মেহেরপুরে প্রতিবন্ধী ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

মেহেরপুর সদর উপজেলার প্রতিবন্ধী, দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে ১৫০টি কম্বল বিতরণ করেছে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেহেরপুর প্রোগ্রাম।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেহেরপুর প্রোগ্রামের প্রশাসক মো. সফিকুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন সংস্থাটির মেহেরপুর প্রোগ্রামের অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেহেরপুর প্রোগ্রামের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, শীত মৌসুমে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক কর্তব্য। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে।

এদিকে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ধারাবাহিক শীতবস্ত্র কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুর সদর উপজেলার পাশাপাশি গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলায় মোট ৭৫০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।




মেহেরপুর-১ আসনে সিপিবি প্রার্থী মিজানুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে মেহেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহা. মিজানুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এর আগে দলীয় মনোনয়ন না থাকার কারণ দেখিয়ে সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর।

আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় মেহেরপুর-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




কমিশন বাণিজ্য ও অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়ে গণপূর্তে একক নিয়ন্ত্রণ জামালের!

গণপূর্ত বিভাগে (পিডব্লিউডি) মেহেরপুর জেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটানো, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য, অনৈতিক সম্পর্ক এবং রহস্যজনক ক্ষমতার জোরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসডিই জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যত পুরো মেহেরপুর জেলা গণপূর্ত বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় ঠিকাদার ও পিডব্লিউডি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসডিই জামাল বিভিন্ন সময়ে অন্য ঠিকাদারের নামে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে নিজেই সেই কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের দুলাল (ছদ্মনাম) নামের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব অনিয়ম তিনি করে থাকেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি মেহেরপুর জেলা গণপূর্ত বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। এমনকি তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় একবার তার বদলি হলেও, মন্ত্রীর ভাই ঠিকাদার সরফরাজ হোসেন মৃদুল এবং ভগ্নিপতি ঠিকাদার বাবলু বিশ্বাসের সুপারিশে সেই বদলি আদেশ বাতিল হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, গাংনী শহরে স্বজনদের নামে তিনি পাঁচতলা ভবনসহ অন্তত দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সন্ধানী স্কুলের পাশেই অবস্থিত তার একটি পাঁচতলা বাড়ি।

এছাড়া ঠিকাদারদের কাজের বিল উত্তোলনের সময় বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে বিলের পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পালের দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিবছর এসডিই জামাল তার নিজ ভাগ্নে রাজিবুর রহমান পিন্টুর নামে অফিসিয়াল ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মেহেরপুর শহরের মতিন হার্ডওয়্যার, কামাল হার্ডওয়্যার ও মিশু ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন দোকান থেকে কম দামে মালামাল কিনে ভাউচারে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত বাড়ির বিভিন্ন সংস্কারকাজের মালামাল কিনে তিনি সরকারি ভাউচারের মাধ্যমে সেই বিল পরিশোধ করেছেন বলেও দপ্তর সংশ্লিষ্টরা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

পিডব্লিউডির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আওয়ামী লীগ আমলে মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার সূত্রে এবং সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে এসডি জামাল মেহেরপুরের গণপূর্ত বিভাগে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তিনি সম্পূর্ণ ভোল পাল্টে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই সময় মেহেরপুরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে এসডি জামাল বহাল তবিয়তে থেকে যান। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তিনি একাই জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল), উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) এবং সহকারী প্রকৌশলী এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি দপ্তরে একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন বিরল ও বিস্ময়কর নজির বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, নিজ পদের প্রভাব খাটিয়ে জেলা জজ আদালত ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার আসামিদের জামিনের তদবির করতেন তিনি।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, গাংনী উপজেলায় স্থায়ী ঠিকানা থাকা সত্ত্বেও তিনি মেহেরপুর জেলা পিডব্লিউডিতে একই কর্মস্থলে টানা ১৪ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন, যা সরকারি চাকরিবিধিকে প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজ এলাকা গাংনীর লোকজনের নামে পিডব্লিউডির প্রায় ৩৫টি ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আর অনুসন্ধানে জানা গেছে লাইসেন্সপ্রাপ্তদের মধ্যে মুদি দোকানি ও পান বিক্রেতাও রয়েছেন।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও। একই দপ্তরের সাবেক একজন এসও (কামরুজ্জামান) তার বাসভবনে অনুপস্থিত থাকলে সেখানে এসডিই জামাল নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিসহ অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল অফিসের সকল কর্মচারী কর্মকর্তা দের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া ঠিকাদার দুলালের (ছদ্মনাম) মাধ্যমে প্রায়শই পিডব্লিউডির মুজিবনগর গেস্ট হাউসে অবস্থান করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, এই এসডির কারণে এক ঠিকাদারের সংসার ভেঙে গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঠিকাদারের স্ত্রীর সঙ্গে তিনি নিয়মিত ভিডিও কলে যুক্ত থাকতেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে বদলি হয়ে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীরা মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগে যোগদান করলে তাদের চাপে রাখতে গাংনী উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করতেন তিনি। আবার নিজের পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পেলে নামধারী ও ফেসবুক লাইভ ভিত্তিক সাংবাদিকদের কাজের স্পটে পাঠিয়ে চাঁদাবাজি করানোর অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসডিই জামাল উদ্দিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নতুন লাইসেন্স হলে সরকার রেভিনিউ পায়, সরকারের আয় বাড়ে। নতুন লাইসেন্স হলে তো অসুবিধার কিছু নেই। লাইসেন্স যশোর সার্কেল অফিস থেকে পাস হয়ে আসে। আমি অফিসে বর্তমান পদে মাত্র এক বছর আছি। আগে ছিলাম প্রমোশন পাওয়ার পর ঢাকায় বদলি হয়েছি পরে আবার এখানে এসেছি। এখানে একই পদে দীর্ঘদিন আছি এভাবে এ কথা তো কেউ বলতে পারেনা। ‘

মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান বলেন, ‘সরকারি বিধি অনুযায়ী আমাদের দপ্তরে প্রত্যেক কর্মকর্তা তিন বছর দায়িত্ব পালন করলে বদলি হন। জামাল সাহেব স্থানীয় হওয়ায় হয়তো প্রভাবশালীদের সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে একই কর্মস্থলে ছিলেন। ২০২০ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর থেকে চলতি দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও একটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি অতি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি, তাই নৈতিকতা সংক্রান্ত অভিযোগ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলুল হক মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় তার একটি আলাদা প্রভাব তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে, এটা সত্য। বর্তমানে নির্বাচনকালীন সময় হওয়ায় তাকে বদলি করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষে এক মাসের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে।’

গাংনী উপজেলা তার স্থায়ী ঠিকানা হলেও জামাল উদ্দিন ২০১৪ সালের ১ জুলাই মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত একই স্থানে কর্মরত থাকার পর বদলি আদেশ জারি হলেও তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর ভাই ও ভগ্নিপতির সুপারিশে তা বাতিল হয়। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি একই কার্যালয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সরকারি ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব তিনিই একাই পালন করছেন।




সেনা প্রত্যাহার সমাধান নয়, প্রকৃত দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চায়

চুয়াডাঙ্গা থেকে সেনা প্রত্যাহার এর সমাধান না বিএনপি নেতা ডাবলু হত্যার সাথে প্রকৃত যারা জড়িত আমরা তাদের উপযুক্ত শাস্তি চায়। আমরা আর চায়না সেনাবাহিনী আইন হাতে তুলে নিক।

দেশে প্রচলিত আইন আছে কেউ অপরাধী হলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। সেনা হেফাজতে মৃত্যু জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর প্রথম জানাযা নামাজে অংশ নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রাথী মাহমুদ হাসান খান বাবু তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উল্লেখিত কথা বলেন।

গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে কঠর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও স্বজনদের দোয়া এবং অশ্রুসজল ভালোবাসার ছোঁয়ায় জীবননগর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এছাড়া আজ শামসুজ্জামান ডাবলু ছোট ভাই ও মা লনডন থেকে দেশে ফিরবে এসেছে এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় যথাস্থানে দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল মরহুমের জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের বিএনপি’র মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি’র মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ, শাহেদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিআইপি শাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএ তারিকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী, জীবননগর পৌর বিএনপি’র সভাপতি শাজাহান কবিরসহ জীবননগর ও দামুড়ুদা উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত সোমবার রাত ১১টায় জীবননগর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে চুয়াডাঙ্গা সেনাবাহিনী জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে তার নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হাফিজ ফার্মেসী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশেই পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যালয়ে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করলে তার মৃত্যু হয়। এনিয়ে ১৩ জানুয়ারি দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্ত সেনা সদস্যদেরকে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে অবরুদ্ধ করে রাখে হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনতা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাভাবিক হলে গতকাল বিকালে ডাবলুর মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হয়। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত সকল সেনা সদস্য ও কমান্ডারকে সেনা সদর দপ্তরে প্রত্যাহার করা হয়।

সেনা হেফাজতে ডাবলুর মৃত্যুতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।




জীবননগরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

মরদেহের সুরতাহল প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মাঠপাড়া থেকে এ  মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ(২৯) জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আশরাফ আলীর ছেলে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সোলায়মান শেখ জানান, মঙ্গলবার রাতে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বাড়ি থেকে বের হন ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। এরপর আর রাতে সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। স্বাজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর কোথাও খুঁজে পাইনি। বেলা ১১টার দিকে গ্রামের কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় মাঠে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে জীবননগর থানায় নেয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া প্রেমের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।




মেহেরপুরে শত্রুতামূলক বাড়ন্ত ভুট্টা গাছ কেটে বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা 

মেহেরপুরের গাংনী থানাধীন দিগলকান্দি গুচ্ছ গ্রামের চিনিরদোপ মাঠে শত্রুতামুলক ভুট্টা গাছ কেটে তছরুপাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার পরপর দুই রাতে প্রায় এক বিঘা জমির বাড়ন্ত ভুট্টা গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গুচ্ছ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম ৪০ হাজার টাকায় দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে  চাষাবাদ করে আসছে। চলতি মৌসুমে ঐ দুই বিঘা জমিতে তিনি ভুট্টার আবাদ করেছেন। ভুট্টা গাছগুলো বর্তমানে বাড়ন্ত অবস্থায় মাঠে দন্ডায়মান আছে। এক দেড় মাসের মধ্যে গাছগুলোতো ফল আসা শুরু করবে।

