কনকনে শীতে স্থবির মেহেরপুর- চুয়াডাঙ্গা জনজীবন

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার স্বাভাবিক জনজীবন। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা নামলেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ।

ভোর পর্যন্ত কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও তাতে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে না। ফলে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম।

সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন খেটে-খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষজন।

শহরের ইজিবাইক চালক সোহেল রানা বলেন, ‘সড়কে মানুষের চলাচল কমেছে। যাত্রী নেই খুব একটা। ঠাণ্ডা বাতাসে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না।’

কৃষি শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র শীতের সকালে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। হাত-পা বরফের মতো ঠাণ্ডা। কৃষিকাজে ভাটা পড়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতকরা ৯৫ ভাগ। সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা পরিস্থিতি এমনই থাকতে পারে।’




মেহেরপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিকাশ দোকানে ছিনতাই, দোকান মালিক আহত

মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি বিকাশ দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছিনতাইকারীদের হামলায় দোকান মালিক নাহিদ হাসান আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাহিদ হাসান তেরোঘরিয়া গ্রামের বেগা শেখের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া গ্রামের মোবাইল টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় নাহিদ হাসানের ‘এমএস টেলিকম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স’ নামের একটি বিকাশ ও ইলেকট্রনিক্স দোকান রয়েছে। রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করার সময় তিনজন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে নাহিদ হাসানকে ভয়ভীতি দেখায়।

একপর্যায়ে দোকানের বেচাকেনার নগদ ও বিকাশ লেনদেনের প্রায় দুই লাখ টাকা তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

দোকান মালিক বাধা দিতে গেলে ছিনতাইকারীরা তাকে রামদা দিয়ে আঘাত করে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আহত নাহিদ হাসান জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করছিলেন তিনি। এসময় তিনজন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্র হাতে তার ওপর হামলা চালায়। প্রতিরোধ করতে গেলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এতে তার হাতে আঘাত লাগে। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছিনতাইকারীদের ছোড়া ককটেলের আঘাতে বিকাশ দোকান মালিক আহত হয়েছেন। তার কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।




দামুড়হুদায় মাটি কাটায় একজনের জেল অপর জনের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা 

দামুড়হুদায় ফসলি জমি রক্ষা ও অবৈধ মাটি উত্তোলন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে স্কাই ইটভাটার ম্যানেজারের এক মাসের জেল ও ৫০০ টাকা জরিমানা এবং অপর মাটি ব্যাবসায়ীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবাইদুর রহমান সাহেল।

অভিযানে দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকার লক্ষীগাড়ী মাঠে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে উজিরপুর গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে আনারুল ইসলামকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়াও ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে স্তূপ করে রাখার অপরাধে স্কাই ইটভাটার ম্যানেজার জয়রামপুর শেখপাড়ার মৃত শেখ আবু বক্করের ছেলে মতিউর রহমান সন্টুকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নগদ পরিশোধ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত শেষে তাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবাইদুর রহমান সাহেল। এসময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।




চুয়াডাঙ্গায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় চুয়াডাঙ্গা ভি জে স্কুলের সামনে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খানের সভাপতিত্বে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, হুমায়ূন কবির আকাশ, নাঈম হাসান, শাহাবুদ্দীন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ছোটন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্র দলের যুগ্ম সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, আরিফ আহমেদ শিপ্লব, সাদ্দাম হোসেন, শাকিল আহমেদ টুটু, সহ-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী ও শাহাজান আলী সান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিক আহমেদ ইরান, ইকরামুল হক ও রাশিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক খন্দকার রিজন আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক বিক্রম সাদিক মিলন, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক সাইমুম আহমেদ শান্ত, আপ্যায়ন সম্পাদক শুকুর আলী, সহযোগিতা সম্পাদক নাজমুল হাসান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা, সদস্য সচিব মাজেদুল আলম মেহেদী, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসেন সবুজ, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইনতিয়ার হক স্বপ্নীল, সিনিয়র সহ-সভাপতি রিফাত উল হক, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সান, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান কনক, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সাল ইকবাল ও জেলা সদস্য রাহাত উল হকসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।




ঝিনাইদহ-৪; ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খানের আয় সাড়ে ৪ লাখ এবং নিজের নামে রয়েছে ৩০ভরি স্বর্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার একাংশ) মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে রাশেদ খান বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

তার দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণে আয় ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁন তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার মূল পেশা রাজনীতি ও ব্যবসা। আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার এই ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নিজের নামে ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যা দুজনই উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন।

