
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কৃষি ক্লাবপাড়ার চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতা মোহাম্মদ চয়ন (৫৫) খুন হয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চয়ন হারদী ইউনিয়নের কৃষি ক্লাবপাড়ার গদোরুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইয়ামিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪৫) মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে চয়নকে ওসমানপুর গ্রামে ডেকে নেন। জমি বিক্রির বায়না করা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হেলাল চয়নের ছেলেকে ফোন করে দাদুকে সঙ্গে নিয়ে স্ট্যাম্প কিনে আসতে বলেন।
চয়নের ছেলে মারুফ হোসেন দ্রুত আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে ওসমানপুরে পৌঁছান। সেখানে লিখিত স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করিয়ে মারুফকে চলে যেতে বলা হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে হেলাল উদ্দিন ভ্যানে করে চয়নকে হারদী হাসপাতালে রেখে চলে যান বলে জানা গেছে।
এদিকে মারুফ চলে যাওয়ার পর তার এক বন্ধুকে ফোন করে জানানো হয়, চয়নকে চিকিৎসার জন্য হারদী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে চয়নকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে চয়নের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চয়নের সঙ্গে হেলাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে ঘটনার পেছনে নারীঘটিত কোনো বিষয় রয়েছে এমন একটি তথ্য পাওয়া গেলেও এলাকাবাসী তা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, চয়ন এলাকায় অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, চয়নের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কে বা কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

