কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানা সিলগালা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।

শনিবার রাত প্রায় ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‍্যাব ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একটি গুদামে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পাঁচটি মেশিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট, কাঁচামাল ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি র‍্যাব।

অভিযানকালে দেশীয় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট, অবৈধ ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির ৬টি মেশিন, প্রায় এক লাখ শলাকা ডার্বি ও স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট, একটি পিকআপ (কাভার্ডভ্যান), ১৪০ কেজি প্রক্রিয়াজাত তামাক, ২৪ হাজার সিগারেট ফিল্টার, একটি মোটরসাইকেল ও একটি বক্সভ্যান জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন অবৈধ সিগারেট কারখানার বিস্তার ঘটছে।

সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব কারখানায় নকল ও নিম্নমানের তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে গুদামের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, প্রায় দেড় মাস আগে শাকিল নামের এক ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় গুদামটি ভাড়া দেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল, এমন বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন স্কুলশিক্ষক। স্কুলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওই দিকে খুব একটা যাওয়া হয় না।”

র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার জানিয়েছেন, জব্দ করা মালামাল ও কারখানাটি নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নকল সিগারেট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে নিম্নমানের তামাক ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্যও এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক কার্যক্রম চললেও বাইরে থেকে সেটি সাধারণ গুদামঘরের মতো দেখাত। অভিযানের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।




চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের দুই যুবক নিহত

ঝিনাইদহ থেকে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের দুই যুবক নিহত হয়েছে এছাড়া আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (৯মে) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহণের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের চাঁদ আলী বকসের ছেলে নাইমুর রহমান জিহাদ (২১) ও একই উপজেলার পোতাহাটী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের একমাত্র ছিলে নাঈম (২২)।

নিহত’র খবর নিশ্চিত করে সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন শনিবার বিকালে জানান, জিহাদ ও নাঈমসহ তারা ৮ জনের একটি গ্রুপ ঘুরতে কক্সবাজারে যায়। তাদের বহনকৃত যাত্রীবাহী বাসটি শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে পৌছালে দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় তাদের আরো ৪ বন্ধু গুরুতর আহত হন বলেও ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান। নাঈম ছিল সদা হাস্যউজ্জল এক যুবক। তার আকস্মিক মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে নাঈম তার পিতার একমাত্র ছেলে ছিলেন। সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম জানান, যুবক নাইমুর রহমান জিহাদ বিজিবির চাকরী করতেন। চাকরীর বয়সও বেশি দিন হয়নি। চাকিরির ট্রেনিং পিরিয়ডে কষ্ট হওয়ায় জিহাদ চাকরী ছেড়ে বাড়ি চলে আসে। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঝিনাইদহ সদর থানর ওসি আসাদুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নাইমুর রহমান জিহাদ ও নাঈম নামে দুই যুবকের মৃত্যুর তথ্য জানতে পেরেছেন। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোতাহাটী ও বাজারগোপালপুর গ্রামে।




হরিণাকুণ্ডুতে বটগাছের ডালে ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্ট

শান্ত সবুজে ঘেরা পরিবেশ, পাশে নিঃশব্দে বয়ে চলা পানির ধারা আর মাথার ওপরে খোলা আকাশ। প্রকৃতির এমন অপূর্ব মঞ্চেই গড়ে উঠেছে এক অনন্য রেস্টুরেন্ট। যেখানে মাটিতে নয়, বরং গাছের ডালে বসেই উপভোগ করা যায় চা, কফি ও পছন্দের নানা খাবার।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চারাতলা বাজার সংলগ্ন ঘোড়দহ গ্রামে বিশাল এক বটগাছের ওপর কাঠের মাচা তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট’। বাস্তবতার মাঝেই যেন স্বপ্নের মতো এক পরিবেশ, যেখানে বসলে শহরের কোলাহল ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ডুবে যাওয়া যায় সহজেই।হরিণাকুণ্ডুতে বটগাছের ডালে ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্ট

এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন গ্রামের দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ কনক হোসেন ও আবির হাসান। তাদের এই সৃজনশীল চিন্তা ইতোমধ্যেই  কৌতূহলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে।

