মাদক, অনলাইন জুয়া ও আত্মহত্যা: নীরব সামাজিক বিপর্যয়

মাদক, অনলাইন জুয়া ও আত্মহত্যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বিষয়, যা ধীরে ধীরে মানুষের জীবন, পরিবার ও সামাজিক কাঠামোকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার বর্তমানে ঠিক এমনই এক নীরব সামাজিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। এর ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে বাড়ছে হতাশা, ঋণগ্রস্ততা, পারিবারিক অশান্তি এবং আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ অনলাইন জুয়ার ফাঁদে আটকে সর্বস্ব হারিয়ে চরম মানসিক সংকটে পড়ছেন।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে সহজেই প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। অল্প সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষকে এই অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।

মাদকের মতোই অনলাইন জুয়াও একটি ভয়াবহ আসক্তি। একজন ব্যক্তি যখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ে, তখন তার পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, কর্মজীবন ব্যাহত হয় এবং আত্মসম্মানবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই হতাশা আত্মহত্যার পথও তৈরি করে। ফলে এটি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং একটি জাতীয় সামাজিক সংকট।

উদ্বেগের বিষয় হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত জুয়ার এজেন্ট ও চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও এই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থের প্রবাহ ঘটছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কঠোর আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পরিবারকে সন্তানের অনলাইন কার্যক্রমের প্রতি নজর দিতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে লড়াই কেবল প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্মকে একটি বিপর্যস্ত সমাজের মুখোমুখি হতে হবে। তাই এখনই সময় কঠোর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার।




সরকারি ধান বিক্রিতে লাগছে বিএনপি-জামায়াতের টোকেন

মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছে থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও প্রান্তিক চাষীরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকরা ধান দিতে গেলে গুদাম কতৃপক্ষ কৃষকদের বলছেন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে স্লিপ নিয়ে ধান নিয়ে আসতে। এমন সমস্যা পড়েছেন হাজার হাজার প্রান্তিক চাষী। ফলে সরকারের নির্ধারিত দাম থেকে থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর সদর উপজেলায় কৃষকদের কাছে থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৭৩০ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। গত ৩ মে থেকে সেই ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুটি গ্রুপ এবং জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে চাষীরা তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রয় করতে পারছেন। এক্ষেত্রে যেসকল চাষীরা রাজনৈতিক স্লিপ পেয়েছেন তারা ধান দিচ্ছেন, যারা স্লিপ পাননি তারা ধান দিতে পারছেন না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির দুটি গ্রুপ ৬০ শতাংশ এবং জামায়াত ৪০ শতাংশ হিসেবে ধান দিচ্ছে এমন সমন্বয় তাদের মধ্যে হয়েছে।

মেহেরপুর পৌর এলাকার কালাচাঁদপুর গ্রামের ১৭ জন চাষী ধান দিতে গেলে তাদেরকে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে থেকে স্লিপ নিয়ে আসার কথা বলেন, সদর উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মাসুদ রানা। এমন অভিযোগ করেছেন কালাচাঁদপুর গ্রামের শান্ত নামের এক কৃষক।

ওই কৃষক জানান, ‘৩৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করার জন্য আমরা এলাকার কয়েকজন চাষী খাদ্য গুদামে আবেদন করেছিলাম এবং কৃষি অফিসারের সাথে প্রত্যায়ন নিয়েছি। গত ১৩ মে আমরা প্রত্যায়ন পেলেও এখন পযর্ন্ত ধান বিক্রি করতে পারিনি। ধান বিক্রি করতে গেলে ওসি এলডি মাসুদ রানা বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে থেকে স্লিপ নিয়ে আসেন।’

অভিযোগ করে শান্ত আরও বলেন, ‘ আমি ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। সাংসারিক প্রয়োজন মিটিয়ে ৪ টন ধান বিক্রি করতে পারবো। কিন্তু এমন দুর্নীতি-অনিয়ম করলে প্রান্তিক চাষীরা সরকারি সুফল পাবে না। এর বিহীত হওয়া উচিত।’

তবে এ তালিকার মধ্যে মনিরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বিএনপির এক গ্রুপের মাধ্যমে ৩ টন ধান দিতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি আরও বলেছেন, আমি দিতে পারলেও সবাই গুদামে ধান দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মাসুদ রানা বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে থেকেও ধান ক্রয় করছি। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হুকুমের গোলাম। এর বেশি কি করার আছে আমার?

