আলমডাঙ্গায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য মঞ্জুর লাশ উদ্ধার

আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রামদিয়া -কায়েতপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কায়েতপাড়া মাঠে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরবেলায় মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় কয়েকজন কৃষক প্রথম মরদেহটি দেখতে পান। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছেন বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গেছে তার নাম মঞ্জু, বাড়ী তিওরবিলা গ্রামে। এলাকা বাসি সুত্রে জানাগেছে, সে পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির একসময়ের সক্রিয় সদস্য ছিল। অনেকের ধারণা মঞ্জু এখনও আন্ডার ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে ও ভারতে পলাতক পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বিশ্বজিৎ এর এজেন্ট  হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হঠাৎ মাঠে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুঞ্জনও শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও মরদেহের পরিচয় শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, “মরাদেহের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।




দামুড়হুদায় সার ডিলারদের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

দামুড়হুদায় উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার সময় ” কৃষিই সমৃদ্ধি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে পরিষদের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল। এসময় তিনি উপজেলার বিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারদের উদ্দেশ্যে বলেন একজন প্রকৃতি কৃষক ছাড়া অন্য কোন সার ব্যবসার নামে বালাই নাশক ব্যবসায়ি, রাজনৈতিক দলের নামে, ভূয়া কৃষক সাজিয়ে সিন্ডিকেট করে সার উত্তল করছে এরকম কাউকে এক ছটাক সারও দেওয়া যাবে না। এসব অনিয়ম করে সার দেওয়ার ব্যাপারে আপনারা ডিলারদের সহযোগিতা আছে ইতিমধ্যে তদন্ত করে আমি জানতে পেরেছি। আপনারা ডিলাররা অধিক লাভের আশায় এসব অনিয়ম করছেন। আপনারা ডিলারশীপ চালাতে গিয়ে যদি সরকারি কোন আইন কানুন না মানেন, যেমন সার ডিলারশীপের সাথে বালাইনাশক, তেল ও ফ্লেক্সিলোডসহ অন্য কোন ব্যবসা করা যাবে না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে আপনাদের শুধু সার বেঁচা বিক্রি করতে হবে। কৃষকদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। আপনার সার ডিলারশীপ ব্যবসায় যদি লাভ না থাকে তাহলে ডিলারশীপ ছেড়ে দেন। আমরা প্রশাসন অন্য কাউকে দিয়ে ডিলারশীপ চালাতে পারি কী দেখি। আপনারা ডিলারশীপ ছাড়বেন না আবার অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃষকদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন, সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করবেন এব্যাপারে প্রশাসন চুপ করে বসে থাকবে না জেল জরিমানার পাশাপাশি ডিলারশীপ বাতিল করা হবে।

এসময় তিনি আরো বলেন, আপনারা আমার কথায় রাগ করবেন না, আমার কৃষক ভাইদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে আগামীতে ডিলারদের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যতবড় ক্ষমতায়শালী আপনি হন কেন কোনো সুপারিশ মানা হবে না।বিএডিসি সার ডিলাররা কোন ভাবেই ইউরিয়া সার বিক্রি করতে পারবেন না। বিএডিসি সার ডিলারদের ঘরে ইউরিয়া সার থাকলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে সারগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। মিটিং পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করার সময় কোনো সুপারিশ সহ্য করা হবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল-সাবাহ্, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজোহা পলাশ, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আলী, বিএডিসি সার ডিলার উপজেলা কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক আবুজর গিফারীসহ উপজেলার সকল উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ব্লক সুপারভাইজার, বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারগণ।




আলমডাঙ্গায় তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ দিবস

আলমডাঙ্গায় তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উদ্যোগে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের মাজু ব্লকে মাধবপুর মাঠে এক মাঠ দিবস ও কারিগরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ১২টার অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম।তিনি বলেন, দেশে সরিষার চাহিদা পূরণে কৃষি গবেষণার উদ্ভাবিত স্বল্প মেয়াদী এবং উচ্চফলনশীল জাতের বারি সরিষা-১৪ চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া যায়। এতে একদিকে যেমন তেল উৎপাদন বাড়বে তেমনি আমদানীর উপর নির্ভরতা কমবে আসবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং অফিসার হাসান আলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ। তিনি বলেন, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায়ের মাঠ দিবসগুলোতে কৃষকদের সরিষার আবাদে উদ্বুদ্ধ করতে উচ্চফলনশীল জাতের বারি সরিষা-১৪ এর চাষাবাদ কলাকৌশল এবং এর উপকার সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে বলে জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ উদয় রহমানের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, দুলারী খাতুন, আব্দুর রফিক, উপসহকারী     উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান, কৃষক প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম মোল্লা, রোকেয়া খাতুন, হাসিনা খাতুন প্রমুখ।

সভায় শতাধিক কৃষক-কৃষাণী গণমাধ্যমকর্মী, কৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ সরিষা জাত বারী ১৪ ক্ষেত প্লট পরিদর্শন করেন ও সরিষা থেকে তৈল উৎপাদন মেশিন দিয়ে কিভাবে তৈল তৈরী করে পর্যবেক্ষণ করেন।




