মেহেরপুরে জেলা ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করছে।

পরিদর্শনকালে টিমের সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ সব নির্বাচনী কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। নির্বাচন যাতে ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তারা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানানো হয়।

এ সময় টিমের সদস্যরা জানান, জেলার কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতি কিংবা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো তথ্য বা ঘটনা ঘটলে দ্রুত ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যদের জানাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তারা।




গাংনীতে ভোট কেন্দ্রের পাশ থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনীর একটি ভোটকেন্দ্রের পাশ থেকে ককটেল সদৃশ্য একটি সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।কেন্দ্রটিতে মেহেরপুর ৭৪/২ সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হিজলবাড়িয়া গ্রামে ভোটকেন্দ্র থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঈদগাহ মাঠের গ্রিলের সঙ্গে ঝুলানো একটি লাল শপিং ব্যাগে রাখা সন্দেহজনক বস্তুটি দেখতে পান স্থানীয়রা। ব্যাগটির ভেতরে তুলার মধ্যে কালো স্কচটেপে মোড়ানো বস্তুটি দেখে তারা দ্রুত গাংনী থানায় খবর দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন আলী বলেন, সকালে ঈদগাহের গ্রিলের সঙ্গে ঝোলানো লাল শপিং ব্যাগে স্কচটেপে মোড়ানো ককটেল সদৃশ বস্তুটি নজরে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বালতির পানিতে ডুবিয়ে নিরাপদভাবে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে এটি সেখানে রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় বস্তুটি সেখানে রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




মেহেরপুরে ভয় আছে, কিন্তু ঘটনা নেই

২০১৪ সালের নির্বাচনে মেহেরপুরে ভোটের আগে উত্তেজনা ছিল, তবে তা সীমিত পর্যায়ে। ২০১৮ সালে সেই উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোটের আগেই নানা এলাকায় সংঘর্ষের গুজব, পোস্টার ছেঁড়া এবং শেষ মুহূর্তের টানটান পরিস্থিতি ভোটারদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দেখছেন মেহেরপুরের মানুষ।

এবারের চিত্র ভিন্ন। ভোটের আগে এখন পর্যন্ত কোনো বড় সহিংসতা নেই, প্রকাশ্য উত্তেজনাও চোখে পড়ে না। হামলা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর, মিছিলকেন্দ্রিক সংঘাত- সবই প্রায় অনুপস্থিত। প্রশাসনের ভাষায় পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’। কিন্তু মেহেরপুর ও গাংনীর অতীতের দুই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলনা করলে এই স্বাভাবিকতাই প্রশ্ন তৈরি করছে।

২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোটের আগে যেসব এলাকায় প্রকাশ্য উত্তেজনা ছিল, সেসব এলাকাতেই এবার ভোটারদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ বেশি। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটাররা বলছেন, আগের নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের মন থেকে যাচ্ছে না। এক ভোটারের ভাষায়, আগে গোলমালটা দেখা যেত, এবার দেখা যাচ্ছে না-এইটাই বেশি ভয়।

২০১৮ সালের নির্বাচনে অনেক প্রার্থী শেষ দিকে প্রকাশ্য প্রচারণা কমিয়ে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা শঙ্কায়। এবারের নির্বাচনে একই আচরণ দেখা যাচ্ছে, তবে আরও নীরবভাবে। কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন না, কিন্তু রাতের প্রচারণা সীমিত রাখা, চলাচলের রুট বদলানো কিংবা নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে পাহারা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এটি দেখাচ্ছে- ঘটনা না থাকলেও সতর্কতা রয়েছে।

তিন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য এসেছে তথ্যপ্রবাহে। ২০১৪ সালে গুজব ছড়াত মুখে মুখে, ২০১৮ সালে মোবাইল ফোনে, আর এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনলাইন উসকানি প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও প্রশাসন ও প্রার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অদৃশ্য সতর্কতা কাজ করছে।

সব মিলিয়ে তিন নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন সবচেয়ে শান্ত কাগজে-কলমে। কিন্তু এই শান্ত পরিবেশ অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ভোটারদের পুরোপুরি নিশ্চিন্ত করতে পারছে না। মেহেরপুরে তাই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সহিংসতা নয়, বরং ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। কারণ ইতিহাস বলছে, এখানে ভয় আগে আসে, ঘটনা পরে।




মেহেরপুরে উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন

আর মাত্র একদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণের কাজ সম্পন্ন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ভোটের সরঞ্জাম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারী থেকে উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।

উপজেলা পর্যায়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ বুঝে নেন এসব সরঞ্জাম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এসব সরঞ্জাম তুলে দেন মেহেরপুর-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন, মেহেরপুর-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম এবং মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদার হাতে।




