বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দর্শনায় দোয়া মাহফিল

দর্শনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনা পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের আয়োজনে সোমবার দুপুরে দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে এ মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।

দর্শনা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আশাদুল মোল্লার সভাপতিত্বে এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাবু তরফদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, নাহারুল ইসলাম মাস্টার, শরিফুল ইসলাম শরীফ, ইকবাল হোসেন, মালেক মণ্ডল প্রমুখ। এ সময় সেখানে দর্শনা পৌর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র হত্যা করে কেউ টিকে থাকতে পারে না। দেশ আজ চরম দুঃশাসন, ভোট ডাকাতি ও দমন-পীড়নের শিকার। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা।

পরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, দেশ ও জাতির মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন দর্শনা জামে মসজিদের পেশ ইমাম ওসমান হোসেন।




সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হলো এমন একটি নিরাপদ বেড়াজাল যার মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। সামাজিক নিরাপত্তা হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে পরস্পর সহাবস্থান এবং সম্প্রীতির একটি সুষম পরিবেশ তৈরি করে।

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক দুর্যোগের ফলে মানুষের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা, মনুষ্যসৃষ্ট বৈষম্যগত দারিদ্র্যমোচন, বিভিন্ন আইনি সহায়তা এবং অসুস্থতা, বেকারত্ব, শিল্পদুর্ঘটনা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। সামাজিক নিরাপত্তা আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের সামাজিক নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও এর প্রেক্ষাপট অতি পুরোনো। সামাজিক নিরাপত্তা আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য কার্যক্রম হলেও প্রাচীনকালেও এর প্রচলন ছিল। বর্তমানের মতো এ কর্মসূচি সুসংগঠিত না হলেও দানশীলতা, মানবতাবোধ ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি ও বেসরকারিভাবে এরকম কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ দেখা যেত। প্রাচীন মিসর, গ্রিস, রোম, চীন, ভারতে এর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এই কর্মসূচির একটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (NSSS)।

এর লক্ষ্য হলো, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সহায়তা প্রদান করে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা; আয়-রোজগার কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে বা জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা প্রদান; সমাজের সকল স্তরের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সামগ্রিক মানব উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যে সকল কর্মসূচি আছে তার মধ্যে বয়স্ক ভাতা: বয়স্ক নাগরিকদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান; বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা: অসহায় নারী সদস্যদের আর্থিক সহায়তা; প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি: প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের সহায়তা; মুক্তিযোদ্ধা ভাতা: মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান; ভিজিডি (VGD) ও ভিজিএফ (VGF): খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।

অনুন্নত, স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলোয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই যথাযথভাবে পূরণ করতে পারে না। দুর্নীতির কারণে সম্পদ একটি বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর হাতে পুঞ্জিভূত হয়। ফলে ধনী-গরিবের ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে, গরিব ক্রমান্বয়ে গরিব হয় আর বিশেষ শ্রেণি ফুলে-ফেঁপে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হওয়ার দিকে যায়। তাছাড়া সমাজের অসহায় শ্রেণি তথা পঙ্গু, অনাথ, বৃদ্ধদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না। এই অসহায় শ্রেণির জন্যই প্রধানত রাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকারও অসহায়-পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।

সরকারের কাবিখা, কাবিটার মত কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে অভাবী মানুষের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য নিরসনে কার্যকরভাবে কাজ করছে। অতীব জরুরি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাও প্রদান করছে সরকার। সরকার সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এর পরিধি বাড়িয়ে চলেছে। চলতি অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষাখাতে ব্যয় বাবদ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আড়াই শতাংশ ও জাতীয় বাজেটের ১৭ শতাংশ হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পেনশন ও ভর্তুকি কর্মসূচিগুলো যখন বাদ দেওয়া হয়, তখন বরাদ্দটি জিডিপির মাত্র এক দশমিক দুই শতাংশ ও বাজেটের সাত শতাংশে নেমে আসে।

