
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের নদীয়া জেলার হালদারপাড়া সীমান্ত এলাকায় ২৪ ক্যারেটের ৮৯টি সোনার বিস্কুটসহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১১ কেজি ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম।
যার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ৩০২ ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
গত শনিবার সন্ধ্যায় বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার হালদারপাড়া বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ৮৯টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া বিস্কুটগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তবর্তী কামারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ এসোনের ছেলে মো. খবির। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, খবির একই গ্রামের মোহাম্মদ কাদেরের ছেলে শাহীন, কলম আলীর ছেলে শান্ত এবং হাফিজুলের ছেলে আরিফুলের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত অতিক্রমের সময় খবির ভারতের অভ্যন্তরে গেলে বিএসএফ সদস্যদের হাতে আটক হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বাকি তিনজন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
তবে খবিরের সঙ্গে ওই তিনজনের সীমান্ত এলাকায় যাওয়া, স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা কিংবা তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আটক মো. খবিরের স্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং অসুস্থ ছিলেন। ফলে তাঁর স্বামী কোথায় গিয়েছিলেন বা কীভাবে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না।
তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী একজন দিনমজুর এবং দিনমজুরি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বর্ণ পাচার বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর স্বামী জড়িত কি না, এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেন।
খবিরের স্ত্রী আরও বলেন, বিজিবির সদস্যরা বাড়িতে এসে তাঁকে জানান যে তাঁর স্বামী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে আটক হয়েছেন। এর আগে তিনি বা পরিবারের অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে কিছু জানতেন না।
তাঁর স্বামীর কাছ থেকে কী উদ্ধার হয়েছে, তিনি কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন কিংবা কার মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিলেন এসব বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই বলেও তিনি জানান। ঘটনার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএসএফের তথ্য অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ১১ কেজির বেশি ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে, কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ পাচারচক্র রয়েছে কি না।
একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবিতে খবিরের সঙ্গে আরও তিনজন সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার যে তথ্য উঠে এসেছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ভারতের বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএসএফের পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসহ আটকের তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি ওপারে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছি। যেটুকু জানতে পেরেছি, ওপারে কামারপাড়া গ্রামের একজন বিএসএফের কাছে স্বর্ণসহ আটক হয়েছেন।”

