২২ বছরের পথচলায় বই, স্যালাইন আর ভালোবাসা

কুষ্টিয়ার ব্যস্ত শহর কিংবা নিরিবিলি গ্রাম—যেখানেই চোখ যায়, সেখানেই দেখা মেলে এক পরিচিত দৃশ্য। কাঁধে একটি ব্যাগ, ভেতরে স্বরবর্ণের বই আর খাবার স্যালাইন—এই নিয়েই নিরলস ছুটে চলেছেন কাজী সোহান শরীফ। টানা ২২ বছর ধরে তিনি হয়ে উঠেছেন পথশিশু, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের এক নির্ভরতার নাম।
পথেই তার কর্ম, মানুষই তার প্রেরণা মানবসেবা তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে অবহেলিত শিশু, যেখানে অসহায় মানুষ—সেখানেই উপস্থিত সোহান। কখনো বই দিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেন শিক্ষার আলো, আবার কখনো স্যালাইন দিয়ে লড়াই করেন জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে। তার এই পথচলায় নেই কোনো প্রচারণা, নেই প্রাপ্তির হিসাব। মানুষের হাসিই তার একমাত্র প্রাপ্তি।
বই আর স্যালাইন—দুটি অস্ত্রেই লড়াই প্রতি বছরের শুরুতে নতুন বই নিয়ে পথশিশুদের মাঝে হাজির হন তিনি। অক্ষরজ্ঞানহীন শিশুদের হাতে তুলে দেন স্বরবর্ণের বই, খাতা-কলম। অন্যদিকে বছরের পুরো সময়জুড়েই চলে খাবার স্যালাইন বিতরণ, যা ডায়রিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গরমে স্যালাইন, শীতে কম্বল, উৎসবে সেমাই-চিনি—প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।
উদ্ভাবনী চিন্তায় এক ধাপ এগিয়ে মানবসেবার পাশাপাশি উদ্ভাবনেও নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন সোহান। মশা নিধনের জন্য তৈরি করেছেন ফগার মেশিন। অন্ধদের জন্য বানিয়েছেন আল্ট্রা সেন্সর চশমা ও লাঠি, যা সামনে বাধা থাকলে সংকেত দিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে। মাত্র তিন মাসের প্রচেষ্টায়, ইউটিউব দেখে এবং নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন তিনি—স্বল্প খরচে, সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে।
নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীরব কাজ সমাজের লজ্জা ও সংকোচ ভেঙে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও কাজ করছেন সোহান। অনেকেই সরাসরি নিতে সংকোচ বোধ করায় তাদের মায়েদের মাধ্যমে পৌঁছে দেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। পাশাপাশি জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজও করে যাচ্ছেন।
সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক মানুষ খোকসা উপজেলার কালিবাড়ি এলাকায় জন্ম নেওয়া সোহানের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। সেই কষ্টই তাকে শিখিয়েছে অন্যের কষ্ট বুঝতে। ১৮ বছর বীমা কোম্পানিতে চাকরির পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্জিক্যাল পণ্য তৈরি।
বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে নিজের ছোট পরিসরের কর্মস্থলে হুইলচেয়ার, কৃত্রিম হাত-পা তৈরি করেন। গরিবদের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই তিনি কোনো লাভ নেন না।
প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে নীরবে। তার কাজের প্রভাব এখন দৃশ্যমান—
বহু পথশিশু প্রথমবারের মতো বই হাতে পেয়েছে। স্যালাইনের মাধ্যমে ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমছে। প্রতিবন্ধীরা পাচ্ছে সহায়ক যন্ত্র
অন্ধদের জন্য প্রযুক্তি তৈরি নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন এক আস্থার নাম, এক মানবিকতার প্রতীক।
চ্যালেঞ্জ আছে, তবুও থামেননি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বা নিয়মিত অর্থায়ন ছাড়াই এই দীর্ঘ পথচলা সহজ নয়। তবুও থেমে থাকেননি সোহান। নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন মানুষের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
তার স্বপ্ন আরও বড়—
নিজের কাজকে একটি সংগঠনের মাধ্যমে বিস্তৃত করা, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছেন।
কাজী সোহান শরীফ প্রমাণ করেছেন—মানবতার জন্য কাজ করতে বড় অর্থের প্রয়োজন নেই, দরকার বড় একটি মন। তার এই নিরলস পথচলা শুধু কুষ্টিয়ার গর্ব নয়, পুরো দেশের জন্যই এক অনুপ্রেরণার গল্প।



মেহেরপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে হাম

সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের মার্চ মাসে মেহেরপুরে ১৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ রোধে তাদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের আরএমও সউদ কবির জানান, এক মাস থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। গত মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাসিন্দা মঞ্জিলা খাতুন বলেন, সাত দিন আগে আমার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার শিশুকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।
সদর উপজেলার আনারুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের বয়স ১৯ মাস। এর আগে দুটি টিকা দেওয়া হয়েছিল। তত্ত্বাবধান সরকারের সময়ের পর আর টিকা দেওয়া হয়নি। প্রথমে জ্বর আসে, পরে গায়ে দানা দানা বের হতে থাকে। হাসপাতালে আনার পর হাম শনাক্ত হয়।

জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের সংক্রমণ না ঘটে।

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীরে ব্যথা এবং নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। হামের প্রতিষেধকের একমাত্র উপায় ভ্যাকসিন দেওয়া।




