হাজার ৬০ জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে ৭ হাজার ১৩৮ জন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ৫ হাজার ৪০৬ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৪ হাজার ৪৩৮ ভোটারকে পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে আসনভিত্তিক ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকল ভোটাররা তাদের পোষ্টাল ব্যারটে ভোট দিতে পারবেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন জানান, কর্মস্থল, প্রবাস বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন না, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

পোস্টাল ব্যালট ভোটার ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিদুর রহমান জানান, ভোট গ্রহনের দায়িত্ব পাওয়ার কারণে প্রতিবারই ভোটের দিন সেন্টারে গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সত্যিই খুশি। এতে আমার মতো অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাচন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হুসাইন জানান, পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে

প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছেন নির্বাচন কমিশিন। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এক একটি সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালট নিদৃষ্ট স্থানে জমা হবে এবং নির্বাচনের দিন ভোট গণনার সময় এই ভোট গণনা করা হবে।

ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোট প্রদানের সংখ্যা বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।




মেহেরপুরে আলোচিত গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় আটক ৩

মেহেরপুর শহরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ টগর খাতুন হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিন শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হত্যার ব্যবহৃত বস্তা, রশি ও নিহত টগর খাতুন এর গহনা ও গহনা বিক্রির টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার সাথে জড়িত আটকৃতরা হলেন শহরের কাশ্যবপাড়ার আনারুলের ছেলে নাসিম হায়দার শীতল (১৭) একই এলাকার রসুল ঘরামির ছেলে নাজমুল হাসান তানভীর (১৭) ও সদর উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে আসিব হোসেন ওমর (১৫)।

পুলিশ বলছে হত্যাকারী শীতলের কাছে পাওনা ৩০ হাজার টাকা চাইলে শীতল টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিবেশী ভাবী টগর খাতুন কে নিজ বাসায় ডেকে এনে হত্যা করে লাশ গুম করে।

গত ৬ জানুয়ারি বিকালে ক্যাশব পাড়ার পরিত্যক্ত একটি জমি থেকে টগর খাতুন নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত টগর খাতুন গত ৩০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে সদর থানায় একটি সাধারন ডাইরি করেন তার পরিবার।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির হত্যার ঘটনায় তিনজন কে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শীতল তার বন্ধু অমর কে দিয়ে প্রতিবেশী ভাবি টগর খাতুন কে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন।

এসময় আগে থেকেই আরেক বন্ধু তানভীর শীতলের বাসভবনে অবস্থান করে। টগর বাসায় প্রবেশ করলে শীতল ও তানভীর একটি রশি দিয়ে টগর খাতুনের গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে।

পরে লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় নিহত টগরকে ভরে বাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। হত্যার পর শীতল ও তানভীর নিহত টগর খাতুনের শরীরে থাকা গহনা খুলে শহরের স্বর্ণপট্রিতে একটা দোকানে দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি করে।

ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয়রা একটি লাশ পড়ে থাকে দেখে পুলিশ কে খবর দিলে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।

ঘটনার পর নিহত টগর খাতুনের স্বামী সেন্টু হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা কয়েকজন কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত ভার গ্রহণ করেন থানার ওসি হুমায়ুন কবীর। পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে শীতল, তানভীর ও ওমর কে আটক করে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পরে পুলিশ আটক আসামিদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকার, লাশ গুমের বস্তা, রশি ও স্বর্ণলঙ্কার বিক্রি নগদ টাকা উদ্ধার করেন।

আজ শুক্রবার বিকাল চারটার দিকে আটক আসামিদের মেহেরপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে ওসি নিশ্চিত করেন।




মেহেরপুরে ধানের শীষের প্রচারণার দায়িত্ব পেলেন ছাত্রদল নেতা হিমেল ও মান্না

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনার জন্য বিশেষ সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ন কবির হিমেল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রদল নেতা মো: মোস্তাফিজুর শেখ মান্না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ তাদের এই দায়িত্ব প্রদান করেছে।

রাজপথের পরীক্ষিত যোদ্ধা মোঃ হুমায়ন কবির হিমেল ২০২২ সাল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বিগত আন্দোলনগুলোতে তার সাহসী ভূমিকা দলের ভেতর ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের হামলায় তার হাত ও পা ভেঙে যায়।

তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার অঙ্গীকার- নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর হিমেল ও মান্না তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “কেন্দ্রীয় সংসদ আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমে দিতে চাই। মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়কে সুসংগঠিত করে আমরা মেহেরপুর-১ আসনে মাসুদ অরুনের ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাঠে থাকব।”

