মুজিবনগরের পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ সোমবার সকালে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর জেলা কার্যালয় কর্তৃক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতি. দা.) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রিয়াজ মাহমুদ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।

অভিযানকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৮ অনুযায়ী মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন না করার অপরাধে আলিফ বস্তা ট্রেডার্স অ্যান্ড চাউল ভান্ডারকে ৫০০ টাকা, কালাম স্টোরকে ৫০০ টাকা এবং জোয়ার্দ্দার স্টোরকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া কসমেটিকসে মূল্য উল্লেখ না থাকা এবং লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস বিক্রির দায়ে ধারা ৩৭ ও ৫২ অনুযায়ী তাসিন কসমেটিকস অ্যান্ড গিফট কর্নারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খাদ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্য (হাইড্রোজ) ব্যবহার করায় ধারা ৪২ অনুযায়ী মিজান হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, মানসম্মত পণ্য বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য/ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।




দামুড়হুদায় নানা অনিয়মে প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিজ নামে প্যাকেটজাত করা এবং শিশু খাদ্যে ব্যবহৃত ফ্লেভারজাত পণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করার অভিযোগে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত উপজেলার মোস্তফাপুর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত তদারকি অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অভিযানের সময় দেখা যায় অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিজস্ব নামে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। এছাড়া শিশু খাদ্যে ব্যবহৃত ফ্লেভারজাত পণ্যের মোড়কে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল না, যা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন।

এ অপরাধে মফিজুর রহমানের মালিকানাধীন মেসার্স সিপি ফুড প্রোডাক্টকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে অনিয়মগুলো সংশোধন করে সঠিক নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় সহযোগিতায় ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের একটি টিম।

স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পেতে পারেন।




দামুড়হুদায় গভীর রাতে অবৈধ মাটি কাটায় অভিযান: ৪ জনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর-ইব্রাহিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগে গভীর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০২৩ সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নতিপোতা গ্রামের আছের উদ্দিনের ছেলে মজিবুল, একই গ্রামের মৃত আকবরের ছেলে খাইরুল ইসলাম, কুলবিলা গুচ্ছগ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা এবং মাগুরা গ্রামের নওশের আলীর ছেলে আবুল কাশেম।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতিতে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সহযোগিতা করে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট ও পরিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এ কঠোর পদক্ষেপে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




১ কেজি সজনে ডাঁটার দামে ১ কেজি খাসির মাংস

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের সবজি বাজারের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সজনে ডাঁটা। বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি এখন দেশি সজনে ডাঁটা।

গ্রীষ্মকালীন এই সবজিটির দাম এতটাই বেশি যে, এক কেজি সজনে ডাঁটার দামে বাজারে মিলছে এক কেজি দেশি জাতের খাসির মাংস।

অর্থাৎ ১ কেজি নতুন সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। অন্যদিকে ১ কেজি খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। বর্তমান বাজারে সজনে ডাঁটার দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে শুক্রবার দেখা যায়, সেখানে ভারতীয় সজনে ডাঁটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর দেশি সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। যেখানে বামন্দী বাজারে খাসি-ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নতুন কোনো সবজি আসলেই ইচ্ছেমতো দাম হাঁকা হয়। তার ওপর রমজান মাস। তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং যথাযথভাবে না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে প্রশাসনের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তদারকি আরও বাড়ানো হবে।

জেলার বৃহৎ বামন্দী বাজারে অন্যান্য সবজির দাম ছিল কেজিপ্রতি—সজনে ডাঁটা ১৪০ থেকে ৪৮০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা। খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত।

প্রবাসী আঃ কাদের বলেন, “আমি সৌদি আরব থেকে দেশে ঈদ করতে এসেছি। রমজান মাসে পরিবারের সদস্যরা মাছ-মাংসের চেয়ে সবজি বেশি পছন্দ করে। তাই বাজারে সবজি কিনতে এসেছি। নতুন সবজি হিসেবে আধা কেজি সজনে ডাঁটা কিনলাম। দাম নিয়েছে ৫৮০ টাকা। এত বেশি দামে আগে কখনও সজনে ডাঁটা কিনিনি।”