তবে খাদ্য গুদামের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটি থেকে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। মেহেরপুরে বিএনপির দুটি গ্রুপ ও জামায়াতের সমন্বয়ে স্লিপ তৈরি করা হয়েছে। তারা তাদের পছন্দমত কৃষকদের এ স্লিপ দিচ্ছেন।

সদর উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এরশাদ আলী বলেন, প্রান্তিক চাষীদের কাছে থেকেও ধান সংগ্রহ করতে হবে। তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের কাছে থেকে ধান নেওয়ার সুযোগ নেই।

সদর উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সুত্রধর বলেন, প্রান্তিক চাষীরা যাতে ধান দিতে পারেন সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যে সকল চাষীরা ধান দিতে পারছেন না, তারা অভিযোগ করলে তাদের ধান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে রাজনৈতিক নেতাদের স্লিপের বিষয়টি উঠালে তিনি এড়িয়ে যান।

জানা গেছে, গত ৩মে থেকে শুরু হয়েছে সরকার নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ অভিযান। চলবে ৩১ আগষ্ট পযর্ন্ত। এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩০ টন। গত ৪ জুন পযর্ন্ত শহরের খাদ্য গুমামে ১১৪ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




হরিণাকুণ্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে আজিজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মালসাগাড়ীর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রহিম মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে তিনি পানের ক্ষেতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মাঠের মধ্যেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও জানা যায়, বজ্রপাতের কিছুক্ষণ পর স্থানীয় এক নারী মাঠে গরু আনতে গিয়ে আজিজুল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীকে খবর দেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌরসভার চটকাবাড়িয়া মাঠে বজ্রপাতে আজিজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রহিম মণ্ডলের ছেলে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।”




আলমডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি, দৃশ্যমান হয়নি পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আলমডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কথা থাকলেও তার দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বার্তা প্রচার করেন।

তবে কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মৌখিকভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হলেও তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তারসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অনেকের মতে, র‍্যালি শেষে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলে কর্মসূচিটি আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতো।




জ্ঞানভান্ডার: কুষ্টিয়ার পাঠক সংস্কৃতির এক জীবন্ত ইতিহাস

কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর ট্রাফিক অফিসের পাশেই রয়েছে একটি পরিচিত নাম— জ্ঞানভান্ডার। বাইরে থেকে এটি একটি সাধারণ স্টেশনারি ও ফটোকপির দোকান মনে হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কুষ্টিয়ার বই, পত্রিকা ও পাঠক সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস। প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন মুকুল শেখ। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেখেছেন পাঠকের আগ্রহ, সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের নানা রূপ।

বর্তমানে জ্ঞানভান্ডারে সংবাদপত্র বিক্রির পাশাপাশি ফটোকপি, কম্পিউটার প্রিন্ট, স্টেশনারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়লেও প্রতিষ্ঠানটির নাম ও ঐতিহ্য আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

দোকানের নাম ‘জ্ঞানভান্ডার’ কেন রাখা হয়েছিল জানতে চাইলে মুকুল শেখ বলেন,

“আমি প্রায় ২৭ বছর ধরে এই দোকান পরিচালনা করছি। তবে আমার আগেও এখানে রবীন্দ্রনাথ সেন বই-পুস্তক বিক্রি করতেন। তখন থেকেই দোকানের নাম ছিল ‘জ্ঞানভান্ডার’। মূলত বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা বিক্রি হতো বলেই এই নাম রাখা হয়েছিল। জ্ঞান অর্জনের জন্য তো বই-পুস্তকের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এই নামের মধ্যেই সেই ভাবনাটা রয়েছে।”