সেখানে ঘুরে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টে উঠতে হলে গাছের গায়ে লাগানো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় ওপরে। কাঠ দিয়ে তৈরি মাচায় বসে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করা যায়। কোকিলের ডা

হরিণাকুণ্ডুতে বটগাছের ডালে ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্ট

ক, পাখিদের কিচিরমিচির আর মৃদু বাতাস মিলিয়ে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এমন পরিবেশে এক কাপ চা বা প্রিয় খাবার যেন বাড়িয়ে দেয় আনন্দের মাত্রা।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিব হাসান বলেন, এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো পাইনি। গাছের ওপর বসে চা খাওয়া সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে মনে হচ্ছে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।

শহরের চাকলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিউলি খাতুন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন কিছু হবে ভাবতেই পারিনি। এখন অনেক মানুষ আসছে, এতে এলাকাও পরিচিত হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উদ্যোক্তা কনক হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম মানুষকে একটু ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দিতে, যেন তারা প্রকৃতির কাছাকাছি এসে কিছু সময় শান্তিতে কাটাতে পারে।’

অন্য উদ্যোক্তা আবির হাসান বলেন, ‘শুরুটা ছোট হলেও ভবিষ্যতে আমরা এখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তুলতে চাই, যাতে দর্শনার্থীরা আরও বেশি আকৃষ্ট হয়।’

ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে, হরিণাকুন্ডু সড়কের চারাতলা বাজারের পাশেই অবস্থিত এই রেস্টুরেন্ট। এছাড়া হলিধানি বাজার হয়ে কাতলামারী-চারাতলা সড়ক দিয়েও সহজেই পৌঁছানো যায় এই ব্যতিক্রমী স্থানে।




ঝিনাইদহে কাল্বের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’র বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের কুটুম কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনটির ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির সদর উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সেক্রেটারী খুরশিদ মোহাম্মদ সালেহ’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু।

প্রধান আলোচক ছিলেন কাল্ব’র ট্রেজারার নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাল্ব’র ‘গ’ অঞ্চলের ডিরেক্টর অধ্যক্ষ শেখ সহিদুল ইসলাম, মাগুরা-নড়াইল-ঝিনাইদহ জেলার শাখা ব্যবস্থাপক শাহাজুল হক।

এ সভায় সদর উপজেলার দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন। সভায় বিগত বছরের আয়-ব্যয় ও হিসাব-নিকাশ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।




মেহেরপুরের বারাদীতে বিএডিসি সার গুদামে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

মেহেরপুরের বারাদীতে নির্মাণাধীন বিএডিসির ৪ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সার গুদামের মেঝের সোলিং ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জামায়াত নেতৃবৃন্দ। পরে সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।

জানা যায়, সার গুদামের সোলিং ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পান মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খান। তার নির্দেশনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ একটি প্রতিনিধি দল।

পরিদর্শন শেষে জাব্বারুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ তিন নম্বর ইট দিয়ে করা হচ্ছে। অথচ সিডিউল অনুযায়ী এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা।”

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

পরে তদারকির দায়িত্বে থাকা বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী একরামুল হককে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি বলেন, “আমি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন পরিদর্শনে যাই। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ পরিদর্শন করেছি। সিডিউল অনুযায়ী এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা এবং আমরা সেটিই দেখেছি।” উপ-সহকারী প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম বলেন, “সরেজমিনে আমরা তিন নম্বর ইট ব্যবহার হতে দেখেছি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন বারাদী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড আমির মজিবর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




চুয়াডাঙ্গায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগে ইউপি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

চুয়াডাঙ্গায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগে দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এক উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রাত ২টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ (৩৫) এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদসহ বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

গত বৃহস্পতিবার বিধিবহির্ভূতভাবে জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রকে জানান এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।

অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, উপযুক্ত প্রমাণক ছাড়াই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার মোহাম্মদ শহিদ মিয়া এবং কুমিল্লা জেলার বিল্লাল নামের দুই ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। তাদের বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রাম।

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, তারা কেউই ওই এলাকার বাসিন্দা নন এবং স্থানীয়রাও তাদের চেনেন না। গত ১২ মার্চ ও ৭ মার্চ বিধিবহির্ভূতভাবে তাদের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দর্শনা থানার পরিদর্শক হিমেল রানা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।




