মুজিবনগরগামী যাত্রীবাহী বাসের দামুড়হুদায় দুর্ঘটনা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি দোকানে ঢুকে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোরে কুয়াকাটা থেকে মুজিবনগরগামী নিউ মডার্ন পরিবহনের একটি বাস দামুড়হুদার জয়রামপুর কাঁঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি দোকানে গিয়ে আঘাত হানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা সব যাত্রী অক্ষত রয়েছেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে দোকানটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটির হেলপার গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।




সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই যুবলীগ নেতা শহীদ সরফরাজ মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদেশ বাস্তবায়নে প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে ক্রোক আদেশ বাস্তবায়ন হতে পারে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এনআই এ্যাক্টের ১৮ ধারায় মেহেরপুরের যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের বিরুদ্ধে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন তার ব্যবসায়ী অংশিদার দেবাশীষ কুমার বাগচি। যার মামলা নম্বর- এস.সি-১৫৬/২০২৪।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সরফরাজ হোসেনের মৃদুলকে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুন জরিমানা ও এক বছরের সাজা প্রদান করে রায় দেন। রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট সময় পার হলেও আসামি সরফরাজ হোসেন মৃদুল কোন আপিল করেননি।

পরবর্তিতে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বাদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৬ ধারা মতে জরিমানা টাকা আদায়ের জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোক করার জন্য মেহেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। একই আদেশের কপি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে পাঠানো হয়।

আসামী শহীদ সরফরাজ মৃদুলের মালিকানাধীন ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকায় আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৩টি সিলিং ফ্যান, ১টি ফ্রিজ, ২টি খাট, এক সেট সোফা, ২টি আলমিরা, ১টি ড্রেসিং টেবিল, ১টি এসি। যেগুলোর মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজায় ৬৬৯২ নম্বর খতিয়ানে ২.৮২৯২ একর জমি, মেহেরপুর মৌজার ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০.০০৩২ একর জমি, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানে ০.০২৭৫ একর জমি, একই খতিয়ানের ভিন্ন দাগে ০.০০২৫ একর জমি, ১১৭১৮ নম্বর খতিয়ানের ০.০৪২১ একর জমি, হরিরামপুর মৌজায় ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০.৪৬ একর জমি। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩.৩৬৪৫ একর জমি যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মামলার বাদি দেবাশীষ কুমার বাগচি জানান, আদালত আড়াই মাস আগে ক্রোক আদেশ দিয়েছেন। আড়াইমাস পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন থেকে এখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।হবে , হচ্ছে বলে শুধু দিন পার করছেন।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, “ ক্রোক আদেশের কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন,“ক্রোকের আদেশ পাওয়ার পর সাবেক ভিসি স্যার এসি ল্যান্ড কে তদন্ত দিয়েছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে ডিসি স্যার কে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্যার বদলি হয়ে যাওয়ায় ক্রোক আদেশ বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আশা করি আগামী সপ্তাহে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারবো।”




চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গায় ডিএনসির অভিযানে ৮ জন গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার পরিচালিত এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের মোঃ বিশারত আলী (৩৮) ও নওদাবন্ডবিল গ্রামের মোঃ কলম (৫০) মাদক সেবনের অপরাধে প্রত্যেকে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমানা পান।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার গোহাট সংলগ্ন ফকিরপাড়ার মোঃ নুর আলমের (৩২) কাছ থেকে ১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

গোপীনাথপুর গ্রামের মোঃ ফিরোজের (৩০) কাছ থেকে ৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার হওয়ায় তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

বলরামপুর গ্রামের মোঃ সোহাগ হোসেনের (৩৩) কাছ থেকে ২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মোহাম্মদপুর গ্রামের মোঃ সোহাগ ইসলামের (২১)কাছ থেকে ১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার হওয়ায় উভয়কে একই সাজা প্রদান করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পামপাড়া স্কুলপাড়ার মোঃ আশাদুল হকের (৫০) কাছ থেকে ১ পিস বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার হওয়ায় তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই উপজেলার সুমিরদিয়া কলোনিপাড়ার মোঃ তুহিনের (২৫) কাছ থেকে ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় তাকে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল শামীম ও এস এম আশিস মোমতাজ।

