
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতপুর এলাকায় নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি মাঠ, ঘরবাড়ি, পথঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পানিবন্দি মানুষ ছুটছে নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৯২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। গতকাল শুক্রবার তা ছিল ৭২ সেন্টিমিটার নিচে।
উপজেলার চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার ১৯টি গ্রামের সব নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। গতরাতে পানি আরও বেড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে নারী-শিশুসহ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বেকায়দায় পড়েছে। তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।’
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ শনিবার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত দুটি ইউনিয়নের অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫০ পরিবারকে শুকনা খাবার বিতরণ করেছি এবং নতুন করে আজ ২৫০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। আরও ১৬ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা রবিবার বিতরণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছি এবং বন্যাকবলিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা না আসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যায়ক্রমে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