স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ও দোকান ভাংচুরের ঘটনায় ৫ জনকে সাজা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অফিস-দোকান , বাইক ভাংচুরের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। চলমান অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ঝিনাইদহ নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহিদ আলম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুন্না হোসেন, কাজল হোসেন, বিপ্লব, ফয়সাল হোসেন ও শাওন হোসেন।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের একজন সমর্থকের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একদিন পর গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি অফিস দুটি ভাঙচুর করা হয়। পৃথক দুটি ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগ পাওয়ার পরে সরজমিনে তদন্ত ও শুনানি শেষে দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্পব ও ফয়সাল হোসেন নামে দুজনকে ৬ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড হেলাই গ্রামে নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরের সাথে জড়িত থাকায় শাওন হোসেন ও মুন্না হোসেন নামে দুজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদন্ড দেন ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়াার্ডের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি অফিস

ভাঙচুরের ঘটনায় শাওন হোসেন, মুন্না ও কাজল হোসেন উভয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১৪ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।




ঝিনাইদহে র‌্যাবের বিশেষ নির্বাচনী মহড়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝিনাইদহে নিরাপত্তা জোরদারে র‌্যাব-৬ মহড়া চালিয়েছে ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ক্যাম্পের সামনে থেকে বিশেষ এই টহল শুরু হয়। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হয়ে, পোস্ট অফিস মোড়, পায়রা চত্বর ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে চাকলাপাড়া প্রদক্ষিণসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় র‌্যাবের সদস্যরা টহল, তল্লাশি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন।

নির্বাচনকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ মহড়া বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী জানান, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে যেকোনো নাশকতা বা সহিংসতার বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে।




আজ মধ্যরাত থেকে মেহেরপুরসহ সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে সব ধরনের যান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এর আওতায় আজ মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে মেহেরপুরসহ সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদিত সব ধরনের যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।




আলমডাঙ্গায় সরকারি কলেজে বিদায় সংবর্ধনা

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের দুইজনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক মিলনায়তনে বিদায় সম্ভাষণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোছাঃ মালেকা পারভিন এবং অফিস সহায়ক মোঃ মজিবর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় এবং অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মনয়েম হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান, সাবেক প্রদর্শক প্রভাষক মোঃ শরিয়তউল্লাহ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওসাদউজ্জামান প্রমুখ।

বিদায়ী বক্তব্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন, সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোছাঃ মালেকা পারভিন ও অফিস সহায়ক মোঃ মজিবর রহমান।

আলমডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজমের সহধর্মিণী মালেকা পারভিন বলেন, সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই কলেজ থেকে আজ অবসরে গেলাম। আর হয়তো দেখা হবেনা প্রিয় শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ, প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা। বাকি জীবন টা যেন সৎ ও সততার সঙ্গে অতিবাহিত করতে পারি সেই দোয়াই করবেন।




দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল।

হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দুপুরের পর থেকেই দামুড়হুদা উপজেলা শহরে মিছিলের নগরিতে পরিণত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢলে পুরো দামুড়হুদা উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, অতীতে কখনোই দামুড়হুদায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা যায়নি।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দামুড়হুদার মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ আজ দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, জনগণের শক্তিতেই বিজয় অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবার আগে নারীর ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে। জামায়াতে ইসলাম নারীর যে অধিকারের কথা বলছে তা একদম ভুয়া, কারণ জামায়াত এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের একটিতেও নারী নেতৃত্ব দেয়নি এবং কেন্দ্রীয় ভাবে নারী নেতৃত্বে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই নির্বাচনে যার ভোট সে নিজে প্রয়োগ করবে, তাই তিনি বলেন এই জনসমাবেশ থেকে সবাই বাড়ি গিয়ে নিজের মা-বোন নিজের পরিবারের ভোটগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল বুঝিয়ে জান্নাতের টিকিট দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জনসভা ও গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক এর ছেলে মিথুন সহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।




জীবননগরে জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিনের গণমিছিল ও জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আমীর মো. রুহুল আমিনের শেষ নির্বাচনী গণমিছিল ও জনসভা গতকাল সোমবার বিকেলে জীবননগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকেল ৪টার দিকে শহরের হাইস্কুল মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে মুহূর্তেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দুপুর থেকে উপজেলার আট ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন, দলীয় প্রতীকের পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে মাঠে জড়ো হন। গণমিছিল শুরুর আগে সেখানে আসরের নামাজ আদায় করা হয়। ইমামতি করেন উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।

হাইস্কুল মাঠ থেকে বের হয়ে গণমিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জীবননগর স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, “রাজনীতির উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়—জনগণের সেবা। মানুষের অধিকার রক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কৃষি, উন্নয়ন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

তিনি দলমত–নির্বিশেষে শান্তি–শৃঙ্খলাভিত্তিক সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম শাহজাহান কবির, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদউদ্দীন, এনসিপির জেলা সভাপতি খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাগর আহমেদ, খেলাফত মজলিশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জোবায়ের আহম্মদ খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা ইসরাইল হোসেন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর বিল্লাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটন, শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি কামাল হোসেন প্রমুখ।

নির্বাচনকে ঘিরে জীবননগর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।