
গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠান ‘ক্যারিয়ার অ্যান্ড সাকসেস’ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কলেজের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন সভার শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “তোমরা এসএসসি পাস করেছ। কিন্তু কোথায় ভর্তি হলে তোমরা তোমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে, সে সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। তোমরা অনেকেই কাঙ্ক্ষিত জিপিএ পাওনি। তাই বলে তোমাদের জীবন থেমে থাকবে না। কাঙ্ক্ষিত জিপিএ না পাওয়ার কারণে তোমরা কষ্ট পেয়ো না। এই না পাওয়ার যন্ত্রণাকে শক্তিতে পরিণত করে তোমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “জীবন গড়ার জন্য জিপিএ একমাত্র মাপকাঠি নয়। জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পূর্বের হতাশা বা ব্যর্থতাকে পাশ কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সামনে তোমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়কে কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করার পর অর্জিত জিপিএ অনুযায়ী কোথায় ভর্তি হলে এইচএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে, সে বিষয়ে ধারণা পায় না। এ কারণে ‘ক্যারিয়ার অ্যান্ড সাকসেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন বলেন, “এইচএসসি বিএমটি কোর্সটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী। এ কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার ব্যবস্থা করেছি। বিএমটি কোর্সের সিস্টেম এবং বেশ কিছু বিষয়ে ব্যবহারিক ও বাস্তব প্রশিক্ষণে নম্বর থাকায় এখানে ভালো জিপিএ অর্জন করা সম্ভব। যা পরবর্তীতে অনার্সে ভর্তির ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করার পর বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী বিষয়ে ভর্তি না হওয়ায় একপর্যায়ে তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্য তোমাদের বলছি, তোমরা বিএমটি কোর্সে ভর্তি হয়ে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ অর্জনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি করো।”
তিনি জানান, এখানে ট্রেডভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন বিষয়ে জানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করতে পারেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বাস্তবমুখী ও উপার্জনক্ষম বিষয়ে লেখাপড়ার বিকল্প নেই। তাই আমরা তোমাদের কাছে আবেদন রাখতে চাই—তোমরা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করো এবং বিএমটি কোর্সে ভর্তির মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের উন্নতি ও অগ্রযাত্রায় অংশগ্রহণের সুযোগ নাও—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
এ সময় ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিদা হাসান, মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান, কম্পিউটার অপারেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওয়াহেদ বিন হোসেন মিন্টু, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মহিববুর রহমান, প্রভাষক আকিবুল হোসেন, প্রভাষক মাসুদুর রহমান, বকুলুজ্জামান লিটন ও প্রভাষক জেসমিন আজাদসহ বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

