তেল পাচার রোধে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির টহল ও তল্লাশি জোরদার

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য পাচার রোধে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সদর দপ্তর বিজিবির নির্দেশনা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দর্শনা আইসিপিসহ জেলার বিভিন্ন সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও সন্দেহভাজন মালামালের ওপর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অতীতে যেসব রুট দিয়ে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে দর্শনা আইসিপি গেটে দেশীয় ও ভারতীয় পণ্য ভারতে প্রবেশের সময়ও অধিক সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার না হতে পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সন্দেহজনক যেকোনো চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুরে তেল সংকট, সীমিত পরিমাণে বিক্রি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মেহেরপুরের তেল পাম্পগুলোতেও পড়েছে। জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ ক্রেতারা অতিরিক্ত তেল কেনার চেষ্টা করায় জেলার বিভিন্ন পাম্পে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বেশি বিক্রি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে পাম্প মালিকরা।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল নিতে পারছেন। তবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে কেউ কেউ তেল পেলেও অনেকেই না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

শনিবার বেলা ১২টার তথ্য অনুযায়ী, শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত মেসার্স মেহেরপুর ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বামনপাড়ায় অবস্থিত মা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ থাকলেও সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত অকটেন দেওয়া হচ্ছে। কাথুলী রোডের মেসার্স জেড কে ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। আর পুলিশ লাইন রোডের নূর ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। এতে করে কেউ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করতে পারবেন না বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।




মেহেরপুরের বেশিরভাগ তেল পাম্প বন্ধ; খোলার খবর পেলেই ভিড় জমাচ্ছে মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মেহেরপুরের তেল পাম্প গুলোতে। জ্বালানি তেলের সংকট আশংকায় অতিরিক্ত তেল মজুদের চেষ্টা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে চাহিদার তুলনায় বেশি বিক্রি হওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্প গুলো। যে কারণে অধিকাংশ তেল পাম্প বন্ধ করে রেখেছেন মালিকরা। যেখানে পাম্প খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ছুটছে মানুষ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল নিতে পারছেন ক্রেতারা। তবে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে পাচ্ছেন, কেউ কেউ না পেয়েই ফিরছেন। তবে এমন পরিস্থিতি সরকার আগামীকাল রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারন করে দিয়েছে। যাতে কেউ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করতে না পারেন।

বাস-ট্রাকগুলো তাদের নির্ধারিত পাম্প থেকে তেল নিতে পারছে। ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে বন্ধ পাম্প খুলে নিয়মিত কাস্টমারদের তেল দিয়ে ফের বন্ধ করে রাখছেন মালিকরা। তবে অনিয়মিত বাস-ট্রাকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

তেল সংকট হবে গত ৫-৬ দিন ধরে এমন খবরে ক্রেতারা পাম্প থেকে বেশি করে তেল কিনে নিয়ে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান পাম্প মালিকরা। এখন ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। সংকট থেকে উত্তরণের কোনো খবরও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এবার বোরো চাষ বিঘ্ন হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

মেহেরপুর সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের কৃষক ওহিউল ইসলাম বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তার শ্যালো মেশিনের অধীনে আড়াইশ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়। ৩-৪ দিন ধরে পাম্পগুলো ঘুরে অল্প অল্প করে ডিজেল পেলেও আজ দুদিন ধরে কোনো ডিজেল কিনতে পারেননি। ফলে ধানের জমিতে সেচ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

একই গ্রামের চাষি কফেল উদ্দিন বলেন, ধানে এখন নিয়মিত সেচ দেওয়া জরুরি। ডিজেলের অভাবে আজ দুদিন পানি দিতে পারিনি। জমি শুকিয়ে গেলে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হবে। সরকারের উচিত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাষিদের আগে ডিজেল দেওয়া। তা না হলে চাষিরা ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে।

কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাবে ও সংকট হবে এমন কথা ছড়িয়ে পড়ায় আমার পিকআপ ও মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে এসেছি। তবে তেলের দাম না বাড়লেও তেল সংকট ঠিকই হয়ে গেছে। ৫টি পাম্প ঘুরে একটি পাম্পে কিছু তেল পেয়েছি। মোটরসাইকেলের জন্য ৩০০ টাকার অকটেন পেয়েছি। তাও পুলিশ লাইনের পাশে নুর ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে। অন্যান্য পাম্প বেশির ভাগই বন্ধ রয়েছে।

পেপার হাউজের ম্যানেজার গোলাম মাহাবুব লাল্টু বলেন, জেলার সব উপজেলায় পেপার পাঠাতে গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছি না। মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল-অকটেন তো নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে সব বন্ধ করে বসে থাকতে হবে।

তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন আঙ্গুর বলেন, তেলের দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের খবরে মানুষ আতঙ্কে পাম্পে ভিড় করছে। আমরা মজুদ অনুযায়ী নির্ধারিত মূলেই তেল বিক্রি করছি। তবে কোনো কোনো পাম্পের মজুদ শেষ হয়ে গেলে ক্রেতারা তা মানতে না চাওয়ায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেকেই আতঙ্কে তেল কিনছে। তবে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। পাম্প মালিকরা প্রাপ্যতা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছে। জেলা প্রশাসন থেকে পাম্পগুলোতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

তেল ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকারের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক দূর করতে সারা দেশের ফিলিং স্টেশন থেকে কী পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল।

স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলারেরা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, কিছু কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

দেশের জনগণের ভয়/আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারা দেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন/ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি কর্তৃক উল্লিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় জ্বালানি তেল সরবরাহ গ্রহণ/প্রদানের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে। ২. ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ/বিল প্রদর্শন করতে হবে। ৩. ডিলাররা বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে। ৪. ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে। ৫. তেল বিপণন কম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার পূর্বে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে, কোনোভাবেই বরাদ্দের বেশি দেওয়া যাবে না।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল ক্রয়/বিক্রয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনগত অপরাধ। তাছাড়া, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি মাসের শুরুতে সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার অদ্যাবধি কোনোরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। বর্ণিত অবস্থায় দেশের সব ভোক্তা/ডিলারদের বর্ণিত নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হলো।




চুয়াডাঙ্গায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

চুয়াডাঙ্গায় ন্যাশনাল চিল্ড্রেন’স টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ) জেলা শাখার উদ্যোগে অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুর মাঝে ইফতার বিতরণ, ইসলামিক গান, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুলিশ পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিটিএফ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি এস.এ. সাদিক বিন রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্ক ইনচার্জ সাব-ইনস্পেক্টর সোলাইমান হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের আরও সুন্দরভাবে বিকশিত করতে পারে। তিনি এই আয়োজনকে স্বাগত জানান এবং এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত শিশুদের অংশগ্রহণে ইসলামিক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকরা প্রতিযোগীদের পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও পার্কে শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

এ আয়োজন বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম। শিশুদের উৎসাহিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে ইসলামিক বই উপহার দেওয়া হয়।




সিপিবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মেহেরপুরে আলোচনা সভা

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিথ (সিপিবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মেহেরপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জেলা কমিটির উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শহিদুল ইসলাম কানন।

সভায় বক্তব্য রাখেন শহিদুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, মখলেছুর রহমান, আহসান হাবীব, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সিপিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের গণতন্ত্র, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার এবং সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।




আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদকসহ একজন গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ (ত্রিশ) পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) প্রদীপ বিশ্বাস ঘোলদাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ক্যাম্প এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অভিযান চালিয়ে বেলগাছি গ্রামের চাঁদ আলির ছেলে মো. জুয়েল রানাকে (৩০) তার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ৩০ (ত্রিশ) পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি জুয়েল রানার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগারের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গায় ব্যায়ামাগারের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগার ও ঐশীকা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে আলমডাঙ্গা দারুস সালাম চত্বরে ব্যায়ামাগারের সভাপতি ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট রাসেল এমপি বলেন, পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই বরকতময় মাসেই মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। কুরআন এমন এক মহাগ্রন্থ, যা মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, রমজানের সিয়াম কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মসংযম, তাকওয়া ও নৈতিকতার এক মহান প্রশিক্ষণ। রোজা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, অন্যায় ও অবিচার থেকে দূরে থাকতে শেখায় এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মানসিকতা গড়ে তোলে। রমজানের শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার থেকে মুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।

তিনি আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, জেলা জামায়াতের যুব বিষয়ক সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, আইন আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, সেক্রেটারি মামুন রেজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান, এমএস জোহা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী খান এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান।

ব্যায়ামাগারের অন্যতম সদস্য আব্দুর রশিদ মঞ্জুরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যায়ামাগারের অন্যতম সদস্য সুলতানুল আরেফিন তাইফ, শরিফুল ইসলাম পিন্টু, কামরুজ্জামান বকুল, সাদ্দাম খান, ডা. মতিয়ার রহমানসহ ব্যায়ামাগারের সকল সদস্যবৃন্দ। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল মোত্তালিব। পরে ইফতার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




আলমডাঙ্গা বেলগাছি প্রবাসী ঐক্য পরিষদের ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গার বেলগাছি প্রবাসী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি রাসেল।

