তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, বুধবার সাধারণ ছুটি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী তিনদিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এছাড়া আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) সরকারি ছুটি এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হবে। সংসদ ভবন প্লাজায় তার জানাজা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমানের মাজারের (জিয়া উদ্যানে) ওখানেই তাকে দাফন করা হবে।’

জানাজা কখন হবে- জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্তটা একটু পর হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং আছে সাড়ে ১২টায় সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে। তবে সম্ভাব্য সময় বলতে পারি আগামীকালকে জোহরের পর।

তিনি বলেন, তার লাশ এখন এভারকেয়ারে থাকবে। সেখানে যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ হওয়া দরকার সেগুলো হবে। এরপর কালকে সকালে সেখান থেকে রওনা দিয়ে জাতীয় সংসদে নেওয়া হবে। মূল রাস্তা দিয়েই সেখানে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে। সেজন্য হয়তো সময় একটু বেশি লাগবে।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। এভারকেয়ার হাসপাতালে লম্বা সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর




খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এসময় তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবার কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা যুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল তার নামাজে জানাজার দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছি। নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমি সবার প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।’

সূত্র: কালের ক্ন্ঠ




বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বুধবার বাদ জোহর সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, জানাজার পর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায়, ফজরের নামাজের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সবার কাছে দোয়া চাইছি।’

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।




ঝিনাইদহের ৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৭ জন প্রার্থী

ঝিনাইদহ জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। গ্তকাল সোমবার মনোনয়ন পত্র জমাদানের শেষদিনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৭ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় গুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে এই মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন সোমবারে এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রার্থী  মো. আলম বিশ্বাস, জাতীয় পাটির মনিকা আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, মার্কসবাদী দলের মো. সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আসাদুজ্জামান ও এবি পাটির মো. মতিয়ার রহমান।

ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মো. আব্দুল মজিদ, জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশের এইচএম মোমতাজুল ইসলাম, জাতীয় পাটির সাওগাতুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির মো. আবু তোয়াব , বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, বাসদের আসাদুল ইসলাম আসাদ।

ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসন দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের  মাও. সারোয়ার হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ, জিওপির মো. সুমন কবির ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মুজাহিদুল ইসলাম।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) এই আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মনোনিত রাশেদ খাঁন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আব্দুল জলিল, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু তালিব, জাতীয় পাটির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু ও গণফোরামের খনিয়া খানম। এছাড়া এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ওবায়দুল হক রাসেল, মীর আমিনুল ইসলাম ও বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও বিএনপির সাবেক সাংসদ শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মুর্শিদা খাতুন।

সোমবার দিনের বিকাল ৫টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলাস্থ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্ত মো. আবুল হোসেন বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ জেলার সংসদীয় চারটি আসনে মোট ৩২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এর মধ্যে ২৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করবেন।




মুজিবনগরে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মুজিবনগরে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের আনন্দবাস গ্রামের ক্লাব প্রাঙ্গনে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে গ্রামের তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এবং অসহায় দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে এই বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

উক্ত স্বাস্থ্য ক্যাম্পে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা বিনামূল্যে ১৭০জন রোগীকে বিনা মূল্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।




মুজিবনগরে অবৈধভাবে  মাটি কাটার অপরাধে ২ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের মুজিবনগরে অবৈধভাবে ভৈরব পাড়ের মাটি কাটার অপরাধে ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্মমান আদালত।

গতকাল সোমবার বিকালে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্মমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট সাইফুল হুদা এ রায় দেন।

এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে বালুমহাল মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন ২০১০ সালের ৪ এর ১৫(১) ধারায় মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের মিয়ারুল ইসলামের ছেলে গোলাম রাব্বী ও গাংনী উপজেলার ঢেপা গ্রামোর জিন্নাত আলীর ছেলে জামিরুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ও মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আশাদুল ইসলামের ছেলে কালুর কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এবং পরবর্তিতে মাটির ব্যাবসা করবেনা বলে কালু মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মুছলেখা প্রদান করে।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্মমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট সাইফুল হুদা বলেন, অবৈধভাবে উপজেলা কোমরপুর ও মহাজনপুরে ভৈরব নদীর পাড়ের মাটি কাটছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোমরপুর ও মহাজনপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়।

পরে সেখানে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ট্রলি আটক সেখানে মোবাইল কোর্ট বসানো হয়।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩ জন ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে মোট ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।




আলমডাঙ্গা হাটবোয়ালিয়ায় পল্লীবিদ্যুতের কেবি চুরি, কৃষকরা বিপাকে

আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়ায় পল্লীবিদ্যুতের কেবি চুরিতে তোলপাড়। কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। ভাংবাড়ীয়ার নিমতলা ও খামার মাঠে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তচক্রের দুঃসাহসিক হানা। সব মিলিয়ে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিমতলা ও খামার মাঠ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কেবি চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তচক্র পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটায়। এতে পল্লীবিদ্যুতের মোট ৪টি কেবি (কন্ট্রোল বক্স) চুরি হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাংবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদের মটরে স্থাপিত ১টি কেবি এবং একই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুজন আলী মেম্বারের খামার মাঠে অবস্থিত বোরিংয়ের ৩টি কেবি খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধার ও নির্জন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে চোরচক্র নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

চুরির ফলে সংশ্লিষ্ট মটর ও বোরিং সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে। এতে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মাঠে থাকা ফসল ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বোরিংনির্ভর কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় সব মিলিয়ে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসীরা জানান, ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নে এর আগেও একাধিকবার পল্লী বিদ্যুতের সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্বৃত্তচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার, রাত্রীকালীন টহল জোরদার এবং বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ চোরচক্র সনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুত চুরি হওয়া কেবি উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।




মেহেরপুরে বিএনপির ৩ বিদ্রোহীসহ ১২ জনের মনোনয়ন জমা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মেহেরপুরের দুটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আজ সোমবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে মেহেরপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীরের কাছে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় স্ব স্ব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদের মধ্যে বিএনপির ৩ বিদ্রোহীসহ মোট ৫ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন, জামায়াতের ২ জন, এনসিপির ১ জন, সিপিবির ১ জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

মেহেরপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ, বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহমেদ, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির তাজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদ, এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান।

মেহেরপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকি।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, আমরা এখনো আশা করছি মনোনয়ন পরিবর্তনের সুযোগ আছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে। সে হিসেবে আমরা আশাবাদী। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত।

প্রসঙ্গত, মেহেরপুর-১ আসনে ১৪ জন এবং মেহেরপুর-২ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।




গাংনীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের বার্ষিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার আয়োজনে “কেমন চাই আগামীর বাংলাদেশ?” শীর্ষক আলোচনা ও বার্ষিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একাত্তরের চেতনা ও চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশকে একটি উন্নত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সভায়।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সৈয়দ জাকির হোসেন মাস্টার বলেন, একাত্তরের চেতনা ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশকে একটি উন্নত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা মেহেরপুর জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বকুল বলেন, ডান-বাম কিংবা বিদেশিদের প্রেসক্রিপশনে নয়, বাংলাদেশকে এখন হাঁটতে হবে নিজের নাক বরাবর বাংলাদেশপন্থী হয়ে।

ইঞ্জিনিয়ার ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা রাশেদ বোরহান বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে কাজ করতে হবে।

মেহেরপুর জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক নাফিউল ইসলাম তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তরুণদের এই বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ। সমাজের সব শুভ কাজে তরুণদের একটি প্ল্যাটফর্মে এসে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে কাজ করতে হবে। সেই কাজই করে যাচ্ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

শীতের বিকেলে গাংনী উপজেলার আব্দুল মজিদ মাস্টার স্টাডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা ও বার্ষিক সভায় প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

একঝাঁক তরুণদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মাহফুজ রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এস. এম. তারেক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংবাদিক জুলফিকার আবির, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ফাহাদ হোসেন শিহাব, কার্যকরী সদস্য ইয়াছিন হাবিব, জায়েদ কবির এবং ওয়াহিদুজ্জামান স্বপ্নীল।

নতুন বছরে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখা কীভাবে ভিন্নধর্মী সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ ডিজিটাল পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাজু আহমেদ বনি।




দর্শনায় একের পর এক চুরি, এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আবারো চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোনভাবেই যেন থামছে না এই চুরি। চুরি ঠেকাতে বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন কিন্তু অবশেষে সিসি ক্যামেরায় চুরি হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত শুক্রবার রাতে দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ঈদগা পাড়ায় এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ঈদগা পাড়ার মৃত মহি উদ্দীনের ছেলে পল্লী চিকিৎসক শাহিন হোসেনের বাড়িতে এই চুরি সংঘটিত হয়।

বাড়ির মালিক শাহিন হোসেন জানান, গত ২৬/১২/২০২৫ তারিখ শুক্রবার রাত ১১:৪৫ ঘটিকার সময় অজ্ঞাত চোর আমার নিজ বসত ঘরের দেওয়ালে থাকা আমাদের নিজস্ব ইলেকট্রিকস সিসি টিভি ক্যামেরা ভেঙ্গে নিয়ে চলে যায়। পরে সকালে দেখতে পেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দেন তিনি। এরপর দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার পাশের বাড়ির ইদ্রিসের সাথে ১ সপ্তাহ আগে বাকবিতন্ডা হয়। আমার ধারনা সে আমার উপরে রাগের বশবর্তী হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, গত ১৯/১২/২০২৫ইং তারিখে শুক্রবার দুপুর ১ টা ৪০ মিনিটের দিকে দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক দোকানে নামাজের সময় চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং তার প্রায় ১০-১৫ দিন আগে কেরুজ মিল গেটের সামনে হাজী আব্দুল কাদের এর দোকানেও ঠিক দুপুরে নামাজের সময় এরকম চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দর্শনা থানা এলাকায় রেলবাজারের বিভিন্ন দোকানে ও বিভিন্ন গ্রামে দিনে-রাতে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে।

এ নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবার এদিকে চুরি ঠেকাতে বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেকেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। কিন্তু এবার সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটায় সচেতন মহলেও চরম সমালোচনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, এই চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্য করেও তিনি বলেন, সকলকে একটু সজাগ থেকে পুলিশকে সহায়তা করবেন আর বিশেষ করে দিনের বেলায় চুরির ঘটনায় নিজেদের আরও সজাগ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও অন্যান্য চুরির ঘটনায় চোর সনাক্ত করে চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। আর এই চুরি সহ পূর্বের চুরির ঘটনার বিষয়ে চোর সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।