চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন’কে শোকজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কর্মশালায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নোটিশে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ নোটিশ জারি করেন সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন। জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দলীয় কর্মশালায় বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন।

তার ওই বক্তব্যকে উসকানিমূলক ও নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপন্থি দাবি করে এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ হাসান খানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এম এ সবুর একই দিন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ওই অভিযোগের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কার্পাসডাঙ্গা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কর্মশালায় মো. রুহুল আমিন নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে বাঁশে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার জন্য ভোট গ্রহণের আগে জনসাধারণকে নির্দেশনা দিয়েছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধিমালার পরিপন্থি। ইতোমধ্যে কর্মশালার ওই বক্তব্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রিকার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। চিঠির সঙ্গে পেনড্রাইভে বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

সিভিল জজ নাসির হুসাইন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, ভিডিও পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, মো. রুহুল আমিন বক্তব্যে বলেন, ‘সামনে ১২ তারিখ একটি লড়াই হবে। এই লড়াইয়ে যারা মরার জন্য যাবে তারাই জিতবে, যারা রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে তারাই জিতবে। আর যারা বাঁচতে যাবে তারা হেরে যাবে।

এছাড়া তিনি কর্মীদের বাঁশের লাঠি ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এমন উসকানিমূলক বক্তব্য নির্বাচনে জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মো. রুহুল আমিন নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব সৃষ্টি করেছেন এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫ ও ১৬ লঙ্ঘন করেছেন। এ অবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, তা জানতে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন বলেন, আমার দেওয়া বক্তব্য কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য নয় এবং এটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যেও নয়। মূলত সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা ভোট চুরি করব না, কাউকে ভোট চুরি করতে দেব না—এটাই ছিল মূল বক্তব্য। যারা ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের প্রতিহত করা হবে। সেই প্রতিরোধের প্রস্তুতি হিসেবে কর্মীদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন 

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ৭টি ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খুলনা বিভাগীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. আনিস-আর-রেজার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। বিভাগীয় প্রতিযোগিতা শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ,কে,এম সাইফুর রশীদ, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রশীদ, শ্রেষ্ঠ রোভার হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপের সিনিয়র রোভার মেট আল মুতাকাব্বির সাকিব, হামদে-বারি-তায়ালা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে পারভেজ আলী, বাংলা রচনা প্রতিযোগিতা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে জেনিন জাহিদ শাম্মী,  ইংরেজি রচনা প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে শিরিন শিলা, দেশাত্মবোধক গানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তাসনিম তাবাসসুম ছোঁয়া।

উল্লেখ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ গত ৮ই জানুয়ারি থেকে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ৪৫ টি ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। জেলা পর্যায়ে ৩৪টি ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৭টি ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলো।




কোটচাঁদপুরে র‌্যাবের অভিযানে পরিত্যক্ত ইয়ারগান উদ্ধার

কোটচাঁদপুরের একটি বাগান থেকে ২ টি পরিত্যক্ত ইয়ারগান উদ্ধার করেছেন ঝিনাইদহের র‌্যাব-৬। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে সলেমানপুর গ্রামের মতিয়ার সর্দারের বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় গান দুইটি। পরে তা কোটচাঁদপুর থানার হেফাজতে রেখে যান বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদে ঝিনাইদহের  র‌্যাব-৬ জানতে পারেন পরিত্যক্ত ইয়ারগান দুইটির কথা। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে ঝিনাইদহের  র‌্যাব-৬ ও কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালান কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর গ্রামের মতিয়ার সর্দারের বাগানে।

এসময় ওখান থেকে উদ্ধার করেন, পরিত্যক্ত মালিক বিহীন দুইটি ইয়ারগান। এ অভিযান পরিচালনা করেন, ঝিনাইদহের র‌্যাব-৬ ক্যাম্প কমান্ডার মেহেদী হাসান সিদ্দিক। এ সময় কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক এস আই অপু বিশ্বাস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তা কোটচাঁদপুর থানার হেফাজতে রেখে যান তারা।

