
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মামলা তুলে নিতে মিজানুর রহমান সোনার (৬০) ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে মামলার বিবাদীরা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কিসমত ঘোড়াগাছা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় আহত মিজানুর রহমান একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে। তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত মিজানুর রহমান বলেন, আমি পার্শ্ববর্তী কুল্ল্যাগাছা বাজার থেকে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় কিসমত ঘোড়াগাছা গ্রামের পিন্টুর দোকানের সামনে পৌঁছালে কনক আমার সাইকেল থামিয়ে পথরোধ করে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। তখন আমি অস্বীকৃতি জানাই। এ সময় দোকানে বসে থাকা বোরহান, মশিয়ারসহ ৫-৬ জন আমাকে লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তখন আমার চিৎকারে পাশের কয়েকজন দৌড়ে এসে আমাকে প্রাণে রক্ষা করে। সে সময় তারা বারবার বলতে থাকে, মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, মিজানুর রহমান সোনার বাড়িতে ২০২৪ সালে বিবাদীরা হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে লুটপাট, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি জিআর মামলা করেন, যার নম্বর ১৯৭/২০২৪। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এই মামলাটি আদালত থেকে তুলে নিতে ওই গ্রামের মশিয়ার, কনক, বোরহান, তোতাসহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সময় মিজানুর রহমানের বাড়ির আশপাশে গালিগালাজ করে, মাঝে মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। জীবনের ভয়ে মিজানুর ও তার পরিবারের লোকজন সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হন না। তার ছোট ভাই শাহীন কবির ঝলকও তাদের ভয়ে দীর্ঘদিন বাড়িতে আসতে পারেন না।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিজানুর রহমান সোনাকে তারা রাস্তায় ফেলে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া আহত মিজানুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চাইলে বিবাদীরা তাতে বাধা দেয়। ভয়ে কোনো ভ্যান বা ইজিবাইকচালক আহত মিজানুরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাননি। পরে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলীকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন বলে আহতের স্বজনরা জানান।
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, “আমি বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভিকটিমকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।”
মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বসাবসি করে মীমাংসার চেষ্টা করছি। মামলা দিলে দুর্বল ধারায় আটকানো মুশকিল হবে।” তবে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

