
মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত দেখা মেলে না। ফলে ফসলের রোগবালাই, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ, এতে অনেক কৃষক এখনো প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
গতকাল সোমবার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়।
শ্যামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কলা, করলা, কাঁচা মরিচ, লাউ, শসা, শিম, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিপণ্য চাষ করা হয়।
কৃষকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের লোকসানও কমানো সম্ভব।
কলা চাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরের অনেক কৃষক লাভের আশায় কলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে কলাগাছে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। অনেক গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে এসে পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন হলেও নিয়মিত তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, “ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা যদি মাঠে এসে আমাদের গাছের সমস্যা দেখে সঠিক পরামর্শ দিতেন, তাহলে রোগবালাই দমন করে আরও ভালো ফলন ও মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হতো।”
করলা চাষি আসাদুল মিয়া বলেন, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষিকাজ করে আসছি। আমিও প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখনো আগের পদ্ধতিতেই চাষ করি। আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো পরামর্শ পাই না।”
তিনি আরও বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া নিয়েও কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে কৃষকদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলে চাষাবাদে আরও উন্নতি করা সম্ভব।
কাঁচা মরিচ চাষি নাজমুল আলী বলেন, কিছুদিন আগে কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও বর্তমানে দাম কমেছে। এর মধ্যে মরিচ গাছে নতুন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। গাছের কাণ্ডে ক্ষত ও পাতায় কুঁকড়ানো ভাব দেখা যাচ্ছে। কীভাবে এ রোগ দমন করবেন, তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা।
তিনি বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এসে রোগটি দেখে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে বা কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলে আমাদের অনেক উপকার হতো। কিন্তু আমাদের খোঁজখবর নিতে কোনো কর্মকর্তা মাঠে আসেন না।”
কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান বলেন, কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ, সার ব্যবস্থাপনা এবং রোগ-পোকামাকড় দমনের বিষয়ে পরামর্শের জন্য তাঁর সঙ্গে অথবা সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে দায়িত্ব পালন করেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ে আমাদের বর্তমানে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অনেক কাজ রয়েছে। কৃষকরা অতিপ্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পাবেন।”
তবে কৃষকদের দাবি, শুধু ফোনে পরামর্শ নয়, ফসলের সমস্যা সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

