
গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নসহ কয়েকটি গ্রামে উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ের পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী-সমর্থক বিজয় মিছিলের আড়ালে বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের লোকজন ডুগডুগি, তারিনিপুর, ছোট দুধপাতিলা ও বড় দুধপাতিলা গ্রামসহ কয়েকটি পাড়া-মহল্লায় গালাগালি, হুমকি-ধামকি ও ছোট খাটো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বড় দুধপাতিলায় একটি পানের বরজে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তারিনিপুর গ্রামের স্থানীয়রা বলেন, মিরাজুল ইসলাম এর ছেলে মমিনুল হক, ঠান্ডুর ছেলে স্বপন, তোয়াক্কেল এর ছেলে হাফিজুল ইসলাম, লতিফ এর ছেলে রিয়ন ও ফজলুর ছেলে আশরাফুল সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০-১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, হাউলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড তারিনিপুর গ্রামে একটি বিএনপির দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু সদস্যরা এখন নব্য জামায়াত, তাদের পুরোনো কর্মীদের সমন্বয়ে জামায়াতের ইঙ্গিতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
এদিকে ছোট দুধপাতিলা গ্রামের স্থানীয় মহিলারা জানান, বিজয় মিছিলের নামে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা খুবই নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়েছে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতে গিয়েছে বাড়ির মহিলাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে গালাগালি করেছে। ঘরের ইট খুলে নিয়ে যেতে চেয়েছে।
একজন বৃদ্ধ নারী বলেন, জামায়াতের লোকজন এমন করবে আমার জানাছিলোনা, এই পাড়ার পুরুষ মানুষ কোথায় ভোট দিয়েছে জানিনা, তবে আমি এটা জানি মহিলারা সব দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিয়েছে, বাড়ির মহিলাদের ভোটে জিতে আবার আমাদের ঘরবাড়িই ভাংতে এসেছে। এটা আমরা কখনো মেনে নেবোনা। ভোটকি প্রকাশ্যে দেওয়ার জিনিস, এটা গোপনে হয়। এরপরেও এমন করলে নতুন এমপি রুহুল আমীন এর কাছে অভিযোগ করবো, যে আমাদের শান্তি নষ্ট করছে।
এদিকে ডুগডুগি বাজারে ‘আরিফ মেডিকেল’ নামের একটি ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় দোকানের শাটারে জোরে জোরে আঘাত করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটিয়েছেন বলেও জানা যায়। একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় আদর্শের কথা বলা কোনো দলের কর্মীদের কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।
তবে এ ঘটনায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিএনপির লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে পায়ে পা লাগিয়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কোনো দলীয় অফিস ভাঙচুর করা হয়নি। বরং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের মতামত পাওয়া জায়নি।
সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে।

