
দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এ বছর পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন চাষিরা। মাঠভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও বাজারে দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অধিকাংশ কৃষক। ফলে লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষকেরা জানান, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় সেই খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ দাম বাড়ার আশায় ঘরে মজুত করে রাখছেন।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে শৈলকুপা উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় শুরুতেই দাম পড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের নিচে নেমে এসেছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর শৈলকুপা উপজেলায় ১২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছে। প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে আকারভেদে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। সম্প্রতি উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আওধা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “এত কষ্ট করে এ বছর পেঁয়াজ চাষ করলাম, কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম নেই। খরচের টাকাই উঠছে না। পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। তা না হলে আগামী বছর থেকে আর পেঁয়াজ চাষ করব না।”
লাঙ্গলবাঁধ বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক রমজান আলী বলেন, “সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে এসে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এই লোকসান নিয়ে আমাদের মতো কৃষকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
শৈলকুপার ভাটইবাজারের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বর্তমানে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। সেখানে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। এ বছর চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হয়েছে। ফলে যত দিন যাচ্ছে দাম কমছে। তবে সামনে ঈদুল ফিতরে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছি। সেই সঙ্গে পেঁয়াজের দামও কিছুটা বাড়তে পারে।”
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থাপনা অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। চাষিদের সুবিধার্থে উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্ধারিত মূল্য থাকা প্রয়োজন। তা না হলে এ উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

