দামুড়হুদা বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্বোধন

বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে দামুড়হুদা বাজারে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন পয়েন্টে ১৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় নবনির্বাচিত বাজার বণিক সমিতির আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে সমিতির কার্যালয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। সিসি ক্যামেরার উদ্বোধন করেন নবাগত দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবাইদুর রহমান সাহেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য তিনি বাজার বণিক সমিতিকে ধন্যবাদ জানান। অপরাধ দমন ও সনাক্তকরণে এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাজার বণিক সমিতির নিজস্ব উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আপনাদের দেখে অন্যান্য বাজারেও বাজার কমিটির মাধ্যমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন শুরু হবে। বাজার সংশ্লিষ্ট উন্নয়নের জন্য আপনাদের পরামর্শ ও চাহিদা সরকারি সক্ষমতার মধ্যে যতটা সম্ভব তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাজারের সার্বিক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন কারণে আমাদের দামুড়হুদা উপজেলা এখনো পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়নি। আমরা উপজেলায় বসবাস করলেও এটি কোনো শহর নয়, উপজেলা শহরের মতোও নয়। এর আগে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই দামুড়হুদা সদরের বাজারঘাটের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, বাজারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপন খুবই প্রয়োজন। শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ডাস্টবিন স্থাপনের আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যদি বাজারের দোকান মালিকরা নিজেদের দোকানের ভেতরে গোপনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন, তাহলে কোনো ঘটনা ঘটলে সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

দামুড়হুদা বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন, দামুড়হুদা বাজার বণিক সমিতির উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বাবুসহ বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।




মেহেরপুরে এক ট্রাভেল এজেন্সিতে ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা চুরি

মেহেরপুরের হোটেল বাজারস্থ নিমতলা আব্দুল্লাহ প্লাজায় অবস্থিত এটিসি এয়ার টিকিটিং নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এতে মোট ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ রবিউল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত ১০ ডিসেম্বর সারাদিন ব্যবসা পরিচালনা করে রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যান। কিন্তু পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে কর্মচারী জাহিদ হাসানকে নিয়ে দোকান খুলতে গিয়ে দেখতে পান, সার্টারের দুইটি তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।

পরবর্তীতে আশপাশের লোকজনকে ডেকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় দোকানের জিনিসপত্র এলোমেলো, লকার ও ড্রয়ার ভাঙা। ড্রয়ারে থাকা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৩ টাকা এবং স্টিলের আলমারির লকারে থাকা ৪ লাখ ১১ হাজার টাকা মোট ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।

ঘটনার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাঁচজন মুখোশ ও টুপি পরিহিত ব্যক্তি এতে জড়িত। এর মধ্যে দুইজন দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং তিনজন বাইরে পাহারায় ছিল।

এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।




হরিণাকুণ্ডুতে মহিলাদলের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে নির্বাচনী উঠান বৈঠক করেছে জাতীয়তাবাদি মহিলাদল।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা ও পৌর মহিলাদল।

হরিণাকুণ্ডুু পৌর মহিলা দলের সভাপতি রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম মজিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি জিন্নাতুল হক খান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহম্মেদ বাপ্পী, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সালমা খাতুন।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। এ জন্য তারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আরও সংগঠিত হতে হবে। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।




তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি পরিবেশ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচনি এলাকায় ছড়িয়ে থাকা সকল ধরনের প্রচারণা সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনকেন্দ্রিক পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেইট, তোরণ, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা এবং নির্বাচনি ক্যাম্পসহ সব ধরনের প্রচারণা সামগ্রী তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। এ দায়িত্ব সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজেদের খরচে পালন করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার একটি পত্রে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পত্রে বলা হয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।




মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা : গৃহকর্মী আয়েশা ৬ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশার ছয় দিন ও তার স্বামী রাব্বি শিকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশিদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে গতকাল বুধবার সকালে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৮ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত চার দিন পূর্বে ৫ ডিসেম্বর আসামি আয়েশা বাদী আজিজুল ইসলামের বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত ৮ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ৭টার সময় তিনি নিজের কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। কর্মস্থল থেকে তিনি স্ত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পরবর্তী সময় তিনি নিরুপায় হয়ে বেলা অনুমান ১১টার সময় বাসায় ফেরত আসেন। এসে দেখেন, তার স্ত্রীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা রক্তাক্ত জখম হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার মেয়ের গলার ডান দিকে কাটা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেইন গেটের দিকে পড়ে আছে। তখন মেয়ের ওই অবস্থা দেখে তাকে উদ্ধার করে পরিছন্নকর্মী মো. আশিকের মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাদী আজিজুল বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখতে পান, আসামি গৃহকর্মী আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজ করার জন্য বাসায় আসেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় তার মেয়ের একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাদী নিশ্চিত হয় যে, অজ্ঞাত কারণে সকাল ৭টা ৫১ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি অথবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয়েছে।




মায়ের সাথে প্রতারণা শিক্ষক সন্তানের, সহযোগী চাচা শ্বশুর ও শ্যালক

মেহেরপুরে অশতিপর মায়ের সাথে প্রতারণা করে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন শিক্ষক সন্তান। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বাবু মেহেরপুর সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং কোলা গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে। তার এ প্রতারণায় সহযোগীতা করেছেন তার চাচা শ্বশুর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম ও স্ত্রীর ভাই পুলিশ কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম রিপন। রিপন বর্তমানে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশে এস আই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় বৃদ্ধা মায়ের অনুমতিতে মেহেরপুরের আমলী আদালতে মামলা করেছেন বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম। যার মামলা নম্বর ৪১৫/২০২৫ ।

মামলাটি মেহেরপুর সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। মামলাটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের আসামি আলমগীর হোসেন ও তার চাচা শ্বশুর ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলামকে অভিযুক্ত আদালতে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রতিবেদন পেয়ে আদালত আসামি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক থেকে সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন।

মামলার এজাহারে বাদী জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, আমার মা একজন অতিবৃদ্ধ এবং তিনি স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পূর্ণ মানুষ। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আমার মা একটু অসুস্থবোধ করিলে আমার ছোট ভাই আসামী মুহাঃ আলমগীর হোসেন আমার মাকে মেহেরপুর শহরে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে মেহেরপুর রেজিষ্টারী অফিসে নিয়ে যায় এবং পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে লিখে রাখা দলিলে আমার মা স্বাক্ষর করিতে জানা স্বত্তেও জোরপূর্বক টিপসহি নেয়।

মা প্রতিবাদ করিলে সে মায়ের কোন কথা শোনেনা। মা বাড়ি ফিরে আমাকে , আমার বোন ও পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানালে আমি মেহেরপুর সাব রেজিষ্টারী অফিস হইতে ৭৬৩/২০২৫ নং দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ কর জানতে পারি আমার ছোট ভাই আসামী মুহাঃ আলমগীর হোসেন আমার মায়ের নামীয় বামনপাড়া মৌজার আর এস ১৬০৭ ও আর এস ১০২৯৫ খতিয়ানের ৩৮ শতক জমি নাবালক পুত্র মুহাঃ আশিক আলমগীর ও মুহাঃ আবরার আলমগীরের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে।

যে জমির মূল্য বর্তমান বাজারমূল্য এক কোটি হবে। বিষয়টি জানার পর আমি ও আমার বোনরা মায়ের জমি ফেরত অথবা জমির মূল্য বাবদ এক কোটি পরিশোধ করার জন্য আসামিকে অনুরোধ করি। কিন্তু সে জমি ফেরৎ কিংবা টাকা পরিশোধ না করে আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শণ ও খুন জখমের হুমকি পদান করে।

বাদীর মা বৃদ্ধা জাহানারা বলেন, আমাকে ডাক্তার দেখানোর নাম করে শহরে নিয়ে জোর করে টিপসহি দিয়ে ৩৮ শতক জমি রেজিষ্টি করে নিয়েছে ছোট ছেলে আলমগীর হোসেন বাবু। তার সাথে ছিল ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম। আমার খাসির মাথা (দামি জমি) জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। আমি বাড়ি এসে বড় ছেলে ও মেয়েদেরকে বললে ছোট ছেলে ও ছেলের বউ খারাপ আচরণ করে।

