
মেহেরপুরে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেযবুত তওহীদের নারী ও পুরুষ সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়।
মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় নারী নেত্রী জেরিন সাইয়ারা, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আক্কাস আলী, মেহেরপুর জেলা নারী নেত্রী কামরুন্নাহার, সদর উপজেলা সভাপতি মোবারক হোসেনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নোয়াখালীতে ওয়াজ মাহফিলের নামে হেফাজতে ইসলামের একটি গোষ্ঠী হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, মিথ্যাচার ও ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
হেযবুত তওহীদের নেতারা বলেন, নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত মাহফিলটি প্রশাসনের অনুমোদন পেলেও অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করে সেখানে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, জেলা পুলিশ সুপারের অনুমোদনপত্রে নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিষিদ্ধ ছিল।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের এক ইমামের গ্রামের বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টার অংশ হিসেবে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে মসজিদে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং হ্যান্ডবিল প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার উত্তরায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও উসকানিমূলক মিছিল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ ইসলামের মৌলিক আকিদায় বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘কাফের’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হচ্ছে। তাদের দাবি, গত ৩১ বছরে সংগঠনটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচ শতাধিক মামলায় আদালত থেকে তারা খালাস পেয়েছেন।
মানববন্ধনে অতীতে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাও তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, ২০১৬ সালে সোনাইমুড়ীতে একই ধরনের একটি সমাবেশ থেকে হামলা চালিয়ে সংগঠনটির দুই সদস্যকে হত্যা এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক উসকানি ও হুমকির কারণে সংগঠনের সদস্যরা আবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন তারা।
এ অবস্থায় দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উসকানিমূলক বক্তব্য, হুমকি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান হেযবুত তওহীদের নেতারা।

