
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিশেষ আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ৩৯টি দুর্গামন্দিরের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।
সভায় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মন্দির কমিটির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সবাইকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পূজার আনন্দ ও ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি মন্দির কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল, আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আল মামুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. অমল কুমার বিশ্বাস, সদস্যসচিব পরিমল কুমার কালু ঘোষ, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাধুখা ও লিপন বিশ্বাস, পৌর শাখা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয় বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি সুধাংশ ব্যানার্জী এবং পৌর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আচার্য।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রথতলা মন্দির কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা, ফায়ার সার্ভিস মন্দির কমিটির সভাপতি সঞ্জিত কুমার অধিকারী এবং কুমারী দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার সাহাসহ বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতারা।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক।
উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে মন্দিরের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে উপজেলার ৩৯টি দুর্গামন্দিরের জন্য পূজার সময়সূচিসংবলিত ব্যানার বিতরণ করা হয়। প্রশাসন ও মন্দির কমিটির পারস্পরিক সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় অংশগ্রহণকারীরা।

