মেহেরপুরে গণভোটের প্রচারণায় ‘ভোটের রিকশা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় মেহেরপুরেও ভোটের রিকশা প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির।

জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. এনামুল হক এবং সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাইদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ভোটের রিকশা নামের এই আইকনিক প্রচার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ থেকে মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলায় ভোটের রিকশা কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়বে। ভোটের রিকশা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো গণভোট সম্পর্কে জনগণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা। ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিলে জনগণ কী সুবিধা পাবে এবং ‘না’তে ভোট দিলে কী থেকে বঞ্চিত হবে এসব বিষয় প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে জানাতে হবে।

একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটারদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণবিধি সম্পর্কিত তথ্য গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লায় ভোটের রিকশার মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুর অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে ব্যাবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বিলপাড়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে ১ জন ব্যাবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্মমান আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকা এ রায় দেন।

এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন ২০১০ সালের ১৫(১) ধারায় এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন।




মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে অটো চালকদের দৌরাত্ম

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে দিনদিন বাড়ছে অটো চালকদের বিড়ম্বনা ও দৌরাত্ম । হাসপাতালের প্রধান ফটকে অটো দিয়ে ঘিরে রাখায় রোগীদের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। অটোর ভীড়ে হাসপাতালে মুমুর্ষ রোগীরদের জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। রোগীদের প্রয়োজনে হাসপাতালের সামনে থেকে অটো সরিয়ে নিতে বল্লে মারমুখী আচরন করেন অটোচালকরা।

শুধু তাই নয়, হাসপাতালের সামনে থেকে অটো সরিয়ে নিতে বল্লে বহিরাগত রোগী ও স্বজনদের নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেন অটোচালকরা, দেখান রাজনৈতিক দলের দাপট। এসকল অভিযোগ ভুক্তভোগী অনেকের।

হাসপাতালের মধ্য থেকে অটোসহ সকল ধরনের মানুষবাহী যানবাহন অপসারন ও নিষেধাজ্ঞার দাবীও করেন ভুক্তভোগীরা। সেবা প্রত্যাশীদের প্রয়োজনে বিষয়টি দেখবেন জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহের রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার মসরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের সামনের গেটের অংশের যে রাস্তা দিয়ে রোগীদের নিয়ে জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে প্রবেশ করতে হয় ঠিক সেই গেটের সামনে ১৫/ ২০ অটোরিকশা রাখা হয়েছে।

অটোরিকশার সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকছেন চালকরা। বেশকিছু অটোরিকশা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে হাসপাতালের পুরো আঙ্গিনা জুড়ে। রোগীরা আসছেন হাসপাতালে প্রবেশ করছেন অনেক কস্ট করে। হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা রাখার বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন অটোচালকদের সাথে। নানা ধরনের খোড়া যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন চালকরা। হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা রাখায় জনভোগান্তি হচ্ছে এ কথা কোনোভাবেই মানতে নারাজ তারা। স্থানীয় ক্ষমতার দাপটে সব অন্যায় যেনো ভুক্তভেগীদের।

শোলমারী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ আশাদুল ইসলাম জানান, অটোরিকশার ভীড়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছিলাম না।

উত্তরশালিকা গ্রামের জোসনা খাতুন জানান,আমার বৃদ্ধ মাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ভ্যান থেকে নামিয়ে ট্রলিতে তোলার সময় অটোর ভীড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এমন দুর্ভোগের কথা জানালেন, সুভরাজপুর গ্রামের মুন্তাজ আলী,ঢেপা গ্রামের বশিরুদ্দিন,রামদাসপুর গ্রামের ফুলচাদ মিয়া, কুলবাড়িয়া গ্রামের জরিনা খাতুন ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের চামেলী খাতুন। অটো সরিয়ে রাখতে বল্লে তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন অটোমালিরা।

ভুক্তভোগীদের দাবী হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা না রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

