দামুড়হুদায় জাল নোট প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার আয়োজনে এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি দর্শনা শাখার সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি ম্যানেজার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার উপ-পরিচালক আসলাম হোসেন, উপ-সহকারী পরিচালক গোলাম ফজলে রাব্বী রনি এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি দামুড়হুদা ও দর্শনা শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, রূপালী ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা, কৃষি ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক দর্শনা শাখার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও এনজিওর প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায় জাল নোট শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্লাইড শো উপস্থাপন করা হয়। এতে জাল নোটের বৈশিষ্ট্য এবং তা শনাক্তের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আঞ্চলিক পশুর হাটগুলোতে জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




আলমডাঙ্গার ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

ধার করা টাকায় বীজ কিনেছিলেন। ভোরের আঁধারে মাঠে গেছেন, রোদ-ঝড় উপেক্ষা করে সারাদিন পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময় দেখলেন মোচায় দানা নেই। মাঠ শূন্য। আর বুকের ভেতরে একটাই প্রশ্ন এখন কী হবে? এটি কোনো একজন কৃষকের গল্প নয়; চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের এবারের মৌসুমের বাস্তব চিত্র।

বাংলাদেশের ভুট্টার অন্যতম প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা। অথচ এ মৌসুমে আলমডাঙ্গায় যা ঘটেছে, তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় বরং মানবসৃষ্ট বিপর্যয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নকল বীজ, ভেজাল সার এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো কৃষক।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন। কিন্তু মাঠের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০-৫০ মণ ফলনের কথা, সেখানে কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ১৫-২০ মণ। জগন্নাথপুর, শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমির ভুট্টার মোচায় দানা নেই। গাছ ও মোচা থাকলেও ভেতরে শূন্য যার জন্য কৃষকরা নকল বীজকে দায়ী করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে নামীদামী কোম্পানির মোড়কে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও নিম্নমানের বীজ। বাইরে থেকে বোঝার উপায় না থাকায় তারা প্রতারিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সারের বাজারেও চলছে কারসাজি। অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেট করে সারের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, চাহিদার সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং ভেজাল সার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ এক কৃষক বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা শুধু পরামর্শ দেন। কিন্তু নকল বীজে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যায়, আর সেই ডিলারদের কিছুই হয় না। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইব?”

কৃষক পিন্টু রহমান বলেন, “ঋণ করে ভুট্টার বীজ কিনেছি। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এখন দেখি মোচায় দানা নেই। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব এই চিন্তায় ঘুম আসে না।”

কৃষক বিপুল আলী বলেন, “সার আর বীজ কিনতে যা ছিল সব শেষ করেছি। দোকানদারের কথা বিশ্বাস করে বুনেছি। কিন্তু ফলন নেই বললেই চলে। পুরো মাঠ এখন শূন্য। কৃষি অফিসে বললেও শুধু পরামর্শ পাই, বাস্তব কোনো সমাধান নেই।”

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান পলাশ বলেন, চুয়াডাঙ্গার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে একই জমিতে বারবার ভুট্টা চাষের ফলে মাটির উর্বরতা কমছে। তিনি বিকল্প হিসেবে গম চাষের পরামর্শ দেন এবং জানান, বাজার সিন্ডিকেট দমনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার ছাড়া বীজ না কেনার আহ্বান জানান তিনি।

তবে কৃষকদের প্রশ্ন যারা ইতোমধ্যে ঋণের বোঝা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য এই পরামর্শ কতটা কার্যকর? প্রতি বছর কৃষি খাতে বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবের কারণে নকল বীজ ও ভেজাল সারের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের দাবি নকল বীজ ও ভেজাল সার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, মাঠপর্যায়ে বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




মেহেরপুরে জেলা বিএনপির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও অধীনস্থ পাঁচটি ইউনিট এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় মেহেরপুর কমিউনিটি সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিলন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলমগীর খান ছাতু, আব্দুল্লাহ, রেজাউল হক, মীর ফারুক, হাফিজুর রহমান; জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন ও আখেরুজ্জামান; সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম; মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান; গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজউদ্দিন কালু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল; পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক এহান উদ্দিন মনা; গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম; জেলা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম; জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেননসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সভায় সংগঠনকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা এবং সামনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।




গাংনীতে বিএনপি নেতা জাফরের বিরুদ্ধে দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন

গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ তুলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর আকবরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

রোববার বিকেলে উপজেলার মাইলমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে লক্ষীনারায়ণপুর ধলা ও মাইলমারি গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক নারীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ মাস্টারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবলু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন এবং মাইলমারি গ্রামের ইউপি সদস্য কাবের আলীর স্ত্রীসহ অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জাফর আকবর তার প্রভাব খাটিয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তারা দাবি করেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এছাড়া বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন এবং অতীতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জাফর আকবরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।




