আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদকসহ একজন গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানার মাদক বিরোধী অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পসহ থানা এলাকার একটি বিশেষ অভিযানে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে কেদারনগর গ্রামের লালটু হোসেনের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার বসত বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৪০ পিচ ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮, ধারা ৩৬(১) সারণি ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আসামীর বিরুদ্ধে আরও ৬টি মামলা রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় ধারালো অস্ত্রসহ এক যুবক গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে ধারালো অস্ত্রসহ সোহেল রানা রাব্বি (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মোবাইল ফোন কেনাবেচার টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বলরামপুর মণ্ডলপাড়ার মৃত আব্দুল মণ্ডলের ছেলে শামসুল হকের সঙ্গে কালিদাশপুর গ্রামের বাবুল মণ্ডলের ছেলে সোহেল রানা রাব্বির বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি শামসুল হকের বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাব্বিকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি স্টিলের চাপাতি (কাঠের বাটযুক্ত, দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ইঞ্চি) এবং একটি লোহার চেইন (এক পাশে তালা ও অপর পাশে লোহার রিং সংযুক্ত, দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ ইঞ্চি) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়া সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আসামীর বিরুদ্ধে পূর্বে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং-১৯, তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১ ধারায় একটি মামলা রয়েছে।




আলমডাঙ্গা মাছ বাজারে তিন ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গা মাছ বাজারে ড্রেন দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেনের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী।

অভিযানকালে মাছ বাজার এলাকায় রাস্তার ড্রেন অবৈধভাবে দখল করে মাছ বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়ায় তিন ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা হলেন গোবিন্দপুর মাঠপাড়ার বুলবুল হোসেনের ছেলে জনি আলম (৩০), কাটাভাঙ্গা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে শিতল হোসেন (৩৫) এবং

মাছ বাজারপাড়ার আহমেদ বিশ্বাসের ছেলে সুজন আহমেদ (৫০)।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী জানান, পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেনের ওপর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে সই নিয়ে বিদায় দিলেন শিক্ষকদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় মোট ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৬৯টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, বাকি ৪৩টি ভোটকেন্দ্রে কোনো সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করিয়েছেন ইউএনও খাদিজা আক্তার। এ ঘটনায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষক।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইস স্থাপনে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি কেন্দ্রে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে-এমন আশ্বাসে উপজেলা কার্যালয়ে শিক্ষকদের ডাকা হয়। তবে টাকা না দিয়ে ‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে শিক্ষকদের দিয়ে সই করিয়ে নিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৬৯টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক ডিভাইস স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল ২২ লাখ টাকা। সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্থে সর্বোচ্চ ৫৫টি কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহ সম্ভব। এ অবস্থায় বাকি কেন্দ্রগুলোতে কীভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা হলো এবং শিক্ষকদের দিয়ে কেন অর্থ ব্যয় করানো হলো-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ইতোমধ্যে শিক্ষক মহলে বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অর্থ পরিশোধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

শিক্ষকদের দাবি, প্রশাসনের চাপে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আপত্তি তোলেননি। কিন্তু টাকা না পেয়ে এখন তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়ে তারা আদৌ টাকা ফেরত পাবেন কিনা তা অনিশ্চিত।

মালিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুল ইসলাম বলেন,‘নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত ক্যামেরা স্থাপন করতে তাগাদা দেওয়া হয়। টাকা পরে পরিশোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এজন্য ইউএনও অফিসে ডাকা হয় সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের। কিন্তু টাকা না দিয়ে উল্টো ‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে সই নিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে।’

পিরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন,‘নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য কাজ করেছি। কিন্তু এখন নিজের পকেটের টাকা ফেরত পাবো কিনা সেই চিন্তায় আছি।’

নেপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন,‘ধারদেনা করে ক্যামেরা লাগিয়েছি। এখনো টাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা সরকারি কর্মচারী হয়েও এভাবে অনিশ্চয়তায় আছি।’

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ইউএনও খাদিজা আক্তারের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষকরা ক্যামেরা স্থাপন করেছে। ইউএনও’র সাথে কথা হয়েছে-ক্যামেরা স্থাপন বাবদ শিক্ষকরা যে টাকা খরচ করেছেন, তা বিভিন্ন খাত থেকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে কবে নাগাদ টাকা পরিশোধ হবে-এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত টাকায় ক্যামেরা স্থাপনের নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন,‘১১২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯টি কেন্দ্রে সরকারিভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা ছিল। বাকি ৪৩টি কেন্দ্র অরক্ষিত থাকার কারণে স্ব-উদ্যেগে শিক্ষকদের নিজের টাকায় ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিই। সেই মোতাবেক তারা ক্যামেরাগুলো স্থাপন করে। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো-৪৩টি কেন্দ্রের কোন বরাদ্দ না আসায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে স্কুলের স্লিপ ফান্ড থেকে সমন্বয় করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