বর্তমানে ২৬টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৪০টি কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে। চলতি অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রায় ১০ লাখ উপকারভোগী। কয়েকটি কর্মসূচিতে ভাতা বাড়ানো হয়েছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের চারটি ও খাদ্য অধিদপ্তরের একটি কর্মসূচিতে অন্তত ১০ লাখ উপকারভোগী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সূত্রটি জানায়, গত অর্থবছরের প্রতি মাসে ৬০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পেতেন ৬০ লাখ উপকারভোগী। বর্তমান অর্থবছরের ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬১ লাখ করা হয়েছে। প্রতিমাসে জনপ্রতি ভাতার পরিমাণ করা হয়েছে ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া বিধবা ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৭ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৯ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে।

গত বাজেটে ৮৫০ টাকা করে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন ৩২ লাখ ৩৪ হাজার উপকারভোগী। নতুন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার করার পাশাপাশি ভাতা করা হয়েছে ৯০০ টাকা। মা ও শিশু উপকার কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৭ লাখ ৭১ হাজার করা হয়েছে । এক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ ৮০০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮৫০ টাকা। এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ লাখ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ১৫০ টাকা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনা করে দরিদ্র, অসহায় জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবছর বাজেট বক্তৃতায় এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বাজেটের মূল উদ্দেশ্য সমতাভিত্তিক ও কল্যাণধর্মী। সার্বিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে সম্পদ সীমিত হওয়ায় ভাতার পরিমাণ কতটুকু বাড়ানো যায়, সেটা বিবেচনা করা হবে।”

এছাড়াও, বেদে সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধাভোগী বেড়েছে চলতি অর্থবছরে। গতবছর ৪ হাজার ৩৯৮ জন বেদে সন্তান শিক্ষা উপবৃত্তি পেতো। চলতি অর্থবছরে এ সুবিধা পাচ্ছে ৪ হাজার ৮৩৮ জন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধাভোগী ২৮ হাজার ৯১২ জন থেকে বাড়িয়ে ৩১ হাজার ৯০২ জন করা হয়েছে। এ ছাড়া চা শ্রমিকদের এককালীনের পরিবর্তে মাসিক ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে। এতদিন চা শ্রমিকদের বছরে একবার ৬ হাজার টাকা দেওয়া হতো। চলতি অর্থবছর থেকে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত বিশ্ব সামাজিক সুরক্ষা প্রতিবেদন ২০২৪-২৬-এ ধারণা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক নয় শতাংশ খরচ করে। এই সংখ্যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গড় তিন দশমিক আট শতাংশের তুলনায় কম। প্রাক্কলন থেকে জানা যায় বার্ধক্য ভাতা (ওএএ) ও বিধবা ভাতার (ডব্লিউএ) মতো মূল কর্মসূচিগুলো থেকে মাসিক সুবিধা মাথাপিছু জাতীয় দারিদ্র্যসীমার আয়ের মাত্র ১৪ শতাংশ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ২২ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষায় সুবিধা কম, যা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খুব কমই সমন্বয় করা হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর প্রকৃত মূল্য ক্রমাগত কমে যায়। তবে বাজেট বরাদ্দের ভিত্তিতে ছয় বৃহত্তম প্রকল্পের মধ্যে কেবল বার্ধক্য ভাতা প্রকৃত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নতুন আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুনর্গঠন করাও এখন সময়ের দাবি। তা-সত্ত্বেও বলতেই হবে যে, গ্রামীণ, কৃষিনির্ভর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং প্রশংসনীয় সাফল্য রয়েছে।

তবে, দেশ ইতোমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে একটি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের মনে রাখা দরকার, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা নীতিগুলো প্রাথমিকভাবে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর বিবেচনায় করা হয়েছে। কেননা, কৃষিতে এখনো শ্রমশক্তির বৃহত্তম অংশ নিযুক্ত রয়েছে।

তবে দেশে শিল্প ও পরিষেবা খাতগুলোও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এই উদীয়মান খাতের উপর নির্ভরশীল প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্যও নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডিজাইন করা জরুরি। এছাড়া জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যবস্তু সুরক্ষা বিবেচনায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকলে আয়-বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘব হবে। দেশ আর্থ-সামাজিক ভারসাম্যপূর্ণ সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ




ঝিনাইদহে ভিডিপি দিবস পালন

‘সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার ‘ এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলা আনসার ভিডিপি অফিস প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উব্দোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য রালী বের করা হয়।

র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জেলা কমান্ড্যান্ট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আমিন উদ্দিন, শৈলকুপা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, মহেশপুরের সহিদুল ইসলাম, হরিণাকুন্ডুর হাসিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নির্বাচন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ভিডিপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।




