
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে ল্যান্ডমাইন সদৃশ বোমা পাওয়ার ঘটনায় ৩২ ঘণ্টা পার হলেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের।
শনিবার (৮ আগস্ট) মাইনসদৃশ বস্তু পাওয়ার খবরে এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়ছে।
খবর পেয়ে জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, র্যাব, বিজিবি এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। রাতে বিজিবি, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা সেখানে পাহারায় ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোমা ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এলাকাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে এর আগ পর্যন্ত এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা শনিবার সকাল থেকেই চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নির্ঘুম রাত পার করার পাশাপাশি দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার অপেক্ষায় তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এমনকি বিষয়টির সুরাহা কবে নাগাদ হবে, সেটিও তাঁরা জানেন না।
বেতবাড়িয়া গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী টুটুল আহমেদ বলেন, ‘শনিবার যখন মাইনসদৃশ বস্তুগুলোর দেখা মেলে, তখন থেকেই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ওই বস্তুগুলো এমন একটি জায়গায় রাখা আছে, যার চারপাশেই ঘনবসতি ও বাজার। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমার ওষুধের দোকানটিও বোমাগুলোর ২০ ফুটের মধ্যে। এ কারণে আমিও দোকানে স্বস্তির সঙ্গে বসতে পারছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, ‘আজ দুদিন হলো বোমা আতঙ্কে আছি। এ যেন সেই স্বাধীনতার সময় ফিরে এসেছে। কখনো বিজিবি, কখনো র্যাব, আবার কখনো পুলিশের আনাগোনা। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, ‘শনিবার যখন মাইনসদৃশ বস্তুগুলো জনসম্মুখে আসে, তখন থেকেই এ অঞ্চলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জানতে পেরেছি, তাঁরা খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, এগুলো যত দ্রুত সম্ভব অপসারণ করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক। আমিও তাঁদের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।’
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাদ্দিস মোরশেদ চৌধুরী জানান, বেতবাড়িয়া গ্রামে মাইনসদৃশ বস্তু পাওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় কর্ডন করে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যতটুকু সংবাদ আছে, বোমা ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে এসে সেগুলো উদ্ধার করার পর ওই এলাকা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

