মেহেরপুরে পৌর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচারণা

মেহেরপুর পৌর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃত্বে মাসুদ অরুনের পক্ষে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেহেরপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ অরুনের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুরের বিভিন্ন  ওয়ার্ডে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে, সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক লিজন আলীর নেতৃত্বে ধানের শীর্ষের প্রচরণা গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নওশেল আহমেদ রনি, যুগ্ম আহবায়ক শিমুল বিশ্বাস, সদস্য রোমিক, নিজার, মনি,রিনু শফিসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।




প্রেমের টানে এসে বিয়ে না করে পালালো ২ চীনা নাগরিক

ফেসবুক প্রেমের টানে মেহেরপুরে বিবাহ করতে এসে বিপাকে পড়ে পরিচয় গোপন করে পালিয়েছে দুই চিনা নাগরিক।মেহেরপুরের এক তরুণীকে ঘিরে দুই চীনা নাগরিকের আগমনের ঘটনায় চীনে বাংলাদেশি নারী পাচার ও অবৈধ বিয়ে নিয়ে চলমান উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে চায়না থেকে আগত দুইজন চীনা নাগরিক মেহেরপুর সদর থানাধীন আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রামে উপস্থিত হন। তারা স্থানীয় মৃত লিটনের কন্যা মরিয়ম খাতুনের (১৬) সঙ্গে ফেসবুক প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এলাকায় আসেন বলে জানা গেছে। মেয়েটি লেখাপড়া করে না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনগণ ও মেয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ সময় স্থানীয় এক ব্যাক্তি ট্রিপল নাইনে কল দেয়। পরে সাহেবপুর ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ চীনা নাগরিকদের সঙ্গে মেয়ের পরিবারের আলোচনা আয়োজন করে এবং পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। তবে চীনা নাগরিকদ্বয় উক্ত প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করেনি, এমন কি দুই চিনা নাগরিক কারোরই পরিচয় সংরক্ষণ করেনি সাহেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

মেহেরপুর সদর থানার সাহেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই শফিক মেহেরপুর প্রতিদিন কে বলেন, ‘টেংরামারি গ্রামের স্থানীয় একজন ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়। এরপর আমি সেখানে যেয়ে দেখি দুজন চিনা নাগরিক এসেছেন। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে দুপুর দুইটার রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনে করে ঢাকা পাঠিয়ে দিই। তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে বিবাহ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’

এ ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন চীনে বাংলাদেশি নারী পাচার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অনুসন্ধানে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, কিছু সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশি নারীদের উচ্চ বেতনের চাকরি বা বৈধ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। পরবর্তীতে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তাদের চীনে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মেহেরপুরের প্রবীণ সাংবাদিক ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজম বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখি প্রেমের টানে কোনো বিদেশি নাগরিক অমুক দেশ থেকে অমুক গ্রামে এসেছেন। এ ধরনের ভিডিও প্রায়শই প্রকাশিত হয় এবং দ্রুত ভাইরালও হয়। কিন্তু একইভাবে প্রেমের টানে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের পরিণতি কী হয়, সে বিষয়ে কোনো ফলো-আপ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমরা খুব কমই দেখতে পাই।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রবণতাই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেকেই ভাইরাল হওয়ার আশায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছেন, পরে বিয়ে করে সেটিও অনলাইনে ভাইরাল করছেন। কিন্তু এর পর কী ঘটে, সেই বাস্তবতা আর কখনো সামনে আসে না।’

উল্লেখ্য, র‍্যাব ও পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে এ ধরনের পাচারচক্রের একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনে পৌঁছানোর পর অনেক নারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়েন। এ বিষয়ে চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকার উভয়ই অবৈধ বিয়ে ও মানব পাচার নিয়ে একাধিকবার সতর্কতা জারি করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের যেকোনো বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে বা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আইনগত যাচাই ও সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক প্রস্তাব বা কর্মকাণ্ড নজরে এলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।




গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের পাড়া মহল্লায় ভোট প্রার্থণা জামায়াত প্রার্থীর

ন্যায় ভিত্তিক কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন ও দুঃশাসন এবং বৈষম্য মুক্ত সমাজ গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দানের আহ্বান জানিয়ে পাড়া মহল্লায় ভোট চাইলেন মেহেরপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা।

গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ভোট প্রার্থণার পাশাপাশি দোয়া চান তিনি। এসময় গণভোটেরও আহবান জানান।

এসময় তিনি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দ্বীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট ও সহযোগিতা কামনা করেন।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মফিজুল ইসলাম, কাজীপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর আব্দুর রাজজাক, সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, গাংনী পৌর যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, গাংনী উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সিহাব হোসেনসহ জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এসময় নাজমুল হুদা বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে, সরকারের ট্যাক্স বিহীন গাড়িতে চড়বোনা। সরকারের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা জনগণকে বুঝিয়ে দেবো। জনগণের সেবক হয়ে আপনাদের সেবা দেবো।

“দেশ ও জাতিকে দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, তাহলে গাংনীসহ সারাদেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”

এ সময় নেতাকর্মীরা ভোটারদের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।




গাংনীর শিশিরপাড়ায় ধানের শীষে ভোট প্রার্থনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপি’র মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমজাদ হোসেনের পক্ষে গাংনী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড শিশিরপাড়া গ্রামে ভোট প্রার্থনা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে গাংনী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা শাহজাহান সেলিমের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা গ্রামবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

