
দামুড়হুদা উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, একাডেমিক সুপারভাইজার রাফেজুল ইসলাম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দামুড়হুদা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মামুনুর রশীদ।
পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন সাবেক শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র পাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দামুড়হুদা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাহমিদা রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার শিক্ষার্থীদের মেধা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জনকে অভিনন্দন জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
এদিকে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২০০ জন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৫৬ জনসহ মোট ৩৫৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে লাল গোলাপ ও রজনীগন্ধার শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন তাদের শিক্ষাজীবনে আরও উৎসাহ জোগাবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে উপজেলার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাথমিক অফিসার আবু হাসান।

