
দর্শনায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী ও সেবনকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন মাদকসেবীর ডোপ টেস্টে রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পরে তাদের এবং এক মাদক ব্যবসায়ীকে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে হাজির করা হলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে থানার এসআই মোল্যা আরিফুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা পৌরসভার আজিমপুর মাঠপাড়া সংলগ্ন জনৈক নাসিরের কলাবাগানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কলাবাগান থেকে মাদক সেবনের অপরাধে নাসির হোসেন (৪৫) ও আব্দুল ওদুদ (৫০) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নাসির হোসেন দর্শনা পৌরসভার আজিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আরফান মিয়ার ছেলে। আব্দুল ওদুদ একই গ্রামের বাসিন্দা ও আলী হোসেনের ছেলে।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দর্শনা থানাধীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খাড়াগোদা গ্রামে পৃথক আরেকটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর মাদক সেবনকালে মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খাড়াগোদা গ্রামের বাসিন্দা ও সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
এ ছাড়া শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার মোবারকপাড়ায় জনৈকা রেশমার মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তার ওপর মাদকসহ অবস্থানকালে স্থানীয় লোকজন সোনা মিয়া (৩৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত কালো গেঞ্জির বুক পকেটে থাকা সাদা পলিথিনে মোড়ানো ২টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার সোনা মিয়া দর্শনা পৌরসভার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ও আজিবর হোসেনের ছেলে।
পরে নাসির হোসেন, আব্দুল ওদুদ ও মাসুদ রানাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানো হলে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
পরবর্তীতে আসামিদের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত)-এর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সোনা মিয়াকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড দেন।
নাসির হোসেন, আব্দুল ওদুদ ও মাসুদ রানাকে প্রত্যেককে ২ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

