স্তুপের মধ্যে থেকে বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের পোশাক

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ মুহূর্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের ঈদ বাজার। রমজানের শুরুর দিকে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকলেও এখন বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাটে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভেতরের আনাচে-কানাচে ক্রেতাদের ভিড়। এমন অবস্থায় স্তূপ করা কাপড়ের মাঝ থেকে নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

কিছু কিছু পোশাকের দাম রাখা হচ্ছে আকাশচুম্বি। ফলে সমস্যায় পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবুও দরদাম শেষে অনেকেই পরিবারের জন্য নতুন পোশাক, স্যান্ডেল-জুতা ও নানা ধরনের জুয়েলারি কিনে বাড়ি ফিরছেন।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে গাঢ় রঙের পোশাক বেশ জনপ্রিয়। জরি, সুতা, পুঁথি, চুমকি ও কুন্দন দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের বিক্রিও ভালো।

বাজারে সারারা, গারারা, গ্রাউন্ড ফ্রক, কুর্তি, লেহেঙ্গা, ওয়ান পিস, টু-পিস ও থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও পোশাকের দাম বেড়েছে। তবে মানের দিক দিয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন নামের পোশাক ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫/৬ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার শুধু নাম পরিবর্তন করে সেগুলোই আরও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

মুজিবনগর থেকে বাজার করতে আসা আব্দুর সাত্তার বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমি মেহেরপুরেই বাজার করতে এসেছি। আমাদের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পেরে ভালো লাগছে। ঈদের জন্য পরিবারের সব কেনাকাটা শেষ করেছি।”

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, “পরিবার নিয়ে বাজারে এসেছি। কিন্তু পোশাকের দাম অনেক বেশি। দুইটার জায়গায় একটা কিনতে হচ্ছে। কারও জন্য কিনতে পারছি, আবার কারও জন্য পারছি না। আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে কষ্ট হচ্ছে।”

শহরের কালাচাঁদপুর এলাকার অটোচালক কিতাব আলী বলেন, “বাজারে পছন্দসই অনেক পোশাক রয়েছে। তবে ডিজাইনের কারণে দাম অনেক বেশি। বড়দের জন্য দেশি পোশাক কিনব, আর সন্তানদের জন্য তাদের পছন্দমতো পোশাক কিনতেই হবে।”

মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লাভলি ইয়াসমিন বলেন, “এখন শুধু পোশাক নয়, তার সঙ্গে মিলিয়ে স্যান্ডেল, জুতা, জুয়েলারি ও কসমেটিকও কিনতে হচ্ছে। বাজারে প্রতিযোগিতা বেশি, তাই দরদাম করে কিনতে হচ্ছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হতো না।”

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান উপলক্ষে বেচাকেনা ভালো হলেও আরও বাড়ার আশা করছেন তারা। তবে দিনের বেলায় ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ইফতারের পর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে যাচ্ছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই গ্রাম থেকে রাতে শহরে বাজার করতে আসছেন না।

স্মার্ট ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী আরাফাত রহমান বলেন, “এ বছর বেচাকেনা খুবই ভালো। তবে দিনের তুলনায় রাতে একটু কম। রাস্তাঘাটের অবস্থার কারণে কিছুটা ভয় থাকে, কিন্তু দিনের বেলায় আল্লাহর রহমতে ব্যবসা ভালো।”

নতুন শাহ বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর সাহা দেবু বলেন, “রমজানের কারণে বিক্রি ভালো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের দোকান আগারগাঁও বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মোহন কুমার চৌধুরী জানান, “এবার ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রিও বেশি হচ্ছে।”

এপেক্স শোরুমের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন ও বাটা শোরুমের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পণ্য নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়। এখানে প্রতারিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

পোশাক ব্যবসায়ী অমি ফ্যাশনের মালিক ছানোয়ার হোসেন বলেন, “বেশি দামে পোশাক কিনে বাজারজাত করতে হচ্ছে বলেই এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে বাজারে পছন্দের পোশাকের কোনো অভাব নেই।”

বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও জামান বস্ত্রালয়ের মালিক মনিরুজ্জামান দিপু বলেন, “এবারের রমজান ব্যবসার জন্য ভালো যাচ্ছে। মেয়েরা গরমের কারণে হালকা রঙের পোশাক বেশি কিনছে, আর শিশু-কিশোররা গাঢ় রঙের পোশাক পছন্দ করছে। তবে আগে গ্রামের মানুষ রাতেও বাজার করতে আসত, এখন রাতে গ্রাহক কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলার কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে।”

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, “রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নিরাপদ কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”




দর্শনায় বিভিন্ন মামলায় নারীসহ গ্রেফতার ৫

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।রোববার দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন দর্শনা থানাধীন ফুলবাড়ি গ্রামের আসাদুল ইসলাম (৩৮), জিহাদ হোসেন (২৭), সাইফুল ইসলাম (৪৬), কৃষ্টপুর বোয়ালমারী পাড়া এলাকার হাফিজুল ইসলাম (৩৪) ও বানু বেগম (২৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল ইসলাম, জিহাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম ও বানু বেগমকে গ্রেফতার করে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার কুষ্টিয়া শহরের তাজ ইন হোটেল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আরিফুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর ফরহাদ হুসাইন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, সহ-সেক্রেটারি ফরিদ উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য অতিথিরা।

বক্তারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মানুষকে তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। রমজানের এই শিক্ষা ধারণ করে সমাজে ন্যায়নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, “আমরা ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কাজ করে যাচ্ছে।”

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।




আলমডাঙ্গায় আতশবাজি বিস্ফোরণে তিন শিশু জখম

আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে ঈদের আনন্দে দিয়াশলাইয়ের বারুদ দিয়ে পটকা বানিয়ে ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের মিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন শিশু মিলে নবনির্মিত একটি মসজিদের ছাদে পটকা তৈরি করে তা ফোটানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই তিন শিশু গুরুতর আহত হয়।

আহতরা হলেন জাকির হোসেনের ছেলে রনক (১৩), উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে হুসাইন আলি (১০) এবং আহমেদ আলির ছেলে আলমিয়া হোসেন (১০)।

বিস্ফোরণে রনক নামের শিশুটির হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রনকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলা ও আতশবাজি তৈরির বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।




চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন

চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে তিনি নারী অধিকার নিশ্চিত করা, নারীদের নিরাপত্তা, সমতা এবং সমাজের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় তিনি নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, জেলা শিক্ষা অফিসার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।




মুজিবনগরে ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের “সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে” মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহম্মেদ বিজন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আবুল হাসান, বাগোয়ান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বায়জিদ মোল্লা, সাবেক ইউপি সদস্য বগা মোল্লা, সাবদার আলী ও জাকির হোসেনসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।




দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তোফাজ্জেল হক, উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রসিদ, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক তানজির ফয়সালসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি ছাড়া একটি রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না। উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির অধিকার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে হোসনে জাহান বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা বাস্তবেও কার্যকর করতে হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

আলোচনা সভায় বক্তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, দামুড়হুদা উপজেলাকে নারী ও কন্যাশিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম আশরাফুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন সুকুমার বিশ্বাস। শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




মুজিবনগরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

মুজিবনগর র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে নারী দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই জায়গায় এসে শেষ হয় এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত, গৌতম কুমার। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহবুবুল হক মন্টু, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুক প্রিন্স, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হাসনাইন জাহিদসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উপজেলার সুবিধাভোগী নারীরা অংশগ্রহণ করেন।




ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে জায়গা পাচ্ছে ইটের সলিং!