মহেশপুরে খাবার সংকটে কালোমুখো হনুমান

পশ্চিমা শীতল বাতাশ ধেয়ে আসছে শৈত্য প্রবাহ, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়া ছাড়া ইচ্ছে করে কেউ ঘুরতেও বের হয়না। এই শীতল আবহাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি খাবার সংকটে পড়েছে এই বিরল প্রজাতির হনুমান গুলো।

মুখে শুধু ‘আয়’ বলা মাত্রই ছুটে আসে শত শত কালোমুখো হনুমান। এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্য দেখা যায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামে। গ্রামজুড়ে চোখে পড়ে বিরল প্রজাতির এই কালোমূখো হনুমানের অবাধ বিচরণ—কেউ গাছে,কেউ বাড়ির ছাদে,কেউ আবার মানুষের পাশে বসে নির্ভারতার সাথে সময় কাটাচ্ছে।

একসময় এলাকায় প্রচুর ফলদ ও বনজ গাছ থাকায় খাবারের অভাব ছিল না এই বন্যপ্রাণীর। কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়া,বাগান উজাড় হওয়া ও মানব কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে এখন খাবার সংকটে পড়েছে তারা। ফলে কখনো ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে,আবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অনেক হনুমান।

স্থানীয় যুবক নাজমুল হোসেন নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন সরকারি বরাদ্দকৃত খাবার তাদের সামনে পৌঁছে দেন। তবে তিনি জানান,বরাদ্দকৃত খাবার অত্যন্ত অপ্রতুল-এতে একবেলাও ঠিকভাবে খাওয়ানো যায় না শতাধিক হনুমানকে।

নাজমুল হোসেন বলেন,‘আমি ডাক দিলেই এভাবে ছুটে আসে শত শত হুনমান। ওরা এখন আমাদের পরিবারের কাছের লোকের মতোই। কিন্তু খাবারের সংকটে ওরা কষ্ট পাচ্ছে-এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

গরমের মৌসুমে প্রতিদিনই নানা জেলা থেকে আসে দর্শনার্থীরা। শিশু থেকে বড়-সবাই মুগ্ধ হনুমানদের কাছাকাছি দেখতে পেয়ে। তারা নিজ হাতে খাবার তুলেদেন তাদের কাছে। তবে খাবারের অভাব আর অরক্ষিত পরিবেশের কারণে কখনো কখনো হনুমান আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

দর্শনার্থী বসির আহমেদ বলেন,‘এত কাছ থেকে এতগুলো হনুমান দেখা এক অন্যরকম অনুভূতি।’

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন,‘সরকারি উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার। তা না হলে একসময় হয়তো আর পাওয়া যাবে না এসব হনুমানদের।’

এবিষয়ে প্রাণ পরিবেশ প্রতিবেশ সংগঠক সুজন বিপ্লব বলেন,কালোমুখো হনুমান রক্ষায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ,পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ,শিকারি প্রাণীর হাত থেকে সুরক্ষা এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সরকার ও বন বিভাগকে তাদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং খাবারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে,যাতে তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে না আসে এবং মানুষের সাথে সংঘাত এড়ানো যায়। যেসব অঞ্চলে কালোমুখো হনুমানের বিচরণ বেশি, সেগুলোকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা। তাদের বিচরণক্ষেত্র বা বনভূমি ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকা।আইনগত সুরক্ষায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্থানীয় মানুষদের মধ্যে হনুমান সংরক্ষণ ও তাদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। পশু চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত দেখভালের ব্যবস্থা করতে হবে। ফসল বা অন্যান্য ক্ষতি হলে হনুমানকে মেরে ফেলা বা আঘাত করা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রচার চালানো। নিরাপদ আবাসস্থলে গড়ে তুলতে বনায়ন তৈরি করতে হবে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় হনুমান নিধন বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঝিনাইদহ জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন,‘নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাদাম,কলা ও সবজী খেতে দেওয়া হয়,তবে তা পর্যাপ্ত নয়। হনুমানগুলো শুধু মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামেই থাকে। জেলার অন্য কোন উপজেলায় তাদের অবস্থান নেই। মাঝে মধ্যে খাবারের অভাবে এদিক সেদিক ছুটে যায়। তবে এ জেলায় সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোন বন নেই। ১০ বছর আগে সামাজিক বনায়নের পরিমাণ ছিল শতকরা ১৪.২ একর। তবে বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। বনায়নের সঠিক কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ হনুমান শিকার করলে বা ক্ষতির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন,জেলায় বন না থাকায় হনুমানের অভয়ারণ্য ঘোষণা করার কোন সুযোগ নেই।’

