
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি লাগানো গাছের নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান।
তিনি বলেন, “গাছ শুধু লাগালেই হবে না, তার পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ভালো কাজেই চ্যালেঞ্জ থাকে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পরিবেশ রক্ষা এবং সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়তে বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।”
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ আমাদের পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে, কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না; এটি পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেটিকে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে।”
উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন উড়িয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির সূচনা করা হয়। র্যালিটি কালেক্টরেট চত্বর প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান ফিতা কেটে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নার্সারি মালিক রুহুল আমিন, ছাত্র প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মেলায় ৩০টি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং নার্সারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আয়োজকরা জানান, বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করাই এ বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য।

