ঝিনাইদহে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ চার নেতা বহিস্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঝিনাইদহে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ চার নেতাকে দলীয় পদ এবং প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বহিস্কৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১২ নং দোগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কালীচরণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান মন্টু,একই ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ওলিয়ার রহমান মাস্টার, সাধুহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার বিশ্বাস।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই চার নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পদ থেকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল আজাদ পান্নু এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলমের নির্দেশে বহিস্কার করা হয়েছে ।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল আজাদ পান্নু জানান, দলীয় নেতৃত্ব না মেনে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বহিস্কৃতরা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছেন।




ঝিনাইদহে গভীর রাতে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে গভীর রাতে মহেশপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার মহেশপুর পৌরসভার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছে সোমবার রাত দুইটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা প্রথমে ভাঙচুর করে এবং পরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমাজেদ সরদার বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে অফিসের কাজ শেষ করে তারা বাড়ি ফিরে যান। রাত দুইটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখেন অফিসের ভেতরের চেয়ার-টেবিল, ব্যানার-ফেস্টুনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ধানের শীষের পক্ষ নেওয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটি শুধু আওয়ামী লীগের অফিস নয়, দলমত নির্বিশেষে অনেকেই এখানে এসে বসতেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, গত ২০২ শের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো দলীয় উত্তেজনা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।




ঋণ নিয়ে কেনা ভ্যানটি হারিয়ে মাথায় হাত গাংনীর মুছাব আলীর

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মুছাব উদ্দিন ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত পাখি ভ্যান কিনেছিলেন। ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন হতো, তা দিয়েই চলত তার সংসার। এর মধ্যেও ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতি সপ্তাহে ১,৩০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়।

প্রতিদিনের মতো গতকাল রোববার রাতে তিনি নিজের বাড়ির উঠানে ভ্যানটি চার্জে বসিয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যরাতে এসে দেখেন, উঠানে রাখা ভ্যানটি নেই।

রাতেই প্রতিবেশীদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন তিনি। তবে কোনো সমাধান মেলেনি। হতাশ হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন তিনি, যেখানে ভ্যানটি চার্জে রাখা ছিল সেই স্থানেই।

ঋণের টাকায় কেনা ভ্যানটি চোরের দল নিয়ে গেছে। এখন কিস্তি পরিশোধ করবেন কীভাবে? সংসারই বা চলবে কীভাবে এই চিন্তায় দিশেহারা মুছাব উদ্দিন।

ভ্যান চুরির ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার রাতে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল পশ্চিমপাড়ায়। তিনি দাখিল উদ্দিনের ছেলে মুছাব উদ্দিন।




মেহেরপুর প্রতিদিনের সাথে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতবিনিময়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আবারও স্থানীয় গণমাধ্যম মেহেরপুর প্রতিদিনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন European Union Election Observation Mission এর সদস্যরা।

সোমবার সকালে মেহেরপুর প্রতিদিন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সদস্য Carlos Maria De Ceron y Castro ও Benedetta Odorisio।

তারা পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহাবুব চান্দুর সঙ্গে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি, ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ, নির্বাচনী পরিবেশ, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল কিনাএসব বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হয়। স্থানীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা, তথ্যপ্রবাহ ও সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

ইইউ পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা মেহেরপুর প্রতিদিনের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্বাচনী, রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা-সংক্রান্ত তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং পেশাদারিত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ সময় মেহেরপুর প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সাকিব হাসান রুদ্র, অনলাইন স্টাফ রিপোর্টার ইয়াসির ইউসুফ ইমন এবং মাল্টিমিডিয়া ডেস্ক ইনচার্জ মোঃ রাফি হাসান উপস্থিত ছিলেন।




স্বামীর অধিকার পেতে শ্বশুর বাড়িতে অনশন তাজমিনার

মেহেরপুরের গাংনী থানাধীন ঢেপা গ্রামে স্বামীর অধিকার পেতে শ্বশুর বাড়ি এসে দিনভর অনশন করেছে তাজমিনা খাতুন(২২) নামের এক বধু।

গতকাল রবিবার বেলা ১১ টার দিকে ঢেপা গ্রামের আউব আলীর বাড়ীতে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে সারাদিন অবস্থান করে ঐ পুত্রবধু। তাজমিনা গাংনী থানাধীন আজান গ্রামের আবদুল শেখের বড় মেয়ে।

