
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে দিনদিন বাড়ছে অটো চালকদের বিড়ম্বনা ও দৌরাত্ম । হাসপাতালের প্রধান ফটকে অটো দিয়ে ঘিরে রাখায় রোগীদের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। অটোর ভীড়ে হাসপাতালে মুমুর্ষ রোগীরদের জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। রোগীদের প্রয়োজনে হাসপাতালের সামনে থেকে অটো সরিয়ে নিতে বল্লে মারমুখী আচরন করেন অটোচালকরা।
শুধু তাই নয়, হাসপাতালের সামনে থেকে অটো সরিয়ে নিতে বল্লে বহিরাগত রোগী ও স্বজনদের নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেন অটোচালকরা, দেখান রাজনৈতিক দলের দাপট। এসকল অভিযোগ ভুক্তভোগী অনেকের।
হাসপাতালের মধ্য থেকে অটোসহ সকল ধরনের মানুষবাহী যানবাহন অপসারন ও নিষেধাজ্ঞার দাবীও করেন ভুক্তভোগীরা। সেবা প্রত্যাশীদের প্রয়োজনে বিষয়টি দেখবেন জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চলতি সপ্তাহের রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার মসরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের সামনের গেটের অংশের যে রাস্তা দিয়ে রোগীদের নিয়ে জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে প্রবেশ করতে হয় ঠিক সেই গেটের সামনে ১৫/ ২০ অটোরিকশা রাখা হয়েছে।
অটোরিকশার সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকছেন চালকরা। বেশকিছু অটোরিকশা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে হাসপাতালের পুরো আঙ্গিনা জুড়ে। রোগীরা আসছেন হাসপাতালে প্রবেশ করছেন অনেক কস্ট করে। হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা রাখার বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন অটোচালকদের সাথে। নানা ধরনের খোড়া যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন চালকরা। হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা রাখায় জনভোগান্তি হচ্ছে এ কথা কোনোভাবেই মানতে নারাজ তারা। স্থানীয় ক্ষমতার দাপটে সব অন্যায় যেনো ভুক্তভেগীদের।
শোলমারী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ আশাদুল ইসলাম জানান, অটোরিকশার ভীড়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছিলাম না।
উত্তরশালিকা গ্রামের জোসনা খাতুন জানান,আমার বৃদ্ধ মাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ভ্যান থেকে নামিয়ে ট্রলিতে তোলার সময় অটোর ভীড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এমন দুর্ভোগের কথা জানালেন, সুভরাজপুর গ্রামের মুন্তাজ আলী,ঢেপা গ্রামের বশিরুদ্দিন,রামদাসপুর গ্রামের ফুলচাদ মিয়া, কুলবাড়িয়া গ্রামের জরিনা খাতুন ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের চামেলী খাতুন। অটো সরিয়ে রাখতে বল্লে তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন অটোমালিরা।
ভুক্তভোগীদের দাবী হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা না রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।
জেলার প্রায় সাড় ৭ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩ /৪ শ৷ রোগী সেবা নিতে আসেন। রোগীদের ও তাদের স্বজনদের ভীড়ে সরগরম হয়ে থাকে হাসপাতাল চত্বর। এখানে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের প্রয়োজন বলে জানান স্থানীয় অনেকেই।
এবিষয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা্ বুলবুল কবীর বলেন, সেবা প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনে হাসপাতালের সামনে অটোরিকশা অপসারন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

