
মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে আদালতের ১৪৫ ধারার আদেশ অমান্য করে স্থানীয়দের ব্যবহৃত সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিন ও তার ভাতিজা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় প্রশাসনসহ সব নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি রাস্তা দখল করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে গ্রামবাসীর মধ্যে। তিন শতাধিক কৃষকের মাঠের ফসল বহনের একমাত্র রাস্তা দখল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরাও। দফায় দফায় সালিস, স্থানীয় ভূমি অফিসের বাধা, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কা করছেন না জমি দখলকারী রুহুল আমিন ও তার লোকজন।
স্থানীয়দের ব্যবহৃত শত বছরের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখলমুক্ত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন এলাকার অর্ধশত মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, আদালতের নির্দেশে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ১৪৫ ধারা জারি করে সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন রুহুল আমিন।
শ্যামপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তার ওপর এই সংবাদ সম্মেলন করেন গ্রামবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামপুর গ্রামের কাবিল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। এ সময় ইকবাল হোসেন, ইয়ারুল ইসলাম, আহমেদ আলী, হোসেন আলী, আইযুব আলী, নুর হক, রমজান আলী ও মোতালেব হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, শ্যামপুর গ্রামের শত বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণ করছেন রুহুল আমিন। ঘর নির্মাণের শুরু থেকে বাধা দিলেও ক্ষমতার দাপটে কোনো বাধাই মানছেন না রুহুল ও তার লোকজন।
শ্যামপুর গ্রামের বজলুর রহমান, সুইট ও রাজুর ইন্ধনে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ এবং ১৬২ মিটার দীর্ঘ ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ পরিবারের চলাচল রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকেরা তাদের ফসল পরিবহনের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ মারাত্মকভাবে বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী এসএ ও আরএস খতিয়ান এবং দাগে ওই এলাকায় সরকারি রাস্তা চিহ্নিত রয়েছে। সিএস, এসএ ও আরএস ম্যাপেও রাস্তার অস্তিত্ব উল্লেখ থাকলেও তা উপেক্ষা করে দখল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়ের করা অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালত ও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুনরায় ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রামবাসীরা দ্রুত সরকারি রাস্তা উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