তবে বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বন বিভাগের হিসাবে বর্তমানে ভবনগর গ্রামে রয়েছে দুই শতাধিক কালোমুখো হনুমান। অথচ একসময় ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। প্রাকৃতিক আবাস ধ্বংস,খাবার সংকট আর মানবসৃষ্ট বৈরী পরিবেশে প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত কমছে।

পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে এই বিরল প্রজাতির হনুমান,ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্রও। তাই সবার আগে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সংরক্ষণ উদ্যোগ,খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা।




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দামুড়হুদায় অবহিতকরণ সভা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ এবং গণভোট সম্পর্কিত অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সভাকক্ষে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় প্রথমে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এম. ফাহিম ফয়সাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ ও গণভোট সম্পর্কে মাল্টিমিডিয়া স্লাইড শোর মাধ্যমে ভোটদান বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন।

অবহিতকরণ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল উপস্থিত সুধীজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে পোস্টাল ভোট ও ‘হ্যাঁ’–‘না’ ভোট নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন। তিনি জানান, পোস্টাল ভোট সাধারণ ভোটারদের জন্য নয়। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভোটের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারগণ এবং কারাগারে আটক ভোটারগণ পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন। পোস্টাল ভোট প্রদানকারী কোনো ব্যক্তি যদি ভোটের দিন আবার কেন্দ্রে ভোট দিতে যান, তাহলে তিনি ধরা পড়বেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা লীলিমা আক্তার হ্যাপী, সমাজসেবা কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হক, সমবায় কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজোহা পলাশ, দামুড়হুদা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বাবু, বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।




মেহেরপুরের বারাদীতে খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী ইউনিয়ন বিএনপি’র আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় বারাদী ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তাঁতীদলের সভাপতি আরজুল্লাহ রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহঃ সভাপতি মাহফুজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহঃ সভাপতি আঃ হামিদ মোল্লা (লিপন), ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সভাপতি সোহাগ আলী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সাবেক ছাত্রনেতা হাসানুর রহমান বিট্টু। আরও উপস্হিত ছিলেন, বারাদী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নাফ আলী, ইউনিয়ন যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম। দোয়া পরিচালনা করেন, মাওলানা মুফতি আমিনুর রহমান।




মেহেরপুরে প্রবীণদের মিলনমেলায় চোখ ভিজেছে আবেগে

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, কপালে সময়ের ভাঁজ, তবু একদিনের জন্য সবকিছু ছাপিয়ে ফিরে এলো হারিয়ে যাওয়া শৈশব। বহু বছর পর আবার একসাথে বসে হাসি, গল্প, খেলাধুলা আর স্মৃতিচারণে মেতে উঠলেন দেড় শতাধিক প্রবীণ। মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামে আয়োজন করা হলো ব্যতিক্রমী এক প্রবীণ মিলনমেলা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই গ্রামের পরিবেশ বদলে যায়। ফুল আর ভালোবাসায় প্রবীণদের বরণ করে নেয় তরুণ প্রজন্ম। চোখে চোখে মিশে যায় দুই প্রজন্মের আবেগ। নীরবতা ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে হাসি আর গল্পের ঝর্ণাধারা।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন গ্রামের ১১৫ বছর বয়সী প্রবীণ আজিল হককে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট। এরপর তিনিই ফিতা কেটে দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন। বয়স যেন তখন তার কাছে হার মানে।

চকশ্যামনগর সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় অংশ নেন এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক প্রবীণ নারী-পুরুষ। বহু বছর পর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের বন্ধুকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ শোনান স্কুলজীবনের গল্প, কেউবা খুলে ধরেন যৌবনের স্মৃতির ঝাঁপি।

মেলার অংশ হিসেবে ছিল নানান খেলাধুলা। বয়স ভুলে প্রাণ খুলে খেলায় মেতে ওঠেন প্রবীণরা। দেখে মনে হচ্ছিল সময় থমকে গেছে, ফিরে এসেছে শৈশবের সেই আড্ডা।