জেলার প্রায় সাড় ৭ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩ /৪ শ৷ রোগী সেবা নিতে আসেন। রোগীদের ও তাদের স্বজনদের ভীড়ে সরগরম হয়ে থাকে হাসপাতাল চত্বর। এখানে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের প্রয়োজন বলে জানান স্থানীয় অনেকেই।

এবিষয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা্ বুলবুল কবীর বলেন, সেবা প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনে হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা অপসারন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মেহেরপুরে গণভোটের প্রচার এবং বিভিন্ন বিষয়ে উঠান বৈঠক

মেহেরপুরে গণভোটের প্রচার এবং মাদক, চোরাচালান, অনলাইন ক্যাসিনো, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, যৌতুক ও নারী নির্যাতনরোধে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের হরিরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উঠান বৈঠক ও গণভোটের প্রচার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় এবং জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ এনামুল হক।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকা, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল আল মামুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ জে এম সিরাজুল মুনীর, সদর উপজেলা উপ-সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলী, পল্লী উন্নয়ন অফিসার রাকিবুল ইসলাম, বুড়িপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক শিমুল হোসেন এবং ইউনিয়ন প্রশাসন কর্মকর্তা মোঃ সানোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

এই উঠান বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন গণভোটে জনগণকে সচেতন ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলা। পাশাপাশি সামাজিক ব্যাধি যেমন মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান, অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া, আত্মহত্যা প্রবণতা, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, যৌতুক প্রথা এবং নারী নির্যাতন রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।




দামুড়হুদায় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা উদ্বোধন

যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা-২০২৬ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী একটি কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলার শুভ উদ্বোধন করেন আলমগীর বিশ্বাস, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উত্তম কৃষি চর্চা ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের ফলে আগে যেখানে বিঘা প্রতি ৮-১০ মন ধান উৎপাদন হতো, সেখানে বর্তমানে ২০-২৫ মন পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন খরচ কমে আসছে এবং ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে কৃষকদের এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে জানাতে ও বোঝাতে হবে, কারণ মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তারাই। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কারণে এ অঞ্চলে কৃষি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সফল ও উন্নত হয়েছে। মেলায় কৃষকদের মতামত গ্রহণের জন্য একটি মতামত বই রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সকল দর্শনার্থী ও কৃষকদের অন্তত দুই-এক লাইন মতামত লেখার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কৃষি কার্যক্রম আরও উন্নত করা যায়।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান সরকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব রবিউল ইসলাম এবং দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ উবায়দুর রহমান সাহেল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশসহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

তিন দিনব্যাপী এ কৃষি মেলায় মোট ১৬টি প্রদর্শনী স্টল রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি উদ্যোক্তা স্টল। মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষি চর্চা বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস। এ সময় বিপুল সংখ্যক কৃষক ও কৃষাণী মেলায় উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কৃষি সচেতনতা বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।




দেশের সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর বিকল্প নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেছেন, গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া মানে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যাওয়া। ‘না’ ভোট দেওয়া মানে স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোটের প্রচার এবং ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণভোটের বিষয়ে সরকারের নিরপেক্ষতার জায়গা নেই। হয় আমি গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, এই ছেলেমেয়েদের পক্ষে, জুলাই শহিদদের পক্ষে, হয় আমি হাদির পক্ষে, হয় আমি নতুন বাংলাদেশ চাই, অথবা চাই না। আমার দেশে এরকম কিছু মানুষ আছে হয়তো, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিমের উপকারভোগী; তারা হয়তো গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে। তারা মূলত পরিবর্তনটা চায় না। তারা নতুন বাংলাদেশ চায় না।

উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমে আপামর সাধারণ জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সংস্কারের দ্বার খুলে যাবে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের সরকার। কাজেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা গণভোটের পক্ষে, ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষেই আমাদের অবস্থান। আমরা চাইছি, মানুষ বুঝুক গণভোট কেন তাদের জন্য দরকার। বুঝে-শুনে তারা ‘হ্যাঁ’ এর কাছেই আসুক।

এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও নির্বাচনে জনমত গঠন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, সুবীর কুমার দাশ, নির্মল কান্তি তালুকদারসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে দেশসেরা রোভার চুয়াডাঙ্গার আল মুতাকাব্বির সাকিব

