
একটি প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী ছোট জেলায় একটি দৈনিক পত্রিকা ৮ বছর পেরিয়ে স্বমহিমায় প্রতিদিন প্রকাশ করা একটি বীরত্বগাঁথা পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা।
গতকাল মঙ্গলবার ৩১ মার্চ প্রতিষ্ঠার ৯ বছর উপলক্ষে মেহেরপুর প্রতিদিন আয়োজন করে দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নানা আয়োজন।
সকাল সাড়ে ১০টায় উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম, বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক।
দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ও সাবির্ক দায়িত্ব পালন করেন মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহাবুব চান্দু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় বলেন, সাংবাদিকতা পেশা আর দশটা পেশার মতো নয়। এই পেশা হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য এটি একটি ব্রত, এটি একটি সেবা। পত্রিকাকে বলা হয় সমাজের দর্পণ, জাতির বিবেক। বস্তনিষ্ঠ এবং সমাজের ছোট ছোট ঘটনা গুলো যেগুলো সমাজকে বিপথে নিয়ে যায়, আমাদের বিবেককে তাড়িত করে এই ধরনের প্রকাশনার মাধ্যমে মানুষের পরিবর্তন সাধিত হয়।
আমি মনে করি মেহেরপুর প্রতিদিন একটি প্রান্তিক জেলায় এবং সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে আট বছর পরেও দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায় এটি একটি বীরত্বগাঁথা পরিচয়। আপনারা দেখেছেন অনেক জাতীয় পর্যায়ের দৈনিক পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। কোন পত্রিকা শুরু করাটা যতটা সহজ কিন্তু এটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া তার চেয়েও অনেক কঠিন।
মেহেরপুর প্রতিদিনের সাথে যারা যুক্ত তারা কিন্তু তাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন বলেই এই পত্রিকাটি এখনও চলমান রয়েছে। আমি মনে করি এই পত্রিকাটি আগামীতেও তাদের বস্তুনিষ্ঠ এবং জনগণের কন্ঠস্বর হয়ে আমাদের দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে যথেষ্ট অবদান রাখবে, সেই প্রত্যাশা রাখি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মালেক বলেন, মেহেরপুর প্রতিদিন জনগণের একটাই ভরসার জায়গা যে তারা কোন লেজুড়বৃত্তিক সংবাদ প্রকাশ করে না, তার নিজস্ব গতিতেই প্রকাশ করে এটাই তার স্বকীয়তা। মেহেরপুর প্রতিদিন অষ্টম বর্ষ শেষে নবম বর্ষে পদার্পণ করল, আমি তার উত্তোরত্তোর সাফল্য কামনা করি।
মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি তোজাম্মেল আযম বলেন, সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনে যে চরিত্র হওয়া উচিত সেই চরিত্র বাংলাদেশের কোন মিডিয়াতে নাই। আদর্শ সংবাদপত্র কেমন হওয়া উচিত? আদর্শ সংবাদপত্র সত্য ও সুন্দর কথা বলবে, গণমানুষের কথা বলবে, নির্যাতিত মানুষের কথা বলবে, নির্যাতিত মানুষের কন্ঠস্বর হবে। মেহেরপুর প্রতিদিন মানুষের বিবেক হয়ে উঠুক সেই প্রত্যাশায়।
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, দৈনিক পত্রিকা হিসেবে চুয়াডাঙ্গা ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা মেহেরপুর প্রতিদিন।
আমি পত্রিকার কাছে একটা বিষয়ে অনুরোধ রাখবো আপনারা সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরবেন। বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়ে নিউজ করবেন।
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া মাদক এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণের মাঝে সংবাদ তুলে ধরবেন। আমি মেহেরপুর প্রতিদিনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করুক সেই প্রত্যাশা করি।
২য় পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, বাংলা একাডেমির পুরস্কার প্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ।
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন বলেন, শুধু নেতিবাচক খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমের কাজ। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলানো দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের। মেহেরপুর প্রতিদিন তাদের দায়িত্বশীল যায়গা থেকে সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে এ প্রত্যাশা করি।
কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ বলেন, মেহেরপুরে ৫০টি নেই এর সংখ্যা থাকলে বিপরীত দিকে কয়েকশত আছে বিষয়গুলো রয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যম সেই নেই এর পিছনে না দৌড়িয়ে যেগুলো আছে সেগুলো নিয়ে যদি কাজ করে এলাকার কৃষ্টি কালচার উন্নতি, সমাজের উন্নয়ন হয়, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ সেগুলো জানতে পারে। আমি মেহেরপুর প্রতিদিনের কাছে আশা করি নেগেটিভ সংবাদ যেমন পত্রিকায় স্থান পাবে পাশাপাশি ভালো সংবাদগুলোও পত্রিকায় বিশেষভাবে স্থান দেওয়ার।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন বলেন, মেহেরপুর প্রতিদিন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মেহেরপুরের জনগণের কাছে স্থান করে নিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি তাদের সেই বস্তুনিষ্ঠতা ধরে রেখে মেহেরপুর উন্নয়ন ও দুনীতি নির্মুলে অগ্রণী ভুমিকা রাখবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ আহমেদ বিজন বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর জুলাইয়ের চেতনাকে সামনে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মেহেরপুর প্রতিদিন সে প্রত্যয় ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে একটি অবস্থান তৈরি করেছে। আমরা পত্রিকার উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।
দিনব্যাপী ৯টি পর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধাক্ষ প্রফেসর আবদুল্লাহ আল আমিন, মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মুজিবনগর সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক মুরাদ হোসেন, মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম, অরণি থিয়েটারের সভাপতি নিশান সাবের, সাংবাদিক দিলরুবা খাতুন, শিক্ষক ও সাংবাদিক রফিকুল আলম বকুল, শিক্ষক ও উপস্থাপক ইয়ামিন হাসান, গাংনী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক, মেহেরপুর পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানা ডলার, শিক্ষাবিদ আল আমিন ইসলাম বকুল, জামায়াত নেতা নুর রহমান, মঞ্জুরুল হক টুটুল, আমজাদ হোসেন, মেহেরপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল এনাম বকুল, সদস্য আনোয়ারুল হক কালু, আবু হানিফ, তহবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক কর্মী শামিম জাহাঙ্গীর সেন্টু, অনিক হাসান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মেহেরপুর প্রতিদিনের সাংবাদিক ও স্টাফদের নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্টাফ রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা প্রতিনিধি এস আই বাবু, ডেস্ক ইনচার্জ (নিউজ) সাকিব হাসান রুদ্র, ডেস্কু ইনচার্জ (মাল্টিমিডিয়া) রাফি হাসান, ডেস্ক ইনচার্জ ইয়াসির ইউসুফ ইমন, কাথুলী প্রতিনিধি ফিরোজ হাসান পলাশ।

