মেহেরপুরে ইয়ুথ কাউন্সিল গঠনের আলোচনা সভা

মেহেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন, তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুবসমাজের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে “ইয়ুথ কাউন্সিল” গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। National Council for Human Rights and Development এর প্রস্তাবনায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মতামত সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ মোহাম্মদ তোয়াশ। তিনি তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় উন্নয়নে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এতে জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন মোহনা হাসান, তানজিমুল, সৈয়দ মাহফুজ, সাব্বির হোসেন এবং বৃষ্টি।

প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার আলোকে ইয়ুথ কাউন্সিলের কাঠামো, কার্যক্রম এবং কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রস্তাবনা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারবেন। এর ফলে তরুণদের কণ্ঠস্বর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ সেতু গড়ে উঠবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে। পাশাপাশি, যুবসমাজের উদ্ভাবনী চিন্তা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জেলার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মতামত সংগ্রহ শেষে একটি সুসংগঠিত কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শিগগিরই ইয়ুথ কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে বলে জানা গেছে। জেলার তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এর সফল বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।




ঝিনাইদহে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ

ঝিনাইদহের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে এই চেক বিতরণ করা হয়।

সেসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাড. এম এ মজিদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. কামাল আজাদ পান্নু, সদর উপজেলা সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলার ৬ উপজেলার ১৬ টি মসজিদ ও মন্দির একজন অসুস্থ ব্যাক্তিকে সর্বমোট ২৬ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




ঝিনাইদহে তামাকাজাত নিয়ন্ত্রন অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের দাবীতে মানববন্ধন

ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের দাবীতে ঝিনাইদহে র‌্যালী ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে তামাকবিরোধী নারী জোট’র পক্ষ থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মানবন্ধন। এতে জোটের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়ন কর্মীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নেয়।

সেসময় উই’র পরিচালক শরিফা খাতুন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব রনক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শেখর, মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তহুরা খাতুন, উন্নয়ন কর্মী হায়দার আলী, ব্রাক প্রতিনিধি শিপ্রা বিশ্বাসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে বিদ্যমান অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করে কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির মৃত্যু

আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার চান্দামারী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবপুর গ্রামের হাবিল আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চান্দামারী গ্রামের একটি দুইতলা ভবনের ছাদে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় ব্যবহৃত লোহার রড পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইনের সঙ্গে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোস্তাফিজুর রহমান পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলে জানা গেছে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে।




মেহেরপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডিক্লিয়ার বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেরপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হুজাইফাকে (ডিক্লিয়ার) প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত এই নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাকে সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




দামুড়হুদায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় পরিবারে হামলা, থানায় অভিযোগ

দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের উত্তরপাড়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে শিপলু আলীর কাছ থেকে প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ২৩ হাজার টাকা ধার নেয় প্রতিবেশী শিহাব (২২)। পরে শিপলু আলী টাকা ফেরত চাইলে শিহাব নানা টালবাহানা করতে থাকে।

শিপলু আলী জানান, পাওনা টাকার জেরে গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত শিহাব, মৃত আজিবার মণ্ডলের ছেলে আকরাম (৫৫) ও কামাল (৫০) এবং জিগার মণ্ডলের ছেলে জিয়া (৪০) পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সামনে আসে। জিয়া তাকে ডাকলে তিনি বাইরে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দিতে চেষ্টা করে। তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দা পড়ে যায়।

এ সময় তার মা, বাবা ও স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এতে তার মায়ের হাত ভেঙে যায়, পায়ে কোপ লাগে এবং স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলাকারীরা পাওনা টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শিপলুর বাবা ইউনুস আলী জানান, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় শিপলু আলী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্বার্থ হাসিলের সুযোগ নেই

কোনো রকম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্বার্থ হাসিলের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কোটচাঁদপুর গড়ে তুলতে চাই।