বৃদ্ধা আরও জানান, আমি বাবা সই (স্বাক্ষর) করতে পারি। কিন্তু আমাকে সই করতে না দিয়ে হাতটা মুচরিয়ে ধরে টিপসহি করে নিয়েছে।

বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মা বৃদ্ধা হওয়াতে আমাকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন। যে দিন মামলা করেছি শুনেছে সেদিনই আমার মা ও ছোট বোন শেফালিকে ছোট ভাই আলমগীর ও তার বউ বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তারপর থেকে মা ও আমার ছোট আমার বাড়িতে আছে।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, বাবা -মায়ের সম্পত্তি তার সকল সন্তানই পাবেন। আমরা বারবার তাদের সাথে মিমাংসা করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি যে যতটুকু সম্পত্তি পাবে সে হিসেবে বন্টন করার জন্য অথচ সে মিমাংসাতে রাজি হয় না। আমরা এখনো চাই বাবা মায়ের সম্পত্তি নিয়ে আইন আদালতের ঝামেলা যাতে না হয়। এলাকার মেম্বারকেও বলেছি কিন্তু তারা কারো কথা শোনে না।

অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসেন মেহেরপুর প্রতিদিন থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম রিপনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তারা মিমাংসা করার বিষয়ে রাজি হলেও নানা অজুহাতে দিনপার করতে থাকে।

পরবর্তিতে আসামি আলমগীর হোসেন মেহেরপুর প্রতিদিনকে ফোন করে জানান, বিষয়টি নিয়ে বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা হয়েছে আমরা মিমাংসা করে নেব।

কিন্তু মামলার বাদি জাহাঙ্গীর আলম জানান, মিমাংসার বিষয়ে আসামিপক্ষ কোন আগ্রহ দেখায়নি। এদিকে, প্রতারণার এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মায়ের সাথে কথা বলার জন্য কোলা গ্রামে গিয়ে যায় মেহেরপুর প্রতিদিনের একটি টিম। তার মা ও বোনরা জানান, আসামি আলমগীর হোসেন তার বাবার নামিয় ৫ বিঘা জমি জাল সাক্ষর করে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়েও তারা আরও একটি পৃথক মামলা করেছেন।

যে মামলায় আলমগীর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম, পুলিশ কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম রিপনসহ ৬জনকে আসামি করা হয়েছে। মায়ের সাথে প্রতারণার আগেও তার বাবার সাথে প্রতারণা করেছেন কিনা এ বিষয়ে আগামী পর্বে সেটি তুলে ধরা হবে।




গাংনীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ

নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণে অসহযোগিতা করা ও পরীক্ষা গ্রহণে বাধা প্রদানের অভিযোগে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। গতকাল বুধবার দুপরে গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নোটিশ প্রদান করা হয়।

মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে অসহযোগিতা করা ও পরীক্ষা গ্রহণে বাধা প্রদানের কারণে তাদের কেনো শাস্তি দেওয়া হবে না তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ হলেন, পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বকুল, তেরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকিউল ইসলাম, কুলবাড়িয়া হারেস উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানভীর কবীর, হিজলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম আহমেদ, বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান, হাড়িয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাবনী খাতুন, এলাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসান আলী, করমদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল, ধানখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজেদা পারভীন।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বকুল বলেন, আমি কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছি। প্রতিটি বিদ্যালয়েই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষায় বাধা প্রদানের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি শিক্ষক নেতা হিসেবে প্রথম থেকেই সহকারী শিক্ষকদের বুঝিয়ে বার বার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত যেদিন উপজেলার মধ্যে শিক্ষকগণ অবস্থান করছিলেন সেদিন আমি শিক্ষকদের বোঝাতে গিয়েছিলাম কিন্তু কে বা কারা মানববন্ধন বলে প্রচার করেছে। আসলে সেখানে কোনো মানববন্ধন হয়নি।




আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে হয়রানির, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আলমডাঙ্গায় ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া জমি নিয়ে হয়রানির শিকার একটি পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ওই পরিবারের পক্ষে সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের নিকট উপস্থিত হয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