এ সময় শাহজাহান সেলিম বলেন, “বিএনপি মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার রাজনীতি করে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করতে হলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মানুষের বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমজাদ হোসেন একজন যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গাংনী পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ডাবলু হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীরা গ্রামবাসীর মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করেন এবং শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলনের আহ্বান জানান।




জীবননগরে ধানের শীষের নির্বাচনী গণমিছিল ও সমাবেশ

জীবননগর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ধানের শীষের নির্বাচনী গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌরসভার ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস থেকে এই মিছিল ৪ নং ওয়ার্ডের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে । মিছিলে পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ শাজাহান কবির, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আশরাফুল হক, পৌর বিএনপি’র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিউদ্দিন, ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পলাশ মিয়া সেক্রেটারি পল্টু মিয়া, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজা, সুমন মিয়া, সুজন মিয়া, সবুজ মিয়া সহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলটি নির্বাচনী অফিসে এসে শেষ হয় এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি শাজাহান কবির, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আশরাফুল হক প্রমুখ।




শৈলকুপায় সংযোগ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ

সংযোগ ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ‘সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার ‘আলমডাঙ্গা নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা’র ১৫০ শিক্ষার্থীর মাঝে এসব সামগ্রী প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংযোগ ভলেন্টিয়ার্স প্রোগ্রামের ঝিনাইদহ জেলার উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যদের মধ্যে সহকারী অধ্যাপক (অব:) ও সাংবাদিক খুরশিদ মোহাঃ সালেহ, দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহানুর আলম,  ঝিনাইদহ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুন্সী মোঃ আবু হাসান, সহ সমন্বয়ক খুরশিদ সাকলাইন কাব্য, প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মিরাজ, সহকারী প্রিন্সিপাল মোঃ রিয়াদ হাসান, পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোঃ রজব আলী প্রমূখ।

বিতরণকালে জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুন্সী মোঃ আবু হাসান বলেন, এ অঞ্চলের ঝরে পড়া অসহায় সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও এতিম শিশু কিশোরদের পাশে দাড়ানো আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং তাঁদের বেসিক ধর্মীয় এবং প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এসকল কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।




মুজিবনগরে ডিবি’র অভিযানে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ আটক ১

মেহেরপুরের মুজিবনগরে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ শফিকুল (৩৩) নামের একজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের দিকে মুজিবনগর থানাধীন সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক শফিকুল সোনাপুর মাঝেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি আইয়ুব আলীর ছেলে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শফিকুলকে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় শফিকুলের হেফাজত থেকে ১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আটক শফিকুল ও জব্দকৃত আলামতসহ তাকে মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়।

এবিষয়ে মেহেরপুর ডিবি ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




অতিরিক্ত সচিব হলেন দারিয়াপুরের আব্দুর রশিদ

সরকারের যুগ্ম সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন আব্দুর রশিদ। তিনি মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর ক্লাবপাড়ার বাবুবাড়ীর মৃত শববত আলী ও রোকেয়া বেগমের ছোট ছেলে।

বর্তমানে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত আছেন।

আব্দুর রশিদ দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি, মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

তিনি ২০তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ২০০১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ফরিদপুর জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে। এরপর তিনি চারভদ্রাসন, দেবহাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদপুর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা পরিষদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার খুলনা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।




গাংনীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

শেরপুরে বিএনপি’র হামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দেশব্যাপী নারীদের প্রতি সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে দলটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাংনী উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গাংনী উপজেলা শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল এলাকা ঘুরে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, গাংনী পৌর জামায়াতের আমীর আহসানুল হকসহ স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা “হত্যাকারীদের বিচার চাই”, “সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ কর”, “নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত কর”—এমন নানা স্লোগান দেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেরপুরে পরিকল্পিত ও পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলায় জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এই হামলার রাজনৈতিক দায় বিএনপি এড়াতে পারে না। অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তারা।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ, নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধ এবং শেরপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।




আলমডাঙ্গায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য দেশব্যাপী গণভোটকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় চলছে জোর প্রস্তুতি।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছে উপজেলা নির্বাচন অফিস। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করে সাধারণ মানুষ। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ মানুষ চরম উৎকন্ঠা আর সন্দিহান থাকলেও প্রশাসনের উদ্যোগে জনগণের আস্থা অর্জন করায় নির্বাচন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে সুধীমহল মনে করে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৫ জন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮২ জন, নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলায় ১১২টি ভোটকেন্দ্র এবং ৫৯৩টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫০ জন এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা। অফিসের সিঁড়িতে বড় অক্ষরে লেখা- ‘এই অফিসে কোনো নগদ টাকার লেনদেন হয় না। আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত।’ এই ঘোষণা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেখ মাসুম বিল্লাহ। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে তিনি মেধা, যোগ্যতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে তিনি বিধি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেখ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। অফিসে টানানো সতর্কবার্তাটি আমাদের মূলনীতির প্রতিফলন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের এই প্রস্তুতি ও স্বচ্ছতা দেখে আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সব প্রস্তুতির ফলে আলমডাঙ্গায় একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের অন্যতম বৃহত্তর দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি করা, নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করে আনন্দ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং জামায়াতে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাহাতে অহিংস নীতিতে প্রতিয়মান হয় তা অধির আগ্রহে দেখার অপেক্ষা আছে সাধারণ মানুষ।