স্কুল শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, “বাজারে নতুন কিছু এলেই দাম হয়ে যায় আকাশচুম্বী। পণ্যের দাম বাড়াতে বা কমাতে কারও অনুমতি লাগে না। নিষেধ করারও কেউ নেই। তা না হলে এক কেজি সজনে ডাঁটার দাম ১ হাজার ১০০ টাকা হয় কীভাবে? অথচ এটি আমাদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল।”

সবজি ব্যবসায়ী কাঞ্চন বলেন, “বছরের শুরুতে সবজির দাম কিছুটা বেশি ছিল। এখন রমজান মাস চললেও বেশিরভাগ সবজির দাম তুলনামূলক কম। বাড়তি দাম রয়েছে শসা ও সজনে ডাঁটায়। দেশি সজনে আজ বাজারে প্রথম এসেছে, তাই ১ হাজার ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা করে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “রমজান মাস সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। প্রয়োজনে তদারকি আরও বাড়ানো হবে। কোনো ব্যবসায়ীকে সিন্ডিকেট তৈরি করতে দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত দাম নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




আহত জামায়াত নেতাকে দেখতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় আমির

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রাজধানীর কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে গিয়ে আহত নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকার পল্টন থানা আমিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা রড, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।

হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন আমির মো. মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৪৬) নিহত হন। এছাড়া ইউনিয়ন আমিরসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকা নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে মফিজুর রহমান আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

এ সময় নেতৃবৃন্দ এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। পাশাপাশি নিহত হাফিজুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




ঝিনাইদহে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  মতবিনিময় সভা

ঝিনাইদহে রমজানে বাজার পরিস্থিতি ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। এছাড়াও জেলা জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার, জেলা ক্যাবের সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফা খাতুন।

সেসময় বক্তারা, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি ও ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।




শিশু তাবাসসুম হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে কালীগঞ্জে নারীদের মানববন্ধন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৫ বছরের শিশু তাবাসসুম হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

রোববার সকালে উপজেলার বারবাজার বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে স্থানীয় নারীসমাজ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীরা অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে নারী সমাজের সভানেত্রী সামলা খাতুন, সেক্রেটারী রেহেনা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবা খাতুনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা হত্যাকারী আবু তাহেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন সকালে উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশু তাবাসসুমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া থেকে অভিযুক্ত আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।




জীবননগরে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের জানাজা সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে (৪৬) জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির সফিউল আলম বকুল, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, মরহুমের ভাই আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি জুনায়েদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শনিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিহত হাফিজুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে বিকেল ৪টায় নিজ গ্রাম সুটিয়ায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫) ও তার ভাইকে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার রাত ১টার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান।




আলমডাঙ্গায় মাদকসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

আলমডাঙ্গায় ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মমতাজ বেগম (৩০) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

গতকাল রোববার রাত ৮টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মমতাজ বেগমকে আটক করা হলে তার কাছ থেকে ৪০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার মমতাজ বেগম আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তারেক রহমানের স্ত্রী বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। স্থানীয়ভাবে মাদক সরবরাহের একটি ছোট নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ট্যাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হলেও অপব্যবহারের কারণে এটি মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি এলাকায় এর অবৈধ বেচাকেনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি।




আলমডাঙ্গায় ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ বৃদ্ধ আটক

আলমডাঙ্গায় ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দিলীপ কুমার গাঙ্গুলি (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন চত্বরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মোঃ বাবলু খাঁনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ায় মোঃ মোহনের চায়ের দোকান থেকে দিলীপ কুমার গাঙ্গুলিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ গ্রামের অনিল গাঙ্গুলির ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামান্য টাকার বিনিময়ে তিনি এসব মাদক পরিবহনের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ধারা ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।