রাশেদ খাঁনের নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং তার স্ত্রীর নগদ রয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীসহ বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এছাড়া তার নামে মোট ৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি চলমান এবং ২টি খারিজ হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিএনপি’র এই প্রার্থীর হলফনামায় কৃষি জমি বা কৃষি আয়ের কোনো তথ্য উল্লেখ করা নেই।




মাসুদ অরুনের বাৎসরিক আয় সাড়ে ৪ লাখ, সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা

মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুনের বাৎসরিক আয় ৪লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার আয়কর বিবরণীতে তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।

মেহেরপুর জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া মাসুদ অরুন হলফনামায় বিশ্লেষণ করে আরও দেখা গেছে, তার অজিত দেড় একর কৃষি জমি রয়েছে যার মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা এবং মেহেরপুর পৌর শহরে তাঁর নামে ১২ কাঠা বাড়ির জমি রয়েছে। যে জমিতে ভবন নির্মানাধীন রয়েছে। তার মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ টাকা। যা তিনি নিজস্ব সম্পদ থেকে আয় করেছেন।

আয়কর বিবরণিতে তিনি বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ১কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৫হাজার টাকা।

মাসুদ অরুনের স্ত্রী আমেনা খাতুন পেশায় শিক্ষক। তিনি শিক্ষকতা থেকে বছরে আয় করেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯ টাকা, তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২শ টাকা।

মাসুদ অরুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি মামলা থেকে অব্যহতি ও ৩টি মামলায় খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

প্রসঙ্গত, মাসুদ অরুন ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পিতা মরহুম আহমাদ আলীও সংসদ সদস্য ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় বিএনপির প্রভাবশালী দুই গ্রুপের সমন্বয়; ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুই গ্রুপের সংঘাতময় বিরোধিতার অবসান ঘটার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমন্বয় সভা। গতকাল সন্ধ্যায় লায়লা কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুইটি প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফের সঙ্গে আলমডাঙ্গা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু ওস্তাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিমসহ টিলু ওস্তাদ গ্রুপের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন নির্বাচনে দলীয় ঐক্য ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে আলমডাঙ্গা বিএনপিতে ঐক্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সভা শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, দল ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।




মুজিবনগরে কৃষকদের প্রণোদনার নামে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় কৃষকদের লক্ষ্য করে প্রণোদনার নামে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, এমনকি বিকাশ নম্বর পর্যন্ত দাবি করছে— এমন তথ্য জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কোনো কৃষকের কাছ থেকে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর অথবা বিকাশ নম্বর নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কখনোই এ ধরনের তথ্য চাইবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি প্রতারক চক্র বিভিন্ন কৌশলে কৃষকদের ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই এমন কোনো দাবি এলে কৃষকদের তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলার কৃষি অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর জানিয়েছে, সরকারি প্রণোদনার সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। তাই কোনো অবস্থাতেই কারও কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা প্রদান না করতে কৃষকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতারণা রোধে এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।




সংসার সুখের আশায় সৌদিতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলেন ফজলুল

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রবাসে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল উত্তরপাড়ার ফজলুল হক ওরফে ফজা (৪৭)।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সৌদি আরবের আল কাসিম প্রদেশের রোবাইদা শহরে কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ফজলুল হক। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলের দিকে মৃত্যুর খবরটি আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের মাতম।

ফজলুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল উত্তরপাড়ার দাউদ আলীর ছেলে। জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই কেটেছে তার প্রবাসজীবনে। পরিবারকে ভালো রাখতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশের মাটিতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তিনি। সর্বশেষ প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি বুকের বাম পাশে ব্যথা অনুভব করছিলেন। বিষয়টি অবহেলা না করে তিনি সৌদি আরবে চিকিৎসকের কাছে যান এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করছিলেন। তারপর থেকে ভালোই ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে স্বাভাবিকভাবেই কাজে যোগ দেন। কর্মস্থলে কাজ করার একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

মৃত ফজলুল হক এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে শাওন (২২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়েটি বিবাহিত। বাড়িতে রয়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ফলে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তা ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ফজলুল হকের জামাই শাহিন আলম জানান, প্রতিদিনই শ্বশুরের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হতো। মৃত্যুর আগের রাতেও তাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্বশুর কয়েক দিন ধরে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন খবর আমাদের জন্য মেনে নেওয়া খুব কষ্টের। ফজলুল হকের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

প্রবাসে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এই শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




মেহেরপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মেহেরপুর জেলার ১৪৬৬টি প্রাথমিক ও ৪১৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকে একযোগে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মেহেরপুর জেলা কালেক্টরেট স্কুলে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা হাসিমুখে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছে।

অভিভাবকরা জানান, নতুন বই পাওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।