মেহেরপুরে আলোচিত গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় আটক ৩

মেহেরপুর শহরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ টগর খাতুন হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিন শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হত্যার ব্যবহৃত বস্তা, রশি ও নিহত টগর খাতুন এর গহনা ও গহনা বিক্রির টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার সাথে জড়িত আটকৃতরা হলেন শহরের কাশ্যবপাড়ার আনারুলের ছেলে নাসিম হায়দার শীতল (১৭) একই এলাকার রসুল ঘরামির ছেলে নাজমুল হাসান তানভীর (১৭) ও সদর উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে আসিব হোসেন ওমর (১৫)।

পুলিশ বলছে হত্যাকারী শীতলের কাছে পাওনা ৩০ হাজার টাকা চাইলে শীতল টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিবেশী ভাবী টগর খাতুন কে নিজ বাসায় ডেকে এনে হত্যা করে লাশ গুম করে।

গত ৬ জানুয়ারি বিকালে ক্যাশব পাড়ার পরিত্যক্ত একটি জমি থেকে টগর খাতুন নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত টগর খাতুন গত ৩০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে সদর থানায় একটি সাধারন ডাইরি করেন তার পরিবার।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির হত্যার ঘটনায় তিনজন কে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শীতল তার বন্ধু অমর কে দিয়ে প্রতিবেশী ভাবি টগর খাতুন কে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন।

এসময় আগে থেকেই আরেক বন্ধু তানভীর শীতলের বাসভবনে অবস্থান করে। টগর বাসায় প্রবেশ করলে শীতল ও তানভীর একটি রশি দিয়ে টগর খাতুনের গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে।

পরে লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় নিহত টগরকে ভরে বাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। হত্যার পর শীতল ও তানভীর নিহত টগর খাতুনের শরীরে থাকা গহনা খুলে শহরের স্বর্ণপট্রিতে একটা দোকানে দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি করে।

ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয়রা একটি লাশ পড়ে থাকে দেখে পুলিশ কে খবর দিলে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।

ঘটনার পর নিহত টগর খাতুনের স্বামী সেন্টু হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা কয়েকজন কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত ভার গ্রহণ করেন থানার ওসি হুমায়ুন কবীর। পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে শীতল, তানভীর ও ওমর কে আটক করে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পরে পুলিশ আটক আসামিদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকার, লাশ গুমের বস্তা, রশি ও স্বর্ণলঙ্কার বিক্রি নগদ টাকা উদ্ধার করেন।

আজ শুক্রবার বিকাল চারটার দিকে আটক আসামিদের মেহেরপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে ওসি নিশ্চিত করেন।




মেহেরপুরে ধানের শীষের প্রচারণার দায়িত্ব পেলেন ছাত্রদল নেতা হিমেল ও মান্না

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনার জন্য বিশেষ সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ন কবির হিমেল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রদল নেতা মো: মোস্তাফিজুর শেখ মান্না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ তাদের এই দায়িত্ব প্রদান করেছে।

রাজপথের পরীক্ষিত যোদ্ধা মোঃ হুমায়ন কবির হিমেল ২০২২ সাল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বিগত আন্দোলনগুলোতে তার সাহসী ভূমিকা দলের ভেতর ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের হামলায় তার হাত ও পা ভেঙে যায়।

তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার অঙ্গীকার- নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর হিমেল ও মান্না তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “কেন্দ্রীয় সংসদ আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমে দিতে চাই। মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়কে সুসংগঠিত করে আমরা মেহেরপুর-১ আসনে মাসুদ অরুনের ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাঠে থাকব।”

নির্বাচনী প্রচারণায় হিমেলের অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, হিমেল ও মান্নার মতো মাঠের লড়াকু সৈনিকের নেতৃত্বে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।




স্বৈরাচার ঠেকাতে, পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন,  ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকলে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়, তা হলো তিনি একাধারে সংসদ নেতা হয়ে যান, মন্ত্রিসভার নেতা হন, সরকারপ্রধান হন, রাষ্ট্রপতির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, এমনকি বিচার বিভাগের ওপরও প্রভাব খাটান। ফলে বিচার বিভাগও তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করা যায় না, কোনো অর্থবিল পাস করা যায় না, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এছাড়াও তাঁর আদেশের বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন কাজ করে না, নির্বাচন কমিশন কাজ করে না, দুদকও কাজ করতে পারে না।

যেহেতু আমাদের দেশের ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার, এজন্য আমরা একটি জাতীয় মুক্তির পথ বের করেছি।

তিনি আরও বলেন, এই মুক্তির পথের মধ্যে যা রয়েছে তা হলো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া, সংসদকে স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি পথ তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন কমিশন ইত্যাদি যে কমিশনগুলো আছে, সেগুলোতে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় মেহেরপুর সদর উপজেলার খড়ের মাঠ আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধনী মতবিনিময় সভায় এ সকল কথা বলেন তিনি।

তিরি আরো বলেন, আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় দুইটি সমস্যা হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারে না, ফলে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ইচ্ছাকেই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমাদের প্রশাসন এত বেশি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন যে, আমরা যদি বিচার বিভাগ ও সংসদকে আলাদা করতে না পারি, তাহলে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পিএস যেকোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা সচিবের থেকেও বড় হয়ে যায়।

এই কুফলগুলো আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি। বাংলাদেশকে এই কুফলগুলো থেকে মুক্ত করতে হলে সংস্কারের পক্ষে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। আমরা যে ক্ষমতার কেন্দ্রভূতকরণ দেখেছি, তার ফলাফল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যেই হন, তিনিই স্বৈরাচার হয়ে যান। এই ৫৪ বছরে আমরা একাধিক স্বৈরাচার দেখেছি।

ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী যেন আবারও স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য আমাদের এগিয়ে এসে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।

