মেহেরপুরে সজিনা ডাঁটার ভালো ফলনের সম্ভাবনা

মেহেরপুরে সজিনা গাছে গাছে ডাঁটা বের হতে শুরু করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় কয়েক কোটি টাকার সজিনা ডাঁটা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ ও স্থানীয়রা।

জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা এবং রাস্তার দুই পাশে থাকা সজিনা গাছে ডাঁটা ধরা শুরু হয়েছে। গাছের ডালজুড়ে ডাঁটা বের হওয়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মেহেরপুরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে সজিনা গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে যে পরিমাণ ডাঁটা পাওয়া যায়, তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অনেক পরিবার বাড়তি আয় করে থাকে। বাজারে সজিনা ডাঁটার চাহিদাও বেশ ভালো।

কৃষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সজিনা ডাঁটার ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এতে জেলার বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

জেলা খামারবাড়ি অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, মেহেরপুরে সজিনা ডাঁটা চাষের নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে প্রায় প্রতিটি বাড়ি এবং রাস্তার পাশে সজিনা গাছ থাকায় প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডাঁটা উৎপাদন হয়। তিনি আরও বলেন, সজিনা গাছ একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতা, ডাঁটা ও অন্যান্য অংশ খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য এবং মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে মেহেরপুরে সজিনা গাছে ডাঁটা ধরা শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর জেলায় সজিনা ডাঁটার ভালো উৎপাদন হয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।




মেহেরপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা

মেহেরপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আতিকুল হক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম জাকারিয়া, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ. জে. এম. সিরাজুম মুনির, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা গণগ্রন্থাগারিক আফরোজা খানম, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আসাদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা, দুপুর ১২টা থেকে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সুবিধাজনক সময়ে দোয়া মাহফিল, রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে সড়ক সজ্জিত করা, ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮টায় সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়াও ২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা, জেলখানা, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া ও বিনা টিকিটে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি ১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ক্রিকেট, ফুটবল, হাডুডু ও কাবাডি খেলার আয়োজন এবং ২৬ মার্চ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় দিবস দুটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।




মেহেরপুরে দুই সংসদ সদস্যের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল 

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদার উদ্যোগে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বক্তারা মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে পারস্পরিক সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবির, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানা, পৌর আমির সোহেল রানা ডলারসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।




আলমডাঙ্গায় বাসি খাবার বিক্রি, উত্তম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

পবিত্র মাহে রমজানে আলমডাঙ্গায় পচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে একটি মিষ্টির দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার। অভিযানে ‘উত্তম মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ এ সংরক্ষিত কিছু খাদ্যপণ্য পচা ও বাসি অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রশাসন জানায়।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজ রানা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

রমজানের মতো সংযম ও পবিত্রতার মাসে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




দামুড়হুদায় ২০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদকসেবী গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চারজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে দামুড়হুদা সদরের দশমীপাড়ায় মৃত আবুল কালামের ছেলে জহুরুল ইসলামের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দামুড়হুদা দশমীপাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জাকির হোসেন (৩৫), ফিরোজ আলীর ছেলে আব্বাস আলী (৪২), মৃত আবুল কালামের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪০) এবং শফিউল কবীর ইউসুফের ছেলে রাসেল রানা (৩৫)।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।”




আলমডাঙ্গার খোরদেতে নিম্নমানের ইটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

