
মেহেরপুরে পল্লি সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার প্রকল্পে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার ৩০টি কাজের মধ্যে ২৬টির কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ হয়নি। এসব কাজের ২৬টি কাজের আর ক্যারিওভার করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
ফলে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় শতাধিক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগে থেকেই গেল। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন যাদবপুর-বুড়িপোতা সড়ক ব্যবহারকারী পাঁচ গ্রামের মানুষ। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য কাঁচামাল বাজারজাত করতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে হিতিমপাড়া-কুতুবপুর সড়ক, বুড়িপোতা ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শালিকা হাট সড়ক, আমঝুপি ইউনিয়নে মিলপাড়া-ইসলামনগর সড়ক, মুজিবনগর উপজেলায় মোনাখালী-রায়পুর সড়ক, গাংনী উপজেলায় ধানখোলা- চিৎলা সড়ক ও বামুন্দি-হাড়াভাঙ্গা সড়ক খানাখন্দে যোগাযোগ চরমভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩০টি সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ২৬টি কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরুই করা যায়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ অধিদপ্তরকে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন- বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল ও বিটুমিনের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করতে পারেনি।
তবে একই সময়ে ৩০টি কাজের মধ্যে আমঝুপি-মিলপাড়া-ইসলামনগর সড়কসহ চারটি কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, উপকরণসংকটই যদি প্রধান কারণ হয়, তাহলে চারটি কাজ সময়মতো শেষ হলো কীভাবে।
২৬টি কাজের পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজ শুরু হতে আরও সময় লাগবে। ততদিন এসব সড়কেই চলাচল করতে হবে স্থানীয় মানুষকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ঠিকেদার বলেছেন- ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পের ৩০টি কাজের ২৬টিই সময়মতো না হওয়ায় শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, এলজিইডির তদারকি ও ঠিকাদার বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এলজিইডি মেহেরপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, পিপিআর ২০২৫ অনুসারে ওই কাজের মেয়াদ কোনভাবেই বাড়ানো যাবেনা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করতে না পারা ২৬টি ঠিকাদারের কাজ ক্যারিওভার করার সুযোগ নেই।
বিষয়টি অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। পিপিআর ২০২৫ অনুসারে অফিস আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দেয়া কার্যাদেশ বাতিল করতে হবে।