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামে প্রবাসীদের সামাজিক সংগঠন প্রবাসী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রবাসী পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপস্থিত থেকে বলেন, আমি বেলগাছির সকল প্রবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা অত্যন্ত মহৎ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ছোটবেলা থেকে আমি এই বেলগাছিতেই বেড়ে উঠেছি। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ এবং মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের দোয়ার মধ্যে আমাকে সামিল রেখেছেন। আপনারা আমাকে সঙ্গে রেখে ছিলেন এবং আপনাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন। এজন্য আপনাদের সেবায় কাজ করার সৌভাগ্য আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। সামনে এগিয়ে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অবস্থান করবো। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ সবাই একসঙ্গে মিলে এসব খারাপ কাজের বিরুদ্ধে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ অভিশাপ, যা কখনো কারও উপকারে আসে না। যদি কারও নামে মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়, তাহলে সে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি চাকরি পাবে না এবং সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে। এমনকি পাসপোর্ট করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার রায়হান উদ্দিন।

সংগঠনের সভাপতি মো. মারুফ হাসান ও সেক্রেটারি শাকিল আহমেদের নেতৃত্বে এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানের পরিচালক ও সার্বিক সমন্বয় করেন জার্মানি প্রবাসী শামীম কবির, মো. সাব্বির রহমান, সলোক মিয়া, জরিপ মিয়া, সোহেল রানা, রাহুল, রাহাত রাব্বি, আব্দুল আলিম, মিন্টু রহমান, মো. সম্রাট, রনি মিয়া, কামাল হোসেন, শাকিল, আরিফুল, শাওন, মারুফ হাসান, সুজন, শাওন মালিতা, মামুন, সবুজ খান, আকাশ, আজিম, রাসেল, ইমন, রোকন, মিনারুল, রাব্বি আহমেদ, সাইফুল, রিপন মিয়া, শাজাহান, অন্তর, মাসুদ, টমাস, লিপন, সৌদি প্রবাসী রাজিবুল ইসলাম, আফাজ, মিলন, শরিফুল, রাইসুল করিম, মিমিন, ওয়ালিদ, লালন হোসেন, শাকিল, ফারুক, রাকিবুল, মিনারুল, রাজু আহাম্মেদ, মারুফ, আহমেদ কামাল, মাসুদ রানা, সাজু আহমেদ, সোহেল, রাকিব, কলম, জুয়েল রানা, ইমন আলী, রুবেল, লিকু, হারুন, জীম, দিপু প্রমুখ।




ঝিনাইদহে যুবউন্নয়নের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঝিনাইদহ যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরে ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে যুবউন্নয়ন ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত পরিক্ষায় প্রায় ২‘শ জন বেকার যুব নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করেন। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করবে ই-লানিং এন্ড আর্নিং লিমিটেড।

ঝিনাইদহ যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজ জানান, দেশের ৬৪ জেলায় চলমান এই প্রশিক্ষণ কোর্সের ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ এপ্রিল হতে। ছয় মাস মেয়াদী এই কোর্সে দৈনিক ৮ ঘন্টার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি জানান লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে এই কেন্দ্রে তিন ব্যাচে ৭৫ জনকে ভর্তি করা হবে। ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা দৈনিক ভিত্তিতে সকাল-বিকাল নাস্তা, দুপুরের খাবার এবং যাতায়াত বাবদ ২‘শ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পরিক্ষা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার অতনু সাহা এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার অমলেন্দু বিশ্বাস।




মেহেরপুরে বেকারত্ব ও আমার ভাবনা

কোনো দেশের জনশক্তির তুলনায় কর্মসংস্থানের স্বল্পতার ফলে সৃষ্ট সমস্যাই বেকার সমস্যা। বর্তমান বাংলাদেশে এই সমস্যা জটিল ও প্রকট আকার ধারণ করেছে তার চেয়েও আরোও বেশী প্রকট মেহেরপুরে, কেন? বেকারত্ব বলতে মূলত বোঝায় কর্মক্ষম শ্রমশক্তির পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব।

আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, “Unemployment (or joblessness) occurs when people are without work and actively seeking work.” The Bureau of Labour Statistics (BLS) বেকারত্বের সংজ্ঞায় বলেছে- ‘বেকারত্ব হচ্ছে এমন কিছু মানুষের কর্মহীন অবস্থা; যাদের কোনো কর্ম নেই। মেহেরপুরের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সামাজিক অবকাঠামো, মানুষের মানুষিকতার বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারনে অন্য জেলার চেয়ে বেকারত্বের হার এখানে বেশী। আবার কাজের ধরণের সঙ্গে শ্রমশক্তির দক্ষতার অসঙ্গতির ফলে সৃষ্টি হয় এক ধরণের বেকারত্বের হার আরোও বৃদ্ধি হয়।

