
মেহেরপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শওকত আরা আখতার।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, মেজর আসরার, জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রফিকুল ইসলাম, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল কবীর, সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাঃ আবদুল্লাহ আল আমিন, ডা. অলোক কুমার দাস, পিপি সাইদুর রাজ্জাক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, জেলা ক্রীড়া অফিসার আরিফ আহমেদ ও গুরুদাস হালদার।
এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জীব পালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শওকত আরা আখতার বলেন, “একটি রাষ্ট্রের চেহারা হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আপনারা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করে আজ এই পর্যায়ে এসেছেন। আপনাদের কর্মক্ষেত্রে যে দক্ষতা রয়েছে, তা আমার নেই। আমার দক্ষতা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।”
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব ও দক্ষতা দিয়ে কাজ করলে অনেক কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব। তাদের দক্ষতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সরকার রাষ্ট্রকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে।
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই নানা ধরনের চাপ ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। একইভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তর থেকে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করলে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তিনি জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাখাপি ইবনে সাজ্জাদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপায়ন দেব, টিটিসির অধ্যক্ষ ড. শামীম হোসেন, জেলা কমান্ড্যান্ট আলামিন হোসেন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার, জেলা নির্বাচন অফিসার মো. এনামুল হক, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাশেদ আহমেদ, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা বশির উদ্দীন, বন বিভাগের কর্মকর্তা এইচ টি হামিম হায়দার, বিআরটিএর পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম ও এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