তবে আপাতত প্রাথমিক বিদ্যালয়েগুলোতে ১০ হাজার ও মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাগুলোতে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এসময় প্রত্যেক স্কুল প্রধানদের কাছ থেকে ‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে সাক্ষর করে রেখেছি, কিন্তু এখনও টাকা দিতে পারিনি। পরবর্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে তাদের টাকা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা হবে।’




শৈলকুপায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাগ্নের আঘাতে মামা নিহত, আটক ২

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বসন্তপুর জয়ন্তী নগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বোনজামাই ও ভাগ্নের মারপিটে মামা কেসমত আলী (৫৬) নিহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কেসমত আলী ওই গ্রামের মৃত সিরাজ সর্দারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, কৃষক কেসমত আলীর সাথে কয়েকবছর ধরে তার ছোট বোনজামাই নবছদ্দির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো। বৃহস্পতিবার সকালে নবিছদ্দি ও কেসমত আলীর মধ্যে এ নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এরই এক পর্যায়ে নবিছদ্দি তারছেলে ও পরিবারের লোকজন কেসমত আলীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ দিকে এ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত নবিছদ্দি ও তার ছেলে রফিকুলকে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ফারিয়া তাহসিন বলেন, কেসমত আলীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিলো। আঘাতজনিত কারণ অথবা স্ট্রোকেও সে মারা যেতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সঠিক কারণ জানা যাবে।

শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, হত্যার ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে সেই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।




নিয়মিত কর দিলেও মিলছে না শৈলকুপা পৌরসভার নাগরিক সুবিধা

ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা-এ মিলছে না প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও সেবার মান যেন পরিষদের চেয়েও নিম্নমানের। শহরজুড়ে ভাঙাচোরা সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, আর রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় অধিকাংশ এলাকা। এর সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

জানা যায়, শৈলকুপা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। কিন্তু সেবার মান একেবারেই তলানিতে। পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কের পিচ অনেক আগেই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। কোথাও আবার এখনো নির্মিত হয়নি পাকা সড়ক। কোথাও একযুগ আগে ইটের সলিং করা হলেও সেই রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। আবার বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

পৌরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বসবাস করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ড্রেন তো দূরের কথা, অনেক এলাকায় নেই ভালো রাস্তা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না ড্রেন। সড়কবাতির অভাবে রাত হলেই অন্ধকারে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের। এছাড়া পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা নিয়মিত পৌরসভার কর দিচ্ছি। কিন্তু সেই অনুপাতে কোনো সেবা পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা এত খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল করা যায় না। ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাসিমা খাতুন নামের এক বাসিন্দা বলেন, রাতে সড়কবাতি না থাকায় খুবই ভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি। বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

আব্দুল হালিম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণীর মতো। সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। অনেক সময় নিজ খরচে পানি সংগ্রহ করতে হয়। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন করে পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।




মেহেরপুরে বিএনপি নেতা অ্যাড. কামরুল হাসানের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নিজ উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রায়পুর গ্রামে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, যিনি তার বক্তব্যে দেশ, জাতি ও দলের কল্যাণ কামনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকা বিল্লাহ, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম রিপন, রায়পুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান টুকু, এবং আমদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস বিশ্বাস।

ইফতার মাহফিল শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দলের অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।




প্রথম রোজা থেকেই সরগরম মেহেরপুরের ইফতার বাজার

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজাকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের ইফতার বাজার।

দুপুর গড়াতেই শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, হোটেল-রেস্তোরাঁ, মসজিদের সামনে ও ফুটপাথজুড়ে শুরু হয় ইফতারের হাঁকডাক।

ছোট-বড় অস্থায়ী ও স্থায়ী দোকানগুলোতে রঙিন ব্যানার, সাজানো টেবিল আর ভাজাভাজির গন্ধে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের আগ থেকেই দোকানগুলোতে সাজানো হতে থাকে বাহারি সব মুখরোচক খাবার। বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। ইফতারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলের অনেক আগেই তপ্ত কড়াইয়ে শুরু হয় ভাজাভাজি। ছাঁকনিতে তুলে রাখা হচ্ছে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ ও জিলাপি। পাশাপাশি টেবিলে সাজানো রয়েছে ছোলা, বুন্দিয়া, হালিম, রেশমি কাবাব, গ্রিল চিকেন ও কাচ্চিসহ নানা পদের খাবার। এছাড়া লেবুর শরবত, বেলের শরবত ও তরমুজের শরবতসহ বিভিন্ন পানীয়ও রয়েছে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