শনিবার বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তেল সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োজিত জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ, মডেল থানার (তদন্ত) ওসি খোন্দকার এনায়েত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হোসাইন, সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কাইয়ুম হোসেন, কুশনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুর রহমান টিটো খান, কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ বাশার, এনসিপি নেতা হৃদয় আহসানসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের মালিকগণ।




গাংনীতে আবারও খড়ের আগুনে গম, তামাকসহ পুড়ল ১৫ বিঘা জমির ফসল

মেহেরপুরের গাংনীতে আবারও গমের খড় পোড়াতে গিয়ে আগুন লেগে ১৫ বিঘা জমির গম, ভুট্টা, তামাক, সেচের মেশিন ও আমবাগান পুড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলার চোখতোলা মাঠে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের গম কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে এখনও কিছু কৃষকের গম রয়েছে। এছাড়াও তামাক, ভুট্টা, আমবাগান ও সেচের মেশিন রয়েছে বিভিন্ন জমিতে। তবে মাঠজুড়ে গমের খড় পোড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন অনেক চাষি। দুপুরে এক চাষি তার জমির খড় পোড়াতে গেলে অসাবধানতাবশত আগুন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জমিতে।

চোখতোলা মাঠের চাষি মজনুল হক বলেন, “আমার গম, ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ও তামাক পুড়ে গেছে। প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছিলাম, সব পুড়ে গেল। একজন চাষির অসাবধানতায় ১০-১৫ জন চাষির ফসল নষ্ট হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ময়েশপুর গ্রামের চাষি আজিজুল হক তার ১০ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

আরেক চাষি আব্দুল হালিম বলেন, “দুপুরে প্রচণ্ড রোদ ও বাতাসের মধ্যে খড় পোড়ানোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমার একটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন, তামাক ও আমবাগান পুড়ে গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন, “চোখতোলা মাঠে গম, তামাক, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে গেছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনাটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা হবে।”

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, “আজিজুল হক নামে এক চাষি খড় পোড়াতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন কৃষকের গম, তামাকসহ ফসল পুড়ে যায়। পাশাপাশি তিনটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিনও পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে খড় না পোড়ানোর জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে মসজিদে মসজিদে প্রচার ও মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও অনেকেই খড় পোড়াচ্ছেন, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শিমুলতলা মাঠে ৫ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে ৮০ বিঘা জমির গম পুড়ে যায়। এতে কৃষকদের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।




কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ

কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহর শাখার উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নারীদের মাঝে এসব সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন।

এ সময় তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নেও এটি সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, জেলা শুরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসাইন, জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মমতাজ জাহান, শহর নায়েবে আমীর আজমল হক এবং শহর সেক্রেটারি শামীম হোসাইন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ও শহর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সালেহা বাশারসহ শহর মহিলা বিভাগের অন্যান্য দায়িত্বশীলরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দরিদ্র ও কর্মহীন নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে।

শেষে উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।




দর্শনায় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও ছাগল বিতরণ

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে দর্শনা পৌরসভা ও ইউনিয়নে ৩৬টি মা ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল রহমান। এ সময় তিনি রামনগর, কালিদাসপুর, ঘুঘুডাঙ্গা, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর, হাউলি ইউনিয়নের রুদ্রনগর এবং কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে প্রকল্প কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আলিহিম নামে এক উপকারভোগীকে বিনামূল্যে ২টি মা ছাগল বিতরণ করেন।

মা ছাগল পেয়ে আলিহিমের পরিবার আনন্দিত। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ১০-১২টি ছাগল নিয়ে একটি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তার পরিবার স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারে।

মোট ৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৪টি গ্রামের নির্বাচিত ১৮ জন প্রতিবন্ধীর মধ্যে ৩৬টি মা ছাগল বিতরণ করা হয়। তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মান্নান, সমন্বয়কারী মো. মকবুল হোসেন, সুপারভাইজার জিল্লুর রহমান, ফিল্ড অফিসার বিল্লাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।