
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামে হাসনাহেনা (১৯) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মা তাঁদের মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন। তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে শ্বশুরবাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তাঁর শাশুড়ি মাহফুজা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত হাসনাহেনা মেহেরপুর সদর উপজেলার খোকসা গ্রামের হাসাইনের মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে রঘুনাথপুর গ্রামের মিনহাজের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাসনাহেনার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির বিরোধ চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে পারিবারিক কাজকর্ম নিয়ে হাসনাহেনা ও তাঁর শাশুড়ির মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাশুড়ির বাড়ির একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় হাসনাহেনাকে দেখতে পান তাঁর চাচি-শাশুড়ি সোহাগী। পরে তিনি আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে নিচে নামান।
চাচি-শাশুড়ি সোহাগী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কলার মোচা কাটার জন্য দা নিতে তিনি ওই বাড়িতে যান। এ সময় ঘরের ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে হাসনাহেনার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এমন দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরে দ্রুত আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
প্রতিবেশী পরশ জানান, পাশের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসনাহেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন মিলে তাঁকে নিচে নামান। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
নিহতের স্বামী মিনহাজ বলেন, ঘটনার সময় তিনি মাঠে কাজ করছিলেন। বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে তুলা ওঠানো নিয়ে তাঁর মা ও স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। তবে ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকায় কী ঘটেছিল, তা তিনি সরাসরি দেখেননি।
নিহত হাসনাহেনার বাবা-মা অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আমঝুপি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মজিদ বলেন, বিয়ের পর থেকেই হাসনাহেনার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির বিরোধ চলছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিচে নামানো অবস্থায় দেখতে পায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় গৃহবধূকে ঝুলতে দেখা গিয়েছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে নিহতের শাশুড়িকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

