
কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রণোদনার পাটবীজ বিতরণের পরিবর্তে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মেহেরপুরের মুজিবনগরের দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ নয়; এটি সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, তারা বীজ বিতরণের কোনো তথ্যই পাননি। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বক্তব্য, সার না থাকায় কৃষকরা বীজ নিতে আসেননি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় অনুমতি নিয়ে বীজ বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসকের বক্তব্য আবার ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, বীজ বিক্রির বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। একই ঘটনায় দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সন্দেহ আরও ঘনীভূত করে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু যে ইউনিয়ন পরিষদ, শেষ পর্যন্ত সেই পরিষদের প্রশাসকের জিম্মাতেই উদ্ধার হওয়া বীজ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অবৈধ নাও হতে পারে, কিন্তু তদন্তের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আলামত এমন স্থানে রাখা উচিত, যেখানে কোনো পক্ষের প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকে। এ ক্ষেত্রে থানা বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ সরকারি দপ্তরের হেফাজত অধিক গ্রহণযোগ্য হতে পারত।
সরকার কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়। সেই প্রণোদনা যদি প্রকৃত কৃষকের হাতে না পৌঁছে, তবে শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ই নয়, কৃষকের অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়। তাই এই অভিযোগকে সাধারণ অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রশাসনের উচিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, আলামতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ, কৃষকের প্রাপ্য নিয়ে কোনো অনিয়মের দায় ব্যক্তির নয়, তা পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত হানে। জনআস্থা রক্ষায় এখন প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