আলমডাঙ্গার কাচারি বাজারের মৃত চেরাগ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার নানার সম্পত্তি ৭১ নং কামালপুর মৌজার আরএস ৪১ নং খতিয়ানের ৭৬৩ নং দাগে ৩৭ শতক জমি আমার মা আয়েশা খাতুনের নামে রেজিস্ট্রী করে দেন। আমার মা মারা যাবার পর ওয়ারিশ সূত্রে ওই সম্পত্তি আমাদের ৪ ভাইয়ের নামে রেকর্ড হয়। বর্তমানে এই  সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছি।

উক্ত দখলীয় সম্পত্তি কামালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী সাস্তরী খাতুন তার নিজের জমি দাবী করে ২০০৩ সাল থেকে নিম্ন এং উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকবার মামলা দায়ের করেন। আদালতে সাস্তরী খাতুন দলিল, রেকর্ড বা কোনো বৈধ কাগজ না দেখাতে পারায় সব মামলায় আমাদের পক্ষে রায় হয়।

সাস্তরী খাতুন আমাদের হয়রানি করার জন্য সম্প্রতি আবারও আদালতে মামলা দায়ের করেন। মিথ্যা তথ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে সিরাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাস্তরী খাতুনের একের পর এক হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।




আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা ও সার জব্দ

আলমডাঙ্গা উপজেলায় লাইসেন্স ছাড়াই সার মজুত ও পাচারের অভিযোগে এক সার ব্যবসায়ীর গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের সার ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলাম রাতের আঁধারে চোরাই পথে সার সংগ্রহ করে নিজের গোডাউনে মজুত করতেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বস্তা ডিএপি সারের দাম ১,০৫০ টাকা হলেও তিনি তা ১,৫০০ টাকায় মেহেরপুরের গাংনী ও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পাচার করতেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে গাংনী-হাটবোয়ালিয়া সড়কের একটি স-মিলের সামনে সন্দেহজনকভাবে চলাচলকারী একটি লাটাহাম্বা গাড়ি স্থানীয় লোকজন থামিয়ে দেন। গাড়িটিতে থাকা ৫০ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, এসব সার মিনারুল ইসলামের গোডাউন থেকে পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

পরদিন বুধবার দুপুরে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশ ওই গোডাউনে অভিযান চালান। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে বিএডিসি বা বিসিআইসির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় এক হাজার বস্তা ডিএপি, টিএসপি, ইউরিয়া ও অন্যান্য সার মজুত পাওয়া যায়।

অভিযানের সময় স্থানীয় সার সিন্ডিকেটের কয়েকজন লোক ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। তাঁরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনারুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং উদ্ধার হওয়া ৫০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেন। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া সার ব্যবসা এবং সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশ বলেন, মিনারুল ইসলামের নামে কোনো লাইসেন্স নেই। তিনি অবৈধভাবে সার ব্যবসা করছেন। কৃষক সাজিয়ে তাঁর লোকজন আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেছে। সিন্ডিকেটে যারা জড়িত থাকুক, প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় কৃষকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সার পাচার বন্ধ না হলে ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। প্রশাসনের এ অভিযান তাঁদের কাছে আশার বার্তা হয়ে এসেছে।




নবাগত চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের আলমডাঙ্গা থানা পরিদর্শন

আলমডাঙ্গা থানা পরিদর্শন করলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

চুয়াডাঙ্গা জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বুধবার বেলা ১টার সময় আলমডাঙ্গা থানা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি থানায় কর্মরত অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং থানার সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পুলিশ সুপার মহোদয় থানা ভবন, অফিস কক্ষ, ব্যারাক ও মেস পরিদর্শন করেন। তিনি জনবান্ধব পুলিশিং, মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সকল পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় তিনি থানার মেসে উন্নতমানের খাবার নিশ্চিতকরণ, দাপ্তরিক সকল কাজ সুসম্পন্ন করা, ব্যারাক সর্বদা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ফোর্সের যৌক্তিক ছুটি মঞ্জুরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গার নবাগত থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বানী ইসরাইল এবং থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স সদস্যবৃন্দ।