কোটচাঁদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর বাজারে জনস্বার্থে ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোববার দুপুরে কোটচাঁদপুর বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২,০০০ টাকা করে মোট ৬,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি ব্যবসায়ীদের সঠিক নিয়মে ব্যবসা পরিচালনার এবং সরকারি আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দামুড়হুদায় এসএসসি ৯২ ব্যাচের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ

“এসো বন্ধু স্মৃতির টানে, মিলি আমরা প্রাণের বন্ধনে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় এসএসসি ৯২ ব্যাচের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় দামুড়হুদা অডিটোরিয়াম হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসএসসি ৯২ ব্যাচের এমন মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ কাজ। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটে এবং তারা আনন্দের সঙ্গে ঈদের মতো বড় উৎসব পালন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতা আরও শক্তিশালী হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে তাদের পড়াশোনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “আপনারা অবশ্যই সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে যত্নবান হবেন, যাতে তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আগামী দিনে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে।”

নিজের কর্মজীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছিল এবং সবার সহযোগিতায় এখানে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আবারও তার বদলির আদেশ এসেছে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং এলাকার মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।

দামুড়হুদা উপজেলা এসএসসি ৯২ ব্যাচের সভাপতি নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন এবং দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশসহ এসএসসি ৯২ ব্যাচের বন্ধুরা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসএসসি ৯২ ব্যাচের দামুড়হুদা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আল হেলাল রাজা। এ সময় অসংখ্য সেবাগ্রহীতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। এ সময় মোট ৪১৮ জন অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।




মেহেরপুরে শিশু-কিশোরদের ঈদ কার্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মেহেরপুরে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ঈদ কার্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. সৈয়দ এনামুল কবির।

এছাড়াও এসময় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খাইরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ. জে. এম. সিরাজুম মুনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় দুইটি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। এর মধ্যে ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং ঈদের আনন্দকে ঘিরে তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নানা রঙ ও নকশায় আকর্ষণীয় ঈদ কার্ড তৈরি করে তাদের সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় দেয়।




আলমডাঙ্গায় প্রকাশিত খবরে অসহায় রাকিবকে ডেকে সহায়তা দিলেন ইউএনও

পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আলমডাঙ্গায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তারের মানবিক উদ্যোগে প্রতারণার শিকার কিশোর রাকিবের পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি পোয়ামারি গ্রামের কিশোর রাকিব (১৪) প্রতারণার শিকার হয়ে তার একমাত্র আয়ের উৎস পাখিভ্যান প্রতারক চক্রের হাত থেকে হারিয়ে ফেলে। পাখিভ্যান হারানোর পর রাকিবের পরিবার সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে। এই ঘটনা স্থানীয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ইউএনও পান্না আক্তারের নজরে আসে।

রবিবার বিকেল ৩টার সময় ইউএনও পান্না আক্তারের কক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরিবারটি এই সহায়তা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ইউএনও শুধু আর্থিক সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের মানসিক সাহসও বাড়িয়েছেন।

পান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যদি এমন অসহায় মানুষের সন্ধান পান, অবশ্যই নিউজ করবেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কোনো অবস্থাতেই এই দায়িত্ব এড়াতে পারি না। প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া পাখিভ্যান উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রতারণার চক্র সনাক্ত করা হয়েছে।”

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক রোজিনা বলেন, “স্যারের সরাসরি সহায়তা আমাদের জন্য এক আশার আলো। তিনি শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করেননি, আমাদের মানসিক শক্তিও দিয়েছেন।” এই ঘটনার মাধ্যমে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের এক নজির স্থাপন হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।




হতদরিদ্রের চালের লাইনে কলেজ শিক্ষক, আলমডাঙ্গায় চাঞ্চল্য

হতদরিদ্র, বিধবা ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক স্বচ্ছল কলেজ শিক্ষক এমন ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।

রোববার আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ইয়াসিন আলি নামে এক ব্যক্তিকে চালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক। একজন কলেজ শিক্ষককে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান।

চাল নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ইয়াসিন আলি বলেন, “আমার বাসায় কে কার্ড দিয়ে গেছে আমি জানি না। তবে কার্ড যেহেতু পেয়েছি, তাই চাল নিতে এসেছি। এটা আমার প্রাপ্য বলেই মনে করি।”

তবে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, ইয়াসিন আলির আলমডাঙ্গা পৌরসভার এরশাদপুর এলাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটবাড়ি রয়েছে এবং তিনি যথেষ্ট জমি-জমার মালিক। একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি হয়েও সরকারি ত্রাণ নেওয়া নীতিবহির্ভূত এবং প্রকৃত দরিদ্রদের প্রতি অবিচার বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রানা বলেন, ওই শিক্ষক অনেক আগে থেকেই চাল নিচ্ছেন। এবার আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাল বিতরণ করছি। হয়তো ভুলবশত তার হাতে কার্ড চলে গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি খোঁজ নিয়েছি কে তাকে কার্ড দিয়েছে, কিন্তু কেউ দায় স্বীকার করছে না। আমি নির্দেশ দিয়েছি, যদি তিনি পাওয়ার যোগ্য না হন, তবে সেই চাল যেন কোনো প্রকৃত গরিব ব্যক্তিকে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এ ধরনের সুবিধা গ্রহণ প্রকৃত দুস্থদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বলেও তারা মত প্রকাশ করেছেন।




