
প্রতিবছরের মতো এবারও সূর্যমুখীর হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি (বিএডিসি) ডাল ও তৈলভিত্তিক বীজ উৎপাদন খামার। সূর্য যেদিকে হেলে পড়ে, সূর্যমুখীর ফুলগুলোও ঠিক সেদিকেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য যেন তৈরি করেছে এক অপূর্ব হলুদের রাজ্য।
সবুজ মাঠের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সূর্যমুখী ফুল মন কেড়ে নিচ্ছে দর্শনার্থীদের। এর সঙ্গে রাস্তার দুই পাশের সারি সারি নারিকেল গাছ পুরো পরিবেশকে করেছে আরও মোহনীয়। প্রজাপতির আনাগোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন দল বেঁধে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কেউ আসছেন শুধু চোখ জুড়াতে, কেউ আবার ক্যামেরাবন্দী করতে এই সৌন্দর্য।
এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে অবস্থিত আমঝুপি ডাল ও তৈলভিত্তিক বীজ উৎপাদন খামারে। পাশ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও মাইক্রোবাস, কার ও মোটরসাইকেলে করে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
জানা গেছে, দেশে বীজ ও ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এবং স্থানীয় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করতে খামার কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই সূর্যমুখী চাষ করে থাকে। চলতি মৌসুমে বিগত বছরের মতো এবারও সাড়ে ১৬ বিঘা জমিতে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের চাষ করা হয়েছে।
ফুলে ভরা এই মাঠ এখন যেন বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি তুলছেন। ফুল যেন কেউ নষ্ট না করে, সে জন্য খামার কর্তৃপক্ষকে আলাদা লোকবলও নিয়োগ করতে হয়েছে।
ছবি তুলতে আসা এক কলেজছাত্রী সোহাগ বলেন, এত বড় সূর্যমুখীর মাঠ একসঙ্গে আর কোথাও দেখা যায় না। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরে রাখতে বান্ধবীদের নিয়ে এসেছি।
আমঝুপি গ্রামের এক জিহাদ জানান, নিজের এলাকাতেই এত সুন্দর দৃশ্য, না দেখে থাকা যায় না। তাই পরিবার নিয়ে চলে এসেছি।
শহর ও গ্রাম থেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন গৃহবধূ জানান, কয়েক বছর ধরেই সূর্যমুখীর মৌসুম এলেই এখানে ছবি তুলতে আসি। এখানে এলে মনটা ভরে যায়, সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
ফুলে-ফুলে ভরপুর জেলার একমাত্র এই বীজ উৎপাদন খামার এখন শুধু কৃষি কার্যক্রমেই নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য একটি আনন্দঘন ভ্রমণস্থলে পরিণত হয়েছে।