একসময় জ্ঞানভান্ডার ছিল কুষ্টিয়ার সংবাদপত্রপ্রেমী মানুষের অন্যতম ঠিকানা। সকাল হলেই জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা কিনতে মানুষের ভিড় লেগে যেত। দিনের শুরুতেই খবরের কাগজ হাতে নেওয়া ছিল অনেকের অভ্যাস।

কিন্তু সময় বদলেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের সংবাদ গ্রহণের মাধ্যমও। এখন আর আগের মতো পত্রিকা বিক্রি হয় না।

মুকুল শেখ আক্ষেপের সুরে বলেন, “আগে সকাল হলেই পত্রিকা কিনতে মানুষের ভিড় লেগে থাকত। জাতীয় ও স্থানীয় অনেক পত্রিকা বিক্রি হতো। এখন মানুষ মোবাইল ফোনে খবর পড়ে। ফলে পত্রিকার বিক্রি অনেক কমে গেছে। তারপরও কিছু নিয়মিত পাঠক আছেন, যারা এখনও প্রতিদিন পত্রিকা কিনতে আসেন।”

প্রবীণ পাঠক আব্দুল কাদের বলেন, “একসময় সকালে পত্রিকা না পড়লে দিনই শুরু হতো না। দেশের খবর, খেলাধুলা, সাহিত্য থেকে শুরু করে সবকিছুই জানতাম পত্রিকার মাধ্যমে। এখন মানুষ মোবাইলে খবর পড়ে, কিন্তু কাগজের পত্রিকার যে আলাদা অনুভূতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে, তা কখনো হারিয়ে যাবে না। জ্ঞানভান্ডারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।”

স্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকার সম্পাদক বলেন,

“সংবাদপত্র শুধু খবর পরিবেশন করে না, এটি সমাজের ইতিহাস সংরক্ষণ করে। ডিজিটাল যুগে প্রিন্ট মিডিয়া নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও সংবাদপত্রের গুরুত্ব এখনও ফুরিয়ে যায়নি। জ্ঞানভান্ডারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠক ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।”

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী লাকী মিজান বলেন,

“কুষ্টিয়ার সংবাদপত্র সংস্কৃতির সঙ্গে জ্ঞানভান্ডারের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বহু বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি পাঠকদের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দিয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে ব্যবসার ধরন বদলালেও জ্ঞানভান্ডার এখনও জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাসের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। এটি শুধু একটি দোকান নয়, কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।”

ডিজিটাল যুগে কাগজের পত্রিকার পাঠকসংখ্যা কমে গেলেও জ্ঞানভান্ডার এখনও অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বই, পত্রিকা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রতীক হয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজও স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কখনো ফুরিয়ে যায় না। কুষ্টিয়ার পাঠক সংস্কৃতির ইতিহাসে তাই জ্ঞানভান্ডার শুধু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি স্মৃতি, একটি ঐতিহ্য এবং একটি জীবন্ত ইতিহাস।




গাংনী ও মুজিবনগর থানায় নতুন ওসি নিয়োগ

মেহেরপুর জেলার দুই থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী ও উত্তম কুমার দাস।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এবং মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উত্তম কুমার দাস।