দামুড়হুদার ডুগডুগী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি মাংসের দোকান ও একটি ওষুধের দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।

অভিযানকালে ডুগডুগী বাজারের হোসেন ড্রাগ হাউসে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে দোকানের মালিক শরিফুল ইসলামকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপসারণ করা হয়।

এছাড়া একই বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি ও পশু জবাই সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে মাংস বিক্রেতা মহিদুল ইসলামকে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ২৪(১) ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় জব্দকৃত মাংস বিনষ্ট করা হয়।

অভিযানে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন সহযোগিতা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




গাংনীতে লাটাহাম্বার কেড়ে নিল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর প্রাণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় স্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যান লাটাহাম্বার চাপায় সানজিদা খাতুন (৬) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সকাল পৌনে ১১টার দিকে তেঁতুলবাড়িয়া-বামন্দী সড়কের করমদি সন্ধানী মোড়ের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় চালক সাব্বির হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

নিহত সানজিদা খাতুন করমদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং করমদি গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী সাজেদুল হকের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, সানজিদা খাতুন রাস্তা পার হওয়ার সময় তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা বালুবোঝাই স্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যান লাটাহাম্বার তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দামুড়হুদায় স্ত্রীর নির্দেশে স্বামীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর শাহপাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আক্তার হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। আহত আক্তার বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আক্তার হোসেন জয়রামপুর শাহপাড়ার মৃত সবুর আলির ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই সুমন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার দামুড়হুদা মডেল থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-৬, তারিখ ০৭/০৫/২০২৬ ইং।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে জয়রামপুর চৌধুরীপাড়ার ফকির মোহাম্মদের মেয়ে তাসলির সঙ্গে আক্তারের বিয়ে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং গত ৭ মে তাদের তালাক হওয়ার কথা ছিল। এর জের ধরে কিছুদিন ধরে আক্তারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জয়রামপুর শাহপাড়ায় রুবেলের ট্রাক্টর গ্যারেজের সামনে আক্তার পৌঁছালে তাসলি ও তার মা মেমজান পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা মুখ কাপড়ে ঢেকে ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, লোহার রড ও জিআই পাইপ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রাণ বাঁচাতে আক্তার গ্যারেজের ভেতরে আশ্রয় নিলেও সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আক্তারের মাথা, বুক, পেট, হাত, পিঠ ও পায়ে মোট ১০-১২টি গুরুতর কোপ লাগে। পরে হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়ায় চিকিৎসকরা মোট ৭৮টি সেলাই দিয়েছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় সুমন নামের একজন বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”




আলমডাঙ্গায় আম-লিচু বাগান নিয়ে সংঘর্ষ, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪

আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় আম ও লিচু বাগানের মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করেছে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্প।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের একটি আম ও লিচু বাগানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বাগান পরিদর্শন ও কাঁটাতারের বেড়া মেরামতের উদ্দেশ্যে শহিদুল ইসলাম (৫৫) তার সঙ্গে শাহিবুল (২৭), শাস্তি (৬৫) ও জুয়েলকে (২৫) নিয়ে বাগানে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড, ফালা, ঝুপি, চাইনিজ কুড়াল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে শাহিবুল, শাস্তি ও জুয়েলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন।

একপর্যায়ে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় মজিবুল ইসলাম (৩০) এগিয়ে এসে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত নিলু তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার মাথার ডান পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

অপরদিকে সাত্তার (৫০) সংঘর্ষ থামাতে গেলে অভিযুক্ত কালু তাকে লক্ষ্য করে কোপ মারতে যায়। এসময় তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে যায় এবং কবজিতেও গুরুতর জখম হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত সাত্তারকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে আহত মজিবুলকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মাথায় প্রায় ৩৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভাংবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন নিলু (৩০), কালু (৪০), নালু (৩৫) ও আইতাল (৫৫)। তারা সবাই মৃত রিজাল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রামদা, একটি ধারালো ছুরি, একটি কুড়াল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব দেশীয় অস্ত্র সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ও এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।