
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ছাগলের খামার থেকে পাঁচটি ছাগল চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় রানা (৪৩) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রানা দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি কুড়ালগাছি বাজারপাড়ার মৃত আব্দুল মতালেবের ছেলে।
এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন কার্পাসডাঙ্গা নতুনপাড়ার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফেরদৌস আলী (৫০) ও মামুন হোসেন (৩২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা থানার পাটাচোরা গ্রামের শেখপাড়ায় রানার ভাগ্নে আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের একটি ছাগলের খামার রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৭টার মধ্যে ওই খামার থেকে চারটি গাভি ও একটি মেড়া ছাগলসহ মোট পাঁচটি ছাগল চুরি হয়। চুরি যাওয়া ছাগলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে রানা জানতে পারেন, এ ঘটনায় ফেরদৌস আলী ও মামুন হোসেন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। ওই স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ভিডিও ধারণ করে ফেরার পথে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে দামুড়হুদার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের রাইসা ভাটার পাশে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন রানা। এ সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো রামদা, লোহার রড ও জিআই পাইপ নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মামুন হোসেনের নির্দেশে ফেরদৌস আলী ধারালো রামদা দিয়ে রানার মাথায় কোপ দেন। এতে তার মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা জখম হয় এবং ১০টি সেলাই দিতে হয়। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে তার মাথা, ঘাড়, পিঠ ও হাতে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ফেরদৌস আলী ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর আলম (৩৩)-এর কাছে থাকা চুরির স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণকৃত একটি ভিভো স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রানা উদ্ধার হয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। হামলাকারীরা তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

