কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানা সিলগালা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-১২ কুষ্টিয়া। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।
শনিবার রাত প্রায় ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একটি গুদামে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পাঁচটি মেশিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট, কাঁচামাল ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি র্যাব।
অভিযানকালে দেশীয় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট, অবৈধ ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির ৬টি মেশিন, প্রায় এক লাখ শলাকা ডার্বি ও স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট, একটি পিকআপ (কাভার্ডভ্যান), ১৪০ কেজি প্রক্রিয়াজাত তামাক, ২৪ হাজার সিগারেট ফিল্টার, একটি মোটরসাইকেল ও একটি বক্সভ্যান জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন অবৈধ সিগারেট কারখানার বিস্তার ঘটছে।
সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব কারখানায় নকল ও নিম্নমানের তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে গুদামের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, প্রায় দেড় মাস আগে শাকিল নামের এক ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় গুদামটি ভাড়া দেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল, এমন বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন স্কুলশিক্ষক। স্কুলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওই দিকে খুব একটা যাওয়া হয় না।”
র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার জানিয়েছেন, জব্দ করা মালামাল ও কারখানাটি নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নকল সিগারেট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে নিম্নমানের তামাক ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্যও এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক কার্যক্রম চললেও বাইরে থেকে সেটি সাধারণ গুদামঘরের মতো দেখাত। অভিযানের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

