আলমডাঙ্গায় ডামোশ-ঘোলদাড়ি খাল পুনঃখননের অনুমোদন, কৃষকদের স্বস্তি
দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার পর অবশেষে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বহু বছর ধরে অবহেলা, দখল ও ভরাটের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া খালটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি একসময় এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জমির অতিরিক্ত পানি এই খালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্কাশন হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাটি ফেলে ভরাট এবং আবর্জনা জমতে জমতে খালটির অনেকাংশ কার্যত অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েন কৃষকেরা। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ অবস্থায় খালটি পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। খাল পুনঃখননের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালটি সচল হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমে যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে বলে তারা আশা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য তা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খালটি যেন আবার দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত এই খাল পুনঃখনন করা হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।