
মেহেরপুরের সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই ও যুবলীগ নেতা শহীদ সরফরাজ মৃদুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের দেওয়া জরিমানার টাকা আদায়ে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকার নেতৃত্বে একটি টিম মৃদুলের বাসভবনে এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছেন।
নোটিশে সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুরাইয়া জাহান ঝুরকা উল্লেখ করেছেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী দেওয়ানী কার্যবিধি,১৯০৮ এর ৭১ ধারা মতে দণ্ডিত ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আসামির বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক ও নিলাম পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার নথি ও বাদী সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়িক অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচী ২০২৪ সালে মৃদুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার নম্বর এসসি-১৫৬/২০২৪, সিআর-৯০৭/২০২৩। ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলার রায়ে শহীদ সরফরাজ মৃদুলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের টাকার দ্বিগুণ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ বা আপিল করেননি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বাদী দেবাশীষ কুমার বাগচী জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে জরিমানার টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
এদিকে, আদালতের নির্দেশের পর শহীদ সরফরাজ মৃদুলের মালিকানাধীন ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা সমমূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
তালিকায় অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে তিনটি সিলিং ফ্যান, একটি ফ্রিজ, দুটি খাট, এক সেট সোফা, দুটি আলমিরা, একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি এসি। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজার ৬৬৯২ নম্বর খতিয়ানে ২ দশমিক ৮২৯২ একর জমি, মেহেরপুর মৌজার ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ০০৩২ একর, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ০২৭৫ একর ও একই খতিয়ানের পৃথক দাগে ০ দশমিক ০০২৫ একর জমি, ১১৭১৮ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ০৪২১ একর এবং হরিরামপুর মৌজার ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০ দশমিক ৪৬ একর জমি।
সব মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ দশমিক ৩৬৪৫ একর। এসব জমির আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

