
মেহেরপুর সদরের মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (ধর্মীয়) মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (ছোট হুজুর) এর জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শনিবার বাদ যোহর মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজ শেষে মোমিনপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় নিজ বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেন।
মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তার নিজ জেলা নোয়াখালী। ২০১৮ সালে তিনি চাকুরী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত, ছোট ভাইয়ের সাথেই তিনি বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন, পরহেজগার, খোদা ভীরু, পরোপকারী, সহজ সরল সাদা মনের মানুষ । তিনি তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে এতিম ও দরিদ্র বাচ্চাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেন এবং তিনটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন বলে জানান স্থানীয়রা। অনেক ছাত্রকে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে প্রতিষ্ঠিত আলেম করেছেন। তিনি এলাকার সুধী জনদের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
তার একজন ছাত্র বলেন, হুজুর ব্যক্তিজীবনে একেবারেই সাদামাটা জীবন যাপন করেছেন, এক দুই সেট কাপড়েই তিনি বছর পার করতেন। তার ছিল না কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স, জীবনের সমস্ত ইনকাম তিনি এভাবেই ব্যয় করে গেছেন। তিনি একজন নির্লোভ ও দুনিয়া বিমুখ মানুষ ছিলেন, তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। শেষ জীবন পর্যন্ত দুনিয়ায় কোনো মোহ তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। শেষের দিকে তিনি কিছুটা মানষিক ভারসাম্য হীনতায় ভুগলেও মসজিদেই তার মনটা সব সময় পড়ে থাকতো। মসজিদেই আল্লাহর ধ্যানে সময় পার করতেন।
তার মৃত্যুর খবরে জানাযায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। জানাযায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তাঁজ উদ্দীন খান, আলহাজ্ব মাওলানা তালিব উদ্দীন, বারাদী মাদ্রাসার মুহতামীম শফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুস সালেকীন।
এ-সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ, আপামর জনতা ও তার হাতে গড়া অসংখ্য হযরত মাওলানা উপস্থিত ছিলেন।