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, পরিত্যক্ত উদ্ধার হওয়া কোনো মালামালের মামলা হয় না। জিডি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হওয়া মালামাল নিয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে।




আলমডাঙ্গা ডাউকি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

আলমডাঙ্গার ডাউকি মাদ্রাসা-এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি মাদ্রাসার উদ্যোগে এতিমখানার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাউকি মাদ্রাসা-এতিমখানা প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও ডাউকি মাদ্রাসা-এতিমখানার সভাপতি মুন্সী মোঃ আবু হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ সানোয়ার হোসেন, হায়দার আলী, আক্কাস আলী, মুন্সি হাফিজুর রহমান, শুকুর আলী, মুকুল মুন্সি প্রমুখ।

এসময় অতিথিরা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সবার আর্থিক সহযোগিতা করার এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে বই, খাতা, কলম, পেন্সিল ও স্কেল বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।




আলমডাঙ্গা মোটরসাইকেল চেকিং কালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিয়মিত মোটরসাইকেল চেকিংকালে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের লাল ব্রিজ এলাকায় থে‌কে তা‌দের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আরজুল হকের ছেলে ফরজ আলি(৪০), একই উপজেলার কুর্শা গ্রামের তানিস আলীর ছেলে রাজন আলি(২২)।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হাসানুল বান্না জানান, আলমডাঙ্গা শহরে নিয়মিত মোটরসাইকেল চেকিংয়ের দায়িত্ব পালনকালে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লাল ব্রিজ এলাকার পশুহাট যাত্রী ছাউনির সামনে অবস্থান করা হয়।

এসময় চুয়াডাঙ্গা দিক থেকে আসা একটি ওয়ান টেস্ট টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলকে থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন চেকিং শুরু করেন।

চেকিংয়ের সময় তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে দেহ তল্লাশি করে পকেট থেকে একটি কাটা ও দড়ি বাঁধা একটি প্রিমিয়াম গিয়ার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলের সিট খুলে একটি চাপাতি ও একটি স্টিলের রড উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক হোসেন আলী ও এসআই ওয়াহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান।

আলমডাঙ্গা থানার অ‌ফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল জানান, গ্রেফতারকৃত‌দের বিরু‌দ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন র‌য়ে‌ছে।




আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে।

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা–২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল কলেজের খেলার মাঠে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ এবং ক্রীড়া পতাকা নামানোর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ড. মো. মাহবুব আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মনয়েম এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি ও ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান এবং সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমানসহ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৃজনশীলতা বিকাশ এবং নৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা গঠনে ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সামগ্রিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, কলেজের শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক সাঈদ মোহাম্মদ হিরন। সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতার ফলাফল ক্রীড়ার পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইভেন্টেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সফল এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার আগ্রহ আরও বাড়াবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।




দর্শনার কুন্দিপুরে গৃহবধূ ও যুবককে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন নেহালপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলাজুড়ে।

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ ও তার কথিত প্রেমিককে প্রকাশ্য দিবালোকে চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে গাছের সঙ্গে বেধে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সামাজিক বিচার-এর নামে সংঘটিত এই ঘটনা অনেকের কাছেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার নগ্ন প্রদর্শন বলে মনে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন,আসমা বেগম (২৫) কুন্দিপুর গ্রামের মো. আরিফের স্ত্রী ও স্বপন (২৮) একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে ঘটনাটি ঘটে ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসামাজিক কার্যকলাপ-এর অভিযোগ তুলে এলাকার একাংশ প্রথমে দু’জনকে আটক করে। এরপর কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রকাশ্যে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। চুল কেটে অপমান, জুতার মালা, গাছে বেধে রাখা,সবকিছুই চলেছে উৎসুক জনতার সামনে। কেউ কেউ সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও লজ্জাজনক করে তোলে।

ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরকীয়া অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো,আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনো সমাজকে দেওয়া হয়েছে? চুল কেটে অপমান করা, গলায় জুতার মালা পরানো, গাছে বেধে রাখা,এসব কি সভ্য সমাজের বিচার পদ্ধতি?