আলমডাঙ্গার বেলগাছি পালপাড়ার মন্দির ধ্বংসের মুখে, ৫০ বছরেও হয়নি সংস্কার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি পালপাড়ায় অবস্থিত পালবাড়ির ঐতিহ্যবাহী হরি মন্দিরটি দীর্ঘ ৫০ বছরেও কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। শতবর্ষী এই ধর্মীয় উপাসনালয়টি এখন টিকে থাকার সংকটে রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে মন্দিরটিতে কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি। ফলে সময়ের আবর্তে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এই পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনাটি। এলাকায় সংখ্যালঘু কয়েকটি পরিবারের বসবাস। তাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মন্দিরটির সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো কাঁদামাটির গাঁথুনিতে নির্মিত মন্দিরটির দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট খসে পড়ছে, পলেস্তারা উঠে গিয়ে ভেতরের কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত টিনের চাল মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায়।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুকুমার কুমার পাল বলেন, “পূর্বপুরুষের আমল থেকে এই মন্দিরটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা দেখভাল করার চেষ্টা করি। কিন্তু এখন বড় ধরনের সংস্কার না হলে মন্দিরটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল বলেন, “প্রতি বছরই শুনি বরাদ্দ আসবে, কাজ হবে। কিন্তু পঞ্চাশ বছর কেটে গেলেও চোখে পড়ার মতো কোনো কাজ হয়নি। বরাদ্দ এসে থাকলে সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব মানুষের সামনে আসা দরকার।”

স্থানীয় বাসিন্দা কাছেদ আলী বলেন, “বহুবার শুনেছি সরকারি বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও মন্দিরে কোনো কাজ হতে দেখিনি। টাকা কোথায় যায়, এলাকার মানুষ তা বোঝে; শুধু মুখ খুলতে পারে না। কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে দেখা।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড সদস্যদের মাধ্যমেই সাধারণত এ ধরনের বরাদ্দসংক্রান্ত কাগজপত্র পরিচালিত হয়। তবে বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবঞ্চিত এই মন্দিরটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে মন্দিরটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় স্থাপনাটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান ও সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।




গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বজ্রপাতে আলী হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছেন। নিহত আলী হোসেন পুরাতন মটমুড়া গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি ইউনুস আলীর ছেলে। সে বাওট সোলাইমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় পুরাতন মটমুড়া গ্রামে একটি মাঠে কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতের সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটলে গুরুতর আহত হয় আলী হোসেন। 

তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বামন্দীর একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।




গাংনীতে এলজিইডির হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের হিসাবরক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিল ছাড়ের নামে কমিশন নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

উন্নয়ন কাজের বিল দ্রুত প্রস্তুত ও ছাড় করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করেন বলে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা দাবি করেছেন। এতে অনেক ঠিকাদার একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

​নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিল জমা দিলেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী কমিশন দিলে দ্রুত বিল তৈরি হয়ে যায়। সরকারি নিয়ম মেনে কাজ শেষ করার পরও বিলের জন্য অফিসে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হতে হয়। টাকা দিলে কাজের গতি বাড়ে, না দিলে তৈরি করা হয় নানা জটিলতা।

​এছাড়া ওই হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস ফাঁকি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। ঠিকাদারদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শতভাগ ঠিক থাকার পরও বিল নিষ্পত্তিতে তাঁদের অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়।

​স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, আসাদুজ্জামান স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন। এমনকি তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনাকেও তোয়াক্কা করেন না। তাঁদের ভাষায়, অফিসে যেন এক ধরনের রামরাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না, কারণ প্রতিবাদ করলে ভবিষ্যতে আরও বড় হয়রানির শিকার হতে হবে।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে হিসাবরক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারলে আমাকে বদলি করে দেন।

​এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, আসাদুজ্জামানকে নিয়ে আমিও বড় বিপদে আছি। সব কথা ইচ্ছে থাকলেও বলতে পারি না।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গাংনী এলজিইডি অফিসের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




