
আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে পিতলের কলসিতে রাখা স্বর্ণের সাদৃশ্য পাঁচটি (৫টি) ধাতব মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল খোরদ গ্রামের আবুল মোজামের বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বাড়ির আঙিনায় মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় পিতলের তৈরি একটি কলসির ভেতরে লুকানো স্বর্ণের মতো দেখতে পাঁচটি ধাতব মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, বাড়ীর মালিক আবুল মোজাম নতুন বাড়ী নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের দিয়ে মাটি খননের কাজ করাচ্ছিলেন। এ সময় শ্রমিকরা মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওই কলসির অস্তিত্ব টের পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানানো হলে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো স্বর্ণের তৈরি পুরাকীর্তি বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় যে মূর্তিগুলো স্বর্ণের নয়।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ধাতব মূর্তির মধ্যে আনুমানিক ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার অস্তিত্ব রয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনার পর খোরদ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত মূর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চুয়াডাঙ্গায় এক প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী অনেকেই জানিয়েছেন এমন চকচকে উজ্জ্বল মূর্তি পিতলের হতে পারে না। অতীতকালে মানুষ স্বর্ণের জিনিস, টাকা মাটিতে পুঁতে রাখতো। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত।