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক। যেখানে থাকার কথা মসৃণ পিচঢালা সড়ক, সেখানে দেখা যাচ্ছে ইটের সলিং। কোথাও পুরো রাস্তা জুড়ে, কোথাও আবার বড় বড় গর্ত ভরাটে ব্যবহার করা হয়েছে ইট। এতে একদিকে যেমন যানবাহনের গতি কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাদ্দ না থাকায় এটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সড়কের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মোট ৪৭ কিলোমিটারের মধ্যে ঝিনাইদহ অংশে রয়েছে ২৪ কিলোমিটার। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের অধিকাংশ জায়গা খানাখন্দে ভরা। আবার অনেক জায়গায় পিচ উঠে যাওয়ায় সেখানে ইটের সলিং তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরের আরাপপুর এলাকায় ৮০০ মিটার, ভাটইবাজারে ৬৫০ মিটার, গাড়াগঞ্জে ২০০ মিটার ও শেখপাড়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ইটের সলিং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অল্পদিনেই ইটের সলিং উঠে গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ব্যস্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এসব জায়গায় বালু ফেলে তার ওপর ইট বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী চলাচলের পথ। ভারী যানবাহন চলাচলে ইট সরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে আবার নতুন গর্ত। ফলে ওই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহনকে বারবার গতি কমাতে হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে যানজটও। বিশেষ করে রাতের বেলায় ইটের উঁচুনিচু অংশ চোখে না পড়ায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ওই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী আবির আহমেদ নামের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আগে ঝিনাইদহের হামদহ থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগত। এখন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে এক থেকে দেড় ঘণ্টাও ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারি না। অনেক সময় ক্লাস শুরু হয়ে যায়। গত দুই বছর ধরে আমাদের এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

স্থানীয় গড়াই পরিবহনের চালক ওসমান আলী বলেন, “এমন মহাসড়ক এর আগে আমাদের দেখতে হয়নি। পিচঢালা সড়কে হঠাৎ ইটের সলিং থাকায় গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি নিয়ে ঝাঁকুনি খেতে খেতে চলতে হয়, ব্রেক কষলেও পিছলে যায়। ফলে আমাদের খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এজন্য যাত্রাসময় বেড়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা মাসের পর মাস ধরে, স্থায়ী মেরামতের দেখা মিলছে না।”

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, “মহাসড়কে ইটের সলিং কোনোভাবেই টেকসই বা নিরাপদ সমাধান নয়। ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করার মতো শক্তি ইটের স্তরে থাকে না। ফলে দ্রুত ক্ষয় হয় এবং সড়ক আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমরা দেখেছি সরকার বিগত সময়ে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।”

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, “ওই সময়ে মহাসড়ক সংস্কারের জন্য আমাদের যথাযথ বরাদ্দ ছিল না। তাই মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে চলাচল সচল রাখতে সাময়িকভাবে ইটের সলিং দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শিগগিরই ঠিকাদার নিয়োগ করে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”




কালীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রাথীর ইফতার মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জেলা অতিরিক্ত ম্যাজেষ্ট্রেট সবির কুমার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি জানানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ-৪ আাসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলের আদেশ অমান্য করে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফলতা ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআন খতম, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। প্রস্তুতি হিসাবে কালীগঞ্জ নলডাঙ্গা স্ট্যান্ডের পাশে ফাঁকা স্থানে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি সম্পন্ন করেন। গতকাল রোববার দুপুর থেকে হাফেজরা কোরআন তেলওয়াত শুরু করে।

এদিকে উপজেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকে একই স্থানে ইফতার মাহফিলের ঘোষনা দেন। ফলে দুই পক্ষের একই স্থানে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এদিকে ফিরোজের মাহফিলে হামলা হতে পারে আশঙ্কায় পুলিশ এসে তাদের অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেন। দুপুরের পর থেকে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি স্থানীয়দের অবগত করতে শহরে মাইকিং করা হয়।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, আমি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়ে ওঠা সৈনিক। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। আমি তারেক রহমানের সফলতা ও থালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কর্মসূচীর আয়োজন করেছিলাম। এখন আপনাদের মাধ্যমে শুনছি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় মাহফিল না করে অনত্রে করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন জনসাধারনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।