রং-তুলিতে মেসি, আলোচনায় কুষ্টিয়ার শিল্পী শরিফুল শেখ

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকে বিশাল দেয়ালজুড়ে তার প্রতিকৃতি এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার তরুণ শিল্পী শরিফুল শেখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আঁকা ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি।
প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন, ছবি তুলছেন এবং শিল্পীর সৃজনশীলতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদূরপুর এলাকার আড়কান্দী বাজার সংলগ্ন কয়েকটি দোকানের ফাঁকা দেয়ালে প্রায় ১৫ ফুট বাই ১০ ফুট জায়গাজুড়ে নিজ খরচে চারটি বড় আকারের ছবি এঁকেছেন শরিফুল। এর মধ্যে দুটি রঙিন এবং দুটি সাদা-কালো প্রতিকৃতি রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই একান্ত ভালোবাসা ও আবেগ থেকে তিনি এ কাজ করেছেন।
শরিফুল শেখের বাবা মৃত নুরুল ইসলাম এবং মা আকলিমা খাতুন। পেশাগতভাবে তিনি একজন কমার্শিয়াল আর্টিস্ট। পাশাপাশি ভেড়ামারার ব্রাইট ফিউচার মডেল স্কুলে ড্রইং শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শুধু চিত্রকলাই নয়, তিনি লোকসংগীতের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
শরিফুল শেখ জানান, ২০০২ সাল থেকে তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে।
তিনি বলেন, “২০০২ সাল থেকেই আমি আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। পরবর্তীতে মেসির খেলা, ব্যক্তিত্ব ও সংগ্রামের গল্প আমাকে মুগ্ধ করে। তাই সুযোগ পেলেই তার ছবি আঁকার চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, “গত বিশ্বকাপের সময়ও আমি মেসির একটি ছবি এঁকেছিলাম। এবারও সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে এবং ভালো লাগা থেকেই এই কাজ করেছি। কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না।”
স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা বলছেন, এমন উদ্যোগ শুধু ফুটবলপ্রেমই নয়, শিল্পচর্চারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি দেখতে আসছেন এবং শিল্পীর সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, গ্রামাঞ্চলে এমন বড় ক্যানভাসে আন্তর্জাতিক তারকার প্রতিকৃতি খুব একটা দেখা যায় না। শরিফুল শেখের আঁকা মেসির ছবি এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন ধরনের আগ্রহ তৈরি করেছে।
তবে শরিফুল শেখের শিল্পীজীবন শুধু মেসির প্রতিকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় কবি, সাহিত্যিক, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি এঁকে পরিচিতি লাভ করেছেন।
বিশেষ করে লালন সাঁইজির প্রতিকৃতি অঙ্কন এবং শিল্পচর্চায় তার নিষ্ঠা তাকে জাতীয় পর্যায়েও পরিচিতি এনে দেয়। তার প্রতিভা ও শিল্পকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান তিনি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও নির্মাতা ছিলেন কিংবদন্তি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।
আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব কুষ্টিয়ার প্রধান উপদেষ্টা এসএম কাদেরী শাকিল বলেন, “লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও অনুপ্রেরণার নাম। শরিফুল শেখ যে ভালোবাসা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মেসির প্রতিকৃতি এঁকেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই নিজের উদ্যোগে এমন শিল্পকর্ম তৈরি করা সহজ বিষয় নয়। আমরা আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তার এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এটি শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি।”
শিল্পবোদ্ধাদের মতে, গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের কাছ থেকে উঠে আসা এমন প্রতিভাবান শিল্পীরা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন। শরিফুল শেখের মতো শিল্পীরা প্রমাণ করছেন, শিল্পচর্চার জন্য বড় শহর নয়, প্রয়োজন মেধা, অধ্যবসায় ও ভালোবাসা।
রং-তুলিতে ফুটে ওঠা মেসির প্রতিকৃতি আজ শুধু একজন ফুটবলারের ছবি নয়, বরং একজন গ্রামীণ শিল্পীর স্বপ্ন, আবেগ ও সৃজনশীলতার উজ্জ্বল প্রকাশ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আড়কান্দী বাজারে তাই দেয়ালজুড়ে আঁকা সেই ছবিগুলো এখন স্থানীয় মানুষের কৌতূহল, প্রশংসা এবং গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।