
ঝিনাইদহ পৌরসভার হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ইজারাদারের বিরুদ্ধে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নতুন হাটখোলা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় বাজারের মাছের আড়ৎদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া; কাঁচামালের আড়ৎদার হুমায়ন কবির কল্লোল এবং গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহাই দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশিমতো খাজনা আদায় করছেন। খাজনার রশিদ ছাড়াও ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগে এক মণ কাঁচামালে চার টাকা খাজনা ছিল। এখন সেই খাজনা প্রতি মণে ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। চটের খাজনা আগে ১৫ থেকে ২০ টাকা ছিল, এখন দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এসে ৫০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কুরবান আলী ও হাবিবুর রহমান বলেন, একটি ছাগল বিক্রি হলে দুই হাজার টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আগে এত টাকা খাজনা দিতে হয়নি। খাজনা আদায়ের রশিদ না দিয়েই জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনার নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না করে, তবে হাটবাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে যেমন খাজনা আদায় করা হতো, এখনো সেই নিয়মেই খাজনা আদায় হচ্ছে। নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা তা দেয়নি। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক টাকাও যাতে বেশি নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।