মেহেরপুরে বেকার সমস্যা সৃষ্টির পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাবিধ কারণ রয়েছে। কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হলো- মেহেরপুর সীমান্তবর্তী একটি জেলা। এর শহরটিও সীমান্তঘেসা। এর জেলার অন্তর্গত বিশাল অংশই পাশের দুই জেলার বাজারমূখী। এই অংশটি অন্য পার্শ্ববর্তী দুই জেলার উপর বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তাই মেহেরপুর শহরমুখীতা হ্রাস পেয়েছে। শহর তার বাজার হারাচ্ছে।

মেহেরপুর সাধারণত কৃষিকাজ নির্ভর জেলা যেখানে জীবিকার একমাত্র মাধ্যম কৃষি। এখানকার জমিতে একটি বছরে চারটি শষ্য উৎপাদন সম্ভব। তাই ভাত কাপড়ের তেমন অভাব না থাকলেও এখানে শিল্প না থাকায় বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। শিল্প বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে না উঠলে বেকারত্বের হার কমানো সম্ভব না।

তাছাড়া জনসংখ্যার সীমাহীন চাপই মূলত এর জন্য প্রধানত দায়ী। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে না। কৃষকের অসচেতনতা ও অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার বেকার সমস্যার অন্যতম কারণ। জমির উর্বরতা হ্রাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি উৎপাদন শক্তিহীন হয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয় কাজের সুযোগ। কায়িক শ্রমের প্রতি অনীহা বেকার সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান কারণ। অভাব থাকলেও মেহেরপুরের মানুষ কায়িক পরিশ্রম করতে আগ্রহী নয়। প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বসে থাকে, কিন্তু নিজেই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ভাগ্যোন্নয়নে উদ্যোগী হয় না। এখানকার যুবকরা ঘরে বসে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

বেশীরভাগই নিজ যোগ্যতা না বুঝে শুরুতেই বড় মাছটি ধরতে চাই, শুরুতেই বড় পদটি চায়। ছোট কাজের প্রতি নাক শিটকানো

স্বভাব আমার এই এলাকায় প্রবল। বেকার বসে রাস্তায় সারাদিন আড্ডাবাজি করবে কিন্তু কর্মইচ্ছা নেই। আর আমাদের এই অঞ্চলের পিতামাতা অভিভাবকগনও অসচেতন। এরা যাকে বলি হোমসিকনেস বা সন্তানদের ঘরে আবদ্ধ করে রেখতে পছন্দ করেন। অন্য জেলার পিতামাতাদের দেখেছি সন্তানদের খুব অল্প বয়সেই কর্মমূখী করে তোলেন, কর্মের জন্য সন্তানকে বাহিরে পাঠিয়ে দেন। তাদের সন্তানরাও কয়েক বছরের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে ঘরে ফিরে।

কিন্তু মেহেরপুরে সন্তানের সন্তান হওয়ার পরও পিতামাতা কোলের ভিতর আগলে রাখে। সন্তানের নাকি খুব বয়স হয় নি। এই মানসিকতাও বেকারত্বের হার বৃদ্ধির আর এক কারন। শিল্প কারখানা সৃস্টি, অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি, যুবকদের ভিতর কর্ম স্পৃহা জাগিয়ে তোলা, মন মানুষিকতা পরিবর্তনই বেকারত্বের হার কমানোর উপায় বের করা সম্ভব।

আমাদের ব্রতী এটাই হওয়া উচিত, এসো প্রকৃত মানুষ হই, কর্ম করি। আর বেকার থাকবো না, হয় চাকুরী দিবো, নইলে চাকরি করবো।

যা কাজ পাও তাই করো, চাকরি, ব্যবসা, অফিসিয়াল, নন অফিসিয়াল,সেলস ম্যান, সেলস অফিসার, মার্কেটিং অফিসার, ফ্লোর ইনচার্জ, সার্বেয়ার, স্টোর কীপার, ফিল্ড অফিসার, কালেকশান অফিসার, গার্মেন্টসের কিউসি,টীম মেম্বার থেকে শুরু করে সব কাজ। চাকরি দরকার, চেয়ার না।

কাজ করলে গা ভেঙ্গে যায় না। ইজ্জতও যায় না। যাদের লজ্জার ভয়ে তুমি এসব কাজ ছোট করে দেখছো, তারা তুমি দুপুরে উপুস করে আছো এটা জানবেও না। তারা তোমারে খাওয়ায় না পরাই?