আলমডাঙ্গার খোরদে ইউডিএফ প্রকল্পের আওতায় নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোরদ গ্রামে ইউডিএফ প্রকল্পের অধীনে ৫২৫ ফুট রাস্তা নির্মাণে প্রায় ৮ লাখ টাকার টেন্ডার পায় জাহিদুল এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় দুই সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম চঞ্চল ও শামীম রেজাকে ঠিকাদার জাহিদুল ও তার আত্মীয়স্বজনরা বাধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিম্নমানের (২ ও ৩ নম্বর) ইট দিয়ে হেরিংবোন কাজ চলার ছবি তুলতে গেলে ঠিকাদারপক্ষ হুমকি-ধমকি দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তায় সাংবাদিকরা ছবি তুললে ঠিকাদারের আত্মীয়স্বজন এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি এক সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং গায়ে হাত তোলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঠিকাদারপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোককে নিজেদের পক্ষে নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে অনেকেই অনিয়ম দেখেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের তথ্য সংগ্রহে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান (সোহান) বলেন, “দুই নম্বর ইট ব্যবহারের বিষয়টি আমি ফোনে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বলেছে ভুল করে চলে এসেছে। যেহেতু টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে, এরপর আর কিছু জানি না।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “ইট পরিবর্তন করার নির্দেশনা দিয়েছি। দ্রুত নিম্নমানের ইটগুলো তুলে নেওয়া হবে।” তবে এলাকাবাসীর দাবি, ইট উঠানোর কথা বলা হলেও সেখান থেকে কোনো ইট সরানো হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা ঢাকতেই এমন অনিয়ম করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সঠিক মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।




জীবননগরে জামায়াতের সাংবাদিক সম্মেলন

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হামলায় নিহত জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাতে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র জীবননগর শাখা।

সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা হামলার পেছনের নেপথ্য রাজনৈতিক প্ররোচনা উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তদন্তে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তা ও নিহতের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা আমির সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা আইটি সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ এবং জীবননগর পৌর আমির ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।




কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পুনর্বহাল

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সুন্নাত আলীকে তাঁর স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এস. এম. তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মো. সুন্নাত আলীর বিরুদ্ধে আনীত মামলাসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তাঁর চাকরি করার ক্ষেত্রে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো স্মারক এবং বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির ৭৮তম সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনাব মো. সুন্নাত আলীকে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের তারিখ থেকে যাবতীয় পাওনাদিসহ স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বোর্ডকে অবহিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ড এই আদেশের অনুলিপি মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের বাধা না থাকায় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্নাত আলী বলেন, “কাথুলী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ বিশ্বাস কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি নিয়োগ হওয়ার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন করতেন। ঘুষ গ্রহণে বাধা দিতে গেলে তিনি আমাকে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে তিনি আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অর্থকষ্টে থাকতে হয়েছে। অবশেষে সত্যের বিজয় হয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।”




লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারী জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গাংনী বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

সমাবেশে আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে, তবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” একই সঙ্গে দুপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ স্লোগান প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুরে গাংনী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাকে কেন্দ্র করে।

সভায় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তাকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় সভাকক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জন্য সভায় উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান বাবলু।

এর কিছুক্ষণ পর বিকেল চারটার দিকে গাংনী শহরে লাঠিসোটা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে বের হয়ে হাসপাতাল বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা তাদের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন আসাদুজ্জামান বাবলুর সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীরা। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাংনী শহরে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালেও প্রশাসন বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিএনপির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




গাংনীতে আইনশৃঙ্খলা সভায় যুবদলের হামলার চেষ্টা, হট্টগোল; জামায়াতের বিক্ষোভ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন সময়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় যুবদলের একটি দল। এ সময় তারা আলম হুসাইনকে মিটিং থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানায়।

এর আগে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রবেশ করে তারা। সে সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির ডাক্তার রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

খবর পেয়ে গাংনীতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ফোরামের সভায় মিছিল নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করায় পুলিশসহ উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল গনি ও ছাত্রদল নেতা ইমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল সভাকক্ষে প্রবেশ করে কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আলম হুসাইনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

একটি সূত্র জানায়, ভিজিএফের চালের মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন। এ বিষয়টি নিয়ে যুবদলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। যার কারণে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন।

গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, “উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সভাকক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা যে দলেরই হোক, অপরাধ করেছে। আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। উপস্থিত সকলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও অঙ্গীকার করছি।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, “আমাদের উপস্থিতিতেই যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। এদের রুখতে না পারলে গাংনীর বিএনপি মানুষের কাছে ধিকৃত হবে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে গাংনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা হতবাক।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি না। আজকের সভায় যা ঘটেছে তার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিতে হবে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রশাসন প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা নেবে।”

সভার প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, “এটি শুধু আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা নয়, আমাদের সবার ওপর হামলা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাংনী উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।