অভিযান শেষে তারা জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।




আলমডাঙ্গায় দুধ বিক্রেতাদের হাহাকার: মিষ্টির দোকান দ্রুত বন্ধে বিপাকে খামারিরা

সারা দেশে সরকার ঘোষিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মিষ্টির দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক দুধ বিক্রেতা ও ডেইরি খামারিরা।

মিষ্টির দোকানগুলো দুধের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় ব্যবসার সময় কমে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার দুধ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। এতে করে সংশ্লিষ্ট খাতের মানুষজন পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় সাধারণ হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলো দীর্ঘসময় খোলা রাখার অনুমতি পেলেও মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সাধারণত বিকেলের পর খামারিরা দুধ সংগ্রহ করে মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খামারিরা সময়মতো দুধ পৌঁছে দিতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দোকানদাররা আগেভাগেই দুধ কেনা বন্ধ করে দিচ্ছেন, ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পচনশীল এ পণ্যটি।

ভুক্তভোগী এক খামারি বলেন, “গরুর দুধ বিকেলে সংগ্রহ করা হয়। বাজারে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। মিষ্টির দোকান ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেলে আমরা এই দুধ কোথায় বিক্রি করব? হোটেলগুলো খোলা থাকলে মিষ্টির দোকান কেন বন্ধ থাকবে?”

আলমডাঙ্গার মিঠাই বাড়ি, মিঠাই মেলা, কুটুম বাড়ি, হারান মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, চন্দনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ বেশ কয়েকটি মিষ্টির দোকানের ব্যবসায়ীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় গরমের মধ্যে দুধ কিনে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

খামারি ও বিক্রেতাদের দাবি, মিষ্টির দোকানগুলোকে সাধারণ হোটেলের মতো অন্তত রাত সাড়ে ৮টা বা তার বেশি সময় পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। এতে দুধের অপচয় কমবে এবং শতাধিক খামারি ও প্রান্তিক উৎপাদক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।




মেহেরপুরে পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

মেহেরপুরে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সমস্যার সমাধান করেন এবং অন্যান্য বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মেহেদি হাসান দিপুসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিভিল স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে শব্দ দূষণবিরোধী অভিযানে ৫ যানবাহনকে জরিমানা

জাতীয় শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর সদর উপজেলার পাসপোর্ট অফিসের সামনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত বিধি অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া গেলে ৬(২) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১৯ বিধি অনুযায়ী ৫টি যানবাহনকে মোট ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।




মেহেরপুরে বাজার মনিটরিং অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

মেহেরপুরের বড়বাজারে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানকালে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রয়-বিক্রয়ের পাকা ভাউচার সংরক্ষণ এবং পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮ ধারা এবং কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-এর ১৯(১)(ঙ) ধারায় তিনটি পৃথক মামলায় মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত ও বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নাফিউল

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত উপস্থিত বক্তৃতা (একক) প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মোঃ নাফিউল ইসলাম।

মঙ্গলবার বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস-আর-রেজার সভাপতিত্বে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ গোলাম হায়দারের হাত থেকে নাফিউল ইসলাম সম্মাননা গ্রহণ করেন।

খুলনা অঞ্চলে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তাঁর বাচনভঙ্গি, যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপন এবং আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপস্থিত বিচারক জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহেজাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিযোগিতায় তাঁর এই কৃতিত্ব তাকে বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা বক্তার আসনে অধিষ্ঠিত করে।

তাঁর এ সাফল্যে কলেজ পরিবারসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে।




মেহেরপুরে ইটভাটায় অবৈধভাবে কাঠ ব্যবহার, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের বারাকপুর এলাকায় অবস্থিত আলিফ ব্রিক্স নামক একটি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাটাটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দেখা যায়, ইট প্রস্তুতের জন্য জ্বালানি হিসেবে অবৈধভাবে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর সরাসরি লঙ্ঘন।

এ অপরাধে ভাটা কর্তৃপক্ষকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় ভাটাটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।




দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন

এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ২য় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে, যা প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও চড়া মুনাফার সুবাদে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ডিস্টিলারিটি দারুণ সাফল্য পেয়েছে, যা কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

লোকসানি চিনি ইউনিটের ৬২ কোটি টাকা লোকসান সমন্বয় করার পরও কেরুর সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট থেকেই মুনাফা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট, মদের ব্যবসাই এখন কোম্পানিটির মূল আর্থিক চালিকাশক্তি।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিস্টিলারিটির মোট আয় ৩ শতাংশ কমে ৪৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত গত বছরের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে উৎপাদন ও মদের ব্যবহার কমে যায়।