প্রথম রোজা হওয়ায় অনেকেই একটু আগেভাগেই পরিবারের জন্য পছন্দের ইফতার সামগ্রী কিনতে বাজারে এসেছেন। শহরের বাসিন্দা খোকন জানান, প্রতি বছর পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করেন তিনি। তাই প্রথম দিনেই আগেভাগে বাজারে এসেছেন। তবে এবারের ইফতার সামগ্রীর দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি বলে মনে করছেন তিনি। তারপরও পরিবারের জন্য পছন্দের বিভিন্ন আইটেম কিনেছেন।

বিক্রেতারা জানান, প্রথম রোজায় ক্রেতাদের আগ্রহ বরাবরের মতোই বেশি। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় ইফতার সামগ্রীর মূল্যও কিছুটা বেড়েছে। তারপরও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত খাবার সরবরাহের চেষ্টা করছেন তারা।

সব মিলিয়ে প্রথম রোজায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে মেহেরপুরের ইফতার বাজার। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শহরজুড়ে যেন এক ভিন্ন আবহ রোজাদারদের ব্যস্ততা আর ইফতারের প্রস্তুতিতে মুখর চারপাশ।




মেহেরপুরে বসতবাড়ি থেকে ৭১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, দুইজন পলাতক

মেহেরপুরের মল্লিকপাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি বসতবাড়ি থেকে ৭১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে রমেশ ক্লিনিকের সামনে রেহানা খাতুন নামের এক মহিলার বসতবাড়িতে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ৮(গ), ৪০ ও ৪১ ধারায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযানে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়াপাড়া এলাকার মোঃ সাহাদাৎ হোসেনের ছেলে মোঃ চঞ্চল (৩৭) ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ হেরোইন সংগ্রহ করে মল্লিকপাড়া এলাকার তার খালা মোছাঃ রেহানা খাতুনের (৪০) বসতবাড়িতে সংরক্ষণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন।

সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী উপপরিদর্শক মোঃ মিনারুল ইসলামসহ ৬ সদস্যের একটি রেইডিং টিম বুধবার সন্ধ্যায় রমেশ ক্লিনিকের সন্নিকটে রেহানা খাতুনের উত্তরমুখী দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা পাকা বাড়ি ঘেরাও করে। তবে অভিযানের সময় আসামিদ্বয়কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

পরে স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে রাত ৮টার দিকে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উত্তর-পূর্ব কোণের শয়নকক্ষে চার তাকবিশিষ্ট একটি প্লাস্টিক র‌্যাকের নিচের তাকে কাপড়ের ভাঁজে লুকানো অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো একটি হেরোইনের পোটলা উদ্ধার করা হয়।

দাপ্তরিক ডিজিটাল নিক্তিতে ওজন করে হেরোইনের পরিমাণ ৭১ গ্রাম পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ১ গ্রাম হেরোইন নমুনা হিসেবে পৃথক করে সিলগালা করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ যথানিয়মে জব্দ করে বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত দুজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মোছাঃ রেহানা খাতুন ও মোঃ চঞ্চলের স্ত্রী একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোছাঃ রেহানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একটি নাটকীয় অভিযান সাজিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। অভিযানের সময় তিনি বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। তার দাবি, তার বসতবাড়িতে কোনো তালা ভাঙার ঘটনা ঘটেনি এবং তিনি অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় ঘরে হেরোইন উদ্ধারের দাবি তুলে




আলমডাঙ্গার রামদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি গরুর মৃত্যু

আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকরা ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক খামারির তিনটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রায় ১১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি।

জানা যায়, গতকাল বুধবার আনুমানিক বেলা ১টার দিকে রামদিয়া গ্রামের প্রবাসী ইমাদুল হকের বাড়ির গরুর খামারে আগুন লাগে। খামারির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গরুর খামার গড়ে তোলেন ইমাদুল হক। শুরুতে দুটি গরু দিয়ে খামার কার্যক্রম শুরু করলেও পরে সেখানে অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুসহ কয়েকটি গরু ছিল, যার মধ্যে কোরবানির জন্য প্রস্তুত একটি গরুও ছিল।

ঘটনার সময় বাড়ির সদস্যরা আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে চারদিকে তালা দেওয়া ছিল এবং কাজের মেয়ে ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। হঠাৎ গরুর ঘর থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে ততক্ষণে দুইটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু আগুনে পুড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং পরে সেগুলোর মৃত্যু হয়। কোরবানির জন্য রাখা অপর গরুটি অল্পের জন্য রক্ষা পায় এবং বর্তমানে তুলনামূলক সুস্থ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হতে পারে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন। প্রাথমিক তদন্তে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ইমাদুল হক বলেন, প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।