মেহেরপুরে “আমরা কয়জন ভ্রমণ গ্রুপের” ঈদ বাজার বিতরণ

মেহেরপুরে ভ্রমণ গ্রুপ আমরা কয়জন ভ্রমণ গ্রুপের পক্ষ থেকে অসহায় দরিদ্র পরিবারের মাছে ঈদ বাজার সাম্রগী বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার আমরা কয়জন ভ্রমণ গ্রুপের পরিচালক মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে গ্রুপের সদস্যরা প্রায় অর্ধশত পরিবারের মাঝে এসকল উপহার তুলে দেন।

এসময় আমরা কয়জন গ্রুপের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে জন প্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার সময় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের আওতায় ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ০৬ নং হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে উপকারভোগীদের মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় অনুকূলে বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৬৮৮টি কার্ডের বিপরীতে প্রত্যেক উপকারভোগীকে নির্ধারিত পরিমাণ চাল প্রদান করা হয়।

ভিজিএফ চাল সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে বিতরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলেমান মল্লিক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন হাউলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির উবায়দুর রহমান ও সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার।

চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির, ট্যাগ অফিসার আতিকুর রহমান এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম টিক্কাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। উপকারভোগীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকারের এ সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।




মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন জাভেদ মাসুদ মিল্টন

মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও শিল্পপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
জাভেদ মাসুদ মিল্টনের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামে। তিনি একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আদম আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় জাভেদ মাসুদ মিল্টন ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থদের সহায়তা করা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি একজন মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তার এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাকে ‘দানবীর’ উপাধিতেও ভূষিত করেছেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তার নিয়োগকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে জাভেদ মাসুদ মিল্টনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনা করবেন।
শিগগিরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।



ঈদকে ঘিরে বাজারে জাল নোটের ছড়াছড়ি

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট চক্র। ঈদের আগে বাজারে লেনদেন বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব চক্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালনোট তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।

জানা গেছে, জালনোটের কারবার এখন আর পাড়া-মহল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও চলছে এ টাকার রমরমা ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে খোলা হয়েছে শতাধিক পেজ। এসব পেজে দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের অফার। লোভনীয় এসব অফারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে সংঘবদ্ধ চক্র। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এসব নকল টাকা।

এক লাখ টাকার জালনোট বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সব ধরনের নোট সরবরাহ করছে চক্রটি। এসব নোট এতটাই নিখুঁত যে সহজে আসল-নকল বোঝা যায় না।

সূত্র জানায়, অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার লোভে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও এই কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। ঈদের আগে পোশাক, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে কেনাকাটা বেড়ে যায়। এই সময়কে লক্ষ্য করে কাপড় বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে লেনদেনের সময় জালনোট চালানোর ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের তাড়াহুড়োকে কাজে লাগিয়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জালনোট চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

শহরের কেপি বসু সড়কের কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এক ব্যক্তি দোকানে এসে ৭ হাজার টাকার মূল্যের দুটি শাড়ি কেনেন। সবগুলোই নতুন টাকার নোট দেন। পরে ওই ব্যক্তি চলে গেলে জানতে পারি ৭ হাজার টাকার মধ্যে ৪ হাজার টাকাই জালনোট।”

পায়রা চত্বর এলাকার ফল ব্যবসায়ী কাওসার আলী বলেন, “ইফতারের কিছুক্ষণ আগে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে ফল কিনতে আসে। তারা ২ হাজার ৫০০ টাকার ফল কিনে নিয়ে যায়। পরে আড়তে টাকা দিতে গেলে মালিক বলেন ১ হাজার টাকার দুটি নোট জাল। তখন বুঝতে পারি ওই যুবকেরা জালনোট দিয়ে গেছে।”

অপরাধ বিশ্লেষক মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, “বিভিন্ন উৎসব এলেই জালনোট চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। তারা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঈদের মৌসুমে প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। না হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।”

সোনালী ব্যাংক ঝিনাইদহ শাখার উপ-ব্যবস্থাপক বসির উদ্দিন মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, “আসল টাকার নোট শনাক্ত করার জন্য কয়েকটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও রং পরিবর্তনশীল কালি। এসব বৈশিষ্ট্য যাচাই করলে জালনোট শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে ঈদের বেচাকেনার সময় ব্যবসায়ীদের হাতে সময় কম থাকে। এজন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কাজটি দক্ষ লোক দিয়ে করা উচিত।”

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেহেদি ইমরান সিদ্দিকি মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, “জালনোট কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম জালনোটের বিজ্ঞাপনদাতাদের বিষয়ে অনলাইনে কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতারক চক্রের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।”




চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল তেলের সংকটে কৃষকদের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। ধানক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনেই ডিজেল নেই। অনেক পাম্পে “ডিজেল নেই” লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষিনির্ভর একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এ অঞ্চলের জমি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে ধান উৎপাদনের জন্য এ অঞ্চলকে শস্যভান্ডার বলা হয়। বর্তমানে জেলার মাঠজুড়ে সবুজ ধানক্ষেতের সমারোহ দেখা গেলেও সেচ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, ধানের খেতে সেচ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেচ দিতে না পারলে জমি ফেটে যাবে এবং ফলন কমে যাবে। এতে চাষাবাদে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কৃষকই দুই-এক লিটার ডিজেলের জন্য কন্টেইনার বা বোতল হাতে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন, কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছেন না।

কৃষকদের ভাষ্য, প্রতিদিন ধানক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য অন্তত দেড় লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিজেলের অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বলছেন, তারা ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল পাচ্ছেন। অনেক সময় গাড়ির ধারণক্ষমতার তুলনায় কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে অর্ধেক ভর্তি ট্যাংকার আনতে গিয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা।