মেহেরপুরে আবু জাফর দম্পত্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

মেহেরপুরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (নগদ) মাধ্যমে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আবু জাফর ওরফে কনক দম্পত্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৭ মে বৃহস্পতিবার মেহেরপুর সদর আমলী আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী হাসান হাফিজুর রহমান। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে সময় জারি করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন শহরের মন্ডলপাড়ার মোঃ আবু জাফর সিদ্দিক কনক ও তার স্ত্রী মোছাঃ ফিরোজা। মামলার বাদি হাসান হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদীর এশিয়া নেট মোড়ে “সাদাদ মেডিসিন কর্নার” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবাও পরিচালনা করেন তিনি। আসামিদের বাড়ি বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি হওয়ায় এবং তারা নিয়মিত ওষুধ ক্রয় করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিরা বাদীর প্রতিষ্ঠানে এসে জানান, তাদের মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করেন এবং জরুরিভাবে তাকে টাকা পাঠাতে হবে। পরে বাড়ি থেকে টাকা এনে পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দেন তারা।

বাদী সরল বিশ্বাসে আসামিদের দেওয়া ০১৮৭৬-২৫৯৮৬৪ নম্বরে প্রথমে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং পরে আরও ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা পাঠান। এতে মোট ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করা হয়।

এরপর থেকেই আসামিরা বাদীর প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা সাড়া দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাদী মেহেরপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সমিতির পক্ষ থেকে আসামিদের ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে বাজার কমিটির সদস্যরা আসামিকে তার ইজিবাইকসহ আটক করলে তিনি জামানত হিসেবে ইজিবাইকটি ব্যবসায়ী সমিতিতে রেখে যান। তবে এখনো টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ মে বিকেল ৫টার দিকে বাদী সাক্ষীদের নিয়ে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং খুন-জখমসহ বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার ভয়ভীতি দেখিয়ে অপদস্থ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।




মানুষের নিষ্ঠুরতায় নিভে যাচ্ছে আমিনুলের স্বপ্ন

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রাম। প্রকৃতির সবুজে ঘেরা এক শান্ত জনপদ। চারদিকে গাছপালা থাকলেও এই গ্রামের একজন মানুষ দেখেছিলেন ভিন্ন এক স্বপ্ন। তিনি চেয়েছিলেন,শুধু সবুজ নয়-সবুজের বুক চিরে ফুটে উঠুক কৃষ্ণচূড়ার উজ্জ্বল লাল, যেন পুরো গ্রাম একদিন রূপ নেয় এক অনন্য নান্দনিকতায়। স্বপ্নবাজ সেই মানুষটির নাম আমিনুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তার। সেই ভালোবাসা থেকেই শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজের ব্যক্তিগত অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে বছরের পর বছর ধরে গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার ধারে,খোলা জায়গায়,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে লাগাতে থাকেন কৃষ্ণচূড়ার চারা। লক্ষ্য একটাই-লক্ষণদিয়াকে ‘কৃষ্ণচূড়ার গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত করা। তিনি বিশ্বাস করতেন,কয়েক বছর পর গাছগুলো বড় হয়ে যখন ফুলে ভরে উঠবে,তখন লাল রঙে ঢেকে যাবে গ্রামের পথঘাট। সেই সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসবে মানুষ। সেই স্বপ্ন নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার কৃষ্ণচুড়া গাছ লাগান তিনি। যত্নে বড় করতে থাকেন। কিন্তু কিছুদিন যেতেই শুরু হয় দুর্বৃত্তদের নির্যাতন। গাছের গোড়ায় দেওয়া হয় বিষাক্ত কেমিকেল। ফলে ধীরে ধীরে মরতে থাকে গাছগুলো। ফলে প্রায় হাজারো গাছের মধ্যে টিকে আছে মাত্র ৫০টির মত গাছ। যা এলাকায় সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন,গ্রীষ্ম এলেই সেই গাছগুলোতে ফুটে ওঠে আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল। লাল ফুলে সেজে ওঠা গ্রামের পথ মুগ্ধ করে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন গ্রামের এই অনন্য দৃশ্য।

স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গাছ লাগানোর সময় অনেকেই সহযোগিতা করলেও পরে সেই আগ্রহ আর দেখা যায়নি। কেউ কেউ গাছের ডাল ভেঙেছে, কেউ অবহেলায় নষ্ট করেছে,আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করেছে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে সেই উদ্যোগের বড় একটি অংশ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকৃতিপ্রেমী আমিনুল ইসলাম বলেন,‘অনেক কষ্ট করে,নিজের টাকায় গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। যত্নে বড় করেছি। কিন্তু কিছু মানুষ গাছের গোড়ায় বিষ দিয়ে একে একে মেরে ফেলেছে। এটা শুধু গাছ ধ্বংস নয়,একটা স্বপ্ন ধ্বংস। যদি গাছগুলো বেঁচে থাকত,তাহলে আমাদের গ্রামটা আজ অনেক সুন্দর হতো। দেশের মানুষ এই গ্রামকে চিনত ‘কৃষ্ণচূড়ার গ্রাম’ হিসেবে।’

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি সুজন বিপ্লব বলেন,‘একজন মানুষের একক উদ্যোগে এমন একটি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক প্রকল্প গড়ে উঠেছিল,যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি হতে পারত একটি মডেল গ্রাম। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখত না,বরং গ্রামীণ পর্যটনেরও একটি সম্ভাবনা তৈরি করত।

তিনি মনে করেন,স্থানীয় প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল যদি শুরু থেকেই এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিত,তাহলে হয়তো এতগুলো গাছ নষ্ট হতো না। এখনো বাকি যে গাছগুলো রয়েছে,সেগুলো রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও নজরদারি।’

এদিকে কৃষ্ণচূড়া গাছ রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন,আমিনুল ইসলাম এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষণদিয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকা অল্প কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আজও লাল হয়ে ফুটে ওঠে-কিন্তু সেই লালের মাঝে মিশে আছে হারিয়ে যাওয়া হাজারো স্বপ্নের কষ্ট। তবুও আশাবাদী আমিনুল ইসলাম। তিনি চান,নতুন করে আবার গাছ লাগাতে,আবারও স্বপ্ন দেখতে। কারণ,তার বিশ্বাস-একদিন হয়তো আবারও লাল হয়ে ফুটবে পুরো গ্রাম,আর লক্ষণদিয়া ফিরে পাবে তার পরিচয় ‘কৃষ্ণচূড়ার গ্রাম’।

প্রসঙ্গত,শুধু কৃষ্ণচূড়া নয়,আমিনুল ইসলামের ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে সব ধরনের গাছের প্রতিই। নিজের বাড়িতে মা আখতার বানুর নামে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন তিনি। সেই কেন্দ্রের চারপাশ সাজিয়েছেন বিভিন্ন ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছে। গাছপালায় ঘেরা এই বাড়িটিই এখন এলাকায় পরিচিত ‘গাছ বাড়ি’ নামে।




আলমডাঙ্গা পৌর নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর লিফলেট উন্মোচন অনুষ্ঠান

আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ হুসাইন টিপুর প্রচারণার অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

রবিবার বাদ এশা আলমডাঙ্গার আল তায়েবা মোড়স্থ হ্যামলেট ক্যাফেতে এ উপলক্ষে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বক্তারা বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ব্যাপক ভোটপ্রাপ্তির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ, সভা ও পথসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, ডা. শাফায়েতুল্লাহ হিরো এবং বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা হোসাইন মোহাম্মদ মাহাফুজ।

আলমডাঙ্গা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শাহীন সাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেলগাছি ইউনিয়ন আমির আমানুল্লাহ আমাল, কালিদাশপুর ইউনিয়ন আমির আশাদুল হক, পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির আব্দুল কুদ্দুস, সেক্রেটারি আব্দুল লতিফ, ২ নম্বর ওয়ার্ড আমির আশাবুল হক বাবু, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আমির আব্দুর রহিম, খলিলুর রহমান, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, শরিফুল ইসলাম পিন্টু, কাজী আব্দুস সালামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলমডাঙ্গা পৌরসভায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ টিপু বলেন, “পৌরসভার মানোন্নয়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাব। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ, মাদক নির্মূল এবং দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে চাই।”




দামুড়হুদায় দলকা বিলে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ, পাহারাদার আহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা বিলে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পাহারাদারদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পাহারাদার গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দলকা বিল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ওমর আলী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি অভিযুক্তরা তার কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে, সমিতির সদস্যদের ও বিলের পাহারাদারদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো হাসুয়া, রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও মাছ ধরার বিশেষ অস্ত্র ‘ঝুপি’ নিয়ে দলকা বিলে প্রবেশ করে পাহারাদারদের ভয়ভীতি দেখায় এবং বিল ছেড়ে চলে যেতে বলে। পাহারাদাররা বাধা দিলে হামলাকারীরা পাহারাদার রেজাউলকে (৫২) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এসময় তার মাথায় মাছ ধরার ঝুপি দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

রেজাউলের ডাকচিৎকারে অপর দুই পাহারাদার ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত রেজাউলকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে বিল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মেহেরপুরে ব্র্যাকের গবাদিপশুর ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রাম এবং মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে গবাদিপশুর ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তোফাজ্জল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারিছুল আবিদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর শেখ মনিরুল হুদা, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. খাইরুল ইসলাম, ব্র্যাক এগ্রি ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসেন, আমদহ ইউনিয়নের ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন সার্ভিস প্রোভাইডার মো. মাজেদুল ইসলাম এবং দারিয়াপুর ইউনিয়নের সার্ভিস প্রোভাইডার মো. রনি মিয়া।

চিকিৎসা ক্যাম্পে মোট ২ হাজার ৫০০ গবাদিপশুকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১ হাজার ৬০০টি গরু, ৮০০টি ছাগল এবং ১০০টি ভেড়া।

ব্র্যাকের নিজস্ব ভেটেরিনারি সার্জনদের মাধ্যমে পশুগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি খামারিদের মাঝে কৃমিনাশক ওষুধ, ভিটামিন, মিনারেলসসহ বিভিন্ন রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

এসময় খামারিদের গবাদিপশু পালন, রোগ প্রতিরোধ ও পরিচর্যা বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শও প্রদান করা হয়।




কুষ্টিয়া বন্ধ চিনিকলে নষ্ট হচ্ছে শত কোটির যন্ত্রপাতি

কুষ্টিয়া সুগার মিলের যাত্রা ১৯৬৫-৬৬ অর্থবছরে। শুরুর পর কয়েক বছর লাভের মুখ দেখলেও নব্বই দশকের পর থেকে ধারাবাহিক লোকসানের কবলে পড়ে মিলটি।

দীর্ঘ সময় পাহাড়সম লোকসানের বোঝা নিয়ে সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা লোকসান গুনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে দীর্ঘ চার বছর ধরে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মিলের প্রায় ১০০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ এখন অযত্ন-অবহেলায় মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া চিনি উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নামলেও বর্তমানে কর্মরত ৭৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেছনে প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

জানা যায়, শুরুতে লাভজনক হলেও নব্বই দশকের পর থেকেই মূলত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ এবং সীমাহীন দুর্নীতির কবলে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। বন্ধের সময় এর মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।

মিলটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ৭৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। কাজ না থাকায় অধিকাংশ সময় তারা খোশগল্পে মগ্ন থাকেন। ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন। তাদের পেছনে প্রতি মাসে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। বর্তমানে মিলের একমাত্র সক্রিয় কাজ হলো ২২০ একর জায়গার মধ্যে কিছু জমি ও পুকুর লিজ দেওয়া, যা থেকে বছরে আয় মাত্র ২৭ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়া সুগার মিলে দীর্ঘদিন ধরে ২০২ শ্রমিক-কর্মচারীর প্রায় ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বকেয়া। মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকেই এই বিপুল পরিমাণ পাওনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জানান, মিল বন্ধের সময় ২৬২ জনের প্রায় ২১ কোটি টাকা বকেয়া ছিল। ২০২৫ সাল পর্যন্ত আরও ১০০ শ্রমিকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া। অর্থের অভাবে শ্রমিকরা সুচিকিৎসা করাতে পারছেন না এবং সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া পর্যন্ত থমকে গেছে। ফলে দ্রুত বকেয়া পরিশোধ ও মিল চালুর দাবি জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ এখন নষ্ট হওয়ার পথে। বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা এসব যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ২০২১ সালের ৩ জুন মিলের গোডাউন থেকে ৫২ দশমিক ৭ টন চিনি ‘রহস্যজনকভাবে’ গায়েবের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্টোরকিপার ফরিদুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তৎকালীন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-আমীন ও সর্দার বশির উদ্দিন। বন্ধ চিনিকলের গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ চিনি গায়েবের ঘটনা সে সময় দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।

কুষ্টিয়া রেনউইক, যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হামিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তেল-গ্রিজ দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে যন্ত্রপাতির ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হতে পারে। মিলের আশপাশ অঞ্চলের চাষিরা আখ চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে যে বীজ দেওয়া হয় তা উচ্চফলনশীল নয় এবং ফসল ঘরে তুলতে ১৮ মাস সময় লাগে, যেখানে অন্যান্য ফসল বছরে তিনবার হয়।

সুগার মিল এলাকার আখ চাষি মনিরুজ্জামান আতু জানান, এবার পাঁচ চাষি সুগার মিলের প্রায় ২০ একর জমি লিজ নিয়ে আখ চাষ করছেন। নানা সংকট এবং চ্যালেঞ্জের কারণে চাষিরা দিন দিন আখ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আখ চাষিদের সরকারিভাবে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আবার যে প্রণোদনা আসে সেটিও হাতেগোনা কয়েকজন পান। এছাড়া সরকারিভাবে যে বীজ দেওয়া হয়, সেটিও উচ্চ ফলনশীল জাতের নয়। যে কারণে বিঘাপ্রতি ফলন অত্যন্ত কম। আখ চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ অন্য ফসলের ক্ষেত্রে বছরে তিনটি ফসল করা যায়।”

কুষ্টিয়া সুগার মিল আধুনিকায়ন ও রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু মনি সাকলায়েন এলিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মিলটি চালুর বিষয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। সরকারের কাছে জোর দাবি, অবিলম্বে কুষ্টিয়া সুগার মিল চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আখ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংকট রয়েছে। কেননা, আখ চাষে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আর আখ চাষের ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা চাষিরা তেমন পান না।”

চিনিকলটি পুনরায় চালুর বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “মিলটি পুনরায় চালুর জন্য বর্তমান সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। মিলটি চালু করতে হলে মাড়াই মৌসুমে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ লাগবে। তবে সনাতনী পদ্ধতিতে চাষ করলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আখ উৎপাদন হবে না। সেজন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের আখ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।”

তিনি বলেন, “যদি উচ্চ ফলনশীল জাতের আখ চাষ করতে পারি তাহলে দুই হাজার একর জমিতেই বছরে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন সম্ভব হবে। আশার কথা, চলতি বছর অনেক কৃষকই পরিবর্তে উচ্চ ফলনশীল জাতের আখ চাষ শুরু করেছেন।”

কুষ্টিয়া সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জানান, কুষ্টিয়াসহ ছয়টি সুগার মিল কবে নাগাদ চালু হতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এছাড়া যন্ত্রপাতি কতটুকু কার্যক্ষম তা যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে মিলটি চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।




গাংনীতে এক রাতেই ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি, অনিশ্চয়তায় ৩শ বিঘা জমির ফসল

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি মাঠ থেকে কৃষকদের সেচ পাম্পের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় স্কিমের আওতায় থাকা প্রায় ৩শ বিঘা আবাদি জমির সেচ কার্যক্রম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

রোববার (১০ মে) রাতের কোনো এক সময় গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামের মাঠ থেকে সৌরভ, পারুলা ও মিলনের পৃথক স্থানে থাকা তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।