মতবিনিময় সভার আগে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে ফলক উন্মোচন করা হয়।

পরে বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ, স্পেসালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (প্রশাসন ও কারিগরি) (যুগ্ম সচিব) সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির ও পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।




গাংনীতে অবাধে চলছে কৃষি জমির মাটি কাটার মহোৎসব

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন ব্যবহার করে আবাদি ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। ‎দিনের আলোতে ও রাতের আঁধারে নির্বিঘ্নে চললেও বিষয়টি দেখেও যেন নির্বিকার উপজেলা প্রশাসন।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের আব্দুল ওহাব নামের এক কৃষক গ্রামে প্রবেশপথের মেইন সড়কের পাশে আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

‎‎একইভাবে ইকুড়ি গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে ড্যাঙ্গার মাঠে খেপু ও ফারুক নামের দুই ব্যক্তি আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে আসছেন।

‎‎এছাড়াও উপজেলার দুর্লভপুর, নলডাঙা, মালশাদহ, গোপালনগর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা চলছে। কেউ দিনে প্রকাশ্যে, আবার অনেকে রাতের আঁধারে গোপনে মাটি কাটছেন।

‎‎সবচেয়ে বড় আকারে মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত রহিম বক্স মণ্ডলের ছেলে মাটি ব্যবসায়ী আরশেদ আলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে আবাদি ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছেন।

‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, আরশেদ আলী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই অবৈধ মাটির ব্যবসা করলেও আজ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

‎‎আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দিনের বেলায় মাটি কাটা কিছুটা বন্ধ রাখলেও তিনি প্রতিদিন রাতের আঁধারে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রলির বিকট শব্দে রাতভর এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না।

‎‎গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাটবোয়ালিয়া সড়কের মালশাদহ ও গোপালনগর নামক স্থানে সড়কের ওপর এক ড্রাম কাদামাটি পড়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

‎‎পরে খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক থেকে কাদামাটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

‎‎এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।

‎‎স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




আজ মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন

মেহেরপুরে আজ (শুক্রবার) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুর সদর উপজেলার খড়ের মাঠ আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ, “স্পেশালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (প্রশাসন ও কারিগরি) যুগ্ম সচিব ও সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।




আলমডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময়

আলমডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। আলমডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা ১আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আলমডাঙ্গা শহরের হ্যামলেট ক্যাফে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন।

এসময় তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নই তার রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। এছাড়াও আলমডাঙ্গা স্টেশনের ওভারব্রিজ নির্মান, মা ও শিশু হসপিটাল নির্মান, কৃষকদের বিনাসুদে ঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এলাকার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা ১ আসন নির্বাচন বিভাগের পরিচালক শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা আইন আদালত সম্পাদক সাবেক নাগদাহ ইউপি চেয়ারম্যান দারুস সালাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, আলমডাঙ্গা পৌর আমির মাহের আলী, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিনসহ প্রমুখ।

সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। নির্বাচনে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের সহোযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।মতবিনিময় সভায় আলমডাঙ্গার ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় বিলুপ্তপ্রায় মেছোবিড়াল উদ্ধার, বনবিভাগে হস্তান্তর

আলমডাঙ্গায় একটি বিলুপ্তপ্রায় মেছোবিড়াল উদ্ধার করে বনবিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার ছয় সদস্যের সক্রিয় উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত মেছোবিড়ালটি মনোহরদিয়া থানাফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আশরাফ আলীর মাধ্যমে কুষ্টিয়া রেঞ্জের বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি সবার নৈতিক কর্তব্য। প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

তারা আরও বলেন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বিকল্প নেই।

মেছোবিড়ালটি বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নিকট হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সভাপতি সাঈদ এম হিরণ, সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত প্রমুখ।




জীবননগরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. রুহুল আমিন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। পরে তিনি জীবননগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।

মতবিনিময় সভায় রুহুল আমিন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার, উন্নয়ন ভাবনা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি কাজ করতে চান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন সূরা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাবেক জেলা আমীর আনারুল হক মানিক, জেলা নায়েবে আমীর আজিজুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর শাখাওয়াত হোসেন, জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. আর. বাবু, সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, সাংবাদিক সালাউদ্দিন কাজল, নারায়ণ ভৌমিক, কাজী শামসুর রহমান, আকিমুল ইসলাম, মিঠুন মাহমুদ, জামাল হোসেন খোকন, এম. আই. মুকুল, জাহাঙ্গীর আলম, বশির উদ্দিন বিশ্বাস, মুন্সী রায়হান উদ্দিন, তুহিনুজ্জামান, মুতাসিন বিল্লাহ, হাসান নিলয়, দাউদ হোসেন প্রমুখ।




মেহেরপুরে পৌর যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ

মেহেরপুরে পৌর যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ধানের শীষের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ পরিচালিত হয়।

কর্মসূচিতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নওশেল আহমেদ রনি, যুগ্ম আহবায়ক শিমুল বিশ্বাস,যুবনেতা নাহিদ মাহাবুব সানী, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জারজিস ইউসুফ রমিকসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।




কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর জেলা শাখার আমির তাজ উদ্দিন খান আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শহীদ জামায়াত নেতা তারেক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কবর জিয়ারত করে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ শেষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ থেকে তিনি প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরে বিকেলে তিনি শহরের বড়বাজার ও কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালান।

প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাহবুব উল আলম, সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির সোহেল রানা, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমির খান জাহান আলী, জেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি জারজিস হোসাইন, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান সবার জন্য একই আইন প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি বা পদমর্যাদার কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। এই নীতির ভিত্তিতেই তারা জনগণের সমর্থন চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

এই প্রচারণা শুরুর মাধ্যমে মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তাজ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও জনসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন পর মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।