
আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর (খালপাড়া) এলাকায় এক তরুণীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে একাধিক যুবকের কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শ্রীরামপুর গ্রামের রশিদুলের মেয়ে তামান্না বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরবর্তীতে পড়াশোনার খরচ, কেনাকাটা, অসুস্থতা ও পারিবারিক প্রয়োজনসহ নানা কারণ দেখিয়ে অর্থ সহায়তা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।
সম্প্রতি তিতুদহ গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহজামালের সঙ্গে তামান্নার ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। শাহজামালের পক্ষ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এর আগে একই গ্রামের নিশান নামের এক যুবকের সঙ্গেও তামান্নার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের সূত্রে নিশানের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নিশানের মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন দাবি থাকলেও বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের নথির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, নিশানের মৃত্যুর কিছুদিন পর কুমারখালীর সোহাগ নামের এক যুবকের সঙ্গে তামান্নার সম্পর্ক ও কথিত বিয়ের বিষয়টিও সামনে আসে। এছাড়া হারদী ও যশোর এলাকার আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব যোগাযোগে একাধিক মোবাইল সিম, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মতো যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য আর কোনটি ভিত্তিহীন, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্দোষ কাউকে হয়রানি বা সামাজিকভাবে হেয় না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় তিতুদহ গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহজামালের পিতা আজিম আলী বাদী হয়ে গত বুধবার আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্নভাবে প্রতারণা ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার ছেলের কাছ থেকে মোট ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তামান্নার পিতা রশিদুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার মেয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে কিছু মানুষ। আমার মেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের পর সুখে-শান্তিতে সংসার করছে। এর আগে আসাননগরে তার বিয়ে হয়েছিল।”
মেয়ের পূর্বের স্বামীর নাম জানতে চাইলে তিনি নাম বলতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, “গ্রামে নিশানের অভিযোগ নিয়ে এর আগেও থানায় অনেকবার বসা হয়েছে। কিন্তু যারা অভিযোগ করেছে, তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।”