করমদি গ্রামের মিলন হোসেন জানান, রাতের আঁধারে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে গেছে চোরচক্র। এই সেচ প্রকল্প থেকেই তার সংসার চলে। এখন তার স্কিমের আওতায় থাকা প্রায় ১২০ বিঘা জমি সেচ সংকটে পড়বে। নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে প্রায় এক লাখ টাকা লাগবে, যা তার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী সৌরভ হোসেন বলেন, সকালে মাঠে গিয়ে দেখেন খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমারটি মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চোরেরা নিয়ে গেছে। বিষয়টি বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে জানানো হলে তারা পুরো ট্রান্সফরমারের মূল্য জমা দেওয়ার কথা জানায়।

পারুল খাতুন বলেন, তার ট্রান্সফরমারটি লোহার শেকল ও রড দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল। তারপরও চোরেরা সেটি চুরি করে নিয়ে গেছে। একই রাতে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় প্রায় ৩২০ বিঘা ফসলি জমির সেচ কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের বামন্দী জোনাল অফিসের এজিএম (কম) সৌমিক জানান, উপজেলার করমদি গ্রামের মাঠ থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করলে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার সরবরাহ করা হবে।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চোরচক্রের এক সদস্যকে চোরাই মালামালসহ আটক করেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো চক্রকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




গাংনীর মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অ্যাড. সাকিল আহমাদের নাম ঘোষণা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঘোষিত তালিকায় মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে স্থান পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পেশাগত সততার ভিত্তিতে প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাংনী পৌরসভার জন্য অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

তিনি বর্তমানে দেশের একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং গাংনী এলাকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

সাকিল আহমাদ এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি হতে মনোনয়ন পেয়ে জোটের স্বার্থে মনোনয়ন দাখিল করেননি।

মনোনয়ন ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, “দল আমাকে যে আস্থা ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি। গাংনী পৌরবাসীর সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

এদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এ ঘোষণাকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা আশা করছেন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে গাংনী পৌরসভা নতুন উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাবে।




মুজিবনগরে গৃহবধূর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে উর্মি খাতুন (১৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃত উর্মি খাতুন বিশ্বনাথপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী এবং সোনাপুর মাঝপাড়া গ্রামের ভাসান আলীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে লাল ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উর্মির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের শাশুড়ি জানান, সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় উর্মিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে উর্মি নিজ ঘরে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে দেখা যায়, তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। উর্মির পিতা ভাসান আলী জানান, গত শুক্রবার ছাগলকে ভুট্টা খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে উর্মির সঙ্গে তার স্বামী সোহেল বিশ্বাসের ঝগড়া হয়। খবর পেয়ে তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে সোহেল বাধা দেন। একপর্যায়ে সোহেল উর্মিকে গলা টিপে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় সোহেলের এক আত্মীয় বাধা দেন বলেও দাবি করেন ভাসান আলী।

এদিকে নিহত উর্মির এক চাচাতো ভাই জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে উর্মি ফোন করে কান্নাকাটি করেছিলেন। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সোহেল বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

মুজিবনগর থানার ওসি (তদন্ত) গৌতম কুমার জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুটি রহস্যজনক হওয়ায় আইন অনুযায়ী ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




ঝিনাইদহে সূর্যোদয় নাট্য গোষ্ঠীর নতুন কমিটি গঠন

ঝিনাইদহে সূর্যোদয় নাট্য গোষ্ঠীর নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই বছর মেয়াদী এই পরিচালনা কমিটিতে মোঃ হায়দার আলীকে সভাপতি এবং বিশিষ্ট কৌতুক অভিনেতা হুমায়ন কবিরি টুকুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) রাতে শহরের পাগলাকানাই প্রোফেসর কমিউনিটি সেন্টারে এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহবায়ক কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে সকলের সম্মতিক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি ড.তপন কুমার গাঙ্গুলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ আলী পিকু, কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ পালিত, দপ্তর সম্পাদক কাজল চট্টোপাধ্যায়, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সম্প্রিতী নন্দী। এছাড়া নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সেলিম রেজা, খলিলুর রহমান মফিজ,মোঃ টিপু সুলতান, অশোক কর্মকার ও মামুনুর রহমান তুরান। এই ১১ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি আগামী দুই বছর যাবৎ সংগঠনটির দায়িত্ব পালন করবেন।