নির্বাচনী প্রচারণায় হিমেলের অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, হিমেল ও মান্নার মতো মাঠের লড়াকু সৈনিকের নেতৃত্বে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।




স্বৈরাচার ঠেকাতে, পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন,  ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকলে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়, তা হলো তিনি একাধারে সংসদ নেতা হয়ে যান, মন্ত্রিসভার নেতা হন, সরকারপ্রধান হন, রাষ্ট্রপতির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, এমনকি বিচার বিভাগের ওপরও প্রভাব খাটান। ফলে বিচার বিভাগও তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করা যায় না, কোনো অর্থবিল পাস করা যায় না, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এছাড়াও তাঁর আদেশের বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন কাজ করে না, নির্বাচন কমিশন কাজ করে না, দুদকও কাজ করতে পারে না।

যেহেতু আমাদের দেশের ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার, এজন্য আমরা একটি জাতীয় মুক্তির পথ বের করেছি।

তিনি আরও বলেন, এই মুক্তির পথের মধ্যে যা রয়েছে তা হলো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া, সংসদকে স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি পথ তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন কমিশন ইত্যাদি যে কমিশনগুলো আছে, সেগুলোতে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় মেহেরপুর সদর উপজেলার খড়ের মাঠ আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধনী মতবিনিময় সভায় এ সকল কথা বলেন তিনি।

তিরি আরো বলেন, আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় দুইটি সমস্যা হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারে না, ফলে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ইচ্ছাকেই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমাদের প্রশাসন এত বেশি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন যে, আমরা যদি বিচার বিভাগ ও সংসদকে আলাদা করতে না পারি, তাহলে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পিএস যেকোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা সচিবের থেকেও বড় হয়ে যায়।

এই কুফলগুলো আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি। বাংলাদেশকে এই কুফলগুলো থেকে মুক্ত করতে হলে সংস্কারের পক্ষে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। আমরা যে ক্ষমতার কেন্দ্রভূতকরণ দেখেছি, তার ফলাফল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যেই হন, তিনিই স্বৈরাচার হয়ে যান। এই ৫৪ বছরে আমরা একাধিক স্বৈরাচার দেখেছি।

ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী যেন আবারও স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য আমাদের এগিয়ে এসে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।

মতবিনিময় সভার আগে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে ফলক উন্মোচন করা হয়।

পরে বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ, স্পেসালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (প্রশাসন ও কারিগরি) (যুগ্ম সচিব) সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির ও পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।




গাংনীতে অবাধে চলছে কৃষি জমির মাটি কাটার মহোৎসব

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন ব্যবহার করে আবাদি ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। ‎দিনের আলোতে ও রাতের আঁধারে নির্বিঘ্নে চললেও বিষয়টি দেখেও যেন নির্বিকার উপজেলা প্রশাসন।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের আব্দুল ওহাব নামের এক কৃষক গ্রামে প্রবেশপথের মেইন সড়কের পাশে আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

‎‎একইভাবে ইকুড়ি গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে ড্যাঙ্গার মাঠে খেপু ও ফারুক নামের দুই ব্যক্তি আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে আসছেন।

‎‎এছাড়াও উপজেলার দুর্লভপুর, নলডাঙা, মালশাদহ, গোপালনগর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা চলছে। কেউ দিনে প্রকাশ্যে, আবার অনেকে রাতের আঁধারে গোপনে মাটি কাটছেন।

‎‎সবচেয়ে বড় আকারে মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত রহিম বক্স মণ্ডলের ছেলে মাটি ব্যবসায়ী আরশেদ আলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে আবাদি ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছেন।

‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, আরশেদ আলী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই অবৈধ মাটির ব্যবসা করলেও আজ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

‎‎আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দিনের বেলায় মাটি কাটা কিছুটা বন্ধ রাখলেও তিনি প্রতিদিন রাতের আঁধারে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রলির বিকট শব্দে রাতভর এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না।

‎‎গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাটবোয়ালিয়া সড়কের মালশাদহ ও গোপালনগর নামক স্থানে সড়কের ওপর এক ড্রাম কাদামাটি পড়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

‎‎পরে খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক থেকে কাদামাটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

‎‎এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।

‎‎স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




আজ মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন

মেহেরপুরে আজ (শুক্রবার) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুর সদর উপজেলার খড়ের মাঠ আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ, “স্পেশালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (প্রশাসন ও কারিগরি) যুগ্ম সচিব ও সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।