
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১দল সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রুহুল আমিনের পক্ষে বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দর্শনা থানা শাখার উদ্যোগে গতকাল রবিবার বাদ আসর দর্শনায় এই গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা বাসষ্ট্যান্ড থেকে শুরু করে মিছিলটি রেলবাজার, রেলগেট, পুরাতনবাজার, থানা মোড়, ইসলামবাজার, রেলইয়ার্ড হয়ে রেলবাজারস্থ শহীদ শাহরিয়ার মুক্ত মঞ্চে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
দর্শনা থানা আমীর মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর ও জাতীয় সংসদ পদ প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাবেক দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোঃ আব্দুল কাদের, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসোর জেলা সেক্রেটারী জুবায়ের খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি এস এম শাহজাহান কবির, মাজলিসুল মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবু জার গিফারী, দর্শনা থানা নায়েবে আমীর মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, দামুড়হুদা যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আব্দুল খালেক, দর্শনা পৌর আমীর মোঃ সাহিকুল আলম অপু, মদনা ইউনিয়ন আমীর হাফেজ শহিদুল ইসলাম, কুড়–লগাছী ইউনিয়ন আমীর সদেকীন, বেগমপুর ইউনিয়ন আমীর মোশারফ হোসেন, নেহালপুর ইউনিয়ন আমীর লিটন মল্লিক, তিতুদহ ইউনিয়ন আমীর মোঃ রাফিজুল ইসলাম, গড়াইটুপি ইউনিয়ন আমীর মোঃ ইউনুছ আলীসহ সকল ইউনিয়ন সেক্রেটারী ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ্ব।
মিছিল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১ দল সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা আমীর মোঃ রুহুল আমিন বলেন- আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দর্শনা-দামুড়হুদা ও জীবননগরের সকল মানুষের মধ্যে একটাই স্লোগান উঠেছে সব দল দেখা শেষ দাড়িপাল্লার বাংলাদেশ। আমরা এই স্লোগানের সন্মান জানাতে চাই। আমরা জনগনকে আশ্বস্থ করতে চাই আপনারা যে স্লোগান তুলেছেন, সেই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশটাকে গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ। আমরা মানুষকে স্বাধীনভাবে নিরাপত্তার সাথে নিজ বাড়ীতে ঘুমানোর গ্যারান্টি দিতে চাই। হয়রানি মূলক মামলা কিংবা হয়রানি করে বাড়ী ছাড়া করতে চাইনা। আমরা মানুষের ঘর বানাতে চাই, ঘর ভাংতে চাইনা। আমরা মানুষকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাই, শত্রু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইনা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, আমরা এই সৌন্দর্যকে সাথে নিয়ে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করতে চাই। রাজনীতির ময়দানে কিলাকিলি বন্ধ করে কুলাকুলির সংস্কৃতি চালু করতে চাই।
আমরা ব্যবসায়ীদেরকে নিরাপত্তার সাথে ব্যবসা করার গ্যারান্টি দিতে চাই। ব্যবসায়ীদের চাঁদা দেবার যে সাংস্কৃতি চালু হয়েছে তা চিরদিনের মতো কবর দিতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা দূর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলদেশ গড়তে চাই। আমরা আপনাদের হাতে বাংলাদেশের চাবী রাখতে চাই, যেন ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে আর না পারে। আর সেই জন্য দাড়িপাল্লার পক্ষে আপনাদের ভোট চাই।
১১দলের পক্ষে যদি আপনারা ভোট দেন আমরা আপনাদের স্লোগানকে সন্মান দিয়ে বলছি- আমরা আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করে দেব, দেশ বেকারমুক্ত হবে, দূর্ণীতিমুক্ত হবে, চাঁদাবাজ মুক্ত হবে, ক্ষুধা মুক্ত হবে, দুঃশাসনমুক্ত হবে ইনশাল্লাহ। আমরা জুলাইয়ের রক্তকে সন্মান জানিয়ে দেশটাকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা দর্শনা, দামুড়হুদা ও জীবননগরকে সাজিয়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চাই। আপনারা আসুন আমাদের সাথে।
নির্বাচনের এই শেষ মিছিলে দর্শনা থানা সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেয়ায় ক্ষণিকের জন্য দর্শনা মিছিলের শহরে পরিণত হয়। পথচারীরা মন্তব্য করেন অনেক বচর এত বড় রাজনৈতিক মিছিল দর্শনাবাসী দেখেনি।

