
ঝিনাইদহ-৪ আসনে ক্রমেই জটিল হচ্ছে ভোটের সমীকরণ। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন জেলার নির্বাচনী আলোচনায় উঠে এসেছেন।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে রাশেদকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী করা হলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ তা স্বাভাবিকভাবে মেনে না নেওয়ায় তাদের ক্ষোভের সুযোগে শক্ত অবস্থান তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলটির হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশেদ খাঁন হাইকমান্ডের ভরসা হলেও মাঠের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফিরোজ। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর নেতা-কর্মীদের দুই মেরুতে অবস্থান ঝিনাইদহ-৪ আসনের ভোটের মাঠে এক নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে। আর বিএনপির ঘরের এই বিবাদকে পুঁজি করে সুকৌশলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালিব। ধানের শীষের ভোট যখন দুই ভাগ হওয়ার শঙ্কায়, তখন ভোটারদের মন জয় করে চমক দেখানোর পথে হাঁটছেন জামায়াত প্রার্থী।
তবে জেলা বিএনপির দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো নেতা-কর্মী যাবে না। ব্যক্তির জন্য নয়, ধানের শীষের প্রার্থীর হয়েই কাজ করবে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
ঝিনাইদহ-৪ আসনটি কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও সদরের ৪টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুর্শিদা জামান।
আসনটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁনকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ ও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে রাশেদকে প্রার্থী করা হলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ তাকে মেনে নিতে না চাইলে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও মুর্শিদা জামান। তবে মুর্শিদা জামান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
জানা গেছে, ফিরোজের পক্ষে কালীগঞ্জের বিএনপির বড় একটি অংশ কাজ করছেন। এরই মধ্যে গত ১০ জানুয়ারি মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদা জামানকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাক্ষাতের পরদিন থেকে তাদের রাশেদ খাঁনের সঙ্গে বিভিন্ন গণসংযোগ ও সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে।
তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে রাশেদের প্রধান বাধা এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। স্থানীয় রাজনীতিতে ফিরোজের শক্তিশালী জনভিত্তি এবং তৃণমূলের ব্যাপক সমর্থন রাশেদ খাঁনের নিশ্চিত জয়ের পথে বড় চ্যালেঞ্জ বা পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় প্রতীক বনাম ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার এই লড়াইয়ে এখন সরগরম কালীগঞ্জের অলিগলি। অন্যদিকে বিএনপির দুই মেরুর লড়াইয়ের এই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে হাইকমান্ড আমাকে এই আসনে পাঠিয়েছেন। দল হিসেবে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে হলে মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। ঝিনাইদহ-৪ আসন বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। আমি বিশ্বাস করি, এ আসনের ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে ৮০ শতাংশ নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে রয়েছে। আর সাধারণ মানুষ চায় তাদের নিজ এলাকার মানুষ এমপি হোক। সেই হিসেবে কালীগঞ্জের সকল মানুষের চাওয়ায় আমি প্রার্থী হয়েছি। তাদের ভোটে আমি এমপি নির্বাচিত হবো।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালিব বলেন, ‘আমাদের ভোটাররা এখন উৎসবমুখর রয়েছে। তারা ভোট দিতে পারবে বলে বিশ্বাস করছে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তারা এবার চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নীরব বিপ্লব ঘটাবে। আমি আশাবাদী, জনগণ আমাকে ভোটে বিজয়ী করবে।’

