কোটচাঁদপুরে আগুনে পুড়ে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুরে আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হওয়া ১৮ মাস বয়সী কন্যা শিশু ছোয়া খাতুন মারা গেছে। প্রায় ১০ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ছোয়া খাতুন কোটচাঁদপুর উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বেকারি শ্রমিক রাকিব হোসেনের ছোট মেয়ে।

ছোয়ার চাচা বিল্লাল হোসেন জানান, রবিবার বিকেলে ছোয়ার মা রেশমী খাতুন শোবার ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে শিশুটিকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে পাশের বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর তারা জানতে পারেন ঘরে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে আগুনের মধ্য থেকে ছোয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটির শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয় এবং তাদের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

পরে ছোয়ার বাবা-মা তাকে প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। যশোরে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকরাও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বসতঘরসহ ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।




শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থান আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মনোহরপুর ইউনিয়নের যুবদল নেতা জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও শৈলকূপা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার সাদাতের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো।

দুই দিন আগে বিষ্ণুদিয়া গ্রামে মসজিদের জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই নেতার ওই গ্রামের সমর্থকদের বাক-বিতন্ডা হয়। এরই জেরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হয় অন্তত উভয় পক্ষের ১০ জন।

শৈলকূপা থানা ওসি হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন ঝিনাইদহের ডিসি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদী পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শহরের নবগঙ্গা নদীর ক্যাসেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৩ দিন ব্যাপী এই পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধনে নিজ হাতে পরিস্কার করছেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। সেসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন উদ্দিন, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে এ অভিযান চলবে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শহরের পাশে ক্যাসেল ব্রিজ ত্রিমোহনা থেকে চাকলাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড় পরিস্কার, কচুরিপানা অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।




ঝিনাইদহে জুলাই আন্দোলনে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ঝিনাইদহ থেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় রুবেল হোসেন নামে একজন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে ২৪শের জুলাই আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া একটি মাল্টি ইমপ্যাক্ট সাউন্ড গ্রেনেড, একটি ককটেল ও একটি র‌্যান্ডম মুভ টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।

নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সদর উপজেলায় দুষ্কৃতকারীদের নাশকতা সৃষ্টির আশংকার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

সদর উপজেলার উদয়পুর এলাকায় ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি চৌকশ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একাধিক মামলার আসামি রুবেল হোসেনের বসতবাড়ি থেকে উল্লিখিত বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত টিয়ারগ্যাস গ্রেনেডটি বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবহৃত সরঞ্জামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনকালীন সহিংসতার সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-সরঞ্জামের অংশ।

অভিযান শেষে জব্দকৃত সব আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হরে।




মেহেরপুরে জামায়াতে আমিরের আগমন উপলক্ষে নেতৃবৃন্দের মাঠ পরিদর্শন

আগামী ২৬শে জানুয়ারি মেহেরপুরে আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেই উপলক্ষে আজ সোমবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

ইতিমধ্যে এমন খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার আমির তাজউদ্দিন খান।

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৬শে জানুয়ারি মেহেরপুরে সমাবেশে আসছেন জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান। তবে সমাবেশের স্থান নিয়ে চলছে পরিকল্পনা, সম্ভাব্য দুইটি স্থানকে বেছে নিয়েছে সংগঠনের দায়িত্বশীলরা, একটি হচ্ছে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠ ও অন্যটি মেহেরপুর সরকারি কলেজ মাঠ।

প্রশাসনিক অনুমতি সাপেক্ষে এই দুই স্থনের যেকোনো এক স্থানে সমাবেশ মাঠ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।




কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে আমীর আবুল হাশেম আর নেই

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আবুল হাশেম সাহেব আর নেই। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মিছিলটি মুফতি আমীর হাজমাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

আবুল হাশেম ছিলেন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুষ্টিয়া জেলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তার ইন্তেকালে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




মেহেরপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা

মেহেরপুরে শাহিন নামের এক ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার ইজিবাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ছিনতাইকারীরা। চালকের সাহসিকতা ও প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা।

আহত শাহিন মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়া এলাকার মৃত সুরাত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত শাহিন জানান, সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে আসা এক যাত্রীকে সদর উপজেলার সহগলপুর স্কুলের কাছে নামিয়ে দিয়ে তিনি মেহেরপুর শহরের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মনোহরপুর কবরস্থানের কাছে পৌঁছালে সড়কের ওপর ফেলে রাখা কলাগাছ দেখতে পান। তিনি দ্রুতগতিতে সেটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। প্রথমবার কলাগাছটি পার হতে পারলেও পরবর্তী ধাপে ফেলে রাখা আরেকটি কলাগাছে আটকে তার ইজিবাইকটি উল্টে যায়।

এ সময় পাশের একটি বাগান থেকে মুখোশ পরিহিত সাতজন ছিনতাইকারী তাকে টেনে নিয়ে যায়। তারা তার গায়ে থাকা চাদর ছিঁড়ে হাত বেঁধে ব্যাপক মারধর করে। একপর্যায়ে তিনজন তাকে আটকে রাখে এবং অপর চারজন ইজিবাইকটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে গাড়িটি উল্টে যাওয়ার ফলে ব্যাটারির তার ছিঁড়ে যাওয়ায় তারা ইজিবাইকটি চালু করতে ব্যর্থ হয়।