মুজিবনগরে কলা বোঝায় পিকআপ উল্টে শ্রমিক নিহত

মেহেরপুরের মুজিবনগরে কলা বোঝায় পিকআপ (মিনি ট্রাক) উল্টে হুমায়ুন আহমেদ (৩৫) নামের এক শ্রমিক মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ শ্রমিক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর ইট ভাটার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত হুমায়ন মহাজনপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলাবোঝাই একটি পিকআপ মুজিবনগরের মোনাখালী থেকে মহাজনপুরে শ্রমিকদের নামানোর উদ্দেশ্যে যায়। এসময় কোমরপুর গ্রামে মশিউর রহমানের ইটভাটা কাছে পৌছালে একটি ট্রাকটরকে সাইড দিতে গিয়ে পিকআপটি উল্টে যায়।  পিকআপের উপর বসে থাকা ৫/৬ জন শ্রমিক পিকআপের নীচে চাপা পড়ে। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করে। অন্য শ্রমিকদের মধ্যে মহাজনপুর গ্রামের সাজু (২৫), সজিবুল গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে তারা মেহেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।‌




নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন সিপিবি প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমান

মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সিপিবি’র মনোনিত প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে হাজির হয়ে তিনি আপিল করেছেন। আগামী ১৫ই জানুয়ারি আপিলের শুনানি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।




মুজিবনগরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবদার আলীর দাফন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবদার আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবদার আলী (৭৫) মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ঢোলমারী গ্রামের মৃত কুরন আলীর ছেলে।

তিনি বুধবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার ঢোলমারী ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ জাতীয় পতাকা দ্বারা আচ্ছাদিত করে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হয়।

এ সময় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, মুজিবনগর থানা তদন্ত অফিসার (ওসি) গৌতম কুমার এবং মুক্তিযোদ্ধারা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবদার আলীর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে মেহেরপুর পুলিশ লাইনের একটি চৌকস পুলিশ দল মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবদার আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ঢোলমারী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবদার আলীর জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, লুৎফর রহমান, আয়ুব হোসেন, নায়েক আলী, সাবদার আলীসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




মহেশপুর সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের খোসালপুর সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে জুয়েল রানা (২৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জুয়েল খোসালপুর গ্রামের আনারুল হকের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মরদেহটি নদীর পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ বিজিবির উপস্থিতিতে লাশটি উদ্ধার করে।

বিজিবি ৫৮ ব্যাটলিয়নের পরচিালক কর্ণেল রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার ১১টার দিকে জুয়েল ঘাষ কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়। ভারতীয় সীমান্তের শুন্য লাইনের ২০০গজ দুরে খোশালপুর গ্রামের মাঠে ঘাষ কাটছিল কারন সেখানে তার ব্যবহৃত জামা-কাপড় পাওয়া গেছে। পরে পারিবারিক ভাবে বিজিবিকে খবর দেয় বিজিবি তাকে খুঁজতে থাকে পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা লাশটি বাংলাদেশের সীমান্তে ইছামতি নদীতে জুয়েলের লাশ ভাসতে দেখে এবং বিজিবি সদস্যরা তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করে।

এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে খোসালপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। জুয়েল রানার ভাই অভিযোগ করে বলেন, জুয়েল একই গ্রামের মাসুদ, মিলন ও কামরুলের সাথে ব্যবসায়িক কাজে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাদের একটি ব্যাগ হারিয়ে যায়, যাতে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল। ওই ব্যাগ হারানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

নিহতের ভাইয়ের দাবি, এই বিরোধের জেরে ওই তিন যুবক জুয়েলকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




গাংনীতে তারুণ্যের মেলা উপলক্ষে পিঠা উৎসব

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় তারুণ্যের মেলা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসবের। জমকালো এই পিঠা উৎসবে চিতই, পাটিসাপটা ও পাকানসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমারোহ লক্ষ্য করা গেছে।

পিঠা উৎসবের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা ধরনের খেলা। পিঠা উৎসবে ১২টি স্টলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও উদ্যোক্তারা নিজেদের স্টল পরিচালনা করেন।

দিনব্যাপী এ পিঠা মেলার উদ্বোধন করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করে উদ্যোক্তারা মেলায় হাজির হন। পাশাপাশি ছিল আধুনিক নানা ধরনের পিঠা। ১২টি স্টলে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন তারা। সকাল থেকেই তরুণ প্রজন্ম পিঠা উৎসবে ভিড় জমান এবং নতুন ও পুরোনো নানা রকমের পিঠার সঙ্গে পরিচিত হন।

পিঠা উৎসবের এমন আয়োজনে উদ্যোক্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে আরও উদ্যমী ও সৃজনশীল করে তুলবে।

এছাড়াও তারুণ্যের মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভলিবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরে আয়োজকরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।




মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে সদর উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মেহেরপুর কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিল মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলের প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলাম।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৪০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা আক্তার হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ।




মুজিবনগরে অবৈধ অস্ত্রসহ অনলাইন জুয়ার হোতা ‘কটা’ আটক

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ বিল্লাল হোসেন ওরফে কটা (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। বুধবার ভোরে মেহেরপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

জানা যায়, ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে মেজর এম এ এন রওশন আলমের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যতারপুর গ্রামের মৃত মাদার আলী বিশ্বাসের ছেলে বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালান। অভিযানের সময় তার শয়নকক্ষের ওয়ারড্রোব থেকে ৭.৬৫ মি.মি. একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

সামরিক সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, বিল্লাল হোসেন ওরফে কটা এলাকায় অনলাইন জুয়ার অন্যতম মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগে এর আগেও তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়েছে। একই অভিযোগে তাকে ঢাকায় সিআইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, আটক বিল্লাল হোসেন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চোরাচালান, মানি লন্ডারিং, অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।