
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার পর শিশুসহ তিন পরিবারের নয়জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা থানা-সংলগ্ন হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর রাতেই তাঁদের পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার তাঁদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) ও তাঁদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮); জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তাঁর স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩); চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫), মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) এবং তাঁদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১)।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাঁরা পৃথক সময়ে সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা থানা-সংলগ্ন ওই বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। রাতে পরিবারের সদস্যরা বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে একে একে তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। বিরিয়ানি খাওয়া পরিবারের সদস্যদের সবাই একই ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
ফারুক হোসেন বলেন, “অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে আসি। রাতে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান বিরিয়ানি খায়। রাত ১২টার পর থেকেই তারা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”
তিনি বলেন, “বাড়িতে ভাত রান্না করার মতোও এখন কেউ নেই। আমার ধারণা, খাবারে সমস্যা ছিল। কারণ যারা বিরিয়ানি খেয়েছে, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছে। বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাসায় যান। পরিবারের তিনজন মিলে সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, একই বিরিয়ানি খেয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে একাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। একাধিক মানুষ অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, আলমডাঙ্গা থেকে শিশুসহ নয়জন বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