মেহেরপুরে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

মেহেরপুরের গাংনীতে লরি বোঝায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বাজার থেকে লরি বোঝায় তেল জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ ঢ ৪১-০০৪৩ লরিটি খুলনা ডিপো থেকে ডিজেল নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোয়াল গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ শুক্রবার মধ্যে রাতে অবৈধ ভাবে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বাজারের রিপন নামের এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকানে লরি থেকে তেল নামানো হচ্ছে এমন খবর ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেলসগ লরিটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গাংনী থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই আব্দুল করিম বলেন, তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তেল বোঝায় লরিটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এনিয়ে গত দুদিনে মেহেরপুর থেকে ১০ হাজার লিটারের অধিক ডিজেল উদ্ধার করা হলো।




শুধু ভালো রেজাল্ট হলেই হবে না, সত্যিকারের মানুষ হতে হবে

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একশ্রেণীর শিক্ষার্থী শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান বা মর্যাদা দেয় না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বকাঝকা করেন বা পড়ালেখায় চাপ প্রয়োগ করেন।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু একশ্রেণীর অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা অনভিপ্রেত। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো রেজাল্টের দিকে মনোযোগ না দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান (বেসিক নলেজ) অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কম পাশের হার লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী অন্যান্য বিষয়ে ভালো করলেও ইংরেজি বিষয়ে ন্যূনতম নম্বর না পাওয়ায় অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় খাতার টপশিটে বিভিন্ন ভুলের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি দেশের অভ্যন্তরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেন। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স সম্পন্ন করার পর বিদেশে যাওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন। বিশেষ করে অভিভাবকদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু এ প্লাস বা ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে। বাবা-মা, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন ভালো ছাত্রের চেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন ভালো ও দায়িত্বশীল মানুষ হওয়া।

তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখির অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুরের গাংনীতে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে তিনি সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি, নার্সিং ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি কক্ষ ও ক্লাসরুমসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শন শেষে সন্ধানীর কনফারেন্স রুমে শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান বিশ্বাস ও সন্ধানী নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভিন সুমী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজ শাখার একাডেমিক প্রধান রাজু আহমেদ।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপাচার্য উচ্চশিক্ষা ও দেশ-বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাব হোসেন সামি, মৌমিতা আক্তার এবং দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন লাবিব ও স্নেহা উপাচার্যের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে শিক্ষা বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে




গাংনীতে গম ক্ষেতে আগুন, ২৫ লাখ টাকার গম ভস্মীভূত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ মাঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ বিঘা জমির গম পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে কৃষকদের অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গম কাটার পর খড় পরিষ্কার করতে কৃষকরা আগুন দিয়ে থাকেন। হাড়িয়াদহ গ্রামের কৃষক ওসমান আলী তার জমির খড় পোড়াতে আগুন দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের বেগ বেশি থাকায় মুহূর্তেই আগুন পুরো মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে যায়।

স্থানীয় কৃষকরা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে পুরো খেতের গম পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ এলাকার চাষিরা।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।




১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ১৭২৮ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ১২ কেজিতে এক লাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা। চলতি এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।

এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।




ইবি শিক্ষক সাদিয়ার খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের মজমপুর গেট এলাকায় নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি চলাকালে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা। তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে খুন হন শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা। সে সময় ওই কক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার অন্য তিন আসামি সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন নিহতের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক রুনা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন থাকলেও সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ফটকে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।




সারা দেশে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত

দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ তথ্য জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতা করতে এই বিশেষ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে হোটেল, ফার্মেসি ও জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।




নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে শিল্পী রানী রায় মেহেরপুরে পৌঁছেছেন

মেহেরপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে শিল্পী রানী রায় মেহেরপুরে পৌঁছেছেন। বুধবার বিকেলে তিনি মেহেরপুর সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছান।

এ সময় সার্কিট হাউসে পৌঁছালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে বরণ করেন।

উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ




আলমডাঙ্গায় মাদকের ছোবলে যুবসমাজ ক্ষতবিক্ষত

আলমডাঙ্গা উপজেলার স্থানীয় যুবসমাজ আজ এক নীরব বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত। আমাদেরই চেনা-জানা তরুণ প্রজন্মের প্রাণবন্ত, সুঠামদেহী, স্বপ্নবাজ যুবকদের অনেককেই আজ দেখা যাচ্ছে নেশার করাল গ্রাসে শীর্ণ, ক্লান্ত এবং দিশেহারা অবস্থায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই দৃশ্যমান পরিবর্তন শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক গভীর অশনিসংকেত।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ এলাকা যা হওয়া উচিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল কেন্দ্র ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য এক প্রকার অভয়ারণ্যে। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার দুই সময়েই এখানে সন্দেহজনক আনাগোনা চোখে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র অত্যন্ত কৌশলে এই এলাকায় মাদক সরবরাহ ও সেবনের পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ, যারা অজ্ঞতা, কৌতূহল বা হতাশা থেকে জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়াল ফাঁদে। পরিবারগুলো হারাচ্ছে তাদের সম্ভাবনাময় সন্তানদের, আর সমাজ হারাচ্ছে তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজার, রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা, পশুহাট এলাকা এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সন্ধ্যার পর থেকেই মাদকসেবীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই ইয়াবা সেবন ও বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে আলমডাঙ্গায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না এই মাদক বাণিজ্য।

যতদূর জানা গেছে, উপজেলায় একজন দক্ষ, চৌকস ও মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু মাদকের এই বিস্তার রোধে তাঁর সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে উঠেছে।

এক্ষেত্রে করণীয় হিসেবে কিছু পদক্ষেপ জরুরি। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা নিশ্চিতকরণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যুবকদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প কার্যক্রম (খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা) বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আলমডাঙ্গাবাসী আশা করে সময়োপযোগী, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে খুব শিগগিরই এই মাদকের অন্ধকার ছায়া দূর হবে।

কারণ, একটি সুস্থ প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।