কাজে কোন ‘না’ নেই। যাই পাও তাই করো। কর্মই ধর্ম। আর কর্মই ধর্ম করতে গেলে তোমার চর্ম হতে হবে পুরো। একেবারে মোটা চামড়া। পাতলা চামড়ার জন্য এই দুনিয়া না৷ এখানে কথা শুনতে হবে, গালি শুনতে প্রস্তুত থাকা লাগবে।

পানের দোকান দাও, যদিও এতে তোমার গুস্টির জাত চলে যাবে। ইজ্জত ধুলোয় মিশে যাবে। CNG চালাও। মাত্র ৪৫০ টাকা দৈনিক জমা। মাসে আয় প্রায় ৩০০০০/-। ভাবা যায়?

আরে আজব। না খেয়ে মরলে খোঁজ নেই। CNG চালালে ইজ্জত শেষ! অলরেডি পাঠাও উবার তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। পোলাপান এখন আয়ের বহু পথ খুঁজে নিয়েছে৷ তারা ফুড পান্ডায় পিৎজা সাপ্লাই দিয়ে কমিশন নেয়। তাতে তাদের বেজ্জতি হয় নি।

অত ভাবনার কিছু নেই। যা খুশি করো। শরবত বিক্রি করো, এখন দারুণ সিজন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শহরে রুহ আফজা ফ্লেভরের শরবত বিক্রি করতেন। ভারতের নরেন্দ্র মোদি রেল স্টেসানে চা বিক্রি করতেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বিক্রি করতেন বাদাম।

যাদের তুমি শরম পাচ্ছো, আর দশ বছর পর নিজেই নিজের কাছে লজ্জা পাবা। তারা তোমার কোন উপকারেই আসে নি। লোহার জাহাজ পানিতে ভাসানো হবে জেনে এলাকার লোকজন (সম্ভবত যে সি পেরিয়ারকে) ঢিল মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। অথচ, সেটাই হয়ে গেল সভ্যতার বিশাল আবিস্কার।

যারা হাসে, তারা নেংটি ইঁদুরের মত আজীবনই হাসবে। তাদের ধারণা একটাই, ধুর পোলাটারে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দাও। স্বপ্নটাকে জিইয়ে রাখো।

মোটর গ্যারাজে আজই কাজ শুরু করে দাও, শরম পাওয়া ছেলেটার চাইতে দশ বছর এগিয়ে থাকবে তুমি। পড়ালেখা করতে করতে আতেঁল হয়ে যাবার পক্ষে আমি না। এক্সট্রা অর্ডিনারী ব্রেন থাকলে এই লেখাটা তোমার জন্যে না। এভারেজ মেধার তরুণদের নিয়ে কথা হচ্ছে৷ এভারেজ মেধাবীরা কেডিএস, কে এস আর এম, ওয়েল গ্রুপের মালিক হতে পেরেছে। টপার মেধাবীরা সেখানে চাকরি করছে।

দেখবে, পিঁপড়ারা কখনো থেমে যায় না৷ ওদের পথ কেউ আটকে দিলে বিকল্প পথ ঠিকই খুঁজে নেয়৷ পিঁপড়াদের থেকেও শেখার আছে অনেক কিছু৷

তুমি বেচে আছো, তুমি শ্বাস নিতে পারছো মানেই তুমি প্রাণবন্ত না। তুমি কেবলই জীবিত।

তুমি মানুষ হয়ে জন্মেছ বলেই সমাজে অস্তিত্ব আছে তা নয়। শুধু মানুষ হিসাবে নয়, তুমি একজন আছো এটা জানান দেয়াটাই তোমার অস্তিত্ব।

নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে তোমাকে নিজ পথ বেছে নিতে হবে। বাধা আসবেই, না আসলে বুঝবে তোমার পথ সঠিক নয়, বাধা অতিক্রম করতে হবেই। কেউ পথ আটকিয়ে দিলে বিকল্প পথ খুজে নিতে হবে যেমনটি পিঁপড়ারা করে। সাহস নিয়ে এগুতে হবে।

ভীরুতা বা ভাগ্যের উপর নির্ভরতা থাকলে কখনওই টাইমলাইনে আসা যায় না। একটি স্বপ্ন থাকা লাগে, একটি লক্ষ্য থাকা লাগে, হিম্মত লাগে, সাহস লাগে, আওয়াজ লাগে। থাকলে শোনাও। জানাও পৃথিবীকে তোমার অস্তিত্ব আছে।

You are not only alive.. you exist.

এসো তারুণ্যে জাগি, লজ্জাটাকে শিঁকেই তুলে বাঁচি। আগামীর পৃথিবীটা তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে।

লেখক: মেহেরপুর প্রতিদিনের প্রকাশক।