এরই মাঝে পরপর দুই রাতে শত্রুতামূলক কে বা কারা বিক্ষিপ্ত ভাবে ভুট্টার গাছ কেটে বিনষ্ট করেছে। দরিদ্র পরিবারের তিল তিল করে কষ্টে গড়া ফসলের এমন ক্ষতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষকের স্ত্রী রিনা খাতুন।

তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রমের টাকা দিয়ে তিল তিল করে এই ফসল আবাদ করছি। কিন্তু শত্রুতামূলক কে বা কারা আমার এই ক্ষতি করেছে আমি তাদের বিচার চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শরিফুল বলেন, এ পর্যন্ত জমিতে আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।  কয়েক মাসের মধ্যে ফসল টা তুলতে পারলে ১ লক্ষ টাকার বেচাকেনা হতো এখন আমার সবই দন্ড।

এবিষয়ে তিনি গাংনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।




মেহেরপুরের কোলাতে ডালিমের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের কোলা গ্রামে ডালিমের মৃত্যু ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের সাথে বাকি বিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্ট্রোক করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত গাজিউর রহমান ডালিম (৫৫) ও অভিযুক্ত মুনজা রহমান (৪৫) একই গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই সহোদরের মধ্যে জমি ও বাড়ির জায়গা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

খবর ছড়িয়ে পড়ে বড় ভাই ডালিমের গলায় থাকা মাফলার ধরে টান দেন ছোট ভাই মুনজা। অপর প্রান্তে মাফলারের অংশ ধরে ছিলেন মুনজার স্ত্রী আনজেরা খাতুন। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন ডালিম।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মুনজা রহমান ও তার স্ত্রী আনজেরা খাতুন পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ময়নাতদন্ত না করে নিহত ডালিমের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




ঋণ খেলাপির দায়ে হরিণাকুণ্ডুর এক প্রাইমারি শিক্ষক কারাগারে

শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:এর ঋণ খেলাপির মামলায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার এক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত সোমাবার মোছা: রিজিয়িা খাতুন নামে সহকারী শিক্ষক গ্রেপ্তার হয় এবং মঙ্গলবার বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালত তার জামিন না মুঞ্জুর করে আদালতে প্রেরণ করেন।

মোছা: রিজিয়া খাতুন উপজেলার দুর্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কন্যাদহ এলাকার গাজীপুর স্কুলপাড়ার নজরুল ইসলামের কন্যা।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শিক্ষক রিজিয়া খাতুন শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি: হরিণাকুণ্ডু শাখা থেকে নিজ প্রয়োজনে ঋণ গ্রহন করেন। এই পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গত ২০২২ সালের ৯জুন তারিখে টাকা পরিশোধের জন্য ৩,৯৯,৭০০/- (তিন লক্ষ নিরানব্বই হাজার সাতশত) টাকার চেক প্রদান করেন। সেই চেক ১৫জুন ২০২২ তারিখে হরিণাকুণ্ডু সোনালী ব্যাং থেকে ডিসঅনার করেন। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৬নভেম্বর তার অভিযোগ সন্ধ্যাতিত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় ৫মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩লক্ষ ৯৯হাজার ৭শত টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়।

এই অর্থ অনাদায় এবং আদালত অবমাননার দায়ে সোমবার তার নিজ বাড়ি থেকে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ রিজিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামুঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।




ঝিনাইদহে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ঝিনাইদহে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে হরিণাকুণ্ডুর ভিক উদ্দিন-সারা খাতুন নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারি পাড়ার স্কুল অফ লাইফ এর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে এই শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক (অব:) ও সাংবাদিক খুরশিদ মোহাঃ সালেহ, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মোঃ শাহানুর আলম, দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও নবগঙ্গা ফিটনেস একাডেমির সত্বাধিকারী কাজী আলী আহমেদ লিকু এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ অঞ্চলের সমন্বয়কারী মুন্সী মোঃ আবু হাসান।

এই অনুষ্ঠানে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেড় শতাধিক সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাধে খাতা, কলম, পেন্সিল ও স্কেলবক্রসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় অতিথিরা সুবিধাবঞ্চিত এসব দরিদ্র শিশুদের জন্য এমন সহযোগীতা অব্যাহত রাখার জন্য সমাজের বিত্তবানদের আহবান জানান।




ঝিনাইদহে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী

ঝিনাইদহে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রাণিসম্পদ অডিটোরিয়ামে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় এটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ এ,এস,এম আতিকুজ্জামান।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মোহাঃ মসিউর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা ভেটেরিনারি অফিসের ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃসঞ্জীব কুমার বিশ্বাসসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মিনাক্ষী নাগ। এসময় জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের বিভিন্ন ক্যাটাগারীতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, গিফটসহ নগদ অর্থ প্রদান হয়।