
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে জমি দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেফতার না করার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদের বিরুদ্ধে। মামলার বাদী মজিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার সকালে গাড়াবাড়িয়া গ্রামের অফছার আলীর ছেলে মজিদুল ইসলামের কেনা জমি দখল করে প্রতিপক্ষরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় মজিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেরপুর আদালতে মখলেছুর রহমান, মো. আবুল কালাম, হেলাল উদ্দীন, বাশার আলী, লালচাঁদ আলী, হবিবর, বিল্লাল হোসেন ও মহাসিন আলীর নামে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি গাংনী থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার পর মখলেছুর রহমান ও মো. আবুল কালাম গ্রেফতার হলেও বাকি ৬ আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বাদীর অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাকি ৬ আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। বাদী মজিদুল ইসলাম বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এমনকি মামলার সাক্ষীদেরও তারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বিজন বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে—এমন তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে আনব।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুদাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। আজও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসামি ধরা হচ্ছে না—এই অভিযোগটি সত্য নয়।