তা সত্ত্বেও এই পরিসংখ্যান গত দুই বছরের কাছাকাছি। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরসহ টানা তিন বছর ধরে ডিস্টিলারি ইউনিটটি ধারাবাহিকভাবে ৪০০ কোটি টাকার বেশি মোট রাজস্ব ও ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এই ইউনিটে প্রায় বারো ধরনের মদ উৎপাদন হয়।

মুনাফার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে গত সাত বছরে প্রতিবারই মুনাফার ক্ষেত্রে আগের বছরকে ছাড়িয়ে গেছে কেরু। ডিস্টিলারি ইউনিটের নিট মুনাফার হার ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে চিনির ব্যবসা এখনও অলাভজনক রয়ে গেছে।

নিট মুনাফার মার্জিন একটি কোম্পানির লাভজনকতা নির্দেশ করে। সব খরচ বাদ দেওয়ার পর মোট রাজস্বের কত শতাংশ মুনাফা হিসেবে থাকে, তা-ই উঠে আসে নিট মুনাফায়। নিট মুনাফার হার বেশি হলে সেটি কোম্পানির দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতার পরিচায়ক। এর অর্থ, কোম্পানি তাদের বিক্রি থেকে বেশি আয় ধরে রাখতে পারছে।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা কেরু অ্যান্ড কো (বাংলাদেশ) মূলত একটি চিনিকল পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দর্শনায় অবস্থিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারিতে চিনির উপজাত ঝোলাগুড় থেকে স্থানীয়ভাবে অ্যালকোহল তৈরি করে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আখ থেকে চিনি তৈরির পর অবশিষ্টাংশ বা ছোবড়া থেকে জৈব-সার উৎপাদন করে। কোম্পানিটির বাণিজ্যিক খামার ও একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটও রয়েছে।

কেরুর কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালে সরকার বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর করার পর থেকে কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বেড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কেরুকে তার সক্ষমতা ও উৎপাদন দুটিই বাড়াতে হয়েছে।

কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘কোম্পানির ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে এত বেশি মুনাফা আর কখনও হয়নি। বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দেশে উৎপাদিত কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ডিস্টিলারি ইউনিটই নয়, কেরুর অন্যান্য ব্যবসায়িক বিভাগ—খামার, জৈবসার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটগুলোও এ বছর ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে।’

অধিক মুনাফা সত্ত্বেও বিক্রি কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বিক্রি কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে বছরের শেষের দিকে তা আবার বাড়ে, যা মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

রাব্বিক আরও বলেন, ‘কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ডিস্টিলারি ইউনিটের বকেয়া পাওনা আদায়ের মতো বেশ কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি। এছাড়া গত বছর আমরা মদের দামও বাড়িয়েছি।’

চিনি ইউনিটের জন্য ১০২ কোটি টাকার বিএমআরই প্রকল্প

মদ থেকে বিপুল মুনাফা এলেও কেরুর চিনি উৎপাদন কার্যক্রম কেরুর আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬২ কোটি টাকা লোকসানের ফলে এর মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৯৩১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

কেরুর সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, যোগদানের পর থেকে চিনিকলটির সব বিভাগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।চিনি বাদে সব বিভাগে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চিনি উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে আখ মাড়াই করে উৎপাদিত চিনিতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এর সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদ চিনি ইউনিটের লোকসানকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।’

চিনি ইউনিটকে পুনরুজ্জীবিত করতে কেরু ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর আধুনিকায়নের কাজ করছে। এর মধ্যে ৯২ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ও ১০ কোটি টাকা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে আসছে।

বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন) প্রকল্পটি ২০১২ সালে দুই বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে শুরু হলেও বারবার বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং ১৩ বছর পরেও পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষ করতে পারেনি। সম্প্রতি আখ মাড়াই মৌসুম সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন ব্যর্থ হয়। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এই বিনিয়োগ চিনি ইউনিটকে লাভজনক করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সরকার আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এটি শেষ হলে আগামী বছর নতুন প্রকল্পটি চালু হবে। তখনই কেবল বলা সম্ভব হবে এটি আসলেই লাভজনক হবে কি না।’