আলমডাঙ্গায় লোটাস আইসক্রিম ফ্যাক্টরির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার হাউসপুরে লোটাস আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য অনুপযোগী ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদনের দায়ে লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক সাজেদুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার দুপুরে পৌর এলাকার হাউসপুর সড়কে এ তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ফ্যাক্টরির ৮টি ফ্রিজে রাখা কয়েক হাজার আইসক্রিম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে আইসক্রিম ফ্যাক্টরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল।

সজীব পাল বলেন, ভেজাল আইসক্রিম শিশুসহ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হতে পারে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে। তাই এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।




দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজন গ্রেফতার

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ছোটদুধপাতিলা গ্রামে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এক ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ছোটদুধপাতিলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে বোরহান (২৬), জিয়াউর রহমানের ছেলে শামিম কবির ফরহাদ (২৮) এবং মৃত মনিরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া (৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে জেলা জুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ছোটদুধপাতিলা গ্রামে বোরহানের বসতবাড়ি থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বোরহানের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা, ফরহাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা এবং সোহাগ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি নিজে উপস্থিত থেকে এ অভিযান পরিচালনা করেছি। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”




দামুড়হুদায় দেড় বিঘা জমির ফলন্ত পেঁপে বাগান কেটে দিল দুর্বৃত্তরা 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক হতদরিদ্র কৃষকের দেড় বিঘা জমির ফলন্ত পেঁপে বাগান রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল হোসেন (৫৪) গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত বরকত মন্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলার গোবিন্দপুর নিমতলা ও বড়গালা মাঠে লিজ নেওয়া জমিতে পেঁপে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

জানা গেছে, উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নিমতলা মাঠে ১০ কাঠা এবং বড়গালা মাঠে ১ বিঘা মোট দেড় বিঘা জমিতে ছিল তার স্বপ্নের পেঁপে বাগান। নিজের কোনো আবাদি জমি না থাকায় অন্যের জমি লিজ নিয়ে এই চাষাবাদ করছিলেন তিনি।

ইসরাফিল জানান, গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে তিনি বাগান ঘুরে দেখেন, তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পরদিন রবিবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পান, তার পুরো পেঁপে বাগান কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, ফলন্ত গাছগুলো নির্মমভাবে কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমার চারটা ছেলে-মেয়ে, ভিটে ছাড়া কোনো জমি নেই। জমি লিজ নিয়ে চাষ করি। এখন আমার কী হবে? আমি কী করব? সব শেষ হয়ে গেল।”

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এর আগেও তার ভুট্টা ক্ষেত কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং গ্রামের মানুষ জানে কারা করেছে। তিনি দাবি করেন, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চান না গরিব মানুষ স্বাবলম্বী হোক। ফলে বারবার এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন তিনি। শুধু তিনি নন, আরও গরিব কৃষকের জমির ফসল এভাবে নষ্ট করা হয়, কিন্তু কেউ বিচার পান না।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মহেশপুর সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত দুদিনে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে।

আজ রবিবার মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমানের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রবিবার সকাল ৭টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ মাধবখালী বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৭০/৫-এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের মোঃ আলী হোসেন এর ঘাসের ক্ষেতের মধ্য হতে সুবেদার মোঃ তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামীবিহীন ৫৮০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। 

একই দিন ভোর ৪টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ সামন্তা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৫৭/২-এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেলেহাটি গ্রামের মাঠের ধানের জমির আলির পার্শ্ব হতে হাবিলদার মোঃ শহর আলী এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামীবিহীন ২৪ বোতল ভারতীয় (ডওঘঈঊজঊঢ) সিরাপ (মাদক) উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া গত ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে  মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৬৮/৮-আর হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের মাঠের আম বাগানের মধ্য হতে হাবিলদার মোঃ সায়াদ হোসেন এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী বিহীন ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মাদক বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে।




মেহেরপুরে মাদকের ছোবলে ঝুঁকছে তরুণরা, নীরব খেলার মাঠ

এক সময় বিকেল হলেই গাংনী উপজেলার গ্রাম ও পাড়া-মহল্লার খেলার মাঠগুলো শিশু-কিশোরদের কোলাহলে মুখর থাকতো। ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো তরুণরা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। খেলার মাঠগুলোতে নেমে এসেছে নীরবতা, আর তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সময় কাটাচ্ছে মোবাইল ফোনে গেম খেলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো মাঠে খেলাধুলার দৃশ্য এখন প্রায় নেই বললেই চলে। অধিকাংশ কিশোর-তরুণ দিনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করছে মোবাইল স্ক্রিনে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গাংনী পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, আগে বিকেল হলেই মাঠে ছেলেদের খেলতে দেখা যেত। এখন তারা মোবাইলে বেশি সময় দিচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের মেম্বার জিনারুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও দীর্ঘদিন সুনামের সাথে খেলাধুলা করেছি এবং বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে খেলেছি। সেই সময় খেলাধুলার একটি সুন্দর পরিবেশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রজন্মকে দেখে আমি সত্যিই অবাক হই। তারা খেলাধুলা থেকে অনেকটাই বিমুখ হয়ে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে মাদকাসক্তির ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন মেম্বার হিসেবে বলছি, আমার মনে পড়ছে না শেষ কবে কোনো ছেলে আমার কাছে খেলার বল চেয়েছে। তারা তো এখন আর খেলাধুলামুখী নয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে এখন আর খেলাধুলা করে না। আগের মতো মাঠে যাওয়ার অভ্যাসও নেই।

