মেহেরপুরে ৬ লাখ টাকা নিয়ে উধাও রকেট ডিএসআর, থানায় অভিযোগ

মেহেরপুরে ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং ‘রকেট’ কার্যক্রমের এক ডিএসআরের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাত করে পলাতক থাকার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর সদর উপজেলার কোলা গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমানের ছেলে মো. রেজাউল হক মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) পরিচালিত ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং ‘রকেট’ কার্যক্রমের মেহেরপুর সদর উপজেলার আওতাধীন ডিএসআর পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ওই পদে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

হঠাৎ করে তিনি রকেট কার্যক্রমের প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাত করে পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের (মউক) পক্ষ থেকে মেহেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত রেজাউল হক পলাতক থাকায় তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




গাংনীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারী গ্রামের একটি পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মাইলমারী গ্রামের ভ্যান চালক আকাশ আলীর ৪ বছর বয়সী শিশু পুত্র ইউসুফ আলী এবং তার প্রতিবেশী আব্বাস আলীর ৩ বছর বয়সী শিশু পুত্র আদিব হোসেন একসাথে খেলছিল।

বাড়ির মধ্যে খেলতে খেলতে পরিবারের অগোচরে পার্শ্ববর্তী পুকুরে চলে যায় তারা। পরিবারের লোকজন তাদেরকে খুঁজে না পেয়ে পুকুরে সন্ধান চালায়। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাঃ ফারুক আহম্মেদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছুনোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পরিবারের সদস্যর কাছে হস্তান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।




সৌদি আরবে পাঠানো যুবক ৪ মাস ধরে নিখোঁজ, দালালের বিরুদ্ধে মামলা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের বাসিন্দা তানজিলা খাতুনের ছেলে ফিরোজ উদ্দিন প্রায় চার মাস ধরে সৌদি আরবে নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উন্নত জীবনের আশায় তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তার পরিবার। এ কাজে স্থানীয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুর রহমান।

তানজিলা খাতুন জানান, তিন মাস অতিবাহিত হলেও ফজলুর রহমান তার ছেলের কোনো কাজের ব্যবস্থা করতে পারেননি। এরই মধ্যে চার মাস ধরে তার ছেলে সৌদি আরবে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তানজিলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গাংনী থানার সাব-ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলামের হস্তক্ষেপে একটি মীমাংসা হয়।

মীমাংসা অনুযায়ী, দালাল ফজলুর রহমান দুই দিনের মধ্যে ফিরোজ উদ্দিনকে দেখানোর অথবা আকামার পরিবর্তে দুই লাখ টাকা প্রদান করার কথা বলেন। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত একটি গরু জামানত হিসেবে তানজিলার বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়।

তবে পরে ফজলুর রহমান তানজিলা খাতুন ও তার স্বামী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চুরির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত সোমবার সকালে তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শিমুল তানজিলার বাড়িতে যান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তার বাড়িতে যাওয়া স্বাভাবিক।

এদিকে তানজিলা খাতুনের দাবি, তার ছেলেকে জীবিত অথবা মৃত যেভাবেই হোক দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় তানজিলার স্বামী কামাল হোসেন বাদী হয়ে ফজলুর রহমান ও তার ছেলে শিহাবের বিরুদ্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।




মেহেরপুরে দুস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে মেহেরপুরে অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ সহায়তা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তাজউদ্দীন খান।

এ সময় তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অর্থ যদি একজন বা দশ জনের মাধ্যমে দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করা যেত।

এসময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন, সদর উপজেলা আমীর সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার জাব্বারুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




দামুড়হুদায় মৌসুমের প্রথম ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কৃষকের ক্ষেত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাউলি ও কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষকরা।

গত রোববার রাত ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা, কলা ও পেঁপে বাগান। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন তারা।

কৃষকরা জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করেই চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় আকস্মিক ঝড়। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় মাঠের পর মাঠের ফসল। অন্ধকার রাতে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, কৃষকের ঘাম ঝরানো শ্রমে গড়ে তোলা বাগান ও ফসলের ক্ষেত মাটির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। দিনের আলো ফুটতেই বেরিয়ে আসে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। কৃষকরা বলছেন, ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দুর্যোগ তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এই ঝড়ে ১০ হেক্টর জমির পেঁপে বাগান, ১২ হেক্টর জমির কলা বাগান, ৩ হেক্টর জমির গম এবং ২৫ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাগান ও ক্ষেতের একটি গাছও অক্ষত নেই।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত আর্থিক অঙ্ক নির্ধারণে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

প্রকৃতির এই তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা এখন সরকারি আর্থিক সহায়তার আশায় প্রহর গুনছেন।




জীবননগরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণপিটুনিতে আটক ২

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় দুই ভুয়া সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের আরও চার সহযোগী পালিয়ে যায়।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক দুজন হলেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে রিজভী সালমান রহমান (২৯) এবং একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে আহাদ আলী (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি ওই এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুইজন ধরা পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, “আমি চুয়াডাঙ্গায় একটি মিটিংয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। আটক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




আলমডাঙ্গায় মসজিদে ফ্রি কুরআন শিক্ষা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদে ফ্রি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পারকুলা গ্রামের এই মসজিদটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গ্রামবাসীর সহযোগিতা ও মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে এখানে ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০১৯ সাল থেকে মসজিদটির উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তিন যুগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু শিশু-কিশোর ও মুসল্লি কুরআন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত শিখতে সক্ষম হয়েছে এবং এই শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

যেসব শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত শিখতে পেরেছে, তাদের সম্মাননা ও উৎসাহ দিতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

এই কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সময় জুমার দিনে দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা প্রদান করেন হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলাম। নিয়মিত ক্লাস পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ হুসাইন।

উল্লেখ্য, পারকুলা জামে মসজিদের আদলে দেশের অন্যান্য মসজিদেও মসজিদভিত্তিক ফ্রি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য সরকারের প্রতি এবং দেশের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ কুরআন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রসার আরও বৃদ্ধি পাবে।




আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা

আলমডাঙ্গায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে সোমবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, থানা ওসি (অপারেশন) আলী হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খান, ইউপি চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দিন, তবারক হোসেন, আসাদুল হক মিকা, আশিকুর রহমান ওল্টু, সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, তথ্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা ছাত্র সমন্বয়ক আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় ডামোশ-ঘোলদাড়ি খাল পুনঃখননের অনুমোদন, কৃষকদের স্বস্তি

দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার পর অবশেষে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বহু বছর ধরে অবহেলা, দখল ও ভরাটের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া খালটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি একসময় এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জমির অতিরিক্ত পানি এই খালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্কাশন হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাটি ফেলে ভরাট এবং আবর্জনা জমতে জমতে খালটির অনেকাংশ কার্যত অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েন কৃষকেরা। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ অবস্থায় খালটি পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। খাল পুনঃখননের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালটি সচল হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমে যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য তা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খালটি যেন আবার দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত এই খাল পুনঃখনন করা হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।




কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান: দুই ফ্যাশন হাউজকে জরিমানা

কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মজমপুর ও আর.এ. খান রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও ফ্যাশন হাউজে মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে আর.এ. খান রোডের শৈশব ফ্যাশন হাউজকে ডিসকাউন্ট পণ্যে ছাড়ের হার উল্লেখ না করা এবং অতিরিক্ত ভ্যাট আদায়কৃত পণ্যের গায়ে তা উল্লেখ না করায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথাযথ পণ্য বিক্রি না করার অভিযোগে ভেরু ফ্যাশন হাউজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী। এ সময় অভিযানে সহায়তা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক।

অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের একটি টিম এবং র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল দায়িত্ব পালন করে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, বাজারে ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।