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্যে শ্রেষ্ঠ রোভার ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা রোভার স্কাউটের খ্যাতি অর্জন করেছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপের সিনিয়র রোভার মেট আল মুতাকাব্বির সাকিব।

খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর এবার জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তিনি। গত সোমবার ঢাকা টিটি কলেজে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

এ সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শ্রেষ্ঠ রোভার আল মুতাকাব্বির সাকিবের হাতে গোল্ড মেডেল, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান।

আল মুতাকাব্বির সাকিব চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক মেম্বার শহিদুল ইসলামের পুত্র। তার এই সাফল্যের পেছনে তার বাবা-মা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাইফুর রশীদ, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজসহ সকল শিক্ষাগুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




মেহেরপুরে এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মেহেরপুর-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জি. সোহেল রানা তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে মেহেরপুর-১ আসনে ৪ জন এবং মেহেরপুর-২ আসনে ৩ জন চূড়ান্ত প্রার্থী থাকলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে এনসিপি প্রার্থীর পক্ষে এনসিপি সদস্য হাসনাত জামান সৈকতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীরের হাতে প্রত্যাহারের আবেদন তুলে দেন।

এর ফলে মেহেরপুর-১ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুণ, জামায়াত প্রার্থী তাজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।

মেহেরপুর-২ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন বিএনপি প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকি।




মেহেরপুরে হারানো ৯২টি মোবাইল ও ৫৫ হাজার টাকা মালিকের হাতে তুলে দিল পুলিশ

মেহেরপুর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোন ও অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত নগদ অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃত ৯২টি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় সাইবার সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে আমরা কেউই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সাইবার স্পেসের বাইরে নই। তাই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। তিনি পুরাতন মুঠোফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই মোবাইলের বক্স ও ক্যাশ মেমো সংগ্রহের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অনলাইনে প্রতারণা এড়াতে বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানান। অনলাইনে কোনো কিছু ক্রয়ের আগে অভিজ্ঞজনের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যেকোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, মেহেরপুর জেলার তিন থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত সর্বমোট ৯২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি ভুলবশত অন্য নম্বরে চলে যাওয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত নগদ ও বিকাশের মোট ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও ১৩টি ফেসবুক আইডি রিকোভারি করা হয় এবং বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তি ও ভিকটিম উদ্ধারে সহায়তা দিয়ে ৪ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল বিভিন্ন ক্রুপেস মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে সেলটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহাম্মদ আতিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মেহেদি হাসান দিপু, ওসি (ডিবি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা।




সাভারে ৫ মাসে ছয় খুনে জড়িত সিরিয়াল কিলার সম্রাট গ্রেপ্তার, আসল পরিচয় প্রকাশ

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।

ভবঘুরের ছদ্মবেশে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। মশিউর এসব হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া জোড়া মরদেহের ঘটনায় তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চলাফেরা, অবস্থান ও সময়ের মিল পাওয়ায় তাকে নজরদারিতে আনা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সম্রাট কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া সর্বশেষ জোড়া মরদেহসহ ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার ধরন ও আলামত বিশ্লেষণ করে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজই হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখে। গ্রেপ্তার মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার মৃত সালামের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে একই বছরের ১১ অক্টোবর ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মাথা ও গলায় কাটা জখমের চিহ্ন ছিল।

এরপর ১৯ ডিসেম্বর একই ভবনের বাথরুম থেকে আগুনে পোড়া ও গলিত অবস্থায় আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি একই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ভেতর থেকে এক পুরুষ ও এক কিশোরীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের কাছ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এ ঘটনাটিও একই সিরিজ হত্যাকাণ্ডের অংশ।

পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর সাভার মডেল থানা ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। জোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পরপরই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানা যাবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের দেওয়া ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও তার স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাফলার ও আগুন লাগানোর কাজে ব্যবহৃত একটি দেশলাই আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ আশা করছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সাভারের এই ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিংয়ের পেছনের পূর্ণ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

 

সূত্র: কালবেলা