পরে সুযোগ বুঝে শাহিন তার হাতের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন। ছিনতাইকারীদের কাছে কোনো ধারালো অস্ত্র না থাকায় তিনি সাহসিকতার সঙ্গে তিনজনের ওপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় বাকি চারজনসহ সবাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে তিনি বাড়িতে ফোন করলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মেহেরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিক আহত

মেহেরপুর শহরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মান্নান (৪০) নামের এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ফৌজদারীপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত মান্নান বামনপাড়া এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্নান শহরের ফৌজদারী পাড়ার বাপ্পি সরকারের নির্মাণাধীন একতলা বাড়ির সিড়িঘরের উপরে টিনের ছাউনির কাজ করছিলেন। এসময় একটি প্লাস্টিকের পাইপ বাধতে গিয়ে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের উচ্চভোল্টেজ সম্পন্ন মেইন লাইনের সাথে টিন বাধা তারের স্পর্শ লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একতলা থেকে নিচে পড়েন। এসময় তার শরীরে আগুন লেগে তার শরীরের একটি বড় অংশ ঝলসে যায়।

ঘটনার পরপরই সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে রেফার করা হয়েছে।




চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর নির্বাচনী গণসংযোগ: ‘হ্যা’ ভোটের পক্ষে প্রচার

চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার বাজার, চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নির্বাচনী গণসংযোগ করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ও  বিজিএমইএ সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

গতকাল রবিবার বেলা সাড় ১১ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি এই নির্বাচনী গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগে মাহমুদ হাসান খান বাবু কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় যান। তিনি সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং ভোটারদের কাছে ধানের শীষের পাশাপাশি ‘হ্যা’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করেন।

গণসংযোগকালে তিনি প্রধান প্রধান বাজার ছাড়াও গ্রামের পাড়া-মহল্লার মোড়, স্থানীয় চায়ের দোকান জনসমাগমপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

গণসংযোগকালে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি ভোটারদের উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘হ্যা’ মানে হলো সংস্কারের পক্ষে। অনেকগুলো বিষয় আছে যা সংস্কার করতে হবে । আপনার একটি ‘হ্যা’ ভোট, বদলে দেবে আগামীর ভাগ্য। উন্নয়ন আর অধিকারের পক্ষে, ‘হ্যা’ ভোট দিন নির্ভয়ে। সহজ কথায় ‘হ্যা’ জয়যুক্ত হলে আমার ভোটটা আমি প্রতি পাঁচ বছর পর পর নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিতে পারব।

এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




দামুড়হুদায় ❝ওরা বন্ধু সংঘ❞ উদ্যোগে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ 

❝হাসবো মোরা প্রাণ খুলে,থাকবো বেঁচে সবাই মিলে❞ এই স্লোগানে ❝ওরা বন্ধু সংঘ❞ দামুড়হুদার উদ্যোগে বিধবা, অসহায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে শীতবস্ত্র উপহার (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেল ৪ টার সময় উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামে এই শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,দেশ ব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট সমাজসেবক, হাজী. আব্দুল কাদির।

সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার আক্তারুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উজ্জল হোসেন সুমন, জহুরুল ইসলাম সহ উপকারভোগীগণ।

প্রধান অতিথি “ওরা বন্ধু সংঘ” দামুড়হুদার বন্ধু হতে পেরে আনন্দিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহমর্মিতা আর মানবিকতা দিয়েই একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব। এমন মানবিক কর্মসূচির আওতায় সমাজের প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন কোনভাবেই উপেক্ষিত না থাকে-এ লক্ষ্যেই সংগঠনটি প্রত্যন্ত এলাকায় সরাসরি উপকারভোগীদের খোঁজ নিয়ে সহায়তা প্রদান করেন। কাজেই সংগঠনের সকল কার্যক্রম জনকল্যাণমূলক, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

সাংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির) বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। আজকের এই উদ্যোগ কেবলি একটি বস্ত্র বিতরনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের প্রতি আমাদের ভালোবাসা আর সহমর্মিতার বহি:প্রকাশ। সর্বোপরি তিনি উপস্থিত উপকার ভোগিদের কাছে সংগঠনসহ যে সকল গুটিকয়েক মানুষের সহযোগিতায় সংগঠনটি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেণনা পেয়েছেন তাদের জন্য দোয়া ও সুস্থতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত: “ওরা বন্ধু সংঘ” দামুড়হুদায় ২০০৩ সালের ১২ই মার্চ যাত্রা শুরু করেন। প্রথম থেকে বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও। পরবর্তীতে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেয়,খেলাধুলার সাথে সাথে সমাজের মানুষের নানা উন্নয়নে কাজের।

মূলত:সে থেকেই সমাজের অসহায়, বিধবা, প্রতিবন্ধী, এতিম, দিনমজুর সহ নিম্নবিত্ত পরিবারের একটু উপকৃত তথা কল্যাণে কাজ করে আসছেন। সংগঠনের মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য দামুড়হুদায় একটি বিশ্বস্ত ও পরিচিতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছেন। কাজেই মানবসেবাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।