
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, আজকে আমরা দায় ও দরদের রাজনীতি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এই দায় হচ্ছে আমাদের এমন একটি নতুন পথের দিশা জাতিকে দিতে হবে যেখানে আর কখনো আমাদের দেশে নতুন কোন স্বৈরাচার তৈরীর পটভূমি তৈরি হতে দেব না।
যেহেতু আমাদের রাজনীতিকে জবাবদিহিতার রাজনীতি করতে হবে আমাদের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতা মূলক করতে হবে সরকারকে জবাবদিহিতা করতে হবে যার জন্য আমাদের ম্যানিফেস্ট দরকার যে ম্যানিফেস্ট সাধারণ মানুষের ম্যানিফেস্ট। সেজন্য আমাদের প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে বুঝিয়েছেন বলেছেন কেন গণভোট দরকার।
তিনি আরো বলেন, গণভোট বিশ্বের যেসব দেশে স্থিতিশীলতা আছে জবাবদিহিতা আছে গণতন্ত্র আছে সেসব দেশে আমরা দেখেছি রেফারেনডম এর মাধ্যমে সংবিধান তৈরি করা হয় পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের সংবিধানের কোন রেফারেনডম নাই আবার অন্যদিকে সংবিধানের জন্য গণপরিষদ করা হয়। এই গণপরিষদের বিতর্কে ১৯৭২ সালে এই বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছিল ক্ষমতার ভারসাম্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা এ তিনটি বিষয় সেখানে ওভারকাম করা হয়েছিল।
আজ শুক্রবারে বেলা সাড়ে ৩টায় ড. শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে অনুষ্ঠিত উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এসকল কথা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, আমরা দেখেছি ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী এত ক্ষমতায়িত যে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী সংসদের নেতা ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী কেবিনেটের মন্ত্রিপরিষদের নেতা ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী কার্যত আদালতের নেতা। ফলে ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর যে ইচ্ছা সেই ইচ্ছাই সবকিছু । এখানে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করতে পারেনা বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করতে পারে না এখানে বিচারালয় কাজ করতে পারে না । ফলে আমরা দেখে এ রাষ্ট্র অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত হয়েছে আর অকার্যকর রাষ্ট্র তার ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য সাংস্কৃতিক একটা ফ্যাসিবাদ চালু করে দেয় ফলে একদিকে বিরামহীন ক্ষমতা অপরদিকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এই দুইয়ের সদস্যে আমরা দেখেছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী গুলো পরপর স্বৈরাচার হয়ে উঠেছে এবং এই স্বৈরাচারের ফলে আমাদের এখানে গুম খুন হয়েছে এবং বিচার বহিরভূত হত্যার মহামরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই যে কাউকে যখন তখন হত্তার নির্দেশ দিতে পারে রাষ্ট্রপতি চাইলেই ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে মুক্ত করে দিতে পারে। রাষ্ট্রপতি চাইলেই যা ইচ্ছা তাই করতে পারে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই যা ইচ্ছা তাই করতে পারি ফলে রাষ্ট্র কোন ভাবে কাজ করছে না।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ.কে.এম নজরুল কবির ও নির্বাচন অফিসার মো: এনামুল হক।
এছাড়াও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ জে এম সিরাজুম মুনীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

