
কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের বানিজ্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পযর্ন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরন ফাদে পরিনত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। যার ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাদে রুপ নিয়েছে।
পথচারী গৃহবধু শারমিন আক্তার বলেন, এইসড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকেরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।
পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, আমি ভ্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেয়া লাগে।
নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুনতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্কুল শিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, আমাদের বাচ্চাদের স্কুল কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিক ভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
বামন্দী পশুহাট ইজারাদার আব্দুল আওয়াল বিশ্বাস বলেন,জেলার সবচেয়ে বড় পশুহাট বামন্দী। যেখান থেকে জেলার সবচেয়ে বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে । এই অঞ্চলে জেলা সবচেয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেশি। অথচ সেই বাজারের সড়কটির এমন বেহাল দশা। ভাবতেই খারাপ লাগে। আমাদের দাবি সড়কটি যেনো দ্রুত সংস্কার করা হয়। সেই সাথে এই সড়কের জলাবদ্ধতা নিরষনের জন্য ড্রেনেজ ব্যাবস্থা খুবই জরুরি। তা না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা বলেন,সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।