খেলাধুলার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি নাশতার। কলাপাতায় পরিবেশন করা হয় চিড়া, দই, মুড়কি, গুড় ও রসগোল্লা। দুপুরে ছিল ভাত, মাংস, ডাল ও সবজি। ভাগাভাগি করে খাওয়ার প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার উষ্ণতা।

খেলাধুলায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হলেও, এই মেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল একটু হাসি, একটু আপন হওয়া।

স্থানীয় প্রবীণ আব্দুর রহমান ও জামাল উদ্দীন বলেন, ছোটবেলায় খেলায় মেতে থাকতাম। মা বারবার বলতো খেয়ে নে। না শুনলে বকাবকি করতো। আজ আবার সেই শৈশবে ফিরে গেলাম। বন্ধুদের সাথে অনেক গল্প করেছি। জানি না, আবার সবাই একসাথে হতে পারবো কিনা। গত বছরে আমাদের ছয়জন সঙ্গী আর নেই।

আয়োজক কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, ‘প্রবীণদের একঘেঁয়েমি দূর করতেই এই আয়োজন। আমরা চাই, তারা এখানে এসে হারিয়ে যাওয়া শৈশব আর বন্ধুত্ব খুঁজে পাক।’

দিন শেষে সবাই ফিরে যান নিজ নিজ ঘরে। কিন্তু রেখে যান ভালোবাসা, স্মৃতি আর আবেগের গল্প।

এই প্রবীণমেলা প্রমাণ করে একটু সময়, একটু যত্নই ফিরিয়ে দিতে পারে জীবনের সবচেয়ে দামি হাসিটুকু।




দামুড়হুদায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকাল ৫টায় জেলা কমিটির উদ্যোগে এবং উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ডুগডুগি বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩১ সদস্যবিশিষ্ট দামুড়হুদা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে তরিফুল ইসলাম রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে সাইফুল ইসলাম মাস্টার মনোনীত হন।

অনুষ্ঠানে জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান সুজন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব খন্দকার হারুন অর রশিদ সুমন, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক শাফায়াত হোসেন উজ্জ্বল, বিপ্লব হোসেন, জীবননগর উপজেল শাখার আহ্বায়ক বশির উন নাজির, সদস্য সচিব হাসান ইমানসহ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ১৯৮২ সালে এরশাদ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় যখন ব্যানার নিয়ে আন্দোলন করা কঠিন ছিল, তখন এই সংগঠন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ব্যানারে রাজপথে মিছিল, সভা ও সমাবেশ করেছে এবং এরশাদ সরকারের পতনে ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়।

বক্তারা আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর পক্ষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করতে হবে। সভা শেষে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল হাই মিয়া ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব খন্দকার হারুন অর রশিদ সুমনের স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে দামুড়হুদা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন প্রদান করা হয়।

অনুমোদিত কমিটির সদস্যরা হলেন আহ্বায়ক: তরিফুল ইসলাম রানা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক: মাহাবুব হাসান তিতাস, যুগ্ম আহ্বায়ক: আলামিন হক টরিক, মাহাবুব আলম, আরাফাত মল্লিক, নুহু মণ্ডল, সাইফুল ইসলাম, সহিদুল হক, জামাল উদ্দিন, আজগার আলী, এনামুল হক, উমর আলী, সদস্য সচিব: সাইফুল ইসলাম মাস্টারসহ মোট ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান সুজন। উল্লেখ্য, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর একটি সহযোগী সংগঠন।




মেহেরপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ

মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেহেরপুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে ৮০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ রবিবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কম্বল বিতরণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম। শীত মৌসুমে অসহায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। কম্বল পেয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান।




চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

যশোরে মাথায় গুলি করে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫) কে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় দুর্বৃত্তরা গুলি চালানোর পর যাতে অপরাধীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

জানা গেছে, রবিবার ভোর আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে ৬ বিজিবি সতর্কতা জারি করে। ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক তার দায়িত্বপূর্ণ জেলার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও পাহারা জোরদার করেন এবং অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম দ্বিগুণ করা হয়েছে।

এছাড়া সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে দুষ্কৃতকারীদের আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, “এই জঘন্য অপরাধে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর বিজিবির নির্দেশনায় সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”