
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের রশিকপুর গ্রামে ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রশিকপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশাদুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন মোনাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহরাব খান (তোতা)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিজয় গাজী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সুরুজ আলী খান গত ২১ অক্টোবরের একটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে অভিযোগ করেন, রশিকপুর গ্রামে বিএনপির মনোনীত মেম্বার প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে যাওয়ার সময় ওয়াদানের দোকানের সামনে এরশাদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করেন এবং তাঁকে গালিগালাজ করেন।
তিনি দাবি করেন, দলীয় পরিচয় নিয়ে তাঁকে অপমানজনক কথাবার্তা বলা হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সুরুজ আলী খান আরও অভিযোগ করেন, বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর চাচাতো ভাই তোতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় তাঁর আরেক চাচাতো ভাই আসলাম হামলা ঠেকাতে এগিয়ে গেলে আশিক নামের এক ব্যক্তি পেছন থেকে দেশীয় অস্ত্র রামদা দিয়ে তাঁকে কোপ দিয়ে আহত করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সুরুজ আলী খান। একই সঙ্গে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক কারবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তাঁরা বলেন, রশিকপুরসহ মুজিবনগর উপজেলার প্রতিটি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রেস ব্রিফিং থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আসলামের ওপর হামলার অভিযোগ যাচাই এবং এলাকায় অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