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, আমরা সবাই পাপী, আপন পাপের বাটখাড়া দিয়ে অন্যের পাপ মাপি। এই ঘটনায় সেই কথাই যেন নির্মমভাবে সত্য হয়ে উঠেছে।

এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন পরকীয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে সুদখোরি, জমি আত্মসাৎ, পারিবারিক প্রতারণা কি অপরাধ নয়?

একই সমাজে এসব ঘটনা ঘটে, কিন্তু সেগুলোর জন্য কেন এমন প্রকাশ্য শাস্তি দেখা যায় না?

আরও বিস্ময়ের বিষয়,কিছুদিন আগেই একই এলাকায় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে দিব্যি সংসার করছেন। তখন কোথায় ছিল এই তথাকথিত নৈতিকতার পাহারা?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় সংঘটিত হয়েছে একাধিক ফৌজদারি অপরাধ, বেআইনি আটক,শারীরিক নির্যাতন,নারীর মর্যাদাহানি,প্রকাশ্যে অপমান,গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব আদালতের, জনতার নয়।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার শুধু ওই নারী বা যুবক নন। তাদের সন্তান, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সবাইকে আজীবন বহন করতে হবে সামাজিক লজ্জা, মানসিক ট্রমা ও নিরাপত্তাহীনতা।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সমাজের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। কাউকে মারধর করা, চুল কেটে অপমান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলে দেশের প্রচলিত আইন, আদালত ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সামাজিকভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে চুল কেটে দেওয়া বা মারধর করা নিজেই দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীরা চাইলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

২০২৬ সালে দাড়িয়ে আমরা কোন পথে হাটছি আইনের শাসনের দিকে, নাকি জনতার উন্মত্ততার দিকে?

সচেতন মহলের দাবি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইন হাতে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা,ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানসিক সুরক্ষা, প্রতিটি অপরাধের বিচার হোক, কিন্তু তা হোক আদালতে,জনতার লাঠি দিয়ে নয়। সভ্য সমাজে মধ্যযুগীয় বর্বরতার কোনো জায়গা নেই।




জীবননগরে বিজিবির অভিযানে তিন পিস স্বর্ণের বারসহ এক কারবারী আটক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে তিন পিস স্বর্ণের বারসহ মাহাবুল নামে এক কারবারীকে আটক করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার সময় গোয়ালপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণসহ ওই কারবারীকে আটক করে বিজিবি। আটককৃত কারবারী জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহাবুল হোসেন (৪২)।

মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টার সময় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের বেনীপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গতকাল বৃহস্পতিবার গোয়ালপাড়া-জীবননগর মহাসড়কের গোয়ালপাড়া নামক স্থানে জাকা মোল্লার ইট ভাটার পূর্ব পাশে পাঁকা রাস্তার উপর অভিযান চালায়।

এসময় বিজিবি সদস্যরা মো. মাহাবুল হোসেনকে মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে তিন পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৩৪৯ দশমিক ৪৯ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ১২৫ টাকা।

আটককৃত কারবারিকে মোবাইল এবং মোটরসাইকেলসহ জীবননগর থানায় সোপর্দ এবং স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা জেলা সরকারী কোষাগারে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




উপস্থিত বক্তব্যে বিভাগ শ্রেষ্ঠ মেহেরপুরের নাফিউল

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত উপস্থিত বক্তব্য (একক) প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ নাফিউল ইসলাম।

তিনি মেহেরপুর সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে জেলা পর্যায়ে উপস্থিত বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে তিনি খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অর্জন করেন মোঃ নাফিউল ইসলাম। তার এই সাফল্যে মেহেরপুর সরকারি কলেজসহ পুরো জেলা গর্বিত।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ।

মোঃ নাফিউল ইসলামের এই অর্জনে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে শীতার্তদের মাঝে পুলিশ সুপারের কম্বল বিতরণ

মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অসহায়, ছিন্নমূল ও প্রতিবন্ধী শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

গত বুধবার রাতে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক বিবেচনায় নিজ উদ্যোগে তিনি এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কম্বল পেয়ে শীতার্ত মানুষজন পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।