
মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় — এই জেলার নারী শিক্ষার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ। দশকের পর দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠান হাজারো মেয়ের স্বপ্ন লালন করে এসেছে। অথচ সম্প্রতি এই বিদ্যালয়েরই প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অবমাননা নয় — এটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসের বীজ বপন করে।
একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া মানে শুধু দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলা নয়। এর অর্থ হলো শিক্ষার্থীরা এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে যেখানে দায়িত্বশীলতার কোনো নজির নেই, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার স্বাভাবিক বলে মনে হয়। একজন প্রধান শিক্ষকের আচরণ কেবল ব্যবস্থাপনার বিষয় নয় — তিনি শিক্ষার্থীদের চোখে একটি আদর্শের প্রতীক। সেই প্রতীক যখন দুর্নীতিতে কলুষিত হয়, তখন ক্ষতি হয় অনেক গভীরে।
প্রশ্ন উঠছে — এই অনিয়ম কি হঠাৎ করে শুরু হয়েছে, নাকি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে? এবং যদি দীর্ঘদিন ধরেই চলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোথায় ছিলেন? নিয়মিত পরিদর্শন, অডিট এবং তদারকির যে কাঠামো রয়েছে, তা কি আদৌ কার্যকর? নাকি কাগজে-কলমে থাকা সেই তদারকি ব্যবস্থা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে?
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সরাসরি শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। উন্নয়ন তহবিল আত্মসাৎ হলে পরিকাঠামো নির্মাণ হয় না, বই ও উপকরণ কেনার অর্থ অন্যত্র চলে যায়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব ক্ষতি অদৃশ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদী এবং সুদূরপ্রসারী।
অভিযোগ উঠলেই তদন্ত শুরু হওয়া উচিত — দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছভাবে। দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই পথে পা বাড়াতে না পারে। একই সঙ্গে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত এবং অঘোষিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
নারী শিক্ষার এই বিদ্যাপীঠকে দুর্নীতির অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আলোয় ফিরিয়ে আনাটা এখন সময়ের দাবি। কেননা, শিক্ষাঙ্গনে আস্থা টিকিয়ে রাখাই একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি।