অপর দিকে ছেলে মাজেদুল ইসলাম (২১) গাংনী থানাধীন ঢেপা গ্রামের আউব আলীর ছেলে।

তাজমিনা বলেন, এগারো মাস আগে মাজেদুলের সাথে তার পরিচয় হয়। তারপর থেকে ফোনে ও ম্যাসেঞ্জারে আমাদের কথা হতো। এক পর্যায়ে তারা প্রেমজ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পাঁচ মাস আগে তারা গোপনে রাধাকান্তপুর গ্রামের এক কাজির বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করে। এরপর স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় রাত্রি যাপন করে। এরই মাঝে গত ১১ তারিখ থেকে মাজেদুল তার সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেয়।

তাজমিনা আরও বলেন, মাজেদুল তার পরিবারের চাপে আমার সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে আছে। তাই আমি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে আমার স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছি। অপর দিকে ছেলের বড় ভাই আরিফ জানায়, তারা গোপনে বিয়ে করেছে বিষয় টি আমরা জানতাম না।

তাছাড়া মাজেদুলের চাইতে মেয়ের বয়স বেশি এবং মেয়েটির এর আগে বিয়ে হয়েছিলো। পূর্বের বিয়ের বিষয় টি গোপন করায় আমার পরিবার এ বিয়ে মেনে নিচ্ছে না। কিন্তু তাজমিনা জানায়, আমার সবকিছু জেনেই মাজেদুল আমাকে বিয়ে করেছে।

এ বিষয়ে রাতে স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিসে বসলে মেয়ের পরিবারের লোকজন না আসায় ও ছেলে আত্নগোপনে থাকায় বিষয় টি অমীমাংসিত থেকে যায়।




জীবননগরে আলমসাধু উল্টে দর্শনার ১৬ জন আহত, আশঙ্কাজনক ২

জীবননগরে আলমসাধু উল্টে দর্শনার ১৬ জন আহত, আশঙ্কাজনক

দর্শনা অফি

জীবননগর উপজেলার উথলিতে শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আলমসাধু উল্টে গিয়ে ১৬ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই দর্শনা রামনগর বাগদী পাড়ার বাসিন্দা।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, তারা বিভিন্ন হাটবাজারে ঝুড়ি-ঝাপি বিক্রি শেষে আলমসাধু যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। উথলি মোড় পার হওয়ার পর হঠাৎ একটি শিয়াল সামনে চলে এলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা নারী-পুরুষরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

ওই এলাকায় নিকটবর্তী কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় আহতদের আলমসাধু যোগেই দর্শনা পুরাতন বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় চিকিৎসক মোস্তফা ডাক্তারের ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ১৪ জন। বাকি দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গায় আগুনে পুড়ে  ৪ বিঘা পানের বরজ ভস্মীভূত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ জন কৃষকের প্রায় ১৩০ শতাংশ জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার আনুমানিক দুপুর ২:৩০ মিনিটের দিকে ডাউকি গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের পাশে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাউকি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার পানচাষি মিথুন আলি, রিপন আলি, টিপু সুলতান, মোতালেব হোসেন ও আহম্মদ আলির সম্মিলিত প্রায় চার বিঘা জমির পানের বরজ ছিল। গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই একটি বরজে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই শুকনো পানের বরজগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পানের বরজে সেচ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মোটরের তারের শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর আনুমানিক ২:৪০ মিনিটে তারা আগুনের খবর পান এবং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে পাঁচটি বরজই ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডে চাষিদের আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ডাউকি গ্রামের মেম্বর বাদসা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়নি। এই বিশাল ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।




আলমডাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা উম্মাদ আলির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জের বীরমুক্তিযোদ্ধা উম্মাদ আলির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জের খুদিয়াখালী গ্রামের মৃত খোকাই জোয়ার্দ্দারের ছোট ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা উম্বাদ আলী জোয়ার্দ্দার (৮০) ইন্তেকাল করেছেন। গত শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন।

গতকাল রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে রাষ্টিয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী।আরও উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানি ইসরাইল ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের একটি চৌকস পুলিশ দল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবাব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের মল্লিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেদ আলী,বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, সহ বিভিন্ন মুক্তি যোদ্ধা,স্থানীয় সুধীজন। মরহুমের লাশের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে মুন্সিগঞ্জ পশুহাটস্থ তেল পাম্পের পিছনের চাতালে।জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে,বীর মুক্তি যোদ্ধা উম্বাদ আলী বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. একরামুল হক জোয়ার্দ্দার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক জোয়ার্দ্দারের পিতা,তারা তার পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।




কোটচাঁদপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, চাষির ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি

কোটচাঁদপুরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারার অভিযোগ উঠেছে।গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের ‘রুমি মৎস্য হ্যাচারীতে।

এতে করে ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মাছ চাষি রমজান আলী বিশ্বাস। এ ব্যাপারে গত শনিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই চাষি।

জানা যায়,কোটচাঁদপুর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের মাছ চাষি রমজান আলী বিশ্বাস (৫৬)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাছ চাষ করে আসছে। ২০ বছর আগে সে ১৫০ বিঘা জমি দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। যার মধ্যে তাঁর নিজস্ব জমি ৩০ বিঘা। বাকি ১২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকায় ২৫০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেন। আর এ মাছ চাষ ঘিরে তিনি গড়ে তুলেছেন রুমি মৎস্য হ্যাচারী। শুক্রবার দুপুরে ওই হ্যাচারি সংলগ্ন ১০ বিঘা একটি পুকুরে বিষ দেন দূর্বৃত্তরা। এতে করে ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চাষি।

তিনি বলেন, দুপুর তখন ২টা বাজে। খবর পেয়ে পুকুরে গিয়ে দেখতে পায় পুকুরে মাছ মরে ভেসে আছে।

তিনি বলেন,রেনু পোনার চাষ করতে হলে, কিছু মাছ পুকুরে মজুদ করে রাখতে হয়। আর সেই মাছ বড় করে, তা থেকে ডিম নিয়ে রেনু মাছ হয়ে থাকে। এটি ছিল আমার মজুত করা সেই পুকুর। এ পুকুরে আমার অনেক মাছ মজুদ ছিল। যা দূর্বৃত্তরা বিষ দিয়ে মেরে দিয়েছেন। যার মধ্যে ছিল রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে করে প্রায় ১৭/১৮ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শনিবার রাতে ঘটনাটি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চাষি রমজান আলী বিশ্বাস। চেয়েছেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীন ইসলাম বলেন,এটা ফৌজদারি ঘটনা। এখানে আমাদের কিছু করার নাই। ওনি থানার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভাল হয়।

কোটচাঁদপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) আব্দুর রহিম বলেন,অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মেহেরপুর ক্লিনিক এর অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু

মেহেরপুর ক্লিনিক এ জরায়ু টিউমার অপারেশ করতে গিয়ে নাসিমা খাতুন (৬০) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাসিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ক্লিনিক মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে বেদম মারধর করেছে। এর মধ্যে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার রাত ৯টার দিকে ক্লিনিকের অপারেশন টেবিলেই রোগীর মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা খাতুন গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী নাসিমা খাতুনের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য মেহেরপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমানের সাথে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে তার ছেলে নাজমুল হুদা। চুক্তি মোতাবেক তার মাকে বিকালে মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করে। ডাক্তারের কথা মত দুই ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেয় এবং অগ্রিম ৬ হাজার টাকা প্রদান করে। রাত ৮টার দিকে নাসিমা খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নেয় ক্লিনিকের স্টাফরা। সেখানে ডা. মিজানুর রহমান অপারেশ করেন এবং তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি সহযোগী হিসেবে ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর অপারেশ টেবিলেই রোগী মারা যায়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের উপর হামলা চালায় । এতে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি গুরতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রোগীর লোকজন গ্রাম থেকে গিয়ে পুনরায় ক্লিনিকে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর একটি টিম গিয়ে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে খবর মেহেরপুরের সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, বিএনপি নেতা অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ঘটনাস্থলে পৌছে রোগীর লোকজনকে শান্ত করেন।

নাসিমা খাতুনের ছেলে নাজমুল হুদা জানান, তার মায়ের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য রাত ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের নেন ক্লিনিকের লোকজন। কিছুক্ষণ পর, আমার মা আমাকে ছেড়ে দেন ছেড়ে দেন বলে চিৎকার করতে থাকে। তাও তারা আমার মাকে ছাড়ে না। তার কিছুক্ষণ পরে জানায় রোগী মারা গেছে।

নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে ওই মিজান ডাক্তার মেরে ফেললো, আমি এখন কাকে নিয়ে থাকবো।’

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়েছি। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানাবেন কি কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদি চিকিৎসার অবহেলা বা ক্রটি পাওয়া যায় তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।