
মেহেরপুর শহরের বড় বাজার এলাকার কাথুলী রোডে একরামুল ইসলামের সাইকেল রিপেয়ারিং দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিফিং করেছে মেহেরপুর বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতি।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে সমিতির নেতারা ঘটনার নিন্দা জানান এবং এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।
ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, দোকানটি ১৯৭৭ সালে অ্যাডভান্স পজিশনের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এর আগেও ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে একাধিকবার বসেছে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু বাজারের মধ্যে জোরপূর্বক দোকান দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা তারা প্রত্যাশা করেননি।
তিনি আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মণ্ডল কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স মার্কেটের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়েছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা।
এর আগে আজ শনিবার সকালে দোকান মালিক একরামুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদের ভাই রফিকুল ইসলামের মধ্যে বাজার কমিটির মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ টাকা এবং জায়গা বাবদ ১০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে দোকানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি।
দোকান মালিক একরামুল গতদিন বলেন, তার বাবা আব্দুল মালেক ১৯৭৭ সালে দোকানটির পজিশন কিনে ব্যবসা শুরু করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি ওই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি দোকানটি উচ্ছেদের জন্য ইকবাল ও তার লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদের ভাই রফিকুল ইসলাম দোকান ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জায়গাটি তাদের পারিবারিক মালিকানাধীন। তার দাবি, ওই স্থানসহ পুরো মার্কেটের নকশা অনুমোদিত রয়েছে এবং মার্কেট নির্মাণের সময় জায়গাটি ফেলে রাখা সম্ভব নয়।
মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপু বলেন, দোকান ভাঙচুরের পেছনে প্রভাবশালী একটি মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে ইকরামুল একজন ক্ষুদ্র ও দরিদ্র ব্যবসায়ী হওয়ায় তার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক।

