
বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। বিআরবিতে হেলপার হিসেবে কাজ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে হঠাৎ বাবাকে হারিয়ে পরিবারটির জীবনে নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। সেই কঠিন সময়েও থেমে থাকেনি স্বপ্ন। মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিজের অধ্যবসায়ে সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে গেছে মোহাম্মদ রোমান।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌরহাস ফুলতলার বাসিন্দা রোমান এ বছর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।
রোমানের বাবা মরহুম মিরাজুল ইসলাম বিআরবিতে হেলপার হিসেবে চাকরি করতেন। পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে তার মৃত্যুতে সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে রোমানের মায়ের ওপর।
স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে লড়াই শুরু করেন রোমানের মা। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানের পড়াশোনাকে কখনো বোঝা মনে করেননি। নিজের কষ্টকে আড়াল করে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন। মায়ের সেই ত্যাগই রোমানের কাছে হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
রোমানও বুঝেছিল, তার সামনে পথ সহজ নয়। তাই অন্য অনেকের মতো সুযোগ-সুবিধার অপেক্ষায় না থেকে নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নিয়মিত পড়াশোনায় মন দেয়। মায়ের কষ্ট, বাবার স্মৃতি এবং পরিবারের প্রত্যাশাকে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে থাকে সে।
অবশেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে রোমান প্রমাণ করেছে, প্রতিকূলতা কখনো স্বপ্নের পথে শেষ কথা নয়।
রোমানের এই সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রোমানের কাছে এই অর্জন শুধু একটি ফলাফল নয়, এটি তার মায়ের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও ভালোবাসার প্রতিদান।
রোমানের স্বপ্ন এখন আরও বড়। ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজের এবং পরিবারের জন্য একটি সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে চায় সে। বাবাকে হারানোর শূন্যতা পূরণ করার ক্ষমতা কারও নেই, কিন্তু নিজের সাফল্যের মাধ্যমে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই এখন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
একজন সংগ্রামী মায়ের সন্তান রোমানের গল্প তাই শুধু গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার গল্প নয়। এটি একজন বাবাকে হারানো সন্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, একজন মায়ের আত্মত্যাগের গল্প এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প।
বাবা নেই, সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু স্বপ্ন থেমে থাকেনি। মায়ের কষ্টকে শক্তি বানিয়ে রোমান আজ সাফল্যের পথে।