বর্তমানে তারা মোবাইল ফোনে বেশি ব্যস্ত থাকে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। অবসর সময়ের অপব্যবহারের কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

প্রবীণ ফুটবল খেলোয়াড় হাফিজুর রহমান বলেন, এক সময় আশেপাশের ৭-১০ গ্রামের খেলোয়াড়রা একসাথে মাঠে খেলতাম, এখনো অনেকেই আমাদের খেলোয়াড় হিসেবে চেনে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলা শরীর-মন ভালো রাখার পাশাপাশি সামাজিকতা ও সম্মানবোধ শেখায়। তাই তরুণদের আবার মাঠমুখী করা জরুরি, যাতে তারা মাদকের মতো ক্ষতিকর পথে না যায়।

কুতুবপুর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের সময় মাঠ মানেই ছিল খেলোয়াড়ে ভরা। আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করতাম এবং বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সুনামের সঙ্গে খেলতাম। এমনকি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্তও মাঠে খেলোয়াড়দের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এত বড় মাঠেও একজন খেলোয়াড় দেখা যায় না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম খেলাধুলা থেকে দূরে সরে গিয়ে মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে ভয়াবহভাবে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে পরিবার ও সমাজ উভয়ই চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় তরুণ প্রজন্মকে খেলামুখী করতে পারলে মাদকাসক্তির ঝুঁকি কমবে।

শিক্ষক রেজাউর রহমান জানান, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু মোবাইল আসক্তির কারণে তারা সামাজিকতা ও সৃজনশীলতা হারাচ্ছে।

গাড়াবাড়ীয়া ফুটবল একাদশের অধিনায়ক হামিম আহমেদ বলেন, এখন প্র্যাকটিসের জন্য খেলোয়াড় পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে খেলা হলেও অনেকেই মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তিও বাড়ছে।

এদিকে সমাজকর্মীদের মতে, খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তরুণরা অবসর সময় সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না, যা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মাদকের মতো ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক অভ্যাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তারা মনে করেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন, খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ পথে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

শিক্ষক ও সমাজসচেতন মহল মনে করছেন, খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়া তরুণদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তারা বলছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।




ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসেই হতে পারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে ঝিনাইদহে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে ঝিনাইদহে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন করে দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক অবকাঠামোসহ প্রায় সব উপাদানই ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পোসে যা বর্তমান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন।

ফলে নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই এই ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে দ্রুত একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

পূর্বতন ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ, বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ হিসেবে ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসটি পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পাসটির নিজস্ব আয়তন ১০.১৭ একর হলেও এর সঙ্গে যুক্ত সাধুহাটি বিএডিসি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সাগান্না বাঁওড়কে অন্তর্ভুক্ত করলে মোট এলাকা ২০০ একরেরও বেশি হয়, এর পিছনে আশেপাশে রয়েছে অবরিত খোলা মাঠ যা একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠিানটি ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ঝিনাইদহ শহর থেকে সহজ সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার উপযোগী স্থান।

বিশেষ করে ভেটেরিনারি কলেজকে ঘিরে গড়ে ওঠা আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলো এই দাবিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাধুহাটি বিএডিসি ফার্ম, সাগান্না বাঁওড়, সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামার, হলিধানী রেশম বোর্ড, শহরের কৃষি ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা ইনস্টিটিউট এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, মৃত্তিকা ও কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেও ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা, গবেষণাগার, ডেইরি ফার্ম, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ ও জিমনেশিয়াম। পাশাপাশি ফিশারিজ শিক্ষার জন্য উপযোগী জলাশয়ও বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে সমন্বিত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ প্রয়োজন, তার প্রায় সব উপাদানই ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পাস আশপাশে রয়েছে। এসব চলমান প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বল্প সমম ও স্বল্প খরচের মাধ্যমে এখানে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা এই অঞ্চলের কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঝিনাইদহ আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন এটি কোনো ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক স্বার্থের বিষয় নয় বরং এটি সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রার এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ন্যায্য অধিকার।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোরালো আহ্বান দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এটাকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল বলেন, ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজকে কেন্দ্র করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার যে বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। আশপাশে যেসব শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো সমন্বয় করা গেলে অল্প সময়েই এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।

ঝিনাইদহ জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দাবি নয়, এটি এখন সম্মিলিত প্রয়োজন। ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসসহ আশপাশের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে সহজেই একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জেলার অন্যত্র কৃষি জমির নতুন করে অবচয় না করে এই প্রতিষ্ঠান কেই অধুনিকায়নের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নিত করা এখান জেলাবাসীর দাবি।