
কুষ্টিয়ার বটতৈল ইউনিয়নের বড়িয়া এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত ও চক্ষু রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে বেগম হামিদা সিদ্দিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে রোগী পরীক্ষা ও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
“অন্ধজনে দেহ আলো” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে সিদ্দিক ফাউন্ডেশন এবং খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল।
শিবিরে আগত প্রায় ৫ শতাধিক চক্ষু রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়। পরীক্ষার পর যেসব রোগীর ছানি অপারেশনের প্রয়োজন হবে, তাদের বাছাই করা হবে।
সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের সদস্য কাজী বাবুল বলেন, গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক অসহায় মানুষ নতুন করে আলোর মুখ দেখার সুযোগ পাবেন।
বেগম হামিদা সিদ্দিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে চক্ষু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে এ ধরনের সেবামূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
চক্ষু শিবিরে অংশগ্রহণকারী রোগী আব্দুল গফুর জানান, দীর্ঘদিন ধরে চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগলেও আর্থিক ও যোগাযোগগত কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারিনি। বিনামূল্যের এই আই ক্যাম্পের মাধ্যমে আমি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও পরীক্ষা সেবা পেয়ে উপকৃত হয়েছি।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রকৌশলী মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে ১৯৯৫ সালে বড়ীয়ায় মায়ের নামে এই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়াও সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকান্ড করে আসছে।

